বজ্রাসন কীভাবে করবেন এবং এর উপকারিতা কী কী ? জানুন | Benefits of Vajrasana in Bengali

Written by

দৌড়াদৌড়িপূর্ণ জীবনে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সামান্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সময়ের অভাবে আমরা প্রায় অনেকেই শারীরিক অনুশীলন করা বন্ধ করে দিয়েছি। যার ফলে বিভিন্ন রকমের শারীরিক অসুস্থতা, ডিপ্রএশন, মন খারাপ এসে ঘিরে ধরছে আমাদের। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যদি সারাদিনে কিছু সময় বার করে নিয়মিত যোগব্যয়াম অভ্যাস করতে পারি তবে শরীরের পাশাপাশি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে। সুস্থ মন তো সুস্থ দেহেই বসবাস করে, তাই না?

তাই স্টাইলক্রেজের এই নিবন্ধে আজকে আমরা বজ্রাসন যোগ সম্পর্কে কথা বলব। এখানে আমরা বজ্রাসনের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি সম্পর্কে, এই আসনটি কীভাবে করব এবং এর সাথে সম্পর্কিত কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিৎ সেই সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করব।

বজ্রাসন কী?

বিভিন্ন ধরণের যোগাসন আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও ভাল রাখে। আসলে যোগব্যায়াম কেবলমাত্র শারীরিক অনুশীলন পদ্ধতি নয়, বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা মেনে শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অভ্যাস করাই হল যোগাভ্যাস। এখানে প্রত্যেকটি যোগাসন হল ভিন্ন ভিন্ন যোগ এবং অঙ্গভঙ্গির সংমিশ্রণ। আর প্রত্যেকটি আসন পদ্ধতি এবং ভঙ্গিগুলির নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

যোগশাস্ত্রে বর্ণিত এক বিশেষ আসন হল এই বজ্রাসন। যার আসন পদ্ধতি দেখে সোজা লাগলেও, করার ক্ষেত্রে অতটা সোজা নাও মনে হতে পারে। বজ্র আর আসন, এই দুই শব্দ জুড়ে এই আসনের নাম দেওয়া হয়েছে বজ্রাসন। এক্ষেত্রে, বজ্র কঠিন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে, এটি সংস্কৃত শব্দ ‘বজ্র’ থেকে ব্যবহৃত হয়েছে, আকাশ থেকে বিদ্যুৎ পড়ার ভঙ্গিমার মত। তাই এটি ডায়মন্ড পোজ নামেও অনেকের কাছে পরিচিত। বজ্রাসন করার সময় ব্যক্তিকে ঋজু হয়ে বসতে হয়, তাই হয়ত এরকম নামকরণ হয়েছে।

বজ্রাসনে বসে হাঁটুর ভঙ্গিমার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়াও, এই আসনে বসে অনুলোম বিলোম, কপালভাটির মত প্রাণায়ামগুলিও করা হয়। সুপ্ত বজ্রাসন, লঘু বজ্রাসন হল এর বর্ধিত প্রকরণ। এই যোগাসনের স্বাস্থ্য উপকারিতার তালিকা বেশ দীর্ঘ, তবে তার আগে বজ্রাসন সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন।

বজ্রাসনে বসার আগে আপনার যা যা জানা উচিত?

সাধারণত, বেশীরভাগ মানুষ খালি পেটে যোগ অনুশীলন করতে পছন্দ করেন। এবং বিশেষজ্ঞরাও বলে থাকেন যে খালি পেটে যোগাভ্যাস বা শরীরচর্চা করলে বেশী উপকার পাওয়া যায়। তবে কয়েকটি ব্যাতিক্রমী আসনের মধ্যে অন্যতম হল বজ্রাসন। এই আসন হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, এই আসনের ভঙ্গিমা খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে বলে মনে করা হয় তাই এই আসন খাবার খাওয়ার পরেও করা যেতে পারে। (1) বলা যায়, খাওয়ার পরে এই যোগাসনে বসলে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা অনুভব করতে পারবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই।

বজ্রাসনের সাথে সম্পর্কিত এমন অনেকগুলি বিষয় রয়েছে, যার সম্পর্কে যারা এই যোগটি করেন তাদের অবশ্যই জানা উচিত। যেমন –

  • যোগাভ্যাস শুরু করার এটি সবচেয়ে সহজ স্তর, অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মিত ব্যয়াম, যোগাসন ও শরীরচর্চা করবেন বলে মনস্থির করে থাকেন তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই আসন দিয়ে নিরাপদে শরীরচর্চা শুরু করতে পারেন। হাত, পা, কোমর, পেশীতে ব্যথার মত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় অনেকের ক্ষেত্রে হটাহৎ করে শরীরচর্চা শুরু করার প্রথম কয়েকদিনের মধ্যে, এই আসন অভ্যাস করা শুরু করলে এরকম পরিস্থিতি আসবে না।
  • যোগশাস্ত্রে কথিত আছে যে কোনো ব্যক্তি নিয়মিত বজ্রাসন অভ্যাসের মাধ্যমে তার পা ও পিঠের পেশী শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।
  • কারণ, ব্যক্তির গোড়ালি, উরু, হাঁটু, নিতম্ব ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় বজ্রাসনের সময়।
  • বজ্রসন করার সময়কাল ৫ থেকে ১০ মিনিট হতে পারে।
  • এক্ষেত্রে একই আসন পুনরাবৃত্তি করার দরকার নেই।

বজ্রাসন কেমন ভাবে করবেন সেই পদ্ধতি জানার আগে আসুন বজ্রাসন করলে কী কী উপকার পাবেন সেগুনি জেনে নিন।

বজ্রাসনের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আপনি যদি শারীরিক দিক থেকে ও মানসিকভাবে উভয় ক্ষেত্রেই সুস্থ থাকেন তবে বিশ্বাস করুন আপনি একটি ভাল জীবনযাপন করছেন। তবে আপনার চারপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন কেউ শারীরিকভাবে সুস্থ, কিন্তু তাকে অত্যাধিক মানসিক চাপ নিয়ে জীবন যাপন করতে হয়, কারোর মানসিক শান্তি থাকলেও, শরীরগতিক তেমন ভাল না। এই পরিস্থিতি একমাত্র এড়ানো যেতে পারে নিয়মিত যোগভ্যাসের দ্বারা। যোগব্যায়াম কেবল শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি করতে পারে।

আগেই বলেছি, যোগাসন কেবলমাত্র শারীরিক অনুশীলন নয়, বিজ্ঞান ভিত্তিক শারীরিক ক্রিয়াকলাপ। এতে মস্তিষ্ক, দেহ এবং আত্মা একে অপরের সাথে মিলিত হয়। আসনে বসে আমরা নিজের সাথে যোগাযোগ করতে পারি, আর সমাদির স্তর অর্জন করতে পারলে মানসিক শান্তি ফিরবেই। এছাড়া, প্রত্যেকটি আসনের অঙ্গ-ভঙ্গির আলাদা আলাদা বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

অন্যান্য যোগের মতো বজ্রাসনও স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, এছাড়া আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে এই আসনের। নিবন্ধের এই অংশে জানাব, নিয়মিত বজ্রাসন করলে ভবিষ্যতে আপনি কী কী উপকার পেতে পারেন –

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

এনসিবিআইয়ের (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজিক ইনফরমেশন)  ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে নিয়মিত বজ্রাসন অভ্যাস করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পায় এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই যোগাসনটি ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারীতা উন্নত করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এবং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে (2)। ডায়াবেটিক রোগীরা যোগাসনের পাশাপাশি, চিকিৎসকের দেওয়া সঠিক ডায়েট এবং গাইডলাইন অনুসরণ করে চললে তবেই সম্পূর্ণরূপে সুস্থ থাকবেন এবং হাই ব্লাডসুগার সম্পর্কিত অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও তৈরি হবে না।

২. পেশীর শক্তি বৃদ্ধি করে

বজ্রাসন শরীরের পেশিগুলি টোন করতে সাহায্য করে বিশেষত হাঁটুর জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলে, উরু বা থাই, পা, পিঠ এবং কঙ্কালের পেশীগুলির স্থায়িত্ব এবং শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বলা হয় যে এই আসনের নিয়মিত অনুশীলনে শ্রোণী অঞ্চলের পেশিগুলি তথা আইলিওপোসা (নিতম্বের পেশী), ইরেক্টর স্পিনা (মেরুদণ্ডের উভয় পক্ষের পেশী), চতুর্ভুজ লুম্বারাম (পেটের পেশী), অ্যাডাপ্টার পেশী শক্তিশালী হয়।

৩. হৃদয় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারীতায় উন্নতি ঘটায়

বজ্রাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্ক কিছু সমস্যা হ্রাস পায় এবং হার্ট ও ব্রেনের কার্যকারীতা বৃদ্ধি পায়। আসলে, বজ্রাসন করার সময় আমরা যেভাবে বসি এবং যেরকম অঙ্গভঙ্গিমা অনুসরণ করি তাতে মস্তিস্ক এবং হার্টের ধমনীতে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালন (ধমনী সরবরাহ) বৃদ্ধি পায় ফলে তাদের কার্যকারিতায় উন্নতি ঘটে। (3)

৪. ব্যথা কমাতে সাহায্য করে

বজ্রাসনে বসার পদ্ধতি ও অঙ্গভঙ্গিমাগুলি পা ও পিঠের পেশী শক্তিশালী করে। তাই, যাদের হাঁটুতে ব্যথা আছে, হাত বা পায়ের পেশীগুলিতে কোনো কারণে ব্যথা হয়েছে তারা বজ্রাসনে বসতে চেষ্টা করুন স্বস্তি পাবেন, এমনকি হাঁটুর ব্যথাও উপশম হবে। এছাড়া, বিশেষ করে –

  • যাদের লোয়ার ব্যাক পেন বা সাইটিকার সমস্যা আছে, তারা নিয়মিত বজ্রাসনে বসলে উপকার পাবেন। (4)
  • যাদের হাঁটুতে ইউরিক এসিড জমে হাঁটু বা অস্থি সন্ধিস্থলে ব্যথা হয়েছে বা বাতজনিত ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন, তারা নিয়মিত এই আসন করলে ব্যথা কম হবে। (5)

৫. হজম শক্তি উন্নত করে

খাবার পরে নিয়মিত বজ্রাসন করলে আপনি হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। আসলে এই যোগাসন করলে হজম অঙ্গগুলির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় তাই পরিপাক তন্ত্রের কার্যকারীতাও বৃদ্ধি পায়। এই আসনটি পেটে জ্বালা-পোড়া ভাব কমায়, আলসার প্রতিরোধ করে, গ্যাস-অম্বল বা অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। (6)

৬. রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করে

বজ্রাসন শরীরে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। পিঠ সোজা করে, হাঁটু বাঁকানো অবস্থায় বসে এই আসন করার ফলে রক্ত পা থেকে হৃদয় পর্যন্ত ভালভাবে পৌঁছায়। আসনে বসে থাকাকালীন অবস্থায় শরীরের নীচের অংশে রক্তের প্রবাহ কমে গিয়ে উপরের দিকের অংশে বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে পাচনতন্ত্রে বেশি করে রক্ত সরবরাহ করে ফলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৭. মহিলাদের জন্য উপকারী

মহিলারা নিয়মিত বজ্রাসন করলে তাদের পিরিয়ডের সময় ব্যথা ও শারীরিক কষ্ট কম হবে। এছাড়াও, নিয়মিত যোগভ্যাস করলে বিশেষত বজ্রাসন করলে প্রসব বেদনাও কম হতে পারে। তবে, গর্ভাবস্থায় বেশ কিছু যোগাসন অভ্যাস করতে বারন করা হয় তাই আপনি যদি নিয়মিত শরীরচর্চা করতে অভ্যস্ত হবেন, আপনার এই অভ্যাস চালিয়ে যাবেন কি না তা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নেওয়া ভাল। (7)

বজ্রাসনে বসার উপকারিতা সম্পর্কে তো জানলেন, এবারে জেনে নিন বজ্রসন কীভাবে করবেন।

বজ্রাসন কীভাবে করবেন ?

১. প্রথমে কোন সমতল স্থানে হাঁটু ভাঁজ করে বসুন। বসার সময় হাঁটু দুটো জোড়া অবস্থায় থাকবে এবং নিতম্বটি থাকবে পায়ের গোড়ালির ওপর বা দুই পায়ের পাতার ওপর। খেয়াল রাখবেন,  হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পায়ের নিম্ন ভাগের অংশটি যেন সম্পূর্ণরূপে মাটির সাথে লেগে থাকে।

২. বসার সমট পিঠ সোজা থাকবে এবং দুই হাত থাকবে হাঁটুর উপর। এই অবস্থাণে বসার সময় হাতের দুটি তালু হাঁটুর দিকে ফেরানো থাকবে।

৩. এবার ধীরে ধীরে পায়ের পাতা দুটো প্রসারিত করুন বা দুদিকে সামান্য সরিয়ে দিন। এই অবস্থায় চোখ বন্ধ থাকবে, মেরুদণ্ড এবং হাত সোজা থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে, ধীরে ধীরে শ্বাস নেবেন ও ছাড়বেন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করুন।

৪. ৩০ সেকেন্ড পর এই অবস্থান বা বসা পোজ ত্যাগ করে শবাসনে বসে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন।

৫. এরপর আরও দুই বার ৩০ সেকেন্ড করে বজ্রাসনে বসুন।

মনে রাখবেন, বজ্রাসনে বসা অবস্থা থেকে শবাসনে গিয়ে বিশ্রাম না নিয়ে খাড়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন না বা মেরুদণ্ডটি খাড়া করে বসে থাকবেন না। বজ্রাসনের পর শবাসনে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন এক্ষেত্রে। এরকমই কিছু সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি এই যোগাভ্যাস শুরু করার পূর্বে।

বজ্রাসন শুরু করার আগে জেনে নিন কিছু দরকারি টিপসঃ

আসনটি করার সময় বা কিছু সময় পরে পায়ের পেশী বা হাঁটুতে সাময়িক ব্যথা হলে, ধীরে ধীরে মালিশ করলে ব্যথা চলে যাবে। ব্যথা হবে এই ভয়ে আসনটি অভ্যাস করা ছেড়ে দেবেন না। যে কোনো ব্যয়াম বা যোগাভ্যাসের স্বাস্থ্য উপকারীতা পেতে গেলে সগুলি নিয়মিত অভ্যাস করা একান্ত জরুরি। যাঁরা প্রথমবার বজ্রসান করবেন তাঁদের কিছু বিষয়ে যত্ন নেওয়া দরকার। যাতে বজ্রাসনে বসে আপনি সত্যিকারের উপকৃত হতে পারেন এবং হঠাৎ করে অনুশীলন শুরু করার জন্য কোনোরকম শারীরিক অসুবিধার সৃষ্টিও না হয়। যেমন –

  • এই আসনটি করার সময় মনকে পুরোপুরি শান্ত রাখুন।
  • অনুশীলনের শুরুতে আপনার পায়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ব্যথা হলেই বজ্রাসন অবস্থাণ থেকে উঠে গিয়ে প্রথমে রিল্যাক্স পজিশনে বসুন। তারপরে, পা, হাঁটু, গোড়ালিতে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন কিছুক্ষণের মধ্যেই পেশীর ক্লান্তি দূর হবে।
  • প্রথম দিকে কেবল ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য বজ্রাসনে বসুন। এভাবে নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার হাঁটু ও পেশিগুলির স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পেয়ে আপনি ২০-৩০ মিনিটের জন্য আসনটি অনুশীলন করতে সক্ষম হবেন। তাই, যোগাভ্যাস শুরুর প্রথমদিকে কম সময়ের জন্য বজ্রাসনে বসুন এবং ধীরে ধীরে আসনে বসার সময়কাল বাড়ান।
  • এরপরেও, যদি কোনও সমস্যা হয় তবে যোগব্যয়াম প্রশিক্ষকের নির্দেশনা ছাড়া এই আসনটি করবেন না। কারণ, ভুল অঙ্গভঙ্গি অভ্যাস করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

মনে রাখবেন, আপনি যদি নিজের শারীরিক ক্ষমতার ওপরে গিয়ে, জেদের বশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন শরীরের ওপর এতে ব্যয়ামের স্বাস্থ্য উপকারিতা কম তো হবেই সাথে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। জেনে নিন, এরকম আরও কী কী ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে –

সতর্কতা

যদিও এই আসন পুরোপুরি নিরাপদ তবে অনুশীলন শুরু করার সময় নীচে বর্ণিত কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত।

  • আপনার যদি হাঁটুতে যদি কোনো পুরনো ব্যথা থাকে বা আপনার হাঁটুতে সম্প্রতি অস্ত্রোপচার করা হয় তবে এই আসনটি অনুশীলন না করাই ভাল। তবে, চিকিৎসকের অনুমতি পেলে এই যোগাসন অভ্যাস করতেই পারেন।
  • গর্ভবতী মহিলাদের এই আসনটি অনুশীলন করার সময় হাঁটু দুটি জো়ড়া করে না রেখে ফাঁক করে রাখুন। তাতে পেটে চাপ পড়বে না আর আপনারও তেমন অসুবিধা হবে না। তবে, গর্ভবতীদের এই আসন না করাই ভাল।
  • মেরুদণ্ডে যদি কোনও সমস্যা হয় তবে এই আসনটি এড়িয়ে চলুন। বিশেষত যাদের মেরুদণ্ডের জয়েন্টে কোনও সমস্যা আছে তাদের একেবারেই করা উচিত নয়।
  • হাঁটু বা গোড়ালি হাড় নড়ে গেলে এই আসনটি করবেন না। গোড়ালি এবং হাঁটু যথাযথভাবে স্থিতিস্থাপক না হওয়া পর্যন্ত বজ্রাসন দীর্ঘকাল অনুশীলন করা উচিত নয়।
  • হাইপোটেনশনের রোগীদের বজ্রাসন করা উচিত নয়।
  • অন্ত্রের আলসার, হার্নিয়া বা বড় বা ছোট অন্ত্র সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যাতে যারা ভুগছেন তারা যোগব্যায়াম প্রশিক্ষকের নির্দেশনা ছাড়া এই যোগব্যয়াম অনুশীলন করবেন না। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া বজ্রাসন করলে তাদের লাভের থেকে ক্ষতি বেশী হয়ে যেতে পারে।

সমস্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পড়ার পরে, এখন আপনি নিশ্চই এই যোগাসনটি করার কথাও ভাবছেন, তবে এই সতর্কতা এবং টিপসগুলি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। এই গুরুত্বপূর্ন টিপসগুলি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে কখন কার পক্ষে বজ্রাসন করা উচিত নয় এবং কোন পরিস্থিতিতে একটু মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর থাকার সবচেয়ে সহজ প্রাথমিক মন্ত্র হ’ল যোগ। যখন আমরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ থাকি তখন কোনও রোগই আমাদের কাছাকাছি যেতে পারে না। তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম করা দরকার। খাওয়া-দাওয়ার দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

আর বজ্রাসনের সব স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি পেতে, এটি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করা জরুরি। যোগঅভ্যাস করে আপনি সকল দিক থেকে উপকার তখনই পাবেন যখন নিয়মিত রুটিনে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সাথে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য থাকবে স্বাস্থ্যকর ডায়েট। যোগব্যয়ামের প্রশিক্ষকরা যোগব্যয়াম কীভাবে অনুশীলন করবেন তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কী কী খাবার খাবেন সে সম্পর্কেও পরামর্শ দেবেন।

তবুও, যদি কিছু প্রশ্ন থাকে তা আমাদের জানান। এরকমই কিছু সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর রইল নিবন্ধের পরবর্তী অংশে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

কোনো ব্যক্তি কতক্ষণ বজ্রাসনের ভঙ্গিতে বসে থাকতে পারে?

যদি মনে মনে কোনও প্রশ্ন থাকে যে বজ্রাসন কতক্ষণ করা উচিত, তবে জেনে রাখুন প্রাথমিক পর্যায়ে মাঝেমধ্যে এটি ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্যে করতে পারেন। তবে যারা বেশ কয়েক মাস ধরে এটি অনুশীলন করছেন তারা ২০ থেকে ৩০ মিনিট এর জন্য এটি করতে পারেন। এ ছাড়া এই আসনে সম্পূর্ণ অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এমন অনুশীলনকারীরা সুপ্ত বজ্রাসনও করতে পারেন।

সুপ্ত বজ্রাসন কী?

বজ্রাসনের অগ্রণী পোজটিকে সুপ্ত বাজ্রাসন বলা হয়। এ সময় বজ্রাসনের ভঙ্গিতে বসে থাকার পরে পিছনে ঝুঁকে হাত ও কনুই মাটিতে ছোঁয়ানো হয়।

কাদের বজ্রসন করা উচিত নয়?

যাদের অস্টিওআর্থারাইটিস বা হাড় সম্পর্কিত রোগ আছে, যে সব মহিলারা গর্ভবতী তাদের এই আসনটি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বজ্রাসন কি পেটের মেদ কমাতে পারে?

হ্যাঁ, বজ্রসন করলে পেটের মেদ কমে যেতে পারে।(8)

বজ্রাসন কি হাঁটার চেয়ে ভাল?

বজ্রাসন যোগ এবং হাঁটা উভয়েরই প্রায় সমান স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এই উভয় ক্রিয়াই পায়ের পেশীগুলিকে বেশি প্রভাবিত করে। এমন পরিস্থিতিতে বজ্রাসন যে প্রতিদিন হাঁটার চেয়ে ভালো না কম কার্যকরী তা পরিষ্কার করে বলা যায় না।

8 Sources

8 Sources

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch