বেকিং সোডার উপকারীতা, ব্যবহার ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া – Baking Soda Benefits and Side Effects in Bengali

by

শুধুমাত্র রান্নার উপকরণ বলেই নয়, দৈনন্দিন জীবনে বেকিং সোডার উপকারিতা হাতে গুণে শেষ করা যাবেনা। তেলে ভাজা খাবার মুচমুচে রাখার জন্যই হোক বা সোডা ওয়াটার প্রস্তুতের জন্য বেকিং সোডার জুরী মেলা ভার। একাধিক গুণাবলী সমৃদ্ধ বেকিং সোডার ব্যবহার  রোজকার জীবনে অপরিসীম। আমাদের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বেকিং সোডার সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের জানাবো।

বেকিং সোডা আসলে কী?

সোডিয়াম বাই কার্বনেটকে প্রচলিত বাংলায় বেকিং সোডা বলা হয় (1) বা বলা ভালো বেকিং সোডার রাসয়নিক নাম হলো সোডিয়াম বাই কার্বনেট। স্বাভাবিক বায়ুর চাপ এবং উষ্ণতায় সোডিয়াম বাই কার্বনেট বা বেকিং সোডাকেই আবার আর্গোজেনিক অ্যাসিড বলা হয় (2)

বেকিং সোডার উপকারীতা

বেকিং সোডার উপকারীতাগুলি হলো নিম্নরূপ –

১. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে

ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেকিং সোডার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সহজ উপায়ে ত্বক পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বেকিং সোডা ম্যাজিকের মতন কাজ করে।

ব্যবহারের পদ্ধতি

তিন ভাগ বেকিং সোডার সাথে এক ভাগ জল মিশিয়ে ঐ মিশ্রণ হালকা হাতে চক্রাকারে ত্বকের ওপরের অংশে ঘষলে ত্বক ডিপ ক্লিন হয়ে যায় । তারপর ত্বকের ঐ অংশ জলে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হয় । এইভাবে সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করা সম্ভব (3)

২. ব্রণ নিরামায়ক

একাধিক গবেষণা থেকে জানা যায় ব্রণ নিরাময়ের ক্ষেত্রে বেকিং সোডার একটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব রয়েছে। বেকিং সোডাতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান (4)। তাই  মনে করা হয় বেকিং সোডার ব্যবহারের ফলে ব্রণ হওয়া ত্বকের ওপরের অংশ থেকে আঁশের মতন পাতলা আকারে চামড়া উঠে আসে। ফলে ত্বকের ফোলা এবং লালাভ ভাব দূর হয়ে যায়।  এছাড়াও বেকিং সোডা ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব শুষে নিয়ে ত্বক শুষ্ক করে তোলে এবং এর ফলেই  ব্রণ সংলগ্ন অঞ্চল দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

ব্রণ নিরাময়ের জন্য উপযোগী বেকিং সোডার প্যাক প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি হল –  ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা এবং প্রয়োজন মতন জল।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

  •  নির্দিষ্ট পরিমাণ বেকিং সোডার সাথে প্রয়োজন মতন জলের সাহায্যে একটা ঘন প্যাক  তৈরী করতে হবে।
  •  তারপর পুরু করে এই প্যাক  ব্রণের ওপর লাগাতে হবে।
  • ত্বকে লাগানো এই প্যাক সম্পূর্ণ রূপে শুকিয়ে না যাওয়া অবধি, অন্তত ২০ মিনিট এটি মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • এরপর ত্বকের ঐ অংশ হালকা হাতে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ভালো ফল পাওয়ার জন্য নিয়মিত অন্তত ২-৩ বার এই প্যাক লাগানো জরুরী।

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধক

ক্যান্সার বা কর্কট রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি কেমোথেরাপির কিছু অ্যাসিডিক উপাদানের কারণে সৃষ্ট হওয়া শারীরিক সমস্যার নিরাময় করে বেকিং সোডা। বেশ কিছু গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে বেকিং সোডা গ্রহণের ফলে অ্যাসিড লেভেল কম হয় ফলস্বরূপ টিউমারের বৃদ্ধি এবং ব্যাপ্তির হার হ্রাস প্রাপ্ত হয়।

এছাড়াও আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যবহৃত ঘরসমূহ  (এমারজেন্সি রুম) এবং হাসপাতাল হৃদযন্ত্র বিকল (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট), বিষক্রিয়া এবং অন্যান্য নানা প্রয়োজনে বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাই কার্বোনেট) মজুত করে রাখা হয় (3)

৪. রোদে পোড়া ভাব বা সান বার্ন দূরীকরণ

রোদে পোড়া ত্বকের স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনতে বেকিং সোডার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে কারণ এটা আ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য সান বার্নের ফলে ত্বকের মেরামত করে দেয় (5)।  শুধু তাই নয় সান বার্নের ফলে ত্বকের পিএইচ লেভেল তারতম্য দেখা যায়। বেকিং সোডার ক্ষারীয় ধর্ম ক্ষতিগ্রস্থ ত্বকের পিএইচ লেভেল স্বাভাবিক করে তুলতে সহায়তা করে।

এবার সান বার্ণ দূর করতে বেকিং সোডার ব্যবহার পদ্ধতি দেখা নেওয়া যাক .

ব্যবহারের পদ্ধতি 

মাত্র ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে প্রয়োজন মতন দিয়ে প্রলেপ তৈরী করে তা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ অংশে লাগিয়ে রাখতে। এরপর ঐ প্রলেপ শুকিয়ে গেলে ইষৎ উষ্ণ জলের সাহায্যে পেলেপ লাগানো ত্বকের ঐ অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন বেশ কয়েক বার এই প্রলেপ ব্যবহার করলে অল্প দিনের মধ্যেই ত্বকের স্বাভাবিকত্ব ফিরে আসবে।

৫. বুক জ্বালা নিরাময়

আজকের দিনের জীবন যাত্রায় একটা অতি পরিচিত শারীরিক সমস্যা হলো বুক জ্বালা। খাওয়া দাওয়ার একটু অনিয়ম হোক বা অসময়ে বেশি তেল, মশালাযুক্ত খাবার খাওয়াই হোক ফলাফল একই তা হলো বুক জ্বালা। বুক জ্বালা আবার অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স নামেও পরিচিত।  ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই বুক জ্বালাকে অনায়াসেই কুপোকাত করতে পারে বেকিং সোডা। বেকিং সোডার সেবন বুক জ্বালার ফলে সৃষ্ট শারীরিক অস্বস্তিকে উপশম করে। বুক জ্বালার কষ্ট থেকে সহজে উপশম পেতে এক গ্লাস জলে এক চা চামচ বেকিং সোডাকে ভালো করে গুলিয়ে পান করলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরাম পাওয়া যাবে। তবে মনে রাখা দরকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই বেকিং সোডা যুক্ত  জল পান করা উচিত (6) ।  অন্যথায় বিপত্তি দেখা দিতে পারে।

৬. ঠোঁটের কালোভাব দূরীকরণ

ঠোঁট হলো মানুষের মুখমণ্ডলের অন্যতম সুন্দর একটি অংশ। এই ঠোঁটের কালো ছোপ ঠিক মেনে নেওয়া যায়না। তবে ঠোঁটের কালো ভাবের নিরাময় খুব একটা কঠিন কিছু বিষয় নয়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুব সহজেই এটা দূর করা সম্ভব। এবার জেনে নেওয়া যাক কি কি ঘরোয়া জিনিসের সমন্বয়ে ঠোঁটের কালো ভাব দূর করা যায়। লেবুর রস এবং মধু এই দুই ঘরোয়া উপাদান ভিটামিন সি সমৃদ্ধ (7) । এগুলি ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

১ চা চামচ মধুর সাথে ১ চা চামচ বেকিং সোডা ভালোভাবে মিশিয়ে একটা প্যাক  তৈরী করে  আঙুলের ডগায় ঐ প্যাক নিয়ে ঠোঁটের ওপর লাগিয়ে রাখতে হবে। প্যাক  লাগানোর ২ মিনিট সময় পর আলতো ভাবে ঘষে ঠোঁটটি ধুয়ে ফেলতে হবে। মধু এবং বেকিং সোডা নির্মিত এই প্যাক ঠোঁটের উপরিভাগের মরা কোষ গুলিকে পরিষ্কার করে দেয় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোঁটের চামড়াকে ব্লিচ করে স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে নিয়ে আসে।  প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. মুখমণ্ডলের লোম এবং অন্তবর্দ্ধিত লোম ( ফেসিয়াল হেয়ার এবং ইনগ্রোন হেয়ার) –

ব্যবহারের পদ্ধতি 

মুখের ত্বকে অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দরকার ২০০ মিলি ফুটন্ত গরম জল এবং ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা। এই দুটি উপকরণকে একসাথে মিশিয়ে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে তুলোর সাহায্যে মুখের ত্বকের রোমশ অংশে লাগাতে হবে। এরপর কোনো ব্যাণ্ডেজ জাতীয় জিনিসের সাহায্যে ঐ অংশ সারারাত ঢেকে রাখা দরকার। সকালে উঠে ব্যাণ্ডেজ খুলে ফেলে পরিষ্কার জলে ত্বক আলতোভাবে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এই মিশ্রণ ত্বকের ওপরকার হেয়ার ফলিকল্‌সকে শুষ্ক করে তোলে । ফলস্বরূপ লোমের গোড়া আলগা হয়ে তা খসে যেতে পারে ।

৮. দাঁত সাদা রাখে

যেহেতু বেকিং সোডা ব্যবহারের ফলে দাঁতের দাগ ছোপ সহজেই দূর হয়ে যায়। আর দাঁত সাদা ঝকঝকে দেখায়।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

এর জন্য প্রথমে বেকিং সোডার সাথে সামান্য জল মিশিয়ে একটা ঘন মিশ্রণ তৈরী করতে হবে তারপর এই মিশ্রণ দাঁত মাজার ব্রাশের সাহায্যে ওপর নীচ করে দাঁতের ওপর ঘষতে হবে। দাঁত মাজা শেষ হওয়ার পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে দাঁত পরিষ্কার ঝকঝকে দেখাবে। একদিন অন্তর এই মিশ্রণের সাহায্যে দাঁত মাজলে অল্প দিনেই দাঁতের যাবতীয় দাগ ছোপ দূর হয়ে যাবে (8)

৯. বগলের কালো ছোপ দূর করে

বেকিং সোডার ব্যবহার করে ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুব সহজেই বগলের কালো ছোপ দূর করা যায়। তবে শুধুমাত্র বেকিং সোডা নয় এর সাথে দরকার আরো কিছু ঘরোয়া উপাদান।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

১ টেবিল চামচ শুকনো শশা কুঁচি, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা, ৩ টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস নিয়ে এবার এইসব কটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে ঐ মিশ্রণের প্রলেপ বগলে লাগিয়ে রাখতে হবে। এটি শুকিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন এই প্যাক লাগানোর ফলে শুধু বগলের কালো ছোপ দূর হবে তাই নয় ঐ জায়গার ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্যও বৃদ্ধি পাবে (9)

১০. নেল ফাংগাস বা নখে ছত্রাক সংক্রমণ উপশম

নেল ফাংগাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা খুবই ভয়ঙ্কর এবং কষ্টসাধ্যও বটে। নখের ওপরে প্রথমে একটা হলদে ছোপ পড়ে তারপর গোটা নখ জুড়েই এই ছত্রাক সংক্রমণ ছড়িয়ে পরে। সংক্রমণের প্রথম পর্যায়ে সনাক্ত না হলে অল্প দিনের মধ্যেই এই সংক্রমন বিস্তার লাভ করে। এমনকি এই সংক্রমনের ফলে নখ ভেঙে পর্যন্ত যেতে পারে। বেকিং সোডা এই সংক্রমন প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়তা করে। এর মূল কারণ বেকিং সোডায় রয়েছে অ্যান্টি ফাংগাল উপাদান যা ফাংগাসের বিস্তারের পথে বাধা প্রদান করে।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

বেকিং সোডা, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভিনিগার, ইপসাপ নুন, এবং জল সব কিছু একসাথে মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরী করতে হবে। তারপর ঐ মিশ্রণে ক্ষতিগ্রস্থ নখ ১০মিনিট সময় ধরে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর ঐ মিশ্রণ থেকে নখ উঠিয়ে শুকনো কাপড়ে তা মুছে নিতে হবে। মাথায় রাখতে হবে এই মিশ্রণে ক্ষতিগ্রস্থ নখগুলি যেন সম্পূর্ণভাবে ডোবানো হয়। প্রতিদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সহজে এই সংক্রমনের থেকে উপশম হবে (10)

১১. মাউথ আলসার বা মুখের ঘা নিরাময়

বেকিং সোডা মুখের ভেতরের ঘা নিরাময়ে সহায়তা করে। মুখের ভেতরের অ্যাসিডীয় প্রবনতা লাঘব করে বেকিং সোডা প্রদান বা জ্বালা নিবারণ করে।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

মুখের ঘা সহজে নিরাময়ের জন্য ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে ১ চা চামচ জল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরী করতে হবে। এবার ঐ মিশ্রণটি মুখের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্থ অংশে প্রলেপ আকারে ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। কিছু সময় পরে তা শুকনো হয়ে গেলে জল দিয়ে মুখের মধ্যের অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। দিনে একবার করে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সুফল মিলতে পারে (11)  ।

১২. খুসকি নির্মূল করে

চুলের দৈর্ঘ্য ছোট হোক বা বড়ো খুসকি সকল প্রকার চুলের জন্যই একটা সমস্যা। বেকিং সোডা ব্যবহারের ফলে অতি সহজেই খুসকির সমস্যা দূর করা যায়। মনে করা হয় বেকিং সোডা মাথার উপরের ত্বক পরিষ্কার করে দেয় এরফলে সহজেই ত্বকের মরা চামড়া গুলি উঠে যায়। শুধু তাই নয় বেকিং সোডা স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত সিবাম শোষণ করে নেয়। এছাড়াও কারো যদি তৈলাক্ত ধরণের চুল হয় তাহলে সে বেকিং সোডাকে শ্যাম্পু হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে কারণ বেকিং সোডাতে রয়েছে তেল শোষণকারী উপাদানসমূহ (12)

১৩. চুল ঘন করে

আমাদের এই ব্যস্ততম জীবনে এবং দূষণের কারণে চুল পরার সময়ে কম বেশি প্রায় প্রতিটি মানুষই জর্জরিত। তবে এমন এক ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যার ফলে সহজেই যে কেউই তা অনুসরণ করলে ঘন চুলের অধিকারী হয়ে উঠতে পারেন।

কী কী উপদান লাগবে?

  • ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল
  • ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা
  • ১ টেবিল চামচ জল
  • ১ জোড়া কাঁটা ক্লিপ

ব্যবহারের পদ্ধতি 

সব কটি উপাদানকে একসাথে করে একটা শ্যাম্পুর বোতলে জমিয়ে রাখতে হবে।মাথার চুল ভিজিয়ে স্ক্যাল্পে এই মিশ্রণ লাগাতে হবে। ২ মিনিট সময় ধরে ঐ মিশ্রণ স্ক্যাল্পে এবং মাথার চুলের ওপর ঘষতে হবে। এরপর চুল জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। গামছা বা তোয়ালের সাহায্যে মাথার চুল হাওয়াতে শুকিয়ে নিতে হবে।

এইভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে কোনো ক্ষতিকারণ রাসয়নিকের উপস্থিতি ছাড়াই মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রন করা যায়। এতে চুল পরা রোধ হয় এবং মাথায় নতুন চুল গজায়। চুলের পরির্চযার একাধিক বাণিজ্যিক উপাদানেই বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাই কার্বোনেট এর উপস্থিতি পাওয়া যায় (13)

বেকিং সোডার ব্যবহার

  • গ্যাস, অম্বল, বুক জ্বালা ইত্যাদি উপশমের জন্য পানীয় জলের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে তরল আকারে পান করতে হয়।
  • ত্বক চর্চায় এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে তার প্রলেপ তৈরী করে ক্ষতিগ্রস্থ জায়গায় লাগানো যায়।
  • বেকিং সোডা আটার মাখার কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • চুল পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যায়।
  • ওভেনে বেক করে প্রস্তুত হয় এমন খাবার তৈরীর ক্ষেত্রে বেকিং সোডার প্রয়োজন হয়।
  • ফেস প্যাক তৈরির ক্ষেত্রেও বেকিং সোডা কাজে লাগে।

বেকিং সোডা মজুত করে রাখার উপায় কী?

বেকিং সোডার নতুন বাক্স খোলার পর অবিলম্বে তা একটা এয়ার টাইট কৌটোতে ভরে রাখতে হবে। ফলে জিনিসটা ফ্রেশ বা তরতাজা থাকবে। কাগজের বাক্সে বেকিং সোডা রাখা ঠিক নয় কারণ কাগজের বাক্স একবার খোলা হলে কখনই তা আগের মতন এয়ারটাইট রাখা সম্ভব নয়।

বেকিং সোডার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

মানবদেহে বেকিং সোডা সেবনের উপকারিতা যেমন রয়েছে, একাধিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

বেকিং সোডার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি হলো নিম্নরূপ  (6)

  •  জল পিপাসা বৃদ্ধি পায়
  • পেটে খিঁচুনি হতে পারে
  • পেট ফাঁপার সম্ভবনা রয়েছে
  •  মাথা ব্যথা হতে পারে
  • গা বমি ভাবের সৃষ্ট হয়
  • আকষ্মিক বমি শুরু হতে পারে
  • পা ফুলে যেতে পারে
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হয়ে আসতে পারে
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে
  • হঠাৎ করে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। 

আশা করা যায় এই প্রবন্ধে উল্লেখিত বেকিং সোডা সম্পর্কিত নানা তথ্য আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসবে। নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

বেকিং সোডা কী ওজন হ্রাসে সহায়তা করে?

না, বেকিং সোডা ওজন হ্রাসে কোনো সহায়তা করে বলে এখনও জানা যায়নি। এই বিষয়ে অন্তত কোনো বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বেকিং সোডা সেবন করা সম্ভব?

নাম থেকেই জানা যাচ্ছে যে এটা খাবার বেক করার কাজে লাগে এবং এটা সোডার আকারেও পান করা যায়। কাজেই বেকিং সোডা সেবন যোগ্য। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে বেকিং সোডা সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

বেকিং সোডা আর বেকিং পাওডার কী একই জিনিস?

না, বেকিং সোডা এবং বেকিং পাওডার এক জিনিস নয়। দুটো আলাদা জিনিস। প্রায়শই রান্নাঘরে এদের ব্যবহার হতে দেখা যায়।

 বেকিং সোডা দিয়ে তৈরী পানীয় পানের উপকারীতা কী?

বেকিং সোডা পান করলে বুক জ্বালা নিরাময় হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই এটা পান করা উচিত নয়।

 বেকিং সোডার ব্যবহার কী ত্বকের জন্য নিরাপদ?

নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য এটা নিরাপদ এবং একইসাথে কার্যকরী।

9 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch