জাফরানের ব্যবহার, উপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | Benefits of Saffron (Kesar) in Bengali

by

এক চুটকি কেশরের যে এতো গুণ জানলে অবাক হবেন। জাফরান বা কেশর হল বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা। মশলা বলে এর কাজ কেবলমাত্র রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়, এর গুণাবলী অনেক। একে জাদু মশলাও বলা হয়। বিশ্বের সবথেকে বেশি জাফরান উৎপাদন হয় ইরানে (৭০%)। রান্নায় যেমন অন্য স্বাদ যোগ করে, আবার পরীক্ষায় প্রমাণিত চুল, ত্বক থেকে নানান শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধ করতে এটি দারুণ উপকারী (১)

জনপ্রিয় এই প্রাকৃতিক উপাদানটির উপকারিতা অনেক। সামান্য সর্দি-কাশি থেকে পেটের ব্যথা, জরায়ু রক্তপাত, অনিদ্রা, পেট ফাঁপা, এমনকি হৃদরোগের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এটি দুর্দান্ত একটি প্রাকৃতিক ঔষধি। আমাদের এই প্রতিবেদনে জাফরানের ব্যবহার, উপকারিতা এবং এর অজানা কিছু তথ্য তুলে ধরা হল।

জাফরান বা কেশর কী

ক্রোকাস স্যাটিভা (Crocus Sativa) নামক উদ্ভিদের ফুল শুকিয়ে জাফরান তৈরি হয়। মূলত ইরান, ভারত এবং গ্রিসের কিছু জায়গায় এর উৎপাদন হয়। অনেকে মনে করেন জাফরানের আদিভূমি হল ইরান। আবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, স্পেন হল জাফরানের আদিভূমি। জাফরান উৎপাদনে ভারত সারা বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আগে কেবলমাত্র জম্মু ও কাশ্মীরে চাষ হত, এখন হিমাচল প্রদেশেও চাষ করা হয়। অগাস্ট মাসে এর চারা রোপন করা হয় এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল তোলা হয়। সাধারণত ১ গ্রাম শুকনো জাফরান প্রস্তুত করতে প্রায় ১৫০-১৬০টি ফুল প্রয়োজন হয়। দামী এই মশলা খাবারকে যেমন সুস্বাদু করে তোলে, তেমনই নানা শারীরিক সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। জাফরানকে “রেড গোল্ড”ও বলা হয়।

জাফরান কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ?

জাফরানের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর স্বাস্থ্যগুণও অনেক। সাধারণ সর্দি-কাশির পাশাপাশি হার্টের সমস্যা, ব্লাড সুগার, পেটের সমস্যা, মানসিক স্ট্রেস, অনিদ্রা সহ একাধিক সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

ছোটো-বড় সকলের জন্য এটি নিরাপদ এবং অনায়াসে আপনার ডায়েটে যোগ করতে পারেন। মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত এই মশলা আপনার পছন্দের খাবারে যেমন অন্য স্বাদ এনে দেবে, তেমনই নানা শারীরিক সমস্যা হাত থেকে নিস্তার পাবেন।

জাফরানের স্বাস্থ্যগুণ

জাফরানে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি ফাঙ্গাল, ম্যাংগানিজ, য়া ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর মধ্যে উপস্থিত রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরকে ইনফেকশন বা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। ত্বক ও চুলের যত্ন নেয়। এছাড়াও জাফরানের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, সেগুলি হল –

১. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে একধরণের ক্যারোটিন থাকে যাকে ক্রোসিন বলা হয়। এটি আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার কোষ, যেমন লিউকোমিয়া, ওভারিয়ান কারসিনোমা, কোলন অ্যাডনোকারসিনোমা ইত্যাদি ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ক্রোসিন এর অন্যত উপাদান যা কেমোথেরাপিউটিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে (,, )।

২. ব্যথা কমায় : জাফরানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান বাতের ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। শারীরিক দূর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এটি দারুণ কাজ দেয় (,)।

৩. দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে : পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাফ্রানাল জাফরানের একটি উপাদান, রেটিনার ক্ষয় রোধ করে (৭)। এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং চোখের ছানি পড়ার সমস্যা প্রতিরোধ করে(৮)

৪. অনিদ্রা দূর করে : অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। সেক্ষেত্রে জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একগ্লাস গরম দুধে সামান্য জাফরান মিশিয়ে খান, দেখবেন ঘুম ভালো হবে (,১০)।

৫. মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য গড়ে তোলে : জাফরান আলজাইমার এবং পার্কিনসন রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে (১১)। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে রক্ষা করে (১২)। মস্তিষ্ককে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ ও বিষন্নতা মুক্ত রাখে।

৬. হজমের সমস্যা দূর করে : এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিক্যান্সার, অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-হাইপারলিপিডেমিক উপাদানগুলি গ্যাসের সমস্যা দূর করে। অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই পাবেন (১৩)।

৭. ক্ষত সারায় : এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। যা পোড়া, কাটা সারাতে দারুণ কাজ দেয় (১৪)।

৮. প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় :  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর জাফরান। নিয়মিত এটি খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং শরীরের উপর এর সুফল দেখতে পাবেন (১৫)।

৯. পিরিয়ডের সমস্যা দূর করে : পিরিয়ড শুরুর আগে যে অস্বস্তিভাব দেখা দেয়, তা দূর করে। পিরিয়ডের প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণা দূর করতে এর জুড়ি নেই (১৬)।

১০. হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে : জাফরানের মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম, যা হার্টের সুস্বাস্থ্য গড়ে তোলে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় হরমোন বিকাশ করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায় (১৭)। উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও কার্যকরী (১৮)।

১১. লিভারকে সুরক্ষিত রাখে : যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে তারা জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে উপস্থিত ক্রোসিন নামক বায়োকেমিক্যাল লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে (১৯,২০)।

১২. যৌনক্ষমতা বাড়ায় : যৌনজীবন সুখময় করে তুলতে ডায়েটে যোগ করুন জাফরান। এর প্রাকৃতিক অ্যাফ্রোডিসিয়াক উপদান যৌন চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করে (২১,২২,)।

১৩. গর্ভবস্থায় উপকারী : গর্ভবতী মহিলাদের খাবারের তালিকায় জাফরান রাখার পরামর্শ দেন অনেকে। দুধের সঙ্গে জাফরান মিশিয়ে খেলে গর্ভস্থ সন্তানের রং ফর্সা হয়, এমন বিশ্বাস চলে আসছে বহু যুগ ধরে। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

১৪. ত্বকের যত্ন : সুন্দর ত্বক পেতে নিয়মিত জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে, গায়ের রং পরিষ্কার করে তুলতে সাহায্য করে (২৪)। তবে এর মাত্রারিক্ত ব্যবহার ত্বকের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতা পারে (২৫)।

১৫. চুল পড়া কমায় : চুল পড়ার সমস্যা দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই। চুলে জাফরান লাগালে চুল পড়া কম হবে, নতুন চুল গজাবে সেইসঙ্গে চুল হবে ঝলমলে এবং মজবুত।

কীভাবে ব্যবহার করবেন – অল্প দুধে কয়েকটা জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। তাতে একটু মধু যোগ করুন। মিশ্রণটি ভালো করে মিশিয়ে স্কাল্পে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

জাফরানের পুষ্টির মান :

জাফরান
পরিমাণ : ১ টেবিলচামচ (০.৭ গ্রাম)
পুষ্টিগুণপরিমাণইউনিট
জল০.০৮৩g
এনার্জি২.১৭kcal
এনার্জি৯.০৯kJ
প্রোটিন০.০৮G
টোটাল লিপিড (ফ্যাট)০.০৪১G
কার্বোহাইড্রেট০.৪৫৮G
ফাইবার, মোট খাদ্যতালিকা০.০২৭G
খনিজ পদার্থ
ক্যালসিয়াম, Ca০.৭৭৭mg
আয়রন, Fe০.০৭৮mg
ম্যাগনেসিয়াম, Mg১.৮৫mg
ফসফরাস, P১.৭৬mg
পটাসিয়াম, k১২.১mg
সোডিয়াম, Na১.০৪mg
জিঙ্ক, Zn০.০০৮mg
তামা, Cu০.০০২mg
ম্যাঙ্গানিজ, Mn০.১৯৯mg
সেলেনিয়াম, Se০.০৩৯mg
ভিটামিন
ভিটামিন C০.৫৬৬mg
থায়ামিন০.০০১mg
রিবোফ্লাভিন০.০০২mg
নিয়াসিন০.০১mg
ভিটামিন B-6০.০০৭mg
ফোলেট, খাবার০.৬৫১µg
ভিটামিন B-12µg
ভিটামিন A, RAE০.১৮৯µg
রেটিনলµg
ভিটামিন A, IU৩.৭১IU
ভিটামিন D (D2+D3)µg
ভিটামিন DIU
ফ্যাটি অ্যাসিড
ফ্যাটি অ্যাসিড, মোট স্যাচুরেটেড০.০১১G
ফ্যাটি অ্যাসিড, মোট মনস্যাচুরেটেড০.০০৩G
ফ্যাটি অ্যাসিড, মোট পলিঅনস্যাচুরেটেড০.০১৪G

সূত্র : USDA, spices, saffron

কীভাবে জাফরান ব্যবহার করবেন

জাফরান যে কেবলমাত্র খাবারকে সুস্বাদু করে তাই নয়, খাবারে সুন্দর রং আনে। কী খাবার বানাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করছে কীভাবে জাফরান ব্যবহার করবেন। খাবারে কীভাবে জাফরান ব্যবহার করবেন রইল কিছু টিপস –

জাফরান চূর্ণ : বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন জাফরান গুঁড়ো। শিল নোড়াতে গুঁড়ো করে নিন। অসুবিধা হলে তাতে সামান্য চিনি মিশিয়ে নিন, গুঁড়ো করতে সুবিধা হবে।

ভেজানো জাফরান : জাফরান গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে কিছুদিন ব্যবহার করতে পারেন। আবার জাফরান গুঁড়োর সঙ্গে দুধ, ভিনিগার মিশিয়ে অনেক পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

দুধের সঙ্গে জাফরান : জাফরান দুধ তৈরি করতে পারেন। এক কাপ দুধে এক চিমটি জাফরান এবং ২ চামচ চিনি মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। আপনার প্রতিদিনের রুটিনে রাখুন জাফরান দুধ চা, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

জাফরান কীভাবে বাছবেন এবং বাড়িতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

বাজারে ভেজাল জিনিসে ছড়াছড়ি। তাই আসল জাফরান বেছে নেওয়া খুব জরুরি। একগাদা টাকা খরচ করে যদি আসল জিনিসটাই না পান, তাহলে টাকাটাও জলে যাবে আর এর থেকে কোনও উপকারও পাবেন না। তাই জাফরান কেনার সময় এই বিষয়গুলি মাথায় রাখুন।

প্যাকেট করা জাফরান কিনুন : অনেক জায়গায় জাফরান লুজ অথবা খোলা আকারে বিক্রি হয়। তবে প্যাকেট করা জাফরান কেনা ভালো।

লেবেল পড়ুন : এতো দাম দিয়ে যখন কিনছেন, অবশ্যই সবকিছু ভালো করে দেখে নিন। প্যাকেটের মেয়াদ শেষের তারিখ, দাম ইত্যাদি যাচাই করতে লেবেল পড়ুন।

রং দেখে নিন : জাফরানের রং দেখেই বুঝতে পারবেন এটি আসল না নকল। খাঁটি জাফরান একেবারে লাল রঙের হয় এবং ডগার দিকটা কমলা-লাল রঙের থাকে। বাজারে হলদে এবং সাদা রঙেরও জাফরান দেখতে পাবেন, এগুলো আসলে নকল।

গুঁড়োর বদলে জাফরান সুতো কিনুন। গুঁড়ো করার কারণে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বৈশিষ্ট্যগুণ হারিয়ে থেকে পারে। তাতে ভেজাল মেশানো থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। চাইলে বাড়িতেই জাফরান গুঁড়ো তৈরি করে নিন।

জাফরানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

জাফরানের যেমন প্রচুর উপকারিতা রয়েছে, তবে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে জাফরানের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে এবং নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে –

  • মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, বমি ভাব, শারীরিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফুসফুস এবং কিডনির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে (২৫)।
  • গর্ভাবস্থায় মহিলারা ৫ গ্রাম পর্যন্ত জাফরান ব্যবহার করতে পারেন (২৭)। কিন্তু এর থেকে বেশি বা অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এটি গর্ভপাতের কারণ হতে পারে (২৮)।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে জাফরান সেবনের কারণে নাক, ঠোঁট ও চোখের পাতা থেকে রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • প্রচুর পরিমাণে জাফরান জন্ডিস, রক্তক্ষরণ এবং ডায়ারিয়ার মতো আরও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

একগ্রাম জাফরানের দাম কত?

অ্যামেরিকান জাফরানের সর্বনিম্ন দাম ৬০ টাকা/গ্রাম এবং সর্বোচ্চ ২০০টাকা প্রতি গ্রামে। কাশ্মীরি জাফরানের সর্বনিম্ন দাম ৭৯টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫২০ টাকা প্রতি গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া যায়।

জাফরান কী নষ্ট হয়ে যেতে পারে?

অন্যান্য মশলার মতো জাফরানও এক্সপায়ার করতে পারে।

কীভাবে জাফরানের পিওরিটি যাচাই করবেন?

রং দেখে তো জাফরানের সত্যতা যাচাই করা যায়। তাছাড়া এর সুন্দর সুবাস রয়েছে। এর থেকেও আপনি জাফরান আসল না নকল তা উপলব্ধি করতে পারবেন।

ঘরে জাফরান মজুত রাখার সঠিক উপায় কী?

অন্যান্য মশলার মতো সঠিকভাবে না রাখলে এটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এয়ারটাইট কন্টেনারে ভরে ঠান্ডা এবং অন্ধকার জায়গায় রেখে দিন। অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।

জাফরান কী ব্রণর সমস্যা দূর করে?

এর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ব্রণর সমস্যা দূর করে।

কেশর বা জাফরান কী প্রতিদিন দুধের সঙ্গে খেতে পারি?

প্রতিদিন দুধের সঙ্গে কেশর মিশিয়ে খেতে পারেন তবে সঠিক পরিমাণে। এর মাত্রা যেন ১.৫ গ্রামের বেশি না হয়।

জাফরানের দাম কেন এতো বেশি?

ক্রোকাস স্যাটিভা উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুণ্ড বা পরাগধানী শুকিয়ে জাফরান তৈরি হয়। ১ গ্রাম শুকনো জাফরান প্রস্তুত করতে প্রায় ১৫০-১৬০টি ফুল লাগে। সামান্য জাফরান তৈরি করতে খরচ অনেক বেশি, স্বাভাবিকভাবেই দামও বেশি।

জাফরান কি চায়ে মিশিয়ে খেতে পারি?

চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। যেহেতু এর ফ্লেভার খুব স্ট্র এবং একটু তিতকুটে তাই অল্প পরিমানে খাওয়া ভালো।

গর্ভাবস্থায় কখন জাফরান আপনার ডায়েটে যোগ করতে পারেন?

পাঁচ মাসের পর থেকে খাওয়া ভালো। কারণ শুরুর দিকে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শিশু ও মায়ের ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এড়িয়ে চলাই ভালো।

জাফরান কী ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়?

এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন ত্বকে ফর্সাভাব ফুটে উঠবে।

জাফরান কী ওজন কমাতে সাহায্য করে?

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ওজন কমাতে সাহায়্য করে।

জাফরান কী বাচ্চাদের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, এটি বাচ্চাদের জন্য ভালো। নিঃসন্দেহে আপনি আপনার বাচ্চাকে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন।

জাফরানের প্রকৃতি : ঠান্ডা না গরম?

জাফরান গরম প্রকৃতির খাবার।

28 Reference

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch