বাজরার উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | BuckWheat (Kuttu) Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

Written by

বাজরা হল এক ধরনের সিরিয়াল জাতীয় খাদ্য উপাদান। এর মধ্যে বিশেষ ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। বাজরার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় পুষ্টি উপাদানগুলো রয়েছে। এছাড়াও এর বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। বাজরার মধ্যে থাকা খাদ্য উপাদান গুলি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

বাজরার উপকারিতা :

বাজরা এক ধরনের সিরিয়াল জাতীয় খাদ্য হওয়ায় এবং এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটি ওজন বৃদ্ধি হতে দেয় না। এছাড়াও এটি মধু, ময়দা কিংবা চা আকারে খাওয়া যেতে পারে। এটি বিভিন্নভাবে আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। আপনি যদি গ্লুটেন মুক্ত কুকি, প্যানকেক, নুডলস, স্যালাড তৈরি করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনি বাজরা ব্যবহার করতে পারেন। বাজরার মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান গুলি উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এছাড়াও এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও প্রচুর। জেনে নিন আজকের নিবন্ধ থেকে বাজরার কি কি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে যে জন্য আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় বাজরা অন্তর্ভুক্ত করবেন। (1)

বাজরার স্বাস্থ্য উপকারিতা :

বাজরার মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান গুলি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া এটি নিয়মিত সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাহলে জেনে নিন বাজরা আমাদের কোন কোন স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে –

১) ওজন কম করতে বাজরার ব্যবহার :

বাজরা হলো এক ধরনের উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, শরীরের ওজন কম করার ক্ষেত্রে কিংবা শরীরের ওজন যথাযথ রাখার জন্য শরীরে সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে বাজরা প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস এবং কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য হওয়ায় এটি খাদ্যতালিকায় রাখলে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এর পাশাপাশি এটি দৈনিক গ্রহণ করার ফলে ওজন যথাযথ পরিমাণে থাকে। এছাড়াও এটি এক ধরনের পুষ্টিকর উপাদান হওয়ায় দৈনিক এটি গ্রহণ করলে যেকোনো ধরনের রোগ ভোগের হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

২) স্তন ক্যান্সার নিরাময়ে বাজরার ভূমিকা :

বাজরার মধ্যে থাকা প্রোটিন এবং অ্যামিনো এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। বাজরা প্রোটিন এবং আর্গিনিনে অ্যামিনো অ্যাসিড এ সমৃদ্ধ একধরনের উপাদান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পলিফেনলের সাথে বাক্সহিট প্রোটিনগুলো যে কোষ সৃষ্টি করে সেগুলো কোলন ক্যান্সারের সমস্যাকে প্রতিহত করতে পারে। এছাড়াও মানব শরীরে স্তন ক্যান্সারের কোষগুলিকে নিয়ন্ত্রিত করতে এই খাদ্য উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ক্যান্সারের জীবাণু গুলো শরীরে পরিবর্তন সৃষ্টি করে। সেগুলিকে ধ্বংস করতে বাজরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। ইঁদুরের ওপর করা সমীক্ষার ভিত্তিতে দেখা গিয়েছে যে, বাজরা হলো এক ধরনের অ্যান্টি-ক্যান্সার খাদ্য উপাদান। বাজরার মধ্যে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান গুলো উচ্চ ক্যান্সার সেল বৃদ্ধি করতে শরীরের সহায়তা করে। যেকোনো ধরনের ক্যান্সারের কোষ কে শরীরে বৃদ্ধি পেতে এইগুলি বাধা দেয়। (2) (3)

৩) ডায়াবেটিস নিরাময়ে বাজরার ভূমিকা :

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বাজরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম করতে সহায়তা করে। বাজরার মধ্যে রয়েছে রটিন, কোরেসেটিন, ডি-চিরো-ইনোসিটল এবং অন্যান্য অনুরূপ বায়োকেমিক্যাল গুলো যা শরীরে গ্লুকোজের স্তরকে বাড়তে দেয় না। ইঁদুরের ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, বাজরার মধ্যে থাকা ইথানল এক্সট্রাক্ট গুলি ইনসুলিন প্রতিরোধের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বাজরা গ্লুকোজ স্তরকে বাড়তে দেয় না। যার ফলে এটি ডায়াবেটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরী হতে পারে। এছাড়াও বাজরার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট উপাদান যা শরীরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি ইনসুলিন এর ভূমিকা পালন করে। (4) (5)

৪) গলস্টোন প্রতিরোধ করতে বাজরার ভূমিকা :

বাজরার মধ্যে থাকা উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ উপাদানগুলো শরীরে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি গলব্লাডারে স্টোন তৈরীর সম্ভাবনাকে দূর করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গলব্লাডারে দীর্ঘদিন ধরে সিবাম জমতে জমতে স্টোনের সৃষ্টি হয়। মূলত এ ক্ষেত্রে পিত্তথলি ছোট ছোট কাঁকরের মত বস্তুতে ভরে যায়। এক্ষেত্রে বাজরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণে বাজরা যদি খাদ্যতালিকায় রাখা যায় সেক্ষেত্রে গলব্লাডারে অর্থাৎ পিত্তথলিতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা দূর হয়।

৫) রক্তচাপ কমাতে বাজরার ভূমিকা :

বাজরা উচ্চ রক্তচাপ কম করতে সহায়তা করে। ৮৫০ জন পরিণত বয়স্ক ব্যক্তির ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, দৈনিক খাদ্য তালিকায় বাজরা রাখার ফলে তাদের শরীরে রক্তচাপ কম রয়েছে এবং তাদের লিপিড প্রোফাইল ভাল রয়েছে। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের তুলনায় অনেক কমে গেছে এবং ভালো কোলেস্টেরল  উৎপাদন শুরু হয়েছে। যে কারণে যে সমস্ত রোগীরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি খাদ্যতালিকায় বাজরা রাখেন এক্ষেত্রে রক্তচাপ কম হবার পাশাপাশি শরীরে ভালো কোলেস্টেরল উৎপাদন হবে, যা আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

৬) কার্ডিওভাসকুলার রোগের চিকিৎসায় বাজরার ব্যবহার :

বাজরা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে দিতে পারে, যা কার্ডিওভাসকুলার রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। বাজরার মধ্যে রয়েছে কার্ডিও প্রোটেক্টিভ ফ্ল্যাভোনয়েড রটিন। এর পাশাপাশি কোরেসেটিন, প্রোটিন এবং ফাইবারের মতন উপাদান গুলি রয়েছে বাজরার মধ্যে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কম করতে সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি এগুলি কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির কারণ গুলি কম করতে পারে। বাজরা রক্তের মধ্যে গ্লুকোজের স্তর এবং কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে, যা উচ্চস্তরের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। দৈনিক বাজরা গ্রহনের ফলে শরীরের ওজন এবং এল ডি এল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, যা কিনা কার্ডিওভাসকুলার রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়াও ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বাজরা কার্ডিও স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। (6) (7)

৭) হাঁড়কে স্বাস্থ্যকর রাখতে বাজরার ভূমিকা :

বাজরার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা শরীরে হাঁড়কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এরমধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে হাঁড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। দৈনিক যদি ১০০ গ্রাম বাজরা খাওয়া যায় সেক্ষেত্রে ৭৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম শরীরে গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও বাজরা হল ফাইবার এর অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম এর মধ্যে ১.৫ গ্রাম ফাইবার শরীরে যায়, যা শরীরের হজম ক্ষমতা কে ভালো করে তোলে। এছাড়াও এটি শরীরের হাঁড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।

৮) অ্যাজমা কমাতে বাজরার ব্যবহার :

যে সমস্ত রোগীরা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি দৈনিক বাজরা খাদ্যতালিকায় রাখেন সেক্ষেত্রে এলার্জির সমস্যা অনেকটা কম হয়, যা কিনা অ্যাজমা রোগীদের অন্যতম লক্ষণ। এলার্জি থেকে হাঁচি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয় যা কিনা অ্যাজমা রোগীদের অন্যতম একটি রোগের কারন।

৯) প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের উৎকৃষ্ট উৎস হল বাজরা :

বাজরা হলো এক ধরনের উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য। যে কারণে বাজরা গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন কম হয় বা বলা যায় ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাজরার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় প্রোটিন জাতীয় উপাদানের সবকটি উপাদান, যা শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মিটাতে পারে। দেখা যায়, এককাপ বাজরার মধ্যে রয়েছে ২৩ গ্রাম প্রোটিন, যা কিনা শরীরের যথাযথ প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা কে মিটাতে পারে।

১০) ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় বাজরার ভূমিকা :

বাজরা ত্বককে সুস্থ সমৃদ্ধ এবং উজ্জ্বল করে তোলে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন জাতীয় উপাদান গুলি, যা ভিতর থেকে ত্বককে স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করে। এছাড়াও বাজরার মধ্যে থাকা রটিনে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানসমূহ, যা ত্বকে ব্রণের ও চুলকানির সমস্যাকে কম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মানের প্রোটিন, যা ত্বককে ভেতর থেকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে।

১১) চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় বাজরার ভূমিকা :

বাজরা হল প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস। চুলকে ভিতর থেকে শক্তিশালী এবং ঘন ও মজবুত করার জন্য প্রোটিন হল অন্যতম একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। এক্ষেত্রে বাজরার মধ্যে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন জাতীয় উপাদান এবং ভিটামিন জাতীয় উপাদান গুলি চুলকে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং শক্তিশালী করে। তোলে বাজরা হলো ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর উৎকৃষ্ট উৎস। এটি নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এছাড়াও বাজরার মধ্যে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিডের বিভিন্ন উপাদান গুলো চুলকে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করে।

১২) মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে বাজরার ভূমিকা :

বাজরার মধ্যে থাকা ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ উপাদানগুলি শরীরে শক্তি কে প্রেরণ করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন মিনারেল, যেমন ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, আয়রন এগুলো শরীরের পেশির শক্তিকে বাড়াতে সহায়তা করে এবং স্নায়ুগুলোকে যথাযথভাবে রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি যেকোন ধরনের মানসিক রোগ, যেমন ডিপ্রেশন, মাথা যন্ত্রণা, স্ট্রেস এ ধরনের সমস্যা গুলোকে শরীর থেকে দূর করতে সহায়তা করে।

বাজরার পুষ্টিমূল্য :

ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি বাজরার মধ্যে প্রোটিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন উচ্চমাত্রায় রয়েছে। (8)

এক কাপ অর্থাৎ ১৭০ গ্রাম বাজরার মধ্যে রয়েছে –

শক্তি – ৫৮৩ ক্যালোরি

কার্বোহাইড্রেট -১২২ গ্রাম

প্রোটিন – ২৩ গ্রাম

ফাইবার – ১৫ গ্রাম

ক্যালসিয়াম – ৩০ মিলিগ্রাম

আয়রন – ৪ মিলিগ্রাম

ম্যাগনেসিয়াম – ৩৯৩ মিলিগ্রাম

ফসফরাস – ৫৯০ মিলিগ্রাম

পটাসিয়াম – ৭৮২ মিলিগ্রাম

ফোলেট – ৫১ মাইক্রো গ্রাম।

এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে সমস্ত ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড। বাজরা হলো অন্যতম একটি এন্টি-অক্সিডেন্ট এ পরিপূর্ণ খাদ্য উপাদান। অন্যান্য শস্যের তুলনায় এটিতে রটিন বেশি পরিমাণে রয়েছে। এছাড়াও এরমধ্যে কার্বোহাইড্রেট ও যথাযথ পরিমাণে থাকায় এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেটের চাহিদাটাও মিটাতে সহায়তা করে। তবে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের ওজন এটি বাড়তে দেয় না। যে কারণে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে। এর বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলি সম্পর্কে আমরা জেনে গিয়েছি। এবার জেনে নিন কীভাবে বাজরা খাদ্যতালিকায় ব্যবহার করবেন।

বাজরা কিভাবে ব্যবহার করব?

বাজরা কে বিভিন্ন ভাবে তৈরি করে খাদ্যতালিকায় ব্যবহার করতে পারেন। খাদ্যতালিকায় ভাতের পরিবর্তে বাজরা রাখতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং অ্যামিনো এসিডের সবকটি উপাদান রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বাজরা খাদ্যতালিকায় রাখার জন্য একটি রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো।

১) বাজরার খিচুড়ি :

বাজরা – এক কাপ

জল – দেড় কাপ

মাখন – এক থেকে দুই টেবিল চামচ

লবণ- পরিমাণমতো।

কিভাবে তৈরি করবেন?

  • বাজরা টিকে ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন।
  • এবার মাঝারি আকারের পাত্রে বাজরা জল, মাখন এবং লবন দিয়ে ভাল করে সিদ্ধ করুন।
  • কম আঁচে এটি রান্না করতে থাকুন।
  • একটু বাদে বাদে রান্নাটা নেড়ে দেখুন।
  • প্রয়োজনে একটু মাখন যোগ করুন।
  • এরপর যেকোনো ধরনের সবজি কিংবা স্টু দিয়ে এটি খান।
  • এটি এক ধরনের গ্লুটেন মুক্ত খাবার এবং ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করবে।

এবার হয়তো ভাবছেন বাজরা কত পরিমাণে খাবেন। এক্ষেত্রে মাপটা জেনে রাখুন, ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে দৈনিক ২৫ গ্রাম ফাইবার হওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে অর্ধেক কাপ বাজরায় প্রায় আট গ্রাম ফাইবার থাকে। এক্ষেত্রে আপনি নিয়মিত সেই পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার কোনো সমস্যা হবে না। তবে এটি যতটা সম্ভব দিনের বেলা খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা রাতে খেলে পেট ভার করতে পারে। তবে সকলের শরীরে বাজরা সহ্য নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যদি কোনরকম বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এটি গ্রহণ বন্ধ করে দেবেন।

বাজরার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

বাজরা গ্লুটেন এবং সাইট্রিক অ্যাসিড মুক্ত খাবার হওয়া সত্বেও এটি ব্যক্তিবিশেষে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে বাজরা গ্রহণের ফলে যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলি দেখা যায় সেগুলি হল –

১) হাঁপানি,

২) এলার্জিক রাইনাইটিস, যেমন হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, নাক বন্ধ।

৩) গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, যেমন বমি বমি ভাব।

৪) আমবাত বা ত্বকের সমস্যা

৫) চোখে মুখে ফোলা ভাব।

যদি এ ধরনের লক্ষণগুলি বাজরা গ্রহণ করার পর দেখতে পান তাহলে তৎক্ষণাৎ এটি গ্রহণ করা বন্ধ করবেন এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করবেন। কেননা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা গেলে পরে এটি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাজরা অনেকের শরীরে যথাযথভাবে হজম না হওয়ার ফলেও এলার্জি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারে। তাই এটি গ্রহণ করার আগে অল্প পরিমাণে গ্রহণ করুন, যাতে কোনরকম সমস্যা না হয়। আর সমস্যা হলে তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিন।

আজকের নিবন্ধ থেকে আমরা বাজরা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত আলোচনা করলাম। বাজরা হলো একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং গ্লুটেন মুক্ত শস্য উপাদান। এটি শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার ও ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ একটি খাদ্য উপাদান হওয়ায় এবং এর পুষ্টিমূল্য অনেক থাকায় এটি দৈনন্দিন ডায়েটে গ্রহণ করাই যায়। বাজরার আটা কিংবা নুডুলস প্রত্যেক দিনের খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে হ্যাঁ, এটি গ্রহণের ফলে এলার্জির সম্ভাবনা থাকে। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এটি গ্রহণ করবেন কিংবা কোন রকম সমস্যা থাকলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ করেই আপনার খাদ্য তালিকায় এটি গ্রহণ করবেন। বাজরা গ্রহণের ফলে আপনার কি কি পরিবর্তন হলো সেটি জানাতে ভুলবেন না। সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।

প্রায়শঃ জিজ্ঞাস্য :

বাজরা কি কার্বোহাইড্রেট?

হ্যাঁ, বাজরা কার্বোহাইড্রেট খাদ্য উপাদান হলেও এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।

গমের তুলনায় কি বাজরা ভালো?

হ্যাঁ, গমের তুলনায় বাজরা পুষ্টিকর।

বাজরা নাকি ওটমিল, কোনটা স্বাস্থ্যকর?

বাজরা এবং ওটমিল দুটিই স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান।

বাজরা কি ভাতের চেয়ে স্বাস্থ্যকর?

হ্যাঁ, বাজরা ভাতের তুলনায় ভালো। এটিতে প্রচুর ক্যালোরি এবং ফাইবার রয়েছে। যা খিদের চাহিদা মিটাতে এবং বহুক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Read our editorial policy to learn more.

  1. Phytochemicals and biofunctional properties of buckwheat:

    https://www.academia.edu/7121771/Phytochemicals_and_biofunctional_properties_of_buckwheat_a_review

  2. Anti-Tumor Activity of a Novel Protein Obtained from Tartary Buckwheat
    https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3100852/
  3. Cytotoxic effect of buckwheat (Fagopyrum esculentum Moench) hull against cancer cells
    https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/17651057/
  4. Fagopyrum tataricum (Buckwheat) Improved High-Glucose-Induced Insulin Resistance in Mouse Hepatocytes and Diabetes in Fructose-Rich Diet-Induced Mice
    https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3324901/
  5. Buckwheat concentrate reduces serum glucose in streptozotocin-diabetic rats
    https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/14640572/
  6. Buckwheat and CVD Risk Markers: A Systematic Review and Meta-Analysis
    https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5986499/
  7. Buckwheat Rutin Inhibits AngII-induced Cardiomyocyte Hypertrophy via Blockade of CaN-dependent Signal Pathway
    https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4232801/
  8. FoodData Central
    https://fdc.nal.usda.gov/fdc-app.html#/food-details/170286/nutrients
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.