ক্র্যানবেরি সম্পর্কে নানা তথ্য, উপকারিতা, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | All About Cranberries in Bengali

by

বেরি সম্পর্কে ভাবলেই সাধারণত কোন ছবিটা আপনার চোখে ভেসে ওঠে? থোকা থোকা গোলাকার উজ্জ্বল বর্ণের ফল গাছে ঝুলছে, তাই না? আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কিন্তু হল ক্র্যানবেরি। টকটকে লাল রঙের উজ্জ্বল গোলাকার এই ফল খেতে যেমন সুস্বাদু, একই সাথে পুষ্টি গুণে ভরপুর। এই ফল স্বাস্থ্যের জন্যেও খুব ভালো। যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান ক্র্যানবেরিতে আছে, সেসব বিবেচনা করে ক্র্যানবেরিকে ‘সুপারফুড’ ও বলা হয়ে থাকে। বিশ্বাস না হলে জেনে নিন ক্র্যানবেরি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য।

ক্র্যানবেরি কী?

ক্র্যানবেরি আদতে ব্রিটেন এবং নর্থ আমেরিকার গাছ। এটি ভ্যাকশিনিয়াম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত চিরহরিৎ গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। ব্লুবেরি, লিঙ্গনবেরির মতোই ক্র্যানবেরিরও তীব্র স্বাদ রয়েছে। তবে বর্তমানে সারা বিশ্বে ক্র্যানবেরির চাহিদা তুঙ্গে। ব্লুবেরির মতোই আকার কিন্তু রং সম্পূর্ণ আলাদা। আর ক্র্যানবেরির রঙের জন্যই যেন এর কদর আরো বেশি।

ক্র্যানবেরির আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ

ক্র্যানবেরি যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনই এর গুণাগুণও প্রচুর। এর আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ এতই বেশি যে নানা রকমের রোগের প্রভাব থেকে বাঁচায়, তার সাথে সাথে স্বাস্থ্যও উন্নত করে। এখন আমরা ক্র্যানবেরির আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ সম্পর্কে জানব। ক্র্যানবেরিতে বিভিন্ন রকমের উপাদান উপস্থিত। এই বিষয়ে আমেরিকার এক সংস্থা রিসার্চ করেছে যা NCBI এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এথেকে যা জানা যায়, তাতে ক্র্যানবেরিকে সুপার পাওয়ারযুক্ত ফল বলা গেলেও ভুল হবে না। এতে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি মিউটেজেন এবং অ্যান্টি কারসিনোজেন একে অন্যান্য ফলের থেকে আলাদা করে তুলেছে।  এছাড়াও এতে উপস্থিত নিউরোপ্রোটেকটিভ এবং অ্যান্টি ভাইরাল প্রভাবও পাওয়া যায়। নীচে এর গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারী?

ক্র্যানবেরি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার ডায়েটে এটা যোগ করতে বলা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানাটা আপনার নিশ্চয় উচিৎ। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন ক্র্যানবেরি কতটা স্বাস্থ্যকর আপনার জন্য।

ক্র্যানবেরির মধ্যে উপস্থিত প্রাকৃতিক উপাদানগুলোতে রয়েছে সুপার পাওয়ার যা ক্র্যানবেরিকে করে তুলেছে অন্যান্য ফলের থেকে আলাদা। ক্র্যানবেরিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার, তার সাথে ফ্ল্যাবোনয়েড, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, প্রদাহ নিরোধক কিছু এজেন্ট, কিছু জৈব অ্যাসিড, পলিফেনোলিক যৌগ – যা একসাথে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। (১) দেহের বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে।

ক্র্যানবেরির বিভিন্ন উপকারিতা

ক্র্যানবেরির উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। তবুও যে বিশেষ বিশেষ উপকারিতার জন্য ক্র্যানবেরি সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে সেগুলো সম্পর্কে বলা হল।

১) মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধ

ক্র্যানবেরির যে এত নাম এবং দাম তার প্রধান কারণ হল এর মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মূত্রনালীর সংক্রমণ রোধে ক্র্যানবেরি ভীষণভাবে কার্যকর। ক্র্যানবেরিতে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনয়েড মূত্রনালীর ভেতরের কোষে ব্যাকটেরিয়া সংযুক্ত হওয়াকে থামায়। (২) যার জন্য ব্যাকটেরিয়া আর আক্রমন করতে পারে না এবং প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে চলে যায়।

২) কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে রক্ষা করা

ক্র্যানবেরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ঠিক রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। ক্র্যানবেরিতে উপস্থিত প্রদাহ নিরাময়ক যৌগ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

৩) ক্যানসার প্রতিরোধ

২০১৬ সালের এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে ক্র্যানবেরি রাখলে তা আপনাকে ১৭ প্রকার ক্যান্সার থেকে বাঁচায়। (৩) অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি অক্সিডেটিভ পলিফেনল ক্যান্সার কোষ প্রসারণ ও মেটাস্টেসিস রোধ করে। টিউমার গঠন ও বৃদ্ধি পাওয়া থেকেও রক্ষা করে।

৪) দাঁতের স্বাস্হ্য

দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ক্র্যানবেরি খুব উপকারী। এক গবেষণায় জানা গেছে যে ক্র্যানবেরিতে উপস্থিত অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এজেন্ট দাঁত ও মাড়িতে বায়োফিল্মস গঠন কমিয়ে দাঁতের ক্ষয় ও ইনফেকশন থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে (৪)

৫) রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল

সঠিক পরিমাণে ক্র্যানবেরি খেলে তা রক্তে ভালো কোলেস্টরেল উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এতে উপস্থিত পলি ফেনোলোনিক যৌগ রক্তে ভালো কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। (৫)  এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের রিস্ক কমে। ক্র্যানবেরি মেদ বৃদ্ধি থেকেও দেহকে রক্ষা করে।

৬) কিডনি রক্ষা

মূত্রনালী সংক্রমণ যদি কিডনিতে ছড়িয়ে যায় সেটা আরো ভয়াবহ হয়ে যায়। তার চিকিৎসার জন্য হাই পাওয়ারের অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। এরকমভাবে কিডনি ড্যামেজ পর্যন্ত হতে পারে। ক্র্যানবেরিতে উপস্থিত অ্যান্থোকায়ানিডিনসকে ধন্যবাদ কারণ এটি কিডনিকে প্রদাহ ও আয়তনে বৃদ্ধির হাত থেকে রক্ষা করে।

৭) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

এই ক্র্যানবেরি B সেল, NK সেল ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ কোষের ক্রিয়া কলাপ এবং সংখ্যা বাড়িয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে তোলে। কিছু উৎসেচকও এতে অংশগ্রহণ করে।

৮) ডায়াবেটিস

ক্র্যানবেরি জুস ডায়াবেটিস থেকে মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য করে। ক্র্যানবেরি জুস রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে বেশি পরিমাণে খাওয়াও কিন্তু ক্ষতিকর।

৯) গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ প্রতিরোধ

ক্র্যানবেরি যেমন করে মূত্রনালীর সংক্রমণ রোধ করে ঠিক তেমন করেই গর্ভবতী মহিলাদের দেহে কোনো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে ক্র্যানবেরিতে উপস্থিত কার্যকরী উপাদানগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, ক্র্যানবেরি গর্ভবতীদের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু সেই মিথ একেবারেই ভুল। বরং ক্র্যানবেরি ভ্রূণে কোনো জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি করে না বা বাচ্চার জন্মের পর কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। তবে হ্যাঁ, তা অবশ্যই পরিমাণ মতো খেতে হবে (৬) 

১০) প্রোস্টেটের রোগ নিরাময়

যেহেতু ক্র্যানবেরি মূত্রনালির সংক্রমণে প্রতিরোধ তৈরি করে, তাই ক্র্যানবেরি এক্সট্র্যাক্ট বিনাইন প্রোস্টেট হাইপারপ্লাসিয়া প্রতিরোধেও সহায়ক হতে পারে। যদিও এই যুক্তি সমর্থনে যথাযথ গবেষণা এখনো হয় নি, তবুও মনে করা হয় যে প্রোস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসায় এটি সাহায্য করে (৭)

১১) ত্বকের যত্নে

ক্র্যানবেরি খাওয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হল উজ্জ্বল দীপ্তিময় ত্বক পাওয়া। ক্র্যানবেরি ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। ক্র্যানবেরিতে উপস্থিত ৯৮% জল, ২৪% ভিটামিন সি এবং অধিক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদির জন্য এটা ত্বকের জন্য খুব ভালো।

ক্র্যানবেরী জুস তুলোয় করে নিয়ে ব্রন ও দাগছোপের ওপর সরাসরি লাগান, কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখে দাগ ছোপ দূর হয়। হাইপার পিগমেন্টেশন যাদের আছে তারা চোখ বন্ধ করে এই জুস ব্যবহার করুন, ফল পাবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ক্র্যানবেরি দারুণ কাজে দেয়। এতে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের কোষ ছিদ্র গুলিকে বন্ধ হতে দেয় না এবং ব্রণর সম্ভাবনা কমায়।

ক্র্যানবেরিতে থাকা ভিতামিন সি ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখে। ক্র্যানবেরি ত্বকে কোলাজেন উৎপন্ন করে ফলে অক্সিজেন মাত্রা বজায় থাকে এবং আপনার ত্বক করে দেয় কোমল ও উজ্জ্বল।

১২) রক্তাল্পতা দূর করতে

শরীরে যদি রক্তের অভাব হয়, তবে ক্র্যানবেরি জুস খাওয়া অত্যন্ত উপকারি। ক্লান্তি এবং দুর্বলতা যদি শীঘ্রই দূর করতে চান তবে প্রতিদিনের ডায়েটে ক্র্যানবেরি জুস অন্তর্ভুক্ত করুন।

টাটকা ক্র্যানবেরি বনাম শুকনো ক্র্যানবেরি

টাটকা ক্র্যানবেরিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম আর জল। শুকনো ক্র্যানবেরি এই সমস্ত উপাদান হারিয়ে ফেলে। কিন্তু শুকনো ক্র্যানবেরিতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে।  শুকনো ক্র্যানবেরি টাটকা ক্র্যানবেরির থেকে অনেক বেশি মিষ্টি খেতে হয়।  কিন্তু প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকার জন্য এর ব্যবহার অল্প পরিমাণ করাই ভালো।

যখন আপনি কিছু পুষ্টিকর স্ন্যাকস চান যেটা আপনার পেটও ভরিয়ে দেবে না কিন্তু খিদে মেটাবে, তখন টাটকা ক্র্যানবেরির মত ভালো কিছু হতে পারে না। টাটকা তরতাজা ক্র্যানবেরি স্যালাড, মাফিন ইত্যাদির স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন সাইড ডিশ ও মেইন কোর্স ডিসের জন্যও ক্র্যানবেরি ব্যবহার করা হয় যা ডিশগুলোকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।

এছাড়াও আপনি সংরক্ষণ করে রাখা হিম শীতল ক্র্যানবেরিও খেতে পারেন। এতে অনেক মাইক্রো এবং ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস্ থাকে। সেখানে শুকনো ক্র্যানবেরির মত অত্যাধিক পরিমাণে চিনি বা শর্করা, ফাইবার বা অন্যান্য যাবতীয় উপাদান থাকে না।

ক্র্যানবেরির পুষ্টিগুণ

টাটকা ক্র্যানবেরিতে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ ( প্রতি ১১০ গ্রামে) ও দৈনন্দিন শতকরা পরিমাণ

 ফ্যাট ( ০ গ্রাম )০%
সম্পৃক্ত ফ্যাট ( ০ গ্রাম )০%
কোলেস্টেরল (০ মিলিগ্রাম)০%
সোডিয়াম (২ গ্রাম)০%
কার্বোহাইড্রেট (১৩ গ্রাম)৪%
ডায়েটারি ফাইবার (৫ গ্রাম)২০%
ভিটামিন এ১%
ভিটামিন সি২৪%
ক্যালশিয়াম১%
আয়রন২%
প্রোটিন০%

মিষ্টি শুকনো ক্র্যানবেরিতে ( প্রতি ৪০ গ্রামে)  রয়েছে –

ক্যালোরি১২৩ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট১৩ গ্রাম
সুগার২৬ গ্রাম
প্রোটিন০ গ্রাম
ফ্যাট১ গ্রাম
ভিটামিন এ০ গ্রাম
ভিটামিন সি০ গ্রাম

অতএব, টাটকা এবং শুকনো ক্র্যানবেরির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলেন। কোন উপাদান কী পরিমাণে আছে সেটাও জানলেন। বাজারে যে মিষ্টি শুকনো ক্র্যানবেরি পাওয়া যায় তাতে টাটকা ক্র্যানবেরির তুলনায় প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে। তাই কেনার সময় সতর্ক থাকবেন।

ক্র্যানবেরি কীভাবে ব্যবহার করবেন?

টাটকা ক্র্যানবেরি ফল বা শুকনো ক্র্যানবেরি দুটোই খাওয়া যেতে পারে। ক্র্যানবেরি জুস হিসেবে খাওয়া হয় যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অসম্ভব ভাল। স্যালাড, মাফিন, জ্যাম তৈরি করতে ক্র্যানবেরি ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নে, চুলের যত্নেও বিশেষ ভাবে কাজ করে। এছাড়া ক্র্যানবেরি এক্সট্র্যাক্ট ও ক্র্যানবেরি সিড অয়েল বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

কীভাবে ক্র্যানবেরি জুস বানাবেন?

আপনি খুব সহজেই বাড়িতে ক্র্যানবেরি জুস বানিয়ে নিতে পারেন। যা আপনার বাড়িতে বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়দেরও স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে।

এই জুস বানাতে লাগবে টাটকা বা ফ্রজেন ক্র্যানবেরি ও একদম বিশুদ্ধ ফিলটার করা পানীয় জল। প্রথমে একটা পাত্রে কিছু ক্র্যানবেরি নিন এবং সাথে জল। খুব কম আঁচে আস্তে আস্তে এটা ফোটাতে থাকুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর আস্তে আস্তে একটা ভালো মানের ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে জুস সংগ্রহ করুন। মধু মিশিয়ে নিলে এটি মিষ্টি স্বাদের হয়ে যায়। এটা অবশ্যই ফ্রিজে রাখুন।

কীভাবে দীর্ঘদিনের জন্য ক্র্যানবেরি সংরক্ষণ করবেন?

ক্র্যানবেরির আসল সৌন্দর্য তার উজ্জ্বল টকটকে লাল রঙে। দাগছোপ, রেখাযুক্ত ক্র্যানবেরি কি ভালো লাগে? দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার পরও দাগছোপহীন ক্র্যানবেরি পেতে হলে, তাকে শুকনো করে মুছে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে একটুও আর্দ্র ভাব না থাকে ক্র্যানবেরির ত্বকে। একটা পরিষ্কার ও শুকনো ব্যাগে সেটা ফ্রিজের মধ্যে রেখে দিতে হবে। এভাবে আপনি ১৫-২০ দিন অনায়াসেই ক্র্যানবেরি সংরক্ষণ করতে পারেন।

আপনি যদি আরও বেশি সময়ের জন্য ক্র্যানবেরি সংরক্ষণ করতে চান সেটাও সম্ভব। এর জন্য প্রথমে একটা বাটার পেপারে বা কুকি শীটে ক্র্যানবেরিগুলো রেখে দিন এবং ট্রেতে নিয়ে ফ্রিজারে ঢুকিয়ে দিন। সেগুলো একদম জমে হিম শীতল হয়ে গেলে ( ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে)  সবগুলো এমন একটা ব্যাগে রাখুন যেখানে হাওয়া বাতাস থাকবে না। এরপর এটা ফ্রিজারে রেখে দিন। এভাবে ক্র্যানবেরি  ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।

ক্র্যানবেরির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ক্র্যানবেরির মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব বিরল। তবে কিছু সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তো দেখাই যায়। যেমন – পেট খারাপ, পেট ব্যথা, বমি বা পেটের কিছু সমস্যা, ডায়েরিয়া ইত্যাদি। অতিরিক্ত পরিমাণে ক্র্যানবেরি জুস খেলে কিডনি স্টোন দেখা যায়। কারোর ক্র্যানবেরিতে অ্যালার্জি থাকলে শ্বাসকষ্ট, গলা বা ঠোঁট, মুখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। এসব দেখা গেলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

যদি আপনি ডায়াবেটিক হন, তাহলে শুকনো ক্র্যানবেরি আপনার ব্লাড সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়। কারণ শুকনো ক্র্যানবেরি ভীষণ মিষ্টি হয়। অনেক সময় কোনো কোনো ওষুধের পাশাপাশি ক্র্যানবেরি খেলে সেটার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন।

ক্র্যানবেরীর গুনাগুন যখন জেনেই গেলেন,তাহলে আর দেরী না করে আজই ক্র্যানবেরী ব্যবহার করা শুরু করুন। এছাড়া ক্র্যানবেরি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের দেওয়া তথ্য থেকে জেনে নিন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন :

প্রচুর পরিমাণে ক্র্যানবেরি জুস খেলে কী হয়?

দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর পরিমাণে ক্র্যানবেরি জুস খেলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু লোকের ক্ষেত্রে পেটের কিছু সমস্যা বা ডায়েরিয়া দেখা যায়। দিনে ১ লিটারেরও বেশি জুস খেলে কিডনি স্টোনের সম্ভাবনা থাকে।

কাঁচা ক্র্যানবেরি খাওয়া কি ঠিক?

কাঁচা ক্র্যানবেরির স্বাদ টক। এর ফ্লেভার অনেকটা অ্যাসিডের মত, যেটা সবার পছন্দ হবে না। যদি কাঁচা ক্র্যানবেরি খেতে চান, সেটা খুব ভালো করে গরম জলে ধুয়ে নিন। যাতে কোনো ধুলোবালি, ময়লা বা কেমিক্যাল না থাকে।
আর যদি আপনি কাঁচা খেতে না পছন্দ করেন, সেক্ষেত্রে আপনি ক্র্যানবেরি রান্না করুন এক অভিনব কায়দায় লেবু, কমলালেবু, চিনি বা মধু মিশিয়ে।  এতে কাঁচা ক্র্যানবেরির স্বাদও পাবেন এবং খাবারটা আলাদা মাত্রা পাবে।

ক্র্যানবেরি বীজ কি খাদ্য উপযোগী?

না জেনে ক্র্যানবেরি বীজ খাওয়া একদম উচিৎ নয়। খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

শুকনো ক্র্যানবেরি কি খাওয়া ভালো?

শুকনো ক্র্যানবেরি অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর থাকায় এটা খাওয়া খুব উপকারী। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। ওজন কমানোর পাশাপাশি হার্টের অসুখের  জন্যও বেশ কার্যকরী। শুকনো ক্র্যানবেরি মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

7 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch