চন্দনকাঠের উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | Sandalwood Benefits and Side Effects in Bengali

by

ভারতীয়দের কাছে চন্দন একটি অত্যন্ত পবিত্র উপাদান। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন মানুষের কপালে চন্দনের ফোঁটা লাগাতে। পাশাপাশি এর অপরিসীম গুণের জন্য অনেকেই এটিকে নিজেদের রূপচর্চার কাজেও ব্যবহার করে থাকেন। তবে অনেকেই আছেন যাঁরা জানেন না ত্বকে ব্যবহার করা ছাড়াও চন্দনের আরও অনেক গুণ রয়েছে। তাই স্টাইলক্রেজের এই প্রতিবেদনে আজ আমরা স্বাস্থ্যের জন্য চন্দন কেন উপকারী সেই বিষয়ে আলোচনা করব। পাশাপাশি চন্দন ব্যবহার করলে কী কী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে সেই বিষয়েও আপনাদের জানাব। তাই চন্দনের উপকারিতা এবং এই সম্বন্ধীয় সমস্ত তথ্য জানতে পড়তে থাকুন আমাদের এই প্রতিবেদনটি।

চন্দন কী?

আর পাঁচটা গাছের মতোই চন্দনের গাছও হয়। এই গাছকেও অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। চন্দনের বৈজ্ঞানিক নাম সন্তলম অ্যালবাম (Santalum album)। এটি মাঝারি মাপের একটি গাছ যা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পাওয়া যায়।(1) এই গাছের কাঠ দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি, সাজসজ্জার নানা ধরনের জিনিস, যাগযজ্ঞ করার কাজে এবং ধূপকাঠি বানানোর পাশাপাশি আরও নানা কাজেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি সুগন্ধি এবং অ্যারোমাথেরাপির কাজেও এই চন্দন তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

এবার চলুন জেনে নিই চন্দনের প্রকারভেদ সম্পর্কে।

চন্দনের প্রকারভেদঃ

চন্দনের কয়েকটি প্রকার নিয়ে আমরা নীচে আলোচনা করলাম।

  • ভারতীয় চন্দনঃ এই চন্দন গাছ সাধারণত ১৩-২০ ফিট উচ্চতা অবধি বাড়তে পারে। এর বেশ কিছু ঔষধি গুণও রয়েছে। এই চন্দন থেকে তৈরি হওয়া এসেন্সিয়াল অয়েল বেশ দামে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই চন্দন এবং এই গাছ মোটামোটি ১০০ বছর অবধি বাঁচতে পারে। তবে বর্তমানে এই গাছ সংরক্ষণের আওতায় রয়েছে।
  • লাল চন্দনঃ এই লাল চন্দন রক্ত চন্দন নামেও পরিচিত। দক্ষিণ ভারতের পূর্বঘাট পর্বতে এই গাছ পাওয়া যায়। এই গাছ তার কাঠের জন্যই মূলত ভীষণভাবে জনপ্রিয়, আরেকটি কারণ হল এর লাল রঙ। তবে এই গাছের কাঠ দেখতে সুন্দর হলেও এর গন্ধ একেবারে নেই বললেই চলে। এই গাছ মাপে অপেক্ষাকৃত ছোট এবং বড়জোর ২০-২৫ ফিট পর্যন্ত বাড়তে পাড়ে। এই লাল চন্দনে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাগুণ থাকে।
  • শ্বেত চন্দনঃ এটি একটি চিরহরিৎ গাছ এবং যা ঔষধি গুণেও ভরপুর। সাধারণত শ্বেত চন্দন এবং হলুদ চন্দন একই গাছ থেকে পাওয়া যায়। শ্বেত চন্দন থেকেই নানা রকমের সুগন্ধি, এসেনশিয়াল অয়েল, সাবান এবং প্রসাধনী দ্রব্য বানানো হয়ে থাকে।
  • মলয়গিরি চন্দনঃ এটিও একটি চিরহরিৎ গাছ, যা মোটামোটি ২০-৩০ ফিট উঁচু হয়ে থাকে। মহীশূর, কুর্গ, হায়দ্রাবাদ, নীলগিরি এবং দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতে এই গাছ পাওয়া যায়। সাধারণত চন্দন বেশ কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। তারমধ্যে মলয়গিরি চন্দন বা শ্রীখণ্ডকেই সবচেয়ে মিষ্টি এবং আসল বলে মনে করা হয়ে থাকে। খাট, কোনও আসবাবের পায়া বা সুন্দ্র বাক্স বানানোর কাজে এই গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়।

এবার চলুন জেনে নিই চন্দন কাঠের ঔষধি গুণ সম্পর্কে।

চন্দন কাঠের ঔষধি গুণঃ

চন্দনকে ঔষধি গুণের খনি বলে মনে করা হয়। এতে অ্যান্টিপায়রেটিক (জ্বর কমানোর গুণ), অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যাস্কেবেটিক (antiscabetic) এবং মূত্রবর্ধক (diuretic) গুণ পাওয়া যায়। চন্দন কাঠ ব্রঙ্কাইটিস, সিস্টিসিস (মূত্রাশয় ফুলে যাওয়ার সমস্যা), ডিসুরিয়া ( প্রস্রাবের সময় জ্বালা করার সমস্যা) এবং মূত্র পথের রোগের (urinary tract diseases) ক্ষেত্রেও সমাধানে কাজে আসে।((2) আবার লাল বা রক্ত চন্দনেও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টঅক্সিডেন্ট এবং ব্যথা কমানোর গুণ পাওয়া যায়।

এই প্রবন্ধে চন্দনের আরও গুণাগুণ সম্পর্কে নীচে জানতে পারবেন।

এবার আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নিই চন্দনের উপকারিতা ও গুণাগুণগুলি সম্পর্কে।

চন্দনের উপকারিতা ও গুণাগুণঃ

এবার আমরা আলোচনা করব আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য চন্দন কী কী ভাবে উপকারী। জেনে নিন কীভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য আপনি চন্দন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পাঠকদের মনে রাখতে হবে নীচে আলোচ্য রোগগুলির চিকিৎসার ওষুধ কিন্তু এই চন্দন নয়। বলা ভালো চন্দন আমাদের কিছু শারীরিক সমস্যা থেকে বাঁচতে এবং তাদের লক্ষ্ণ দূর করতে কিছুটা সাহায্য করে থাকে। আর যদি রোগ গুরুতর হয়, তাহলে কিন্তু অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপকারিতা ১ঃ অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ-

আমরা শুরুতেই জানিয়েছি যে চন্দন বেশ কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। তার মধ্যে রক্ত চন্দনে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ। এনসিবিআই (National Center for Biotechnology Information) -তে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এই বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। ওই গবেষণা অনুযায়ী, শ্বেত চন্দনে থাকা ফ্লেবোনাইডস এবং পলিফেনোলিক যৌগ চন্দনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য দায়ী। এছাড়াও আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে, ফোলা বা মাথা ব্যথার মতো সমসস্যার সমাধানের জন্য চন্দনের প্রলেপ লাগানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।(3) তাই সামান্য ফোলার মতো কোনও সমস্যা সমাধানের জন্য চন্দনের ব্যবহার লাভজনক।

উপকারিতা ২ঃ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ-

ফ্রি- রেডিকেলসের কারণে আমাদের স্বাস্থ্যে বিভিন্ন প্রভাব পড়ে। সেই কারণে আমাদের শরীরে হার্টের রোগ, ক্যান্সার এবং বিভিন্ন ধরনের গুরুতর রোগ দেখা দেয়। সেই জায়গায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের কোষকে মুক্ত কণা বা ফ্রি র‍্যাডিকেল থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে এবং জারণ থেকে হওয়া সমস্যা থেকে সমাধান দিতে এবং তা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে থাকে।(4) এবার আসি চন্দনের প্রসঙ্গে। একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, চন্দনে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, চন্দনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ডিপিপিএইচ র‍্যাডিকেলের (DPPH radical) ক্ষেত্রে কার্যকরী। এর পাশাপাশি ফ্রেপ এসে (FRAP assay – ferric reducing ability of plasma- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরখ করার পরীক্ষা)-তেও চন্দনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ থাকার কথা প্রমাণিত হয়েছে।

উপকারিতা ৩ঃ ক্যান্সার-

ক্যান্সার যে একটি গুরুতর রোগ, সেই বিষয়ে কারোরই কোনও দ্বিমত নেই। তবে এই রোগের হাত থেকে বাঁচতে চন্দন বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। এনসিবিআই-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, চন্দনের তেলে অ্যান্টিক্যান্সার গুণ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি চন্দন গাছ থেকে পাওয়া আলফা স্যান্টালোল (α-santalol)-এও অ্যান্টিক্যান্সার এবং কেমোপ্রিভেন্টিভ গুণ থাকার কথা প্রকাশিত হয়েছে।(5)

উপকারিতা ৪ঃ অ্যান্টিসেপ্টিক-

ছোটখাটো কোনও আঘাত বা ঘা’য়ের ক্ষেত্রে চন্দনের ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু চন্দনে অ্যান্টিসেপ্টিক গুণ থাকে তাই তা চোট উপশমের ক্ষেত্রে লাভজনক হয়ে থাকে। যদিও এই বিষয়ে তেমন কোনও উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোট কিংবা ঘায়ের পরিস্থিতির ওপরই এর প্রভাব নির্ভর করে। চোট গভীর হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপকারিতা ৫ঃ বমির সমস্যায়-

অতিরিক্ত চিন্তা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বমির সমস্যা দূর করতেও চন্দন কাঠ উপকার করে। এক চামচ চন্দনের গুঁড়ো এবং এম্বালিসা অফিসিনালিস (embalica officinalis) এক কাপ উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে খেলে বমি-বমি ভাবের সমস্যা থেকে রেহাই পায়া যেতে পারে।

উপকারিতা ৬ঃ ত্বকের অ্যালার্জি দূর করতে চন্দনের ভূমিকা

কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, ত্বকের অ্যালার্জি দূর করতে চন্দনের ভূমিকা রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এটি সোরিয়াসিস (psoriasis- ত্বক সম্বন্ধীয় এক ধরনের রোগ) এবং অ্যাটোপিক ডার্মাটিটিস (atopic dermatitis- ত্বকে লাল র‍্যাশ বেরোয় যার ফলে চুলকুনিও দেখা দেয়) -এর উপশমেও লাভদায়ক। এর আলফা স্যান্টালোল যৌগে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণই এর জন্য দায়ী।(6) তবে এই নিয়ে আরও অনেক গবেষণা দরকার।

উপকারিতা ৭ঃ পেটের সমস্যার সুরাহায় চন্দন-

পেটের সমস্যার সমাধানেও চন্দনের ব্যবহার লাভজনক হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এই বিষয়টি সামনে এসেছে। চন্দন গাছে থাকে অ্যান্টি-আলসার গুণ। এর মধ্যে থাকে হাইড্রোঅ্যালকোহলিক নির্যাসের (Hydroalcoholic Extract) কারণেই এই গুণ থাকে বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি ইউনানি চিকিৎসায় গ্যাস্ট্রিক আলসারের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। (7)

উপকারিতা ৮ঃ জ্বরের উপশমে-

কারোর যদি হালকা জ্বর হয়ে থাকে, তাহলে তা উপশমেও চন্দনের ফায়দা দেখা যায়। আসলে চন্দনে মজুত থাকে অ্যান্টি-পায়রেটিক (antipyretic) গুণ। অ্যান্টি-পায়রেটিক গুণ জ্বর কমানোর কাজে উপযোগী। তাই চন্দনের এই গুণের কারণে জ্বরে উপশম হয়ে থাকে।

উপকারিতা ৯ঃ হেঁচকি বন্ধ করতে-

বারবার হেঁচকি ওঠার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গরুর দুধের সঙ্গে চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এবার এই মিশ্রণটি নাকের মধ্যে ফোঁটা ফোঁটা করে নিতে হবে। তবে এর কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। অনেকে এটিকে কেবল একটি ঘরোয়া টোটকা হিসেবেই ব্যবহার করে থাকেন।

উপকারিতা ১০ঃ ব্রণ’র উপশমে চন্দন-

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য তৈরি হওয়া বেশ কিছু প্রসাধন সামগ্রীতে চন্দন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ব্রণর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তা হওয়ার পর আবার ফুলতে শুরু করে। তাই এই সময় অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ যুক্ত চন্দন ব্যবহার করলে তা যে শুধু ত্বককে ঠাণ্ডা করে তাই নয়, বরঙ তা ব্রণর ফুলে যাওয়া কয়ামতেও সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ, যা এই ব্রণ বকমাতেও লাভদায়ক। তবে এই নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এবার চলুন দেখে নিই চন্দনের ব্যবহার।

চন্দনের ব্যবহারঃ

নীচে চলুন দেখে নিই কীভাবে চন্দনের ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • উজ্জ্বল ত্বক পেতে চন্দনের ফেস্প্যাক বানিয়ে তা লাগানো যেতে পারে।
  • ঘা কিংবা চোট পেলে সেখানে চন্দনের প্রলেপ লাগানো যেতে পারে।
  • চন্দনের তেল দিয়ে অ্যারোমাথেরাপি নেওয়া যেতে পারে।
  • গায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে চন্দনের পেস্ট বা চন্দনের তেল স্নানের জলে মিশিয়ে তা দিয়ে স্নান করা যেতে পারে।
  • বাজারে বেশ কিছু স্যান্ডালউড সাবানও পাওয়া যায়, সেই সাবানও ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • দুধের সঙ্গে চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে তা খাওয়া যেতে পারে। তবে তা খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে একবার পরামর্শ করে নেবেন।

এবার চলুন জেনে নিই বাড়িতে কীভাবে আপনি চন্দনের তেল বানাতে পারবেন।

চন্দন তেল বানানোর পদ্ধতিঃ

চলুন দেখে নিই কীভাবে বাড়িতে বসেই চন্দনের তেল বানানো যেতে পারে।

  • উপকরণঃ
  • অবশ্যই লাগবে চন্দনের গুঁড়ো বা পাউডার (বাজার কিংবা অনলাইনেই তা পাওয়া যায়)
  • আধ থেকে এক কাপ বা প্র্যোজন অনুযায়ী ভার্জিন অলিভ অয়েল বা সাধারণ অলিভ অয়েল
  • ছোট কাঁচের জার বা বোতল
  • পদ্ধতিঃ
  • এক কাপ অলিভ অয়েল নিয়ে তাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চন্দন গুঁড়ো বা পাউডার মেশাতে হবে।
  • এবার সেই কাঁচের জারে ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে যাতে তেলের মধ্যে পাউডার ভালো করে গুলে যায়।
  • এরপর এক সপ্তাহ পর্যন্ত এই কাঁচের জারটি একটি পরিষ্কার এবং শুকনো জায়গায় রেখে দিতে হবে।
  • মাঝে মাঝে বোতলটি ভালো করে ঝাঁকিয়ে নেবেন।
  • এক সপ্তাহ পর তেলের এই মিশ্রণটি ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে।
  • এবার সেটি অন্য একটি কাঁচের জারে রেখে ঠাণ্ডা কোনও জায়গায় রেখে দিন।
  • এবার নিজের সময় সুবিধে মতো এটি ব্যবহার করুন।

এবার চলুন জেনে নিই কীভাবে অনেক দিন পর্যন্ত চন্দন সংরক্ষিত করা যায়।

কীভাবে চন্দন অনেকদিন পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখবেন?

নীচে চলুন দেখে নিই কীভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত চন্দন সুরক্ষিত রাখা যায়।

  • চন্দনের পেস্টকে কোনও এয়ার-টাইট কন্টেইনারে রেখে তা কোনও ঠাণ্ডা জায়গায় এক থেকে দু’দিন অবধি রেখে দিতে পারেন।
  • চন্দনের পাউডারও কোনও পরিষ্কার এবং শুকনো জায়গায় রাখতে পারেন।
  • চন্দনের তেলও এয়ার-টাইট কোনও পাত্রে ভরে রাখলে তা অনেকদিন পর্যন্ত থেকে যায়।

বি.দ্রঃ আজকাল বাজারে চন্দনের পাউডার বা তেলের কৌটোয় এক্সপায়ারি ডেট লেখাই থাকে। তাই সেই তারিখ দেখেই এই জিনিস কিনুন।

তবে এত কিছুর পাশাপাশি জানিয়ে রাখি চন্দনেরও কিন্তু কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এবার চলুন দেখে নিই সেই ক্ষতিকারক দিকগুলি।

চন্দনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ

চন্দনের ক্ষতিকর দিকগুলি নিয়ে আমরা এখন আলোচনা করব ঠিকই, কিন্তু তার সবগুলির বিরুদ্ধে তেমন কোনও উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু আপনাদের সাবধান করে দেওয়ার জন্য আমরা নীচে হাতে গোনা কয়েকটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপনাদের জানাচ্ছি।

  • কারোর যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তাহলে হতে পারে যে চন্দন থেকে তার শরীরে চুলকুনি, জ্বালা করা কিংবা র‍্যাশ বেরোনোর সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
  • আবার চন্দন খেলে অনেকের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এই বিষয়ে তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
  • গর্ভবতী বা যাঁরা এখনও শিশুদের বুকের দুধ পান করান, তাঁদের চন্দন খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।

উপসংহারঃ

এতক্ষণ ধরে আমরা আলোচনা করলাম স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য চন্দন ব্যবহারের উপকারিতা। আশা করি, এই প্রতিবেদন পড়ে অনেকেই চন্দন ব্যবহারে এবার আগ্রহী হবেন। তবে মনে রাখবেন প্রয়োজনের তুলনায় বেশী ব্যবহার করলে আবার তা ক্ষতিকারক প্রমাণ হতে পারে। তাই উপকার পেতে পরিমিত মাত্রাতেই চন্দন ব্যবহার করুন। আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, চন্দন কিন্তু কখনওই কোনও রোগের চিকিৎসা নয়। আমরা বারবার বলব, যদি কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যায় আপনি ভোগেন, তাহলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এমন আরও অনেক তথ্য পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

7 Sources

Was this article helpful?

LATEST ARTICLES

scorecardresearch