আঁচিল বা জড়ুলের সমস্যার লক্ষণ এবং চিকিৎসা | Warts Symptoms and Treatment in Bengali

by

মুখের আঁচিল কি আপনার সৌন্দর্য নষ্ট করছে? যথেষ্ট মেকআপ করা সত্ত্বেও একটা সামান্য আঁচিল যে আপনার সৌন্দর্যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সুন্দর ভাবে নিজেকে সাজিয়ে তোলার সময় আমরা অনেকেই এমন সমস্যার সম্মুখীন রোজই হয়ে থাকি। বিশেষত কোনো অনুষ্ঠানে বা বিশেষ দিনে অত্যন্ত যত্ন করে সাজার পরেও শুধু মাত্র এই একটা কারণে মনটা খুঁতখুঁত করে, তাই না? বাজার থেকে হয়ত অনেক কসমেটিক প্রোডাক্ট কিনে ব্যবহার করেও ফেলেছেন তাও কোনও উপকার পাননি। তাহলে তো সত্যিই বড় চিন্তার কথা।

স্টাইলক্রেজের এই নিবন্ধে, আজকে আমরা কেবল আঁচিল সম্পর্কে আলোচনা করব। এর পিছনে মূল কারণ কী তাও আমরা জানাব আপনাদের। এছাড়াও, আমরা আঁচিলের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এরকম কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিরোধের উপায়ও আপনাদের সামনে তুলে ধরব, যেগুলি মেনে চললে ভবিষ্যতে আঁচিল নিয়ে আর কিছু ভাবতেই হবে না। তবে, এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ব্যবহারের আগে চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজনীয়, কারণ কিছু মানুষের সংবেদনশীল ত্বক থাকে এবং কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের কারণে তাদের অ্যালার্জির সমস্যাও হতে পারে।

আঁচিল বা জড়ুল কী?

সেই অর্থে আঁচিল কোনও রোগ না। তবুও এটি আমাদের খুবই বিব্রত করে এবং সমস্যায় ফেলে। এটি বাদামি, কালো, লালচে এই রকম নানা রঙের এমনকী ত্বকের রঙের ও হয় আঁচিল সেক্ষেত্রে শুধু ফোলাভাবটা থাকে। আকারের দিক থেকেও ছোট বড় হয়ে থাকে আঁচিল।

এটি মূলত ত্বকের একটি ভাইরাস সংক্রমণজনিত সমস্যা। সংক্রমণের কারণে ত্বকের কোনো কোনো অংশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে যা আঁচিলের রূপ নেয়। দেহের যে কোনও জায়গায় আঁচিল বা আব দেখা দিতে পারে। তবে, হাত ও পায়ের ত্বকে বিকাশের সম্ভাবনা বেশি থাকে। হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস অর্থাৎ আপনার ত্বকে এইচপিভি সংক্রমণের কারণে ঘটে। কোনোপ্রকার আঁচড়ের দাগ বা চামড়ার অগভীর ছিদ্র দিয়ে এই ভাইরাস সংক্রমণ হয়ে থাকে। আঁচিল বা জড়ুল অত্যন্ত ছোঁয়াচে, আক্রান্ত স্থাণ বার বার ছুঁলে দেহের অন্যান্য অংশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে চিন্তার কোনো বিষয় নেই। ফোলা এই মাংসপিন্ডগুলি ক্যান্সার সৃষ্টি করে না।(1)

আঁচিলের প্রকারভেদ

আগেই বলা হয়েছে যে দেহের যে কোনো অংশে আঁচিল দেখা যায়। কোন স্থানে আঁচিল বা জড়ুল হয়েছে এবং এর আকার বা গড়ন কতরকম সেই অনুযায়ী আঁচিলের প্রকারভেদ করা হয়। মূলত ছয় প্রকারের আঁচিল বা জড়ুল দেখা যায়, যা হল:(2)

  • সাধারণ আঁচিল(Common warts): এটি সূঁচের ডগা থেকে মটর আকারের হতে পারে। এই ধরণের আঁচিল বা আব প্রায়শই হাত, আঙ্গুল, নখ এবং আপনার পায়ের চারপাশে ত্বকে দেখা যায়।
  • মোজাইক আঁচিল (Mosaic warts): এক্ষেত্রে আঁচিলটি ছোট ছোট সাদা রঙের হয়ে থাকে। সাধারণত পায়ের আঙ্গুলের নীচে হ্য়ে থাকে এ ধরণের আব যা পুরো পাদদেশে ছড়িয়ে যেতে পারে।
  • আঙুলআকৃতির আঁচিল (Filiform warts): এক্ষেত্রে উঁচু হয়ে থাকা মাংসপিন্ড থ্রেডের মতো পাতলা এবং পয়েন্টযুক্ত হয়ে থাকে এবং মূলত মুখে দেখা দেয় এই ধরণের আঁচিল।
  • চ্যাপ্টা আকৃতির আঁচিল(Flat warts): হালকা বাদামী রঙের এই ধরণের আঁচিল সাধারণত মুখ, কপাল এবং গালে দেখা যায়। এই ধরণের চ্যাপ্টা আকৃতির আব আন্ডারআরমেও দেখা দিতে পারে।
  • পায়ের আঁচিল (Plantar warts): এটি বেশ বড় হতে পারে। এই ধরণের আঁচিলের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা একটু কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরণের আঁচিল পায়ের গোড়ালি এবং তলদেশে দেখা দেয়।
  • যৌনাঙ্গের আঁচিল (Genital warts): যৌনাঙ্গে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ হলে এই ধরণের আব বা ফোলাভাব দেখা যায়।

এবারে জেনে নিন, কেন এই ধরণের আঁচিল বা জড়ুলের সমস্যা দেখা দেয়।

আঁচিল বা জড়ুল কেন হয়?

অনুপযুক্ত খাওয়া, দূষিত পরিবেশ এবং আশেপাশের ময়লার কারণে অনেক সময় এই ধরণের ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাস ঘটির সংক্রমণ দেখা দেয়। আর আগেই বলা হয়েছে যে আঁচিল বা জড়ুল মূলত সংক্রমণের কারণেই হয়। তবে, আরও কিছু কারণ আছে যা থেকে আঁচিল বা জড়ুল হবার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, যা নিম্নলিখিত:(2)

  • আঁচিল এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) সংক্রমণের কারণে ঘটে। এরকম প্রায় ১০০ টিরও বেশি ভাইরাস রয়েছে, যা ত্বকের ছোট কাটা বা আঁচড়ের মাধ্যমে ত্বকে প্রবেশ করতে পারে এবং অতিরিক্ত কোষের বৃদ্ধি ঘটায়। এর ফলে ত্বকের বাইরের স্তর ঘন ও শক্ত হয়ে যায়, যা আঁচিলে রূপ নেয়।
  • এছাড়াও, এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও অন্যের আঁচিল হতে পারে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে বা গামছা অন্য কেউ ব্যবহার করলে ফলেও তার মধ্যেও সংক্রমণ দেখা দিতে পারে এবং তার আঁচিল বা জড়ুল হতে পারে।
  • ত্বকে ক্ষত থাকলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তবে, কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আঁচিল বা জড়ুল হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে। যেমন –

  • যারা কসাইয়ের দোকান বা কসাইখানাতে কাঁচা মাংস নিয়ে কাজ করেন।
  • খেলাধুলার পরে যেসব শিশু এবং কিশোররা প্রায়শই স্থাণীয় জলাশয়ে স্নান করে বা বা একই সুইমিং পুলে অনেকে সাঁতার কাটতে বা শিখতে যায়।
  • পরিবারের কারোর আঁচিলের সমস্যা থাকলে অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হবার সম্ভাবনা খুব বেশি।
  • স্কুলে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যাদের কোনো সহপাঠীর আঁচিলের সমস্যা আছে।
  • যে সকল ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল: বিশেষত বয়স্ক, শিশুরা এবং যাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে বা ক্যান্সার বা এইডস জাতীয় মারাত্মক রোগ রয়েছে।
  • একজিমার মতো এটপিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।
  • কোনো ব্যক্তির যদি প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে থাকে তবে তাদের দেহ সর্বদা সফলভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হয় না। আঁচিল আছে এরকম ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকলে সেইসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

আঁচিল বা জড়ুল কী কী কারণে হতে পারে, কাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশী তা জানানোর পরে, আমরা এখন এর লক্ষণগুলি সম্পর্কেও জানাব।

আঁচিল বা জড়ুলের লক্ষণ ও উপসর্গ

  •  
  • ত্বকের উপরিভাগে ছোট ছোট রুক্ষ ফোলা মাংসপিন্ড দেখা দেয়।
  • ফোলা অংশগুলি ত্বকের রঙেরও হতে পারে আবার একটু গাড় রঙের ও হতে পারে যা ত্বকের তিলের মত দাগ সৃষ্টি করে।
  • ত্বকের মসৃণতা এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে।
  • জমাট বাঁধা রক্রনালীগুলি আঁচিলের ওপর কালো দাগের আকারে দেখা দেয়।

আঁচিলের সমস্যা সংক্রামক। যদিও আঁচিল বা আব নিজেরাই অদৃশ্য হয়ে যায়। যদিও প্রক্রিয়াটি কয়েক সপ্তাহ বা মাস বা এমনকি কয়েক বছর সময় নিতে পারে। আপনি যদি দ্রুত সমাধান চান বা রক্তপাত বা পুঁজ খেয়াল করেন, অবিলম্বে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল বা জড়ুল সারাবেন কীভাব?

অনেকের মুখে, হাতে এবং পায়ে আঁচিল বা জড়ুল দেখা যায়। শুধুই মুখ, হাত এবং পা নয়, দেহের যে কোনো অংশেই আঁচিল দেখা যায়। আর, ঢিপির মতো উঁচু এই অপ্রয়োজনীয় মাংসপিণ্ডগুলি যে অচিরেই বাহ্যিক সৌন্দর্য্য নষ্ট করে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই, অযাচিত আঁচিল বা জড়ুলের এই সমস্যা কীভাবে সারাবেন তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন।

এছাড়া মুখে ব্রন হোক বা ত্বকে সামান্য দাগ পড়ুক সবেতেই আমরা চিন্তিত তো হই, তবে আঁচিল হলে কপালে চিন্তার ভাঁজটা বেড়ে যায় অনেকাংশে। কারণ, মেক-আপ করে বা কোনোভাবেই আমরা আঁচিল লুকিয়ে রাখতে পারব না। এই আঁচিল সাড়ানোর জন্য তাই অনেকেই চর্ম বিশেষজ্ঞের কাছে যান, এমনকী লেজার ট্রিটমেন্টের কথাও ভেবে নেন। কিন্তু ঘরে বসেই আপনি এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন, জানেন কী? আজকে তাই আমরা এমন কিছু ঘরোয়া সমাধান নিয়ে এসেছি আপনার জন্য যা সহজেই আপনাকে আঁচিলের হাত থেকে রেহাই দিতে পারে। শুধু আপনাকে ধৈর্য্য ধরে নিয়ম করে ঘরোয়া প্রতিকারের উপায়গুলি অনুসরণ করে চলতে হবে।

তাই নিবন্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে, আপনি জানবেন যে ঘরোয়া কী কী প্রতিকারের সাহায্যে এই সমস্যাটির মোকাবিলা করা যেতে পারে।

১. রসুনের সাহায্যে আঁচিলের চিকিৎসা

রসুন ভাইরাসজনিত সংক্রমণের চিকিত্সা করতে আপনাকে সহায়তা করতে পারে কারন রসুনের অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর, আঁচিল বা আব ভাইরসা সংক্রমণের মাধ্যমেই ঘটে। তাই রসুনের এই বৈশিষ্ট্যগুলি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত কোষগুলির বিস্তারকে বাধা দেয়।(3)

সামগ্রী:

  • ১ বা ২ কোয়া রসুন

করণীয়ঃ

  • রসুন গুঁড়ো করে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টটি আক্রান্ত স্থানে বা আঁচিলের ওপর লাগান।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি দিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন।

২. ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল মল্ট অপসারণের ওষুধ হিসাবে ভীষণ উপকারী। এটিতে পাওয়া অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্যগুলি আঁচিলের ব্যাকটিরিয়া প্রতিরোধ এবং নির্মূল করতে সহায়তা করে।  এই তেলেরঅ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্যগুলি মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের কার্যকারীতা নষ্ট করে এবং দেহের অন্যান্য অংশে সংক্রমণ হতে দেয় না।(4)

সামগ্রী:

  • ১ চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল
  • ২-৩ ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল

করণীয়ঃ

  • একটি পাত্রে, এক চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল এবং দুই থেকে তিন ফোঁটা প্রয়োজনীয় তেল বা এসেন্সিয়াল অয়েল মেশান।
  • সুতির কাপড় বা তুলোর সাহায্যে এটি আঁচিলের ওপর লাগান।
  • কিছুক্ষণ এভাবে রেখে দিন এবং তারপরে এটি জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি সকালে স্নানের আগে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করতে পারেন।

৩. টি ট্রি অয়েল

চা গাছের তেল বা টি ট্রি অয়েল আঁচিলের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে। কারণ, এটি এটিওলজিকাল মাইক্রোবিয়াল (Aetiological Microbial) বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের সংক্রমণ দূর করতে সহায়তা করে। তেলটি ব্যবহারের সাহায্যে আপনি ত্বকের অন্যান্য অংশে ব্যাকটিরিয়াঘটিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারেন।(5) এছাড়াও, এই তেলটিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট আঁচিলের সমস্যার উপশম করতে পারে(6)।

সামগ্রী:

  • চা গাছের তেলের ২-৩ ফোঁটা
  • তুলো বা কটন বল

করণীয়ঃ

  • তেলে তুলার বল ডুবিয়ে আক্রান্ত স্থাণে লাগান।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি সপ্তাহে প্রতিদিন, সকালে এবং সন্ধ্যায় এটি করতে পারেন।

৪. ভিনেগার দিয়ে আঁচিলের চিকিৎসা

আপনি ভিনেগার ব্যবহার করেও আঁচিলের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। ভিনেগারে উপস্থিত এসিটিক অ্যাসিড ব্যাকটিরিয়া দ্বারা সংক্রমণ ছড়াতে দেয় না।  ভিনিগার সংক্রমণ রোধ করে এবং তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

সামগ্রী:

  • ২ টেবিল চামচ ভিনেগার
  • একটি কটন বল

করণীয়ঃ 

  • তুলো ভিনেগারে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।
  • এভাবে কিছুক্ষণ রেখে দিন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি দিনে একবার ব্যবহার করতে পারেন।

৫. ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা

বিভিন্ন চর্মরোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ভারতীয় আয়ূর্বেদ চিকিৎসায় অ্যালোভেরা বহুদিন থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। অ্যালোভেরার জেল সাধারণত ত্বককে সুন্দর করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে আপনি কি জানেন যে এটি আঁচিল অপসারণের ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এর মধ্যে থাকে প্রাকৃতিক এনজাইম, ভিটামিন, মিনারেল ও পলিস্যাকারাইডের রাসায়নিক সমন্বয় যা খুব সহজেই আপনাকে আঁচিলের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এটি গবেষণায় প্রমাণিত যে, অ্যালোভেরার অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কেবল ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না, ব্যকটেরিয়ার প্রভাবও ধ্বংস করে।

সামগ্রী:

  • ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল

করণীয়ঃ

  • আঁচিল যেখানে আছে সেই স্থাণে একটু জেল লাগান
  • কিছুক্ষণ আলতো করে ঘষুন।
  • এভাবে কিছুক্ষণ রেখে দিন এবং তারপর এটি ধুয়ে ফেলুন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে দিনে দু’বার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করুন দেখবেন তাড়াতাড়ি আঁচিলের ফোলাভাব এবং দাগ মিশে গেছে।

৬. বেকিং সোডা দিয়ে আঁচিলের প্রতিকার

যেমনটি আপনি উপরে পড়েছেন, আঁচিল এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) সংক্রমণ এর ফলে ঘটে। তাই, বেকিং সোডা যা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট নামেও পরিচিত, আঁচিলের সমস্যা হ্রাস করতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। যদিও এই মুহূর্তে, এই বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা দরকার।

সামগ্রী:

  • ২ চা চামচ বেকিং সোডা
  • ১ চা চামচ প্রয়োজনীয় তেল বা এসেন্সিয়াল অয়েল

করণীয়ঃ

  • দুটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট প্রস্তুত করুন।
  • তারপরে এই পেস্টটি আঁচিলের ওপর লাগিয়ে নিন।
  • কিছু সময় পরে এটি পরিষ্কার করুন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন।

৭. লেবু

আঁচিলের সমস্যা সমাধানের জন্য লেবু খুব উপকারী হতে পারে। আসলে, এটিতে সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে, যার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আঁচিল অপসারণ করতে সহায়তা করতে পারে।(7)

সামগ্রী:

  • ১ চা চামচ লেবুর রস
  • ২ টেবিল চামচ জল
  • কটন বল বা তুলো

করণীয়ঃ

  • ২ টেবিল চামচ জল নিয়ে তাতে লেবুর রস মেশান।
  • এবারে মিশ্রণটি তুলো দিয়ে আঁচিলের ওপর লাগান।
  • এটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি যে কোনও সময় ব্যবহার করতে পারেন। সকালে স্নানের আগে এটি ব্যবহার করলে বেশী উপকার পাবেন।

৮. কলার খোসা দিয়ে আঁচিলের চিকিৎসা

কলা খাওয়ার পরে আপনি এর খোসাটা নিশ্চোই ফেলে দেন। তবে আপনি কি জানেন যে কলার খোসা ঠিক কতটা উপকারী? কলার খোসায় এক ধরণের প্রাকৃতিক এনজাইম রয়েছে যা মুখের দাগছোপকে মিলিয়ে দিতে পারে। এমনকী, আঁচিলের সমস্যা নিরাময়ের এক অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার হয়ে উঠতে পারে এই কলার খোসা। কারণ, কলার খোসায় অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটিরিযইয়াল বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য ও রয়েছে। কলার খোসাতে থাকা এই বৈশিষ্ট্যগুলি আঁচিল অপসারণ করতে পারে এমনকী এর সংক্রমণ ও প্রতিরোধ করতে পারে।(8)

সামগ্রী:

  • একটি পাকা কলার খোসা
  • মেডিকেল টেপ

করণীয়ঃ

  • আপনি কলার খোসাটি ছাড়িয়ে নিন।
  • ছোটো চৌকো আকারে কেটে নিন খোসাটি।
  • এবার মেডিকেল টেপের সাহায্যে খোসার টুকরোগুলো আঁচিলের ওপর লাগিয়ে নিন। খোসার ভিতরের দিকের সাদা অংশটি আঁচিল স্পর্শ করিয়ে রাখবেন।
  • ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য রাখতে পারেন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি দিনে একবার ব্যবহার করতে পারেন। দু সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন এরকমভাবে আঁচিলের ওপর কলার খোসা ৫-১০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রেখে দেখুন, উপকার পাবেন নিশ্চিত। যতদিন না আঁচিলের দাগ মিশছে ততদিন পর্যন্ত উপায়টি অনুসরণ করে চলুন।

৯. থুজা তেল

আঁচিলের চিকিৎসার জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হিসেবে থুজা অ্যাসিডেন্টালিস বা আমেরিকান আর্বরভিটি (Thuja occidentalis or American arborvitae) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। থুজা একটি চিরসবুজ গাছ এবং এটির পাতা থেকে প্রস্তুত ওষুধটি বগু ত্বক-সম্পর্কিত রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। যদিও থুজা তেল আঁচিল অপসারণের জন্য কতটা কার্যকরী তা সঠিকভাবে জানার জন্য আরও গবেষণা করা দরকার। তবে এতে, অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য আছে তাই এই তেল যে আঁচিলের জন্য দায়ী এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা) ভাইরাস এর সংক্রমণ দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে এটা নিশ্চিত।(9)

সামগ্রী:

  • ২-৩ ফোঁটা থুজা তেল
  • ২-৩ ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল
  • ১ টি কটন বল

করণীয়ঃ

  • এসেন্সিয়াল অয়েল বা অপরিহার্য তেলের সাথে থুজার তেল মেশান।
  • তারপরে সুতির বলটি ডুবিয়ে রাখুন।
  • এবার তেলে ভেজা কটন বলটি আঁচিলের ওপর কিছু সময়ের জন্য লাগিয়ে রাখুন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি সপ্তাহে দু দিন যে কোনো সময়ে ব্যবহার করতে পারেন।

১০. হলুদ

হলুদ কেবল আমাদের রক্তই পরিষ্কার করে না, এটি অন্যান্য ক্ষেত্রেও উপকারী। হলুদে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।(10) হলুদে পাওয়া এই বৈশিষ্ট্যগুলি আঁচিলের জন্য দায়ী মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস দূর করতে কার্যকর। আছাড়াও, তারা আঁচিলের অন্যান্য প্রভাবগুলি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ও সহায়তা করতে পারে। তবে এই মুহূর্তে, এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সামগ্রী:

  • ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
  • ১ চামচ এসেন্সিয়াল অয়েল বা প্রয়োজনীয় তেল

করণীয়ঃ

  • তেল এবং হলুদ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টটি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন।
  • পেস্টটি শুকিয়ে যাবার কিছুক্ষণ পর স্থানটি পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।

১১. বিটলের রস

বিটলের রস, ক্যানথারিডিন (Cantharidin) নামেও পরিচিত যা আঁচিলের চিকিৎসার জন্য বেশ উপকারী এবং অনেকাংশে কার্যকরী। পোডোফিলিন এবং স্যালিসিলিক অ্যাসিডের সাথে এটি একসাথে ব্যবহার করা আঁচিলের সমস্যাগুলির পাশাপাশি তিলের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ও সাহায্য করে।

সামগ্রী:

  • ২-৩ ফোঁটা বিটলের রস
  • ১-২ ফোঁটা পডোফিলিন (Podophyllin)
  • ২ ফোঁটা স্যালিসিলিক অ্যাসিড (Salicylic Acid)
  • একটি ব্যান্ডেজ

করণীয়ঃ

  • পোডোফিলিন এবং স্যালিসিলিক অ্যাসিডের সাথে ২-৩ ফোঁটা বিটলের রস মেশান এবং ত্বকের যে অংশে আঁচিল আছে সেখানে মিশ্রনটি লাগান।
  • আবার ওই স্থাণে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখুন।
  • আক্রান্ত স্থানটি এভাবে ২৪ ঘন্টা আবদ্ধ রেখে দিন।
  • কিছু দিন পরে ব্যান্ডেজ খুলে দেখুন আক্রান্ত স্থাণতি কেমন আছে এবং প্রয়োজনে প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আঁচিল আছে যে অংশে সেই স্থাণের ত্বকটি মসৃণ না হওয়া অবধি প্রতি ৩-৬ দিন অন্তর এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন।

১২. নিম তেল

নিমের নাম, এর ব্যবহার এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও চর্মরোগ নিরাময়ে নিম কতটা উপকারী তা কে না জানে। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ও উপকারী। নিম পাতার অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য আঁচিল সৃষ্টিকারী ব্যাকটিরিয়াকে ধ্বংস করে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং আঁচিলের সমস্যার সমূলে মিরাময় করে।(11)

সামগ্রী:

  • ১ চা চামচ নিম তেল
  • ১ টি কটন বল

করণীয়ঃ  

  • নিমের তেলে তুলার বল ভিজিয়ে রাখুন।
  • আঁচিল হয়েছে ত্বকের যেসব স্থাণে সেখানে লাগিয়ে রাখুন নিম তেলে ভেজানো কত্ন বলটি।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • আপনি এটি দিনে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

১৩. অরিগ্যানো অয়েল

বেশ কিছু অধ্যয়নে দেখা গেছে যে অরিগ্যানো অয়েলে কার্বাক্রোল (carvacrol) নামে একটি যৌগ রয়েছে যা অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।(12) তাই বলা যায় এই তেল এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে আঁচিলের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

একই সময়ে, সিডিসি (রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র) – এর গবেষণা অনুযায়ী এইচপিভি এর চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা যাবে না। তাই এমন পরিস্থিতিতে একবার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা ভাল।

সামগ্রী:

  • ৪-৫ ফোঁটা পার্সলে তেল (Oregano Oil)
  • ১ টি কটন বল

করণীয়ঃ

  • আঁচিলের জায়গাটি পরিষ্কার করুন।
  • একটি কটন বলের উপর কয়েক ফোঁটা অরিগ্যানো অয়েল নিন।
  • এবার তা আঁচিলের ওপর কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে দিন।

কখন ব্যবহার করতে পারবেন?

  • স্নানের আগে আপনি এই পদ্ধতিটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।

১৩. ভিটামিন এ

আঁচিলের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ওষুধ হিসাবে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, এর জন্য আপনি ভিটামিন-এ-তে ভরপুর সব খাবার খেতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে আপনি ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্টও নিতে পারেন। ভিটামিন-এ HPV নামক ভাইরাসের উপর এর প্রভাব দেখায় যা এবং আঁচিলের প্রভাব ধীরে ধীরে হ্রাস করে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্মূল ও করতে পারে।

দ্রষ্টব্য: যৌনাঙ্গ অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা। তাই, যৌনাঙ্গে এরকম আব বা ফোলাভাব দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য এইসব ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে, বেশী দেরী না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

এছাড়াও, ডাক্ট টেপ এবং ঝামা পাথর ব্যবহার করে আঁচিলের সমস্যা সমাধান করতে পারেন। জেনে নিন কীভাবে কী করবেন –

ডাক্ট টেপ

আঁচিলের ফোলাভাব কমিয়ে সমস্যা সমাধানে খুব সহজ পদ্ধতি এটি। চিকিৎসকেরাও অনেক সময় এই পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ডাক্ট টেপ আঁচিলের ত্বকে অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ করে দেয়, ফলে আঁচিলের ত্বকের কোষগুলি মরে গিয়ে তা নিজে থেকেই খসে পড়ে।

নালী টেপ একটি চিকিৎসায় সহায়ক আঠালো একটি টেপ যা আঁচিল অপসারণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে আঁচিল অপসারণে ডাক্ট টেপ পদ্ধতি ক্রিওথেরাপির চেয়ে আরও বেশী কার্যকর হতে পারে।

সামগ্রীঃ

  • ডাক্ট টেপ
  • ঝামাপাথর

করণীয়ঃ

  • ডাক্ট টেপের টুকরো নিন এবং এটি আঁচিলের ওপর আটকে দিন।
  • প্রতি তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত এটি পরিবর্তন করুন যতক্ষণ না এটি নিজে থেকে পড়ে যায়।
  • খসে প্রে যাবার পরে আপনি যদি আঁচিলের কোনও অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে চান এরপর ঝামাপাথর দিয়ে জায়গাটা স্ক্রাব করে নিন ভালো করে।
  • দেখবেন আঁচিলের আর চিহ্ন মাত্র নেই।

কত ঘন ঘন আপনার এটি করা উচিত

  • আঁচিলটি নিজে থেকে খসে পড়ে না যাওয়া অবধি প্রতি ৩ থেকে ৫ দিন অন্তর এই পদ্ধতিটি পুনরাবৃত্তি করুন।

সাবধানতা: আপনার যদি সেনসিটিভ স্কিন বা সংবেদনশীল ত্বক হয়ে থাকে তবে অবশ্যই আঠালো টেপ ব্যবহারে আগে সতর্কতা অবলম্বন করবেন কারণ এটির ফলে ত্বকের ওই অংশে জ্বালাভাব হতে পারে। প্রয়োজনে আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

নিবন্ধের এই শেষ অংশে, এবার আমরা আপনাকে আঁচিলের সমস্যা এড়ানোর জন্য কিছু পরামর্শ দেব।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক?

  • যদি ঘরোয়া উপায়গুলি ব্যবহারের পরেও আঁচিলের সমস্যা না সারে তবে চাইলে চিকিৎসকের সহায়তা নিতে পারেন। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সাধারণ আঁচিল দূর করার জন্য ওষুধের পরামর্শ দেন।
  • যদি আঁচিল থেকে রক্তক্ষরণ হয় বা পুঁজ বের হয়ে যায় তবে তৎক্ষনাত একজন চর্ম বিশেষজ্ঞ বা চিকিতসকের পরামর্শ নিন। এই পর্যায়ে, আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আঁচিল অপসারণের সুবিধার্থে আরও শক্তিশালী চিকিৎসার কৌশল ব্যবহার করবেন।
  • মনে রাখবেন, আঁচিল ভীষণভাবে ছোঁয়াচে। একটি আঁচিল হলে সেটা থেকে সংমণ দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকী আক্রান্ত ব্যক্তির ছোঁয়া থেকে অন্য ব্যক্তির ও হতে পারে। তাই, একটা আঁচিল দেখতে পেলে তা ফেলে না রেখে চিকিৎসা শুরু করুন।
  • ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করেও ফল না মিললে চিকিৎসকের পরামর্শ তো নিতেই হবে। যদিও এই প্রতিকারগুলি সমর্থন করার জন্য খুব বেশী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবে আয়ুর্বেদ মতে উপরিউক্ত ঘরোয়া টোটকাগুলি আঁচিল অপসারণে কার্যকর।
  • যৌনাঙ্গে ফোলাভাব দেখা দিলে বা আঁচিলের মত আব দেখা দিলে ঘরোয়া টোটকাগুলির প্রয়োগের থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মুখের আঁচিলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ মুখ এবং যৌনাঙ্গ উভয় অংশের ত্বকই খুব সংবেদনশীল।

আঁচিলের সমস্যা প্রতিরোধের সতর্কতা

আঁচিল এর সমস্যা আপনি নিশ্চিতভাবে প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তবে আঁচিল হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করতে সর্বদা কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন। আপনি যদি সত্যিই আঁচিলের সমস্যা এড়াতে চান তবে নিম্লিখিত এই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস অনুসরণ করে চলুন:

  • নিয়মিত হাত পা ধুয়ে ফেলুন।
  • নখ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অবিলম্বে পরিত্যাগ করুন।
  • বড় নখ থাকলে তা ছোট করে কেটে ফেলুন যাতে আঁচড় না লাগে।
  • তোয়ালে এবং জুতো সবার সাথে ভাগ করে ব্যবহার করবেন না।
  • আপনার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ বা আদ্র রাখার চেষ্টা করুন। নারকোল তেল খুব ভাল প্রাকৃতিক মইয়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে আর আঁচিল থাকলে তার দাগ ও দূর করতে পারে।
  • কোথাও কেটে গেলে স্থাণটি উন্মুক্ত রাখবেন না, ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন।
  • রাস্তায় চলার সময় বা পাবলিক টয়লেট এমনকী পারলে ঘরের মধ্যেও পায়ে জুতো পরে থাকার চেষ্টা করুন যাতে পায়ের পাতাটি ঢাকা এবং সুরক্ষিত থাকে।

বুঝলেন তো, কীভাবে সামান্য অসতর্কতাও কোনও ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই, উপরে উল্লিখিত পরামর্শগুলি মেনে অবশ্যই মেনে চলার চেষ্টা করুন।

এই ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাসজনিত কারণে অনেক রোগ এবং সমস্যা দেখা দেয়। তাদের মধ্যে কিছু কিছু শারীরিক সমস্যা থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পাওয়া যায় আর কিছু দীর্ঘ সময় শরীরে থাকে। আঁচিল বা আব ও হল অদ্ভুত এক সমস্যা। যা বেদনাদায়ক বা খুব একটা ক্ষতিকারক না হলেও ভীষন রকমের সংক্রমক। তাছাড়া, মুখ হোক বা হাত-পা যে কোনও জায়গাতেই আঁচিল দেখতে খুব খারাপ লাগে৷

কিন্তু আশা করি আপনার চিন্তার কারণ শেষ। নিবন্ধে উল্লিখিত আঁচিল অপসারণের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি ধৈর্য্যের সাথে অনুসরণ করুন উপকার পাবেনই। এর পাশাপাশি আঁচিলের সমস্যা এড়ানর জন্য যেসব সতর্কতা অবলম্বন করার ক্তহা বলা হল সেগুলোও মেনে চলুন। তবে, মনে রাখবেন, আঁচিলের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া প্রতিকারগুলি সমস্যা হ্রাস করতে পারে এবং চিকিৎসার প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে শুধুমাত্র। ঘরোয়া টোটকা কোনো রোগেরই স্থায়ী বা সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তাই, উপরিউক্ত কোনো প্রতিকারী উপায় ব্যবহারের আগে ডাক্তারের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করবেন।আর যৌনাঙ্গে যদি ফোলাভাব বা আব দেখা যদেয় এবং এর বারবার পুনরাবৃত্তি হয় তবে অবশ্যই চর্ম বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করবেন।

আমাদের এই নিবন্ধ যদি সত্যিই আপনার কোনো উপকারে আসে তবে দয়া করে নীচের মন্তব্য বিভাগে বলুন। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে সেটিও আমাদের সাথে ভাগ করে নিন।

সম্ভাব্য জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

আঁচিল কি সংক্রামক?

গবেষণা থেকে দেখা যায় যে আঁচিল হল ভাইরাসজনিত একটি সমস্যা।  তাই, একটি আঁচিল হলে তার স্পর্শে দেহের প্ন্যান্য অংশে বা আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ বা ব্যবহৃত জিনিস থেকে অন্য ব্যক্তির ও আঁচিল হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে, এইচপিভি ভাইরাসের সমস্ত স্ট্রেন সংক্রামক নয় এবং সব এইচপিভি ভাইরাস একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না।

আঁচিল কী আমার দেহের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে?

আঁচিল আপনার শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই, দেহের যে অংশে আঁচিল হয়েছে সেই স্থাণ এবং আঁচিলগুলি বারবার স্পর্শ করবেন না। আঁচিলগুলি স্পর্শ করে ফেললে তারপরে ভালভাবে আপনার হাত ধুয়ে নিন।

কিছু কিছু আঁচিলে কেন কালো বিন্দু থাকে?

আপনি যদি ঘনিষ্ঠভাবে লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন বেশ কিছু আঁচিলে কালো বিন্দু থাকে। এগুলি রক্তবাহী যা রক্তনালীগুলিকে পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে।

আঁচিল কী দীর্ঘস্থায়ী?

যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে আঁচিলগুলি এক বা দুই বছর স্থায়ী হয়। তখন আপনার শরীরটি ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হলে আঁচিলগুলি নিজে নিজেই মিলিয়ে যায়। তবে, সাবধানতা অবলম্বন না করলে এটি ছোঁয়া লেগে আপনার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে।

কখন আঁচিলের চিকিৎসা বন্ধ করা উচিৎ?

যখন আঁচিলের ফোলাভাব কমে যায়, ত্বকের রঙ এবং পৃষ্ঠটি চারপাশের ত্বকের গঠন, চেহারা এবং মসৃণতার সাথে মিলে যায়, আপনি আঁচিলের চিকিৎসা বন্ধ করতে পারেন।

আঁচিল থেকে কি রক্তক্ষরণ হয়?

আঁচিল থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে বা পুঁজ বেরোতে পারে। যদি কোনও আঁচিল থেকে রক্তক্ষরণ হয় বা পুঁজ বের হয় তবে আপনাকে অবশ্যই অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আঁচিলটি কালো হয়ে গেলে কি খারাপ?

প্রথম ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে আঁচিলের ত্বকটি কালো হতে পারে। আক্রান্ত স্থাণের কালচে ভাব ইঙ্গিত দেয় যে সেই অংশের ত্বকের কোষগুলি মরে যেতে পারে। এমনকী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই আঁচিল শুকিয়ে যায় অনেক সময়।

আঁচিলের সমস্যা সমাধানের জন্য আমি কীভাবে আমার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করব?

যেহেতু আঁচিল একটি ভাইরাস সংক্রমণজনিত রোগ, তাই এটি ছড়িয়ে প্রার সম্ভাবনাও বেশী। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে আঁচিলের প্রকোপ হ্রাস পায় এবং দেহের অন্যান্য অংশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে। তাজা ফল, শাকসবজি এবং পুরো শস্য দিয়ে ভরা স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।

কেন আমার হঠাৎ করে আঁচিল হচ্ছে?

আগেই বলা হয়েছে আঁচিল HPV নামক ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে হয়।যখন ভাইরাসটি আপনার ত্বকের সংস্পর্শে আসে এবং সংক্রমণের কারণ হয়ে থাকে তখন আঁচিল দেখা দেয়। ত্বকের উপরিভাগে আঁচড়, কাটা অংশ, বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা বেশী। তাই, ত্বকের কাটা অংশ সব সময় ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করবেন।

কোথায় কোথায় আঁচিল হতে পারে?

আঁচিল আপনার শরীরের যে কোনও অংশে উপস্থিত হতে পারে। সাধারণত, আপনার মুখ, ঘাড়, হাত, এবং পা এমনকি পায়ের তলায়, আঙ্গুলেও আঁচিল দেখা যায়। কখনও কখনও অনেকের যৌনাঙ্গে এবং অভ্যন্তর উরুর চারপাশে আঁচিল হয়।

12 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch