চিজ এর উপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | Cheese Benefits and Side Effects in Bengali

Written by

চিজ নামটা শুনলেই মনটা কেমন যেন আনন্দে ভরে ওঠে। চিজ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিস আমরা খেয়ে থাকি। এরমধ্যে পিজা, বার্গার এগুলি আমাদের সবচেয়ে প্রিয়। এছাড়াও শুধু চিজ খেতে খুব ভালো লাগে। চিজ ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি উপাদান হওয়ায় এটির অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। চিজ আমাদের শরীরে বহু রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। হাঁড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে, রক্তচাপ কম করতে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে, শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে চিজ সহায়তা করে। আজকের নিবন্ধ থেকে আমরা চিজের উপকারিতা, এর পার্শপ্রতিক্রিয়া, এর পুষ্টি মূল্য সহ সব বিষয়গুলি সম্পর্কে জানব। এর পাশাপাশি চিজ দিয়ে কি কি সুস্বাদু খাদ্য তৈরি করা যায় সেগুলো সম্পর্কে জানবো। আসুন তাহলে চিজ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাক।

চিজ কি?

চিজ হল এক ধরনের দুগ্ধজাত দ্রব্য। মূলত এটিকে পনির বলা চলে। দুধ কেটে ছানা তৈরি করে, ছানার থেকে চিজ তৈরি করা হয়। এটি এক ধরনের সুস্বাদু খাদ্য। সাধারণত গরু, মহিষ, ছাগলের দুধ থেকে প্রোটিন জাতীয় উপাদান টি তুলে নিয়ে চিজ দিয়ে তৈরি করা হয়। অনেকটা দই তৈরির মতন প্রক্রিয়ায় চিজ তৈরি করা হয়। চিজ এর বাইরের অংশ ছাঁচের আদলে থাকে। চিজ রান্নায় দিলে গলে যায়। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের চিজ উৎপন্ন হয়। এক হাজারেরও বেশি চিজ এর প্রকারভেদ রয়েছে। এগুলি বিভিন্ন স্বাদের তৈরি হয়। চিজ দেখতে হলুদ রংয়ের হয়। অনেক সময় এই চিজের মধ্যে বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে তাকে সুস্বাদু করে তোলা হয়। কিছু কিছু চিজের মধ্যে আবার ভিনিগার, লেবুর রস মিশিয়ে তাকে অন্যরকম করে তোলা হয়।  চিজ অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য তৈরীর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। চিজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। এটি বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে পারে।

চিজ এর উপকারিতা :

আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় চিজের বহু উপকারিতা রয়েছে। আসুন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

১) দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় চিজ এর ব্যবহার :

চিজ হল ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ একটি উপাদান। এটি দাঁতকে শক্ত রাখতে সহায়তা করে। এটি দাঁতের যে কোনো ক্ষয় কিংবা যে কোনো প্রকার সমস্যা কম করতে সহায়তা করে। চিজের মধ্যে ছানা জাতীয় উপাদান থাকায় এটি দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে। এছাড়াও যখন চিজ মুখে চিবানো হয়, তখন এটি মুখগহবরের পিএইচ মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং মৌখিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। চিজ এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান গুলি দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে এবং দাঁতের সমস্যা কম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও চিজ এর মধ্যে যে পুষ্টি উপাদান গুলি রয়েছে সেগুলি দাঁতকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে। (১) (২)

২) ক্যান্সার নিরাময়ে চিজ এর ভূমিকা

চিজ এর মধ্যে কনজুগেটেড লিনোলিক এসিড এবং স্পিংহো লিপিড রয়েছে যা ক্যান্সার নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। মিলান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে স্পিংহো লিপিড গুলি মানুষের কোলন ক্যান্সারে বাধা দিতে পারে। এছাড়া চিজে থাকা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ উপাদানগুলি কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধে ডায়েটরি ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। (৩)  (৪)

৩) ওজন বৃদ্ধি করতে চিজ এর ভূমিকা

চিজ এর মধ্যে প্রাকৃতিক ফ্যাট বেশি থাকে, যার ফলে এটি ওজন বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে চিজ এর মধ্যে কম ফ্যাটযুক্ত উপাদানও রয়েছে যা দেহের ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। চিজের মধ্যে ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে যা পেশি এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। (৫)

৪) হাড় শক্ত করতে চিজ এর ভূমিকা

চিজ হলো ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম,  ভিটামিন এবং প্রোটিন এর উৎকৃষ্ট উৎস। এটি শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী এবং প্রসূতি মহিলাদের ক্ষেত্রে শরীরের হাড় শক্ত করতে সহায়তা করে। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব ঘটলে সে ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব কম হওয়ার এবং অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা থাকে। চিজে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম দুটোই থাকায় এটি হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। চিজের মধ্যে পাওয়া ভিটামিন বি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। (৬) (৭)

৫) অস্টিওপোরোসিস নিরাময়ে চিজ এর ব্যবহার

চিজ হল ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের উৎকৃষ্ট উৎস। অস্টিওপোরোসিস রোগের ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হলো শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া। এক্ষেত্রে শরীরে ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম দুটির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। শরীরে যথাযথ পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেই হাড় শক্ত এবং মজবুত থাকে এবং অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা কম হতে থাকে। এক্ষেত্রে হাড়ের যে কোনো ধরনের সমস্যায় চিজ মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। (৮) (৯)

৬) উচ্চ রক্তচাপ কমাতে চিজ এর ব্যবহার

শরীরে সোডিয়াম এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ যদি হঠাৎ বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায়। চিজ এর মধ্যে খুব কম মাত্রায় সোডিয়াম থাকে, যে কারণে এটি শরীরে রক্তচাপ কে বাড়তে দেয় না। এছাড়াও চিজ এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি উচ্চ রক্তচাপকে কম করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে চিজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু দামি চিজ ব্যবহার করা ভালো। কেননা বাজারচলতি কম দামি চিজ গুলির ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল এবং সোডিয়াম জাতীয় সামগ্রী থাকে। যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা চিজ কেনার আগে তার উপাদান সামগ্রী দেখে তারপরে তা নির্বাচন করুন। (১০)  (১১)

৭) গর্ভাবস্থায় চিজ এর ভূমিকা

গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় চিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। যেহেতু চিজ ক্যালসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস সে ক্ষেত্রে এটি গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে। এর পাশাপাশি স্তন্যদানের সময় গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে যে পুষ্টির প্রয়োজন হয় সেই প্রয়োজনীয়তা আগে থেকে চিজ পূরণ করে থাকে। এর পাশাপাশি ভ্রূণের বিকাশ এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে যোগান দিয়ে থাকে। (১২)

৮) পি এম এস নিরাময়ে চিজের ভূমিকা

পি এম এস অর্থাৎ প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম। প্রত্যেকটি মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড শুরুর আগে শরীরের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। এই সময় শরীর শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে বলা যায়। এই পিরিয়ডের সময় শরীরে যদি যথাযথ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা যায় সেক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের মুড সুইং, মন খারাপ, কাজে উৎসাহ না পাওয়া এই ধরনের সমস্যা গুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এইজন্য চিকিৎসকেরা পিরিয়ড শুরুর আগে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, দই, চিজ, বিভিন্ন ধরনের পনির খাওয়ার পরামর্শ দেয়। চিজ যেহেতু প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার তাই এটি পিরিয়ডের সময় যে খাবারের চাহিদা হয় শরীরে সেটি কম করতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৯) হাইপারটেনশন নিরাময়ে চিজ এর ব্যবহার

শরীরে রক্তচাপ এর মাত্রা যদি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে হাইপারটেনশনের সমস্যা দেখা যায়। হাইপারটেনশনের মূল কারণ হল শরীরে সোডিয়াম এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি। চিজের মধ্যে রয়েছে বেশকিছু স্বল্প সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়তে দেয় না, এর পাশাপাশি চিজের মধ্যে থাকা ভিটামিন বি উচ্চ রক্তচাপকে কম করতে সহায়তা করে। যে সমস্ত মানুষেরা উচ্চরক্তচাপ কিংবা হাইপারটেনশনের সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি একটু ভালো মানের চিজ খাদ্যতালিকায় রাখেন সে ক্ষেত্রে এটি আপনাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। (১৩)

১০) মাইগ্রেনের সমস্যায় চিজ এর ভূমিকা

মস্তিষ্কের যেকোনো ধরনের সমস্যায় চিজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারী উপাদান। চিজের মধ্যে ক্যাম্বার্ট জাতীয় এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কে বাড়াতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি মাইগ্রেনের যন্ত্রনা কম করতে সহায়তা করে। চিজের মধ্যে থাকা বিশেষ ধরনের উপাদান টি মস্তিষ্কের প্রদাহজনক সমস্যাকে কম করতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি আলজেইমার রোগের ঝুঁকি কম করতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কে বাড়াতে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের পেশীতে ফোলা ভাব কম করে, মাইগ্রেনের ব্যাথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিজ সহায়তা করে। (১৪)

১১) ইমিউনিটি বাড়াতে চিজ এর ভূমিকা

বেশ কয়েক ধরনের চিজ আমাদের শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়তা করে। ইঁদুরের ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে চিজ জাতীয় খাদ্য শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি যেকোন ধরনের অসুস্থতা কে কমাতে এবং রোগের সম্ভাবনা দূর করতে সহায়তা করে। প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সুরক্ষিত শরীরের অনাক্রম্যতা এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে চিজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। (১৫)

১২) পর্যাপ্ত ঘুম সম্পন্ন করতে চিজ এর ভূমিকা

আমরা অনেকেই জানি যদি গরম দুধ শুতে যাওয়ার আগে খাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে ঘুম ভালো হয়। মূলত যেকোনো ধরনের দুগ্ধজাত দ্রব্য ঘুমকে যথাযথ পরিমাণে করতে সহায়তা করে। কেননা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ উপাদানগুলি মস্তিষ্কে এক ধরনের উপাদান নিষ্কাশনে সহায়তা করে, যা আমাদের শরীরে ঘুমকে যথাযথভাবে সম্পন্ন হতে সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান গুলির মধ্যে রয়েছে দুধ, দই, চিজ এইগুলো। তাই খাদ্যতালিকায় যদি দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণে চিজ  রাখা যায় এটি শরীরের দৈনিক ঘুমের চাহিদাকে যথাযথভাবে পূরণ করতে পারে।

১৩) উজ্জ্বল ত্বক পেতে চিজ এর ব্যবহার

ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত রাখতে গেলে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য রাখতে হবে।। কেননা ক্যালসিয়াম শরীরে যথাযথ মাত্রায় গেলে তা আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী করে তোলে। এক্ষেত্রে দৈনিক যদি দুধ, দই খাদ্য তালিকায় রাখা যায় এটি শরীরকে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করে। চিজ এর মধ্যে যে এনজাইম কিংবা ব্যাকটেরিয়াগুলো রয়েছে সেগুলো আমাদের হজম ক্ষমতা কে বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে আমাদের ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এছাড়াও চিজ হলো সেলেনিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস, যা আমাদের উজ্জ্বল ত্বকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই চিজ দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখলে আমাদের ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

১৪) চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় চিজ এর ভূমিকা

চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহারকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো চিজ। চিজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি রয়েছে। ভিটামিন বি আমাদের চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও চিজের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক প্রোটিন জাতীয় উপাদান গুলো আমাদের চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করার পাশাপাশি এটি চুলকে ভেতর থেকে উজ্জ্বল এবং মজবুত করতে সহায়তা করে।

চিজ এর পুষ্টি মূল্য

চিজের মধ্যে পুষ্টি উপাদান গুলির সবরকম উপাদানই যথাযথ পরিমাণে বর্তমান। চিজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। ইউএসডিএ-র মতে ১০০ গ্রাম পনিরের মধ্যে রয়েছে – (১৬)

  •  শক্তি – ৩৬২ কিলোক্যালরি
  • কার্বোহাইড্রেট – ৫০ গ্রাম
  •  প্রোটিন – ৫.১৭ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম – ৬৯ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম – ১৮১ মিলিগ্রাম
  •  কোলেস্টেরল – ৩৪ মিলিগ্রাম
  •  স্যাচুরেটেড ফ্যাট – ৩.৪৫ গ্রাম।

চিজ হলো প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এর উৎকৃষ্ট উৎস।

চিজ কিভাবে খাবেন?

১) চিজ সাধারণত স্যালাড কিংবা যেকোন রান্নার ওপর ছড়িয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

২) মোজারেলা চিজ পিৎজার ওপর ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩)  বেশ কিছু ফলের রসের মধ্যে চিজ দেওয়া হয়ে থাকে।

৪)  মাংস দিয়ে ফাঁপা বল তৈরী করে বলের ভেতর চিজ যোগ করতে পারেন। এটি একটি নতুন ধরনের রেসিপি হবে।

৫) বিভিন্ন ফলের মাঝখানে চিজের টুকরো যোগ করে নতুনত্ব স্বাদের খাবার খেতে পারেন।

৬) ডিমের অমলেট এর ভেতরে চিজ দিয়ে অমলেট তৈরি করতে পারেন।

৭) যেকোনো ধরনের প্যাটিস খাওয়ার সময় তার ভেতরে চিজ যোগ করে খেতে পারেন।

৮) পাউরুটির ভেতরে চিজ দিয়ে খেতে পারেন।

৯) পাউরুটি, ডিম, চিকেন কিমা, চিজ এর সমন্বয় স্যান্ডউইচ বানিয়ে খেতে পারেন।

১০) ওটস এর মধ্যে চিজ দিয়ে খেতে পারেন। এটি ওটসকে আরো সুস্বাদু করে তুলবে।

১১) যেকোনো সুপের মধ্যে চিজ ব্যবহার করতে পারেন। এটি সুপকে সুস্বাদু করে তুলবে।

১২) চিজ দিয়ে বলের মত তৈরী করে ভেজে চিজ বল তৈরি করতে পারেন।

১৩) এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।

১৪) তবে চিজ যখন খাবেন মনে রাখবেন এটি রাতের দিকে খুব বেশি পরিমাণে গ্রহণ করবেন না এবং প্রত্যেক দিন খুব বেশি পরিমাণে খাবেন না। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চিজ দৈনিক খাদ্য তালিকা রাখবেন।

চিজ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

যে কোনো জিনিসই অত্যধিক মাত্রায় গ্রহণ করলে ফলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। চিজ এর ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেগুলো অত্যধিক মাত্রায় গ্রহণ করার ফলে লক্ষ্য করা যায়। তবে যাদের দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর এলার্জির সম্ভাবনা রয়েছে তাদের না খাওয়াই ভাল। এছাড়াও চিজ গ্রহণের ফলে অনেকের ক্ষেত্রে এলার্জি, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাইগ্রেন, মাথাব্যথা মতন সমস্যাগুলো দেখা যেতে পারে। চিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম এবং সোডিয়াম উচ্চমাত্রায় থাকার কারণে অনেকের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। চিজ গ্রহণের ফলে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে –

) এলার্জি হতে পারে অনেকের ক্ষেত্রে দুধের প্রোটিন থেকে অ্যালার্জি হয়। যার ফলে সারা শরীরে এক ধরনের ফুসকুড়ি কিংবা ব্রণর মতন জ্বালা ভাব দেখা যায়। এক্ষেত্রে চিজ গ্রহণের ফলে অনেকের এই সমস্যা হতে পারে।

) ল্যাকটোজে অসহিষ্ণুতা শরীরে ল্যাকটোজ এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে গ্যাস, পেট ফোলা ভাব, ডায়েরিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। তাই যাদের ল্যাকটোজ এর অধিক গ্রহণের সমস্যা রয়েছে তারা চিজ পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। কিংবা যদি প্রয়োজন না হয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

) মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে চিজ প্রচুর পরিমাণে গ্রহণের ফলে মাথা ব্যথা কিংবা মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে।

ওষুধের সাথে বিক্রিয়া করতে পারেযে সমস্ত লোকেরা মনোমিন  অক্সিডেস ইনহিবিটার জাতীয় ঔষধ গ্রহন করছেন তাদের চিজ খাওয়া উচিত নয়। কেননা এই ওষুধগুলো সাধারণত ডিপ্রেশনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলো সাথে চিজ বিক্রিয়া করতে পারে। যেকোনো দুগ্ধজাত পণ্য গুলিতেই সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড বেশি থাকে। চিজ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণের ফলে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এর মতন সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। তাই চিজ দৈনিক ব্যবহারের আগে সতর্ক হোন।

চিজ একটি পুষ্টিকর খাদ্য। এটির বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। চিজ হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নতিতে সহায়তা করে, উচ্চ রক্তচাপ কম করতে পারে, ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। তবে যাদের দুগ্ধজাত খাবারে এলার্জি রয়েছে তাদের খাদ্য তালিকায় চিজ অন্তর্ভুক্ত করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে চিজ গ্রহণের ফলে বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, তাই এর ব্যবহার নির্দিষ্ট পরিমাণে হওয়া উচিত। আজকের নিবন্ধ থেকে চিজ সম্পর্কিত তথ্য আপনারা জেনে নিলেন, তাহলে এবার থেকে চিজ খাদ্যতালিকায় গ্রহণ করার আগে সবকটি বিষয় মাথায় রেখে অবশ্যই গ্রহণ করবেন এবং খাদ্যতালিকায় রাখার ফলে আপনার কি কি উপকার হয়েছে সেগুলি আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Frequently Asked Questions

চিজ কি স্বাস্থ্যকর?

উত্তরঃ চিজ একটি স্বাস্থ্যকর উপাদান।

চিজ কিভাবে ঘরে বানানো যায়?

 উত্তরঃ ছানা তৈরি করার মতন করেই চিজ ঘরে বানানো যেতে পারে।

সবচেয়ে কম দামি চিজ কোনটি?

 উত্তরঃ যেকোনো কটেজ চিজ স্বল্পমূল্যের হয়।

সবচেয়ে দামি চিজ কোনটি?

 উত্তরঃ সবচেয়ে দামি চিজ হল মোজারেলা চিজ।

চিজ আপনার জন্য ভালো না কেন?

উত্তরঃ দুগ্ধজাত দ্রব্যে যদি আপনার অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে আপনার জন্য চিজ ভালো নাও হতে পারে।

বাড়িতে বানানো চিজ কি সস্তা হয়?

উত্তরঃ চিজ বাড়িতে বানালে তার খরচ অনেকটাই কম হয়।

সাজা ছাড়া কি চিজ বানানো যায়?

উত্তরঃ  সাজা ছাড়া চিজ বানানো যায় না।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.