ফ্যাটি লিভারের কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার | Fatty Liver Causes, Symptoms and Remedies in Bengali

by

বর্তমান জীবন বড়ই ব্যস্ততার। দৌড়ঝাপের মাঝে খাওয়াদাওয়া এবং শরীরের সঠিক যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না অনেকেরই। অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার ফলস্বরূপ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে নানা অসুখ বিসুখ। সেই সমস্ত সমস্যার মধ্যে একটি হল ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আজকাল অনেকের মধ্যে দেখা দেয়। তবে এটি এমন একটা রোগ যাকে আমরা খুব একটা আমল দিই না। খুব সাধারণ একটি সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেকে ভাবেন ফ্যাটি অ্যাসিড তেমন কোনও গুরুত্বর সমস্যা নয়। কিন্তু সত্যিই কি ফ্যাটি অ্যাসিড সাধারণ সমস্যা? এতে ভয়ের কিছু নেই? চিকিৎসকদের মত কিন্তু এমনটা নয়। সঠিক সময় ফ্যাটি অ্যাসিড ধরা না পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা না করালে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণ, লক্ষণগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। সেইসঙ্গে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায় দেওয়া হল।

 ফ্যাটি লিভার কী?

আমাদের শরীরের অঙ্গগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্গ যকৃৎ বা লিভার। যকৃতের অন্যতম কাজ হল খাবার হজম করা, খাবার থেকে পাওয়া শক্তি সঞ্চয় করা এবং শরীর থেকে টক্সিন বর্জন করা। লিভারের কোষগুলির মধ্যে নানা কারণে ফ্যাট জমতে থাকে। সেটা পরিমাণ যদি খুব কম হয় তাহলে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু ফ্যাট বেশি জমলেই ভয়ের কারণ। ফ্যাটি লিভার দু’ধরণের হয় – অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এএফএলডি) এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)।

প্রথমটি শুনেই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন এটি মদ্যপানের কারণে হয়। অত্যধিক অ্যালকোহল সেবনের ফলে লিভারে প্রচুর ফ্যাট জমে। যা লিভারের নানা রোগ, এমনকী লিভারে সিরোসিস ইত্যাদি সমস্যা ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধরণের ফ্যাটি লিভার বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন ওবিসিটি, হাই ব্লাড সুগার, হাই লিপিড প্রোফাইল, উচ্চ রক্তচাপ অথবা হাই বিএমআই-এর কারণে লিভারে ফ্যাট জমতে পারে। মেয়েদের মধ্যে যেহেতু শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বেশি থাকে, তাই লিভারে ফ্যাট জমার সম্ভাবনাও বেশি। গর্ভাবস্থার সময়ও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের কারণ

কিছু মুখ্য কারণ রয়েছে যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। নীচে সেই কারণগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল (1) –

অত্যধিক ক্যালোরি – অত্যধিক ক্যালোরি যুক্ত খাবার বেশি খেলে লিভারে ফ্যাট তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত মেদ ফ্যাটি লিভারের সমস্যা জন্ম দেয়।

লিভারের কার্ষকারিতা কম হলে – এটি ফ্যাটি লিভার হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যখন কোনও কারণে লিভারের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়, তখন এটি ফ্যাট ছিন্ন করার প্রক্রিয়াটি পরিচালন করতে অক্ষম হয়। ফলস্বরূপ, লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে থাকে। পরবর্তীকালে তা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা সৃষ্টি করে।

শারীরিক সমস্যা- নির্দিষ্ট কোনও সমস্যা, যেমন স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হাই ট্রাইগ্লিসারাইডস (রক্তে উপস্থিত এক ধরণের ফ্যাট) ইত্যাদির কারণে লিভার সম্পর্কিত ঝুঁকি বাড়ায়। এই ধরণের শারীরিক সমস্যা থাকলে ফ্যাটি লিভার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মদ্যপান – যেমনটা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, যে অ্যালকোহল সেবনও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদি তা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তাহলে লিভার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে যায়।

দ্রুত ওজন হ্রাস – খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর কারণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হাজির হতে পারে। কারণ লিভার হজম প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় ডায়েট না পাওয়ায় লিভারের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। ফলস্বরূপ, যাই খাবেন তা সরাসরি চর্বি হিসেবে লিভারে জমা হতে থাকবে।

নোট – অনেক সময় উপরিউক্ত কারণগুলি ছাড়াও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ

প্রথমেই উল্লেখ করা হয়ে যে, ফ্যাটি লিভার খুব সাধারণ একটি সমস্যা। সেই জন্য শুরুর দিকে এর তেমন কোনও লক্ষণ বুঝতে পারবেন না। যখন ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ দেখা দেয় তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ কয়েক বছর অথবা দশক ধরে কোনও লক্ষণ ছাড়াই লিভারের ক্ষতি করে যেতে পারে। সমস্যা মাত্রা ছাড়ালেই এর সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণগুলি দেখা দেয়। এই ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পার (1) ।

ক্লান্তি – ফ্যাটি লিভারের অন্যতম লক্ষণ এর কারণে রোগী আরও ক্লান্ত বোধ করে। আসলে এই সমস্যার কারণে শরীরে শক্তির অভাব দেখা দেয়।

ওজন কমে যাওয়া – ফ্যাটি লিভার পাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলস্বরূপ চর্বিযুক্ত লিভারের লক্ষণ হিসেবে রোগীর ওজন দ্রুম কমতে শুরু করে।

পেটের সমস্যা – ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হজম প্রক্রিয়ায় ব্যঘাত ঘটায়। সেই কারণে রোগীর নানা পেটের সমস্যা দেখা যায়।

দুর্বলতা – ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিক পরিমাণে পুষ্টি পায় না। তাই পুষ্টির অভাবে সবসময় দুর্বল বোধ করে।

বিভ্রান্তি – এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কখনও কখনও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির কারণ

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির কারণের কথা বলতে হলে এর অনেক প্রকার রয়েছে। সঠিক তথ্য এবং যথাযত সাবধানতা অবলম্বণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক ফ্যাটি লিভারের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলি কী কী (2) (3) –

স্থূলতা – স্থূলতা ফ্যাটি লিভারের জন্য় একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমাগত ওজন বৃদ্ধি এই সমস্যাটিকে আরও মারাত্মক করে তুলতে পারে।

ডায়াবেটিস – ফ্যাটি লিভার এবং ডায়াবেটিস একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার ব্লাড সুগারের অতিরিক্ত মাত্রার কারণে হয়ে থাকে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিসের সমস্যাগুলি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

হাই কোলেস্টেরল – রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়াতে পারে। সুতরাং সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

হাই ট্রাইগ্লিসারাইডস – ফ্যাটি লিভারের জন্য হাই ট্রাইগ্লিসারাইড বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এর অত্যধিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় লিভার ফেলিওরও হতে পারে।

হাই ব্লাড প্রেসার – ফ্যাটি লিভার অ্যাসিডের ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম হল উচ্চ রক্তচাপ। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দ্রুত ওজন হ্রাস – ওজন কমানোর তীব্র ইচ্ছা আপনাকে ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত করতে পারে। আসলে ওজন কমানোর লালসায় মানুষ সুষম খাদ্য এড়িয়ে যায়। এই কারণে পাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয় এবং লিভারের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে।

গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি – বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাটি গ্যাস্টিক বাইপাস সার্জারির পর রোগীর মধ্যে দেখা যায়।

অন্ত্রের সমস্যা – অন্ত্রের রোগও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

বিশেষ ওষুধের প্রভাব – বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং ক্যান্সার ওষুধের মতো নির্দিষ্ট ওষুধ ফ্যাটি লিভারের কারণ হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের ঘরোয়া প্রতিকার

আপনার রান্নাঘরে এমন অনেক জিনিস মজুত রয়েছে যা ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কিছু ঘরোয়া উপায় –

১. হলুদ দিয়ে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা

সামগ্রী

  • এক গ্লাস দুধ
  • এক চামচ হলুদ

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • প্রথমে দুধ গরম করে নিন।
  • তাতে এক চামচ হলুদ দিন।
  • দুটোকে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • তারপর হলুদ দেওয়া দুধ খেয়ে নিন।
  • প্রতিদিন নিয়ম করে হলুদ দেওয়া দুধ খান

উপকারিতা

হলুদে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হলুদে উপস্থিত এই উপাদানগুলি লিভার সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই বৈশিষ্ট্যগুলি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, লিপিডগুলিকে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ইনসুলিন প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। সেই কারণে হলুদকে লিভার সম্পর্কিত সমস্ত ব্যাধি দূর করতে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয় (4) (5)।

২. গ্রিন-টি ফ্যাটি লিভারে উপকারী

সামগ্রী

  • এক চামচ গ্রিন টি
  • দুই কাপ জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • প্রথমে একটি পাত্রে দু’কাপ জল দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন।
  • জল ফুটে গেলে তাতে এক চামচ গ্রিন টি মিশিয়ে দিন।
  • এরপর আরেকবার ফুটিয়ে নিন।
  • ফুটে গেলে গ্যাস বন্ধ করে গ্রিন টি কাপে ছেঁকে নিন।
  • মিষ্টি পছন্দ হলে তাতে হাফ চামচ মধু মেশাতে পারেন।
  • গ্রিন টি দিনে ২ থেকে ৩ বার খেতে পারেন।

উপকারিতা

গ্রিন-টিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্টগুলি বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। একইসঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূ্ণ বিষয়টি হল এতে পলিফেনল (জৈব রাসায়নিক) পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে উপস্থিত পলিফেনলগুলি যকৃতের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। সেই জন্য গ্রিন টি ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে (6) (7)।

৩. আপেল ভিনিগার ফ্যাটি লিভারে উপকারী

সামগ্রী

  • এক চামচ আপেলের ভিনিগার
  • এক চামচ মধু
  • এক গ্লাস গরম জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • এক গ্লাস গরম জলে এক চামচ আপেলের ভিনিগার মেশান।
  • এরপর তাতে এক চামচ মধু যোগ করুন।
  • ভালো করে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন।
  • এরপর মিশ্রণটি খেয়ে নিন।
  • দিনে ১ থেকে ২ বার এই মিশ্রণটি খেতে পারেন।

উপকারিতা

আপেলের ভিনিগারে প্রচুর পরিমাণে এসিটিক অ্যাসিড পাওয়া যায় (8)। যা পরিপাক প্রক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত মেদ গলাতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এতে যে অ্যান্টিটক্সিন বৈশিষ্ট্যগুলি পাওয়া যায় তা লিভারে উপস্থিত বিষাক্ত পদার্থগুলি অপসারণে সহায়ক। এই কারণে আপেল ভিনিগার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া অন্যতম উপায় হিসেবে বিবেচিত হয় (9)।

৪. ফ্যাটি লিভারে লেুব

সামগ্রী

  • অর্ধেক লেবু
  • একগ্লাস জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • এক গ্লাস হালকা গরম জল নিন।
  • তাতে লেবুর রস মেশান।
  • লেবুর রস মেশানো জল খান।
  • দিনে ১ থেকে ২ বার লেবু জল খেতে পারেন।
  • স্যালাডেও লেবু এর লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।

উপকারিতা

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড পাওয়া যায় যা একটি কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গবেষকদের মতে, লেবুতে এই গুণ ফ্যাটি লিভারের সময় কারণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে কাজ করে। সুতরাং বলা যেতে পারে যে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় লেবুর ব্যবহার উপকারী হতে পারে (10)।

৫. ফ্যাটি লিভারে আমলা

সামগ্রী

  • দুটি আমলা
  • এক গ্লাস জল
  • এক চামচ মধু

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • আমলার বীজ বের করে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন।
  • আমলার টুকরো এবং জল গ্রাইন্ডারে দিয়ে ভালো করে পিষে নিন।
  • এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে নিন।
  • তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন।
  • দিনে ১ থেকে ২ বার এটি খেতে পারেন।
  • এছাড়াও আপনি চাইলে কাঁচা আমলা বা আমলার আঁচারও খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে আমলার মধ্যে এমন গুণ রয়েছে, যা লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সহায়ক প্রোটিনগুলি লিপিড সম্পর্কিত মেটাবলিজম প্রক্রিয়া বাড়িয়ে লিভারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সেইজন্য বিশ্বাস করা হয় যে চর্বিষুক্ত লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমলা ব্যবহার করতে পারেন (11)।

৬. করলার ব্যবহার

সামগ্রী

  • দুটি করলা
  • লেবুর রস (প্রয়োজনমতো)
  • নুন স্বাদমতো
  • ১ গ্লাস জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • করলা কেটে প্রথমে এর বীজ বের করে নিন।
  • তারপর ছোটো ছোটো টুকরো করে কেটে নিন।
  • তারপর করলার টুকরোতে নুন মেশান, তাতে এর তিতো কিছুটা কমবে।
  • আধঘণ্টা এভাবেই রেখে দিন।
  • তারপর করলা গ্রাইন্ডারে বা জুসারে দিয়ে ভালো করে গ্রাইন্ড করে নিন।
  • মিশ্রণটি পাতলা কাপড় বা ছাঁকনায় ছেঁকে নিন।
  • তাতে প্রয়োজনমতো লেবুর রস এবং নুন মিশিয়ে খেয়ে নিন।
  • প্রতিদিন এটি খেতে পারেন, উপকার পাবেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, করলার মধ্যে ইনফ্ল্যামেশন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করতে চমৎকার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা এটি ব্যবহার করা যেতে পারে (12)।

৭. গম গাছ ফ্যাটি লিভারে উপকারী

সামগ্রী

  • ৮ থেকে ১০টি গম গাছ
  • এক গ্লাস জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • গম গাছ এবং জল একসঙ্গে গ্রাইন্ডারে ভালো করে ঘুরিয়ে নিন।
  • এরপর সুতোর কাপড়ে ছেঁকে নিন।
  • সঙ্গে সঙ্গে মিশ্রণটি খেয়ে নিন।
  • তবে মনে রাখবেন, এতে লেবু বা নুন একেবারেই দেবেন না।
  • দিনে ২ থেকে ৩ বার এটি খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে গমের ঘাসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ফ্যাটি লিভারের সমস্যাগুলির সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে। আরও গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যালকোহল সেবনের ফলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করতে গম ঘাসের ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হতে পারে (13)।

৮. ফ্ল্যাক্স সীড

সামগ্রী

  • এক চামচ ফ্ল্যাক্স সীড পাউডার
  • এক গ্লাস গরম জল
  • লেবুর রস (স্বাদ অনুযায়ী)
  • মধু (স্বাদ অনুযায়ী)

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • ফ্ল্যাক্স সীড পাউডার গরম জলে দিন।
  • ভালো করে জলে মিশিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটিতে স্বাদ অনুযায়ী লেবুর রস এবং মধু মেশান।
  • এরপর মিশ্রণটি খেয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি দিনে ২ থেকে ৩ বার খেতে পারেন।

উপকারিতা

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে ফ্ল্যাক্স সীডে এমন নির্দিষ্ট পুষ্টিগুণ রয়েছে যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করতে পারে। তাই বলা হয় যে ফ্ল্যাক্স সীড ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে (14)।

৯. ফলের ব্যবহার

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ফল সহায়ক হতে পারে। কারণ ফলের মধ্যে রয়েছে ডায়েটরি ফাইবার যা স্থূলতা দূর করতে সহায়ক। যেমনটা আগেই উল্লেখিত স্থূলতা ফ্যাটি লিভারের জন্য একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফল ব্যবহারে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকটা কম করা সম্ভব (15)।

১০. ফ্যাটি লিভারে আদা উপকারী

সামগ্রী

  • আদার টুকরো
  • এক কাপ গরম জল
  • মধু (স্বাদ অনুযায়ী)

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • এককাপ গরম জলে আদার টুকরো মেশান।
  • পাঁচ থেকে দশ মিনিট এভাবেই রেখে দিন।
  • আদার কড়া স্বাদ কম করতে তাতে স্বাদ অনুযায়ী মধু মেশান।
  • মধু মেশানোর পর মিশ্রণটি খেয়ে নিন।
  • দিনে ২ থেকে ৩ বার এটি খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে আদাতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং হাইপোলিপিডেমিক (ফ্যাট ব্রেকার) প্রভাব রয়েছে। সেই জন্য মনে করা হয় যে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় এটি উপকারী প্রমাণিত হতে পারে (16)।

১১. ফ্যাটি লিভারে অ্যালোভেরা

সামগ্রী

  • দুটো অ্যালোভেরার পাতা
  • অর্ধেক গ্লাস জল
  • নুন (স্বাদঅনুযায়ী)

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • অ্যালোভেরার পাতা থেকে শ্বাস বের করে নিন।
  • গ্রাইন্ডারে অ্যালোভেরা জেল এবং অর্ধেক গ্লাস জল দিন।
  • গ্রাইন্ডারে ভালো করে গ্রাইন্ড করে নিন।
  • তৈরি করা জুসে স্বাদমতো নুন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিন।
  • প্রতিদিন এই জুস খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালোভেরার হাইপোগ্লাইসেমিক (রক্তে সুগার কম করে) এবং অ্যান্টিওবেসিটি (স্থূলতা দূর করে) বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই একই বৈশিষ্ট্যগুলির উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যালোভেরার নিয়মিত ব্যবহার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে (17)।

১২. ফ্যাটি লিভারে পেঁপের ব্যবহার

সামগ্রী

  • পেঁপের ৫ থেকে ৬ টুকরো
  • অর্ধেক গ্লাস দুধ

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • পেঁপের টুকরো এবং দুধ গ্রাইন্ডারে ঢালুন।
  • ভালো করে মিক্স করে নিন।
  • তৈরি হওয়া মিল্ক শেকটি খেয়ে নিন।
  • প্রতিদিন এটি খেতে পারেন।

নোট – আপনি চাইলে পেঁপে টুকরো করেও খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে পেঁপের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় উপকারী। পেঁপের ব্যবহার এই সমস্যায় বেশ উপকারী প্রমাণ হতে পারে (18)।

১৩. পেঁয়াজ ফ্যাটি লিভারে উপকারী

 সামগ্রী

  • পেঁয়াজের চারটে টুকরো

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • পেঁয়াজের চার টুকরো সকাল বিকেল খাবারের সঙ্গে খান।
  • যে কোনও খাবার তৈরিতে সামান্য পেঁয়াজ যোগ করুন।
  • খাবারের সঙ্গে স্যালাড তৈরি করেও পেঁয়াজ খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজে কিছু উপাদান রয়েছে যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এর উপর করা গবেষণাও এটি নিশ্চিত করেছে। সুতরাং এটা বিশ্বাস করা হয় যে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় পেঁয়াজ উপকারী হতে পারে (20)।

১৪. মুলেঠি উপকারী

সামগ্রী

  • অর্ধেক চামচ (ছোটো) মুলেঠি বীজের চূর্ণ
  • অর্ধেক কাপ গরম জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • অর্ধেক কাপ গরম জলে মুলেঠি বীজের চূর্ণ মেশান।
  • ১০ মিনিট ওভাবেই রেখে দিন।
  • তারপর ছেঁকে নিয়ে মিশ্রণটি খেয়ে নিন।
  • সপ্তাহে একদিন এটি খেতে পারেন।
  • কয়েক সপ্তাহ অন্তর ফের এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা

এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস মুলেঠির বীজ গ্রহণের ফলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এতে উপস্থিত অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সহায়ক হতে পারে (20)।

নোট – ঠান্ডার সময় মুলেঠির ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এটি ঠান্ডা প্রকৃতির। বিষদে জানতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

১৫. টম্যাটোর ব্যবহার

সামগ্রী

  • দুটো টম্যাটো

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • টম্যাটো স্যালাড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • টম্যাটো টুকরো করে কেটে শুধুই খেতে পারেন।
  • রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।
  • স্যুপ অথবা চাটনি তৈরি করেও খেতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে টম্যাটোর মধ্যের রয়েছে বিশেষ উপাদান লাইকোপিন (lycopene)। যা অ্যালকোহলের ব্যবহারে লিভারের প্রদাহ এবং ক্ষতি নিরাময়ে সহায়ক বলে প্রমাণিত। এই কারণে বলা যেতে পারে যে টম্যাটোর ব্যবহার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করতে উপকারী (21)।

নোট – বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল সেবনের পাশাপাশি টম্যাটোর ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

১৬. লিভার সুস্থ রাখতে মিল্ক থিসল

সামগ্রী

  • এক থেকে দুই চামচ (ছোটো) মিল্ক থিসল চা
  • এক কাপ গরম জল
  • মধু (স্বাদ অনুযায়ী)

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • অর্ধেক কাপ গরম জলে এক অথবা দুই চামচ মিল্ক থিসল মেশান।
  • ৫ থেকে ১০ মিনিট এটি ফুটিয়ে নিন।
  • স্বাদের জন্য সামান্য মধু মিশিয়ে খেতে নিন।
  • দিনে দুই থেকে তিন বার এটি ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিল্ক থিসলের মধ্যে সিলিমারিন নামক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ডিটক্সিফাইয়িং বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সিরোসিস (লিভার সম্পর্কিত রোগ) ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই বলা যেতে পারে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মিল্ক থিসল সহায়ক প্রমাণিত হতে পারে (22)।

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। তাহলে কীভাবে এই সমস্যা এড়াতে পারবেন? সেই বিষয়ে বিষদে জানতে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে সঠিক পরামর্শ নিন। কারণ এই সমস্যা বেড়ে গেলে অপারেশন অথবা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার মতো পরিস্থিতি হাজির হতে পারে। আসুন জেনে নিন কীভাবে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়াতে পারবেন (23) (24), রইল কিছু উপায় –

  • মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই অভ্যাস ত্যাগ করুন।
  • কোলেস্টেরল বেশি হলে তা ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অবলম্বন করে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • আপনার ওজন বেশি হলে শীঘ্র ওজন কম করার চেষ্টা করুন।
  • কাজকর্ম করুন, শারীরিক পরিশ্রম আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
  • ওজন কমাতে গিয়ে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করবেন না, অন্যথায় ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
  • আপনার যদি সুগার থাকে তাহলে নিয়মিত ওষুধ খান এবং এটি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে এবং নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হয় তবে ভিটামিন ই নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। ডায়েট সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের ডায়াগনোসিস

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নির্ণয় করা সহজ নয়। কারণ প্রথম দিকের দিনগুলিতে ফ্যাটি লিভারের কোনও লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না। হ্যাঁ, আপনি কোনও সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন এবং সেই সমস্যাটি দেখার পর ডাক্তারবাবু বলতে পারেন যে আপনি ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় পড়েছেন। সেটি নিশ্চিত করতে তিনি কিছু পরীক্ষাও করাতে বলতে পারেন। যার মাধ্যমে সহজেই এটি সনাক্ত করা যেতে পারে। আসুন জেনে নিন ফ্যাটি লিভার নির্ণয়ের জন্য যেসমস্ত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে (23)।

  • মেডিক্যাল হিস্ট্রি পরীক্ষা করা।
  • ব্লাড টেস্ট, ইমেজিং টেস্ট ইত্যাদি পরীক্ষা করা।
  • লিভারে ফ্যাটের মাত্রা এবং কঠোরতা পরীক্ষা।
  • সন্দেহ আরও গভীর হলে তা নিশ্চিত করতে বায়োপসি সহ বিভিন্ন পরীক্ষা। সেইসঙ্গে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার নাকি নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার তা নির্ধারণ করা।
  • আপনি যদি ইতিমধ্যে নিয়মিত কোনও ওষুধ খাচ্ছেন তাহলে সেটা আপনার চিকিৎসককে জানান। কারণ নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ থেকে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • শারীরিক পরীক্ষায় ওজন এবং উচ্চতা পরীক্ষা করা হবে। এটা জানা দরকার যে স্থূলতা এই সমস্যার কারণ কিনা।

ফ্যাটি লিভারের জন্য এক্সারসাইজ

এই বিষয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে যে হাই ইন্টেসিটির সঙ্গে কম মাত্রায় করা এক্সারসাইজ (অ্যারোবিক্স) ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কিছুটা হলেও কম করতে পারে। অন্যদিকে যদিও এর উল্টোটা হয় অর্থাৎ কম ইন্টেসিটির সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় এক্সারসাইজ (অ্যারোবিক্স) অনুশীলন করা হয়, তবে এটি আগের থেকেও ভালো প্রভাব ফেলবে। এক্ষেত্রে অন্যান্য শারীরিক অনুশীলনের তুলনায় অ্যারোবিক্স ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেক বেশি উপকারী (24) (25)।

ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচার উপায়

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়াতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন  (1):

  • শারীরের প্রয়োজনীয় সঠিক পুষ্টির খেয়াল রেখে ওজন কম করার চেষ্টা করুন।
  • ডায়েট এবং ওষুধ উভয়ের মাধ্যমে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কম করুন।
  • অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • সুষম ও স্বাস্থ্যকর ডায়েট ব্যবহার করুন।
  • শারীরিক ক্রিয়াকলাপে মনোযোগ দিন।
  • আপনার ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

এখন আপনার অবশ্যই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা, এর লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে থাকবেন। প্রতিবেদনে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এটি সনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধের উপায়গুলি নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে লড়ছেন এবং এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছেন তাহলে অবশ্যই সেগুলি কাজে আসবে। আমরা আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনাকে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ফ্যাটি লিভার থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?

একটু সাবধান এবং সতর্ক থাকলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায় উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ফ্যাটি লিভার কতটা গুরুতর?

সাধারণত ফ্যাটি লিভারকে আমরা সাধারণ সমস্যা হিসেবে গণ্য করে থাকি। তবে একে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ ফ্যাটি লিভার হল অনেক বড় কোনও রোগের প্রথম ধাপ। সঠিক সময় খেয়াল না রাখলে ভবিষ্যতে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নিরাময়ে কত সময় লাগে?

১২ সপ্তাহ পরে, ১৩ জন ফ্যাটি লিভার যুক্ত পুরুষের মধ্যে তিন জন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ফ্যাটি লিভার কী সারাজীবন থেকে যায়?

প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার পরিবর্তনযোগ্য, তবে এটি কখনও কখনও লিভারের কঠিন রোগের জন্ম দিতে পারে। তবে আপনি একা নন, টাইপ ২ ডায়াবেটিস সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকার বিষয়টিও একইরকম।

ফ্যাটি লিভার নিয়ে কী দীর্ঘ জীবন কাটাতে পারবেন?

ফ্যাটি লিভার থাকলেও আপনি যদি সচেতন এবং সাবধান থাকেন তাহলে তেমন কোনও ভয়ের কারণ থাকবে না। নিয়মিত সঠিক খাওয়াদাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিক অনুশীলন ইত্যাদির মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং সেইসঙ্গে সারাজীবন তেমন কোনও সমস্যা ছাড়াই কাটিয়ে দিতে পারবেন।

25 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch