কিউয়ি ফল এবং তার ব্যবহার, গুণাগুণ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Kiwi Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

by

কিউয়ি ফলের উপকারিতা এখন কারোরই অজানা নয়। কিউয়ি ফলের কী কী গুণ রয়েছে? এই নিয়ে বহু মানুষই ওয়াকিবহাল। ‘চাইনিজ গুজবেরি’ নামেও পরিচিত এই কিউয়ি। কিউয়ি মূলত উত্তর চীনের ফল। আকারে ছোট হলেও অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাক্টিনিডিয়া ডেলিসিওসা (Actinidia deliciosa)। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে এই ফল খুবই জনপ্রিয়, এবং পাশ্চাত্যের দেশগুলোতেও বর্তমানে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এই আকর্ষণীয় ফলটি আরও সবার পছন্দের তালিকায় এসে গেছে তার টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য।

শরীর সুস্থ রাখতে ডাক্তাররা নিয়মিত ফল খাওয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন। বাজারে পুষ্টিকর ফলের অভাব নেই। কিউয়িও তাদের মধ্যে অন্যতম। বিদেশি ফল হলেও আমাদের দেশেও এর চাহিদা তুঙ্গে। তার কারণই হল এর অগণিত উপকারিতা। আপনার পছন্দের ডেজার্ট, স্যালাড বা স্মুদিতে কিউয়ি মেশাতে পারেন। কিউয়িতে উপস্থিত কিছু অপরিহার্য ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ আপনার শরীরে পুষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। স্বাদে ও গুণে অতুলনীয় এই ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে আজ আমরা আপনাদের জানাব এই প্রবন্ধে।

কিউয়ি ফল কী?

কিউয়ি ফলের উপকারিতা সম্পর্কে জানার আগে জেনে নেওয়া যাক কিউয়ি ফল কীরকম দেখতে হয়? কিউয়ি ফল বাইরের দিক থেকে সাদারণত বাদামি রঙের হয়ে থাকে। এই বাদামি রঙের খোসা ছাড়িয়েই কিউয়ি খাওয়া হয়। এর ভেতরের অংশ নরম এবং সবুজ রঙের হয়। ভেতরে থাকে কালো রঙের ছোট ছোট বীজ। ভেতরের সম্পূর্ণ অংশই খাওয়ার উপযোগী। এই ফল বাজারে সহজ উপলব্ধ। কম দামে বেশি পুষ্টি পেতে এর বিকল্প কিছু হতে পারে না। জানতে চান এই কিউয়ি ফল কোথায় কোথায় পাওয়া যায়? কিউয়ি ফল চিন, জাপান, ভারত এবং দক্ষিণ পূর্ব সাইবেরিয়া অঞ্চলেই বেশি পাওয়া যায়। তবে এখন প্রায় সারা বিশ্বে কিউয়ি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

কিউয়ি ফলের উপকারিতা

কিউয়ি ফলের এত গুণ যে সবগুলি জানলে আপনিই আশ্চর্য হয়ে যাবেন। এত ছোট ফলের যে অগণিত গুণ তার জন্যই কিউয়ি একটি চমৎকারী ফল হিসেবে পরিচিত। চলুন জেনে নিই কিউয়ি ফলের এই বিশেষ গুণাগুণগুলি।

  •  উপকারিতা ১ : হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

কিউয়ি ফলের উপকারিতা বলতে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় হার্টের জন্য এর উপকারিতা। পটাশিয়াম এমন একটি মিনারেল যা হার্টের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে গবেষণায় দেখা গেছে যে এই মিনারেল একাই হার্টের সমস্ত রোগকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আরেকটি গবেষণায় জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতিদিন ৪.০৬৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম খান, তাহলে হার্টের রোগে তাঁর মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৯% কমে যায়। (১) এছাড়া কিউয়ি খেলে রক্তচাপও কমে যায়। (২) দিনে দু-তিনটি করে কিউয়ি খেলে তা প্লেটলেট হাইপার অ্যাক্টিভিটি কমায় এবং প্লাজমা লিপিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই দুটি ফ্যাক্টর শরীরে হৃদরোগের জন্য দায়ী। (৩) যদি কেউ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা অবশ্যই ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খাবেন এবং কিউয়ি খাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

  •  উপকারিতা ২ : হজমশক্তি বাড়ানো

কিউয়িতে উপস্থিত ফাইবার পরিপাক ক্ষমতা অর্থাৎ হজম শক্তি বাড়ায়। (৪) কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সাধারণ হজম সমস্যা কিউয়ি খেলে ঠিক হয়ে যায়। কিউয়ি ফলে যে পটাশিয়াম পাওয়া যায় তা হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিপাক তন্ত্রেও সাহায্য করে। (৫) কিউয়ি ফলে অ্যাকটিনিডিন নামক উৎসেচক পাওয়া যায় যা পাচনে সহায়তা করে। প্রোটিন জাতীয় খাবার পরিপাকে এই উৎসেচক কাজ করে। (৬) কিউয়ি ফলে এই সমস্ত গুণাগুণ থাকায় এটি আদর্শ পরিপাক তন্ত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

  •  উপকারিতা ৩ : ওজন কমানো

কিউয়ি ফলে ক্যালোরির মাত্রা খুব কম থাকে এবং প্রায় নগণ্য ফ্যাট থাকে। কিন্তু ফাইবার থাকে প্রচুর। এইসব কারণে ওজন কমানোর ডায়েটের ক্ষেত্রে কিউয়ি একটি দারুণ উপকারী ফল। এনসিবিআই-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে যে, ওজন নিয়ন্ত্রণ স্ট্র্যাটেজির জন্য কিউয়ি ফল ডায়েটে যোগ করে তা বেশ কার্যকরী। এতে একদমই ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই। শরীর সুস্থ ও ঝরঝরে রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব দরকার। ওজন কমাতে কিউয়ি স্ন্যাক্স হিসেবেও খেতে পারেন।

  •  উপকারিতা ৪ : ডায়াবেটিস রুখতে

বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে জানতে পারা যায় যে, কোনও ব্যক্তি কিউয়ি ফল খেলে তার গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়া উন্নত হয়। (৭) এই ফলে আছে প্রচুর জল, যা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুব ভালো। ১০০ গ্রাম কিউয়ি ফলে মাত্র ৫ গ্রাম গ্লুকোজ থাকে। রক্তের শর্করার ওপর এর প্রভাব ন্যূনতম। একটা মাঝারি আকারের কিউয়ি ফলে ১১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে যা অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক কম। কিউয়ি ফলে উপস্থিত ফাইবার ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে।

  •  উপকারিতা ৫ : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

কিউয়ি রোগ প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও এতে উপস্থিত ভিটামিন-সি রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে যে, কিউয়ি শ্বাসনালীর ইনফেকশন কমায় এবং সহজাত ও অভিযোজিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

  •  উপকারিতা ৬ : রক্তচাপ

বিশেষজ্ঞদের মতো কিউয়ি ফলে উপস্থিত বায়োঅ্যাকটিভ পদার্থ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি দেহের এন্ডোথেলিয়াল ফাংশনকে উন্নত করতে সাহায্য করে। ৪ সপ্তাহ করে রোজ তিনটি কিউয়ি ফল খেলে দেখা যাবে যে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ থেকেই বোঝা যায় যে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কিউয়ি খাওয়া খুব ভালো। এছাড়া কিউয়ি ফলে অ্যান্টি হাইপারটেনসিভ গুণও থাকে।

  •  উপকারিতা ৭ : সঠিক পরিমাণে ঘুমে সাহায্য

ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিউয়ি খেলে ভালো ঘুম হয়। একটি চার সপ্তাহের গবেষণায় ২৪জন মানুষকে ঘুমোতে যাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে কিউয়ি খেতে দেওয়া হয়েছিল। এবং শেষে দেখা যায় যে, তাদের ঘুমের মান প্রায় ৪২% ভালো হয়েছে। মোট ঘুমের সময় ১৩% বেড়ে গেছে এবং রাতে একনাগাড়ে ঘুমনোর ক্ষমতাও ৫% উন্নত হয়েছে।

  •  উপকারিতা ৮ : গর্ভাবস্থায় কিউয়ির গুণাগুণ

গর্ভাবস্থায় কিউয়ি খেলে তার উপকারিতা প্রচুর। মায়ের পাশাপাশি বাচ্চাও এই উপকারিতা লাভ করে। কিউয়িতে ফলিক অ্যাসিড, ডায়েটরি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর থাকে। ফলিক অ্যাসিড গর্ভের মধ্যে বাচ্চার বৃদ্ধিকে ঠিক রাখে এবং স্বাস্থ্য উন্নত করে। প্রতিদিন কিউয়ি খেলে গর্ভবতী মহিলাদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্যান্য পেটের সমস্যা হয় না কারণ এতে রয়েছে ফাইবার। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি যেমন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান হিসেবে কাজ করে তেমনি দেহে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। এতে অ্যানিমিয়া হয় না। কিন্তু তবে ফুড অ্যালার্জি থাকলে গর্ভবতী মহিলাদের ডাক্তারের কাছে পরামর্শ করে তবেই কিউয়ি খাওয়া ভালো।

  •  উপকারিতা ৯ : হাঁপানি কমাতে

কিউয়ি ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এই ভিটামিন হাঁপানি রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিউয়ি ফল বাচ্চাদের হাঁপানি ও হুইজিং রোগ থেকে প্রতিরক্ষা করে। ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই একে অপরের পরিপূরক। এই দুই ভিটামিন বাচ্চাদের দেহে ফুসফুসের কার্যকলাপ উন্নত করে। হাঁপানির মতো শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাতেও এই ফল এতটা কার্যকারী যে সপ্তাহে দুইদিন বা তার বেশি এই ফল খেতে বলা হয়।

  •  উপকারিতা ১০ : আলসার নিরাময়

মধুমেহ রোগের ফলে আলসার হয়ে থাকে। এই আলসার থেকে বাঁচতে কিউয়ি ফল খুব লাভজনক। কিউয়ি ফলে উপস্থিত যৌগ আলসারের ক্ষত নিরাময় করে। এছাড়া কিউয়ি ফলের গ্লাইসেমিক সূচক কম যা মধুমেহ রোগীদের জন্য খুব উপকারী।

  •  উপকারিতা ১১ : ক্যান্সার প্রতিরোধ

ক্যান্সার যা একটি দুরারোগ্য রোগ, তা প্রতিরোধে কিউয়ি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় জানা গেছে, কিউয়ি ফলের রসে রয়েছে ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা। ডিএনএ অক্সিডেটিভ কমাতে সাহায্য করে এই ফল। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি মুক্ত মূলকের বিরুদ্ধে লড়ে। মুক্ত মূলকের বৃদ্ধি ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। কিউয়ি ফলে উপস্থিত ফাইবার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে, বিশেষ করে পরিপাক তন্ত্রের ক্যান্সার। এছাড়াও কিউয়ি ফলে পাওয়া যায় অনেক জটিল যৌগ যেমন সালফোরফেন, আইসোসায়ানেট, ইন্ডোল ইত্যাদি যা কারসিনোজেন পদার্থের প্রভাবকে দমন করে।

  •  উপকারিতা ১২ : দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য

কিউয়ি ফলে উপস্থিত ভিটামিন সি একটি দারুণ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের কলা কোশকে সুস্থ রাখে। কিউয়ি ল্যুটিন ও জিয়াজ্যান্থিনের দারুণ উৎস। এই দুটিই খুব শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের উন্নতি সাধন করে। সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হল এই দুটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বয়সজনিত ম্যাকুলার অবক্ষয় করে। কিউয়ি ফলে এই দুটি উপাদানের জৈব উপলব্ধতা ধরে নেওয়া হয় ১০০%।

  •  উপকারিতা ১৩ : প্রদাহ কমাতে সাহায্য

কিউয়িতে কিসস্পার নামক এক প্রকার পেপটাইড থাকে যা প্রদাহ কম করতে সাহায্য করে। গবেষণায় জানা গেছে যে এই পেপটাইড কোলোনিক টিস্যুর প্রদাহ কমায়। যদিও বিশেষ কোনো তথ্য নেই, তাও দেখা গেছে যে কিউয়ি অন্ত্র ছাড়া সব ক্ষেত্রেই প্রদাহ রোধকারী ধর্ম প্রদর্শন করে।

  •  উপকারিতা ১৪ : লিভারের রোগ নিরাময়

কিউয়ি ফলের একটি বিশেষ উপাদান থাকে যা নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি অ্যাসিড রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি জমে মূলত এই রোগ হয়। তবে এই রোগ অ্যালকোহল পানের জন্য হয় না।

  •  উপকারিতা ১৫ : কোলেস্টেরলের সমস্যা রুখতে

উচ্চ কোলেস্টেরল – আজকের দিনে অনেকেই এই রোগের শিকার। পরিবর্তিত লিপিড প্রোফাইল হার্টের রোগের কারণ। এই জন্য এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কিউয়ি ফল খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেহকে সুস্থ রাখে।

  •  উপকারিতা ১৬ : রক্ত জমাট বাঁধা

এই বিষয়ে যদিও গবেষণা সীমিত, তবুও জানা গেছে যে কিউয়ি এক্সট্র্যাক্টে রয়েছে     ক্ষমতাশালী অ্যান্টি প্লেটলেট উপাদান। এটি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে।

  •  উপকারিতা ১৭ : দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে

ভিটামিন এ, বি ৬, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ই এবং পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরা কিউয়ি ফল। এই সব পুষ্টিকর পদার্থের কারণে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, হাড় এবং দাঁত ভালো থাকে।

  •  উপকারিতা ১৮ : অ্যাকনে ও ফুসকুড়ির সমস্যা রোধে

আপনি যদি অ্যাকনের সমস্যায় নাজেহাল হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য কিউয়ি ফল খুব উপকারী। এটি অ্যাকনে ও ব্রণর সমস্যায় দারুণ কাজ দেয়। কিউয়ি ফলে থাকা ভিটামিন সি-এ অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে যা ত্বককে অ্যাকনে থেকে বাঁচায়।

  •  উপকারিতা ১৯ : ত্বকের যত্নে

কিউয়ি খাওয়া শুধু স্বাস্থ্য নয় ত্বকের জন্যও খুব ভালো। কিউয়ি ফলের ভিটামিন সি সূর্যরশ্মি ও পরিবেশ দূষণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বককে সজীব করে। যে কোনো রকম ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় এবং ত্বককে সুন্দর করে করে। বয়সের ছাপ, বলিরেখা এই সব সমস্যার সমাধান করে ভিটামিন সি। দৈনন্দিন রূপচর্চায় ভিটামিন সি এখন অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। ভিটামিন-সি এর পাশাপাশি ভিটামিন ই ত্বককে মসৃণ করে এবং ত্বকের মান উন্নত করে। কিউয়ি থেকে প্রস্তুত ফেসপ্যাক, ক্রিম, বডি লোশন ত্বককে ভীষণ ভালো করে দেয়।

  •  উপকারিতা ২০ : চুলের যত্নে

কিউয়ি ফলে থাকে জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়ামের মতো মিনারেলস যা চুলকে বাড়তে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি এর পাশাপাশি ভিটামিন ই-ও থাকে যা চুল পড়া রোধ করে। কিউয়ি বীজের তেলে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে। এছাড়া কিউয়ি ফলে কপার হয়েছে যা চুলের স্বাভাবিক রংকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

  • উপকারিতা ২১ : ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায়

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে প্লেটলেট সংখ্যা হঠাৎ করেই কমতে থাকে, প্লেটলেট কাউন্ট বাড়াতে এই কিউয়ি ফল খুব উপকারী। কিউয়ি ফল খাওয়া তাই ডেঙ্গু রোগীদের পক্ষে খুব ভালো। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই নিয়ে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি যে এই ফল ডেঙ্গু রোগ সম্পূর্ণ রূপে প্রতিরোধে সহায়তা করে কিনা। তাই ডেঙ্গু রোগের জন্য এখনও পেঁপে পাতার রসই বেশি প্রচলিত।

  • কিউয়ি ফলের পুষ্টিগত গুণমান

কিউয়ি ফলে প্রাপ্ত পরিপোষক পদার্থ এবং তার মানকে একটা চার্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হল।

পরিপোষক পদার্থমাত্রা প্রতি ১০০ গ্রাম
জল৮৩.০৭ গ্রাম
শক্তি৬১ কিলোক্যালোরি
প্রোটিন১.১৪ গ্রাম
লিপিড০.৫২ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট১৪.৬৬ গ্রাম
ফাইবার, টোটাল ডায়েটারি৩.০০ গ্রাম
সুগার৮.৯৯ গ্রাম
ক্যালসিয়াম৩৪ গ্রাম
আয়রন০.৩১ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম১৭ মিলিগ্রাম
ফসফরাস৩৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম৩ মিলিগ্রাম
জিঙ্ক০.১৪ মিলিগ্রাম
কপার০.১৩ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম৩১২ মিলিগ্রাম
সেলেনিয়াম০.২ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি, টোটাল অ্যাসকরবিক অ্যাসিড৯২.৭ মিলিগ্রাম
থাইমিন০.০২৭ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন০.৩৪১ মিলিগ্রাম
রিবোফ্লাভিন০.০২৫ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি – ৬০.০৬৩ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ৪ মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট ডিএফই২৫ মাইক্রোগ্রাম
কেরাটিন, বিটা৫২ মাইক্রোগ্রাম
লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থাইন১২২ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন ই (আলফা – টেকোফেরল)১.৪৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন কে (ফাইলোকুইনোন)৪০.৩ মাইক্রোগ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত০.০২৯ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড, সম্পূর্ণ মনোআনস্যাচুরেটেড০.০৪৭ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড, সম্পূর্ণ পলিআনস্যাচুরেটেড০.২৮৭ গ্রাম

কিউয়ি কীভাবে ব্যবহার করবেন?

কিউয়ি ফলের পুষ্টিগত মান, উপকারিতা তো জানলেন এবার দেখা যাক কিউয়ি কীভাবে খাওয়া যেতে পারে? কিউয়ি খাওয়ার পদ্ধতি ও সঠিক পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে নীচে জানানো হল।

  • যদি আপনার মনে প্রশ্ন আসে যে কিউয়ি কীভাবে খাবেন? তার সহজ উত্তর হল আপনি কিউয়ি খোসা ছাড়িয়ে স্লাইস করে কেটে খেতে পারেন।
  • কিউয়ি ফলের জুস বানিয়ে খেতে পারেন।
  • ফ্রুট স্যালাড বানানোর সময় কিউয়ি নিতেই পারেন। খুব ভালো স্বাদ হয়।
  • অন্যান্য ফলের সাথে ব্লেন্ড করে নিয়ে স্মুদি বানাতে পারেন।
  • ফ্রুট কাস্টার্ড বানাতে কিউয়ি যোগ করে খেতে পারেন।
  • কিউব করে কেটে তার ওপর মধু দিয়ে খান, এটি বিকেলের জন্য চমৎকার একটি স্ন্যাক্স।

খাওয়ার সময় ও পরিমাণ

কিউয়ি ফল দিনের যে কোনও সময়ই খেতে পারেন। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধে যে কোনও বেলায় কিউয়ি খান, কোনও সমস্যা নেই। একজন সুস্থ ব্যক্তি আধ কাপ বা একটা মাঝারি আকারের কিউয়ি খেতে পারেন। 

কী করে বাছবেন এবং সংরক্ষণ করবেন?

টাটকা, ভালো মানের কিউয়ি বাছাই করার জন্য কিছু সুবিধেজনক পদ্ধতি নীচে বলা হল।

  • কিউয়ি কেনার সময় সতর্ক থাকুন। খেয়াল করুন কিউয়ির গায়ে কোনো দাগ লেগে যাতে না থাকে।
  • কিউয়ি – এর খোসা যাতে বাইরে থেকে ফাটা ফাটা না থাকে।
  • প্রয়োজনে টিপে দেখে কিনুন।
  • যদি তাড়াতাড়ি খেতে চান তাহলে নরম কিউয়ি কিনতে হবে। সেটা আপনি একটু টিপেই বুঝতে পারবেন সেটা নরম আছে কিনা।
  • কিউয়ি এখন যে কোনো বাজার, সুপার মার্কেট এমনকি অনলাইনেও পাওয়া যায়।

সংরক্ষণের উপায়

  • যদি কিউয়ি বেশি পাকা না থাকে তাহলে ঘরের তাপমাত্রাতেই রাখতে পারেন।
  • পাকানোর জন্য এটা অন্য ফলের সঙ্গেও রাখতে পারেন।
  • কিন্তু পেকে গেলে এটা অন্য ফলের সাথে মিশিয়ে রাখবেন না।
  • কিউয়ি ফলকে বেশ কিছুদিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

কিউয়ি ফলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণত সকলের পক্ষেই কিউয়ি খাওয়া খুব স্বাস্থ্যকর। কিন্তু যদি আপনার ল্যাটেক্স অ্যালার্জি থাকে তাহলে আগে থেকেই সতর্ক থাকবেন। এক্ষেত্রে ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া, ঠোঁট ফোলা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। ডায়েরিয়া, বমি এই সমস্যাগুলোও দেখা যায় অতিরিক্ত কিউয়ি খেলে। এতে অনেক পটাশিয়াম থাকে তাই কিডনির সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। অতিরিক্ত ফাইবার থাকায় বেশি কিউয়ি খেলে পেটে ব্যথা হতে পারে।

এই হল কিউয়ি ফলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। উপকারিতার পাশাপাশি এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া জানা থাকলে এই কিউয়ি ফল আনন্দের সঙ্গে খেতে পারেন।

কিউয়ি খেলে কী হয়? আশা করি এই লেখা পড়ে আপনারা সকলেই এই প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছেন। এখানে যেমন কুড়িটির বেশি কিউয়ি ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে, তেমনি কিউয়ি ফলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও বলা হয়েছে। তা শুধুমাত্র সাবধানতা গ্রহণের জন্যই বলা হয়েছে, কারণ কি সঠিক পরিমাণে কিউয়ি খেলে যে উপকার পাওয়া যায়, তা বলে শেষ করা যাবে না। অতএব, কিউয়ি ফল খাওয়ার আগে যদি তার সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জেনে নেন, তাহলে তো উপকারই হয়, তাই না? আর যদি আপনি আগে থেকেই কিউয়ি ডায়েটে যোগ করে থাকেন, তাহলে সেই সম্পর্কে মতোোামতোো অবশ্যই জানান।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন :

কিউয়ি ফল কতদিন ঠিক থাকে?

কিউয়ি ফল যদি পুরোপুরি না পেকে থাকে তাহলে ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন, এক সপ্তাহ পর্যন্ত ঠিক থাকবে। যদি ফ্রিজে রাখেন তাহলেও অনেক পর্যন্ত ঠিক থেকে যায় এই ফল।

একদিন কটা কিউয়ি ফল খাওয়া যেতে পারে?

ডাক্তারদের মতে, একজন সুস্থ ব্যক্তি প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ টে করে কিউয়ি ফল খেতে পারেন। তবে প্রতিদিনের পরিবর্তে যদি সপ্তাহে দুইদিন তিনদিন করে কিউয়ি খান তাহলে সেটি দেহের কোনও রকম ক্ষতি করে না।

7 Reference:

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch