বুকে ব্যথার ঘরোয়া সমাধান ও প্রতিকার | Chest Pain Home Remedies in Bengali

by

কখনো যদি কারোর হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হয়, হার্ট অ্যাটাকের আতঙ্ক তাকে ঘিরে ধরে। কখনো কখনো বুকে ব্যথা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ঠিকই কিন্তু তা বলে সব ক্ষেত্রেই বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস নয় অর্থাৎ বুকে ব্যথা হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হবে এমনটা নয়। বুকে ব্যথার আরও অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে কী কী কারণে বুকে ব্যথা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। এখানে এমন কিছু ঘরোয়া সমাধান দেওয়া হয়েছে যে গুলো বুকে ব্যথা কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে। কিন্তু বুকে ব্যথা যদি গুরুতর হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।

বুকে ব্যথার কারণ

আসুন আমরা প্রথমেই জেনে নিই বুকে ব্যথার কারণগুলো কী কী? আসলে প্রত্যেক ব্যক্তির বুকে ব্যথার কারণ আলাদা আলাদা হয়। কারো বুকের বাম দিকে ব্যথা করে, তো কারো আবার বুকের ডান দিকে। এছাড়া কারোর আবার বেশি সময়ের জন্য ব্যথা হয়, কারোর কম সময়ের জন্য। কারোর ব্যথা তীব্র হয়, কারোর মৃদু। বুকে ব্যথার আসল কারণ শুরুতেই বলা সম্ভব নয়। এর জন্য ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে জরুরী।  দেখি কী কী কারণে বুকে ব্যথা হয়?

হার্ট জনিত কারণ :

  • হার্ট অ্যাটাক
  • অ্যানজিনা যা হার্টে রক্ত জালকের ব্লকেজের জন্য হয়ে থাকে।
  • পেরিকার্ডির্টিস যা হার্টের পাশে এক থলির প্রদাহের জন্য হয়ে থাকে।
  • মায়োকার্ডির্টিস যা হৃদপেশীর প্রদাহের জন্য হয়ে থাকে।
  • কার্ডিওমায়োপ্যাথি , হৃদপেশির এক ধরনের রোগ
  • আওর্টিক ডিকেশসন যা মহাধমনী ছিঁড়ে গেলে হয়ে থাকে।

ফুসফুস জনিত কারণ :

  • ব্রঙ্কাইটিস
  • নিউমোনিয়া
  • প্লুরিসি
  • নিউমোথোরাক্স যা ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ডে বায়ু লিকেজের জন্য হয়ে থাকে
  • পালমোনারি এম্বোলিস
  • ব্রঙ্কোস্পাসম

পেশী হাড় জনিত কারণ :

  • আঘাত পাওয়া বা ভেঙে যাওয়া মেরুদণ্ড
  • ক্লান্তির জন্য পেশীতে ব্যথা
  • ফ্র্যাকচারের জন্য নার্ভের ওপর চাপ

পরিপাক তন্ত্র জনিত কারণ :

  • পেটের আলসার
  • বুক জ্বালা
  • পেটে পাথর

অন্যান্য কারণ :

  • প্যানিক অ্যাটাক যাতে শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়।
  • দাদ
  • পাঁজরের কাছে মাংসপেশীতে স্ট্রেস
  • স্তনের হাড়ের থেকে পাঁজরের হাড়ের সংযোগস্থলে প্রদাহ

বুকে ব্যথার কারণগুলো জেনে নেওয়ার পর বুকে ব্যথার লক্ষণ বা উপসর্গ গুলো জেনে নেওয়া যাক।

বুকে ব্যথার উপসর্গ

বুকে ব্যথার সেভাবে কোনো উপসর্গ হয় না, কারণ বুকে ব্যথা কোনো অসুখ না। বুকে ব্যথার চিকিৎসা করতে হলে বুকে ব্যথার কারণগুলোর চিকিৎসা করতে হবে।

হৃৎপিণ্ড জনিত উপসর্গ

  • শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা
  • পেটে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরা
  • বুকের মধ্যে চাপ অনুভব করা

অন্যান্য উপসর্গ

  • মুখে টক স্বাদ
  • খাওয়ার সময় ব্যথা
  • খাবার গিলতে অসুবিধে
  • ডিপ ব্রিদিং করতে অসুবিধে
  • জ্বর
  • দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ
  • পিঠে ব্যথা যা ধীরে ধীরে বুকে পৌঁছায়

বুকে ব্যথা শুধু কষ্ট দেয় না, জীবনযাত্রায় ব্যাঘাতও ঘটায়। তাই এর থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় দেওয়া হল। আশা করি এইগুলো নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করে উপকার পাবেন।

ঘরোয়া উপায়ে বুকে ব্যথার সমাধান

উপায় ১ : রসুন

কী কী লাগবে?

১. এক চামচ রসুনের রস

২. এক কাপ ঈষদুষ্ণ জল

কী করতে হবে?

১. এক চামচ রসুনের রসের সাথে এক কাপ ঈষদুষ্ণ জল মেশানো হল।

২. ভালো করে মিশিয়ে এই মিশ্রণটি রোজ সেবন করুন। প্রতিদিন এক থেকে দুইবার এটি খেতে হবে।

৩. আপনি রোজ সকালে দুই কোয়া রসুনও খেতে পারেন।

কীভাবে কাজ করে?

রসুনের অনেক গুণাগুণের মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি গুণ হল এটি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায় এবং হৃদপিণ্ডের রক্ত চলাচল বাড়ায়। (1) হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল কম হলে হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে। যার ফলে বুকে ব্যথা শুরু হয়। রসুন উচ্চ রক্তচাপকেও নিয়ন্ত্রিত রাখে। (2)  তাই দৈনিক রসুন সেবন বুকে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে একটি খুব ভালো ঘরোয়া উপায়।

উপায় ২ : ভিটামিন

গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে ভিটামিন ডি আর ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাবে বুকে ব্যথা হয়, এমনকি মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। (3) তাই যদি আপনি বুকে ব্যথার জন্য ভোগেন, তাহলে প্রথমেই আপনাকে আপনার ডায়েটের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার ডায়েট চার্টে যেন ভিটামিন, মিনারেল ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার থাকে যা খেলে আপনি হবেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। দেহের জন্য  ব্যালেন্সড ডায়েট খুব প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিমের কুসম, সিরিয়াল, সয়াবিন, দুধ, চিজ ইত্যাদি অবশ্যই খেতে হবে। ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শে এই ভিটামিন গুলো নিতে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টও সেবন করতে পারেন।

উপায় ৩ : হলুদ দুধ

কী কী লাগবে?

১. হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো

২. এক গ্লাস গরম দুধ

কী করতে হবে?

এক গ্লাস গরম দুধে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে খান। এই মিশ্রণটি রোজ একবার করে খেতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে এটি সেবন করলে খুব উপকার পাবেন।

কীভাবে কাজ করে?

হলুদ কারকুমিনের খুব ভালো উৎস হিসেবে জানা গেছে। এই যৌগটি কোলেস্টেরল অক্সিডেশন কমাতে, রক্ত জমাট বাঁধা দূর করতে সাহায্য করে। এতে হার্টের অনেক রকমের সমস্যার সমাধান হয়। কারকুমিনের প্রদাহনাশক ধর্মের প্রভাবে বুকে ব্যথার উপশম হয়। (4)

উপায় ৪ : তুলসী পাতা

কী কী লাগবে?

১. আট থেকে নয়টি তুলসী পাতা

 কী করতে হবে?

১. তুলসী পাতা চিবিয়ে খান।

২. তুলসী পাতা দিয়ে চা বানিয়ে পান করতে পারেন।

৩. এক চামচ তুলসী পাতার রস বানিয়ে মধু মিশিয়ে খান।

উপকার পেতে প্রত্যেকদিন তুলসী পাতা সেবন করুন।

কীভাবে কাজ করে?

তুলসী পাতায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে এবং ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং রক্তজালকগুলোকে আরাম প্রদান করে। (5) এই কারণেই হার্টের অসুখের চিকিৎসায় ও বুকে ব্যথার জন্য তুলসী পাতা খুব উপকারী।

উপায় ৫ : লালমরিচ

কী কী লাগবে?

১. এক চা চামচ লাল মরিচ পাউডার

২. এক গ্লাস যে কোনো ফলের রস

কী করতে হবে?

১. এক গ্লাস ফলের রসের সাথে এক চা চামচ লাল মরিচ পাউডার যোগ করুন।

২. ভালো করে মিশিয়ে পান করুন। রোজ একবার করে এটি সেবন করুন।

কীভাবে কাজ করে?

লাল মরিচে থাকে ক্যাপ্সাইসিন যায় প্রদাহনাশক ধর্ম বুকে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। (6) হার্টে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে হার্টের নানান অসুখের পাশপাশি বুকে ব্যথার উপশম ঘটায়।

উপায় ৬ : মেথি

কী কী লাগবে?

১. এক চা চামচ মেথি বীজ

কী করতে হবে?

১. রাত্রিবেলা এক কাপ জলে মেথি বীজ ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে একটা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে ওই মেথি ভেজা জল খান।

২. এছাড়া আরেকটি উপায় রয়েছে। একটি পাত্রে জল নিয়ে মেথি বীজ গুলো দিন। ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করে নেওয়ার পর ছেঁকে নিয়ে সেই জল সেবন করুন। দিনে এক থেকে দুইবার সেবন করুন।

কীভাবে কাজ করে?

মেথি বীজে রয়েছে প্রদাহনাশক গুণ। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ধর্মও রয়েছে। যার জন্য বুকে ব্যথা কমাতে মেথি বীজ খুব সহায়ক। (1)কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে এবং হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিও করে মেথি।

উপায় ৭ : আমন্ড

কী কী লাগবে?

একমুঠো আমন্ড বা কাঠবাদাম।

কী করতে হবে?

১. একমুঠো কাঠবাদাম কয়েক ঘন্টার জন্য একটা পাত্রে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২. এরপর কাঠবাদামের খোসা ছাড়িয়ে খেতে হবে।

৩. আপনি চাইলে আমন্ড অয়েল এবং গোলাপের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে বুকে মালিশ করতে পারেন। এটি রোজ একবার করে করতে হবে।

কেন এটি কার্যকরী?

কাঠবাদাম বহু অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর, যা শুধু হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্যপই ভালো নয়, তার সাথে সাথে এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। (8)

এর কারণে এটি হৃদরোগের রোগীদের জন্য এবং বুকে ব্যথার চিকিৎসায় সহায়ক।

বুকে ব্যথার চিকিৎসা

যেমন বুকে ব্যথার কারণ আলাদা আলাদা হয়, তেমনই এর চিকিৎসাও আলাদা আলাদা।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

নিম্নলিখিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখান। (9)

  • বুকে হঠাৎ চাপ অনুভব করলে
  • বুকে ব্যথা বেড়ে হাতে, কাঁধে চলে এলে
  • বুকে ব্যথার সাথে মাথা ঘোরা, বমি, ঘাম, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে অসুবিধে ইত্যাদি হলে
  • হঠাৎ সামান্য বুকে ব্যথা থেকে জোর ব্যথা শুরু হওয়া
  • আরাম বিশ্রাম করার সময় বুকে ব্যথা করা
  • লম্বা ট্রিপ, অনেকক্ষণ ধরে বিশ্রাম নেওয়ার পর বা অনেকক্ষণ ধরে একই জায়গায় বসে থাকার পর ওঠার সময় হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট বা বুকের মধ্যে ব্যথা
  • প্রচন্ড জ্বর ও কাশির সঙ্গে কফ বেরোলে
  • খাবার গিলতে অসুবিধে হলে

বুকে ব্যথা থেকে বাঁচতে যোগ ব্যায়াম

এবার জানবেন বুকে ব্যথা থেকে বাঁচতে যোগ ব্যায়াম কতটা উপকারী। প্রতিদিন যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করলে নিরোগ থাকা যায়। বুকে ব্যথা সহ বহু রোগের চিকিৎসায় যোগ ব্যায়াম খুব ভালো কাজ করে। জেনে নেওয়া যাক কোন কোন যোগাসন করলে আপনি বুকে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন?

সূর্য নমস্কার আসন

বুকে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সূর্য নমস্কার আসনের অভ্যাস করা লাভদায়ক। বলা হয় যে প্রতিদিন সূর্য নমস্কার আসন করলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। (10) সূর্য নমস্কার আসনে মোট ১২ টি মুদ্রা থাকে যেগুলো ধাপে ধাপে করতে হয়, এই মুদ্রা গুলো হল – প্রণাম আসন, হস্ত উত্তানাসন, পাদহস্তাসন, অশ্ব সঞ্চালনাসন, পর্বতাসন, অষ্টাঙ্গাসন, ভুজঙ্গাসন, পর্বতাসন, অশ্ব সঞ্চালনাসন, হস্ত উত্তনাসন, প্রণাম আসন।

প্রণাম আসন

আপনার যোগাসন মাদুরের ওপর দাঁড়ান। দুই পা জোড়া করুন এবং আপনার দেহের ওজন দুপায়ের ওপর সমান ভাবে রাখুন। বুকের ছাতি প্রসারিত করুন এবং দুই কাঁধ শিথিল করুন। শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে দুদিক থেকে হাত তুলুন এবং শ্বাস ছাড়ার সময় দুই হাত বুকের কাছে নমস্কারের ভঙ্গি করুন।

হস্ত উত্তানাসন

এবার শ্বাস নিতে নিতে দুহাত ওপরে তুলে পিছন দিকে নিন। হাতের বাইসেপ্ যেন কানকে স্পর্শ করে থাকে। এই ভঙ্গিতে সমস্ত শরীরকে পায়ের গোড়ালি থেকে হাতের আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত যথাসম্ভব স্ট্রেচিং করুন।

পাদহস্তাসন

শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে মেরুদন্ড সোজা রেখে কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকুন; শ্বাস পুরোপুরি ছাড়া হলে মেঝেতে পায়ের দুপাশে দুই হাত রাখুন।

অশ্ব সঞ্চালনাসন

শ্বাস নিতে নিতে, ডান পা যতখানি সম্ভব পিছনের দিকে ঠেলুন; ডান হাঁটু মেঝের ওপর রাখুন এবং ওপরে তাকান। মাথায় রাখতে হবে বাঁ পা দুই হাতের তালুর ঠিক মাঝখানে যেন থাকে।

পর্বতাসন

শ্বাস নিন, বাঁ পা ডান পায়ের মত পিছনে নিয়ে শরীরকে এক সরল রেখায় আনুন।

অষ্টাঙ্গাসন

হাল্কা ভাবে দুই হাঁটু মেঝেতে রেখে শ্বাস ছাড়ুন। নিতম্ব সামান্য পিছনে নিন। সামনের দিকে শরীর আনুন, বুক এবং চিবুক মেঝেতে রাখুন। নিতম্ব সামান্য উপরে তুলুন। দেখতে হবে দুই হাত, দুই পা, দুই হাঁটু, বুক এবং চিবুক (দেহের আটটি অংশ) মেঝেতে স্পর্শ করেছে।

ভুজঙ্গাসন

বুক থেকে দেহের উপরিভাগ সাপের ভঙ্গিতে তুলুন। এই ভঙ্গিতে কনুই ভাঁজ করে রাখতে পারেন, দুই কাঁধ দুই কানের থেকে দূরে এবং দৃষ্টি উপরের দিকে থাকবে।

পর্বতাসন

শ্বাস ছাড়ার সময় নিতম্ব এবং টেলবোন ওপরে তুলুন, বুক নীচের দিকে ইংরাজী অক্ষর V –এর উল্টো ভঙ্গিতে থাকবে।

অশ্ব সঞ্চালনাসন

শ্বাস নিয়ে ডান পা সামনের দিকে এনে দুই হাতের মাঝখানে রাখুন, বাঁ হাটু মেঝেতে, নিতম্বকে নীচের দিকে চাপ দিন এবং দৃষ্টি রাখুন ওপরে।

পাদ হস্তাসন

শ্বাস ছেড়ে, বাঁ পা সামনে আনুন। হাতের তালু মেঝেতে রাখুন।

হস্ত উত্তানাসন

শ্বাস নিতে নিতে মেরুদন্ডকে ওপরে তুলুন, দুহাত উপরের দিকে তুলে সামান্য পিছন দিকে নিন, নিতম্ব হাল্কা ভাবে বাইরের দিকে ঠেলে রাখুন৷

প্রণাম আসন

যখন শ্বাস ছাড়ছেন প্রথমে শরীর সোজা করুন, তারপর দুই হাত নীচে আনুন। একদম শুরুর মুদ্রায় চলে আসুন এবং এই ভঙ্গিতে বিশ্রাম নিন।

ভুজঙ্গাসন

যদি শ্বাসজনিত কোনো সমস্যার জন্য বুকে ব্যথা হয়, তাহলে আরাম পেতে এই আসন অভ্যাস করতে পারেন। ভুজঙ্গ অর্থ সাপ, সাপের ফনার মতাে দেখতে লাগে বলে আসনটির নাম ভুজঙ্গাসন। দেখে নেওয়া যাক এই আসনের পদ্ধতি।

  • এই আসন করতে গেলে প্রথমে যোগাসনের জন্য মাদুর পেতে পেট নিচে রেখে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।
  • মাথাটা বামে অথবা ডানে-যেদিকে ইচ্ছে কাত করে রাখুন। হাত দুটো শরীরের দুপাশে রাখুন এবং হাতের পাতা মাটিতে লেগে থাকবে। এবার দুটো টেনে নিয়ে এসে দুবাহু বরাবর উপুড় করে রাখুন।
  • হাতের ওপর ভর করে মাথা ওপরে তুলুন। বুক মাটি থেকে ওপরে উঠবে। কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পা জোড় অবস্থায় সােজা থাকবে। নাভি মেঝেতে লেগে থাকবে। শ্বাস প্রশ্বাস থাকবে স্বাভাবিক। এভাবে পূর্ণ ভঙ্গিমায় এসে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড থাকুন ।
  • তারপর ধীরে ধীরে নিশ্বাস ছাড়ুন এবং পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসুন। নিজের ক্ষমতা অনুসারে তিন থেকে পাঁচ বার এই আসন করতে পারেন।
  • এই আসন করার সময় শরীরের ওজন দুই হাতের ওপর থাকে।

মার্জরী আসন

বুকে ব্যথা থেকে আরাম পেতে এই আসন করতে পারেন। বলা হয় যে হজম সংক্রান্ত কারণে বুকে ব্যথা হলে এই আসন তার উপশম করে। আসুন এই আসন কীভাবে করতে হয় তা জেনে নিই।

  • প্রথমে যোগাসন করার জন্য ম্যাট পেতে নিন এবং বজ্রাসনে বসুন।
  • তারপর হাত দুটো সামনে মাটিতে রাখুন। তারপর হাতের ওপর এবং হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে আসন শুরু করুন। এতে শরীরের আকার বেড়ালের মতো দেখায় বলে এই রকম নামকরণ করা হয়েছে।
  • এবার শ্বাস নিয়ে মেরুদণ্ড নিচের দিকে নামিয়ে কাঁধকে তোলার চেষ্টা করুন।
  • কয়েক সেকেন্ড এই মুদ্রায় থেকে শ্বাস ছাড়তে থাকুন, মেরুদণ্ডকে ধীরে ধীরে ওপরে করুন, কাঁধকে ভেতরের দিকে করুন। এই অবস্থায় কয়েক সেকেন্ড থেকে আবার বজ্রাসনে আসুন।
  • এভাবে একটু চক্র পূর্ণ হল। এবার শরীরের ক্ষমতা অনুসারে তিন চার বার এই আসন করুন।

অন্যান্য টিপস্

ঘরোয়া উপায়, ব্যায়াম ছাড়াও  বুকে ব্যথা থেকে বাঁচতে আর কী কী করলে উপকার পাবেন? জেনে নেওয়া যাক আরও কিছু টিপস্।

  • অত্যধিক শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা
  • ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলা
  • মদ্যপান না করা
  • ধূমপান না করা
  • তামাক সেবন না করা
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা
  • যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করা
  • জগিং, মর্নিং ওয়াক বা ট্রেনারের সহযোগিতায় জিম করা
  • আকুপ্রেসার ম্যাসাজ নেওয়া ( সম্ভব হলে )

এই লেখা পড়ে বুকে ব্যথার কারণ ও লক্ষণ বুঝতে পেরেই গেছেন। এর সাথে বুকে ব্যথা হলে কী করতে হবে সেই সম্পর্কেও জানতে পারলেন। বুকে ব্যথার সমস্যাকে হালকাভাবে নেবেন না। যদি বুকে ব্যথা প্যানিক অ্যাটাক, গ্যাস অম্বল বা কস্টোকন্ড্রিটিস ইত্যাদির জন্য হয়ে থাকে, তাহলে  সহজেই চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু মায়োকন্ড্রিয়াল ইনফার্কশনের মত মারাত্মক রোগের জন্য বুকে ব্যথা হলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই ধরনের রোগের জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন। এই ঘরোয়া উপায় ও টিপস্ গুলো মেনে চলার পরও যদি আপনার বুকে ব্যথা হয়, তাহলে ঘরে না বসে থেকে ডাক্তার দেখানো একান্তই দরকার। বুকে ব্যথা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। আশা করি এই আর্টিকেল পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন

বুকের ডান দিকে ব্যথার কারণ কী?

বুকের ডান দিকে ব্যথা হওয়ার কারণ হতে পারে ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের পর্দার প্রদাহ যাকে প্লুরাইটিস বলা হয়। এর জন্য হাঁচি, কাশি বা শ্বাস নেওয়ার সময় তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। চেস্ট ট্রমা, বুক জ্বালা, প্যানক্রিয়েটাইটিস, কস্টোকন্ড্রাইটিস ইত্যাদিও ডান দিকে বুকে ব্যথার কারণ হতে পারে।

খাবার গেলার সময় বুকে ব্যথা কেন করে?

খাবার গেলার সময় অনেকের বমি পায় বা বুকে ব্যথা করে তার কারণ হল ইসোফ্যাগাইটিস যেটা হল ইসোফ্যাগাসের প্রদাহ।

কম বয়সী প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার কারণ কী?

কম বয়সী প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার সাধারণ কারণ গুলো হলো বুকে সর্দি, প্লুরিসি, পেরিকার্ডিটিস, হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি ইত্যাদি।

খুব তাড়াতাড়ি গর্ভবতী হয়ে পড়লে কি বুকে ব্যথা হতে পারে?

হ্যাঁ, গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক পরিবর্তন, স্ট্রেস, বদহজম, বুক জ্বালা ইত্যাদি বুকে ব্যথার কারণ। (11)

ঠাণ্ডা আবহাওয়ার জন্য বুকে ব্যথা হতে পারে?

হ্যাঁ, শীতকালে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় কারোর বুকে ব্যথা হলে করোনারি আর্টারি ডিসিজ (হৃৎপিণ্ডের ধমনী সংক্রান্ত অসুখ) রোগের সংকেত হতে পারে। আর যদি এই রোগ না হয়, তাহলে এর কারণ এখনও অজানা। (12)

12 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch