ডিমের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Eggs Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

by

সকালে জলখাবার বা ব্রেকফাস্টে পাউরুটির সাথে ডিম সেদ্ধ, পোচ বা ওমলেট অনেকেরই পছন্দ।  ডিম এমনই একটি খাবার যা প্রায় বেশিরভাগ মানুষের পছন্দের তালিকায় পড়ে। যেমন খেতেও সুস্বাদু, দামও সাধ্যের মধ্যে, রান্না করাও সহজ আবার এটি পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ। কিন্তু এর প্রকৃত উপকারিতা অনেকেই জানেন না। আমাদের এই প্রতিবেদনে আপনাদের জন্য রইলো ডিম সম্পর্কিত নানা তথ্য।

ডিমের উপকারিতা

১. ওজন কমাতে

ডিমের সাদা অংশ প্রোটিনে ভরপুর কিন্তু ফ্যাট নেই বললেই চলে। তাই এই ডিমের সাদা অংশ খেলে অনেক্ষন পেট ভরা থাকে। ফলে ওজন কমাতে চাইলে  এটি অনায়াসে খেতে পারেন।

২. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে

ডিমে থাকে ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, অস্টিওজেনিক বায়োঅ্যাক্টিভ, লিউটিন ও জিয়াজ্যানথিন যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে (1) । তাই নিয়মিত ডিম খেলে অকালে হাড়ের সমস্যা বা বাতের ব্যথার সম্ভাবনা কমে যায়।

৩. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে

ডিমে উপস্থিত লিউটিন নামক ক্যারোটিনয়েড দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে (2)।  বিশেষ করে বয়সকালে চোখ নিয়ে যেসব সমস্যা দেখা যায়, তার প্রকোপ কমাতে পারে। এছাড়া ডিমে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করতে উপযোগী।

৪. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে

কম বয়সী বা প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডিম খেলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে বলে জানা যায় একটি গবেষণার মাধ্যমে (3)

৫. এনার্জি বাড়াতে

ডিমে থাকা ভিটামিন বি থেকেই আমরা শরীরে এনার্জি পেয়ে থাকি। তাই ব্রেকফাস্টে ডিম খেতে ভুলবেন না কিন্তু।

৬. পেশির জোর বাড়াতে

প্রোটিনে পরিপূর্ণ ডিম পেশির জোর বাড়াতে সক্ষম কারণ এই প্রোটিন পেশির প্রোটিন সিন্থেসিস ঘটাতে পারে (4)। তাই যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের প্রতিদিন ডিম খাওয়ার কথা বলা হয় কারণ ব্যায়ামের ফলে পেশির যে ক্লান্তি সৃষ্টি হয় তা ডিম কিছুটা দূর করতে পারে।

৭. ক্যান্সার প্রতিরোধে

একটি গবেষণায় জানা গেছে , ডিমে থাকা ভিটামিন ডি, ই ও লিউটিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে (5) । তবে এ সম্পর্কে সঠিক ধারণার জন্য ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া প্রয়োজন।

৮. হার্টের স্বাস্থ্য ও কোলেস্টেরল

ডিম নাকি রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া ডিমে উপস্থিত ওমেগা থ্রি নাকি রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।  তবে এ সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রমাণিত হয়নি এখনও পর্যন্ত।

৯. ব্লাড প্রেসার সঠিক রাখতে

ডিমে থাকা ফসফোলিপিড ব্লাড প্রেসার সঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।

১০. প্রোটিনের উৎস

নানা ধরণের প্রোটিন উপস্থিত থাকে বলে অনেক ডাক্তারই প্রোটিনের সাপ্লিমেন্টের বদলে নিয়মিত ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

১১. গর্ভাবস্থায়

প্রেগন্যান্ট বা গর্ভাবস্থায় ডিম মহিলাদের সঠিক পুষ্টি প্রদান করার পাশাপাশি গর্ভস্থ বাচ্চাকেও পুষ্টি প্রদান করে (6)। এছাড়া ডেলিভারির পরও এটি বাচ্চা ও মা দুজনের জন্যই উপকারি। এটি মাতৃদুগ্ধ পুষ্টিতে পরিপূর্ণ করে।

১২. ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে

ডিমে থাকা প্রোটিন, মিনারেল, বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভেতর থেকে উন্নত করে (7)। তাই সুন্দর ও সজীব ত্বক পাওয়ার জন্য নিয়িমিত ডিম খান।

১৩. চুল বাড়াতে

ডিমে উপস্থিত নানা ধরণের প্রোটিন ও পুষ্টিগুণ চুলের উপযুক্ত খাদ্য বলতে পারেন । তাই এটি চুল বাড়াতে খুবই উপযোগী (8)। নিয়মিত ডিম খাওয়ার পাশাপাশি যদি চুলে নিচে উল্লেখিত প্যাকটি লাগান, তাহলে ফল পেতে পারেন।

প্যাকটি তৈরী করতে কি কি লাগবে ?

  • দুটি ডিম
  • চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব অনুযায়ী জল ঝড়ানো দই
  • এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল

কি করতে হবে ?

প্রত্যেকটি উপকরণকে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এমনভাবে যাতে বেশি পাতলা না হয়ে যায়। তারপর স্ক্যাল্পে ও চুলে ভালোভাবে রেখে দিন। এক ঘন্টা পর শুকিয়ে গেলে কোনো মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

ডিমের খাদ্যগুণ

নিচে ডিমের খাদ্যগুণের সম্পর্কে একটি তালিকা দেওয়া হল (7)

নামপরিমান
                       জল                      ৭৬.১৫ গ্রাম
                      এনার্জি                      ১৪৩ কিলো ক্যালোরি
                     প্রোটিন                      ১২.৫৬ গ্রাম
                      লিপিড                       ৯.৫১ গ্রাম
                     ক্যালসিয়াম                       ৫৬ মিলিগ্রাম
                    ফসফরাস                       ১৯৮ মিলিগ্রাম
                     সোডিয়াম                       ১৪২ মিলিগ্রাম
               লিউটিন + জিয়াজ্যানথিন                       ৫০৫ মাইক্রো গ্রাম
                   ভিটামিন এ                        ৫৪০ IU
                   ভিটামিন ডি                         ৮২ IU

ডিমের ব্যবহার

সকালে ব্রেকফাস্টের সঙ্গে ডিম সেদ্ধ, পোচ বা ওমলেট করে খেতে পারেন। এছাড়া দুপুরের খাবারে বা ডিনারে ডিমের ডালনা বানিয়েও খেতে পারেন। এছাড়া ডিমের নানা ধরণের ডিশ তৈরী করতে পারেন। দিনে একটি করে বা একদিন অন্তর একটি ডিম খাওয়া যেতেই পারে।

ডিমের ক্ষতিকারক দিক

কোনো জিনিসই যেমন মাত্রার অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, তেমনি ডিম ও বেশি খাওয়া উচিত নয়। বেশি ডিম খেলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে তা নিচে উল্লেখ করা হল।

  • এতে ওজন বাড়ার পাশাপাশি হজমেরও গন্ডগোলের সৃষ্টি করতে পারে।
  • ডায়বেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ডিমের কুসুম ক্ষতিকর। একটি গবেষনায় দেখা গেছে অতিরিক্ত ডিম খাওয়া টাইপ ২ ডায়বেটিস এর একটি কারনও হয়ে উঠতে পারে।
  • আর্থ্রাইটিসের হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

তাহলে ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে জানার পর নিশ্চয়ই নিজের খাদ্য তালিকায় এটিকে নিয়মিত যোগ করবেন। তবে তার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না কিন্তু।

8 sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch