ডার্ক চকোলেট সম্পর্কিত তথ্য | CHOCOLATE IN BENGALI

by

‘চকোলেট’ নামটা শুনলেই মন কেমন যেন আনন্দে ভরে ওঠে। সে ডার্ক চকোলেটই হোক কিংবা মিল্ক চকোলেটই হোক। বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলের প্রিয় একটি জিনিস হল চকোলেট। তবে চকোলেট খেলেও যে বেশ কিছু উপকারিতা মেলে তা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। ডার্ক চকোলেট অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে, ভালো রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকোলেট অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ঠাসা এমন একটি খাদ্য উপাদান যা শরীরে রক্ত প্রবাহ কে বাড়িয়ে তোলে, শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও হার্টের সমস্যায় সহায়তা করে থাকে। ডার্ক চকোলেট এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, কপার, জিংক, ফসফেট, ম্যাগনেসিয়াম এর মতন উপকারী উপাদান গুলো, যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে থাকে। তাহলে জেনে নিন ডার্ক চকোলেট খেয়ে কিভাবে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখবেন।

ডার্ক চকোলেট কি?

ডার্ক চকোলেট হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এ পূর্ণ অন্যতম একটি খাদ্য উপাদান। যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে থাকে। যদিও ডার্ক চকলেটের স্বাদ সামান্য তিতা প্রকৃতির। তবে এটি খেলে পরে এর প্রচুর গুনাগুন রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে দৈনিক ডার্ক চকোলেট সেবন করলে ওজন-হ্রাস, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন করতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে, ত্বক ও চুলের সমস্যায়, কোলেস্টেরল কম করতে, শরীরে শক্তি সঞ্চয় করতে সহায়তা করে থাকে। ডার্ক চকোলেটের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের হৃদযন্ত্র কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকোলেট হলো এক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান গুলির উৎকৃষ্ট উৎস। এতে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ কোকো সলিড, কোকো মাখন এবং চিনি রয়েছে। যদিও মাখনের পরিমাণ অত্যন্ত কম। আসুন তাহলে জেনে নিন দৈনন্দিন খাওয়ার ফলে ডার্ক চকোলেটের থেকে আমরা কি কি উপকার পেতে পারি। (১)

ডার্ক চকোলেটের উপকারিতা

ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা কোকো ফ্ল্যাভানল গুলি আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। এই ফ্ল্যাভানল গুলি অ্যান্টি অক্সিডেন্টে পূর্ণ হওয়ায় এগুলি হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি রক্ষায়, ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ডার্ক চকোলেট ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে। তবে আসুন জেনে নিন ডার্ক চকোলেটের বিভিন্ন উপকারিতা গুলি সম্পর্কে, যা এতদিন আপনার অজানা ছিল। ডার্ক চকোলেট কিভাবে স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে তা জেনে নিন।

১) হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায়

ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান গুলি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে। দৈনিক ডার্ক চকলেট গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা করোনারি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে মিল্ক চকলেট এর থেকে ডার্ক চকোলেট বেশি উপকারী। (২)

কেননা ডার্ক চকোলেটের মধ্যে প্রচুর ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যার কারণে এই উপকারিতা গুলো লক্ষ্য করা যায়। তবে একদল গবেষকদের দাবি, ডার্ক চকোলেট নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যার ফলে রক্তনালীগুলো শিথিল হয়ে পড়ে এবং রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়। তবে এর যথাযথ কোন প্রমাণ নেই। এক্ষেত্রে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

তবে যারা কার্ডিওভাসকুলার জনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা ডার্ক চকোলেট বা সাধারণ চকোলেট না খাওয়াই ভালো। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা যদি এক সপ্তাহে পাঁচবার ডার্ক চকোলেট খান সে ক্ষেত্রে তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা কম হবে। আমরা সকলেই জানি ডার্ক চকোলেট কোকো দিয়ে তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোকো পাউডারের পলিফেনোল গুলি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কে কম করে ভালো কোলেস্টেরল উৎপন্ন করতে সহায়তা করে। এছাড়াও কোকোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে পারে। (৩)

২) ডিপ্রেশন কম করতে

বর্তমানে সমাজের বুকে ডিপ্রেশন একটা গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা মন খারাপের সাথে সাথে শরীর খারাপ করে তোলে এবং শরীরে বাসা বাঁধে নানান মারণ রোগ।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে সঠিক মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত ডার্ক চকোলেট গ্রহণ করা উচিত। ডার্ক চকোলেট এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদানগুলো মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহকে পরিচালনা করে। যার ফলে এমন এক ধরনের হরমোন নির্গত হয় যা মনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়াও ডার্ক চকলেট এর মধ্যে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলি শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সহায়তা করে। যে কারণে যে সমস্ত রোগীরা ডিপ্রেশনের ভুগছেন তারা অবশ্যই দৈনিক ডার্ক চকোলেট গ্রহণ করুন। এক সপ্তাহ ব্যবহার করার ফলেই বুঝতে পারবেন পরিবর্তন হচ্ছে কিনা।  ডার্ক চকোলেট এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলো মনকে খুশি করতে সহায়তা করে।

৩) কোলেস্টেরল কমাতে

শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া মানেই নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাবার পরেই প্রথম যে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে হৃদরোগের সমস্যা দেখা দেয়।

এক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে ডার্ক চকোলেট অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের সকলেরই জানা ডার্ক চকোলেট কোকো দিয়ে তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোকো পাউডারের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদানগুলো এবং পলিফেনোল গুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল উৎপন্ন করতে সহায়তা করে। যার ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয় না। তাই যে সমস্ত রোগীরা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সমস্যায় ভুগছেন তারা দৈনিক কিছু পরিমাণ ডার্ক চকোলেট গ্রহণ করুন। কেননা এ ক্ষেত্রে মিল্ক চকলেট এর তুলনায় ডার্ক চকোলেট অধিক উপকারী।

৪) অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান হিসেবে

ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি, ডার্ক চকোলেট হলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভানোল গুলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

যা আমাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নতিতে, ক্যান্সারের মতন মারণ রোগ জীবাণু বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। ডার্ক চকোলেট অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদানের অন্যতম একটি উৎকৃষ্ট হওয়ায় এটি মানব শরীরে বহুবিধ কাজ করে থাকে।

৫) সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণে

ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা উপাদানগুলো সর্দি কাশির চিকিৎসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। মূলত কোকোর মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভানল সমৃদ্ধ উপাদানগুলি যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কে বিনাশ করতে পারে।

এছাড়াও এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ যৌগ গুলি সর্দি কাশির সমস্যা দূর করতে পারে। এর পাশাপাশি এলার্জিজনিত কারণে হওয়া হাঁচি এবং কাশির চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে সর্দি কাশির সমস্যা হলে দৈনিক যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ ডার্ক চকলেট খাওয়ানো যেতে পারে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

তবে ডার্ক চকোলেট স্বাদে তিক্ত প্রকৃতির হওয়ায় এটি খেতে শুরুতে ভালো না লাগলেও পরবর্তী সময়ে এটিতে এক ধরনের ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।

৬) শরীরের শক্তি বাড়াতে

ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি ডার্ক চকোলেট অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি খাদ্য উপাদান। এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরের রক্ত প্রবাহ কে পরিচালিত করে। তবে এতে পুষ্টি উপাদানের সবকটি উপাদানই যথাযথ পরিমাণে রয়েছে, যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে।

কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন গুলির সবকিছুই এরমধ্যে রয়েছে। যার ফলে একটি ডার্ক চকোলেটের বারে প্রায় ৬০০ ক্যালরি শক্তি শরীরে গ্রহণ করা যায়।

মূলত একটি ডার্ক চকোলেটের বারে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত চকোলেট থাকে, যার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই কোকো সামগ্রী।

দৈনিক একটি চকোলেট বার খাওয়া গেলে তাতে ৬০০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যাবে। তবে দৈনিক ১০০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট গ্রহণ করবেন না। এটি আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ হতে পারে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে।

৭) মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায়

ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভানল গুলি মানুষের মেজাজকে উন্নত করতে পারে। এর পাশাপাশি বয়স্কদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা ডার্ক চকোলেট গ্রহণ করেন তাদের আচরণ এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য যে সমস্ত ব্যক্তিরা ডার্ক চকলেট গ্রহণ করেন না তাদের থেকে অনেক উন্নত।

এছাড়াও ডার্ক চকোলেট স্নায়বিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সহায়তা করে, যার ফলে বৃদ্ধদের হালকা মানসিক বৈকল্য দেখা দিলেই তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দৈনিক ডার্ক চকোলেট দেওয়া যেতে পারে।

ডার্ক চকোলেট মানসিক চাপ কমিয়ে মেজাজকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকোলেট এর মধ্যে এপিকেচিন নামে এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমায় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি হ্রাস করে। (৪)

তবে সব ডার্ক চকোলেট সমানভাবে তৈরি হয় না, আপনি যেটি গ্রহণ করছেন সেটি কি কি উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে তা দেখে নিয়েই সেবন করুন। তবে একথা বলা যেতে পারে ডার্ক চকোলেট মেজাজকে ভালো করে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সহায়তা করে।

৮) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

ডার্ক চকোলেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদনকে উৎসাহিত করে যার ফলে রক্তনালী গুলি রক্ত প্রবাহ কে বাড়িয়ে তোলে এবং রক্তচাপের সমস্যা দূর করে।

ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরের উপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে যার গুনাগুন স্বাস্থ্যে চোখে পড়ে। (৫)

ডার্ক চকলেট মূলত কোকো দিয়ে তৈরি হয়। কোকো পাউডারের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল কে উৎপন্ন করতে সহায়তা করে। যে কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে। তাই যারা কম কিংবা বেশী রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেট অন্যতম একটি বিশেষ উপাদান, যা আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে, শরীরের রক্ত প্রবাহ কে যথাযথ করতে সহায়তা করবে।

৯) ক্যান্সার নিরাময়ে

ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডার্ক চকলেট গ্রহণের ফলে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ডার্ক চকোলেট এমন একটি উপাদান যা কোষকে বৃদ্ধি করতে এবং কোষের প্রদাহকে কম করতে সহায়তা করে। (৬)

ডার্ক চকলেটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গুলি থেকে যে স্বল্প পরিমাণে ফ্ল্যাভানল গুলি পাওয়া যায় তা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যতম একটি প্রাকৃতিক উপাদান। তবে এই বিষয়ে আরো গবেষণা চলছে। (৭)

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে, ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা কোকোর ফ্ল্যাভানল গুলি কোষের ক্ষতি নিরাশ করতে সহায়তা করে। যার ফলে বলা যেতে পারে ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা উপাদান গুলি ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম করতে পারে।

এছাড়াও ডার্ক চকলেটে থাকা ক্যাচচিন এবং প্রোচানিডিন জাতীয় উপাদান গুলি যেকোনো ধরনের স্ট্রেস এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কে কম করতে পারে। যা ক্যান্সারের ঝুঁকির অন্যতম কারণ। তাই ক্যান্সারের মতন মারুন ব্যাধি যাতে শরীরে বাসা বাঁধতে না পারে সে ক্ষেত্রে দৈনিক ডার্ক চকোলেটকে খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। (৮)

১০) অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি সমৃদ্ধ

ডার্ক চকলেটের বিভিন্ন গুনাগুন গুলি জানার পাশাপাশি ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি সম্পর্কেও খানিকটা জেনে গিয়েছি এবং ডার্ক চকোলেট এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি এগুলি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যযুক্ত।

যা শরীরের যেকোনো ধরনের জীবাণু কিংবা ব্যাকটেরিয়ার কে ধ্বংস করতে পারে। ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি যৌগ গুলিকে তৈরি করে। যার ফলে ভালো জীবানু গুলি বৃদ্ধি পায়। (৯)

এছাড়াও গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোকোফ্ল্যাভানল গুলি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কে উৎসাহিত করে তোলে। যার ফলে শরীরে খারাপ জীবাণুর প্রকোপ কম হয়। এর পাশাপাশি অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি থাকার কারণে শরীরের যেকোনো ধরনের প্রদাহ এগুলি খুব তাড়াতাড়ি কম করতেও ডার্ক চকোলেট সহায়তা করে।

১১) দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে

ডার্ক চকোলেট চোখের চিকিৎসাতেও সমানভাবে কার্যকরী। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি চোখের সাদা অংশের পাশাপাশি চোখের মনির দৃষ্টিশক্তির তীক্ষ্ণতা বাড়াতে সহায়তা করে। এই প্রভাব সাধারণ অবস্থায় যতটা না থাকে ডার্ক চকোলেটের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ফলে এই দৃষ্টিশক্তি উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। মূলত প্রায় দু’ঘণ্টা অবধি চোখের একনাগাড়ে কাজ করার ক্ষমতা ডার্ক চকোলেট ব্যবহার করার ফলে বৃদ্ধি পায় বলে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে। (১০)

১২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

ডার্ক চকোলেট ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডার্ক চকোলেট দৈনিক গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা কম হতে থাকে। মূলত ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা কোকো পলিফেনল গুলি সরাসরি ইনসুলিন প্রতিরোধ কে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকে।

এছাড়াও অগ্ন্যাশয় এর বিটা কোষ গুলিকে নতুনভাবে বিস্তারে এবং ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস পায়। এছাড়াও ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ডায়াবেটিক প্রভাব গুলি ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে থাকে। তবে কিছু কিছু ডার্ক চকলেট ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে অবশ্যই এর উপাদান সামগ্রী দেখে ব্যবহার করবেন। (১১)

১৩) ওজন নিয়ন্ত্রণে

আমরা বরাবরই শুনে এসেছি একটা কথা যে চকোলেট খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ডার্ক চকোলেটের ক্ষেত্রে এই কথাটা ঠিক যায় না। কেননা ডার্ক চকোলেটের পরিমিত পরিমাণে দৈনিক গ্রহণ করার ফলে ওজন হ্রাস হ’তে পারে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ডার্ক চকোলেট ওজন কম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। এটি ফ্যাটি এসিড সংশ্লেষণ এর ফলে শরীরে ওজন কম করতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীরে চর্বি এবং কার্বোহাইড্রেট হজম করতে এবং তার শোষণ কম করতে সহায়তা করে থাকে। (১২)

ডার্ক চকোলেট খাওয়ার ফলে স্থূল মহিলারা খুব শীঘ্রই ওজন কম করতে পারে। মাত্র ১০০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট এই প্রায় ৬০০ ক্যালরি রয়েছে। তাই একদিন একাধিক ডার্ক চকোলেট খাবেন না। খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন, দেখবেন খুব অল্পসময়ের মধ্যেই এটি আপনার ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করবে।

১৪) ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায়

ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে চকলেটের গুরুত্ব আমরা প্রায় সকলেই জানি। যে কারণে অনেকে মুখে চকোলেট দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক কিংবা চকোলেট ফেসিয়াল ব্যবহার করে থাকে। এটি ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্রতা প্রদান করে উজ্জ্বল করে তোলে।

ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদানগুলো ত্বকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদান করে থাকে। যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এছাড়া এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান গুলি ত্বকে ব্রণের সমস্যা কম করে এবং সেই দাগ গুলো কম করতে সহায়তা করে। তাই ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

১৫) চুল পরিচর্যায়

ডার্ক চকোলেট কোকো সমৃদ্ধ একটি উপাদান।  এতে রয়েছে প্রানথোসায়াডিনস সমৃদ্ধ যৌগ গুলি, যা প্রাণীদের শরীরে চুলের বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। (১৩)

ইঁদুরের ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রানথোসায়াডিনস অ্যানাজেন পর্যায়ে চুলের বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

অ্যানাজেন হলো চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যেখানে চুলের গোড়া টি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যদিও এখনো গবেষণা চলছে ডার্ক চকোলেট চুলের স্বাস্থ্যের উপর কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ডার্ক চকোলেটে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা চুলের স্বাস্থ্য কে উন্নত করতে সহায়তা করে। (১৪)

ডার্ক চকোলেটের পুষ্টিমূল্য

ইতিমধ্যেই ডার্ক চকোলেটের উপকারিতা গুলি সম্পর্কে আমরা জেনে নিয়েছি। এবার ডার্ক চকোলেটের মধ্যে কি কি উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে সেটা বিস্তারে আলোচনা করব।

একটি ১০০ গ্রাম ডার্ক চকোলেটের বারে ৬০০ ক্যালরি থাকে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কোকো সামগ্রী উপাদান হয়। তবে দৈনিক ১০০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট কখনোই গ্রহণ করবেন না।

মোটামুটি এক আউন্স ডার্ক চকোলেটে প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার, ২৭% ডিভি ম্যাঙ্গানিজ, ২৫% ডিভি আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে। ডার্ক চকোলেট কোকো সামগ্রী থেকেই আসে। ডার্ক চকোলেটে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান গুলির মধ্যে রয়েছে তামা, দস্তা, ফসফরাস।

আসুন তাহলে দেখে নিন এর মধ্যে কত পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে (USDA):

  • ক্যালোরি ৬০৫ কেসিএএল
  •  কার্বোহাইড্রেট ৪৬.৩ গ্রাম
  •  ফাইবার ১১ গ্রাম
  •  চিনি ২৪.২ গ্রাম
  •  ফ্যাট ৪৩.১ গ্রাম
  •  সম্পৃক্ত ফ্যাট ২৪.৭ গ্রাম
  •  প্রোটিন ৭.৯ গ্রাম
  • ভিটামিন-এ ৩৯.৪ আই ইউ
  •  ভিটামিন কে ৭.৪ এম সি জি
  •  ক্যালসিয়াম ৭৩.১ মিলিগ্রাম
  •  আয়রন ১২ মিলিগ্রাম
  •  ম্যাগনেসিয়াম ২৩০ মিলিগ্রাম
  •  ফসফরাস ৩১১ মিলিগ্রাম
  •  পটাশিয়াম ৭২২ মিলিগ্রাম
  • তামা ১.৮ মিলিগ্রাম।

মিল্ক চকোলেট না ডার্ক চকোলেট – কোনটা ভালো?

মিল্ক চকোলেটে দুধের পরিমাণ বেশি থাকে যার ফলে এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত হয়। তবে এটির স্বাস্থ্যকর গুনাগুন খুব বেশি নেই।

তবে ডার্ক চকোলেট কোকো সামগ্রিক উপাদান যুক্ত হয়, যার ফলে এটি তিক্ত প্রকৃতির হয়। এটি খেতে খুব বেশি ভালো না হলেও এটির প্রচুর শারীরিক উপকারিতা রয়েছে। তাই দৈনিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেট ব্যবহার করা শ্রেয়। কেননা ডার্ক চকোলেট শরীরে ওজন কম করার পাশাপাশি ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যার সাথে লড়াই করতে পারে এবং শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে পারে।

কিন্তু মিল্ক চকোলেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।

ডার্ক চকোলেট কিভাবে ব্যবহার করবেন?

ইতিমধ্যেই ডাক চকোলেটের বিভিন্ন গুনাগুণ সম্পর্কে আমরা জেনে নিয়েছি। তবে ডার্ক চকোলেট কেনার আগে মাথায় রাখবেন বিভিন্ন ধরনের ডার্ক চকোলেট হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার কোনটি প্রয়োজন সেই অনুযায়ী উপাদান দেখে কিনবেন।

ডার্ক চকোলেট সরাসরি খাওয়া যেতে পারে। সরাসরি যদি খেতে স্বাদ খারাপ লাগে সে ক্ষেত্রে দুধের সাথে মিশিয়ে ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। কিংবা এটি গলিয়ে নিয়ে ডার্ক চকলেট সস হিসেবে খেতে পারেন। এছাড়া দৈনিক ডার্ক চকলেট যদি সরাসরি গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে এক থেকে দুই আউন্স ডার্ক চকোলেট গ্রহণ করবেন। কেননা এটি অত্যধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে ফলে সে ক্ষেত্রে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

ডার্ক চকোলেট কিভাবে শনাক্ত এবং সংরক্ষণ করবেন ?

ডার্ক চকোলেট কেনার সময় এর উপাদানের তালিকা দেখে নেবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় উপাদান গুলি দেখে কিনবেন। প্রয়োজনে এটির স্বাদ পরখ করে নিয়ে কিনবেন।

কেন না আসলে ডার্ক চকলেট তিতা প্রকৃতির হয়। যেহেতু কোকো সমৃদ্ধ উপাদান, তাই এটির স্বাদ তিতা হয়।

ডার্ক চকোলেট ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে অনেক দিন অবধি সংরক্ষণ করা যাবে। কিংবা যদি ফ্রিজে রাখতে না পারেন যেকোনো অন্ধকার জায়গায় কৌটোর মধ্যে রেখে দেবেন। যেখানে রোদ পৌছায় না এমন জায়গায়।

ডার্ক চকোলেট -এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডার্ক চকোলেট যেহেতু প্রত্যেকটি সমানভাবে তৈরি হয় না, তাই এটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। ডার্ক চকোলেট যদি অত্যধিক ব্যবহার হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। জেনে নিন চকোলেট গ্রহণের ফলে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে : (১৫)

  •  উদ্বেগ : ডার্ক চকোলেট কোকো সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় এবং এর মধ্যে ক্যাফিন এর পরিমাণ বেশি থাকায় এটি অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এটি পরিমিত পরিমাণে দৈনিক গ্রহণ করতে পারেন।
  •  হার্ট অ্যারিথমিয়া : ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি ডার্ক চকোলেট হৃদযন্ত্রের যেকোনো সমস্যায় হৃদরোগের যেকোনো সমস্যায় একটি দুর্দান্ত উপকারী উপাদান। তবে এর মধ্যে যে ক্যাফিন রয়েছে তা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা ক্যাফিন অ্যারিথমিয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
  •  ডায়াবেটিস : আমরা জেনেছি ডার্ক চকলেট গ্রহণ করলে পরে শরীরে শর্করার পরিমাণ কম হয়। যার ফলে ডায়াবেটিস রোগীরা সুস্থ থাকতে পারেন। তবে ডার্ক চকোলেট যথাযথ পরিমান ব্যবহারের সময় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কিনবেন। কেননা ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত চিনি শরীরের শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করার আগে একবার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে নেবেন।
  •  গর্ভবতী এবং প্রসূতি মহিলাদের ক্ষেত্রে : যে সমস্ত  গর্ভবতী এবং প্রসূতি মহিলারা রয়েছেন তারা ডার্ক চকোলেট এবং অন্যান্য যেকোনো চকোলেট গ্রহণের আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন কিংবা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করবেন। কেননা চকলেট এর মধ্যে থাকা ক্যাফিন আপনার শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করার আগে সংযতভাবে ব্যবহার করুন।
  •  ক্যাফিন জনিত অন্যান্য সমস্যা : ডার্ক চকোলেটের মধ্যে থাকা ক্যাফিন জাতীয় উপাদানগুলি শরীরের বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলে ডায়রিয়া, গ্লুকোমা, উচ্চরক্তচাপ, পেটের সমস্যা, অস্টিওপোরোসিস এর মতন সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে। তাই ডার্ক চকলেট ব্যবহার করার আগে যদি আপনি কোনও চিকিৎসার মধ্যে থাকেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে গ্রহণ করুন।

তাহলে আজকের নিবন্ধ থেকে ডার্ক চকোলেট সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা আমরা প্রত্যেকেই লাভ করেছি। ডার্ক চকোলেট একটি স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার। এতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে, যা মানব স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়। এবং এতে অনেক ক্যালোরি ও আছে যা শরীরের শক্তি সঞ্চয় করতে সহায়তা করে। তবে এটি ব্যবহারের সময় মাথায় রাখবেন এক আউন্স থেকে দুই আউন্সের বেশি এটি দৈনিক ব্যবহার করবেন না। কেননা এটি অত্যধিক পরিমানে ব্যবহার আপনার ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাহলে আজ থেকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এবং রূপচর্চায় তালিকায় ডার্ক চকলেট কে সংযোজন করুন এবং তারপর আমাদের জানাতে ভুলবেন না এই গুলি ব্যবহার করে আপনার কতটা উপকার হয়েছে।

প্রায়শই  জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী  :

ডার্ক চকলেটে কি ক্যাফিন থাকে ?

উত্তর : হ্যাঁ, ডার্ক চকোলেটে মিল্ক চকলেট এর তুলনায় বেশি ক্যাফেইন থাকে। মূলত ডার্ক চকোলেটে কোকো সামগ্রী থাকার কারণে ক্যাফেইনের পরিমাণটা বেশি।

দিনে কতটা পরিমাণ ডার্ক চকোলেট খাওয়া যায়?

উত্তর : একদিনে এক থেকে দুই আউন্স ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। এর বেশি খেলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

ডার্ক চকোলেট কি রাতে খাওয়া যায়?

উত্তর : হ্যাঁ, ডার্ক চকোলেট রাতে খাওয়া যায়। এটি খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই।

ডার্ক চকোলেট কি বাচ্চাদের জন্য ভালো?

উত্তর : হ্যাঁ, বাচ্চাদের জন্য ভালো, যদি বাচ্চা ডার্ক চকলেটের স্বাদ পছন্দ করে। তবে পরিমিত পরিমাণে দিতে হবে।

ডার্ক চকোলেট কি ওজন বৃদ্ধি করে?

উত্তর : হ্যাঁ, যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে এটি ওজন বাড়িয়ে তোলে। কেননা এটিতে অত্যন্ত বেশি ক্যালরি রয়েছে। অন্যথায় এটি যদি প্রত্যেকদিন পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যায়, মানে এক আউন্স বা তার চেয়ে কম সে ক্ষেত্রে এটি ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

15 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch