ডাবের জল কতটা উপকারী জানেন ? All About Coconut Water in Bengali

by

গরমকালে ডাবের জল খাওয়া কি আরামদায়ক তাই না ? ডাবের জল কিস্তু ছোটো থেকে বড়ো সবারই পছন্দ। এই ডাবের জলে রয়েছে প্রচুর গুনাগুনও। আমাদের এই প্রতিবেদনে আপনাদের জানাবো এই ডাবের জল কতটা উপকারী শরীরের জন্য।

আসুন জেনেনি, ডাবের জলের উপকারিতা সম্পর্কে।

ডাবের জলের উপকারিতা

১. হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

একটি গবেষণায় জানা গেছে, ডাবের জল শুধুমাত্র শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে (1)। কচি ডাবের জল নাকি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমান বাড়িয়ে দেয় ও ইনসুলিনের পরিমান সঠিক রাখতে সাহায্য করে (2)

২. ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখতে

যেহেতু হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, তাই রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে ও ব্লাড প্রেসার কম বা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।

৩. কিডনি স্টোনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে

জানা যায়, নিয়মিত ডাবের জল খেলে শরীরের অতিরিক্ত ক্লোরিন, পটাশিয়াম ও সাইট্রেট বেরিয়ে যায় ও কিডনিতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় (3) । এছাড়া ডাবের জল ব্লাডারের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে ও কিডনিতে স্টোনের সমস্যা হতে পারে, কারণ ডাবের জলে  থাকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান  (4)

৪. হজম শক্তির উন্নতি

ডাবের জল খেলে খাবার খুব ভালো ভাবে হজম হতে পারে কারণ এতে ফাইবারের পরিমান বেশি থাকে (5)। এতে থাকে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম ও আমাদের রক্তের মতোই একই পরিমান ইলেক্ট্রোললাইটিক ব্যালান্স (5), তাই এটি ডাইরিয়া সারাতে খুবই উপযোগী।

৫. শরীরের ওজন কমাতে

প্রথমত ডাবের জল হজম শক্তির উন্নতি করে, তাই শরীরের বর্জ্যপদার্থ সঠিকপরিমানে দেহ থেকে নির্গত হতে পারে। আর ডাবের জল ব্যায়াম করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় কারণ এতে প্রচুর পরিমানে ইলেক্ট্রোলাইটস থাকে(6) , তাই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৬. ডিহাইড্রেশন  ডাবের জলে থাকে ভালো পরিমান ইলেক্ট্রোলাইটস (6), তাই নিয়মিত এটি পান করলে ডিহাইড্রেশন হওয়া সম্ভব না।  আর যদি আপনার ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে শরীরে তবে অবশ্যই ডাবের জল খান, দেখবেন কিছুক্ষন পরে আপনি স্বস্তি বোধ করবেন।

৭. পেশিতে টান ধরা কমায়

নিয়মিত ডাবের জল খেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয় না , ফলে পেশিতে টান ধরা কমে যায়।

৮. হাড় মজবুত করে

ডাবের জলে ক্যালসিয়ামের পরিমান বেশি থাকে বলে (5) বলা হয় এটি হাড় মজবুত করে।

৯. ডায়াবেটিস কমাতে

এটি হিমোগ্লোবিন এ 1 সি এর মাত্রাও কমিয়ে দিতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে (7)। আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন , তবে অবশ্যই নিজের ডায়েটে এটি রাখার চেষ্টা করুন (7)

১০. হ্যাংওভার দূর করতে

আপনি যখন মদ্যপান করেন, তখন আপনার শরীরে নাকি পটাশিয়ামের পরিমান কমতে থাকে (8) ।  আর ডাবের জলে থাকে ইলেক্ট্রোলাইটস (6) , যা এই হ্যাংওভার থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

১১. তাৎক্ষণিক এনার্জি

ডাবের জল খেলে নাকি তাৎক্ষণিক এনার্জি লাভ হয়, এর মূল কারণ হল ডাবের জলে উপস্থিত  ইলেক্ট্রোলাইটস (6)

১২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে

শোনা যায়, নিয়মিত ডাবের জল খাওয়ার অভ্যেস থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নাকি বৃদ্ধি পায়, তবে এই বিষয়ে কিছু এখনও প্রমাণিত হয়নি।

১৩. মাথা ব্যাথা দূর করতে

যেহেতু ইলেক্ট্রোলাইটসের পরিমান বেশ অনেকটাই থাকে (6), তাই এটি মাথা ব্যথা কম করতে উপযোগী বলে জানা যায়।

১৪.  অ্যালজাইমার্স রোগের চিকিৎসায়

গবেষণায় জানা গেছে যে,  অ্যালজাইমার্স রোগের বৈশিষ্ট্যকে কম করার ক্ষমতা রাখে কচি ডাবের জল (9)

১৫. চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে

আপনি যদি নিয়মিত ডাবের জল খেয়ে থাকেন, তবে তা আপনার চোখকে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর করে তুলবে (10)

১৬. স্ট্রেস দূর করতে

যেহেতু ডাবের জলে ইলেক্ট্রোলাইটসে ভরপুর (6) , তাই এটি স্ট্রেস দূর করতেও সক্ষম।

১৭. স্মৃতিশক্তি বাড়াতে

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে নাকি ডাবের জল খাওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে, এখনও কিছু প্রমাণিত হয়নি।

১৮. থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে

থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে ডাবের জল অনেকেই খেয়ে থাকেন। এর কারণ হল, ডাবের জল শরীরে থাইরয়েডের হরমোন সঠিক রাখতে সাহায্য করে (11)

১৯. ত্বকের ক্ষেত্রে

ত্বকে অ্যাকনের সমস্যা কমাতে ডাবের জল মুখে মাখা হয় কারণ এতে উপস্থিত  অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান (12) । ডাবের জল যেহেতু শরীরে ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা কমায় তাই, ত্বকেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

২০. চুলের ক্ষেত্রে

চুলকে কন্ডিশনিং করতে ডাবের জল অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান (12) থাকে বলে স্ক্যাল্পকে ইনফেকশন থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

ডাবের খাদ্যগুণ

নিচে ডাবের জলের খাদ্যগুণ কি কি তা সম্পর্কে জেনে নিন (1)

প্রতি ১০০ মিলি লিটার ডাবের জলে(13)

  • এনার্জি ২১ কিলোক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেট ৫.৪২ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম ১৭১ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম

কিভাবে ডাবের জল খাবেন ?

  • দুপুর বেলা খাবার খাওয়ার পর একটু কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর তাজা ডাবের জল খান। এই সময়টি হল ডাবের জল খাওয়ার ভালো সময়।
  • যদি ডাব কেটে রেখে দেন, তবে অবশ্যই একটি বন্ধ মুখযুক্ত কাঁচের বোতলে রাখুন। তবে এক দু ঘন্টার বেশি রাখবেন না।
  • এখন বাজারে অনেক প্যাকেট করা ডাবের জল পাওয়া যায়, এটিও দুপুরবেলা খাবার খাওয়ার পর পান করার চেষ্টা করুন।
  • একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে একটি ডাবের জলই যথেষ্ট।

ডাবের জল খাওয়ার সময় ডাব কিভাবে বাছবেন ?

ডাবের জল যখনই খাবেন, মনে রাখবেন কচি ডাবের জল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ এতে খাদ্যগুণ অনেক বেশি থাকে।

ডাবের জল কতদিন রেখে পান করা যায় ?

ডাবের জল কেটে রাখলে ৪ থেকে ৫ঘন্টার বেশি রাখবেন না। এতে ডাবের জলের খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

ডাবের জলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

আমরা জানি, কোনো কিছুই বেশি খাওয়া উচিত না। এক্ষেত্রেও আপনাকে পরিমান মতো ডাবের জল খাওয়া উচিত, কখনোই ভাববেন না বেশি পরিমানে জোয়ান খেলে এর উপকারিতাও বাড়বে। জানা যায়, বেশি পরিমান ডাবের জল খেলে ব্লাড প্রেসার কম হতে পারে, তবে তা এখনও পর্যন্ত তা প্রমাণিত নয়।

ডাবের জল নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন অবশ্যই।

ডাবের জল গুনাগুণ সম্পর্কে তো বিস্তারিত জানলেন, তাহলে বুঝতেই পারছেন এটি শরীরের পক্ষে কতটা স্বাস্থ্যকর। তাই আশা করি, এখন থেকে নিশ্চয়ই এটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন নিয়মিত। নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।

13 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch