মুখে বয়সের ছাপ পড়ছে? জেনে নিন বলিরেখা দূর করার ঘরোয়া উপায় – Home Remedies for Wrinkles in Bengali

Written by

কথায় বলে “সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র”। কিন্তু অকালেই যদি মুখের সৌন্দর্য হারিয়ে যায় তাহলে সবকিছু জয় করবেন কীভাবে? বর্তমান জীবনযাত্রা, আবহাওয়া এবং দূষণের কারণে খুব কম বয়সেই মেয়েদের ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অনেক অল্প বয়সেই মুখে বলিরেখা ও বয়সের ছাপ পড়তে দেখা যায়। যেখানে সামান্য একটু ব্রণ বা ফুসকুড়ির দাগ ঢাকতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে বলিরেখা যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া বলে মনে হয়। বিশেষ করে সামনেই যখন পুজোর মরশুম।

বয়স বাড়তে না বাড়তেই চোখের পাশে, ঠোঁটের নীচে, কপালে ভাজ পড়তে শুরু করে। আয়নায় দেখলে নিজেকে কেমন যেন অচেনা লাগে। আর এ সবের চক্করে আত্মবিশ্বাসও কমতে শুরু করে। তাই সময় থাকতে আপনার ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বলিরেখা দূর করতে অনেকে নিয়মিত পার্লারে যান, আবার কেউ নামীদামি ব্রান্ডের বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। কেউ কেউ আবার ঘরোয়া উপায়ে ভরসা রাখেন। আমাদের এই প্রতিবেদনে রইল তেমনই কিছু ঘরোয়া উপায় যা ত্বককে বলিরেখা মুক্ত করবে এবং আপনাকে তারুণ্যময় স্বাস্থ্য উজ্জ্বল ত্বক ফিরিয়ে দেবে।

বলিরেখা কী ?

শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষ বিভাজনের গতি হ্রাস পায়। ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে কোলাজেন নামক একটি বিশেষ প্রোটিন। বয়স বাড়লে সেই প্রোটিন ক্ষয়ে যায়, ত্বক পাতলা এবং ভঙ্গুর হতে শুরু করে। ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি নষ্ট হয়ে যায়। তখন মুখ, গাল, গলা বা ঘাড়ের চামড়া ঝুলে যায় এবং বলিরেখা বা রিঙ্কলস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বলিরেখা হওয়ার কারণ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেরও বয়স বাড়ে। চোখে মুখে বয়সের ছাপ পড়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়। ত্বক কুচকে যায়, বলিরেখা দেখা দেয়। তবে আজকাল ত্বকের সমস্যা যে কোনও বয়সেই হতে পারে। মাত্র ২৫ বছরে আপনাকে বছর ৩৫ এর মহিলা মনে হতে পারে। নানা কারণে অল্প বয়সেই ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে –

  • দূষণ
  • রোদে বেশিক্ষণ থাকা
  • ভিটামিন ডি৩-এর অভাব
  • অতিরিক্ত কসমেটিক্সের ব্যবহার
  • ঘন ঘন মুখের ক্রিম ও কসমেটিক্স বদলানো
  • ধূমপান () ()

বলিরেখার লক্ষণগুলি কি কি ?

  • চোখ, মুখ এবং ঘাড়ের চারিদিকে অতিসুক্ষ্ম রেখা
  • ত্বকের বিভিন্ন অংশ ঝুলে পড়ে, বিশেষ করে মুখ এবং ঘাড়ের ত্বক
  • মুখের পাশাপাশি হাতের ত্বকও কুচকে যায়
  • ঠোঁট ও চোখের চারপাশে গভীর বলিরেখা

বলিরেখা দূর করার ঘরোয়া উপায়

ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে এবং বলিরেখা দূর করতে ভরসা রাখতে পারেন ঠাকুমার যুগের ঘরোয়া টোটকায়। যদিও বাজারে বহু ব্রান্ডের অ্যান্টি রিঙ্কলস ক্রিম এবং ফেসপ্যাক রয়েছে। সেগুলি ব্যবহারের ভালো দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও কিন্তু রয়েছে। কারণ বেশিভাগ প্রোডাক্টে রাসায়নিক রয়েছে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। একটা সমস্যা দূর করতে দশটা সমস্যাকে ডেকে আনতে পারে। সেদিক থেকে চোখ বন্ধ করে ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা করতে পারেন। খুব সহজেই উপকার পাবেন, আর ত্বকে কোনও ক্ষতির ভয়ও থাকবে না। রইল এমনই কিছু ঘরোয়া উপায় যা ত্বককে বলিরেখা মুক্ত করবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াবে –

১. ডিমের সাদা অংশ

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একটি ডিমের সাদা অংশ

কীভাবে ব্যবহার করবেন ?

  • ডিমের সাদা অংশ ভালো করে ফেটিয়ে নিন এবং ত্বকের উপর লাগিয়ে নিন।
  • ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

অ্যান্টি রিঙ্কলস ক্রিমের বদলে মুখে ডিমের সাদা অংশ সপ্তাহে এক-দু’বার লাগান, ভালো ফল পাবেন। সইজ এই ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের বলিরেখা এবং ফাইনলাইনস দূর হবে। ত্বক আগের মতো টানটান হয়ো উঠবে ()।

২. অ্যালো ভেরা

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একচামচ অ্যালো ভেরা জেল
  • একটি ডিমের সাদা অংশ

কীভাবে ব্যবহার করবেন ?

  • দুটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন এবং সেটি মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন।
  • আধ ঘণ্টা রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

এটি ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎস, যা ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান বলিরেখা তো দূর করেই ত্বককে দাগছোপ মুক্ত করে। সপ্তাহে দু’এই মিশ্রণটি লাগাতে পারেন ()।

৩. পেঁপে এবং কলা

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে
  • অর্ধেক পাকা কলা

কীভাবে ব্যবহার করবেন ?

দুটি ফল একসঙ্গে ব্লেড করে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন এবং ত্বকের যে অংশ বলিরেখা রয়েছে সেকানে প্যাকটি লাগিয়ে নিন।
১৫-২০ মিনিট রাখার পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

পেঁপের মধ্যে প্যাপাইন নামক এনজাইম রয়েছে, অন্যদিকে কলার মধ্যে রয়েছে নানা ভিটামিন যা ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। ন্যাচরাল এই ফেসপ্যাকটি বলিরেখা মুক্ত করতে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে দারুণ উপকারী। সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন () ()।

৪. হলুদ

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একচামচ হলুদ গুঁড়ো
  • ১-২চামচ আখের রস

কীভাবে ব্যবহার করবেন ?

  • হলুদ গুঁড়ো এবং আখের রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন এবং মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করে নিন।
  • মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০-১২ মিনিট রেখে দিন।
  • শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

হলুদ এবং আখের রস ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে উপস্থিত উপাদানগুলি বলিরেখা দূর করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ()।

৫. কিউই ফল

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একটি মাঝারি সাইজের কিউই।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। তারপর ব্লেড করে কিউই-এর ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • মিশ্রণটি মুখে ভালো করে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।
  • তারপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

উপকারিতা

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ এই ফল ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ান, ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে এবং ত্বকের তারুণ্য ফিরিয়ে আনে ()।

৬. নারকেল তেল

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • নারকেল তেল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • চোখ, ঠোঁটের চারপাশে ও গলায় ভালো করে নারকেল তেল আলতো হাতে মালিশ করে নিন। একবার ক্লকওয়াইজ, একবার অ্যান্টিক্লকওয়াইজ ম্যাসাজ করুন।
  • সারারাত রেখে পরদিন সকালে উঠে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

উপকারিতা

রূপচর্চায় নারকেল তেলের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। বলিরেখা দূর করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে ()।

৭. ক্যাস্টর অয়েল

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ক্যাস্টর অয়েল
  • তুলো

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • তুলোতে সামান্য ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মুখের যে জায়গায় বলিরেখা দেখা দিয়েছে সেখানে লাগিয়ে নিন।
  • সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলবেন না, সারারাত লাগিয়ে রাখুন।

উপকারিতা

ক্যাস্টর অয়েল ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে এবং কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায়। রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই তেল ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যে আপনার ত্বক বলিরেখা মুক্ত এবং উজ্জ্বল হবে (১০)।

৮. গ্রেপ সিড এক্সট্রাক্ট

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • কয়েক ফোঁটা গ্রেপ সিড এক্সট্রাক্ট বা গ্রেপ সিড অয়েল।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • মুখে যেখানে যেখানে বলিরেখা দেখা দিয়ে সেখানে ভালো করে লাগিয়ে নিন।
  • যতক্ষণ সম্ভব রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

বলিরেখা দূর করতে এটি দারুণ কার্যকরী। মুখের টানটান ভাব ফিরিয়ে আনে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে (১১)।

৯. ভিটামিন E

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ভিটামিন E ক্যাপসুল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • ক্যাপসুল থেকে তেল একটি ছোট্ট পাত্রে বের করে নিন।
  • যেখানে বলিরেখা হয়েছে সেইসব জায়গায় ভালো করে মালিশ করে নিন।
  • তারপর ঘণ্টা খানেক অপেক্ষা করুন।

উপকারিতা

রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন। রিঙ্কলস বা বলিরেখা দূর করতে দারুণ কাজ দেয়। ভিটামিন E ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে এবং ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে (১২)।

১০. অর্গান অয়েল

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • কয়েক ফোঁটা অর্গান অয়েল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • যেখানে বলিরেখা দেখা দিয়েছে সেই সমস্ত জায়গায় তেল মালিশ করে কিছুক্ষণ রেখে দিন।

উপকারিতা

অর্গান অয়েল খুব সহজেই ত্বকে মিশে যায়। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এসেনসিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন E য়া ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে। এর নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক বলিরেখা এবং ফাইনলাইনস মুক্ত হয় (১৩)।

১১. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একচামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার
  • একচামচ মধু

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।
  • ফেসপ্যাকটি মুখে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।
  • হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ভালো করে মুছে নিন।
  • আপনার ত্বকে সুট করে এমন কোনও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

উপকারিতা

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার ত্বকে পি এইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে দু’দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক বলিরেখা মুক্ত এবং উজ্জ্বল হবে (১৪)।

১২. ভেসলিন

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ভেসলিন অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • যেখানে বলিরেখা দেখা দিয়েছে সেইসব জায়গায় পুরু করে ভেসলিন লাগিয়ে নিন।
  • কিছুক্ষণ মালিশ করুন য়াতে এটি ত্বকের গভীরে পৌঁছায়।
  • সারারাত রেখে দিন এবং সকালে উঠে মুখ ধুয়ে নিন।

উপকারিতা

রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিয়মিত এর ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন। পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকে বলিরেখা রোধ করে (১৫)।

১৩. অ্যাভোকাডো

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একটি অ্যাভোকাডো

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • ফলটির খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরোতে কেটে নিন।
  • চটকে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন।
  • স্নানে যাওয়ার আধঘণ্টা আগে মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন।

উপকারিতা

বলিরেখা দূর করতে এটি দারুণ কাজ করে। অকালে চোখে মুকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। বলিরেখা এবং দাগছোপ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে (১৬)।

১৪. মধু

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • মধু

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • ত্বকে মধু লাগিয়ে কয়েক মিনিট আলতো হাতে মালিশ করুন।
  • আধ ঘণ্টা রাখার পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
  • আরও ভালো ফল পেতে মধুর সঙ্গে সামান্য আদা মিশিয়ে নিতে পারেন।

উপকারিতা

নিয়মিত এর ব্যবহারে ত্বকের তারুণ্য এবং উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। চোখে মুখে ক্লান্তি ভাব এবং বলিরেখা দূর করতে দারুণ কার্যকরী। ত্বকে পি এইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ফাইনলাইনস ও বলিরেখা কম করে (১৭)।

১৫. গ্রিণ টি

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • একটি গ্রিণ টি ব্যাগ
  • এক কাপ গরম জল
  • মধু

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • গরম জলে টি ব্যাগটি বেশ কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।
  • সামান্য মধু মিশিয়ে গরম গরম চুমুক দিয়ে খান।

উপকারিতা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিণ টি ত্বককে বলিরেখা মুক্ত করে এবং উজ্জ্বল করে তোলে (১৮)।

১৬. লেবুর রস

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • লেবুর রস
  • মধু

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • সমপরিমাণে লেবুর রস এবং মধু নিন।
  • দুটিকে একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে, ঘাড়ে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন।
  • হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

লেবু কেবলমাত্র শরীরচর্চাতেই নয়, রূপচর্চাতেও দারুণ কার্যকরী। এর মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন পুনর্নিমানে সাহায্য করে, যা ত্বককে বলিরেখা এবং ফাইনলাইনস মুক্ত করে (১৯)।

১৭. শিয়া বাটার

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • অরগ্যানিক শিয়া বাটার

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • বলিরেখার উপর ভালো করে মাস্যাজ করে নিন আলতো ভাবে।

উপকারিতা

স্নানের পর নিয়মিত এটি ব্যবহার করতে পারে। ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের স্বাভারিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় (২০)।

১৮. জোজোবা অয়েল

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • জোজোবা অয়েল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • সামান্য তেল নিয়ে মুখে ভালো করে মালিশ করে নিন।
  • কয়েক ঘণ্টা এভাবেই রেখে দিন।

উপকারিতা

এটি সহজেই ত্বকের গভীরে পৌঁছায়। নিয়মিত ব্য়বহারে ফাইনলাইনস এবং বলিরেখা দূর হয় (২১)।

১৯. কালঞ্জি অয়েল

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল
  • হাফ চামচ কালঞ্জি অয়েল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • দুটিকে একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে মালিশ করে নিন।
  • রাতে শুতে যাওয়ার আগে লাগান।

উপকারিতা

ত্বকের জন্য এটি খুব উপকারী। ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্ষত সাড়ায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় (২২)।

২০. বেকিং সোডা মাস্ক

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • এক চামচ বেকিং সোডা
  • এক চামচ জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • বেকিং সোডা এব জল একসঙ্গে মিশিয়ে এখটি স্ক্রাব তৈরি করে নিন।
  • স্ক্রাবটি ত্বকের উপর ভালো করে মাস্যাজ করুন।
  • কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

উপকারিতা

বেকিং সোডা ত্বককে পরিষ্কার এবং মসৃণ করে তোলে। ত্বক বলিরেখা মুক্ত করে তোলে (২৩)।

বলিরেখা ঠেকাতে কী কী খাবেন ?

  • ত্বককে বলিরেখা মুক্ত রাখতে পারে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। তাই প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে রাখুন।
  • প্রচুর ফলমূল খান। রোজকার ডায়েটে রাখুন পাকা কলা, পাকা পেঁপে, পাকা আম, পাকা পেয়ারা, তরমুজ বেদানার মত রঙিন ফল।
  • ফলের পাশাপাশি প্রচুর শাকসবজি খান। পালংশাক, লাউশাক, বাধাঁকপি, কুমড়ো, ঢেঁড়স, টম্যাটো, গাজর, ক্যাপসিকামে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
  • খাদ্য তালিকা থেকে কোল্ড ড্রিঙ্কস বাদ দিন, পরিবর্তে খান ডাবের জল।
  • প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। ভিটামিন সি-তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কোষকে মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • রোজ বাদাম খান। চিনাবাদাম, পেস্তা, আখরোট ইত্যাটি বলিরেখা ঠেকাতে দারুণ কার্যকরী।
  • সকালে চায়ের পরিবর্তে খান গ্রিণ টি।
  • দুপুরের খাবারে পাতে রাখুন মাছের পদ।

ত্বককে বলিরেখা মুক্ত রাখার আরও কিছু টিপস

১. পর্যাপ্ত ঘুমান

নিয়মিত ত্বকের যত্নের পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন। দিনে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুম দরকার। ঘুমের সময় বালিশের কারণেও মুখে বলিরেখা হতে পারে। অনেকের পেটের উপর ভর দিয়ে ঘুমান, তাতে বলিরেখা বেশি করে দেখা দিতে পারে। চেষ্টা করুন পিঠের উপর ভর দিয়ে ঘুমাতে।

২. স্ট্রেস কমান

অবসাদ শরীর ও মনের পাশাপাশি আপনার সৌঁন্দর্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। অল্প বয়সেই চোখে মুখে বার্ধক্যের ছাপ ফেলতে পারে। সুতরাং যতটা সমস্যা মন ভালো রাখুন এবং সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করুন।

৩. প্রচুর জল খান

সারাদিনে কমপক্ষে ১-২ লিটার জল খেতেই হবে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে সারাদিনে অন্তত ৫-৬ লিটার জল খাওয়া জরুরি। ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতেও জলে ভূমিকা অনস্বীকার্য।

৪. সূর্যরশ্মি থেকে দূরে থাকুন

সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বকে ট্যান পড়ার পাশাপাশি বলিরেখা সৃষ্টি করে। সূর্যের অতিরিক্ত তাপে ত্বক দূর্বল হয়ে পড়ে। তাই এরপর থেকে বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সঙ্গে একটা ছাতা রাখুন।

৫. স্কার্ফ ব্যবহার করুন

শুধু মাত্র সূর্যের তাপ এড়াতে নয়, দূষণ এড়াতে অবশ্যই স্কার্ফ ব্যবহার করুন। বলিরেখার অন্যতম কারণ পলিউশন। ত্বককে বলিরেখা মুক্ত রাখতে স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে তবেই বাইরে যান।

৬. সঠিক সানস্ক্রিন বেছে নিন

নিয়মিত সঠিক সানস্ক্রিনের ব্যবহার খুব জরুরি। ওয়াটার বেসড সানস্ক্রিন বেছে নিন, তাতে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের মাত্রা কিছু হলেও কম থাকে।

৭. ধূমপান ছাড়ুন

অতিরিক্ত ধূমপানের কারণেও মুখে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। তাই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।

মুখের ত্বক শরীরের বিভিন্ন অংশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। তাই ত্বকের দরকার বাড়তি যত্ন। কেবলমাত্র সুন্দর দেখানোটাই যেমন সব নয়, তেমনই নিজের জন্য নিজেকে ভালো রাখাটাও জরুরি। আর নিজেকে ভালো রাখতে সামান্য একটু প্রচেষ্টা আপনাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। তাই বয়সের ছাপ নয়, লাবণ্য এবং অভিজ্ঞতায় আপনার জীবন সুন্দর হয়ে উঠুক।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.