সবুজ আপেলের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | Green Apple Benefits and Side Effects in Bengali

by

“দিনে একটি আপেল ডাক্তারকে আমাদের থেকে দূরে রাখে”। আমরা সকলেই এই উক্তি মোটামোটি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসি। আর যদি সেটা হয় সবুজ আপেল, তবে তো কথাটা সর্বৈবভাবেই সত্যি। যখনই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাবার, ফলমূল নিয়ে আলোচনা হয়, সবার প্রথমে যে নাম আমাদের মাথায় আসে তা হল আপেল। এতে প্রায় সব পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে, যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। আপেলের কথা এলে প্রথমেই মনে পড়ে লাল টুকটুকে আপেল। তবে লাল আপেল খুবই সাধারণ। বরং সবুজ আপেলে রয়েছে বেশি পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যা আমাদের সকলেরই প্রতিদিনের ডায়েটে থাকা উচিৎ।

স্টাইলক্রেজের এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব সবুজ আপেলের উপকারিতা, পুষ্টিগুণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। এছাড়াও, আমরা আপনাকে জানাব এটিকে আর কী কী ভাবে ব্যবহার অর্থাৎ খাওয়া যেতে পারে। আসুন প্রথমে আপনাকে বলি প্রতিদিন একটি করে সবুজ আপেল খেলে আপনি ঠিক কী কী উপকার পেতে পারেন।

 সবুজ আপেলের উপকারিতা

সবুজ আপেলের উপকারিতা এবং গুণাবলী সম্পর্কে কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে অধিকাংশ মানুষই এই ফলটিকে পুষ্টির ভাণ্ডার হিসাবে মনে করে থাকেন।  সাধারণ থেকে গুরুতর, বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করার ক্ষমতা রাখে এই ফলটি। এতে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারের মতো বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান উচ্চ-রক্তচাপ বা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে, হজমের সমস্যা থেকে হওয়া বিভিন্ন রোগ উপশমে এবং খিদে বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।

সবুজ আপেলের স্বাস্থ্যগুণ আপনাকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাঁপানি এমনকি ক্যান্সারের হাত থেকেও রক্ষা করতে পারে। এতে থাকা  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান অক্সিডেটিভ স্ট্রেস () বা জারণ চাপকে হ্রাস করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সবুজ আপেল কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, সুন্দর ত্বক এবং স্বাস্থ্যকর চুলের জন্যও অনেক উপকারী। কীভাবে আপেল আপনার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে তা নীচে জেনে নিন।

  • লিভার সুস্থ রাখার জন্য 

সবুজ আপেলের রস শরীর থেকে টক্সিন এবং ক্ষতিকারক উপাদানগুলি দূর করে আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সবুজ আপেলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য দেহে ডিটক্সিফাইং এনজাইমগুলির কার্যকারিতা বাড়ায়, ফ্রি-রেডিক্যালগুলিকে লিভারের ক্ষতি করতে বাধা দেয়। () এটি আপনার লিভারকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফাইবারের উপস্থিতি এটিও নিশ্চিত করে যে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্ত। এই কারণেই সকালে ঘুম থেকে উঠে আপেল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। () এমনকি, সবুজ আপেলের রসে যে উচ্চ ফাইবারযুক্ত উপাদান থাকে তা কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

  • ফুসফুসের জন্য

সবুজ আপেল ফুসফুসের কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসের চিকিৎসা করে শ্বাস-কষ্টের সমস্যা কমাতে পারে। আপনি যদি হাঁপানিতে আক্রান্ত হন তবে প্রতিদিন সবুজ আপেল খেলে উপকার পেতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আপেলে থাকা ফ্লেভোনয়েড অ্যাজমা উপশম করতে পারে। () প্রতিদিন একটি করে সবুজ আপেলে খেলে বা এর রস নিয়মিত পান করলে হাঁপানির ঝুঁকি ২৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফ্ল্যাভোনয়েডগুলির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতারও উন্নতি ঘটায়। এছাড়াও, এতে অ্যান্টি অ্যাজমাটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা হাঁপানির ঝুঁকি হ্রাস করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে।() নিয়মিত ধূমপায়ী ব্যক্তিরা যদি নিয়মিত এই সবুজ আপেল খাবার অভ্যাস করেন তবে পালমোনারি রোগের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন সহজেই।

  • হাড় মজবুত করতে

ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ সবুজ আপেল হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করতে এবং তাদের সুস্থ রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস হাড়ের জন্য দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এই দুটি উপাদানই হাড় তৈরিতে এবং মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দুটি পুষ্টি সরবরাহ করেই অস্টিওপোরোসিস নিরাময় করা যায়। অস্টিওপোরোসিস এমন একটি অবস্থা যা হাড়কে দুর্বল করে, হাড়গুলি সহজেই ভেঙে যায়।() অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে মহিলাদের, বিশেষত, তাদের যাদের মেনোপজে হয়ে গেছে তাদের তাদের ডায়েটে একটি করে সবুজ আপেল অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ()

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে

খিদে পেলেই বারবার ভরপেট খাবার না খেয়ে ফাইবারযুক্ত এবং কম ক্যালোরি, কম ফ্যাট বা চর্বি, কম শর্করা বা সুগার এবং কম সোডিয়াম সমৃদ্ধ সুস্বাদু এই ফলটিকে যদি আপনি স্ন্যাকস হিসেবে মাঝেমধ্যে খান, দেখবেন এটি আপনার পেটও ভরাচ্ছে আর ওজনও বাড়ছে না। তারওপর, সবুজ আপেলে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল, ডায়েটারি ফাইবার, ক্যারোটিনয়েডস (এক ধরণের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট) এবং প্রচুর পুষ্টি রয়েছে। এতে উপস্থিত পলিফেনলগুলি শরীরের মেদ ঝড়িয়ে স্থূলত্ব কমাতে সাহায্য করে। এগুলি শরীর থেকে ক্ষতিকারক ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল উপাদান এবং স্থূলত্ব বাড়ানোর টিস্যু হ্রাস করে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ()

  • ত্বকের সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে

সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সুন্দর, নিখুঁত, দাগহীন, উজ্জ্বল ত্বক পেতে কে না চায়? তাই সৌন্দর্য্য চর্চায়ও সবুজ আপেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডায়েটে সবুজ আপেল রাখার পাশাপাশি, এটি দিয়ে বানাতে পারেন বিভিন্ন রকমের ফেস প্যাক। জেনে নিন, ত্বকের জন্য আপেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

  • ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে পারে

রোদ ও দূষণের কারণে ত্বকের ফর্সাভাব হারিয়ে যেতে পারে। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে ত্বকে ট্যান পড়তে পারে। কিন্তু আপেলে আছে ভিটামিন সি রয়েছে যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি করে সবুজ আপেল খেলে এটি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ট্যানিংয়ের প্রভাব হ্রাস করে ত্বকের হারানো ফর্সাভাব ফিরিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে।

  •  ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখতে এবং ফেরাতে সাহায্য করে

ত্বকে বার্ধক্যের লক্ষণগুলি যেমন- বলিরেখা, ফাইন লাইনস এবং অন্যান্য কেবল বয়সের কারণে নয়, অন্যান্য কারণেও দেখা যায়। এই কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ইউভি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব, দূষণ, ধূমপান, পুষ্টির ঘাটতি এবং ঘুমের অভাব। সবুজ আপেলে থাকা অনেকগুলি ভিটামিন যেমন যেমন ভিটামিন এ, সি এবং ই এর এন্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পদার্থ বার্ধক্যের লক্ষণগুলিকে প্রতিরোধ করে। ()

  • উপাদান

একটি মাঝারি আকারের আপেল

  • ব্যবহার বিধি

একটি মাঝারি আকারের আপেলকে সামান্য জল দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। তারপরে এই পেস্টটি 10-15 মিনিটের জন্য মুখে লাগান এবং তারপরে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।

  • UV রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে

সূর্য থেকে আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন (ইউভি রেডিয়েশন) ছড়ায় তা আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। এ কারণে অল্প বয়সেই বার্ধক্যের লক্ষণগুলি ত্বকে ফুটে ওঠে, ত্বককে কালো করে তোলে, ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং এর ফলে সৃষ্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও স্বাস্থ্যকর কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আগেই বলেছি যে আপেল হল ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-ই এর একটি ভাল উৎস। এই দুই ভিটামিনকে কার্যকর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করতে  পারে এবং আপনার ত্বককে ইউভি রশ্মির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচাতে পারে । (১০)

  • উপাদানঃ

এক চা চামচ গ্লিসারিন

একটি ছোট আপেলের পেস্ট

  • ব্যবহার বিধি

দুটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।

  • ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং মুখের দাগ দূর করতে

সবুজ আপেলে উপস্থিত ভিটামিন সি ব্রণ এবং মুখের দাগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এটিতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ফুসকুড়ি এবং ব্রণ-র সমস্যা হ্রাস করে। এছাড়াও, ভিটামিন-সি ক্ষত নিরাময়ে গুরুতকপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

  • উপাদান

১/৪ চামচ আপেলের পেস্ট

২ টেবিল চামচ মালাই ক্রিম বা দুধের সর

  • ব্যবহার বিধি

দুটি উপাদান ভালোভাবে মেশান এবং ১৫ মিনিটের জন্য মুখে লাগান। তারপরে ঠাণ্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

  • ত্বকের ক্যান্সারের প্রতিরোধে

যেমনটি আমরা ইতিমধ্যে বলেছি যে সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি ত্বকের স্বাস্থ্যকর কোষগুলিকে ক্ষতি করে। অনেক সময় এটি ত্বকের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। সবুজ আপেলের পুষ্টিগুণ আপনাকে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। এটিতে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই রয়েছে যা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হওয়ার কারণে ত্বককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। (১১) সুতরাং, ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে আজ থেকেই প্রতিদিন একটি করে গ্রিন অ্যাপেল খাওয়া শুরু করুন।

সবুজ আপেলের পুষ্টিগুণ

আপেলের মধ্যে কোন পরিমাণে পুষ্টি পাওয়া যায় তার নিচে জানুন (১২)

উপাদানপ্রতি ১০০ গ্রামে কত মাত্রা
জল৮৫.৫৬ গ্রাম
শক্তি৫২ kcal
প্রোটিন০.২৬ গ্রাম
ফ্যাট০.১৭ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট১৩.৮১ গ্রাম
ফাইবার২.৪ গ্রাম
সুগার বা শর্করা১০.৩৯ গ্রাম
মিনারেল বা খনিজ উপাদান
ক্যালশিয়াম৬ মিলিগ্রাম
আয়রণ০.১২ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১১ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম১০৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম১ মিলিগ্রাম
জিঙ্ক০.০৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন 
থিয়ামিন০.০১৭ মিলিগ্রাম
রাইবোফ্ল্যাভিন০.০২৬ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন০.০৯১ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি-৬০.০৪১ মিলিগ্রাম
ফোলেট DFE৩ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ, RAE৩ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ, IU৫৪ IU
ভিটামিন ই০.১৮ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ২.২ মাইক্রোগ্রাম
লিপিড
মোট স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড০.০২৮ গ্রাম
মোট মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড০.০০৭ গ্রাম
মোট পলিঅন-স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড০.০০৫১ গ্রাম

সবুজ আপেলের ব্যবহার

এবার জানাব, কীভাবে এই সবুজ আপেল খাবেন? দিনে কতগুলি আপেল খাওয়া নিরাপদ বা খাওয়া উচিত? কখন এই আপেল খেলে বেশি লাভ হবে এইরকম গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশ্নের উত্তর দেব এবার।

কীভাবে খাবেন

  • আপনি সরাসরি কাঁচা সবুজ আপেল খেতে পারেন। স্বাদের জন্য আপনি এটতে কিছুটা কালো নুন অর্থাৎ বিটনুন বা সৈন্ধব লবণ ছড়িয়েও খেতে পারেন।
  • আপেল অন্যান্য ফলের সঙ্গে ফ্রুট স্যালাড হিসাবে খাওয়া যেতে পারে। যদি ইচ্ছা হয় তবে আপনি আপনার স্যালাডে স্বাদমতো চাট মশলাও মেশাতে পারেন।
  • সবুজ আপেলের রস একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পানীয়।
  • দুধ ও মধু সহযোগে সবুজ আপেলের পেস্ট বানিয়েও খেতে পারেন।
  • আপনি অ্যাপেল পাই, কেক, ফলের কাস্টার্ড, ডোনাট এবং অ্যাপল ফ্রেঞ্চ টোস্ট তৈরি করতেও আপেল ব্যবহার করতে পারেন।

কত পরিমাণে খাবেন

গ্রিন অ্যাপেলের প্রতি ১০০ গ্রামে ৫২ ক্যালোরি থাকে, তাই আপনি সুস্থ থাকার জন্য একদিনে একটি বড় বা মাঝারি আকারের আপেল খেতে পারেন।

কখন খাবেন

প্রতিদিন সকালবেলা জলখাবারের সঙ্গে একটি করে সবুজ আপেল খাবার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। সন্ধ্যাবেলা স্ন্যাকসের সঙ্গে অথবা ভরপেট খাবার অল্প সময় পরে আবার খিদে পেলেও এই সবুজ আপেল খেতে পারেন। এতে ওজন বেড়ে যাবার সমস্যাও কমবে।

গ্রিন অ্যাপেল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল। কেন ভালো তা এতক্ষণে সবিস্তারে জেনে গেছেন। এবার জেনে নিন, সবুজ আপেলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য –

সবুজ আপেলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

প্রতিটি খাবারেরই উপকারিতার পাশাপাশি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যপারেও জেনে রাখা উচিৎ। কোনো খাবার অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হলেও সেইসব উপাদানের কোনোটিতে আপনার অ্যালার্জি থাকতে পারে বা কোনো একটি উপাদান আপনার শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

  • ফোলা ঠোঁট
  • জিভ ফোলা
  • গলা ব্যথা
  • জ্বরভাব সঙ্গে অ্যালার্জি যা চোখে জল এবং নাক চুলকানি সৃষ্টি করে
  • ওরাল অ্যালার্জি –র বিভিন্ন রকম লক্ষণ ও উপসর্গ
  • অ্যানাফিল্যাক্সিস – মুখে ফোলাভাব

যদি গ্রিন অ্যাপেলের কোনো উপাদানে আপনার অ্যালার্জি থাকে তবে ফলটি খাবার দু’ঘন্টা পর বা এর আগে কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন –

  • নিঃশ্বাসের দুর্বলতা
  • চোখ, মুখ, জিভ এবং ঠোঁটের চারপাশে ফোলাভাব
  • মুখ, গলা, মুখ এবং শরীরের অন্যান্য অংশে চুলকানি
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • নাক থেকে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  •  পেটে ব্যাথা বা পেট খারাপ হওয়া, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব বা বমিভাব
  • নিম্ন রক্তচাপ, পেট খারাপ, ডায়রিয়া বা বমি বমি ভাব

দ্রষ্টব্য – সবুজ আপেল খাবার পর যদি এই ধরনের বা যে কোনোরকমের শারীরিক সমস্যা অনুভব করেন তবে অবিলম্বে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করুন।

সবুজ আপেল যেমন স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, অন্যদিকে মাত্রারিক্ত আপেল খেলে আপনার শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে। কোনো বিশেষ উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে অবশ্যই, সবুজ আপেল খাবেন না। সব থেকে ভাল হয় আপনার যদি গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই আপনার রোজকার ডায়েটে সবুজ আপেল রাখবেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলীঃ

  • লাল আপেলের থেকে সবুজ আপেল কি বেশি উপকারী ?
  • লাল আপেল খুবই সাধারণ, সবুজ আপেলে রয়েছে বেশি পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যা প্রতিটি ব্যক্তির প্রতিদিনের ডায়েটে থাকা উচিৎ।
  • সবুজ আপেল কখন খাওয়া উচিৎ?
  • প্রতিদিন সকালবেলা জলখাবারের সঙ্গে একটি করে সবুজ আপেল খাবার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
  • কোন রঙের আপেল বেশি স্বাস্থ্যকর ?
  • সবুজ আপেল
  • সবুজ আপেলের ত্বক কি আপনার জন্য ভালো?
  • সবুজ আপেল সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে এবং ত্বকের পরিচর্যার জন্য খুবই উপকারী। কেন? তা সবিস্তারে আলোভনা করা হয়েছে ওপরে।
  • কতগুলি সবুজ আপেল আমি একদিনে খেতে পারি ?
  • একদিনে একটি বড় বা মাঝারি আকারের আপেল খেতে পারেন।
  • সবুজ আপেল খাওয়া কি নিরাপদ?
  • সবুজ আপেল খাওয়া শুধু নিরাপদই না অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরও। তবে, অ্যালার্জি থাকলে বা খাবার পর কোনো রকম শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হলে ফলটি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • সবুজ আপেলে কি বেশি মাত্রায় শর্করা বা সুগার থাকে ?
  • না। সবুজ আপেল কম ক্যালোরি এবং কম শর্করাযুক্ত, তাই ওজন কমাতে সহায়ক।

12 sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch