আমের উপকারিতা, ব্যবহার ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া -Mango Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

by

আম (Mangifera indica) হল একটি মিষ্টি এবং সুস্বাদু ফল। এটির পুষ্টিকর স্বাস্থ্যগুণের কারণে এটি “ফলের রাজা” হিসাবেও পরিচিত। এই ফলটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় এবং শতাব্দী ধরে এটির চাষ করা হচ্ছে। ভারতে এটি মূলত গ্রীষ্মকলে হয়ে থাকে। আমাদের এই প্রতিবেদনে আম সম্পর্কিত নানা তথ্য রইলো।

আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আমে উপস্থিত প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া এই ফলের মধ্যে ভিটামিন সি আছে , যা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় (1)।

২. হার্টকে স্বাস্থ্যময় করে তোলে

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ম্যাগনেসিয়াম হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে (2) আর আমে থাকে ম্যাগনেসিয়াম। এটি রক্তনালীগুলির উপর চাপ কমাতে এবং কার্ডিয়াক কার্যকারিতা ঠিক রাখে। এছাড়া আম বিটা ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ। ক্যারোটিনয়েডগুলি ধমনীতে কোলেস্টেরলের জারণ রোধ করে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে (3)।

৩. অ্যানিমিয়া সারাতে

আমে আয়রন থাকে। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য খুবই উপকারী (4),(5) । আমের ভিটামিন সি দেহে আয়রনের সঠিক শোষণে সহায়তা করতে পারে (6)।

৪. ওজন কম করতে

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আমের খোসা (যা আমরা সাধারণত ফেলে দিয়ে থাকি) চর্বি কোষ গঠন করতে বাধা দেয় (7)। সঠিক ডায়েট এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলির সাথে মিলিত হলে এটি ওজন হ্রাসে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া আমে ফাইবার থাকে এবং তাই ওজন হ্রাসে সম্ভাব্যভাবে সহায়তা করতে পারে। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে খাদ্যের ফাইবার, যা বিশেষত ফল এবং শাক সবজিতে পাওয়া যায় । তা ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে (8)।

৫. হজমের সমস্যা দূর করতে

আমে অ্যামাইলেজের মতো হজমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এনজাইম থাকে। এগুলি জটিল শর্করাকে সহজ সরল শর্করা (9) এ বিভক্ত করে। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। টেক্সাস এএন্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে আমের পলিফেনলগুলি কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি দিতে পারে (10)।

৬. চোখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে

আমে থাকা ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উপযোগী । ভিটামিন এ এর ​​ঘাটতি দেখা দেওয়ার কারণে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে। ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য এবং দৃষ্টি উন্নত করে। বিশেষত বলতে গেলে, কর্নিয়ার সর্বোত্তম কার্যকারিতার জন্য এই ভিটামিন অপরিহার্য (11)।

৭. মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়

আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন বি সিক্স মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। কিছু গবেষণা দেখায় যে ভিটামিন বি সিক্স এর অভাব হতাশা এবং খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে (12)।

৮. ডায়াবেটিস কমাতে

আম খাওয়া ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে ,২০ জন ওবিসিটির শিকার প্রাপ্তবয়স্করা বারো সপ্তাহ ধরে আধা তাজা আম খাওয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পায় (13)।

৯. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

আমের মধ্যে ক্যারোটিনয়েডস, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, টার্পিনয়েডস এবং পলিফেনল রয়েছে। এগুলি সবই অ্যান্টি ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য যুক্ত (14)।

১০. ত্বকের উন্নতি করে

ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দিতে পারে (15)। একটি জার্মান গবেষণা অনুসারে,আমের বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ ত্বকের স্বাস্থ্য সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করতে পারে (16)।

১১. চুলকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে

আম ভিটামিন এ এর ​​সমৃদ্ধ হওয়ায় চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। ডায়েটরি ভিটামিন এ চুলের ফলিকালগুলি সক্রিয় করতে পারে (17) ।

Makes hair healthy

Shutterstock

আমের পুষ্টিগুণ

আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) মতে, এক কাপ (১৫৫ গ্রাম) কাটা আমের মধ্যে রয়েছে (18) –

  • এনার্জি – ৯৯ কিলো ক্যালোরি
  • প্রোটিন – ১.৩৫ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট – ২৪.৭ গ্রাম
  • ডায়েটারি ফাইবার – ২.৬৪ গ্রাম
  • ফ্যাট – ০.৬২৭ গ্রাম
  • শর্করা – ২২.৫ গ্রাম
  • ফোলেট – ৭১ এমসিজি
  • ভিটামিন সি – ৬০.১ এমসিজি
  • ক্যালসিয়াম – ১.২ মিলিগ্রাম
  • আয়রন – ০.২৬৪ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম – ১.৬৫ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম – ২৭৭ মিলিগ্রাম

আম কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

আম ছোটো ছোটো টুকরো করে খেতে পারেন। এছাড়া আমের পায়েস বানাতে পারেন। আম দিয়ে তৈরী কেক ও খেতে খুব সুস্বাদু হয়। আর আমি দিয়ে জুস বা স্মুদি প্রায় সবারই প্রিয়। কি ঠিক বলছি তো ?

চলুন জেনে নেওয়া যাক আম কি দেখে কিনবেন ও তা স্টোর কি করে করবেন।

আম কিভাবে কিনেবেন ও স্টোর করবেন ?

কেনার সময় মাথায় রাখবেন আমে যেন কোনো কালো দাগ বা খাওয়া বা পচা অংশ না থাকে। বাজার থেকে কিনে এনে ঈষৎ উষ্ণ নুন মেশানো জলে ভিজিয়ে রেখে তারপর জলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর ফ্রিজে রাখুন।

আমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

আম খাওয়াকে সাধারণত নিরাপদ মনে করা হয়। তবে কেউ কেউ আমের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে যা অ্যালার্জি হতে পারে। এছাড়াও, খুব বেশি পরিমাণে আম খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণা খুব সীমাবদ্ধ।

গবেষণায় দেখা গেছে , নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মধ্যে আমের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি আছে। এই অ্যালার্জির জন্য মুখ, ঠোঁট এবং জিহ্বার ডগা এর কোণগুলিতে চরম জ্বালা হতে পারে (19)।

আম যেমন পুষ্টিকর এবং সুস্বাদুও । আশা করি আমের ঠিক কি কি উপকারিতা আছে তার সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা হল। তবে, আমের প্রতি যারা অ্যালার্জিক তাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায়, আম হল স্বাস্থ্যকর ফল এবং এটি আপনার নিয়মিত ডায়েটের অংশ হতে পারে।

নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।

ডায়েটিং – এর জন্য আম কি উপকারী ?

উঃ হাফ কাপ কাটা আম খেতেই পারেন।

আম কি বাচ্চারা খেতে পারে ?

উঃ হ্যাঁ, খেতেই পারে।

আমের খোসা কি খাওয়া যেতে পারে ?

উঃ হ্যাঁ, অবশ্যই পারেন। তবে এটি খেতে তিতকুটে কিন্তু এতে প্রচুর পরিমানে পুষ্টিগুণ বর্তমান।

19 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch