আমলকির উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Amla Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

by

আমলকি হল একটি অতি উপকারী ফল যা বহু যুগ ধরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় একটি ঔষধি গুনাগুন সম্পন্ন ফল হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি, বর্তমানে আমলকিকে সব থেকে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে (১)। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় প্রমাণিত হয়েছে যে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা ধরণের সমস্যা অনায়াসে কাটিয়ে তুলতে পারে এই আমলকি (২)। ভারতবর্ষে বিশেষ করে মধ্য পূর্ব এলাকা গুলিতে এবং দক্ষিণ এশিয়াতে আমলকির ভরপুর চাষ করা হয়। আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাকে আমলকির উপকারিতা ও অন্যান্য নানা তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানাবো ।

আমলকির উপকারিতা – Benefits of Amla in Bengali

ভিটামিন সি ও উচ্চ পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরা এই আমলকি শরীরের নানা সমস্যা মেটাতে অত্যন্ত কার্যকরী। আমলকির উপকারিতা সম্পর্কে যত বলা হবে ততই কম। তাই আমরা তিন ভাগে জেনে নেব আমলকির উপকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের ওপর ঠিক কিভাবে কাজ করে এই আমলকি, চলুন জেনে নেওয়া যাক ।

স্বাস্থ্যের জন্য আমলকির উপকারিতা – Health Benefits of Amla in Bengali

স্বাস্থ্যের ওপর আমলকির উপকারিতা অনেক। আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে যে মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজম ক্ষমতা বাড়াতে, সর্দি কাশি কমাতে ও নানা ধরণের সমস্যা থেকে মুক্ত করতে আমলকির জুড়ি মেলা ভার (৩)। নিচে বিস্তারিত ভাবে আমলকির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পকে বর্ণনা করা হল।

  • গলা ব্যাথা কমাতে:

অনেকেরই ঠান্ডা লাগলে গলায় ব্যাথা হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।  এই সময় অবশ্যই প্রয়োজন আমলকির, কারণ এটি ভিটামিন সি দ্বারা পরিপূর্ণ। এমনকি, ঋতু পরিবর্তনের সময় গলা ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে খালি পেটে আমলকির রস পান করার অভ্যেস করুন। খুব সহজেই গলা ব্যথা কমে যাবে (৪)

  • হার্টকে সুস্থ রাখতে : 

কার্ডিও ভাস্কুলার ডিজিজের ক্ষেত্রে আমলকি খুবই কার্যকরী। এই কার্ডিও ভাস্কুলার ডিজিজ হল হার্টের এমন এক পরিস্থিতি যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে আমলকি হার্টের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করে যার ফলে হার্ট সুস্থ ভাবে কাজ করতে পারে (৫)। ফলে রক্ত সঞ্চালন সঠিক থাকে ও কোলেস্টরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রিত হয়।

  • ডায়াবেটিস কমাতে:

আমলকি রক্তে শর্করা ও লিপিডের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। একথা বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমাণিত হয়েছে যে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা যদি প্রতিদিন নিয়ম করে আমলকি খায়, তাদের অন্যদের তুলনায় খুব শীঘ্রই ডায়াবেটিস কমে যেতে পারে (২)। এমনকি, ডায়াবেটিসের ফলে লিভারের কার্যকারিতায় যেসব সমস্যা দেখা যায়, সেটিও আমলকির দ্বারা নির্মূল করা যায় বলে জানা গেছে (৬)। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই একবার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

  • বার্ধক্য দেরিতে আনে: 

ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর এই আমলকি আপনি প্রতিদিন খেলে অনায়াসে নিজের বার্ধক্যের কারণ এড়িয়ে চলতে পারবেন। ফলে বহুদিন পর্যন্ত আপনি যৌবন ও দীপ্তময় স্বাস্থ্যের অধিকারী থাকতে পারবেন। এর জন্যে আপনি আমলকির রসও পান করতে পারেন (৭)

  •  নিজেকে সতেজ রাখতে:

আমলকি অ্যান্টি অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ যা শরীরের যেকোনো বিষক্রিয়া পদার্থকে নিমেষে শরীর থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে আপনি সারাদিন নিজেকে সতেজ ও ক্লান্তি মুক্ত রাখতে পারেন ও অনায়াসে দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপ পালন করতে পারেন (৮)

  • হজম শক্তি বাড়াতে :

ফাইবার সমৃদ্ধ আমলকি পাচনক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে পায়খানা পরিষ্কার হয়। এর ফলে হজম ক্ষমতা বাড়ে কারণ এটি খেলে আপনার লিভার থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস্ট্রিক জুস অর্থাৎ পাচক রস সঠিক পরিমানে নিঃসৃত হয় ।(৯)

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: 

আমলকিতে রয়েছে অসাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপাদান (১০)। আমলকি হল ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ, যা শরীরের যাবতীয় কার্যকারিতাকে সঠিক ভাবে চালনা করতে সাহায্য করে। এর ফলে কোনোরকম রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়।

  • হাড় মজবুত করে:

হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যেও আমলকির ভূমিকা বিশাল। আমলকিতে থাকে ভিটামিন সি, এটি হাড়কে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে যা মজবুত হাড় গঠন হওয়ার প্রধান কারণ এবং হাড়ের ভেতরে রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখে (১১)

  • দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: 

আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে চোখের নানা রকমের সমস্যা যেমন জয় বাংলা বা অন্যান্য সংক্রমণ রোধ করতে পারে। শুধু এই নয়, আমলকি দৃষ্টি শক্তিও প্রখর করতে সাহায্য করে। চোখের পেশী গুলিকে মজবুত করে এটি চোখকে আরাম প্রদান করে। ফলে চোখের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ছানি পড়া কম করতেও সাহায্য করে আমলকি (১২)।

  • গল ব্লাডার স্টোন হতে বাধা দেয়: 

গল ব্লাডারে স্টোন হওয়ার মূল কারণ হল লিভার ও অগ্নাশয়ের সমস্যা অর্থাৎ যখন প্রয়োজনীয় হজম করানোর পাচক রস গুলি লিভার থেকে সঠিক ভাবে নিঃসৃত হয় না, তখন গল ব্লাডারে স্টোন দেখা যায়। তাই তার জন্যে প্রয়োজন লিভারের যত্ন। আমলকির ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লিভার ও অগ্নাশয়ের কার্যকারিতা সঠিক ভাবে চালনা করতে সাহায্য করে (১৩)।

  • ওজন কমাতে: 

একথা নানারকম ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি দুটোই যখন একসাথে মিশে যায় তখন ওজন কমানোর প্রচেষ্টা কখনোই বৃথা যায় না। শরীরের ফ্যাট, কোলেস্টরল মাত্রা ও অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ কমানোর জন্যে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট খুবই প্রয়োজনীয়। আমলকিতে উচ্চ পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকার জন্য বেশিরভাগ শারীরিক ক্রিয়াকলাপ সঠিক ভাবে হয় যা ওজন কমাতে সাহায্য  করে (১৪)

  • সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই:

নানা রকম সংক্রামক ব্যাধি অনায়াসে কমিয়ে আনতে পারে এই আমলকি। দাঁত বা মাড়িতে সমস্যা বা মুখে ও গলায় আলসার হলে আমলকি ওষুধের মত কাজ করে (১৫)

  • বিপাক ক্রিয়া সঠিক রাখতে:

বিপাক ক্রিয়া যতটা সঠিক থাকবে, শরীর ততটাই সুস্থ ও ঝরঝরে থাকবে। আমলকিতে রয়েছে খাবার হজম করানোর ক্ষমতা শক্তি কারণ এটি ফাইবারে ভরপুর। ফলে আপনি যাই খান না কেন, তার সঠিক পুষ্টি শরীরে প্রবেশ করে বাকিটা অনায়াসে বেরিয়ে যায় পায়খানার মাধ্যমে (১৬)

  • রক্ত পরিষ্কার করে: 

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর আমলকি রক্তের নানা বিষক্রিয়া পদার্থ ও লিপিডের মাত্রা কম করে রক্ত সঞ্চালনকে সঠিক ও পরিষ্কার করে তোলে। এতে শ্বেত রক্ত ক্ষণিকার (RBC) মাত্রা ঠিক থাকে ও হিমোগ্লোবিন বাড়ে (১৭)।

  • লিভারের সুস্থ রাখতে:

লিভার সুস্থ রাখতে প্রয়োজন প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। আমলকি এমন একটি ফল যা এই তিনটি উপাদানে ভরপুর। এগুলি লিভারের হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে ও অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট মুক্ত করে। ফলে যেকোনো বিষক্রিয়া পদার্থগুলি দেহ থেকে বেরিয়ে যায় (১৮)।

  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে :

আজকাল ক্যান্সার হয়ে উঠেছে আমাদের কাছে এক অতি পরিচিত রোগ। তাই প্রত্যেকের নিজের ডায়েটের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। আমলকির মধ্যে কিছু অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান আছে বলে জানা গেছে। তাই এটি খেলে ক্যান্সারের প্রবণতা কমতে পারে (১৯)

ত্বকের ক্ষেত্রে আমলকির উপকারিতা – Skin Benefits of Amla in Bengali

আমলকির স্বাস্থ্যগত উপকারিতাগুলি তো দেখতেই পেলেন। এবারে জেনে নিন ত্বকের জন্যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই আমলকি:

  • উজ্জ্বল ত্বক: 

উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্যে ভিটামিন সি খুবই কার্যকরী যা আমলকির সাহায্যে আপনি অনায়াসে পেতে পারেন।

কেন ও কিভাবে এটি সাহায্য করে?

দূষণের ফলে ত্বকে জমে থাকা ধুলো, বালি বা ময়লা গুরুতর ভাবে অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে যা আপনার ত্বককে ক্লান্তিময় ও ফ্যাকাসে করে দেয়। এই সময় আপনার প্রয়োজন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি যা আমলকিতে উচ্চ পরিমানে রয়েছে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

উজ্জ্বল ত্বক পেতে আপনি নানারকম ভাবে আমলকি ব্যবহার করতে পারেন :

– আমলকি প্রতিদিন একটি করে খেলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও দীপ্তময় হয়ে ওঠে।

– আমলকি দিয়ে একটি প্যাকও  তৈরী করতে পারেন। একটি আমলকি পেস্ট করে তার রসের সাথে একটু মধু ও দই মিশিয়ে রোজ লাগান ও ১৫ মিনিট রাখুন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুব শীঘ্রই ফল পাবেন।

  • ফর্সা ত্বক পেতে

ত্বক ভেতর থেকে যতখানি পরিষ্কার হবে, ততই তা স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল থাকবে। আমলকি ত্বক পরিষ্কার রেখে ফর্সা হতে অর্থাৎ উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কেন ও কিভাবে এটি সাহায্য করে?

ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে প্রয়োজন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। সারাদিনের ক্লান্তি ও পরিশ্রমের সম্পূর্ণ ছাপ যখন ত্বকে এসে পরে, তখন এই অ্যান্টি  অক্সিডেন্ট ভেতর থেকে ত্বকের মৃত কোষগুলি নষ্ট করে নতুন কোষ তৈরীতে সাহায্য করে। এর জন্যে আমলকির মত কার্যকরী কিছু হতেই পারে না।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

আমলকি ভালো করে পেস্ট করে তার সাথে একটু কাঁচা দুধ মিশিয়ে রোজ তুলো দিয়ে মুখে ঘষুন । তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার পর দেখবেন ত্বক ঝলমলে ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

  •  মেচেতার দাগ দূর করে:

আমলকির সাহায্যে আপনি আপনার ত্বকে হওয়া মেচেতার দাগ নির্মূল করতে পারেন।

কেন ও কিভাবে এটি সাহায্য করে?

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি দুটোই হল ত্বকের মেচেতার দাগ মুক্ত করার প্রধান কারণ যা আমলকিতে প্রচুর পরিমানে আছে। এর ফলে আপনি দাগ হীন ত্বক অনায়াসে ফিরে পেতে পারেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

আমলকির রস ও চালের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে একটি স্ক্রাবার তৈরী করুন। তারপর সেটি স্নানের আগে ভালো করে ত্বকে ঘষে ঘষে লাগান। ১০ মিনিট পর সেটি জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার করলেই দারুন ফল পাবেন।

চুলের জন্য আমলকির উপকারিতা – Hair Benefits of Amla in Bengali

শরীর ও ত্বক ছাড়া আমলকির উপকারিতা চুলের ক্ষেত্রেও নানারকম ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক:

  • চুল বাড়াতে:

বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকেরই চুল পড়ার সমস্যা বেড়েই চলেছে যার ফলে চুলের ঘনত্ব কমে আসে। এই সমস্যার নাম হল অ্যালোপেসিয়া। এক্ষেত্রে আমলকি দারুন কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে থাকে (২০)

কেন ও কিভাবে এটি সাহায্য করে?

অ্যালোপেসিয়ার মূল কারণ হল ভিটামিন সি এর অভাব যা আমলকিতে ভরপুর পরিমানে রয়েছে (২২)। তাই আজকাল প্রায় প্রত্যেকটি চুলের তেল বা শ্যাম্পুতেই আমলকি ব্যবহার হয়ে থাকে। আমলকিতে উপস্থিত যাবতীয় উপাদান চুলের ঘনত্ব বাড়িয়ে চুল লম্বা ও মজবুত করতে সাহায্য করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • ৪ টি আমলকি ভালো করে কেটে একটি পাত্রে নারকেল তেলের সাথে ২০মিনিট ফুটিয়ে সেটি ছেকে নিন। তারপর ঠান্ডা হলে একটি বোতলে সেটি ঢেলে রাখুন। সপ্তাহে ৪ দিন ভালো করে চুলে মালিশ করুন ও মালিশ করার পর ২ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। খুব শীঘ্রই ফল পাবেন।
  • ২ টি আমলকির রস একটি পাত্রে হেনা পাউডারের সাথে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার চুলে লাগিয়ে শ্যাম্পু করুন।
  • আমলকি ও শিকাকাই মিশিয়ে আপনি একটি পেস্ট তৈরী করে চুলে লাগাতে পারেন।
  • পাকা চুলের জন্যে:

পাকা চুলের সমস্যা মেটাতে আমলকির  ব্যবহার করার মতো ভালো উপায় আর কিছুই হতে পারে না।

কেন ও কিভাবে এটি সাহায্য করে?

আমলকিতে থাকা উচ্চ পরিমানে ভিটামিন সি স্ক্যাল্পের গোড়া থেকে মৃত কোষ গুলিকে নষ্ট করে সাদা চুল অনায়াসে কালো করতে সাহায্য করে (২২)

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

একটি পাত্রে এক বোতল নারকেল তেল, কয়েকটি জবা ফুল, জবা পাতা ও ৪ টি আমলকি টুকরো করে মিশিয়ে ২০ মিনিট ধরে ফোটান। তবে দেখবেন যেন তেলটি পুড়ে না যায়। এরপর সেটি ঠান্ডা হলে ভালো করে ছেকে বোতলে পুনরায় ঢেলে রাখুন। সপ্তাহে ৪ দিন রাতে শোওয়ার আগে চুলে মালিশ করুন ও সকালে উঠে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন কদিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারছেন।

  • উকুন তাড়াতে: 

উকুন তাড়াতেও দারুন কার্যকরী এই আমলকি।

কেন ও কিভাবে এটি সাহায্য করে?

আমলকিতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান যা উকুনের বিরুদ্ধে দারুন লড়াই করে। ফলে খুব সহজেই উকুন মরে যায় ও চুল থেকে ঝরে পড়ে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এক টুকরো আমলকি নিয়ে চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভালো করে ঘষুন। তারপর ঘন্টা খানেক বাদে কোনো উকুন মারার শ্যাম্পু দিয়ে স্নান করে ভালো করে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। যতদিন না পুরো উকুন ঝরে পড়ছে ততদিন এটি করতে থাকুন। ফলাফল নিশ্চয়ই পাবেন।

আমলকির পুষ্টিগত মান – Nutritional Value of Amla in Bengali

আগেই বলা হয়েছে যে আমলকিতে রয়েছে উচ্চ পরিমানে ভিটামিন সি ও ফাইবার যা এটিকে অত্যন্ত পুষ্টিকর করে তোলে। কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে আরো কিছু পুষ্টিকর উপাদান যা নিচের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হল (২৩)।  আসুন দেখে নেওয়া যাক :

পুষ্টিপ্রতি ১০০ গ্রামে%
ক্যালোরি৪৪২%
কার্বোহাইড্রেট১০.২ গ্রাম৩%
ফাইবার৪.৩ গ্রাম
ফ্যাট০.৬ গ্রাম১%
ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড৪৬ মিলিগ্রাম
ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড২৭১ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ২৯০ IU৬%
ভিটামিন সি২৭.৭ মিলিগ্রাম৪৬%
ক্যালসিয়াম২৫ মিলিগ্রাম২%
আয়রন০.৩ মিলিগ্রাম২%
ম্যাগনেসিয়াম১০ মিলিগ্রাম২%
ফসফোরাস২৭ মিলিগ্রাম৩%
পটাশিয়াম  ১৯৮ মিলিগ্রাম৬%
ফোলেট৬ এম সি জি১%

আমলকির ব্যবহার – How to Use Amla in Bengali

আমলকি নানারকম ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। দেখে নিন কতরকম ভাবে আপনি আমলকি ব্যবহার করতে পারবেন:

১. ফল হিসেবে- আমলকি খাওয়ার সব থেকে সেরা পদ্ধতি হল এটি কাঁচা ও গোটা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া। অল্প একটু নুন মাখিয়ে এটি টুকরো টুকরো করে কেটে খেতে দারুন লাগে।

২. শুকনো ফল হিসেবে- রোদে শুকিয়ে আমলকি খাওয়ার মজাই আলাদা। টুকরো টুকরো করে আমলকি কেটে তাতে নুন, লঙ্কার গুঁড়ো, গোল মরিচ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো ইত্যাদি মিশিয়ে কড়া রোদে রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে একটি কৌটোয় ভোরে রোজ অল্প অল্প করে খেতে পারেন।

৩. শুকনো আমলকির গুঁড়ো- রোদে আমলকি শুকিয়ে সেটি গুঁড়ো করে রোজ সকালে জলে গুলি খালি পেটে খাওয়ার অভ্যেস করুন। এটি স্বাস্থ্যের জন্যে খুব উপকারী।

৪. আমলকির রস- প্রতিদিন এক গ্লাস আমলকির রস পান করা স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত উপকারী। এটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ঔষধির মত কাজ করে ও বহু যুগ ধরে এটি প্রচলিত।

৫. আমলকির তেল- আমলকির তেল ত্বক ও চুলের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ।এটি ত্বক ও চুলকে মসৃন, কোমল ও তরতাজা করে তোলে।

আমলকির ক্ষতিকারক দিক – Side Effects of Amla in Bengali

অতিরিক্ত কোনোকিছুই শরীরের জন্যে কখনোই ভালো না। ঠিক সেরকম ভাবেই আমলকিও অতিরিক্ত পরিমানে শরীরে প্রবেশ করা ঠিক না।

  • উচ্চ পরিমানে ভিটামিন সি ও ফাইবার থাকার ফলে আমলকির অতিরিক্ত সেবন পেটের নানা রকম সমস্যা যেমন অম্বল, পেট খারাপ, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে (২৪), (২৫)
  • আমলকির ধাঁচ একটু ঠান্ডা হওয়ার ফলে এটি অতিরিক্ত খেলে সর্দি কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • উচ্চ পরিমানে পটাশিয়াম থাকার ফলে যাদের কিডনি বা ডায়বেটিসের সমস্যা আছে তাদের সাবধানে এটি খাওয়া প্রয়োজন।

তবে যাই হোক না কেন, আয়ুর্বেদিক ও ভেষজ চিকিৎসা অনুযায়ী আমলকি যে অত্যন্ত উপকারী ও প্রয়োজনীয় একটি ফল, একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। শরীরের নানা রকম সমস্যা নির্মূল করতে সাহায্য করে এই আমলকি। তাহলে আর দেরি না করে আপনি ও আপনার পরিবারের প্রত্যেকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই এটি যোগ করুন।

আমাদের এই পোস্ট যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই  আমাদের জানান কমেন্টের মাধ্যমে। এছাড়া এই সংক্রান্ত আরো কিছু তথ্য জানা থাকলেও সেটিও জানাতে ভুলবেন না।

Was this article helpful?
scorecardresearch