কড়াইশুঁটির উপকারীতা , ব্যবহার এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Green Peas Benefits, Uses and Side Effects

by

ভারতীয় রান্নার এমন কতকগুলি পদ রয়েছে কড়াইশুঁটি ছাড়া যেগুলোর কথা চিন্তাই করা যায়না। তা সে ভেজ বিরিয়ানিই হোক বা পোলাও। নির্দিষ্ট পরিমান কড়াইশুঁটি এইসব পদগুলির স্বাদ বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। কড়াইশুঁটি একদিকে যেমন স্বাদে অতুলনীয় অন্যদিকে এতে রয়েছে অগণিত ভেষজগুণ। এছাড়াও একাধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কড়াইশুঁটি বহু জটিল সব অসুখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ থেকে আমরা কড়াইশুঁটির উপকারীতা, ব্যবহার এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্বদ্ধে বিস্তারির জানতে পারবো।

কড়াইশুঁটির উপকারীতা

একাধিক ভেষজ গুণের জন্য কড়াইশুঁটি খুবই স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী আনাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু স্বাস্থ্য বলেই নয় পাশাপাশি ত্বক এবং চুলের জন্য কড়াইশুঁটি খুবই উপকারী একটি খাদ্য দ্রব্য হিসেবে পরিগণিত হয়।

কড়াইশুঁটির স্বাস্থ্যোপযোগীতা

কড়াইশুঁটির স্বাস্থ্যোপযোগীতা গুলি হলো নিম্নরূপ –

১. ওজন হ্রাস করে


খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণের একটি উপকারীতার মধ্যে অন্যতম হলো ওজন হ্রাস পাওয়া।  কড়াইশুঁটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ফলে ওজন কমে যায়  কারণ এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার। এবং এটা খুবই কম ক্যালোরিযুক্ত হয়। তাই খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণ করা হলে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে পেট ভর্তি হয়ে যায়। এইভাবে কড়াইশুঁটি ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে  (1)

২. ক্যান্সার প্রতিরোধক

 বিশেষজ্ঞদের মতে কড়াইশুঁটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সাথে এমন একটি পুষ্টি গুণ পাওয়া যায় যা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণের একটি উপকারীতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এটা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে (2) 

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

কড়াইশুঁটির অন্যসব স্বাস্থ্যোপযোগীতার মধ্যে একটি হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা। আসলে কড়াইশুঁটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম। বিশেষজ্ঞদের মতে ম্যাগনেশিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই কারণে মনে করা হয় যে নিয়মিত খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃধি পায় (3)  (4) 

৪. হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে

বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে কড়াইশুঁটিতে এমন কিছু পুষ্টি গুণ রয়েছে যা হার্ট সম্বন্ধীয় যাবতীয় সমস্যার অনায়াস সমাধান করে। এছাড়াও কড়াইশুঁটিতে রক্ত পরিশুদ্ধ করার একটা বিশেষ গুণ রয়েছে। মূলত এই কারণেই মনে করা হয় যে কড়াইশুঁটি হার্ট সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার নিরামায়ক (5) (6) 

৫. অ্যালজাইমার প্রতিরোধক

বৈজ্ঞানিকদের মতে কড়াইশুঁটিতে পলিমায়োএথেলেনামাইড (পিইএ) নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে। একটি গবেষণা সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে যে, পলিমায়োএথেলেনামাইড (ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ধরণ) এ অ্যান্টি ইনফ্লেমাটারি (নিউরো) বা প্রদাহনাশক এবং অ্যানালজেসিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। যা অ্যাজাইমার রোগ সংক্রান্ত যাবতীয় ঝুঁকির সম্ভবনা হ্রাস করে। এই কারণে বলা হয় অ্যালজাইমার রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে খাদ্য তালিকায় কড়াইশুঁটি অন্তর্ভূক্ত করা উচিৎ (7) 

৬. আর্থারাইটিস বা বাতের প্রকোপ নাশক

কথিত আছে যে, খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণ করলে আর্থারাইটিস বা বাতজ বেদনার সম্ভবনা কমে যায়। কারণ কড়াইশুঁটিতে রয়েছে সেলেনিয়াম নামক একটি বিশেষ উপাদান। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সেলেনিয়াম আর্থারাইটিস নিরাময় করে। এই কারণে মনে করা কড়াইশুঁটি শুধু বাতজ বেদনা বলেই নয় গাঁটের ব্যথাও দূর করতে সক্ষম। (8)

৭. কোলেস্টেরল প্রতিরোধক

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে কড়াইশুঁটিতে এমন কিছু পৌষ্টিক উপাদান রয়েছে যা হাইপার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রন করে। এই কারণে বলা হয় কড়াইশুঁটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে শরীরে উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা সহজ হয় (9)

৮. মধুমেহ রোগ প্রতিরোধক

বিশেষজ্ঞদের মতে কড়াইশুঁটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলীর পাশাপাশি অ্যান্টি হাইপার গ্লাইসেমিক ( রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রক) বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। এই কারণে বলা হয় যে কড়াইশুঁটি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রন করে।

৯. হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে

ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক তো বটেই এছাড়াও কড়াইশুঁটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে। বিশেষজ্ঞদের মতে এইসব পৌষ্টিক উপাদান হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শরীরে এইসব উপাদানের ঘাটতি মানবদেহে অস্টিওপোরেসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগের মতন সমস্যা তৈরী করে। এই কারণে হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য চিকিৎসকেরা কড়াইশুঁটি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন (10)  । 

১০. রিঙ্কেলস এবং অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধক

একাধিক ভিটামিন সমৃদ্ধ কড়াইশুঁটি অনেক রকম শারীরিক সমস্যা থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখে। কড়াইশুঁটিতে উপস্থিত ভিটামিন সি বিভিন্নরকম চর্মরোগ দূর করার পাশাপাশি ত্বকের ঊজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ত্বকের বলিরেখা দূর করে, শুষ্ক ত্বকের সমস্যা প্রতিকার করে ত্বক আর্দ্র করে রাখে। শুধু ত্বক বলেই নয় কড়াইশুঁটিতে উপস্থিত পৌষ্টিক উপাদান হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে, এবং হাড়ের ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করে।

১১. পরিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে

 কড়াইশুঁটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ ইত্যাদি। এইসব উপদান গুলির উপস্থিতি পেটের সমস্যা দূর করে হজম শক্তি বা পরিপাক ক্রিয়া উন্নত করে। এই সম্পর্কিত গবেষণা থেকে আরোও জানা যায় যে কড়াইশুঁটিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা হাইপারকোলেস্টরিক (কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রক) এবং অ্যান্টি কার্সিনোজেনিক (ক্যান্সার প্রতিরোধক) বৈশিষ্ট্যযুক্ত। একইসাথে কড়াইশুঁটিতে আলিগোস্কারাইডের উপস্থিতি হজম শক্তিকে উন্নত করে তোলে (11)  ।

১২. চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে

কড়াইশুঁটিতে ল্যুটেইন এবং জাক্সনন্থিন নামক দুটি বিশেষ উপাদান পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে এই দুটি উপাদান চোখের জন্য খুবই উপকারী। চোখ এবং ঐ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যায় ঐ উপাদানগুলি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই জন্য বলা হয় চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণ খুবই উপকারী এবং প্রয়োজনীয়ও বটে (12) 

১৩. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে

কড়াইশুঁটি একাধিক পৌষ্টিক উপাদান সমৃদ্ধ হয়। ঐসব উপাদান গুলি ত্বকে সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই গোড়ালির চামড়া প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাবে ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ভিটামিন সি অ্যান্টি এজিং এর সমস্যা বা ত্বকে বার্ধ্যকের ছাপ হ্রাস করে, ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বক মোলায়েম এবং প্রাণবন্ত করে রাখে।

১৪. চুলের স্বাস্থ্যোন্নতি করে

খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি গ্রহণ চুলের স্বাস্থ্যোন্নতির ক্ষেত্রেও ভীষণ ভাবে সহায়ক। এতে উপস্থিত পৌষ্টিক উপাদান গুলির মধ্যে ফলেট এবং ভিটামিন সি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি এবং  জিঙ্ক ও আয়রনের সম্মিলিত প্রভাবে চুল পরার প্রবণতা কমে যায়।

১৫. গর্ভাবস্থায় উপকারী

কড়াইশুঁটিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড সহ একাধিক ভিটামিনের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। এই সব কটি উপাদানই একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। তাই গর্ভবতী মহিলাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য তালিকায় কড়াইশুঁটি অন্তর্ভূক্ত করা খুবই জরুরী (13)

কড়াইশুঁটির পুষ্টি গুণ

কড়াইশুঁটির পুষ্টিগুণ গুলি হলো যথা –

পৌষ্টিক উপাদানপ্রতি ১০০ গ্রামে(একক)
জল৭৭.৮৭ গ্রাম
শক্তি৮৪ কিক্যালোরি
প্রোটিন৫.৩৬ গ্রাম
মোট লিপিড (ফ্যাট)০.২২ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট১৫.৬৩ গ্রাম
ফাইবার৫.৫গ্রাম
শর্করা৫.৯৩ গ্রাম
                 মিনারেলস
ক্যালসিয়াম২৭ মিলিগ্রাম
আয়রন১.৫৪মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম৩৯ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম২৭১ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১১৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম৩ মিলিগ্রাম
জিঙ্ক১.১৯মিলিগ্রাম
                    ভিটামিন
ভিটামিন সি১৪.২ মিলিগ্রাম
থিয়ামিন০.২৫৯ মিলিগ্রাম
রাইবোফ্লোবিন০.১৪৯ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন২.০২১ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি ৬০.২১৬ মিলিগ্রাম
ফলেট৬৩ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ৪০ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ (আইইউ)৮০১ আইইউ
ভিটামিন ই০.১৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন কে২৫.৯ মাইক্রোগ্রাম
                লিপিড্‌স
ফ্যাটি অ্যাসিড (স্যাচুরেটেড)০.০৩৯ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড (পলিস্যাচুরেটেড)০.০১৯ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড (মনোস্যাচুরেটেড)০.১০২ গ্রাম

সূত্র – (USDA)

কড়াইশুঁটি বেছে নেওয়ার পদ্ধতি এবং দীর্ঘ সময় যাবত সংরক্ষণ করার উপায়

  • বেছে নেওয়ার পদ্ধতি 

কড়াইশুঁটি শীতকালের ফসল হলেও বর্তমানে বছরের বারোই মাসই বাজারে পাওয়া যায়। কড়াইশুঁটি বেছে নেওয়ার সময় একথা মাথায় রাখা দরকার যে কড়াইশুঁটির দানা গুলো যেনো সবুজ রঙের হয় এবং এর বাইরের ত্বক যেন মসৃণ প্রকৃতির হয়। পূর্বল্লিখিত বৈশিষ্ট্য গুলির সাথে মিলে গেলেই বোঝা যাবে যে বাছাইকৃত কড়াইশুঁটি গুলি সজীব এবং টাটকা। এছাড়াও একটা জিনিস খেয়াল রাখা দরকার বাছাই করা কড়াইশুঁটি গুলো যেনও দানায় পূর্ণ থাকে এবং শুষ্ক প্রকৃতির না হয়।

  • সংরক্ষণ করার উপায় 

নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে দীর্ঘ সময় ব্যাপী কড়াইশুঁটি সংরক্ষণ করা সহজ হবে।

  • টাটকা কড়াইশুঁটি এয়ারটাইট কৌটোতে বন্ধ করে সংরক্ষণ করলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত রেফ্রিজারেটারে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
  • কড়াইশুঁটির দানা সিদ্ধ করেও দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
  • দীর্ঘ দিন যাবত কড়াইশুঁটিকে সংরক্ষণ করার জন্য একটা প্যাকেটে ভরে ডীপ ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।

কড়াইশুঁটির ব্যবহার

দৈনন্দিন জীবনে কড়াইশুঁটির ব্যবহার গুলি হলো নিম্নরূপ –

  •  রোজকার তরকারী রান্না করার ক্ষেত্রে কড়াইশুঁটি ব্যবহার করা হয়।
  • স্ন্যাক্স বা নোনতা খাবার তৈরী করার জন্য কড়াইশুঁটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • বিট, গাজর, পিঁইয়াজ ইত্যাদির সাথে স্যালাড হিসেবে কড়াইশুঁটি ব্যবহার করা যায়।
  • এছাড়া কড়াইশুঁটি থেঁতো করে কচুরী তৈরী করা যায়।

কড়াইশুঁটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সেই অর্থে দেখতে গেলে কড়াইশুঁটির সেরকম কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। তবুও মাত্রাতিরিক্ত কড়াইশুঁটি গ্রহণের ফলে যেসব সমস্যা গুলি দেখা যায় সেগুলি হলো যথাক্রমে –

  • নির্দিষ্ট পরিমাণের অতিরিক্ত কড়াইশুঁটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে পরিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
  • বেশি পরিমাণে কড়াইশুঁটি গ্রহণের ফলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা যায়। তাই ইতিমধ্যে গ্যাসের সমস্যায় ভুক্তভোগী মানুষজনের অতিরিক্ত পরিমাণ কড়াইশুঁটি গ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়।
  • এছাড়াও অতিরিক্ত পরিমাণ কড়াইশুঁটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণের ফলে পেট ফাঁপা, ঢেঁকুড়, এবং হজমের সমস্যা, পেট খারাপ ইত্যাদি সমস্যা হতে দেখা যায়।

পুনশ্চ কড়াইশুঁটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে হলে চিকিৎসকের  সাথে আলোচনা করা উচিৎ।

উপরিল্লিখিত প্রবন্ধ থেকে কড়াইশুঁটির ব্যবহার, স্বাস্থ্যোপযোগীতা, পুষ্টি গুণ এমনকি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া গেছে। কতকগুলি নিরাপদ পদক্ষেপ অনুসরণ করে খাদ্য হিসেবে কড়াইশুঁটি ব্যবহার করলে তা থেকে যথাযথ উপকারীতা পাওয়া যাবে। তবে যে কোনো ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কড়াইশুঁটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নেওয়া উচিৎ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

কড়াইশুঁটি আনাজ নাকি ফল?

কড়াইশুঁটি একাধারে আনাজ এবং অন্যদিকে এটা একরকমের দানা শস্য।

কড়াইশুঁটির সেল বা খোসা কী খাওয়া যেতে পারে?

নাহ! কড়াইশুঁটির সেল বা খোসা খাওয়া যায় না।

কাঁচা কড়াইশুঁটি কী খাওয়া যায়?

হ্যাঁ, খাওয়া যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই জলে ধুয়ে পরিষ্কার করার পরেই।

13 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch