চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস এর ঘরোয়া প্রতিকার | Home Remedies for Conjunctivitis (Pink Eye) in Bengali

by

চোখ ওঠার সমস্যা আমাদের মধ্যে কোন নতুন বিষয় নয়। প্রত্যেক বছর প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ চোখের সংক্রমণে ভোগে। যদিও এই চোখ ওঠার সমস্যা ব্যক্তিবিশেষে আলাদা আলাদা ধরনের এবং আলাদা আলাদা তীব্রতা যুক্ত হতে পারে। তবে এটি খুব কম ক্ষেত্রেই জটিলতার সৃষ্টি করে। অনেক সময় নবজাতক শিশুদের মধ্যেও এই চোখ ওঠার সমস্যা দেখা যায়, যার ফলে তাদের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিত্সা করার প্রয়োজন।

আপনার চোখ কি সহজে লাল হয়ে যায় এবং চুলকাতে থাকে? অনেকের ক্ষেত্রে ভালো ঘুমের পরেও চোখ এত ফুলে যায়,  যে তা খোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি চোখ গোলাপি রঙের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চোখ ওঠার সমস্যাটিকে আমরা কনজাংটিভাইটিস হিসেবে বর্ননা করে থাকি। তবে এর প্রচুর চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে যেগুলো আমরা আজকের নিবন্ধ থেকে জানবো।

কনজাংটিভাইটিস কি?

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ফোলা হলো এমন একটি সমস্যা, যাতে আমাদের কনজেক্টিভাতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। কনজেক্টিভা হল আমাদের চোখের সাদা অংশের ওপরের একটি পাতলা স্বচ্ছ স্তর যা চোখের পাতার ভেতরের অংশ কে আবরণ করে রাখে। এইখানে যখন সমস্যার সৃষ্টি হয় তখন একেই বলা হয় কনজাংটিভাইটিস। মূলত শিশুরা এই রোগে সংক্রমিত বেশি হয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। চোখ ওঠার সমস্যা মূলত তিন থেকে তেরো বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে এক্ষেত্রে কারো দৃষ্টির কোন ক্ষতি হয় না।

কনজাংটিভাইটিস এর প্রকারভেদ :

আমরা যে কনজাঙ্কটিভাইটিস গুলো দেখতে পাই সেগুলি মূলত চার ধরনের হয়ে থাকে। সেগুলি হল –

১) ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস – এটি মূলত ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে ঘটে থাকে এবং এটি সবচেয়ে সংক্রামক হয়। এটি প্রথমে এক চোখে শুরু হয় কয়েক দিনের মধ্যে তা অন্য চোখে সংক্রমিত হতে পারে।

২) ব্যাকটেরিয়া কনজাংটিভাইটিস – এটি সাধারণত ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনের কারণে ঘটে থাকে এবং এটি একটি চোখ কে প্রভাবিত করে। তবে একটি চোখ সংক্রমণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য চোখে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৩) অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস – এটি মূলত এলার্জির কারণে হয়ে থাকে। এটার ক্ষেত্রে দুটি চোখেই জল, চুলকানি এবং লাল ভাব দেখা দেয়।

৪) চক্ষু নিওনোটিয়াম – এটি কনজাংটিভাইটিস এর সবচেয়ে গুরুতর রূপ, যা মূলত নবজাতকদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি প্রসূতির সময় শিশুদের গনোরিয়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫) জায়ান্ট পেপিলারি – দীর্ঘদিন ধরে চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করার ফলে এই ধরনের কনজাংটিভাইটিস দেখা দিতে পারে।

এবার জেনে নিন চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস সমস্যাগুলি মূলত কোন কারণে সৃষ্টি হয়।

কনজাংটিভাইটিস এর কারণ :

১) ভাইরাস (মূলত যেগুলি ঠান্ডা লাগার সমস্যা সৃষ্টি করে)

২) ব্যাকটেরিয়া

৩) ময়লা, ক্লোরিনযুক্ত সুইমিংপুল

৪) নির্দিষ্ট কিছু শ্যাম্পু এবং প্রসাধনী

৫) চোখের এলার্জির সমস্যা

৬) ধোঁয়া-ধুলো,

৭) ফুলের পরাগ

৮) চোখের ওষুধের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া

৯) লেন্সের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার

১০) এলার্জি,

১১) ছত্রাক, অ্যামিবা এবং পরজীবীর কারণে

১২) কিছু কিছু ক্ষেত্রে গনোরিয়ার মত যৌন-সংক্রমণ এর কারণে কনজাংটিভাইটিস দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা না করা হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়াও যেগুলোর কারণে কনজাংটিভাইটিস হয়, সেগুলি হল –

১) কনজাংটিভাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্টতা

২) এলার্জিক জিনিসের ব্যবহার

৩) চোখের কন্টাক্ট লেন্সের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার।

যদি লক্ষ্য করে থাকেন লেন্স ব্যবহার করার ফলে চোখ লাল হয়ে উঠছে এবং ফুলে উঠছে এক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

কনজাংটিভাইটিস এর লক্ষণ :

কনজাংটিভাইটিস এর সমস্যার আগে যে লক্ষণগুলি দ্বারা আমরা বুঝতে পারবো চোখ ওঠার সমস্যা হতে চলেছে সেগুলি হলো –

১) চোখের সাদা অংশের পাশাপাশি চোখের পাতার ভিতরে লালচে ভাব এবং প্রদাহ লক্ষ্য করা যায়

২) কনজাংটিভা ফুলে যায়, চোখ চুলকাতে থাকে।

৩)  ভালো ঘুম হওয়ার পরেও চোখের মধ্যে এক ধরনের হলুদ উপাদান দেখা যায়।

৪) চোখে চুলকানি সৃষ্টি হয়, চোখের জ্বালা ভাব লক্ষ্য করা যায়।

৫) ঝাপসা দৃষ্টি হয়ে যায়।

৬) আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।

৭) কানের সামনে এবং চোয়ালের হাড়ের নিচে ফোলা ভাব লক্ষ্য করা যায়।

৮) এছাড়াও সংক্রমণ ভাইরাসের কারনে হলে জ্বর দেখা যায়।

কনজাংটিভাইটিস প্রতিরোধে ঘরোয়া উপাদান এর ব্যবহার :

১) চোখ ওঠার সমস্যা কম করতে মধুর ব্যবহার :

 প্রয়োজনীয় উপাদান :

মধু -১ চা চামচ

জল – ১ টেবিল চামচ।

আপনাকে কি করতে হবে?

  •  ১ চা চামচ মধু এক চামচ জলে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এই মিশ্রণটি এক ফোঁটা করে কনজাংটিভাইটিস আক্রান্ত চোখে লাগাতে হবে।
  • দৈনিক দুবার করে এটি করতে হবে। (1)

কিভাবে সাহায্য করে?

মধুর মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান গুলি রয়েছে যা কনজাংটিভাইটিস এর লক্ষণ গুলি নিরাময়ে সহায়তা করে।

২) অ্যালোভেরা দিয়ে করুন কনজাংটিভাইটিস এর প্রতিকার :

 প্রয়োজনীয় উপাদান :

টাটকা অ্যালোভেরা জেল।

আপনাকে কি করতে হবে?

  • আপনার চোখের উপরের এবং নিচের পাতাগুলির চারপাশে অ্যালোভেরা জেল ভাল করে লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • এবার দশ থেকে পনেরো মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন।
  • তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • প্রতিদিন দুবার এটি ব্যবহার করতে পারেন। (2)

কিভাবে সাহায্য করে?

অ্যালোভেরাতে ইথানল এবং ইথাইল এসিটেট এক্সট্রাক্ট রয়েছে। যার ফলে এটি চোখকে আরাম দিতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি অ্যালোভেরার মধ্যে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি কনজাংটিভাইটিসের মত চক্ষু রোগের সমস্যায় সহায়তা করে।

৩) টি ব্যাগ দিয়ে করুন কনজাংটিভাইটিস এর প্রতিকার :

 প্রয়োজনীয় উপাদান :

ব্যবহার করা গ্রিন টি ব্যাগ – দুটি।

আপনাকে কি করতে হবে?

  • ব্যবহার করা গ্রিন টি ব্যাগ গুলো নিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন।
  • এবার ঠাণ্ডা টি ব্যাগ গুলো চোখের উপর দিয়ে রাখুন।
  • পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • দৈনিক এক থেকে দু’বার এগুলি করতে পারেন। (3)

কিভাবে সাহায্য করে?

গ্রিন টিতে ফ্ল্যাভোনয়েড নামক একটি উপাদান রয়েছে যা প্রদাহ এবং ফোলা ভাব কম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও গ্রিন টির মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান গুলি চোখের রোগের সমস্যা গুলো কম করতে সহায়তা করে। (4)

৪) ধনে দিয়ে করুন কনজাংটিভাইটিস এর সমস্যা দূর :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

ধনে বীজ – ১ চা চামচ

গরম জল – এক কাপ।

আপনাকে কি করতে হবে?

  • এক কাপ জলকে ভালো করে গরম করে নিয়ে তার মধ্যে ১ চা চামচ ধনে বীজ দিয়ে ১৫ মিনিট ফোটাতে হবে।
  • জল ফুটে গেলে জল থেকে ধনে বীজগুলো ছেঁকে নিয়ে এটিকে ঠান্ডা করতে হবে।
  • এবার এই মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে এলে তুলো দিয়ে চোখের ওপর লাগিয়ে রাখতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করে?

ধনে বীজের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান গুলো চোখের প্রদাহ কম করতে এবং জ্বালা কম করে চোখের ঠান্ডা ভাব বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫) ফিটকিরি দিয়ে করুন চোখ ওঠার চিকিৎসা :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

ফিটকিরি – একটুকরো

জল – এক কাপ।

আপনাকে কি করতে হবে?

  • রাতে এক কাপ জলের মধ্যে এক টুকরো ফিটকিরি ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে।
  • পরদিন সকালে উঠে এই জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিতে হবে।
  • দিনে দুবার এটি করতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করে?

এলার্জির কারণে যদি কনজাংটিভাইটিস সমস্যা দেখা দেয় তাহলে এই ফিটকিরির জল ব্যবহার করে এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?

চোখ ওঠার সমস্যা গুরুতর না হলেও এটি যখন ঘরোয়া প্রতিকার এর মাধ্যমে কমবে না কিংবা চোখের জ্বালা ভাব, লালচে ভাব ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকবে তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে নবজাতক শিশুরা যদি কনজাংটিভাইটিস এর সমস্যায় ভোগে এক্ষেত্রে তাদের শুরুতেই ডাক্তার দেখাতে হবে। কেননা এটি যদি বেড়ে যায় নবজাতক শিশুর চোখের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরেও যদি দু সপ্তাহ সময় এই সমস্যাগুলো দূর না হয় তাহলে ভালোভাবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

 কনজাংটিভাইটিস এর চিকিৎসা :

চিকিৎসা কোন পদ্ধতিতে হবে তা নির্ভর করে চোখ ওঠার কারণ এবং লক্ষণ গুলির উপর। যদি সাধারণ লক্ষণগুলি লক্ষ্য করা যায় সেগুলির ওপর নির্ভর করে প্রত্যেকদিন বারবার চোখ ধুয়ে এবং চোখে ওষুধ ব্যবহার করে এই সমস্যা কমে যায়।

তবে এটি যদি ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে তখন অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়াও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি, বিভিন্ন আন্টি এলার্জির ওষুধ আক্রান্ত রোগীদের দেওয়া হয়ে থাকে।

কনজাংটিভাইটিস এর জন্য খাদ্য তালিকা :

কনজাংটিভাইটিস এর সমস্যা দেখা দিলে এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। এর পাশাপাশি সহজেই হজম হবে এমন ধরনের খাদ্য খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত। এই সময়ে খাদ্যতালিকায় মূলত তাজা ফল, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচা লঙ্কা গ্রহন বাড়িয়ে দিতে হবে। এর পাশাপাশি মাছ-মাংস, ফ্যাট জাতীয় খাদ্য, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য খাদ্যতালিকায় বাড়িয়ে তুলতে হবে। এগুলি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে।

তবে মনে রাখতে হবে এলার্জিজনিত খাবার এইসময় খাদ্যতালিকায় না রাখাই ভালো  কেননা যাদের অ্যালার্জির সমস্যার কারণে কনজাংটিভাইটিস দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর হয়ে যেতে পারে। তাই সাদা রুটি, পুডিং, পেস্ট্রি, মিষ্টিজাতীয় খাবার, কফি, অতিরিক্ত মসলার রান্না এগুলো খাদ্য তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়াই ভালো।

কনজাংটিভাইটিস এর প্রতিরোধক ব্যবস্থা :

কনজাংটিভাইটিস এর প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসাবে যে বিষয়গুলো আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেগুলি হল –

১) প্রত্যেকদিন একাধিকবার সাবান এবং হালকা গরম জল দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে মূলত খাবার আগে।

২) প্রতিদিন জল দিয়ে বেশ কয়েকবার চোখ ধুয়ে নিতে হবে।

৩) পুরোপুরি সমস্যা না কমা পর্যন্ত প্রত্যেকদিন বালিশের কভার ধুয়ে ফেলে নতুন কভার ব্যবহার করতে হবে।

৪) আঙ্গুল দিয়ে সরাসরি চোখ স্পর্শ করা চলবে না।

৫)  চোখে মেকআপ করবেন না।

৬) আপনার চোখের মেকআপ, জামাকাপড় এবং তোয়ালে অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।

৭) কনজাংটিভাইটিস থাকাকালীন যে মেকআপ গুলো ব্যবহার করছেন সেই চোখের মেকআপ গুলো সরিয়ে ফেলুন।

৮) কন্টাক্ট লেন্স পড়া থেকে বিরত থাকুন।

৯) এলার্জির কারণে সংক্রমণ হলে এলার্জিজনিত বস্তুগুলি থেকে দূরে থাকুন।

১০) যতক্ষণ না পর্যন্ত কনজাংটিভাইটিস এর লক্ষণ গুলো সম্পূর্ণরূপে কমছে ততক্ষণ শিশুকে স্কুলে পাঠাবেন না।

১১)পরিষ্কার থাকলে এ ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো যায়।

১২) বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সংক্রমনের চিকিৎসা করুন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

আমরা আজকের নিবন্ধ থেকে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম। চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস এর সমস্যায় আমাদের মধ্যে অনেকেই ভুগে থাকি। এই সমস্যা কিভাবে কম করব এবং কিভাবে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করব সব বিষয়গুলি সম্পর্কে আমরা আজকে আলোচনা করলাম। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে চোখ ওঠার সমস্যা হলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতে পারবেন। তবে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। আজকের নিবন্ধটি আপনার কাছে কতটা প্রয়োজনীয় বলে মনে হল এটা আমাদের জানাতে ভুলবেন না এবং এই নিবন্ধটি থেকে আপনার কিছু সহায়তা হয়েছে কিনা সেটিও জানাতে ভুলবেন না।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য :

কিভাবে কনজাংটিভাইটিস থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পাওয়া যায়?

কনজাংটিভাইটিস এর সমস্যা দেখা দিলে প্রথমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতে হবে। যদি লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই চিকিৎসা করা শুরু করেন তাহলে তাড়াতাড়ি এর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

কনজাংটিভাইটিস হলে কি কাজ বন্ধ রাখা উচিত?

শিশুদের স্কুল পাঠানো বন্ধ রাখা উচিত কিংবা এই লক্ষণগুলো যখন থেকে দেখা যাবে তখন থেকে কয়েকদিন প্রয়োজনীয় সর্তকতা অবলম্বন করে ঘরে থাকা উচিত। কেননা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়লে এটি মারাত্মক আকার গ্রহণ করতে পারে।

কনজাংটিভাইটিস কমতে কতদিন সময় লাগে?

কনজাংটিভাইটিস লক্ষণগুলো কমে যাওয়ার পরে কয়েকদিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কনজাংটিভাইটিস হলে কি করতে নেই?

সাধারণত কনজাংটিভাইটিস এর সমস্যা দেখা দিলে নিজের জিনিস অন্যের সাথে ভাগ করতে নেই। এতে অন্য একজন আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা থাকে।

কনজাংটিভাইটিস ভাইরাল না ব্যাকটেরিয়াল কিভাবে বুঝব?

চোখ ওঠার লক্ষণ গুলি দেখেই বুঝতে পারবেন এটি ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে হয়েছে নাকি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এর কারণে হয়েছে।

কনজাংটিভাইটিস কি নিজে থেকেই সেরে যায়?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা ছাড়াই কমে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। যদি কোনো শিশু বা নবজাতকের এটি দেখা যায় তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

4 Reference

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch