দারুচিনি তেলের উপকারীতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Cinnamon Oil Benefits and Side Effects

by

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষত ভারতীয় রান্নাঘরে ব্যবহৃত এক অতি পরিচিত মশালা হলো দারুচিনি। আর অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত একটি অতিপরিচিত উপকরণ হলো দারুচিনি তেল। এই দারুচিনি তেলের একটা বেশ উগ্র অথচ মিষ্টি সুবাস রয়েছে যা খুব সহজেই একটা মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করে। দারুচিনি গাছের ছাল এবং পাতার নিঃর্যাস থেকে প্রস্তুত হয় এই তেল।

বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে এই তেল চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপযোগী। যদিও বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বলে এই তেলের উপকারীতা শুধু চুল বলেই নয় মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রেও খুবই কার্যকরী। দারুচিনি তেলের ব্যবহার একাধারে যেমন স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য উপকারী অন্যদিকে মানবদেহের ঘাড় এবং মাথায় ক্যান্সার, টিউমার ইত্যাদি জটিল রোগের সম্ভবনা কমিয়ে দিয়ে  মানুষের শরীরকে নিরাপদে রাখে (1)

দারুচিনি তেলের উপকারীতা

দারুচিনি তেল একাধিক স্বাস্থ্যকর উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে একইসাথে হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে, মধুমেহ বা ডায়বিটিস রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয় এই তেলে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান গুলি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের জ্বলুনির উপশম করে। অ্যারোমাথেরাপিতে এই তেল স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রন করে শরীরকে সচল রাখে।

এছাড়াও একাধিক গবেষণা থেকে জানতে পারা যাচ্ছে  দারুচিনি তেলের সম্ভাব্য উপকারীতা গুলি। দারুচিনি তেলের উপকারীতাগুলি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল –

১. হার্টের বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যোন্নতি

দারুচিনি তেল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিহত করে।

খাদ্য হিসেবে বয়লার মুরগি গ্রহণের ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার যে সম্ভবনা তৈরী হয় তা হ্রাস করে (2)। অপর একটা গবেষণা থেকে জানতে পারা গিয়েছে দারুচিনি তেল সুপারোক্সাইড ডিসমিউটেজ (একটি উৎসেচক বা এনজাইম যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে।)ভূমিকা পালন করে (3)

২. মধুমেহ বা ডায়বিটিস রোগ সারাতে

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে দারুচিনি তেল রক্তে সুগার লেভেল বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। যার ফলে ডায়াবিটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

একটা গবেষণা পত্র প্রকাশিত তথ্য অনুসারে বেশ কয়েক রকম নির্যাসের এরসাথে দারুচিনির নির্যাস মিশ্রিত তেল শর্করার স্তরের দ্রুত ছড়িয়ে পরাকে নিয়ন্ত্রণ করে(4)। ইঁদুরের ওপর হওয়া একটি গবেষণা থেকে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে দারুচিনি তেলে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা সহজেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। একইসাথে দারুচিনি তেল প্যাঙ্ক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ইসলেটের ( অগ্ন্যাশয়স্থিত কোষের সমষ্টি যা ইনসুলিন সহ একাধিক হরমোন নিঃসরণ করে।) কার্যকারিতাকেও উন্নত করে তোলে।

ঐ গবেষণা থেকে আরোও জানা যাচ্ছে ইঁদুরের শরীরে শর্করার মাত্রা সহ্যের প্রকৃতি (5) । এইসব কারণ গুলির জন্যই মনে করা টাইপ ২ ডায়বিটিসের ক্ষেত্রে দারুচিনি তেল খুবই কার্যকরী এবং গুরুত্বপূর্ণও বটে।

৩. ক্যান্সারের চিকিৎসায় সহায়ক

ক্যান্সারের চিকিৎসায় দারুচিনি তেল অন্যতম কার্যকরী একটি ভূমিকা পালন করে। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষত প্রোস্টেট বা শুক্রাশয়, ল্যাঙস বা ফুসসুস, ব্রেস্ট বা স্তনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দারুচিনি তেলকে ক্যান্সার প্রতিরোধক ভূমিকা পালন করতে দেখতে পাওয়া যায় (6)। একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে মাথা এবং ঘাড়ের স্কোয়ামাস এবং ক্যারসিনোমা কোষের ক্যান্সারীয় প্রবণতা খর্ব করার ক্ষেত্রে দারুচিনি তেলে ভূমিকা অনস্বীকার্য। EGFR-TK নামক একটি নির্দিষ্ট ক্যান্সার প্রোটিন কে দমন করে দারুচিনি তেল ক্যান্সার প্রতিরোধক হয়ে ওঠে (1)

৪. কামোদ্দীপক

প্রাণীদেহের ওপর দারুচিনি তেলের সফল প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে এই একাধারে তেল যৌনোদ্দীপনা বৃদ্ধি করে অন্যদিকে শুক্রানুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য রকমভাবে বাড়িয়ে তোলে।

দারুচিনি গাছের ছাল থেকে প্রস্তুত তেল পুরুষ ইঁদুরের দেহে উল্লেখযোগ্য ভাবে শুক্রানুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে। একইসাথে আবার শুক্রানুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য রকম ভাবে হ্রাসও করে (7)  ।

দারুচিনি বা সিনামন প্রজাতির অপর একটি মশলা সিনামোমাম এর ক্ষেত্রেও একইরকম ফলাফল দেখতে পাওয়া যায়। দারুচিনির নির্যাস পুরুষ ইঁদুরের দেহের অণ্ডকোষ,ও  বীর্য থলির ( সিমেনাল ভেসিকলস) ওজন এবং আয়তন বৃদ্ধি করে তোলে। এই গবেষণা থেকে ইঁদুর দেহে সম্ভবায় হরমোনার উদ্দীপনার বিষয়ে জানতে পারা যায় (8)  । অবশ্য দারুচিনি তেলের একইরকম ফলাফলের ব্যাপারে কোনো প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি।

অন্য আরেকটি গবেষণা থেকে জানতে পারা গিয়েছে দারুচিনি গাছের ছাল থেকে প্রস্তুত তেল পুরুষ ইঁদুরদের বংশবৃদ্ধির ক্ষমতাকে নিবিঘ্নে রাখে। এই তেল আবার পুরুষ ইঁদুরদের টেস্টোস্টেরন এবং শুক্রানুর মানোন্নয়ন করে (9)

৫. আলসার বা ঘা নিরামায়ক

দারুচিনি তেল আলসার বা ঘা সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে। হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে দারুচিনির গাছের ছাল থেকে প্রস্তুত তেল অন্যসব তেল অন্যসব তেলের থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরী হয়। পূর্বোক্ত ব্যাক্টেরিয়াটি গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের একটি প্রধাণ কারণ বলে মনে করা হয় (10)।  গ্যাস্ট্রিক মুকোসা বা শ্লেষ্মাঝিল্লির মধ্যে ব্যাক্টেরিয়ার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এরফলে একইসাথে পেকটিক আলসারজনিত ঝুঁকিরও সম্ভবনা বেড়ে যায়।

৬. ফাংগাল ইনফেকশন বা ছত্রাকীয় সংক্রমণ নিরামায়ক

ক্যান্ডিডা সহ একাধিক ছত্রাকীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে দারুচিনি তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বহুক্ষেত্রেই দেখা যায় সংক্রমন প্রতিরোধক ওষুধের তুলনায় এই তেল বেশি উপাদেয় এবং দ্রুত নিরামায়ক। বিভিন্ন গবেষণার থেকে জানা গিয়েছে দারুচিনি তেল (অন্যসব তেলের মতোই) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল উপাদান সমৃদ্ধ। যার মধ্যে মূলত সবই ব্যবহারিক দিক থেকে পরীক্ষিত (11)    ।

দেখা গেছে দারুচিনি তেল একাধিক মোল্ড এবং ইস্টের বিরুদ্ধেই শক্তিশালী প্রতিবন্ধকতা গড়ে তোলে। ক্যাণ্ডিডার ( ফ্লূকোনাজোল নামক সংক্রমন প্রতিরোধক ওষুধের বিরুদ্ধাচরণ করে। )বিরুদ্ধেও কার্যকরী প্রতিরোধ করে (12)

৭. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ প্রতিরোধক

মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে অ্যারোমাথেরাপি একটা অন্যতম পরিচিত চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন এসেনসিয়াল অয়েলের ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যারোমাথেরাপি, শ্বাস প্রশ্বাস এর মাধ্যমে করা ইনহেলেশান অ্যারোমাথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী (13) 

দারুচিনি তেলের মাধ্যমে অ্যারোমাথেরাপির সাহায্যে কলেজ ছাত্রদের ওপর বেশ আশানুরূপ সদ্বর্থ্যক ফলাফল পাওয়া গেছে। এর ফলে একইসাথে যেমন ছাত্রদের হতাশা স্তর কমেছে পাশাপাশি এই তেলের ব্যবহারের ফলে ছাত্রদের মনযোগ এবং ভাবনা চিন্তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য রকম পরিবর্তন ঘটেছে (14)

৮. ত্বকের সৌন্দর্যবর্দ্ধক

দারুচিনি গাছের ছালের নির্যাস থেকে প্রস্তুত তেল ত্বকের ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ এবং ত্বকের অন্যান্য সমস্যার নিরাময়ে সহায়তা করে। তবে এর চিকিৎসাপোযোগী গুণাগুণ এবং কার্যকারীতার বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

দারুচিনি গাছের ছাল থেকে প্রস্তুত তেল উচ্চ মাত্রায় সিনামালদেহাইদ সমৃদ্ধ যা ত্বকের যাবতীয় অস্বাভাবিকত্বের বিরুদ্ধে উপকারী ভূমিকা পালন করে। একাধিক প্রোটিন যা ত্বকের প্রদাহের জন্য দায়ী, দারুচিনি তেল সেগুলিকে প্রতিহত করে (15) 

দারুচিনি তেল ব্যবহারের ফলে খুবই সহজ এবং সাধারণ উপযোগ পাওয়া যায়। একাধিক পদ্ধতিতে এই তেল ব্যবহার করা সম্ভব। তবে যে পদ্ধতিতে আপনার জন্য উপাদেয় হচ্ছে একমাত্র সেটাই অনুসরণ করা উচিৎ অন্যথায় বিপদ হতে পারে।

দারুচিনি তেলের পুষ্টিগত গুণাগুণ

ইতিমধ্যেই দারুচিনি তেলের উপকারীতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবার আমরা দেখবো দারুচিনি তেলের পুষ্টিগত গুণাগুণ।

পুষ্টিগত উপাদানপ্রতি ১০০ গ্রামে পরিমাণ
জল১০.৫৮ গ্রাম
এনার্জি২৪৭ কিলোক্যালরি
প্রোটিন৩.৯৯ গ্রাম
ফ্যাট১.২৪ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট৮০.৫৯ গ্রাম
শর্করা২১৭ গ্রাম
মিনারেলস
ক্যালসিয়াম১০০২ মিলিগ্রা
আয়রণ৮.৩২ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম৬০ মিলিগ্রাম
ফসফরাস৬৪ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম৪৩১ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম১০ মিলিগ্রাম
জিঙ্ক১.৮৩ মিলিগ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ১৭.৪৬৬ মিলিগ্রাম
কপার০.৩৩৯ মিলিগ্রাম
সিলেনিয়াম৩.১ মিউ
ভিটামিনস
ভিটামিন সি৩.৮ গ্রাম
থিয়ামিন০.০২২ মিলিগ্রাম
রাইবোফ্লাবিন০.০৪১ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন১.৩৩২ মিলিগ্রাম
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড০.৩৫৮ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি ৬০.১৫৮ মিলিগ্রাম
ফলেট৬ মিউ
ভিটামিন এ১৫ মিউ
ক্যারোটিন বিটা১১২ মিউ
ক্যারোটিন আলফা১ মিউ
লাইকোপিন১৫ মিউ
ল্যুটেইন + জ্যাক্সনথিন২২২ মিউ
ভিটামিন ই ( আলফা – টোকোফেরল )২৩২ মিউ

সূত্র – (USDA -16 )

দারুচিনি তেল ব্যবহারের পদ্ধতি –

দারুচিনি তেলের নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। আর নানারকমভাবেই এই তেল ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহারকারীর জন্য কোন উপায় টা সঠিক সেটা তাকে দেখে নিতে হবে।

সাধারণত তিনটি উপায়ে দারুচিনি তেল ব্যবহৃত হয়। যথা টপিকালি (মলম আকারে), ওরালি (মুখে মুখে)এবং অ্যারোমাথেরাপি।

টপিকালি – এইক্ষেত্রে অন্য একটি তেল যেমন নারকেল তেলের সাত্যহে ১:১ হারে মিশিয়ে ত্বকে লাগানো যেতে পারে।

ওরালি – ওরালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দারুচিনি তেলের সাথে এক ফোঁটা জল মিশিয়ে তরলটি গলার্ধকরনেরযোগ্য করে তুলতে হয়। এছাড়া এটা বিকল্প খাদ্যদ্রব্য হিসেবে স্মুথির সাথে গ্রহণ করা যায়।

অ্যারোমাথেরাপি – দারুচিনি তেলের গন্ধ শুঁকে অথবা বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন ফুড অ্যাণ্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশান কর্তৃক দারুচিনি তেল খুবই নিরাপদ এবং সাধারণ জিনিস হিসেবে ঘোষিত হয়েছে  (17)

দারুচিনি তেল তৈরীর পদ্ধতি

উপকরণ

  •  দারুচিনি স্টিক
  • ১ লিটার অলিভ অয়েল
  • একটা পাতলা ঝিলঝিলে কাপড়

নির্দেশাবলী

  • একটা বড় মুখের বয়ামে দারুচিনি স্টিক গুলিকে উলম্বভাবে পরপর সাজিয়ে রাখতে হবে। এইভাবে বয়ামটি ভর্তি করতে হবে।
  • অলিভ অয়েল দ্বারা ঐ দারুচিনি স্টিক গুলিকে নিমোজ্জিত রাখতে হবে।
  • বাড়ির মধ্যে কোনো উষ্ণ স্থানে ঐ বয়াম রাখতে হবে। সূর্য রশ্মি প্রবেশ করে এমন কোনো জানলার সম্মুখে ঐ বয়াম রাখলে সব থেকে ভালো হয়।
  • এইভাবে ঐ বয়াম কে ৩ সপ্তাহ রাখতে হবে।
  • দিনে অন্তত ১-২ বার করে বয়ামটি ধরে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। এটা করলে অলিভ অয়েলের সাথে দারুচিনির নির্যাস সহজে মিশে যাবে।
  • ৩ সপ্তাহ পর ঐ বয়াম থেকে পাতলা কাপড়ের সাহায্যে তেল ছেঁকে নিতে হবে। এছাড়াও বয়ামের তেলের সম্পূর্ণ উপযোগ পেতে হলে দারুচিনি স্টিক গুলিকে চেপে ধরে তার মধ্যেকার তেল বের করে নেওয়া যেতে পারে।

এইভাবে খুব সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে দারুচিনি তেল প্রস্তুত করা সম্ভব।

বেশিদিন যাবত দারুচিনি তেল সুরক্ষিত রাখার উপায়

দারুচিনি তেল খুব সহজেই বেশিদিন যাবত মজুত করে রাখা যায়। তবে তার জন্য এই তেল এয়ারটাইট কাচের বয়ামে ভরে রেফ্রিজারেটারে রাখতে হবে। এইভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই তেলের উপযোগীতা পাওয়া যায়।

দারুচিনি তেল পাওয়া যায়

আপনার ইচ্ছানুসারে যে কোনো জায়গা থেকেই এই তেল কেনা যেতে পারে। যেমন যে কোনো মল, নিকটবর্তী ভেষজ ওষুধের দোকান, অথবা অনলাইন স্টোর। এছাড়া খুব সাধারণ কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে বাড়িতেও এই তেল প্রস্তুত করা সম্ভব। ইতিমধ্যে এই এই নিবদ্ধে এই তেল প্রস্তুতের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দারুচিনি তেলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে দারুচিনি তেলের একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তথাপি এই তেলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াকে অস্বীকার করা যায় না। বেশ কয়েকটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল।

ত্বকের সম্ভাব্য সমস্যা

দারুচিনি তেলের মধ্যস্থিত কৌমারিনযুক্ত উপাদান (অবশ্য সিলন প্রকৃতির দারুচিনির ক্ষেত্রে সেই সম্ভবনা কিছুটা হলেও কম।)  ত্বকের সমস্যাকে সামাণ্য হলেও বাড়িয়ে তোলে। মানুষ এবং ইঁদুর উভয়ের ত্বকের ক্ষেত্রেই কৌমারিনের বেশ কার্যকরী প্রভাব রয়েছে।

কৌমারিন সমন্বিত পণ্য ত্বকের সংস্পর্শে এলে পদ্ধতিগত কৌমারিণ শোষন হতে দেখা যায় (18) ।  কৌমারিনের প্রভাবে ত্বকে অস্বস্তি দেখা যায় (19)। ত্বকে এই তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা দরকার। আর কখনই এই তেল সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। সবসময়ই কোনো না কোনো মাধ্যম তেলের সাহায্যে এটা ব্যবহার করতে হবে।

রক্তে শর্করার মাত্রা ঘন ঘন হ্রাস করে

দারুচিনি তেল রক্তে শর্করার মাত্রা ঘন ঘন কমিয়ে দেয়। যদিও এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। ডায়াবিটিস নিরাময়ের ওষুধের সাথে দারুচিনি তেল ব্যবহার করা হলে উভয়ের যৌথ প্রভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ ঘন ঘন কমে যায়।

আপনি যদি ডায়বিটিস বা মধুমেহ রোগের ওষুধ সেবন করেন তাহলে দারুচিনি তেল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

যকৃত বা লিভার ক্ষতিগ্রস্থ করে তোলে

কৌমারিন লিভারেরও যথেষ্ট ক্ষতি সাধণ করে। যদিও এই ব্যাপারেও কোনো প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাহলেও সবসময়ই নিজের শরীর স্বাস্থ্যে ব্যাপারে একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। ইতিমধ্যে যদি আপনি লিভারের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে থাকেন তাহলে দারুচিনি তেল গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

অ্যারোমাথেরাপিতে দারুচিনি তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই তেলের অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপযোগীতা মানুষের মানসিক চাপ, আলসারের সম্ভবনা হ্রাস করতে তো বটেই এমনকি হার্টের সুস্বাস্থ্যও বজায় রাখে। এটা খাদ্য হিসেবেও গ্রহণ করা যায় তবে তার আগে দেখা নেওয়া দরকার ঐ তেলে কৌমারিনযুক্ত উপাদান রয়েছে কিনা। আর লিভারের সমস্যা থাকলেও দারুচিনি তেল বা দারুচিনিযুক্ত দ্রব্যাদিকে বর্জন করা উচিৎ। মধুমেহ বা ডায়বিটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও একইরকম সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার।

সম্ভাব্য জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

কতরকম ভাবে দারুচিনি তেল ব্যবহার করা যায়?

দারুচিনি তেল রান্নার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১/৪ অংশ সাধারণ রান্নার তেলের পরিবর্তে ঐ একই পরিমাণ তেল ব্যবহার করা যেতেই পারে। স্যালাডের স্বাদ এবং গন্ধের বৈচিত্র্য আনতে দারুচিনি তেল ব্যবহার করা যেতেই পারে। এছাড়াও এই তেল মশা মারার কাছে ব্যবহার করা যায়। কিছু গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে মশার ডিম নষ্ট করার কাজে এই তেলের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ৪ আউন্স জলের সাথে ১/৪ চা চামচ বা ২৪ ফোঁটা দারুচিনি তেল মিশিয়ে ঐ মিশ্রণটা বাড়ির চারপাশে, আনাচে কানাচে, গাছে স্প্রে করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।

দারুচিনি তেল ব্যবহারের ফলে কী ত্বকে জ্বালা করে বা প্রদাহ হয়?

হ্যাঁ সেটা করতেই পারে। দারুচিনি তেলের মধ্যস্থিত কৌমারিন ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আবার ত্বক পুড়েও যেতে পারে। যদিও এই উপসর্গ গুলি প্রমাণ করার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। তবুও নির্দিষ্ট কিছু বিধি নিষেধ অনুসরণ করেই এই তেল ব্যবহার করা উচিৎ।

চুলের বৃদ্ধির জন্য দারুচিনি তেল কী উপকারী?

এখনও পর্যন্ত হওয়া কোনো গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে না যে দারুচিনি তেল ব্যবহারের ফলে চুলের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। তবে কেউ যদি এটা একান্তই ব্যবহারে ইচ্ছুক হন তবে তার অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

ওজন হ্রাসের জন্য দারুচিনি তেল কী কার্যকরী?

নাহ এই তথ্য সমর্থনের জন্য কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

দারুচিনি তেল এবং দারুচিনি গাছের ছাল থেকে প্রস্তুত তেলের মধ্যে কী কোনো পার্থক্য রয়েছে?

দারুচিনি তেল তৈরী করার জন্য জলপাই বা নারকেল তেলের সাথে দারুচিনি গাছের ছালের গুড়ো যোগ করা হয়। অন্যদিকে দারুচিনি গাছের ছাল থেকে তৈরী তেল আসলে ছালের মধ্যে উপস্থিত তেল যা সিনেমাসম্যান এসেন্সিয়াল অয়েল /তেল নামেও পরিচিত।

সবচেয়ে ভালো দারুচিনি তেল কোনটি?

সিলন দারুচিনি কে ভালো মানের বলে মনে করা হয়। সুতরাং এই দারুচিনি থেকে প্রস্তুত তেল ভালো হবে এমনটাই মনে করা হয়।

19 References:

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch