চবনপ্রাশ এর উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – Chyawanprash Benefits in Bengali

by

জড়ি-বুটি সমৃদ্ধ চবনপ্রাশ অন্যতম জনপ্রিয় একটি আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ। সুস্বাস্থ্য গড়ে তুলতে যুগ যুগ ধরে এর ব্যবহার চলে আসছে। সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সমস্যা থেকে বাঁচতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চবনপ্রাশ খাওয়ার কথা আজও বলেন দাদু-ঠাকুমারা। বাচ্চা থেকে বয়স্ক যে কোনও বয়সের মানুষের জন্য আয়ুর্বেদজাত একটি মিশ্রণ ভীষণ উপকারী। এর মধ্যে উপস্থিত ভেষজ উপাদানগুলি সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। সাধারণত চবনপ্রাশের ব্যবহার শীতকালে বেশি হয়, যেহেতু এইসময় সর্দি-কাশির সমস্যা অনেক বেশি ভোগায়। তবে এমনটা নয়, যে বছরের অন্যান্য সময় এটি ব্যবহৃত হয় না বা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায় না। চবনপ্রাশ আয়ুর্বেদিক ওষুধের মতো কাজ করে, যা এই অতিমারির সময় আপনার শরীর সুস্থ এবং ফিট রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাহলে আসুন জেনে নিন চবনপ্রাশের স্বাস্থ্য উপকারিতা, চবনপ্রাশ তৈরির বিধি সম্পর্কে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলির উপর ভিত্তি করে দেওয়া হল। 

চবনপ্রাশে উপস্থিত উপকরণ

চবনপ্রাশ তৈরি করতে প্রায় ৫০ টিরও বেশি উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাজারের প্যাকেটজাত চবনপ্রাশ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন ধরনের জিনিস ব্যবহার করে। কম্পানিগুলি তাদের ইচ্ছেমতো সামগ্রী ব্যবহার করে, যার মধ্যে কয়েকটি জিনিস রয়েছে যেগুলি সাধারণ সব জায়গাতেই ব্যবহার করা হয়। এখনও অনেক ঠাকুমা-দিদিমারা রয়েছেন, যাঁরা বাড়িতে চবনপ্রাশ তৈরি করে থাকেন। নিচে চবনপ্রাশ তৈরিতে ব্যবহৃত সাধারণ সামগ্রীগুলো উল্লেখ করা হল (1)

১. আমলা

২. ভাসাকা

৩. অশ্বগন্ধা

৪. তুলসী

৫. নিম

৬. কেশর

৭. লম্বা মরিচ

৮. ব্রাহ্মী

৯. ঘি

১০. মধু

১১. লবঙ্গ

১২. এলাচ

১৩. দারুচিনি

১৪. বেল

১৫. তেজপাতা

১৬. পুনর্নভা

১৭. হলুদ

১৮. নাগ কেশর

১৯. শতাভরী

২০. তিলের তেল

চবনপ্রাশের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি

চবনপ্রাশ অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি হিসেবে কাজ করে। ফোলাভাব এবং জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে পারে। আসলে এতে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে কাজ করতে পারে। এনসিবিআইয়ের (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গবেষণায় এর উল্লেখ রয়েছে। গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে চবনপ্রাশ তৈরিতে ব্যবহৃত তিলের তেল, লবঙ্গ এবং আগুরুর মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে (1)

২. হার্টের সুস্বাস্থ্য

চবনপ্রাশ হার্টের জন্যও সুস্বাস্থ্যকর। এটিকে কার্ডিও টনিক হিসেবে মনে করা হয়। এনসিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এর উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে যে চবনপ্রাশ হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে মাংসপেশীগুলিতে রক্তসঞ্চালন সুনিশ্চিত করে এবং হৃদস্পন্দনও যথাযথ রাখতে পারে। চবনপ্রাশ তৈরির জন্য ব্যবহৃত আমলা, বেলের মতো উপাদান হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এবং এর কার্যকারিতাকে আরও উন্নত করতে সহায়ক (1)। সেই কারণে হৃদরোগ প্রতিরোধে চবনপ্রাশ উপকারী বলে মনে করা হয়।

৩. হজমশক্তি বাড়ায়

নিয়মিত চবনপ্রাশ খেলে হজমশক্তি উন্নত হবে। এটি খাওয়ার ফলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় এবং অন্ত্রের গতিবিধি আরও ভালোভাবে ঘটে (2)। নাগ কেশর, তেজপাতা, দারুচিনি জাতীয় ভেষজ উপাদানসমৃদ্ধ চবনপ্রাশ হজম এবং পরিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। পাচনতন্ত্রের পাশাপাশি চবনপ্রাশ গ্যাস্ট্রাইটিস (পেটের আস্তরণে ফোলাভাব এবং জ্বালা), পাকস্থলীর ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ফাংশনের জন্য উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে (1)

৪. সর্দি ও কাশি

পরিবর্তিত আবহাওয়া এবং অন্যান্য নানা কারণে প্রায়শই সর্দি কাশির সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা এড়াতে চবনপ্রাশকে বেশ উপকারী বলে মনে করা হয়। আসলে এতে রয়েছে মধু, যা সর্দি-কাশির সমস্যা নিরাময়ে বেশ উপকারী। এছাড়াও এটি ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে শরীর সর্দি-কাশির মতো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে পারে। এছাড়াও চবনপ্রাশে উপস্থিত আমলা এবং অন্যান্য ভেষজ উপাদান ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা কোনও প্রকার সংক্রমণ এবং ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে (1) (3)। সেই কারণে সর্দি, কাশি দূরে রাখতে চবনপ্রাশ ব্যবহার করতে বলা হয়।

৫. রক্ত পরিষ্কার করে

নিয়মিত চবনপ্রাশ খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকবে। চবনপ্রাশের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা এই কাজটি করে থাকে। রক্তে উপস্থিত টক্সিনগুলি বের করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখে (1)। এছাড়াও চবনপ্রাশে রয়েছে তুলসী, হলুদের মতো উপাদান যা রক্ত পরিশোধক হিসেবে কাজ করে (4)। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ রক্ত পরিষ্কার রাখতে চবনপ্রাশ খান, তাহলে অবশ্যই দেখে নিন যে তাতে তুলসী, হলুদ রয়েছে কিনা।

৬. স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি সবসময় প্রয়োজন। সে বাড়ির কাজকর্ম হোক বা অফিসের কাজের জন্য। বয়সজনিত কারণে বা অকালেই যদি স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে নিয়মিত চবনপ্রাশ খাওয়া শুরু করুন। বলা হয় চবনপ্রাশ মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। এই প্রসঙ্গে ইঁদুরের উপর করা একটি গবেষণা এনসিবিআইয়ের ওয়েবনসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, চবনপ্রাশের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব রয়েছে, যা হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা বাড়াতেও চবনপ্রাশ উপকারী (5)। বলা হয় যে চবনপ্রাশ মস্তিষ্কের কোষগুলিকেও পুষ্টি জোগায় (1)

৭. ইমিউনিটি বাড়ায়

শরীর শক্তিশালী হওয়ার জন্য ইমিউনিটি অর্থাৎ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা জরুরি। প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, যা শরীরকে দ্রুত অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং সংক্রমণ ও ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। যুগ যুগ ধরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে চবনপ্রাশের ব্যবহার চলে আসছে। এর উল্লেখ বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও পাওয়া যায় (1)

আসলে, চবনপ্রাসের মধ্যে রয়েছে আমলা যা শরীরে ইমিউনো মোডুলেটরি প্রভাব প্রদর্শন করতে পারে। এই প্রভাব শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করতে পারে। এছাড়াও চবনপ্রাশ তৈরিতে ব্যবহৃত গরুর ঘি এবং মধু প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে এটি বিশ্বাস করা হয় যে, চবনপ্রাশ খাওয়ার অন্যতম সুবিধা এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় (1)

৮. শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা

শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যাগুলি মোকাবিলা করার জন্য বয়স্ক এবং প্রবীণরা প্রায়শই চবনপ্রাশ খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিজ্ঞানীরা যখন এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন, তখন দেখা যায় যে এতে উপস্থিত পিপ্পলি শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য কার্যকরী। যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে তাদের হালকা গরম জলের সঙ্গে চবনপ্রাশ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও দুই এবং দই এড়িয়ে চলতে বলা হয়। তবেই চবনপ্রাশ খেলে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আরাম পেতে পারে (1)

৯. হাড় শক্ত করে

চবনপ্রাশ হাড় মজবুত করে। এর ব্যবহার ক্যালসিয়ামের শোষণে এবং প্রোটিনের সংশ্লেষণে আরও ভালোভাবে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। যা হাড় এবং হাঁতকে শক্তিশালী করে তোলে (1)। সেই কারণে বলা হয়, চবনপ্রাশ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্য কোনও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার না খেতে, তাতে হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে। হাড়কে শক্তিশালী করতে দুধের সঙ্গে চবনপ্রাশ খেতে পারেন।

১০. মেটাবলিজম

পরিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি চবনপ্রাশ মেটাবলিজম বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। মেটাবলিজম জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার একটি সংমিশ্রণ যা আপনার শরীর খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহার করে।

১১. ওজন কমায়

অনেক স্থূলকায় চেহারার মানুষ আছেন যারা শত চেষ্টা করেও শরীরের বাড়তি মেদ ঝড়াতে পারেন না। এর পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে যে তাদের শরীরে হয়ত যথেষ্ট মেটাবলিজম নেই। নিয়মিত চবনপ্রাশ খেলে মেটাবলিজম বাড়ে যা ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে (6)

১২. কোলেস্টেরল

নিয়মিত চবনপ্রাশ খাওয়ার মাধ্যমে কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আসলে এটি শরীরে হাইপোলিপিডেমিকের মতো কাজ করতে পারে, যা কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড (রক্তে উপস্থিত এক ধরণের ফ্যাট) এর মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে। এনসিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চবনপ্রাশ সেবনকারীদের মধ্যে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডস, এলডিএল (কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন) হ্রাস এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চবনপ্রাশ উপকারী বলে মনে করা হয় (1)

১৩. ত্বকের সুস্বাস্থ্য

চবনপ্রাশ খাওয়া ত্বকের জন্যেও সুস্বাস্থ্যকর। পরিবর্তিত আবহাওয়া, দূষণ, ধুলো-মাটি এবং অন্যান্য নানা কারণে ত্বক শুষ্ক এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ত্বক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে চবনপ্রাশ খাওয়া যেতে পারে। গবেষণাতেও এর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, চনবপ্রাশ খাওয়ার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। এছাড়াও এটি অকালে ত্বকের উপর বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। ত্বকের যৌবন ধরে রাখার পাশাপাশি এটি সংক্রমণ থেকেও ত্বককে রক্ষা করতে পারে (1) 

চবনপ্রাশ কীভাবে খাবেন

চবনপ্রাশ খেলে কী কী উপকার পাবেন সেটা তো জেনেই গেলেন। এবার জেনে নিন কীভাবে চবনপ্রাশ খাবেন অর্থাৎ এর ব্যবহার বিধি কী কী –

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একচামচ চবনপ্রাশ খেতে পারেন।
  • চবনপ্রাশ দুধের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এটি খাওয়ার পর পরই কোনও মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না।
  • হালকা গরম জলে মিশিয়েও চবনপ্রাশ খেতে পারেন।
  • চবনপ্রাশ রুটির উপর লাগিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

চবনপ্রাশের মাত্রা (কতটা পরিমাণে খাবেন)

চবনপ্রাশ খাওয়ার উপকার তখনই উপভোগ করতে পারবেন যখন সঠিক মাত্রায় এর ব্যবহার করবেন। অতিরিক্ত চবনপ্রাশ খেলে উপকারের বদলে অপকারও হতে পারে। তাই সাবধান! চবনপ্রাশ খাওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখুন, এক থেকে দুই চামচ শরীরের জন্য যথেষ্ট। এনসিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ২৮ গ্রাম চবনপ্রাশ খাওয়া যেতে পারে (1) 

বাড়িতে চবনপ্রাশ তৈরির পদ্ধতি

বাড়িতে চবনপ্রাশ তৈরির পদ্ধতি হল –

সামগ্রী

  • দুই কিলো আমলা
  • ২৫-২৫ গ্রাম শতাভরী, গোখরু, বেল, নাগরমোথা, লবঙ্গ, পুনর্নভা, অশ্বগন্ধা, ব্রাহ্মী, তুলসী পাতা, মুলেঠি, ছোটো এলাচ, বসাকা, সাদা চন্দন, শতাভরী এবং হলুদের শিকড় (ফোটাতে হবে যে সামগ্রীগুলি)
  • ১৫০-১০০ গ্রাম ঘি এবং তিলের তেল
  • ২০ গ্রাম পিপ্পলি
  • ২৫ গ্রাম দারুচিনি
  • ১০ গ্রাম তেজ পাতা
  • ১০ গ্রাম নাগ কেশর
  • ১ গ্রাম কেশর
  • ১০ গ্রাম ছোটো এলাচ
  • ২৫০ গ্রাম মধু
  • চিনি স্বাদ অনুযায়ী

চবনপ্রাশ তৈরির পদ্ধতি :

  • সবার আগে আমলা ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • এর একটি বড় পাত্রে প্রায় ৫ লিটার জল গরম করে নিন।
  • তাতে গোখরু বাদে সব উপকরণগুলি একে একে ঢেলে দিন।
  • এরপর গোখরু একটি কাপড়ের মধ্যে জড়িয়ে ভালো করে বেঁধে জলে দিয়ে দিন।
  • মাঝারি আঁচে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে উপকরণগুলি জলের মধ্যে ফোটতে দিন।
  • ২ ঘণ্টা ফোটানোর পর আঁচ বন্ধ করে মিশ্রণটি ১২ ঘণ্টা ওভাবেই রেখে দিন।
  • এরপর অন্য একটি পাত্রে সমস্ত আমলা নিন এবং সেগুলির ভিতর থেকে বীজ বের করে নিন।
  • আমলা সেদ্ধ করার পর সহজেই বীজ করা করা যায়।
  • এখন আমলা পিষে পাল্পের মতো তৈরি করে নিন।
  • এরপর অন্য একটি পাত্রে তিলের তেল এবং ঘি মিশিয়ে গরম করে নিন।
  • তেল এবং ঘি একসঙ্গে গরম করার পর তাতে আমলার পেস্ট মেশান।
  • মনে রাখবেন, এক্ষেত্রে লোহার কড়াই ব্যবহার করবেন না।
  • প্রায় আধ ঘণ্টা মিশ্রণটি কড়াইতে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন।
  • আমলা ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে দেখবেন সেটা থেকে ঘি আলাদা হয়ে যাচ্ছে।
  • তারপর তাতে গুড় অথবা চিনি মেশান এবং ভালো করে নাড়াচাড়া করুন।
  • ঘন ঘন মিশ্রণটি খুন্তি দিয়ে নাড়তে থাকুন নয়তো কড়াইয়ের নিচে লেগে যেতে পারে।
  • মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • তার মধ্যে পিপ্পলি, দারুচিনি, তেজপাতা, নাগকেশর, জাফরান এবং ছোটো এলাচ পিষে মিহি গুঁড়ো তৈরি করে নিন।
  • আমলার পেস্ট ঠান্ডা হলে গেলে তার মধ্যে তৈরি করে রাখা পাউডার মিশিয়ে নিন।
  • সেইসঙ্গে তাতে ২৫০ গ্রাম মধু মেশান।
  • এরপর সব উপকরণগুলি আরেকবার ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • ব্যাস তাহলেই তৈরি আপনার চবনপ্রাশ।

চবনপ্রাশ খাওয়ার আগে সাবধানতা

চবনপ্রাশ খাওয়ার আগে যে যে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি সেগুলো দেখে নিন –

  • ছোটো বাচ্চা, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা চবনপ্রাশ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের মতামত নিন।
  • চবনপ্রাশের প্রকৃতি গরম। সেক্ষেত্রে মুখে ফোসকা বা ছাল উঠে গেলে চবনপ্রাশ সেবন করবেন না।
  • যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারা চবনপ্রাশ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • হাঁপানি বা অন্যান্য শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তির চবনপ্রাশ খাওয়া উচিত নয়।
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনই চবনপ্রাশ খাবেন না।

চবনপ্রাশের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

চবনপ্রাশের ক্ষতিকারক দিক বা বিষাক্ততার বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই। চবনপ্রাশের উপর এনসিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে উপস্থিত একটি গবেষণা অনুসারে, পরিমিত মাত্রা চবনপ্রাশ গ্রহণ শরীরের জন্য নিরাপদ। তবুও চবনপ্রাশের সম্ভাব্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল (1)

  • চবনপ্রাশের মধ্যে আমলা রয়েছে, যা রাতে খেলে দাঁতের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
  • বলা হয়, অতিরিক্ত চবনপ্রাশ খাওয়ার ফলে পেট খারাপ হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে সঠিক কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চবনপ্রাশ তৈরিতে চিনি ব্যবহার করা হয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি যুক্ত চবনপ্রাশের ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

কোন চবনপ্রাশ সবচেয়ে ভালো? –  সেরা চবনপ্রাশ ব্র্যান্ড

বাজারে বিভিন্ন ধরণের চবনপ্রাশ উপলব্ধ, যার মধ্যে কয়েকটি বেশ জনপ্রিয়। যদিও তারমধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো সেটি বিচার করা আমাদের পক্ষে মুশকিল। বাজারে যে চবনপ্রাশের ব্র্যান্ড বেশি জনপ্রিয় এবং যাদের বিক্রি বেশি সেগুলি নিচে উল্লেখ করা হল।

১. ডাবর চবনপ্রাশ

বাজারে বিক্রি হওয়ার চবনপ্রাশের মধ্যে ডাবর চবনপ্রাশ বেশ জনপ্রিয়। সংস্থার দাবি, শরীরের জন্য ডাবর চবনপ্রাশের অনেক সুবিধা রয়েছে। সংস্থার মতে, এটি ছোটো থেকে বয়স্ক সকলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। এই ব্র্যান্ডের মতে, প্রতিদিন ব্যবহার করলে ডাবর চবনপ্রাশের উপকারিতা পাওয়া যাবে। এই করোনা আবহে ডাবর চবনপ্রাশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় তা দাবি করা হয়েছে।

২. বৈদ্যনাথ চবনপ্রাশ

বৈদ্যনাথের চবনপ্রাশও জনপ্রিয় চবনপ্রাশের মধ্যে একটি। অন্যান্য চবনপ্রাশের তুলনায় এর দামও কম। সংস্থার মতে, তাদের ব্র্যান্ডের চবনপ্রাশ শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৩. ঝন্ডু চবনপ্রাশ

ঝন্ডু চবনপ্রাশ দামেও যেমন সস্তা, তেমনই এতে রয়েছে সুগার ফ্রি প্রোডাক্ট। সংস্থার দাবি, এটি তৈরির সময় চিনি একেবারের ব্যবহৃত হয় না। সংস্থার মতে, ঝন্ডু চবনপ্রাশের সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি।

৪. রাজবাড়ি (Rajwadi) চবনপ্রাশ

রাজবাড়ি চবনপ্রাশ উপকারিতা অন্যান্য চবনপ্রাশের মতোই। এই সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ নিরামিষ। রাজবাড়ি চবনপ্রাশ কোম্পানির মতে এটি শারীরিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে কোনও মৌসুমে এটি খাওয়া যেতে পারে। সংস্থার তরফে এটিও দাবি করা হয়েছে যে রাজবাড়ি চবনপ্রাশের সুবিধাগুলির মধ্যে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

চবনপ্রাশ খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি

সবেচেয় ভালো সকালে উঠে খালি পেটে চবনপ্রাশখাওয়া। দিনের অন্যান্য সময় যদিও বা খান তবে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনই এটি খাবেন না।

চবনপ্রাশ কী দুধ বা গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারি?

হ্যাঁ, খালি পেটে দুধ বা হালকা গরম জলে মিশিয়ে চবনপ্রাশ সেবন করতে পারেন। দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে তাদের দুধের সঙ্গে চবনপ্রাশ না খাওয়ায় ভালো (1)

চবনপ্রাশ কী টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করে?

টেস্টোস্টেরন, এই হরমোনের অভাবে নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চবনপ্রাশের মধ্যে যে সমস্ত উপকরণ রয়েছে যেমন, অশ্বগন্ধা, মুলেঠি এবং অন্যান্য ভেষজ উপাদান যা টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে চবনপ্রাশ কী উপকারী?

চবনপ্রাশ পাচন প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং মেটাবলিজম বাড়ায়। সেইসঙ্গে শরীরের বাড়তে ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

10 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch