কলেরা রোগের লক্ষণ ও ঘরোয়া উপাচার | Cholera Disease Symptoms and Home Remedies In Bengali

by

আগেকার দিনে কিংবা আজও গ্রামাঞ্চলের দিকে কলেরা রোগ ওলাওঠা রোগ নামেই পরিচিত। আঢাকা কিংবা অপরিচ্ছন্ন খাবার খেলে কিংবা দূষিত জল পান করলেই মূলত এই রোগ হয়ে থাকে। এই রোগের কারণে সাধারণত মানুষের শরীরে জলের কমতি দেখা দেয়। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রত্যেক বছর সারা পৃথিবী জুড়ে মোটামোটি ২৯ লক্ষ মানুষের কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আর কম-বেশি ৯৫ হাজার মানুষই এই কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।(1) তবে এই বিষয় নিয়ে আপনার চিন্তিত হওয়ার তেমন কোনও কারণ নেই। স্টাইলক্রেজের এই প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের জানাব এই কলেরা রোগের লক্ষণ, কলেরা রোগের কারণ এবং কলেরা রোগের হাত থেকে বাঁচার উপায়ের কিছু ঘরোয়া উপাচার সম্বন্ধে। এই ঘরোয়া উপাচার আপনাকে কলেরা রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে বলেই আমাদের আশা।

কলেরা রোগ হওয়ার কারণ

সাধারণত আঢাকা বা অপরিষ্কার খাবার খাওয়া কিংবা দূষিত জল পান করাকেই কলেরা রোগ হওয়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। কিন্তু এর পেছনে মূল হাত থাকে এক ধরনের ব্যাক্টিরিয়ার, যাকে এই রোগ সৃষ্টি করার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কলেরা রোগের কারণ নিয়ে করা একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, এক ধরনের ব্যাক্টিরিয়ার ইনফেকশন থেকেই কলেরা রোগ হয়ে থাকে। আর এই ইনফেকশনকে ভিব্রিয়ো কলেরি (Vibrio cholerae infection) সংক্রমণ বলা হয়ে থাকে। এই ব্যাক্টিরিয়া মূলত দূষিত জলের মধ্যেই থাকে। তারপর তা মানুষের শরীরে পৌঁছানোর পর সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এন্টেরোটক্সিন (এক ধরনের টক্সিন) তৈরি করে। আর এর ফলে তা মানুষের শরীরে ডায়ারিয়ার মতো রোগ দেখা দেয়। এবং তা কলেরা রোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (2)

আসুন, এবার জেনে নিই এছাড়া আর কী কী কারণে মানুষ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়। নীচে সেই কারণগুলি তুলে ধরা হল।

  • দূষিত জল কিংবা পরিষ্কার জলের অভাব কলেরা রোগ হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।
  • আপনি যে জল সাধারণত খেয়ে থাকেন, যদি তাতে ‘বাইব্রিয়ো কলেরি’ নামক ব্যাক্টিরিয়াটি মজুত থাকে, তাহলে কিন্তু তাও আপনার কলেরা রোগ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  • আমরা জানি মাছি কলেরা রোগ ছড়ানোর অন্যতম বাহক।কলেরা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির মল কিংবা বমিতে বসার পর যদি কোনও একটি মাছি উড়ে গিয়ে কোনও খাওয়ার জিনিসের ওপর বসে এবং সেই খাবার যদি কেউ খেয়ে ফেলেন তাহলে কিন্তু সেই ব্যক্তিরও কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অচিরেই বেড়ে যায়। তাই আঢাকা খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
  • খাঁড়ি, নদীর জল কিংবা নদী তটের জলের মধ্যেও অনেক সময় কলেরার ব্যাক্টিরিয়া মজুত থাকে।
  • কোনো নর্দমার পাশে থাকা জলাশয় বা জলের জায়গা থেকে জল খেলেও কিন্তু তা অনেক সময় কলেরা রোগ সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা জানলেন কলেরা রোগের কারণ। এবার আসুন জেনে নিন কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলি কী কী। এই বিষয়ে আমরা নীচে আলোচনা করলাম।

কলেরা রোগের লক্ষণ

কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর শরীরে ডায়ারিয়ার প্রকোপ দেখা দেয় এবং তাঁরা ক্রমাগত বমি করতে থাকেন। সংক্রমণ শুরু হওয়ার ২-৩ দিন পর থেকে সাধারণত রোগীর শরীরে কলেরার লক্ষণ ফুটে উঠতে দেখা যায়। এছাড়াও কলেরা আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রোগের প্রকোপের যে লক্ষণগুলি দেখতে পাওয়া যায়, তা নীচে আলোচনা করা হল। (3)

  • বারবার বমি এবং মলত্যাগ হওয়া এই রোগের আক্রান্ত হওয়ার একটি মূল লক্ষণ।
  • এই রোগের প্রকোপে রোগী পাতলা মলত্যাগ করে থাকেন।
  • ডায়ারিয়ার পাশাপাশি পায়ে আঁটুনি বা লেগ ক্র্যাম্পসের সমস্যাও এই রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।
  • হার্ট বিট বেড়ে যাওয়ায়ো অনেকের ক্ষেত্রে কলের রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।
  • কলেরা রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
  • কলেরা রোগ হলে রক্তচাপ কমে যায়। তাই এটিও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার একটি অন্যতম লক্ষণ।
  • জল তেষ্টা পাওয়াও এই রোগের একটি লক্ষণ।

বি.দ্রঃ উপরে আলোচিত লক্ষণগুলির মধ্যে যেকোনও একটি লক্ষণ আপনার শরীরে দেখা গেলেই কিন্তু তা কলেরা রোগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। অন্যথায় এই রোগ কিন্তু প্রাণঘাতীও হয়ে দাঁড়ায়।

কলেরা রোগের লক্ষণ নিয়ে আমরা এতক্ষণ আলোচনা করলাম। এবার আসুন আমরা জেনে নিই ঠিক কোন সময়ে এই রোগ সবচেয়ে বেশী ছড়ায়।

কলেরা রোগ ছড়ানোর সময়কাল

আপনাদের জানিয়ে রাখি কলেরা রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়কাল রয়েছে। আর সেই সময়কালের মধ্যেই কলেরা রোগ বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকে। সেই কারণে, কলেরা রোগ ছড়ানোর সময় কালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। সেই বিভাগগুলি নিয়ে আমরা নীচে আলোচনা করলাম।

১. ইনকিউবেশন কাল বা রোগের উন্মেষ পর্বঃ (Incubation Period) –

কলেরা রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে এটি এমন একটি সময় যখন এই রোগ হুহু করে ছড়াতে থাকে। কলেরা রোগ ছড়ানোর সময় কালের ওপর করা একটি গবেষণা অনুযায়ী, এর লক্ষণ কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে পাঁচ দিন পর্যন্ত দেখা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমণ শুরু হওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যেই এটি নিজের কাজ শুরু করে দেয়। (4)

২. ইনফেক্টিভ কাল বা সংক্রামিত হওয়ার সময়ঃ   (Infective period)-

ইনফেক্টিভ কাল বা সংক্রামিত হওয়ার সময় বলতে মূলত সেই কালকে বোঝায় যখন এক জন রোগী কলেরা রোগে আক্রান্ত থাকেন। অর্থাৎ যতক্ষণ না সংক্রামিতের শরীর থেকে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাক্টিরিয়া দূর হচ্ছে কিংবা যতক্ষণ না পর্যন্ত সংক্রামিতের শরীর থেকে কলেরার লক্ষণ পুরোপুরি চলে যাচ্ছে, সেই সময়কালই হল ইনফেক্টিভ কাল।

৩. ইমিউনাইজেশনঃ (Immunization)-

কলেরা রোগের ক্ষেত্রে ইমিউনাইজেশন হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে টীকাকরণের মাধ্যমে আপনি ৩-৬ মাস অবধি নিজেকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার থেকে দূরে রাখতে পারবেন। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, যদি আপনি এমন কোনও শহর কিংবা দেশে যাচ্ছেন, যেখানে ইতিমধ্যেই কলেরার সংক্রমণ ছেয়ে গেছে, তাহলে কলেরার ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরই সেখানে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।(5) এছাড়া ভারতে কলেরা থেকে বাঁচার জন্য শঞ্চোল (Shanchol) নামের একটি ভ্যাক্সিন পাওয়া যায়। এটি আপনাকে কলেরা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

এতক্ষণে আশা করি জেনে গিয়েছেন কলেরা রোগ ছড়ানো ও তার সময়কাল সম্পর্কে। আসুন, এবার জেনে নিই কলেরা রোগ উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া উপাচারের কথা।

কলেরা রোগ উপশমে ঘরোয়া উপাচার

আমাদের রান্নাঘরে সবসময়ই এমন কিছু খাদ্য পদার্থ মজুত থাকে, যার ব্যবহার কলেরা রোগের উপশমে ঘরোয়া উপাচার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাহলে চলুন, জেনে নিই কলেরা রোগ সারাতে কী কী ঘরোয়া উপাচার ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • কলেরা রোগ উপশমে আদার ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে লেবুর ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে হলুদের ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে লস্যির ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে লবঙ্গর ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে মেথি বীজের ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে পুদিনার ব্যবহার
  • কলেরা রোগ উপশমে পেঁয়াজের ব্যবহার

এবার চলুন নীচে আমরা দেখে নিই কলেরা রোগ উপশমের জন্য ঘরোয়া উপাচারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য।

১. কলেরা রোগ উপশমে আদার ব্যবহারঃ

দেখে নিই, কলেরা রোগ উপশমে আদার ব্যবহার কীভাবে  করা হয়ে থাকে।

  • উপকরণঃ

১ টুকরো আদা

২ চামচ মধু

  • ব্যবহারঃ
  • প্রথমে একটি বাটি নিন।
  • এবার আদা পিষে মিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিন।
  •  আদার পেস্টের মধ্যে এবার নিজের স্বাদ অনুযায়ী মধু মিশিয়ে নিন, যাতে আদার ঝাঁঝ বা তেতো ভাব বেশি না লাগে।
  • এবার দিনে তিন বার করে এটি খান।
  • কেন লাভজনক?

কলেরা রোগের উপশমে আদার ব্যবহার খুবই লাভজনক।(6) একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, কলেরা রোগ সারাতে আদার ব্যবহার বহুদিন ধরে করা হয়। কারণ, আদার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি ভাইরাল গুণ থাকে যা কলেরার উপশমে খুবই লাভজনক। আর এই অ্যান্টি ভাইরাল গুণ কলেরার ব্যাক্টিরিয়াকে মানুষের শরীরে ছড়ানোর হাত থেকে রক্ষা করে।

২. কলেরা রোগ উপশমে লেবুর ব্যবহারঃ

কলেরা রোগের ক্ষেত্রে লেবু কীভাবে উপকারী চলুন দেখে নিই।

উপকরণঃ

  • একটি লেবু
  • হাফ গ্লাসের চেয়ে একটু বেশি জল
  • স্বাদ মতো নুন

ব্যবহারঃ

  • একটি গ্লাস নিন।
  • এর মধ্যে ভালো করে লেবু চিপে রস বের করে নিন।
  • এর মধ্যে স্বাদ মতো নুন মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • এবার কলেরায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই লেবু জল খাওয়ার জন্য দিন।

কেন লাভজনক?

কলেরা রোগ উপশমে ঘরোয়া উপাচার হিসেবে লেবু ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, কলেরা রোগ উপশমে লেবুর ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে যে তার ফলাফল খুবই কার্যকরী। আসলে লেবু, কলেরার ক্ষেত্রে এক ধরনের বায়োসাইড হিসেবে কাজ করে। আর তা শরীরে থাকা ভি. লেরিয়া ব্যাক্টিরিয়াকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।(7)

৩. কলেরা রোগ উপশমে হলুদের ব্যবহারঃ

এবার দেখি কলেরা সারাতে হলুদ কীভাবে সাহায্য করে।

উপকরণঃ

  •  ২ টুকরো হলুদ
  •  ১ চামচ মধু
  •  ১ কাপ জল

ব্যবহারঃ

  • একটি বড় বাটি নিন।
  • এবার ওই বাটিতে হলুদের টুকরোগুলো ভিজিয়ে রাখুন।
  •  এবার হলুদের টুকরোগুলি রোদে শুকিয়ে সেটার পাউডার বানিয়ে নিন।
  • এবার এক কাপ গরম জলে প্রয়োজন অনুযায়ী মধু এবং হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন।
  • এটি দিনে দু’বার করে পান করুন।

কেন লাভজনক?

কলেরা রোগ সারাতে ঘরোয়া উপাচার হিসেবে হলুদের ব্যবহারও করা যেতে পারে। কলেরা থেকে বাঁচতে হলুদ ঔষধিগুণ খুবই কার্যকরী। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, হলুদে থাকে অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল গুণ। আর এই গুণ মানুষের শরীরে থাকা কলেরার ব্যক্টিরিয়াকে নষ্ট করতে সাহায্য করে।

৪. কলেরা রোগ উপশমে লস্যির ব্যবহারঃ

এবার আমরা জানব কলেরা রোগ উপশমে ঘরোয়া উয়াপচার হিসেবে কী করে লস্যির ব্যবহার করা হয়।

উপকরণঃ

  • হাফ কাপ দই
  • ছোট চামচের হাফ চামচ জিরা
  • ছোট চামচের হাফ চামচ নুন (ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে চিনির ব্যবহার করবেন না)

ব্যবহারঃ

  • প্রথমেই একটি মিক্সিতে দই, জিরা আর নুন ঢেলে নিন।
  • এবার ভালো করে মিক্সিতে ঘুরিয়ে লস্যি বানিয়ে নিন।
  • দিনে তিনবার আপনি এটি খেতে পারবেন।

কেন লাভজনক?

কলেরার উপশমে লস্যির ব্যবহার লাভজনক। কারণ লস্যির মূল উপাদানই হল দই। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী জানা যায় যে, দইতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল গুণ থাকে। আর সেই গুণ কলেরার বিনাশ ঘটাতে যথেষ্ট সক্ষম।

৫. কলেরা রোগ উপশমে লবঙ্গর ব্যবহারঃ

এবার আমরা জানব কলেরা সারাতে লবঙ্গ কীভাবে কাজে লাগে।

উপকরণঃ

  • লবঙ্গ ৬-৭টি
  • এক গ্লাস জল

ব্যবহারঃ

  • প্রথমেই জলের মধ্যে লবঙ্গ দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন।
  • এবার ফোটানো এই জল ঠাণ্ডা করে তা দিনে দু’বার করে পান করুন।

কেন লাভজনক?

কলেরা রোগ সারানোর ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপাচার হিসেবে বহুদিন ধরেই লবঙ্গর ব্যবহার করা হয়ে আসছে। এবং এই রোগ উপশমের ক্ষেত্রে তার ফলাফলও যথেষ্ট কার্যকরী। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, লবঙ্গয় অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল গুণ পাওয়া যায়। আর সেই কারণে তা কলেরার ব্যাক্টিরিয়াকে রুখতে সাহায্য করে।

৬. কলেরা রোগ উপশমে মেথি বীজের ব্যবহারঃ

এবার চলুন জেনে নিই কলেরা রোগের উপশমে ঘরোয়া উপাচার হিসেবে মেথি বীজ কতটা উপকারী।

উপকরণঃ

  • এক চামচ মেথি বীজ
  • ছোট চামচের এক চামচ জিরা (শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া)
  • এক কাপ দই

আপনি কতটা খাবেন সেই অনুযায়ী আপনাকে এই জিনিসগুলির পরিমাণ বেছে নিতে হবে।

ব্যবহারঃ

  • একটি বাটিতে মেথি ও জিরা মিশিয়ে নিন।
  • এবার তার মধ্যে ২ চামচ দই ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি দিনে তিনবার খাওয়া যেতে পারে।

কেন লাভজনক? 

কলেরা রোগ উপশমে মেথি বীজের উপকারিতাও অনেক বেশি। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী এই রোগ সারাতে মেথির বীজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও অপর একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, মেথির বীজে অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল গুণ থাকার কারণে কলেরা উপশমে এটি অত্যন্ত লাভজনক ভূমিকা পালন করে।

৭. কলেরা রোগ উপশমে পুদিনার ব্যবহারঃ

এবার দেখে নিই, কলেরা রোগ উপশমে পুদিনার ব্যবহার কীভাবে করা হয়ে থাকে।

উপকরণঃ

  • ১৫-২০টি তাজা ও সবুজ পুদিনা পাতা
  •  এক গ্লাস জল

ব্যবহারঃ

  • প্রথমেই পুদিনার পাতাগুলি এক জায়গায় নিয়ে নিন।
  • এবার পাতাগুলি ভালো করে বেটে কিংবা পিষে এর রস বের করে নিন।
  • এবার জলের মধ্যে মিশিয়ে এই রস দিনে তিনবার করে খান।

কেন লাভজনক?

কলেরা সারাতে পুদিনার উপকারিতাও যথেষ্ট। পুদিনা পাতায় বেশ কিছু ধরনের ব্যাক্টিরিয়া ধ্বংস করার গুণাগুণ থাকে। কলেরার ব্যাক্টিরিয়া নষ্ট করার জন্যও পুদিনা পাতা তাই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৮. কলেরা রোগ উপশমে পেঁয়াজের ব্যবহারঃ

এবার আমরা জানব কলেরা উপশমে পেঁয়াজের ব্যবহার কতটা লাভজনক।

উপকরণঃ

  • একটি বড় পেঁয়াজ
  • এক চুটকি/চিমটি হিং
  • ৭-৮ দানা লবঙ্গ

ব্যবহারঃ

  • মিহি করে পেঁয়াজ কেটে নিন।
  • এবার সেই কাটা পেঁয়াজের মধ্যে মিশিয়ে নিন হিং এবং লবঙ্গ।
  • এবার এই মিশ্রণটি ভালো করে পিষে নিয়ে তার রস বের করে নিন।
  • এবার দিনে দু’বার করে এটি খান।

কেন লাভজনক?

কলেরা রোগ উপশমে পেঁয়াজের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, কলেরা সারাতে পেঁয়াজের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অপর একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, কলেরার ব্যাক্টিরিয়াকে বিনাশ করার জন্য পেঁয়াজের ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল গুণাগুণ থাকে। তাই এটি ভি. কলেরি ব্যাক্টিরিয়াকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে।

কলেরা উপশমে বিভিন্ন ঘরোয়া উপাচারগুলি সম্পর্কে জানার পর এবার আসুন দেখে নিই এই রোগে আক্রান্ত হলে কী কী খাবার খাওয়া উচিত। অর্থাৎ এই রোগে আক্রান্ত থাকার সময় কোন ডায়েট মেনে চলা উচিত।

কলেরা রোগে আক্রান্ত থাকাকালীন ডায়েট বা খাবার তালিকাঃ

কলেরা রোগে আক্রান্ত হলে খাওয়া-দাওয়ার দিকে ভালোভাবে নজর দেওয়া উচিত যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তাহলে চলুন দেখে নিই এই রোগের সময় কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত।

  • কলেরা রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। তাই শরীরে যাতে জলের খামতি না হয়, সেই জন্য বেশী পরিমাণে জল খাওয়া উচিত।
  • কলেরায় আক্রান্ত হলে প্রতিদিন খাবার সময় নিয়ম করে লেবু, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, আচার এবং পুদিনা পাতা খাওয়া উচিত।
  • এই সময় নরম বা সেদ্ধ ভাত খাওয়াও ভালো।
  • সকাল এবং বিকেলের নাস্তায় তাজা ফল এবং দুধ খাওয়াও এই সময় স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপকারী।
  • তাজা ফলের রসও সকালের খাবার খাওয়ার সময় খাওয়া যেতে পারে।

এই প্রতিবেদনের মধ্যে দিয়ে আপনি এতক্ষণে জেনে গিয়েছেন যে, কলেরা রোগের কারণ, লক্ষণ, এই রোগ ছড়ানোর সময়কাল, রোগ উপশমের জন্য ঘরোয়া উপাচার এবং এই রোগে আক্রান্ত হলে কী কী খাবার খাওয়া উচিত সেই সম্পর্কে। এর ফলে আপনার নিজের কিংবা আপনার কোনও পরিচিত বা আত্মীয় কলেরায় আক্রান্ত হলে তার জন্য এইগুলি খুবই উপকারী হবে। যদি কলেরা সংক্রান্ত অন্য কোনও পরামর্শ বা প্রশ্ন আপনার কাছে থাকে, তাহলে আমাদের এই প্রতিবেদনের নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে তা লিখে জানান। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ নিয়ে তা আমরা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য কিছু প্রশ্নঃ

কলেরা কি এখনও হয়?

শিল্পন্নোত দেশগুলিতে আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা ও ভালো জলের সরবরাহের জন্য কার্যত এই কলেরা রোগ একেবারে মুছে গিয়েছে বললেই চলে। কিন্তু আফ্রিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং হাইতির মতো জায়গাগুলিতে মানুষ এখনও কলেরায় আক্রান্ত হয়।

কলেরার জীবাণু মূলত কোথায় পাওয়া যায়?

কলেরার জীবাণু মূলত অপরিষ্কার জল কিংবা আঢাকা খাবারেই পাওয়া যায়। কলেরায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির মল কিংবা বমিতে বসা কোনও মাছ যদি উড়ে এসে খাবার বা জলে বসে তাহলে সেই খাবারেই মূলত কলেরার জীবাণু বাসা বাঁধে।

কলেরায় কীভাবে মানুষ মারা যায়?

ভিব্রিয়ো কলেরি নামক ব্যাক্টিরিয়াটি একটি এককোষী আণুবীক্ষণিক জীবাণু, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটায়।

জল ফোটালে কি তা থেকে কলেরার জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়?

জল ফুটিয়ে খেলে জল থেকে শুধু ভি. কলেরি জীবাণুই নয়, বরং সব ধরণের জীবাণুই নষ্ট হয়ে যায়।

অ্যালকোহলের জন্য কি কলেরা মরে যায়?

হ্যাঁ, অ্যালকোহলের কারণে কলেরার জীবাণু মরে যায়।

7 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch