আমণ্ডের উপকারীতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া – Almond Benefits and Side Effects in Bengali

by

আমণ্ড বা কাঠবাদাম তার পৌষ্টিক গুরুত্ব এবং স্বাস্থ্যোপযোগীতার কারণে অধিক পরিচিত। এই হালকা স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার একাধিক ভিটামিন, খনিজ পদার্থ (মিনারেলস) এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ।

খাদ্য হিসেবে এই কাঠবাদাম কাঁচা বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়। অনেকে আবার এটা জলে ভিজিয়ে খেতে পছন্দ করেন। অবশ্য এই ভেজানো কাঠবাদাম কাঁচা বা ভাজা এই দুই ধরণের থেকে বেশি স্বাস্থ্যকর, তা সে হজম শক্তি বৃদ্ধিই হোক বা ক্যান্সারের সাথে লড়াই করা হোক।

নিম্নলিখিত প্রবন্ধ থেকে আমরা আমণ্ড বা কাঠবাদামের একাধিক উপকারীতা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করা হল। 

আমণ্ডের উপকারীতা  

মানবদেহে আমণ্ডের উপকারীতা অনস্বীকার্য। উপকারীতাগুলি হল যথা –

১. হার্ট বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যোন্নতি

উদ্ভিদজ প্রোটিন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল আমণ্ড। এই সকল পরিপোষক পদার্থ বা নিউট্রিয়েন্টস যে কোনো ধরণের কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিস বা হৃদযন্ত্র ঘটিত সমস্যার নিরাময় করে (1)

ভেজানো বাদামে রয়েছে পলিফেনল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা হার্টের অসুখ সারিয়ে তোলে (2) 

অবশ্য ভেজানো আমণ্ড যে সত্যিই হার্টের সমস্যার নিরাময় করে সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এখনও অনেক গবেষণা করা দরকার।  

২. ওজন হ্রাসে সহায়তা

খাদ্য হিসেবে আমণ্ড জাতীয় বাদাম ঘন ঘন গ্রহণ করলে তা বিপাকীয় ক্রিয়ায় সহায়তা করে যার ফলে মেদ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভবনা হ্রাস পায় ওজন কম থাকে (3)

লো ক্যালোরি ডায়েটের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রোজ সকালে নিয়মিত খোসাযুক্ত ভেজানো আমণ্ড খাদ্য হিসেবে গ্রহণ। এই লো ক্যালোরি ডায়েটের একাধিক উপকারীতা রয়েছে, যেমন এটা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে একই সাথে ওজন হ্রাসেও সাহায্য করে (1), (4) 

পরিমিত পরিমাণে আমণ্ড গ্রহণ শরীরে প্রয়োজনীয় এনার্জির জোগান দেয় যা ওজন হ্রাসে সহায়তা করে (5) ।   

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধক

আমণ্ডে রয়েছে ফাইটিক অ্যাসিড যা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গুণাগুণ সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গুণাগুণ সমৃদ্ধ উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধ করে (6)

এছাড়াও আমণ্ড ট্যানিন (বিশেষত প্রোঅ্যান্থোসিয়ানিডিন) সমৃদ্ধ যা ক্যান্সার প্রতিরোধক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন (7) 

৪. ডায়বেটিস বা মধুমেহ রোগ নিয়ন্ত্রক

ভেজানো আমণ্ড রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। চীন দেশের ২০ জন  টাইপ ২ ডায়টিবেটিস রোগীর ওপর একটা গবেষণা করে জানতে পারা গিয়েছে যে খাদ্য হিসেবে আমণ্ড গ্রহণ করলে লিপিড প্রোফাইলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং গ্লাইসেমিক কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রনে থাকে (8) 

৫. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রক 

অন্যান্য উদ্ভিদজ বাদামের মতন আমণ্ডও রক্তে কোলেস্ট্রলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে (9)। সম্প্রতি একটি গবেষণা থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে আমণ্ডের মতন ডায়টারি সাপ্লিমেন্ট হার্টের নানাবিধ সমস্যা বিশেষত হার্ট অ্যাটাকের সম্ভবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এই বাদাম কম ঘনত্বের লিপোপ্রোট্রিন বা খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা হ্রাস করে ওবং বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে।     

৬. মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে

কথিত আছে আমণ্ড এল- কার্ণিটাইন সমৃদ্ধ। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এই এল- কার্ণিটাইন মস্তিষ্কের নতুন কোষ গঠণে সহায়তা করে (10) । 

এছাড়াও আমণ্ড ফেনালালানাইন উপাদান সমৃদ্ধ যা মস্তিষ্কের বৌদ্ধিক বিকাশ এবং স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে (11)  

 শুধু তাই নয় আমণ্ড ভিটামিন ই এবং বি৬ উপাদান সমৃদ্ধ, যা স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে তোলে। এইভাবে অ্যালজাইমারের মতন স্মৃতি লোপকারী অসুখকে প্রতিহত করে (12) 

আমণ্ডে রয়েছে ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড (13) । গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে এই দুই ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের বিকাশে উন্নতি ঘটায় (14)

৭. চোখের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক     

উদ্ভিদজ প্রোটিন বিশেষত আমণ্ড খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শরীরে একাধিক ভিটামিন এবং মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ হয়। কম বেশি সকলেই আমরা এই তথ্য সম্পর্কে অবগত। এইসব ভিটামিন প্রত্যক্ষভাবেই চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও আমণ্ড তেল বিউটি টিপস হিসেবে মনে করা হয়। আমণ্ড তেল ত্বককে আর্দ্র রাখে। শুষ্কতার কারণেই অনেক সময় ত্বক নির্জীব দেখায়। চোখের চারপাশের ত্বক, মুখমণ্ডলের বাকি অংশের থেকে অনেক পাতলা হয় সেই কারণে খুব সহজেই এই অংশের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এবং গাঢ় বর্ণের রক্ত নালিকা গুলিকে স্পষ্ট করে তোলে। এইভাবে চোখের চারিদিকে ডার্ক সার্কেল তৈরী হয়।  আমণ্ড অয়েল বা তেল চোখের চার দিকের ত্বক আর্দ্র করে রাখে (15)। আর অনায়াসেই চোখের চারিদিকের ডার্ক সার্কেল থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়াও প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ আমণ্ড খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে কোনোরকম চোখের সমস্যা থেকে নিরাপদে না থাকা গেলেও তার ভয়াভয়তা কে রোধ করা যায় (16)

৮. অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ

আমণ্ড হল অতি মাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরে বার্ধক্যের ছাপ বিশেষত চামড়ায় কোঁচ বা রিংকেল পরার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। 

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধক

ক্যান্সার প্রতিরোধে আমণ্ডের একটি কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে। বিশদে বলতে গেলে সপ্তাহে অন্তত দুবার উদ্ভিদজ বাদাম বিশেষ করে আমণ্ড খেলে কলোরেক্টাল ক্যান্সার সংক্রমনের ফলে মৃত্যুর সম্ভবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয় (17)

১০. পরিপাক ক্রিয়া বা হজমে সহায়ক

জলে ভেজানো কাঠবাদাম বা আমণ্ড খাদ্য পরিপাক ক্রিয়া সহজ করে দেয়। ফলে খাবার হজম হতে অনেক কম সময় লাগে। আমণ্ডের একদম বাইরের স্তর অপেক্ষাকৃত শক্ত হয়ে থাকে তাই এই অংশ হজম করা একটু কঠিন হয় (18) ।  অবশ্য ভেজানো আমণ্ডের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি হয় এবং তা সহজ পাচ্য হয়ে থাকে। শুধু তাই নয় এর অপুষ্টিগত যেসব দিক রয়েছে সেগুলিকে হ্রাস করে (19)

১১. হাড়ের মজবুত গঠনে সহায়ক

পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলে নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে দৈনিক ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ জরুরী। হাড়ের ক্ষয় বা নানাবিধ হাড়ের অসুখ থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে ন্যাশানাল অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে কম ক্যালসিয়াম গ্রহণের ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে যায় (20)। ডেয়ারী দ্রব্য ছাড়াও উদ্ভিদ্জ দ্রব্যের মধ্যে আমণ্ডে রয়েছে অতি মাত্রায় ক্যালসিয়াম। যা হাড়ের ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস করে।

১২. একাধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন

একাধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন আমণ্ডে রয়েছে মোনো – আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ডায়টারি ফ্যাট। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন এবং মিনারেলস। যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, কপার বা তামা, আয়রন বা লোহা, জিঙ্ক বা দস্তা, ম্যাঙ্গানীজ, থিয়ামিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন ই, এবং একাধিক ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস।

১৩. ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায়

আমণ্ডে উপস্থিত আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও,

  • আমণ্ড অয়েল  ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটা রোদের পোড়াভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এছাড়াও সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে ত্বকের গঠনগত দিক থেকে যা ক্ষতি হয় তার নিরাময় করে। ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ আমণ্ড অয়েল হালকা ভাবে বুলিয়ে রাখলে অল্প সময়ের মধ্যে উপকার পাওয়া যায় (21)
  • আমণ্ড অয়েল ত্বকের স্ট্রেচ মার্ক দূর করে।
  • নিয়মিত আমণ্ড অয়েলের ব্যবহার চামড়ায় কোঁচ পরার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে।

১৪. চুলের পরিচর্যা

বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে জানা গিয়েছে যে, চুলের স্বাস্থ্য বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমণ্ডের প্রভাব সীমিত। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নানাভাবে আমণ্ডকে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়। 

  • সারা রাত কয়েকটা আমণ্ডকে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে ঐ আমণ্ড গুলিকে বেটে প্রলেপের আকার দিতে হবে। এবার ঐ মিশ্রণের সাথে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে। অলিভ অয়েলের সাথে আমণ্ড বাটার এই মিশ্রণটি একটি প্রাকৃতিক হেয়ার কণ্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। যদিও এই মিশ্রণ এবং তার ফলাফলের ব্যাপারে কোনো বৈজ্ঞাণিক প্রমাণ বা ব্যাখ্যা নেই। তবে যারা এই মিশ্রণ ব্যবহার করেছেন তারা এর সুফল পেয়েছেন বলেই জানা গেছে।
  • ভিজে আমণ্ড বা আমণ্ড পেস্ট মাথার স্ক্যাল্পে লাগালে চুলের গোড়া শক্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্থ চুলের উপকার হয়। চুল পরা রোধ হয়। এবং সর্বোপরি নতুন হেয়ার ফলিকল্‌স সৃষ্টি হয়।

আমণ্ডের  পুষ্টিগুণ

পুষ্টিগুণ প্রতি ১ কাপ, (১৪৩ গ্রাম)
  পরিপোষক পদার্থ          পরিমাণ             একক
জল    ৬.৩১গ্রাম
এনার্জি    ৮২৮কিলোক্যালোরি
এনার্জি  ৩৪৬৫কেজি
প্রোটিন  ৩০.২৪গ্রাম
মোট লিপিড (ফ্যাট)  ৭১.৪০গ্রাম
অ্যাশ  ৪.২৫গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট  ৩০.৮২গ্রাম
মোট ডায়টারী ফাইবার  ১৭.৯গ্রাম
মোট শর্করা  ৬.২২গ্রাম
সুক্রোজ  ৫.৬৫গ্রাম
গ্লুকোজ (ডিট্রোজ)  ০.২৪গ্রাম
ফ্রুক্টোজ  ০.১৬গ্রাম
মল্টোজ  ০.০৬গ্রাম
গ্যালাক্টোজ  ০.১০গ্রাম
স্টার্চ    ১.০৩গ্রাম
                          মিনারেলস
ক্যালসিয়াম Ca৩৮৫মিলিগ্রাম
আয়রণ  Fe৫.৩১মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম Mg    ৩৮৬মিলিগ্রাম
ফসফরাস  P    ৬৮৮মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম  K      ১০৪৮মিলিগ্রাম
সোডিয়াম Naমিলিগ্রাম
জিঙ্ক Zn      ৪.৪৬মিলিগ্রাম
কপার Cu    ১.৪৭৪মিলিগ্রাম
ম্যাঙ্গানীজ Mn  ৩.১১৬মিলিগ্রাম
সেলেনিয়াম Se৫.৯মিলিগ্রাম
ভিটামিন
থিয়ামিন০.২৯৩মিলিগ্রাম
রাইবোফ্লাভিন১.৬২৭মিলিগ্রাম
নিয়াসিন৫.১৭৪মিলিগ্রাম
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড০.৬৭৪মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি ৬০.১৯৬      মিলিগ্রাম
মোট ফোলেট৬৩  মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট, খাবার৬৩মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট, ডিএফই৬৩মাইক্রোগ্রাম
মোট কোলিন৭৪.৫মাইক্রোগ্রাম
বিটাইন০.৭মাইক্রোগ্রাম
বিটা ক্যারোটিনমাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এIU
লুটেইন + জেক্সানথিনমাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন ই ( আলফা টোকোফেরল)৩৬.৬৫মিলিগ্রাম
টোকোফেরল, বিটা০.৩৩মিলিগ্রাম
টোকোফেরল গামা০.৯২মিলিগ্রাম
টোকোফেরল, ডেলটা০.১০মিলিগ্রাম
মোট কোলাইন৭৪.৫মিলিগ্রাম
লিপিড
ফ্যাটি অ্যাসিড, মোট স্যাচুরেটেড  ৫.৪৩৭গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড, মোট মোনো স্যাচুরেটেড  ৪৫.১১৮গ্রাম
  ফ্যাটি অ্যাসিড,      মোট ট্রানস০.০২১গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড,  মোট পলিস্যাচুরেটেড১৭.৬৩০গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড, মোট ট্রানস- মোনোইনোইক  ০.০১৭গ্রাম
স্টিগমাস্টেরলমিলিগ্রাম
ক্যাম্পেস্টেরলমিলিগ্রাম
বিটা – সিটোস্টেরল    ১৮৬মিলিগ্রাম
অন্যান্য পরিপোষক
সিয়ানিডিন৩.৫মিলিগ্রাম
(+) ক্যাটেচিন১.৮মিলিগ্রাম
(-) এপিগ্যালোকেটেচিন৩.৭মিলিগ্রাম
(-) এপিক্যাটেচিন০.৯মিলিগ্রাম
এরিওডিক্টল০.৪মিলিগ্রাম
নারিনজেনিন০.৬মিলিগ্রাম
ইসরোহ্যামনেটিন৩.৮মিলিগ্রাম
কায়েম্ফেরল০.৬মিলিগ্রাম
কুয়েরসেটিন০.৫মিলিগ্রাম
জেনিস্টেইন০.০১মিলিগ্রাম
মোট আইসোফ্লাভোনস০.০১মিলিগ্রাম
কোউমেস্টেরল০.০১মিলিগ্রাম
প্রোঅ্যান্থোসায়ানিন ডিমারস১৩.২মিলিগ্রাম
প্রোঅ্যান্থিসায়ানিডন ট্রিমার১০.৯মিলিগ্রাম
প্রোঅ্যান্থিসায়ানিডন ৪-৬ মারস৩৯.২মিলিগ্রাম
প্রোঅ্যান্থিসায়ানিডন ৭-১০ মারস৪০.৩মিলিগ্রাম
প্রোঅ্যানথিসায়ানিডিন পলিমারস (>১০ মারস)  ১১৪.৮মিলিগ্রাম
মোট আইসোফ্লাভোনস০.০১মিলিগ্রাম

সূত্র – (13) 

আমণ্ডের ব্যবহার

রোজকার জীবনে আমণ্ডের নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। 

  •  বেশ কিছু গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে দৈনিক ১০-১০০ গ্রাম আমণ্ড খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শরীরে গ্লুকোজ হোমিওস্ট্যাটিজ এবং লিপিড মেটাবলিজম উন্নত হয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমণ্ড রাখলে সমগ্র কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম ভালো থাকে (22)
  • প্রত্যেকটা আমণ্ডের ওজন গড়ে ১-১.৫ গ্রাম হয়। তাই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন অনায়াসেই ৮-১০টি আমণ্ড খেতে পারেন।
  • এছাড়াও আমণ্ডের স্যুপ তৈরী করা যায়, যা খুবই স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে।
  • আমণ্ড দিয়ে খুব সুন্দর  ফ্রুট স্যালাড বানানো হয়। যা স্বাদে অতি উত্তম হয়ে থাকে।
  • ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চের সময় আমণ্ড দুধ, অন্যান্য ফল এবং ঠাণ্ডা দইয়ের সাহায্যে এক অনবদ্য স্বাদের স্মুথি প্রস্তুত করা যায়। যা খুবই পুষ্টিকর এবং খাদ্যগুণ সম্পন্ন।
  • আমণ্ড দুধ থেকে তৈরী আমণ্ড মাখন খুবই অসামাণ্য স্বাদের হয়ে থাকে।
  • আমণ্ড এর শাঁস থেকে তৈরী আমণ্ড ফ্লাওয়ার বা আটা সাধারণ গম ভাঙা আটার তুলনায় অনেক বেশি স্বাদযুক্ত এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয়ে থাকে।

আমণ্ডের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

আমণ্ডের স্বাস্থ্য উপকারিতা যেমন রয়েছে, তেমনি নির্দিষ্ট পরিমাণের থেকে বেশি বা সংবেদনশীল শরীরের জন্য আমণ্ড ক্ষতিকারকও বটে। এইবার দেখে নেওয়া যাক, আমণ্ডের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি কি কি। 

  • সায়ানাইড বিষক্রিয়া 

তিঁতকুটে স্বাদের আমণ্ডে রয়েছে সায়ানাইড। প্রতিটা আমণ্ড, প্রতি গ্রামে ০.৯- ৪.৯ মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড গ্যাস নির্গত করে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য ৫০-৩০০ গ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড প্রানঘাতী হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিমাণের থেকে বেশি আমণ্ড খেলে সায়ানাইডের এই ডোজ অতিক্রম করে যাবে। যা যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্যই প্রানঘাতী হতে পারে (23)

  •  ব্লটিং বা পেট ফাঁপার প্রবণতা 

অতিরিক্ত পরিমাণ আমণ্ড খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে পেট ভরে যায়। শুধু তাই নয় শারীরিক অস্বস্তি হতেও দেখা যায়। কারণ আমণ্ডে রয়েছে ফাইবারজাত উপাদান। মূলত যে কারণে পেট ভর্তি হয়ে যায় (24)

  •  ভিটামিন ই ওভারডোজ 

আমরা জানি যে অন্যসব বাদামের মতন আমণ্ডও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত পরিমাণ আমণ্ড খাওয়ার ফলে শরীরে ভিটামিন ই এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলস্বরূপ গা বমি ভাব, অন্ত্রে খিঁচ ধরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ব্যাথা, ঝাপসা দৃষ্টি, ইত্যাদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়।

  • ড্রাগ ইন্টারঅ্যাক্সন 

অ্যান্টি কোয়াগুল্যান্ট, কেমোথেরাপি ড্রাগ, স্ট্যানিন ইত্যাদি আমণ্ড উপস্থিত ভিটামিন ই এর সাথে বিক্রিয়া করতে পারে। যদিও এই সম্ভবনা বেশ কম। তবুও সম্ভবনা থেকেই যায় (25) ।  

এই প্রবন্ধ থেকে আমরা সহজেই জানা গেল প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের আমণ্ড খাওয়ার উপকারীতা কী। একইসাথে এটাও জানা গেল যে বেশি খেলে বেশি উপকার এমন ভাবনার কোনো জাওয়গা নেই কারণ একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের থেকে বেশি আমণ্ড স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যেকোনো রকম বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। সুস্থ্য থাকুন এবং অন্যদেরকে সুস্থ্য থাকার এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অনুপ্রেরণা দিন ।  

25 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch