দুশ্চিন্তার কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকার | Home Remedies for Anxiety

by

দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ হলো এমন এক মানসিক অবস্থা যা, যে কোনো বিষয়ে বেশি ভাবনার ফলেই সৃষ্ট হতে পারে। এই দুশ্চিন্তার কারণে প্রায়শই আমাদের রাতের ঘুম চলে যায়। এরফলে একাধিক শারীরিক এবং মানসিক রোগ উৎপত্তির সম্ভবনাও বৃদ্ধি পেয়ে যায়। দুশ্চিন্তার মতন মানসিক অবস্থার থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকেই চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হন, পরামর্শ মতন ওষুধ সেবন ও করে থাকেন। তবে কখনও কখনও এইসব ওষুধ সেবনের ফলে একাধিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট এই প্রবন্ধ  থেকে আমরা জানতে পারবো দুশ্চিন্তার কারণ, লক্ষণ এবং তা প্রতিকারের সঠিক উপায় সম্পর্কে।

দুশ্চিন্তার কারণ

একাধিক কারণে দুশ্চিন্তা হতে পারে। দুশ্চিন্তার জন্য দায়ী সম্ভাব্য কারণ গুলি হলো নিম্নরূপ – (1)

  • আত্মীয় স্বজনের থেকে দূরত্ব
  • পারিবারিক ঝগড়া অশান্তি
  • ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মহিলাদের হরমোনের পরিবর্তন
  • কোনো ভয়ানক স্মৃতির কথা স্মরণে এলে
  • বংশগত কারণ  ইত্যাদি।

দুশ্চিন্তার লক্ষণ

দুশ্চিন্তার লক্ষণ গুলি এমনই হয়, যা সহজে গোপণ রাখা যায় না। অতি অল্পতেই মানুষের নজরে পরে। দুশ্চিন্তার সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। সেগুলি হলো যথা –

  • দূর্বলতা
  • নিঃশ্বাস – প্রশ্বাস গ্রহণ বর্জনের ক্ষেত্রে সমস্যা
  • হার্টের গতি বৃদ্ধি পাওয়া
  • মাথা ঘোরা
  • ক্ষুধা মন্দ্রতা
  • ঘুম কমে যাওয়া বা অনিদ্রা
  • অমনোযোগীতা
  • ঘামের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া
  • গা বমি ভাব

দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকার

 দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ দূর করার জন্য কোনো প্রকার রাসয়নিক বা কেমিক্যাল যুক্ত ওষুধ সেবনের প্রয়োজন নেই। ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসার মাধ্যমে অনায়াসেই দুশ্চিন্তা দূর করা সম্ভব হয়। এবার দেখে নেওয়া যাক ঘরোয়া পদ্ধতি গুলি কী কী –

১. কমলালেবু

উপকরণ 

  • ১ চামচ কমলালেবু তেল
  • ১ চামচ ল্যাভেণ্ডার তেল

ব্যবহার পদ্ধতি

উপরিক্ত দুটি তেল নির্দিষ্ট পরিমাণে  মিশিয়ে হালকা গরম করে নিতে হবে। এরপর ঐ তেল মাথায় লাগিয়ে ভালো করে মালিশ করে নিতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

রাতে ঘুমানোর আগে মাথায় মালিশ করা দরকার।

কীভাবে কাজ করে 

মানবদেহে কমলালেবুর উপকারীতার ব্যাপারে সকলেরই জানা আছে। কিন্তু কমলালেবু তেলের উপকারীতার বিষয় সেভাবে পরিচিত নয়। তবে একথা ঠিক যে কমলালেবু তেলের সঠিক ব্যবহার করলে দুশ্চিন্তা থেকে অনায়াসে মুক্তি পাওয়া যায়। এই তেলের ঔষুধি গুণের কারণে এটি অনেক রোগের ক্ষেত্রেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রতিকারের উপায় হিসেবে গণ্য করা হয়। কমলালেবু তেল বা অরেঞ্জ অয়েল অ্যারোমা থেরাপিতে ব্যবহার করা হয়। এই তেলের সুগন্ধ মেজাজ সতেজ এবং ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে এবং যাবতীয় উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার অবসান হয়। (2)     

২. জায়ফল

উপকরণ
১/২ চামচ জায়ফল পাউডার বা তেল

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • খাবারে মশলা হিসেবে জায়ফল পাওডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • জায়ফল তেলের গন্ধ শুঁকলে মেজাজ ফুরফুরে ও তরতাজা হয়ে যায়।

কতবার ব্যবহার করা যায় 

দ্বি প্রাহরিক আহারে এবং রাতের খাবারের সময় মশালা হিসেবে খাবারে মিশিয়ে গ্রহণ করা দরকার।

কীভাবে কাজ করে 

জায়ফল পাওডার খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীর সুস্থ্য রাখতেও সহায়তা করে। এছাড়াও জায়ফলের গুঁড়ো মানসিক চাঞ্চল্য দূর করতে সাহায্য করে। জায়ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হওয়ার কারণে এটা সহজেই দুশ্চিন্তার নিরসন করে। এইসব কারণের জন্যই জায়ফলকে দুশ্চিন্তার উপশমের একটি অন্যতম প্রতিষেধক বলে মনে করা হয়। (3) 

৩. আমণ্ড বা কাঠ বাদাম

উপকরণ 

  • বাদাম তেল
  • ল্যাভেণ্ডার তেল
  • মিশেলিয়া অ্যালবা লিফ তেল

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • সবকটি তেল একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর এই মিশ্রিত তেল মাথায় লাগিয়ে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়

রাতে শোওয়ার আগে মাথায় মালিশ করা দরকার।

কীভাবে কাজ করে 

দুশ্চিন্তার উপশমকারী চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তেল মালিশ। বাদাম তেল, ল্যাভেণ্ডার তেল, মিশেলিয়া অ্যালবা তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় লাগালে অনায়াসেই দুশ্চিন্তার উপশম হয়।  (4)

৪. গাজর

উপকরণ 

  • সতেজ গাজর
  • মিক্সার

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • মিক্সার ব্যবহার করে গাজরের জুস বা রস করে নিতে হবে
  • এরপর এই টাটকা জুস পান করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়

রোজ সকালে গাজরের রস / জুস পান করলে মেজাজ ভালো থাকে। একইসাথে এই রস শরীরের পক্ষেও উপকারী।

কীভাবে কাজ করে

গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, এবং ফাইবার, পটাশিয়াম সহ একাধিক পৌষ্টিক উপাদান যা বহু রোগের প্রতিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাজরে উপস্থিত পটাশিয়াম দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ দূরীকরণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করে। এই কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষজনকে গাজর গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

৫. স্ট্রবেরী

উপকরণ

৮ – ১০ টা স্ট্রবেরী

ব্যবহার পদ্ধতি 

টাটকা স্ট্রবেরী ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যায় 

প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে কয়েকটা করে স্ট্রবেরী খাওয়া যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে 

শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হ্রাস পাওয়ার কারণেও অনেক সময় দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করলে দুশ্চিন্তাজনিত সমস্যা থেকে অনায়াসেই রেহাই পাওয়া যায়। যেহেতু স্ট্রবেরীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তাই খাদ্য হিসেবে স্ট্রবেরী গ্রহণ করলে দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে বলে মনে করা হয়। (5)

৬. পালং শাক

উপকরণ 

সবুজ সতেজ পালং শাক

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • পালং শাক মিক্সিতে বেটে রস করে নিতে হবে।
  • তারপর তা পান করতে হবে।
  • এছাড়া পালং শাক দিয়ে তরকারী তৈরী করেও খাওয়া যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যেতে পারে 

প্রতিদিন ১ গ্লাস পালংস শাকের জুস বা রস পান করা যেতে পারে।

প্রতিদিন ১ বাটি পালংস শাকের তরকারীও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

কীভাবে কাজ করে 

খাদ্য হিসেবে পালং শাক গ্রহণ শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে উপস্থিত ক্যালোরি রক্তে কার্টিকেস্টেরণ (এক প্রকার হরমোন) হ্রাস করতে সহায়তা করে। যা মানসিক চাপ লাঘবে সহায়ক। এই কারণে মানসিক উদ্বেগ দূর করার জন্য পালং শাক গ্রহণ খুবই উপকারী। (6)

৭. অ্যাভোকাডো

উপকরণ 

অ্যাভোকাডোর তেল

ব্যবহার পদ্ধতি 

অ্যাভোকাডো তেল মাথায় লাগিয়ে মালিশ করতে হবে। এছাড়া অ্যাভোকাডো তেল খাদ্য হিসেবেও গ্রহণ করা যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যেতে পারে

 

প্রতিদিন সকালে এটা সেবন করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে 

অ্যাভোকাডোতে এমন কিছু পৌষ্টিক উপাদান রয়েছে যা দুশ্চিন্তা দূরীকরণে সহায়তা করে। অ্যাভোকাডো ভিটামিন বি সমৃদ্ধ হয়, যা দুশ্চিন্তা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও অ্যাভোকাডোতে সেরোটোনিন (এক ধরণের নিউরোট্রান্সমিটার) এবং ডোপামাইন (এক ধরণের হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটার) য়াছে যা মেজাজ সুস্থির রাখতে সাহায্য করে।

৮. রোজমেরি

উপকরণ 

  • ১ চামচ রোজমেরি তেল
  • ১ চামচ পিপারমেন্ট তেল

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • দুটি তেল একসাথে মিশিয়ে গরম করে নিতে হবে।
  • এরপর ঐ মিশ্রিত তেল মাথায় লাগিয়ে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে।
  • এইভাবে দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগের উপশম ঘটবে।

কীভাবে কাজ করে 

একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে রোজমেরি তেল দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ দূরীকরণের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। এছাড়াও রোজমেরি তেল এবং পিপারমেন্ট তেল অ্যারোমা থেরাপির কাজেও ব্যবহৃত হয়। এরফলে দুশ্চিন্তা মুক্তি হয় এবং স্নায়বিক শিথিলতা আসে। (7)

দুশ্চিন্তা উপশমে প্রয়োজনীয় আহার

যেসব খাদ্য গুলি গ্রহণ করলে দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেগুলি হল যথাক্রমে –

  • ফাইবার এবং ওমেগা ৩ পলি অ্যানস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাদ্য দ্রব্য
  • পালং শাক
  • স্ট্রবেরী
  • গাজর
  • কমলালেবু
  • বাদাম
  • মৌরি

দুশ্চিন্তা মুক্তির চিকিৎসা

দুশ্চিন্তা মুক্তির জন্য বিভিন্ন প্রকারের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। যার মধ্যে কয়েকটি নিম্নে আলোচনা করা হলো। (8)

  •  বাসপিরোন এটা এমন এক ধরণের ওষুধ যা মানসিক উদ্বেগ দূর করতে সক্ষম। একইসাথে এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও অনেক কম।
  • অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট উদ্বেগের মাত্রা তীব্র হয়ে উঠলে কখনও কখনও এই ধরণের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মধ্যে রয়েছে সেরোটোনিন রীপ্টেক ইনহিবিটার, এসসিটালোপ্রাম, প্যারোকিস্টিন, এবং সেরোটোনিন – নরপেনফ্রিন রীপ্টেক ইনফিবিটার ইত্যাদি।
  • অ্যাঞ্জেদিয়েজেপিনেস উদ্বেগ নাশক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ার জন্য এই ওষুধের প্রয়োগ অনায়াসেই উদ্বেগের সম্ভবনা দূর করতে পারে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

উদ্বেগ দূরীকরণের উপায়

উদ্বেগ দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অবলম্বন করা যেতে পারে। সেগুলি হলো যথা-

  • মন খুলে হাসি উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা জনিত কারণে যে কোনোরকমের খারাপ কিছু ঘটতে পারে। তাই উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সব সময় মেজাজ ফুরফুরে রাখা জরুরী। মেজাজ ভালো থাকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য গুলির মধ্যে রয়েছে মন খুলে হাসি। মন খুলে হাসলে যে কোনো রকমের চিন্তার থেকে সহজেই নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। এবং এটা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। (9) 
  • শরীরচর্চা বা ব্যায়ম –  প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় নিয়ম মাফিক হাঁটাচলা, জগিং এবং ব্যায়াম সহজেই আপনাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে সহায়তা করে। প্রতিদিন খোলা হাওয়ায় একটু হাঁটাহাঁটি করলে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা যায়। (10) 
  • ধ্যান বা মেডিটেশান ধ্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, ভাবনার ওপর মনোনিবেশ করানো হয়। এরফলে মানসিক এবং স্নায়বিক সুস্থিতি বা আরাম পাওয়া যায়। যোগব্যায়ামের ন্যায় মেডিটেশনও নিউরোট্রান্সমিটারকে নিয়ন্ত্রণ করে যা উদ্বেগের লক্ষণ গুলিকে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। (11)
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম কোনো রকম বাধা না পেয়ে ঘুমোলে খিটখিটে মেজাজ বা দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে থাকা যায়। একইসাথে পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে শরীর এবং মন দুইয়েরই বিশ্রাম হয়। তাই মন এবং মেজাজ উভয়েই ভালো থাকে। (12)
  • ডীপ ব্রিথিং বা গভীরভাবে শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ আমরা যখন খুব মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকি তখন গভীর ভাবে নিঃশ্বাস প্রঃশ্বাস গ্রহণ বর্জন করা উচিৎ। এটা করলে সহজেই মানসিক চাপ দূর হয়। এছাড়াও গভীর ভাবে শ্বাস গ্রহণ করলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছোয় যা আমাদের দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে সহায়তা করে। (13)
  • এসেন্সিয়াল অয়েলের ব্যবহার উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে এসেন্সিয়াল অয়েলের ব্যবহার বহুদিন ধরেই প্রচলিত। এসেন্সিয়াল অয়েলের সাহায্যে মালিশ খুবই কার্যকরী একটি উপায়। এটা যে শুধু দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখে তাই নয় পাশাপাশি ভালো ঘুম হতেও সহায়তা করে।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর খাদ্য যে শুধু স্বাস্থ্যের উপযোগী তাই নয় একইসাথে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আমাদেরকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করে রাখে বলেও জানা গেছে। একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচা তরি তরকারী এবং ফল মূল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ্য থাকে। (14)
  • ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা উচিৎ – ধূমপানের ফলে ক্যান্সারের সম্ভবনা সৃষ্টি হতে পারে। একইসাথে ধূমপানের ফলে মানসিক উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার জন্ম হতেও দেখা যায়। তাই দুশ্চিন্তা মুক্ত নিরোগ জীবন যাপনের জন্য ধূমপানের অভ্যাস অবিলম্বে ত্যাগ করা দরকার। (15)
  • মদ্যপানের অভ্যাস থেকে বিরত থাকা দরকার মদ এবং ক্যাফাইন যুক্ত পানীয় বর্জন করা উচিৎ। মদ বা ক্যাফাইন যুক্ত পানীয় পান করলে প্রাথমিক ভাবে চিন্তা মুক্তি ঘটলেও অদূর ভবিষ্যতে ইহা চিন্তা বৃদ্ধি সহ অন্যান্য শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণ হতে পারে। সেইজন্য মদ এবং ক্যাফাইন যুক্ত পানীয় বর্জন করা উচিৎ। (16)

এই প্রবন্ধ পাঠের পরে আশা করা যায় পাঠক, উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা মুক্তির জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ সেই সম্পর্কে একটা ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। একইসাথে ঘরোয়া উপায়ে দুশ্চিন্তা নাশের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ গুলি সম্পর্কে সম্যক আন্দাজ পাওয়া গেছে। ওপরের প্রবন্ধে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার জন্য কোন কোন খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ করা উচিৎ এবং কোন কোন খাদ্য দ্রব্য বর্জন করা উচিৎ সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই প্রবন্ধ থেকে পাওয়া তথ্যাদি পাঠককে সঠিকভাবে জ্ঞানার্জনে সহায়তা করবে বলে মনে করা হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের সমস্যা কী নির্মূল করা যায়?

হ্যাঁ! সহজ কতক গুলি পদ্ধতি অনুসরণ করলে অনায়াসেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়।

ছয় রকমের অ্যাঙ্কাইটি ডিসঅর্ডার কী কী?

ছয় রকমের অ্যাঙ্কাইটি ডিসঅর্ডার গুলি হলো যথা সোস্যাল অ্যাঙ্কাইটি, প্যানিক ডিসঅর্ডার, স্পেসিফিক ফোবিয়া, অবসেভিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি), পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), জেনেরালাইসড অ্যাঙ্কাইটি ডিসঅর্ডার ইত্যাদি।

অ্যাঙ্কাইটি কী এক ধরণের মানসিক অসুস্থ্যতা?

হ্যাঁ, অ্যাঙ্কাইটি এক ধরণের মানসিক অস্থিরতা।

স্নায়ু উত্তেজনা মুক্ত রাখতে হলে কী কী পান করা উচিৎ?

পালং শাকের রস, কমলালেবুর রস, গাজরের রস, স্ট্রবেরীর রস, মৌরির জল ইত্যাদি।

অ্যাঙ্কাইটি কী মৃত্যুর কারণ হতে পারে?

প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু হলে উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাওয়া যায়। তবে অবহেলা করে দীর্ঘদিন এই অসুখ ফেলে রাখা ঠিক নয়।

16 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

 

Was this article helpful?

LATEST ARTICLES

scorecardresearch