এপসম লবনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – All About Epsom Salt in Bengali

by

আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় এমন বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করে এক চুটকিতে এমন একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো এপসম লবণ। অথচ এটির যথাযথ ব্যবহার কিংবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটির অস্তিত্ব সঠিকভাবে সবার জানা নেই বলে হাতের কাছে থাকা এই সহজলভ্য উপাদানটি ও আমাদের চোখে পড়ে না। রূপচর্চায় বলুন কিংবা সাংসারিক ক্ষেত্রে, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অথবা বাগান পরিচর্যায় সর্বত্রই এর ব্যবহার করা যায়। কোনও অনুষ্ঠান থাকলে সবার প্রথম আমাদের মনে পড়ে কিভাবে নিজেকে আরেকটু উজ্জ্বল করে তুলবো, সে কারণে আমরা পার্লারে যাই। কখনও বডি মাসাজ, কখনো বা বডি স্পা, পেডিকিওর-মেনিকিওর, ফুট স্পা বিভিন্ন কিছু করে থাকি। কিন্তু আপনি হয়তো জানতেন না এইগুলো করতে যে পরিমাণ টাকা-পয়সা আমরা খরচ করে থাকি তার থেকে অনেক কম খরচে এগুলো আমরা বাড়িতেই করতে পারি, আর অবশ্যই তা এপসম লবণ দিয়ে। কেননা বিউটি পার্লার গুলোতেও এগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিংবা আপনার সাধের বাগানে হঠাৎ করে পোকামাকড় দেখা দিয়েছে যা আপনার গাছের ক্ষতি করছে, সেজন্য আপনি চিন্তিত যে কি করে পোকামাকড় কমাবেন। তাতেও আর চিন্তার কিছু নেই, সেখানেও ব্যবহার করা যাবে এপসম লবণ। অথবা বাথরুমে একনাগাড়ে কলের জল পড়ে সাদা দাগ হয়ে গেছে কিংবা জলের আয়রন থাকার কারণে বাথরুমের মেঝেতে বাজে রকমের খয়েরি দাগ হয়ে গেছে ? কিভাবে পরিষ্কার করবেন এই ভেবে নাজেহাল হচ্ছেন? সেক্ষেত্রেও এপসম লবণের ব্যবহার করতে পারবেন। আসুন তাহলে আজকের নিবন্ধ থেকে জেনে নেই একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান এপসম লবণ এর গুনাগুন গুলি। এর পাশাপাশি যে কোনও জিনিসেরই ক্ষতিকর প্রভাব থাকে তেমনি এপসম লবণের ও বেশ কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। আসুন জেনে নিন এপসম লবণ সম্পর্কে :

এপসম লবণ কি ?

এপসন লবণ হল এমন এক ধরনের খনিজ লবণ যা দেখতে সাধারণ লবণের মতো হলেও এর অনেক ভালো গুণ রয়েছে। এটি আমাদের বহু কাজে ব্যবহৃত হয়। মূলত এটিকে এপসন লবণ বলা হলেও আদপে এটি লবণ নয়। কিন্তু কেবলমাত্র দেখতে কেলাসাকার লবণের মতন বলেই একে লবণ হিসেবে পরিচয় করানো হয়। এপসম লবণ এর বৈজ্ঞানিক নাম হল ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। যা আমাদের শরীরের জন্য কিংবা দৈনন্দিন কাজে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ত্বকের মধ্য দিয়ে রক্তে প্রবেশ করে শরীরে বহু কাজ করে থাকে। এটি একটি আয়ন সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় বহু শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত আমরা জল থেকে যে ম্যাগনেসিয়াম পাই, বর্তমানে অধিকাংশই আমরা ফিল্টার করা জল খাই, সে ক্ষেত্রে জীবানু নাশ এর সাথে সাথে জলের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় ম্যাগনেসিয়ামের পরিমানও অনেকটা কমে যায়। যার ফলে শরীরে তার ঘাটতি দেখা যায়। এপসম লবণ শরীরে ম্যাগনেসিয়াম এর চাহিদা পূরণ করে থাকে ()।

এপসম লবণ শরীরে কিভাবে কাজ করে ?

এপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যুক্ত একটি আয়ন সমৃদ্ধ উপাদান, যা ত্বকের সংস্পর্শে আসার ফলে ত্বকের ছিদ্র গুলির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহে পৌঁছায় এবং শরীরের অভ্যন্তরে পৌঁছে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়ে ব্যথা, ঘা এসব সমস্যাগুলির নিরাময়ের ক্ষেত্রে ঔষধ হিসেবে এপসম লবণ গ্রহণ করা হয়। এটি ওষুধ হিসেবেও খাওয়া যায়। তার পাশাপাশি সরাসরি ও শারীরিক প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এটি গ্রহণ করা যেতে পারে। এবারে কি কিভাবে আমরা এপসম লবণ গ্রহণ করতে পারি এবং এপসম লবণ এর কি কি উপকারিতা রয়েছে সেগুলি সম্পর্কে আমরা নিবন্ধের পরবর্তী অংশে আলোচনা করব।

এপসম লবণের উপকারিতা

ইতিমধ্যেই আমরা এপসম লবণ এর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কি কি উপকারিতা রয়েছে কিংবা কি কি গুনাগুন রয়েছে তা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সেগুলির সম্যক ধারণা এখনো আমাদের হয়নি। আসুন এখানে জেনে নিন কিভাবে এপসম লবন এর ব্যবহার করে সুস্থ থাকবেন এবং এপসম লবণ এর কি কি উপকারিতা রয়েছে।

১) মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এপসম লবণ এর ভূমিকা

নিবন্ধের শুরুতেই আমরা জেনেছি এপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস হওয়ায় এটি সহজেই ত্বক শোষণ করে, যার ফলে ত্বকের কোষ গুলিতে ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার হয়। যার ফলস্বরূপ শরীরের বিভিন্ন পেশী, মস্তিষ্ক এবং হরমোন গুলিতে এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই হরমোন গুলির প্রভাবে শরীরের রোগ মুক্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া গুলি নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। একটা সারাদিনের অফিসের কাজের পর বাড়ি ফিরে একটু স্বস্তি আমরা সবাই চাই কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মন চাইলেও শরীর যেন চাপমুক্ত হতে পারেনা। সে ক্ষেত্রে আমরা এপসম লবণের ব্যবহার করতে পারি। এটি শরীরকে এবং মনকে চাপ মুক্ত করতে সহায়তা করবে।

কিভাবে সাহায্য করে ?

স্নান করার জন্য গরম জলে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার এপসম লবণ ব্যবহার করে দেখতে পারেন। দিনের শুরুতে হোক কিংবা দিনের শেষে স্নানটি যেন আপনার পরিপূর্ণ হয়, যা আপনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখবে। আর সেকারণেই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন স্নান করার গরম জলে এপসম লবণ যোগ করে বাথটাবে দশ থেকে পনেরো মিনিটের জন্য শরীরটাকে এলিয়ে রাখুন, যার ফলে শরীরের কোষগুলো তাজা হয়ে উঠবে এবং আপনিও মানসিকভাবে তরতাজা হয়ে উঠবেন।

২) পেশীর টান, পায়ে ব্যথা এবং ঘা নিরাময়ে এপসম লবণ এর ব্যবহার

শরীরের অন্যান্য রোগ গুলির মধ্যে অন্যতম কয়েকটি দৈনন্দিন সমস্যা হলো পায়ে ব্যথা, হঠাৎ পেশী টান কিংবা কোন জায়গায় ঘা হয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে এগুলি নিরাময়ে এপসম লবণের উপকারিতা বহুগুণ কার্যকরী। মূলত এটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এ সমস্ত সমস্যা গুলি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের মধ্য দিয়ে রক্তে পৌঁছে কোষগুলিকে পুনরুদ্ধার করে, যা আবার নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। সে কারণে এই সমস্যাগুলি নিরাময়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই পেডিকিউর এর মাধ্যমে এপসম লবণের ব্যবহার করতে হবে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

একটি গামলায় উষ্ণ গরম জল নিন, তাতে প্রতি লিটার জল হিসাবে ৫০ গ্রাম করে এপসম লবণ যোগ করুন। এবার এপসম লবণ ভালো করে গুলে নিয়ে তার মধ্যে পা দুটো ভিজিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন। অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পারি যে কোনো ক্ষত বা ঘা শুকোতে অনেক সময় লাগে। সেক্ষেত্রে এপসম লবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের থেকে পরামর্শ নিয়ে নিন, যে এটি আপনার জন্য প্রযোজ্য কিনা। কেননা এপসম লবণ যেরকম ক্ষত নিরাময় করে, তেমনি ডায়াবেটিসের পরিমাণ শরীরে অত্যধিক থাকলে সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াই যথাযথ।

৩) ইনসুলিন উৎপাদন এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এপসম লবণের ব্যবহার

বর্তমানে আমাদের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশই আমরা দেখতে পারি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের। এটি যেন একটি সর্বজনীন রোগে পরিণত হয়েছে, যা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ যেমন অত্যধিক মানসিক চাপ, শারীরিক দুর্বলতা কিংবা অধিকমাত্রায় মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ। সেক্ষেত্রে শুরু থেকে যথাযথ চিকিৎসা করলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা অনেক সুস্থ থাকে। মূলত ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পারি তাদের প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ম্যাগনেসিয়াম বেরিয়ে যেতে থাকে, যার ফলে শরীরের কোষগুলি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট এর অভাবে যথাযথ ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না। () সে ক্ষেত্রে শরীরে গ্লুকোজ পরিবহনের মাত্রা কমতে থাকে। যার ফলে গ্লুকোজ রক্তে ইনসুলিনের দ্বারা বিপাক বিহীন অবস্থাতেই থেকে যায়, তার শরীরে যথাযথ কাজ করে না। যার ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে এপসম লবণের অনেকগুলি উপকারিতা রয়েছে এটি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় শরীরে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট সরবরাহ করে। তবে এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীরা এপসম লবণ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে নেবেন যে কতটা পরিমাণ এবং কখন এটি গ্রহণ করবেন। কেননা এটি সকলের শরীরে সমপরিমাণ প্রয়োজন নাও হতে পারে ()।

৪) দুর্দান্ত রেচক হিসেবে এপসম লবণের ব্যবহার

পেট পরিষ্কার করতে অন্যতম একটি জুড়ি মেলা ভার উপাদান হলো এপসম লবণ। দিনের পর দিন পেটের কারণে চিন্তায় রয়েছেন? সঠিকভাবে মল নির্গমন হচ্ছে না? তবে এই উপায়টি আপনার জন্যই। মূলত এপসম লবণ যদি সরাসরি গ্রহণ করা হয় সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের পেটের ভিতরের পেশীগুলি কে কাজ করতে সহায়তা করে। যা অন্ত্রে জলের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে এবং হজম ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায়। যার ফলে শরীর সহজেই বর্জ্যমুক্ত হয়। কোলন শরীরের ভেতরে থাকা বর্জ পদার্থ কে বের করে দিতে সহায়তা করে ()।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

পেটকে সাফসুতরো রাখার জন্য দৈনিক এক গ্লাস জলে ১ চা-চামচ এপসম লবণ গ্রহণ করুন। এটি গরম জলে গ্রহণ করার ফলে শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে, পেট পরিষ্কার থাকবে, পেটে ফাঁপা ভাব কিংবা গ্যাস থাকলে তা নিরাময় হবে।

৫) ছত্রাক নিরাময়ে এবং প্রদাহ কমাতে এপসম লবণের ব্যবহার

যেকোনো ধরনের জীবাণু নিরাময়ে কিংবা ত্বকের প্রদাহ জনিত সমস্যার সমাধানে এপসম লবণ খুব ভালোভাবে কাজ করে। এছাড়াও হাতে যে কোনো রকমের আঁশ ঢুকে গেলে সেগুলো বের করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ থাকে। অনেক সময় কাঠের দরজা কিংবা কাঠের জানলা এসবে আমরা হাত দিলে হাতের মধ্যে আল ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শরীরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সংক্রমণ গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এপসম লবণ। এপসম লবণ এর মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর ম্যাগনেসিয়াম শরীরের যে কোনো রকমের আঘাত, সংক্রমণ, এলার্জির মতন সমস্যাবলীর সমাধান করে থাকে।

কিভাবে সাহায্য করে?

প্রদাহ জনিত কিংবা সংক্রমণজনিত যেকোনো ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা এপসম লবণের ব্যবহার করতে পারি। এক্ষেত্রে সপ্তাহে তিন বার গরম জলে এপসম লবণ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ওই জলে ৩০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখবেন। এক দিনেই তফাৎটা বুঝতে পারবেন যে কিভাবে এটি দ্রুত সমস্যার সমাধান করছে।

৬) ওজন নিয়ন্ত্রণে এপসম লবণ এর ভূমিকা

বর্তমান সময়ে হঠাৎ শরীরের ওজন বৃদ্ধি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ঘরে বসে কাজ, যথাযথ হাঁটাচলা না করার ফলে এবং অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলস্বরূপ আমাদের বহু রোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে শরীরের ওজন কমাতেও এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। যারা নিয়মিত যেকোনো ধরনের শরীর চর্চা করে থাকে তারা যদি এপসম লবণ গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের মধ্যে গিয়ে ফ্যাট কমাতে যেমন সহায়তা করে তাছাড়াও শরীরকে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে থাকে। তাই এক্ষেত্রে সরাসরি কিংবা ঔষধি হিসেবে এপসম লবণ গ্রহণ করতে পারেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন উষ্ণ গরম জলে এপসম লবণ মিশিয়ে তাতে স্নান করুন কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এপসম লবণের ঔষধ গ্রহন করুন। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। কেননা আমাদের প্রত্যেকের শারীরিক গঠন আলাদা, প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজনীয়তা আলাদা, তাই নিজে থেকে সরাসরি ব্যবহার না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

৭) খাবার হজমে এপসম লবণ এর ভূমিকা

এপসম লবণের অনেক উপকারিতা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি। বলা যায়, আমাদের শরীরচর্চায় কিংবা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জাদুর মত কাজ করে এই এপসম লবণ। শরীরের পাশাপাশি পরিপাক ক্রিয়াতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবারকে খুব ভালোভাবে হজম করতে সহায়তা করে। মূলত একটু বেশি ঝাল মসলাদার খাবার খাওয়া হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে আমাদের শরীরে অস্বস্তি হতে থাকে কিংবা সঠিকভাবে পরিপাক না হওয়ার ফলে ঠিকমতন মল তৈরি হয় না, যার ফলে পেটে গ্যাস, পেটে ব্যথার মতন সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে এটি খাবার হজমে সাহায্য করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

রাতের বেলা শুতে যাওয়ার আগে উষ্ণ গরম জলে অল্প পরিমাণে এপসম লবণ নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে সেটা খেয়ে নিলে সেটি সারাদিনের খাবার ভাল করে হজম করতে সহায়তা করে। যার ফলে পেটে গ্যাস কিংবা বদহজমের মতন সমস্যা দূর হয়।

৮) মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যায় এপসম লবণের উপকারিতা

সাইনাসের কারণে মাথাব্যথা হোক কিংবা অন্য যে কোন কারণে মাথাব্যথা আমাদের মধ্যে অনেকেরই একটি দৈনন্দিন সমস্যা, যা সারাদিনের কাজ কে নষ্ট করে দেয়। শরীরে এক অস্বস্তির সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে সাইনাসের কারণে হওয়া মাথা ব্যথা কিংবা মাইগ্রেনের সমস্যা দূরীকরণে অব্যর্থ ওষুধ হিসেবে কাজ করে এপসম লবণ। আমরা অনেকেই দেখেছি দৈনিক একনাগাড়ে কম্পিউটার বা মোবাইল নিয়ে থাকার ফলে কিংবা প্রেসার বেড়ে গেলে কিংবা কমে গেলে হঠাৎ মাথা ব্যাথার শুরু হয়, সে ক্ষেত্রে এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

যারা সাইনাসের কিংবা মাইগ্রেনের কারণে মাথা ব্যথার কারণে এপসম লবণ ব্যবহার করতে চান তারা যেকোন এসেনশিয়াল তেলের সাথে এপসম লবণ মিশিয়ে নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন, তাতে কিছুটা হলেও মাথা ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কিংবা যদি গরম জলে এপসম লবণ ফেলে দিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন সেক্ষেত্রে ও মাথা ব্যথার সমস্যা দূর হতে পারে।

৯) ব্যথা নিরাময়ে এপসম লবণের গুরুত্ব

হঠাৎ করে হোঁচট খেয়ে পা মচকে যাওয়া হোক কিংবা সারাদিন একনাগাড়ে হাঁটাহাঁটির ফলে হওয়া পা ব্যথা কিংবা পোকামাকড়ের কামড়ে হওয়া কোনও জায়গায় ব্যথা, যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এপসম লবণ। এটি ব্যবহারের ফলে খুব সহজেই ব্যথার সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। এছাড়া পোকামাকড় কামড়ালে যে সমস্যা দেখা দেয় কিংবা ক্ষতের সৃষ্টি হয় সেখান থেকেও আমরা খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে পারি। এছাড়াও মৌমাছি হুল ফোটালে কিংবা বোলতা কামড়ালে সেক্ষেত্রেও এপসম লবণ এর সহায়তায় তার চিকিৎসা করা যেতে পারে। অবশ্যই তার সামরিক চিকিৎসা পরবর্তীতে ব্যাপারটা আরও গুরুতর হলে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

পায়ে ব্যথার ক্ষেত্রে একটি গামলার মধ্যে উষ্ণ গরম জল নিয়ে তারমধ্যে এপসম লবণ মিশিয়ে ভালো করে গুলে নিতে হবে। তারপর সেখানে পা চুবিয়ে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে পায়ের টান লাগা কিংবা মচকে যাওয়ার মতন ব্যথা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। তাহলে আর ভাবছেন কেন? ব্যথা যদি আপনার সমস্যা হয় এখনই এটি ব্যবহার করুন।

১০) কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণের এপসম লবণ এর ভূমিকা

শরীরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল আমাদের পেট। পেট যদি সুস্থ না থাকে সারা শরীর যেন অস্বস্তিতে থাকে। তেমনই পেটকে ও সুস্থ রাখার জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে এমনও হতে পারে সঠিকভাবে প্রাতঃকৃত্য সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে শরীর অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যায়। এমনকি ঠিকমতো ঘুম আসে না, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হয়না। তাই এই সমস্যা দূরীকরণে এপসম লবণ আপনাকে সাহায্য করবে এবং সুস্থ করে তুলবে। এপসম লবণ এর মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন সমৃদ্ধ উপাদানগুলি পেটের ভেতর গিয়ে কোষগুলিকে উদ্দীপিত করে তোলে, যার ফলে পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়া সচল হয় এবং মল নির্গমন দ্রুততর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যদি ঠিকমতো মল নির্গমন না হয় সেক্ষেত্রে গ্যাস হয়, বুকে ব্যথার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা যেতে পারে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলে ১ চা চামচ এপসম লবণ মিশিয়ে সেটি পান করুন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করবে। মূলত এটি অন্ত্রের ভেতরে গিয়ে হজম এনজাইমগুলো কে সক্রিয় করে তোলে যার ফলে কোলন শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো কে বের করে দিতে সমর্থ হয়।

১১) ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে এপসম লবণ এর ভূমিকা

শরীরের পাশাপাশি ত্বকেও সমানভাবে কার্যকরী এপসম লবণ। এটির মধ্যে থাকা উপাদান গুলি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে ত্বকের কোষগুলোকে মেরামত করতে সহায়তা করে। যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এটি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বককে হাইড্রেট করতে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সমুদ্রের জলে চান করলে কিংবা সুইমিং পুলের জলে চান করলে সে ক্ষেত্রে ত্বকের রুক্ষতা এবং প্রদাহজনিত সমস্যাগুলি হ্রাস পায়। যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়। ত্বকের ওপরে জমে থাকা মৃত কোষগুলি সরে যায়। ব্ল্যাকহেডস, ট্যান সানবার্নের মতন সমস্যাগুলো দূর হয় ()।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

স্নান করার এক ঘন্টা আগে অলিভ অয়েল এর সাথে এপসম লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে সারা শরীরে মালিশ করলে এক্ষেত্রে শরীরের মৃত কোষগুলি উঠে যাবে এবং শরীরের নতুন কোষ উৎপাদন হবে, যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

১২) চুলকে শক্তিশালী করতে এপসম লবণের ব্যবহার

চুলের যত্নে অর্থাৎ চুলকে পুরোপুরিভাবে মজবুত করতে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এপসম লবণ। মাথার ত্বকের যে কোনো ধরনের সমস্যায় খুশকি কিংবা শুষ্ক স্ক্যাল্পের মতন সমস্যাগুলিকে কমাতে সহায়তা করে এপসম লবণ। এছাড়াও চুলে অতিরিক্ত তেল অপসারণ হওয়াকেও কম করে এই এপসম লবণ। তবে চুলে যদি রং করা থাকে এটি ব্যবহারের আগে আপনাকে সাবধান হতে হবে, কেননা চুলের রং এর সাথে একটি বিক্রিয়া করতে পারে, যার ফলে চুলের রং খারাপ হয়ে যেতে পারে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

চুলে যে কন্ডিশনার ব্যবহার করেন সেটি এবং এপসম লবণ সমান অনুপাতে একটি বাটিতে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এটি চুলের আগা থেকে গোড়া অবধি ভালো করে লাগিয়ে রাখুন এবং তারপর দু মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। দু মিনিট হয়ে গেলে চুলটা ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল কত সুন্দর এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

এপসম লবণের ব্যবহার

ইতিমধ্যেই আমরা এপসম লবণের উপকারিতা গুলি সম্পর্কে জেনে গিয়েছি। এটি ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস। যা আমাদের দৈনন্দিন কাজে এবং শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়। এবার জেনে নিন এটি কিভাবে ব্যবহার করবেন? কখন ব্যবহার করবেন? কেননা একটি ভালো জিনিস সম্পর্কে জানলে তার ব্যবহারটা জানা আবশ্যক। এক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, পায়ে ব্যথা, যেকোনো ধরনের ঘা এর ক্ষত সারাতে, ত্বক পরিচর্যায়, চুল পরিচর্যা কিংবা শারীরবৃত্তীয় যে কোন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে কিভাবে এপসম লবণ ব্যবহার করবো তা আমরা খানিকটা জেনে নিয়েছি। তবে এটি সরাসরি আর কি কি ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন আসুন তা জেনে নিন।

যদি পায়ের সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রে এক কাপ লবণ এক গামলা গরম জলে মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এতে পায়ের পেশি গুলোতে রক্তসঞ্চালন হবে। যার ফলে ব্যথা কমবে।

এছাড়াও শরীর চনমনে রাখতে গরম জলের ব্যবহার করতে পারেন। বাথটবে গরম জল দিয়ে তার মধ্যে দু’কাপ এপসম লবণ দিয়ে দিন। এতে শরীর ভালো লাগবে। এছাড়াও যদি সম্ভব হয় এর মধ্যে আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারকারী বডি ওয়াশ দিয়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে গরম জল আপনার শরীরে সহ্য হয় এরকম তাপমাত্রা নিতে হবে এবং তার মধ্যে বডি ওয়াশ এবং এপসম লবণ কে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর শরীরটাকে ১০ মিনিট তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর মধ্যে আপনি কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন। এতে শরীরের ময়েশ্চারাইজিং এর কাজটা হয়ে যাবে।

পায়ের স্পা এর ক্ষেত্রে যদি মনে করেন পার্লার যেতে ইচ্ছা করছে না, সে ক্ষেত্রে ঘরে বসেই পেডিকিউর করে নিতে পারেন। আপনার হাতের কাছে থাকা একটি সহজলভ্য উপাদান দিয়ে। এক্ষেত্রে খালি প্রয়োজন, এক কাপ ইপসম লবণ একটি পেডিকিউর করার জন্য গামলা এবং একটি পিউমিস স্টোন। এক গামলা উষ্ণ গরম জলে এক কাপ এপসম লবণ দিন। এবার এটি ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর আপনার পা দুটি কুড়ি মিনিটের জন্য তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। কুড়ি মিনিট হয়ে গেলে পিউমিক স্টোন দিয়ে ভালো করে ঘষে নিয়ে ত্বকের মৃত কোষ গুলো তুলে দিন। এতে পা সুস্থ থাকবে এবং পায়ের ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে () ।

জাদুকরী উপাদান হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত ইপসম লবন থেকে পাওয়া ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরের ত্বককে পরিস্রুত করতে সহায়তা করে। এটি আপনি বাড়িতে স্পা হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। চুল, ত্বক, পা সব কিছুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

এপসম লবণের অন্যান্য ব্যবহার

ইতিমধ্যেই আমাদের ত্বকের যত্নে, শরীরচর্চায় দৈনন্দিন কাজকর্মে কি কি ভাবে আমরা এপসম লবণ ব্যবহার করব তা জেনে গেছি। এবার এমন কিছু ব্যবহার জেনে নিন এপসম লবণ এর যেগুলো আপনারা সহজেই করতে পারবেন।

১) কৃষিকাজ – মূলত কৃষিকাজে এপসম লবণের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ হওয়ায় জমির মাটিকে উর্বর করে তুলতে এবং প্রচুর ফলনে সহায়তা করে। যার ফলে কৃষি জমিতে যথাযথ পরিমাণে এপসম লবণ ছড়িয়ে দিলে সেক্ষেত্রে জমির ফলন বৃদ্ধি পেতে পারে। মূলত উদ্ভিদের উর্বরতা বৃদ্ধি করতে এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি ভাবেন আপনার জমিকে আরও উর্বর করে তুলবেন এটির ব্যবহার করতেই পারেন।

২) ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার – হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতেও এপসম লবণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে জমে থাকা ময়লা দূর করতে এবং মেশিন এর ভেতরের গন্ধ কমাতে এপসম লবণের ব্যবহার করা যেতে পারে। কিংবা ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে কোথাও যদি ময়লা আটকে থাকে সে ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়াশিং মেশিন ভালো করে গরম জল দিয়ে ভরে নিতে হবে এবং তারপরে তার মধ্যে এপসম লবণ দিয়ে এবং ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে মেশিনের প্রত্যেকটি কোনা ভালো মতন পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৩) বাগানের কীটপতঙ্গ দূরীকরণে – আপনার সাধের বাগানে হঠাৎ করে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে? যা আপনার গাছগুলি কে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাহলে এটি নিয়ে আপনাকে অত বেশী উদাস হওয়ার দরকার নেই। আপনার কাছে থাকা এপসম লবণ এর সমাধান করে দেবে। বাগানের আশেপাশে কিংবা টবের ধারের দিয়ে অল্প করে এপসম লবণ ছড়িয়ে দিন। এতে কীটপতঙ্গের দৌরাত্ম্য কমবে এবং গাছের মাটি উর্বর হবে।

৪)বাথরুম পরিষ্কার করতে বাথরুমে জলের দাগ কিংবা টাইলসে দাগ, এসব দেখে দেখে ক্লান্ত? তবে আর অপেক্ষা না করে এখনই এপসম লবণ এবং কাপড় কাচার ডিটারজেন্ট সমপরিমাণে মিশিয়ে বাথরুমের মেঝেতে এবং টাইলসের উপর ভালো করে ছিটিয়ে দিন। তারপর দশ পনের মিনিট এটাকে এভাবেই রেখে দিন তারপর যেকোন শক্ত কিছু দিয়ে ভালো করে স্ক্রাব করে নিন। দেখবেন আপনার বাথরুমটা একদম নতুনের মতই ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠবে।

৫) মাটির পুষ্টি উৎপাদনে – ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি যে কোনও মাটিকে উর্বর করে তুলতে সাহায্য করে। এপসম লবণ কৃষিকার্যে এবং বাগান তৈরিতে খুব ভালোমতো ব্যাবহার করা যেতে পারে। যার ফলে আপনার গাছ ভালো মতন বেড়ে উঠবে।

৬) জুতার গন্ধ দূরীকরণে – গরমকাল পড়লেই পায়ে ঘামের গন্ধ হবেই। অফিসে স্কুলে পায়ে জুতো তো পরতেই হবে আর অবশ্যই তা বুট জুতো। কিন্তু জুতো তো পড়ে নিলেন, গন্ধের লজ্জায় লোকের সামনে জুতো খোলা দায় হয়ে ওঠে। তবে এই সমস্যা থেকেও আপনি মুক্তি পাবেন এপসম লবণ এর সহায়তায়। বাইরে থেকে এসে রোজ উষ্ণ গরম জলে এপসম লবণ মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন এর ফলে দেখবেন পা খুব বেশি ঘামবে না এবং আপনার জুতো’তেও গন্ধ হবে না।

৭) বাতের ব্যথা নিরাময়ে – ইতিমধ্যেই আমরা পড়েছি কিভাবে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা নিরাময়ে এপসম লবণ আমাদের সহায়তা করে। তেমনি বাত জনিত কারণে যে সমস্ত ব্যথা হয় সেগুলি কমাতেও এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এপসম লবণ উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে চান করলে বাতের ব্যাথার মত সমস্যাগুলি থেকে সমাধান পাবেন।

কোথা থেকে এপসম লবণ কেনা যায়?

ইতিমধ্যেই আপনারা এপসম লবণের উপকারিতা গুলি সম্পর্কে জেনে নিয়েছেন। এমন একটি উপাদান যদি বাড়িতে থাকে সেক্ষেত্রে অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই এইটা আমরা ব্যবহার করতে পারি। যার ফলস্বরূপ প্রতিকার মিলবে। বাড়িতে শরীরচর্চা থেকে শুরু করে বাগান পরিষ্কার করা কিংবা ঘরবাড়ি রান্নাঘর ঝাঁ-চকচকে রাখা সবকিছুতেই এপসম লবণ সহজেই ব্যবহার করা যায়। এমনকি এর ব্যবহারবিধি গুলো জেনে নিয়েছেন। যা ব্যবহার করা একেবারেই সহজ এবং ইতিমধ্যে আপনি জেনে গিয়েছেন এটি কোন কোন ক্ষেত্রে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। তবে আর অপেক্ষা কিসের এখনই বাড়িতে নিয়ে আসুন এমন একটি দ্রব্য যা আপনাকে সর্বৈব সাহায্য করবে। এটি কেনার জন্য আপনি আপনার এলাকার যে কোন কসমেটিকের দোকানে খোঁজ করতে পারেন অথবা অনলাইনে যে ধরনের পণ্য বিক্রয়কারি সাইট গুলো রয়েছে সেখানে দেখতে পারেন। সহজেই সেখানে এপসম লবণ পাওয়া যাবে এবং দামও আপনার সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে।

এপসম লবণের ক্ষতিকর দিকগুলি কি কি ?

প্রত্যেকটা জিনিসেরই যেমন উপকারী কিছু দিক থাকে, তেমনি কিছু না কিছু ক্ষতিকর প্রভাব থাকে অর্থাৎ আমরা জানি যে কোনো জিনিসই খুব বেশি হারে ব্যবহার করতে থাকলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পরে। তেমনি এপসম লবণের ও ক্ষতিকর কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। অবশ্যই তালিকাটা খুব একটা বেশি নয়। জেনে নিন কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এপসম লবণ থেকে হতে পারে।

  • পায়ের ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে

যে সমস্ত ডায়াবেটিসের রোগীরা রয়েছেন তাদের যদি পায়ে যে কোন ধরনের ঘা কিংবা কাটাছেঁড়ার সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে এপসম লবণের জলে পা চুবিয়ে রাখলে সেখানকার ত্বককে এটি আরো শুষ্ক করে তোলে এবং যার ফলে ত্বকে এক ধরনের জ্বালা ভাব এর সৃষ্টি হয়। এমনকি এটি ক্ষত কে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা এপসম লবণ যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

  • ডায়েরিয়া হতে পারে

আমরা জানি এপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস এবং যা আমাদের শরীরের রেচন ক্রিয়া কে প্রভাবিত করে। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য আমরা এপসম লবণ ব্যবহার করে থাকি। এক্ষেত্রে ডোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে অত্যধিক এপসম লবণ গ্রহণ করার কারণে ডায়েরিয়া দেখা দিতে পারে। কেননা এটি রেচন ক্রিয়া কে প্রভাবিত করছে। যার ফলে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণের ফলে শরীরে ডায়েরিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই যে কোনো জিনিসই অল্প পরিমাণে প্রথমে ব্যবহার করা উচিত। এটিও তার বিকল্প নয়। এটিকে ভালোভাবে বুঝে শুনে ব্যবহার করুন।

ইতিমধ্যেই আমরা আজকের নিবন্ধ থেকে এপসম লবণ এর বিভিন্ন কার্যকরী গুনাগুন, তার উপকারিতা, অপকারিতা এবং এটি কিভাবে আমাদের সহায়তা করে তার পদ্ধতি গুলো জেনে নিয়েছি। তবে আর এবার অপেক্ষা কিসের? আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আজ বাড়িতে নিয়ে আসুন এপসন লবণ। এটি উদ্ভিদ প্রাণী উভয়ের কাছেই একটি কার্যকরী উপাদান। মূলত এটির ব্যবহার শুরু হয়েছিল প্রাণীদের ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহার করেই। পরবর্তী সময়ে এর গুনাগুন এত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এ কারণেই মানুষ এবার এপসম লবণ কেনার তাগিদ অনুভব করছেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

আর্থারাইটিস বা বাত নিরাময়ে কি এপসম লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে?

উঃ হ্যাঁ, আর্থারাইটিস কিংবা বাতের মতন সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে এপসম লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি যেকোনো ব্যথা জায়গাতেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমিয়ে ক্ষত সারিয়ে তোলে। এর মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম শরীরের কোষগুলোকে ত্বরান্বিত করে। যার ফলে শরীরে প্রদাহ গুলির যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব হয়।

এপসম লবণের পরিবর্ত হিসেবে কি ব্যবহার করা যেতে পারে?

উঃ এপসম লবণ মূলত এক ধরনের খনিজ লবণ। এর পরিবর্তে হিসেবে সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ওটমিল, অ্যাপেল সিডার ভিনিগার বা যেকোনো এসেনশিয়াল অয়েল স্পা করার ক্ষেত্রে কিংবা চুল পরিচর্যা ব্যবহার করা যেতে পারে এটির পরিবর্ত হিসেবে।

এপসম লবণ কি খাওয়া যেতে পারে?

উঃ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এপসম লবণ মৌখিকভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কেননা এটি রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণকে হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে এপসম লবণ যখন গ্রহণ করবেন সে ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে এবং অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ গ্রহণ করবেন।

গর্ভবতী মহিলাদের এপসম লবণ ব্যবহার করা কি ঠিক হবে

উঃ হ্যাঁ গর্ভবতী মহিলারা এটি ব্যবহার করতে পারেন বাথটাবে জল উষ্ণ গরম করে তার মধ্যে মিশিয়ে 10 মিনিট তার মধ্যে শুয়ে থেকে উষ্ণ গরম জল দিয়ে গা ধুয়ে নিতে হবে তবে মৌখিকভাবে এটি গ্রহণ করা যাবে না

এপসম লবণের ভাপে কি অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে থাকা যায়?

উঃ এপসম লবণে মোটামুটি পনেরো মিনিট অবধি শুয়ে থাকা যায়। বিশেষত শরীরের যেকোনো ধরনের ব্যথা বেদনা কমানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে বাথটাবে এপসম লবণ উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে গরম ভাব নিতে পারেন।

এপসম লবণ কি পান করা যায়?

উঃ এমনিতে এপসম লবণ একটি নিরাপদ উপাদান। কিন্তু এর মধ্যে ম্যাগনেসিয়ামের আধিক্য থাকায় এটি মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ করার ফলে ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, পেটে ব্যথা হতে পারে। তাই এটি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করবেন। অন্যথায় হিতে বিপরীত হতে পারে।

6 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?

LATEST ARTICLES

scorecardresearch