বাঁশের গুনাগুন ও তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া । Bamboo Benefits and Side Effects in Bengali

by

বন্ধুদের সঙ্গে হাসি মজা এবং উপহাস করতে গিয়ে অনেকেই ‘বাঁশ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। ‘বাঁশ দেওয়া’, ‘বাঁশ খাওয়া’ এমন ধারা শব্দ আমরা কমবেশি প্রায়ই শুনে থাকি। তবে এই বাঁশ কিন্তু আলাদা। এই বাঁশ খাওয়া হয় এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপনি হয়ত জানলে অবাক হবেন, আপনার আশপাশে যে লম্বা লম্বা বাঁশ গাছ দেখতে পান সেগুলো স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর। বাঁশঝাড়ে কিছু সময় অন্তর যে নরম অংশ দেখতে পাওয়া যায় সেটি হল বাঁশের কোঁড়ল। আমাদের দেশে বিশেষয় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে বাঁশ কোঁড়ল দিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয় যা খুবই জনপ্রিয়। এটি যেমন শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে তেমনই নানা রোগ থেকে মুক্তি পেতে বাঁশের কার্যকারিতা অপরিসীম। চিনে বাঁশের শাঁস খুব জনপ্রিয় খাবার। চিনে বাঁশের কোঁড়লকে “স্বাস্থ্যকর খাবারের রাজা” বলা হয়। আমাদের এই প্রতিবেদনে বাঁশের স্বাস্থ্য উপকারিতা, পুষ্টিগুণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

বাঁশের শুটস কী ?

বাঁশ হল চিরহরিৎ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ব্যাম্বু সোডিয়া (Bambusoideae) (1)। এর চারা খুব নরম হয়। এর থেকে বের হওয়া নরম কান্ড খাবার হিসেবে এবং খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বাঁশের শাঁসকে ইংরেজিতে ব্যাম্বু শুটস বলা হয়। যা নানা ঔষধি গুণমান সমৃদ্ধ। সেই কারণে আয়ুর্বেদিকে চিকিৎসাতেও এটি নানাভাবে ব্যবহার করা হয়।

বাঁশের ঔষধি গুণ

এশিয়ার বিভিন্ন জায়গার বাঁশের ব্যবহার করা হয়। এতে উপস্থিত ফেনোলিক কম্পাউন্ডের কারণে এটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করে (1)। এছাড়াও বাশের কোঁড়লে অ্যান্টি এজিং প্রভাব রয়েছে। এই সমস্ত গুণ এবং উপাদানের কারণে এটি নানান শারীরিক সুবিধা দিতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে প্রচ্ছদে বিষদে আলোচনা করা হল (2)।

বাঁশের উপকারিতা

বাঁশের একাধিক ঔষধি গুণ রয়েছে তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাম্বু শুটস অর্থাৎ বাঁশের শাঁসের অন্যতম স্বাস্থ্য উপকারিতা হল এটি ডায়ারিয়া থেকে মুক্তি দেয়, ত্বকের সমস্যা এবং কান ব্যথা কম করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, এটি কোনও কঠিন রোগের ওষুধ নয়। এর সুবিধাগুলি পেতে আপনার ডায়েটে এটি রাখতে পারেন। এবার জেনে নিন বাঁশের উপকারিতাগুলি কী কী –

. ফুসফুস সম্পর্কিত সমস্যা : একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে বাঁশের কোঁড়ল ব্যবহার করা যেতে পারে। বাঁশের কোঁড়ল দিয়ে কাড়া তৈরি করে খেতে পারেন তাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন (3)। আসলে প্রদাহের কারেণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয় (4)। আর বাঁশের কোঁড়লে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করতে পারে (5)।

. কান ব্যথা : কান ব্যথায় বাঁশের কোঁড়ল আরাম দিতে পারে। কারণে এতে রয়েছে এনালজেসিক বৈশিষ্ট্য যা ব্যথা কম করতে পারে। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে বাঁশের কোঁড়ল কান ব্যথা কম করতে পারে (5)। তবে কী কারণে কান ব্যথা হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখুন, যেমন – কানে ইনফেকশন, দাতে ইনফেকশন নাকি মাড়ির ব্যথা (6)। সেইমতো ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং তবেই এটি ব্যবহার করুন।

. মুখে আলসার : অনেকে মুখে আলসারের সমস্যায় ভোগেন। তারা ব্যাম্বু শুটস ব্যবহার করতে পারেন। এতে উপস্থিত অ্যান্টি আলসার গুণ আলসারের সমস্যা দূর করতে পারে (7)।

. শুকনো কাশির সমস্যা : আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কফ ও কাশির সমস্যা দেখা দিলে ব্যাম্বু শুটস ব্যবহার করতে পারেন। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে এতে কোলাইন নিউট্রিয়েন্টস, সাইনোজেন কেমিক্যাল কম্পাউন্ড এবং গ্লুকোসাইড এনজাইম রয়েছে, যা কাশি দূর করার অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকারক হিসেবে কাজ করতে পারে (8)। শুকনো কাশি থেকে মুক্তি পেতে ব্যাম্বু শুটসের জুস তৈরি করে খান, খুব তাড়াতাড়ি আরাম পাবেন।

. ডায়রিয়ার চিকিৎসা : ব্যাম্বু শুটস ডায়ারিয়ার অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার। কারণ এতে রয়েছে গ্লুকোসাইড, নিউক্লিয়াস এনজাইম, বিটন এবং সাইনোজেন কেমিক্যাল কম্পাউন্ড, যা ডায়ারিয়ার সমস্যা কম করতে পারে (8)। সেই কারণে ডায়ারিয়ার রোগীদের জন্য ব্যাম্বু শুটস উপকারী বলে মনে করা হয়।

. অশ্ব বা পাইলস : পাইলসের সমস্যা দূর করতে বাঁশ খাওয়া ভালো। আসলে এতে রয়েছে  প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা খাবার হজমে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে (9)। সেই কারণে বাঁশকে পাইলসের সমস্যায় ঘরোয়া প্রতিকারক হিসেবে মনে করা হয়

. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে : বাঁশ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে উপস্থিত দ্রবণীয় ডায়েটরি ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। ফাইবার শরীরে কার্বোহাইড্রেটের ভাঙন এবং সুগারের শোষণ ধীর করে, যার ফলে ডায়াবেটিস লেবেল নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হয় (৯)

. পিরিয়ডের সমস্যা : পিরিয়ডের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কারও পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, কারও আবার প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। বলা হয় বাঁশের শাঁস নিয়মিত পিরিয়ড হতে সাহায্য করে (10)। এছাড়াও বাঁশের শাঁসে রয়েছে এনালজেসিক বৈশিষ্ট্য যা পিরিয়ডের ব্যথা কম করতে পারে (5)।

. চর্ম রোগের চিকিৎসা : সাধারণভাবে বাঁশ ত্বক সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সহায়ক কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে হ্যাঁ, বাঁশ দিয়ে তৈরি ভিনিগার ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাম্বু ভিনিগার ত্বকের বাইরের অংশ আরও উন্নত করতে এবং ত্বক সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করতে পারে (১১)

১০. আলসার : বাঁশের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি আলসার বৈশিষ্ট্য পেটের আলসার থেকে মুক্তি দিতে পারে (7)। এর জন্য বাঁশ পাতার কাড়া তৈরি করে খেতে পারেন অথবা বাঁশ শাঁস দিতে সবজি বানিয়ে খেতে পারেন।

১১. প্রদাহ বা জ্বালা : বাঁশের মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রয়েছে। জ্বালা বা প্রদাহ কম করতে এটি দারুণ কাজ দেয়।

১২. জ্বর : আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বার বার জ্বর-জ্বালা সাধারণ একটি সমস্যা। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বাঁশের কোঁড়ল ব্যবহার করতে পারেন। গবেষণা অনুযায়ী, বাঁশে অ্যান্টি পাইরেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা জ্বর কম করতে সাহায্য করতে পারে (12)।

১৩. শরীর ঠান্ডা রাখে : শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা করতে এটি দারুণ কাজ দেয়। আসলে বাঁশের মধ্যে কুলিং এফেক্ট রয়েছে যা শরীরকে ঠান্ডা রাখে (3)। এই কুলিং এফেক্ট ত্বকের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয় (13)।

১৪. এরিসিপেলাস : এরিসিপেলাস এক ধরণের স্কিন ইনফেকশন, এতে ত্বকের বাইরের স্তর প্রভাবিত হয় (14)। এর কারণে মুখে লাল ছোপ ছোপ এবং ফোলাভাব দেখা দেয় (15)। অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে এই সংক্রমণ কম করা যেতে পারে (14)। বাঁশের পাতায় এই গুণ রয়েছে (16)। বাঁশের পাতা বেঁটে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগালে এই ধরণের স্কিন ইনফেকশনের হাত থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতে পারেন।

১৫. সাপের কামড় : অনেকে হয়ত সাপে কামড়ালে এর ব্যবহার করেন। তবে বাঁশ সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে পারে কি না সেটা বলা মুশকিল। এই বিষয়ে তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক গবেষণা পাওয়া যায়নি। সাপে কামড়ালে শরীরে খুব তাড়াতাড়ি বিষ ছড়িয়ে পড়ে, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

বাঁশের পুষ্টিগুণ মান

একাধিক পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর বাঁশ। জেনে নিন সামান্য বাঁশের মধ্যে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে (17)–

পুষ্টিকর উপাদানমাত্রা প্রতি ১০০ গ্রাম
জল৯১.৯ গ্রাম
এনার্জি৪১ ক্যালোরি
প্রোটিন১.৬৮ গ্রাম
লিপিড (ফ্যাট)২.৯৩ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট৩.১৩ গ্রাম
ফাইবার১.৪ গ্রাম
সুগার১.৮৪ গ্রাম
ক্যালসিয়াম৮ মাইক্রোগ্রাম
আয়রন০.৩১ মাইক্রোগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম৪ মাইক্রোগ্রাম
ফসফরাস২৫ মাইক্রোগ্রাম
পটাসিয়াম৭৮ মাইক্রোগ্রাম
সোডিয়াম১৬ মাইক্রোগ্রাম
জিঙ্ক০.৬৩ মাইক্রোগ্রাম
কপার০.১১১ মাইক্রোগ্রাম
সেলেনিয়াম০.৫ µg
ভিটামিন সি১ মাইক্রোগ্রাম
থায়ামিন০.০২৪ মাইক্রোগ্রাম
রাইবোফ্লোবিন০.০২৬ মাইক্রোগ্রাম
নিয়াসিন০.১৩৬ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন বি-৬০.১৪৮ মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট (টোটাল)৩µg
ফোলেট (ফুড)৩µg
ফোলেট (ডিএফআই)৩µg
ক্লোরিন০.২ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ১২µg
রেটিনল১০µg
কেরাটিন বিটা১৩µg
ভিটামিন ই০.৯১ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন কে২৪০µg
ফ্যাটি অ্যাসিড০.৮১২ গ্রাম
কোলেস্টেরল২ মাইক্রোগ্রাম

বাঁশের ব্যবহার

দৈনন্দিন জীবনে বাঁশ বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নীচে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –

  • ব্যাম্বু শুটস সবজি হিসেবে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। এর জন্য তাজা বাঁশের অঙ্কুর কেটে প্রায় ২০ মিনিট গরম জলে ফোটাতে হবে। নরম হয়ে গেলে সবজি রান্না করতে পারবেন।
  • অনেকে স্যুপ তৈরি করার সময়ও বাঁশ যোগ করেন।
  • বাঁশের কোঁড়ল দিয়ে চূর্ণ তৈরি করেও খাওয়া যেতে পারে।
  • বাঁশের কোঁড়ল এবং পাতা দিয়ে কাড়া তৈরি করে খেতে পারেন।
  • এর পাতা দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে ত্বকের উপর লাগাতে পারেন।
  • এছাড়াও বাঁশের মোরব্বা তৈরি করা হয়ে থাকে।
  • বাঁশের কোঁড়ল দিয়ে আঁচারও তৈরি করা হয়।

কতটা মাত্রায় খাবেন : ব্যাম্বু শুটস কতটা খাওয়া উচিত তার সঠিক মাত্রা স্পষ্ট নয়। তবে হ্যাঁ, এর উপর করা পরীক্ষায়, ৬ দিন পর্যন্ত ৩৬০ গ্রাম বাঁশের শাঁস খাওয়ানো হয়েছিল। গবেষণা অনুযায়ী এই মাত্রাকে সুরক্ষিত মনে করা হয়। তবে সবচেয়ে ভালো এটি ডায়েটে যোগ করার আগে একবার বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাঁশ কীভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন

আপনি দু’সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাম্বু শুটস ফ্রিজে রাখতে পারেন। আরও বেশি সময় ধরে রাখলে এর স্বাদ সামান্য তিতকুটে হয়ে যায়। তাই আপনি যদি দুই মাসের বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

  • নরম বাঁশের অঙ্কুর একসঙ্গে ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • এরপর বাইরের খোসা ছাড়িয়ে পাতলা পাতলা করে কেটে নিন।
  • সমস্ত টুকরো একটি কৌটোতে ভরুন এবং তাতে জল যোগ করুন। সামান্য ভিনিগার দিতে পারেন। এরপর প্লাস্টিক দিয়ে ভালো করে কৌটোর মুখ বন্ধ করুন এবং তার উপর ভারী কিছু চাপিয়ে দিন।
  • মাঝেমধ্যে চেক করতে হবে, যেগুলো খারাপ হয়ে যাচ্ছে সেগুলো বের করে ফেলে দিন।
  • দু’মাস বাদে ফরমেন্টশনের পর কোনও বন্ধ করা জারের মধ্যে সংরক্ষণ করতে পারেন।
  • খেয়াল রাখুন, কোনও টুকরো নষ্ট হয়ে গেলে সেগুলো ফেলে দিন।

বাঁশ কোথায় থেকে কিনবেন

গ্রামে অনেকেই বাঁশের চাষ করেন, বাঁশের বাগান রয়েছে। তাদের থেকে বাঁশের অঙ্কুর কিনতে পারেন। অবশ্য আজকাল সুপার মার্কেটগুলোতে খুব সহজেও ব্যাম্বু শুটস কিনতে পাওয়া যায়।

বাঁশের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এতক্ষণ বাঁশ খাওয়া উপকারিতা সম্পর্কে জানলেন, কিন্তু বাঁশের খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যদি এটি অপরিমিত মাত্রায় খান কিংবা বিশেষজ্ঞর মতামত অনুযায়ী ব্যবহার না করেন তাহলে ব্যাম্বু শুটসের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। নীচে সেগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

  • গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যপান করানোর সময় মহিলাদের এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো (1)।
  • যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের এটি না খাওয়াই ভালো। আসলে এটি থাইরয়েড ফাংশনকে প্রভাবিত করতে পারে (7)।
  • পুরুষদের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে (7)।
  • এটি অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, অর্থাৎ হাইপারইউরিসেমিয়া হতে পারে।

বাঁশ খাওয়ার আগে কোন কোন সাবধানতা অবলম্বন করবেন

বাঁশ খাওয়ার উপকারিতা অবশ্যই অনেক, তবে কিছু সর্তকতা মাথায় রাখা জরুরী। নীচে এই সতর্কতা এবং গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু টিপস দেওয়া হল –

  • বাঁশের কোঁড়ল ভালো করে ছুলে নিন। কারণ এর বাইরের ছালে হালকা রোম থাকে, তাই ছোলার সময় গ্লাভস পড়ুন।
  • এটি ছোলার সময় বাইরের ত্বরের কালোভাব এবং রোম ভিতরে লেগে থেকে পারে, তাই খোসা ছাড়ানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • ধুয়ে নেওয়ার পর টুকরো করে কেটে ২০ থেকে ৩০ মিনিট গরম জলে ফেলে ফুটিয়ে নিন। সেদ্ধ না করে কখনও রান্না করবেন না।
  • শাঁস খুব নরম হলেও কম করে ১০ মিনিট সেদ্ধ করে নিন।
  • স্টোর করে রাখা ব্যাম্বু শুটস রান্না করার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।

ব্যাম্বু শুটসের উপকারিতা সম্পর্কে এবার জেনে গেলেন। এবার বাজারে গিয়ে ব্যাম্বু শুটস দেখলে পেলে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না যে কী এটা বা এটা খাওয়ার উপকার কী? তবে ব্যাম্বু শুটস আপনার ডায়েটে যোগ করার আগে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরী, যা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। অত্যধিক মাত্রায় খেলে ক্ষতি হতে পারে, তাই এর সুবিধাগুলি উপভোগ করতে পরিমিত মাত্রায় খান। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্যাকেটজাত ব্যাম্বু শুটস কী স্বাস্থ্য উপযোগী?

হ্যাঁ, এগুলো স্বাস্থ্যকর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো আগে থেকে সেদ্ধ করা থাকে। যা আপনি সবজি বানিয়ে খেতে পারেন।

কতটা সময় ধরে ব্যাম্বু শুটস ফোটাতে হবে?

বাঁশের টাটকা শাঁস ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ফোটাতে পারেন। মিনিট ২০ পরে নরম হয়ে গেলে জল থেকে ছেঁকে নিতে পারেন।

কাঁচা ব্যাম্বু শুটস কীভাবে রান্না করবেন?

বাঁশের বাইরের অংশ বাদ দিয়ে নরম শাঁস বের করে নিতে হবে। তারপর ভালো করে ধুয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট গরম জলে ফোটান। নরম হয়ে এলে জল থেকে তুলে আপনার পছন্দমতো পদ রান্না করতে পারেন। জলে সেদ্ধ হওয়ার ফলে ব্যাম্বু শুটসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছুটা কম করা যায়। ফোটানের ফলে এর মধ্যে উপস্থিত হাইড্রোসায়ানিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায় (18)। এই অ্যাসিড শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

কালো ব্যাম্বু শুটস কী খাওয়ার উপযুক্ত?

হ্যাঁ, কালো রঙের ব্যাম্বু শুটস সেদ্ধ করার পর রান্না করতে পারেন।

ব্যাম্বু শুটস হজম করা কী মুশকিল?

না, যদি বাঁশের টাকটা শাঁস ভালো করে ফুটি নিয়ে রান্না করা হয় তাহলে টা খুব সহজে হজম হয়ে যায়। ব্যাম্বু শুটসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলতে এটি ভালো করে সেদ্ধ করা জরুরি।

ব্যাম্বু শুটসের গন্ধ কী অদ্ভূত হয়?

অদ্ভূত না হলেও এর থেকে অন্য ধরণের বের হয় ব্যাম্বু শুটস থেকে।

শুটসের গন্ধ কীভাবে দূর করা যেতে পারে?

ব্যাম্বু শুটসের গন্ধ দূর করতে নানান উপায় রয়েছে। যার মধ্যে একটি হল, একটি পাত্রে জল এবং চা পাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার তাতে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে নিন। সেই তোয়ালে দিয়ে বাঁশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এতে বাঁশের খারাপ গন্ধ কিছুটা হলেও কম হবে।

ব্যাম্বু শুটসের মধ্যে কী সাইনাইড (Cyanide) থাকে?

হ্যাঁ, এতে সাইনোজেনিক গ্লাইকোসাইডস (Cyanogenic Glycosides) নামের বিষাক্ত যৌগ রয়েছে যা হাইড্রোজেন সায়ানাইডে ভেঙে যায়। এ কারণে বাঁশের স্বাদ তেতো হয় (18)। সেই কারণে এটি সেদ্ধ করে তবেই রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্যাম্বু শুটস কী গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সহায়ক?

বাঁশের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে, যার কারণে এটি অন্ত্রের কাজ উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে (19)। যখন অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো হয়, তখন সহজেই পেটের সমস্যাগুলি এড়ানো যেতে পারে।

ব্যাম্বু শুটসের মধ্যে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কী খুব বেশি থাকে?

হ্যাঁ, বাঁশে ইউরিক অ্যাসিড উচ্চ মাত্রায় থাকে। তবে সেদ্ধ করার ফলে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কিছুটা কমে যায় (20)।

20 Sources

Was this article helpful?

LATEST ARTICLES

scorecardresearch