মাড়ি ফোলার নিরাময় এবং ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি | Swollen Gums Remedies

by

মুখ আমাদের শরীরের এমন একটা অংশ যার স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য সম্বদ্ধীয় বিষয় গুলি আমরা সবসময় অবহেলা করে থাকি। এই কারণে প্রায়শই মুখ গহ্বরের সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে। কেউ কখনও ভেবে দেখেছেন কী মাড়ির ফোলার জন্য কোন কোন জিনিস গুলি সরাসরি দায়ী থাকতে পারে। অথবা মাড়ি ফোলার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে কোন কোন সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী। এই প্রশ্ন গুলি সম্বদ্ধে যদি আপনার কোনো ধারণা না থাকে তাহলে এই প্রবন্ধটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রবন্ধে মাড়ি ফোলা সংক্রান্ত বিষয় গুলি সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করা হবে।

এখন মাড়ি ফোলার ধরণ গুলি সম্বদ্ধে জেনে নেওয়া যাক।

মাড়ি ফোলার প্রকারভেদ 

মাড়ি ফোলার কারণ গুলি সম্বদ্ধে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা না হলেও মাড়ির সংক্রমণ এবং মাড়ি ফোলার তীব্রতার ভিত্তিতে মাড়ি ফোলাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলি হলো নিম্নরূপ -(1)

১। আংশিক ফোলা যখন মাড়ির ত্রিকোনীয় আকৃতি বিশিষ্ট অংশ যা প্যাপিলাই নামে পরিচিত সেখানে অল্প ফোলা ভাব দেখা যায়। এবং দাঁতের সাথে যুক্ত মাড়ির অংশেই ব্যথা অনুভূত হয়।

২। বৃহদাকারে ফোলা ভাব যখন একাধিক দাঁতের সাথে সংযুক্ত প্যাপিলাই অংশে ফোলা ভাব দেখতে পাওয়া যায় তখন তাকে বৃহদাকারে ফোলা ভাব বলা হয়।

৩। বিস্তির্ণ অংশে ফোলা ভাবযখন মাড়ির প্যাপিলাই ক্ষেত্র সহ মার্জিনাল অংশ অর্থাৎ মাড়ির কিনারের অংশ পর্যন্ত ফোলা ভাব দেখতে পাওয়া যায় তখন তাকে বিস্তির্ন অংশ জুড়ে মাড়ির ফোলা বলা হয়।

মাড়ি ফোলার কারণ

মাড়ি ফোলার জন্য একাধিক কারণকে দায়ী করা যেতে পারে। সেগুলি হলো যথাক্রমে –

  • জিঞ্জিবাইটিস (ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটিত কারণে সৃষ্ট মাড়ির ফোলা ভাব) এর কারণে মাড়ি ফোলা।
  • ভাইরাস বা ফাংগাস সংক্রমণের কারণে মাড়ি ফোলা।
  • অপুষ্টি জনিত কারণে মাড়ি ফোলা।
  • ডেঞ্চার (নকল দাঁত) এরসাথে মুখের অন্যান্য অংশের ঠিক মতন ফিটিংশয়ের অভাবে।
  •  গর্ভধারণের কারণে ।
  • টুথব্রাশ বা মাউথওয়াশের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার অভাবে।
  • স্কার্বি (ভিটামিন সি এর অভাবে সৃষ্ট অসুখ) এর কারণে।
  • কোনো ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া জনিত কারণে।
  • দাঁত অথবা মাড়িতে আটকে থাকা খাদ্য বস্তুর কারণে।

মাড়ি ফোলার লক্ষণ বা উপসর্গ

মাড়ি ফোলার লক্ষণ বা উপসর্গ গুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো – (2)

  • মাড়ি থেকে রক্তপাত
  • মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া
  • মাড়িতে ব্যথা বা যন্ত্রনা সৃষ্টি হওয়া
  • দাঁতে শিরশিরানি ভাব অনুভূত হওয়া
  • নিঃশ্বাস গ্রহণের সময় মুখ থেকে দুর্গন্ধ নির্গত হওয়া।

ঘরোয়া উপায়ে মাড়ি ফোলার চিকিৎসা 

১। লবন জল

উপকরণ

  •  ১ চামচ লবন
  • ১ গ্লাস অল্প গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • অল্প গরম জলের সাথে লবণ মিশিয়ে ঐ জলে কুলকুচি করতে হবে।
  • অধিক উপকারীতা পেতে হলে প্রতিদিন সকালে এবং রাতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
  • এছাড়াও খাদ্য গ্রহণের পর মুখ ধোয়ার জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

 কিভাবে কাজ করে ?

ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা করে মাড়ি ফোলা কমাতে লবণ জল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুখ গহ্বরের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে লবণ জলের সাহায্যে মুখ কুলকুচি খুবই প্রচলিত এবং কার্যকরী একটি ঘরোয়া প্রতিকার বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞরাও এই পদ্ধতিতে চিকিৎসাকে সমর্থন করেন(3)। এছাড়াও এনসিবিআই কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় মুখ গহ্বরের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় লবন জলের ভূমিকা সংক্রান্ত চিকিৎসাটি স্বীকৃতও হয়েছে। ঐ গবেষণায় আরোও বলা হয়েছে যে মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষাই নয় একইসাথে লবণ জল মুখের দুর্গন্ধের প্রবণতাও হ্রাস করে। অবশ্য এই সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। (4)

অন্য একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে লবণাক্ত জল অ্যালভিওলার অস্টিইসিস এর ক্ষেত্রেও খুবই উপকারী হতে পারে। অ্যালভোলার অ্যাস্টেসিস হলো দাঁত বের হওয়ার সময় সৃষ্ট অসহনীয় ব্যথা বা যন্ত্রনা। যখন মাড়ির নিচে অবস্থিত অ্যালভোলার হাড়ও প্রভাবিত হয়। অন্য এক গবেষণা সূত্রে আবার জানা যায় যে স্যালাইন জল মাড়ির ফোলা এবং সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে।(5) (6)

এইসব গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একথা বলা যেতেই পারে যে মাড়ির সংক্রমণ এবং ফোলা ভাব কমাতে লবন জল কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে। যদিও এই সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও সুস্পষ্ট প্রমাণের অভাব রয়েছে। এখনও আরোও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

২। লবঙ্গ তেল

উপকরণ

  •  ২ – ৩ ফোঁটা লবঙ্গ তেল

 ব্যবহার পদ্ধতি

  • মাড়ির ফোলা অংশে লবঙ্গ তেল লাগিয়ে সেটা হালকা হাতে মালিশ করতে হবে।
  • মালিশ করা হয়ে গেলে এইভাবেই লবঙ্গ তেল লাগানো অবস্থায় মাড়ি রাখতে হবে।
  • মাড়ি ফোলা এবং ব্যথা থকে দ্রুত মুক্তির জন্য অনেকে আবার লবঙ্গ তেলের সাথে গোল মরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যবহার করেন।
  • দ্রুত এবং ঠিক মতন উপশমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বিরতিতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফলা পাওয়া যাবে।

 কিভাবে কাজ করে ?

বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে লবঙ্গ তেল ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণ প্রতিরোধক, ব্যথার প্রবণতা খর্বকারী এবং একইসাথে তীব্র যন্ত্রনা নাশক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। এই সকল গুণাবলীর কারণেই লবঙ্গ তেল জিঞ্জিবাইটিস (মাড়ি ফোলার অসুখ) রোগ প্রতিরোধে উপকারী বলে মনে করা হয়। এর ভিত্তিতে সহজেই বলা যেতে পারে যে মাড়ির সংক্রমণ এবং ফোলা ভাব কমাতে লবঙ্গ তেল খুবই ফলপ্রসু এবং লাভজনক হয়। (7)

৩। আদা

 উপকরণ

  • আদার একটা ছোট টুকরো
  •  ১/২ চামচ লবন

ব্যবহার পদ্ধতি

  • আদার টুকরোর সাথে লবণ মিশিয়ে সেটা থেঁতো করে নিতে হবে।
  • মাড়ির ফোলা অংশে এই আদা বাটা ভালো করে লাগিয়ে ১০ – ১২ মিনিট সময় রেখে দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
  • এই প্রক্রিয়া প্রতিদিন ২ – ৩ বার অনুসরণ করা যেতে পারে।

 কিভাবে কাজ করে ?

আদার সাহায্যেও মাড়ির ফোলা ভাবের উপশম হয়। আদা সংক্রান্ত বিষয়ক একটি গবেষণায় আদার ভেষজ গুণাবলীর পরিচয় পাওয়া যায়। মনে করা হয় যে আদা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি (প্রদাহ নাশক), অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল (ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধক), অ্যান্টি ফাংগাল (ছত্রাক নাশক) বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য যৌথভাবে মৌখিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অতএব আদার ব্যবহার মাড়ি ফোলা রোধ করে এবং মাড়ির সংক্রমণ প্রতিহত করে এবং সর্বোপরি বত্থা যন্ত্রনা নাশ করে। (8)

৪। বেকিং সোডা

উপকরণ

  • ১ চামচ বেকিং সোডা
  • ১ চিমটে হলুদ গুঁড়ো

ব্যবহার পদ্ধতি

  • হলুদ আর বেকিং সোডা একসাথে মিশিয়ে মাড়ি তে মালিশ করতে হবে।
  • এরপর জল দিয়ে কুলকুচি করতে হবে।
  • বেকিং সোডা সহযোগে দাঁত ব্রাশ করলেও মাড়ির ফোলা ভাব কম হয়।
  • এই পদ্ধতি রোজ দিনে এবং রাতে অনুসরণ করা যেতে পারে।

 কিভাবে কাজ করে

মাড়ির ফোলা ভাব কম করতে হলে বেকিং সোডার ব্যবহারও লাভজনক হয়। নিউইয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্ত বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে বেকিং সোডা মৌখিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি উপাদান। গবেষণা সূত্রে আরোও জানা যায় যে বেকিং সোডা অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল (ব্যাক্টেরিয়া নাশক) বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয় যা দাঁতের ওপর জমে থাকা প্লাক নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইসাথে বেকিং সোডার অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি ( প্রদাহ নাশক) বৈশিষ্ট্য মাড়ির ফোলা ভাব দূর করতে সহায়তা করে। সুতরাং বলা যেতেই পারে যে মাড়ির সমস্যা দূর করতে হলে বেকিং সোডার ব্যবহার খুবই লাভদায়ক হয়। (9)

৫। পাতিলেবুর রস

 উপকরণ

  • ১ চামচ পাতিলেবুর রস
  • ১ গ্লাস অল্প গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • অল্প গরম জলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে তা দিয়ে কুলকুচি করতে হবে।
  • যতক্ষণ না আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিভাবে কাজ করে ?

ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাড়ির অসুখ জিঞ্জিভিটিস চিকিৎসার জন্য পাতিলেবুর ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে যে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণের কারণে মাড়ির সমস্যা দেখা যায়। পাতিলেবুর রসের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্যর কারণে মাড়ির সংক্রমণ উপশম হয়। এছাড়াও পাতিলেবুর রস ব্যবহারের ফলে প্রদাহ জনিত সমস্যারও লাঘব হয়। তাই বলা হয় ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাড়ি ফোলার চিকিৎসায় পাতিলেবু একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান। (10)

৬। এসেন্সিয়াল অয়েল

উপকরণ

  • ২ ফোঁটা ক্যামোমাইল এসেন্সিয়াল অয়েল
  • ২ ফোঁটা  টি – থ্রি অয়েল
  • ২ ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেন্সিয়াল অয়েল
  • ১ গ্লাস অল্প গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • ওপরিক্তো সবকটা এসেন্সিয়াল অয়েলকে অল্প গরম জলের সাথে মেশাতে হবে। এরপর ঐ মিশ্রিত জল মুখের মধ্যে ২ – ৩ মিনিট সময়ের জন্য রাখতে হবে।
  • এরপর ঐ জলের সাহায্যে মুখ কুলকুচি করে, জল ফেলে দিতে হবে।
  • ব্রাশ করার সময় ব্রাশে কয়েক ফোঁটা টি থ্রি অয়েল লাগিয়ে নিলেও মাড়ি ফোলার উপশম হয়।
  • এই মিশ্রনটিকে দিনে ২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিভাবে কাজ করে ?

ঘরোয়া উপায়ে মাড়ি ফোলার চিকিৎসা করতে হলে এসেন্সিয়াল অয়েল একটি অতি পরিচিত উপাদান। এনসিবিআই পরিচালিত তিনটি ভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে, ক্যামোমাইল, টি –থ্রি এবং পিপারমিন্ট এসেন্সিয়াল অয়েল অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। এই কারণে এই তেলগুলির ব্যবহারের ফলে অনায়াসেই জিঞ্জিভিটিস রোগের উপশম হয়। (11) (12) (13)

৭। ক্যার্স্টার অয়েল সীড বা বীজ

উপকরণ

  •  ১ টুকরো কর্পূর
  • কয়েক ফোঁটা ক্যার্স্টার অয়েল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • কর্পূর গুঁড়ো করে তার সাথে ক্যার্স্টার অয়েল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরী করে নিতে হবে।
  • এবার এই পেস্ট দিয়ে মাড়ির ফোলা অংশ মালিশ করতে হবে।
  • ২ – ৩ মিনিট যাবত এই মিশ্রণ টি মাড়িতে লাগিয়ে রাখতে হবে তারপর অল্প গরম জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করে নিতে হবে।
  • প্রতিদিন অন্তত ১ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

কিভাবে কাজ করে ?

ঘরোয়া পদ্ধতিতে জিঞ্জিভিটিস রোগের চিকিৎসায় ক্যার্স্টার অয়েলের ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে কর্পূর ব্যথা নিরারণকারী বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয় যা অতি সহজেই দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা নিরাময় করে। অন্যদিকে ক্যার্স্টার অয়েল স্থিত রিসিনোলেইক অ্যাসিড অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। তাই বলা যেতেই পারে যে ক্যার্স্টার অয়েল এবং কর্পূরের মিশ্রণ ব্যবহার করলে দাঁতের মাড়ির ব্যথা এবং ফোলা ভাবের দ্রুত উপশম হয়। (14)(15)

৮। বাবুল গাছের ছাল

উপকরণ

  • ১ টুকরো বাবুল গাছের ছাল
  • ১ গ্লাস জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • বাবুল গাছের ছালটি কে ৫ – ৭ মিনিট জলে ফোঁটাতে হবে।
  •  এবার এই ফোটানো জলটিকে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ভালো ফলাফল পেতে চাইলে প্রতিদিন ২ – ৩ বার এই মিশ্রণের সাহায্যে কুলকুচি করা দরকার।

কিভাবে কাজ করে ?

বাবুল গাছের ছালকেও মাড়ি ফোলা এবং ব্যথা কমানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। জার্নাল অফ ফার্মেসি অ্যাণ্ড বায়োলিড সায়েন্সেস দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে বাবুল গাছে ছাল মাড়ির প্রদাহ দূরীকরণের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বাবুল গাছের ছাল মুখ গহ্বরের মধ্যেকার জীবানু নাশ করে। এই তথ্যের ভিত্তিতে একথা বলা যেতেই পারে যে বাবুল গাছের ছাল জিঞ্জিভিটিস কমাতে সহায়তা করে। (16)

৯। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল

  উপকরণ

  •   অ্যালোভেরা গাছের ১ টা পাতা

ব্যবহার পদ্ধতি

  • অ্যালোভেরা গাছের পাতা থেকে জেল বের করে তা মাড়িতে লাগাতে হবে।
  • বেশ অনেকক্ষণ সময় পর্যন্ত এই জেল মাড়িতে লাগিয়ে রাখলে ভালো হয়।
  • মাড়ির ফোলা ভাব থেকে আরাম পেতে হলে অ্যালোভেরা জেল সহযোগে গার্গেল করলেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়।
  •  ভালো ফলাফল লাভের জন্য দিনে ২ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

কিভাবে কাজ করে ?

অ্যালোভেরা জেল মাড়ির সংক্রমণ এবং ফোলা ভাব দূর করতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হিসেবে মনে করা হয়। ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ পিরিয়ডনটোলজি দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায়, অ্যালোভেরা জেলকে দাঁতের মাড়ির প্রদাহ এবং ফোলা ভাব কম করতে খুবই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই গবেষণায় আরোও বলা হয়েছে যে অ্যালোভেরা জেল অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। এই বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে অ্যালোভেরা জেল অতি সহজেই জিঞ্জিভিটিস রোগের নিরাময় করে। (17)

১০। হলুদ গুঁড়ো

 উপকরণ

  • ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো
  •  ১/২ চামচ লবণ
  • ১/২ চামচ সরষের তেল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • সব কটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরী করে নিতে হবে।
  • এই মিশ্রণ ১০ – ১২ মিনিট সময় ধরে মাড়ির সংক্রমিত সংশে লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • পরে জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করে নিতে হবে।
  • প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

 কিভাবে কাজ করে ?

মৌখিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা বজায় রাখার ক্ষেত্রে হলুদ গুঁড়ো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি বৈশিষ্ট্যযুক্ত হলুদ গুঁড়ো মাড়ির সমস্যা প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (18)

 ১১। আপেল সিডার ভিনিগার

  উপকরণ

  • ১ চামচ আপেল সিডার ভিনিগার
  • ১ গ্লাস জল

 ব্যবহার পদ্ধতি

  • ওপরিক্তো উপাদান গুলি একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা দিয়ে মুখ কুচকুচি করতে হবে।
  • প্রতিদিন ২ – ৩ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

কিভাবে কাজ করে ?

এই প্রবন্ধে ইতিমধ্যেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে মাড়ির সমস্যার একটি প্রধাণ কারণ হলো জিঞ্জিভিটিস। আপেল সিডার ভিনিগার এই সমস্যা দূরীকরণে বিশেষ ভাবে সহায়তা করে। আপেল সিডার ভিনিগার অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয় যার প্রভাবে অনায়াসেই মুখ গহ্বর স্থিত ব্যাক্টেরিয়া এবং ফাংগাস নির্মূল হয়ে যায়। একইসাথে এই দুই বৈশিষ্ট্যের জন্য মাড়ির সমস্যাও দূরীভূত হয়ে যায়।(19)

১২। ভ্যানিলা নির্যাস

উপকরণ

  • ১ – ২ ফোঁটা ভ্যানিলার নির্যাস

ব্যবহার পদ্ধতি

  • আঙুলের সাহায্যে ভ্যানিলার নির্যাস মাড়ির আক্রান্ত অংশে লাগাতে হবে।
  • কিছুটা সময় এই নির্যাস এইভাবে মাড়িতে লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • এই প্রক্রিয়া দিনে ২ বার অনুসরণ করা যেতে পারে।

কিভাবে কাজ করে ?

ভ্যানিলার নির্যাসে ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধক বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে যে কারণে মনে করা হয় যে এই উপকরণ দ্বারা মুখ ধোওয়া হলে তা সহজেই মুখ গহ্বর স্থিত ব্যাক্টেরিয়া নির্মূল করবে। এনসিবিআই কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে ভ্যানিলার নির্যাস মুখ গহ্বরের মধ্যেকার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এই গবেষণার ভিত্তিতে একথা বলা যেতেই পারে যে ভ্যানিলা নির্যাস মৌখিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অতি কার্যকরী একটি উপাদান। (20)(21)

১৩। এপসম লবণ

উপকরণ

  • ১ চামচ এপসম লবন
  • ১ গ্লাস অল্প গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • জলে, এপসম লবণ মিশিয়ে ঐ জল দিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে।
  • আশানুরূপ ফলাফল লাভের জন্য দিনে ২ বার সকালে এবং রাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 কিভাবে কাজ করে

এপসম লবণ মাড়ির প্রদাহ, সংক্রমণ এবং ফোলা ভাব ইত্যাদি দূরীকরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এপসম লবণ অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। যা দাঁতের ব্যথা এবং মাড়ি ফোলা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। অবশ্য এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। (22)

 মাড়ি ফোলার চিকিৎসা 

মাড়ি ফোলার চিকিৎসায় নিম্নলিখিত উপায় গুলি অবলম্বন করা যেতে পারে।

১। শারীরিক পরীক্ষা যখন মাড়ি ফোলা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা যাবে তখন চিকিৎসকেরা প্রথমেই এর কারণ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করবেন। একইসাথে রোগীকে এইসময় মৌখিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ ভাবে যত্ন নিতেও বলা হয়। রোগী যদি ইতিমধ্যেই তামাক অথবা বিড়ি সেবন করেন তাহলে তাহলে তাকে অবিলম্বে ধূমপানে অভ্যাস ত্যাগের কথা বলা হয়। এর ফলে মাড়ির সংক্রমণের চিকিৎসা পদ্ধতি সহজ হয়ে যায়।

২। মুখ গহ্বর ডীপ ক্লিনসিং –  যদি অপরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাবে মাড়ির সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কতকগুলি যন্ত্রপাতির সাহায্যে মুখ গহ্বর পরিষ্কারেরও উপায় রয়েছে। অনেক্সময় আবার চিকিৎসকেরা লেজার পদ্ধতি অনুসরণ করেও প্লাক নির্মূল করে থাকেন।

৩। ওষুধপত্র অনেক সময় আবার মাড়ির সমস্যা নির্মূল করার জন্য চিকিৎসকেরা কিছু ওষুধ সেবনেরও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেগুলি অল্প সময়েই কাজ করে।

৪। সার্জারি বা অস্ত্রপ্রচার যদি সমস্যা গুরুতর হয় তাহলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রপ্রচারেরও সহায়তা নিয়ে থাকেন।

মাড়িতে ফোলাভাব দেখা গেলে যেসব খাদ্য দ্রব্য গুলি গ্রহণ করা উচিৎ

মাড়িতে ফোলা ভাব দেখা গেলে সাধারণত পরিমিত আহার গ্রহণ করা উচিৎ যার মধ্যে রয়েছে ফল এবং সবজি। তবে ব্যথা যন্ত্রনা সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে খাদ্য তালিকা একটু আলাদা হবে। এই সময় যেসব খাদ্য গুলি গ্রহণ করা যেতে পারে সেগুলি হলো যথাক্রমে –

  • মিল্কশেক
  • বেগুন
  • রান্না করা অর্থাৎ সুসিদ্ধ তরকারী
  • পনীর
  • পাতলা স্যুপ
  • চটকানো বা পেস্ট করা আলু
  • হালুয়া বা সুজি সেদ্ধ
  • ফলের রস
  • প্রোটিন শেক

বি দ্র ওপরের খাদ্য তালিকায় উল্লিখিত খাদ্যের সাথে চিনির ব্যবহার কোনোভাবেই করা উচিৎ নয়।

 মাড়ি ফোলা অবস্থায় যেসব খাদ্য গুলি বর্জন করা উচিৎ

মাড়ি ফোলা অবস্থায় যেসব খাদ্য গুলি বর্জন করা দরকার সেগুলি হলো নিম্নরূপ –

  • পপকর্ণ এবং চিপস জাতীয় খাদ্য বর্জন করা উচিৎ। এগুলি সহজেই দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে যা মাড়ি ফোলার একটি কারণ বলে মনে করা হয়।
  • মাড়ি ফোলা থাকা অবস্থায় শর্করা বা চিনি যুক্ত খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণ করা একেবারে অনুচিত।
  • মদ্যপান এবং ধূমপানের অভ্যাস থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
  • নির্দিষ্ট ব্রাণ্ডের দাঁতের মাজন এবং মাউথওয়াস যেগুলি ব্যবহার করলে দাঁতে শিরশিরানির উপক্রম হয়। সেই সব ব্রাণ্ডের জিনিস পরিত্যাগ করা উচিৎ।

মাড়ি ফোলার সমস্যা দূরীকরণে জরুরী কতকগুলি উপায় 

মাড়ি ফোলার সমস্যা এড়াতে যে সকল উপায় গুলি অবলম্বন করা যেতে পারে, সেগুলি হলো যথা –

  •  নিয়মিত ভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবে যাতে দাঁত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।
  • খাদ্য গ্রহণের পরে সর্বদা পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করতে হবে। যাতে দাঁতের ফাঁকে কোনো খাবার আটকে না থাকে।
  • খাদ্য চিবিয়ে খাওয়ার জন্য মাড়ির ফোলা অংশের ব্যবহার একদমই করা উচিৎ নয়।
  • রাতে শোওয়ার আগে কখনই কোনো মিষ্টি এবং চটচটে জিনিস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ নয়।

এই প্রবন্ধ পাঠের পর আপনার নিশ্চয়ই ধারণা হয়েছে যে মাড়ি ফোলা কোনো বড় সমস্যা নয়। তবে এটাকে অবহেলা করা হলে সেটা অনেকক্ষেত্রেই মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই মাড়ির সমস্যা প্রতিরোধে এই প্রবন্ধে আলোচিত ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসার উপায় গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি যদি প্রতিকূল হয় তাহলে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া দরকার।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

মাড়ির ফোলা ভাব কম করতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় কোনটি?

একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ মতন ওষুধ সেবনের ফলেই দ্রুততার সাথে মাড়ির ফোলা ভাব কম হয় বলে মনে করা হয়।

মাড়ির একটা নির্দিষ্ট জায়গায় কেনো ফোলা ভাব দেখতে পাওয়া যায়?

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে একজন চিকিৎসকই এই প্রশ্নের অস্টহিক জবাব দিতে সক্ষম হবেন।

মাড়ি সংক্রমিত হয়েছে কি করে বোঝা যাবে?

মাড়ি সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গের বিষয়ে ওপরের প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

লবন জলের ব্যবহার কী মাড়ি সংক্রমণের সমস্যার প্রতিকার করে?

হ্যাঁ তা করে।

মাড়ি ফোলার সমস্যা কী সম্পূর্ণ নির্মূল হয়?

হ্যাঁ নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করলে মাড়ি ফোলার সমস্যা নির্মূল হয়ে যায়।

সংক্রমিত মাড়ি সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ্য হয়ে উঠতে কত সময় লাগে?

এটা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে মাড়ি সংক্রমণের পরিমাণ এবং কি ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে তার ওপর।

মাড়ি ফোলার চিকিৎসায় মধু কি উপকারী?

নাহ মধু একেবারেই উপকারী নয়।

মাড়ি ফোলার সমস্যা কি নিজে নিজেই সেরে যায়?

নাহ সেইরকম কোনো সম্ভবনা নেই।

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

22 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch