জেনে নিন লবঙ্গর উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি – Clove (Laung) Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

by

আপনি জানেন কি লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতে নয় লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতাও প্রচুর। লবঙ্গ গাছের শুকনো ফুলের কুড়িকে আমরা লবঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করি। এর বৈজ্ঞানিক নাম হল সিজিজিয়াম অ্যারোম্যাটিকাম (Syzygium Aromaticum)। ঝাঁঝালো গন্ধ ও মশলাদার স্বাদের এই লবঙ্গে রয়েছে নানা রকমের ঔষধি উপাদান। বহু যুগ ধরে নানা রকমের রোগ নিরাময় করতে এই লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকের এই  পোস্টে আমরা আপনাকে লবঙ্গর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানাবো। আসুন দেখে নেওয়া যাক।

লবঙ্গর উপকারিতা – Benefits of Clove in Bengali

লবঙ্গে রয়েছে উচ্চ পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার, ভিটামিন সি ও কে। এর ফলে মস্তিস্ক সতর্ক ভাবে কাজ করে ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নিচে বিস্তারিত ভাবে লবঙ্গের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১. দাঁতের স্বাস্থ্য

লবঙ্গে থাকা ফেনোলিক কম্পাউন্ড ইউজিনল দাঁতের ব্যাথা থেকে নিমেষে মুক্তি দেয় কারণ এই ইউজিনলে রয়েছে অ্যানাস্থেটিক ও অ্যান্টি-ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান যা ব্যাথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে , (১)। সঠিক ফল পেতে হলে কয়েকটি গোটা লবঙ্গ দাঁতের যেই জায়গায় ব্যাথা হচ্ছে সেখানে রেখে আস্তে আস্তে দাঁত দিয়ে চিবোতে থাকুন। এর থেকে যেই তেল নিঃসরণ হয় সেটি দাঁতের ব্যাথা ভেতর থেকে নির্মূল করে। ভালো ফল পেতে হলে আধ ঘন্টা পর্যন্ত মুখে লবঙ্গ রাখুন। ব্যাথা যদি অসহ্য হয়ে ওঠে তাহলে আপনি লবঙ্গ গুঁড়ো করে ব্যাথার জায়গায় লাগিয়ে রাখুন। লবঙ্গ মুখের ভেতরের দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।

১. সর্দি ও কাশি

লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান যা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার ফলে হওয়া সর্দি কাশি নিমেষে দূর করে। লবঙ্গ শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। সর্দি বা কাশি হলে এক পাত্র জলে লবঙ্গ ও আদা ফুটিয়ে তাতে অল্প একটু চা পাতা মিশিয়ে গরম গরম পান করুন। খুব দ্রুত ফল পাবেন।

৩. ডায়াবেটিস

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন খাওয়া পর একটি করে লবঙ্গ খেলে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের মাত্রা নেমে আসে (২), (৩) । নিয়মিত একটি সঠিক পুষ্টিকর খাদ্য তালিকায় লবঙ্গ যোগ করলে আপনার ডায়াবেটিস অনায়াসে নেমে আসবে।

৪. সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে

লবঙ্গে থাকা ইউজিনল একটি শক্তিশালি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। তাই লবঙ্গ থেকে নানা রকমের এসেন্সিয়াল অয়েল তৈরী হয় (৪) । মুখ এবং গলার সংক্রমণের বিরুদ্ধেও দারুন কার্যকরী এই লবঙ্গ। মাড়িতে ফোলাভাব বা সংক্রমণ হলে লবঙ্গ বিশেষ ভাবে সাহায্য করে (৫)

৫. হজম ক্ষমতা

লবঙ্গের পেটের আলসার সারাতে সাহায্য করে। লবঙ্গ থেকে নিঃসৃত হওয়া তেল গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে যা পেটে পেপটিক আলসার হওয়াকে রোধ করে (৬)। লবঙ্গে রয়েছে ফাইবার যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে (৭)

৬. রক্ত সঞ্চালন

উচ্চ পরিমানে ইউজিনল থাকার ফলে তা রক্তের সঞ্চালন ও গতিবেগ সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এছাড়া এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান রক্তের নানা বিষক্রিয়া পদার্থ দূর করে হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৭. ক্যান্সার

একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে লবঙ্গ টিউমারের বেড়ে ওঠা রোধ করে ক্যান্সারের কোষগুলিকে নষ্ট করতে সাহায্য করে (৮)। লবঙ্গে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান আছে বলে জানা গেছে (৯)। এছাড়া লবঙ্গে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সারের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে (১০)। এমনকি, ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও দারুন কার্যকরী এই লবঙ্গ (১১)। তবে অবশ্যই এই ব্যাপারে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

৮. মানসিক চাপ কমাতে

লবঙ্গে রয়েছে কিছু অ্যালকোহলিক উপাদান যা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। এর প্রধান কারণ হল লবঙ্গে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (১২)। যদিও এই নিয়ে আরো অনেক গবেষণা হওয়া বাকি রয়েছে।

৯. মাথা যন্ত্রনা কমাতে

অ্যারোমাথেরাপিতে লবঙ্গ বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হয় কারণ এটি মাথা যন্ত্রনা কমাতে দারুন কার্যকরী। এর জন্যেও প্রধান কারণ হল ইউজিনল (১৩)। মাথা যন্ত্রনা হলে কয়েকটি লবঙ্গ গুঁড়ো করে রুমালের মধ্যে রেখে মাঝে মাঝে শুকতে থাকুন। তার সাথে আস্তে আস্তে মাথায় মালিশ করুন। দেখবেন মাথা ব্যাথা খুব শীঘ্রই কমে যাবে। তবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করার আগে অবশ্যই একবার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

১০. টেস্টোস্টেরোনের পরিমান বাড়ায়

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে লবঙ্গ কাঁচা অবস্থায় রোজ একটি করে চিবিয়ে খেলে পুরুষদের টেস্টোস্টেরোন হরমোনের পরিমান বাড়ে (১৪)। এছাড়া লবঙ্গ পুরুষদের যৌন সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে (১৫)। তবে এই বিষয়ে একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

১১. হাঁপানি কমাতে

হাঁপানি কমাতে লবঙ্গ তেল দারুন কার্যকরী (১৬)। এই তেল বুকে মালিশ করলে শ্বাস কষ্ট দূর করে। ফুসফুসে আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করতেও দারুন ফল দেয় এই লবঙ্গ তেল । এই তেল আপনি সহজেই বুকে, কপালে ও নাকে মালিশ করতে পারেন। এর ফলে শ্বাস নালীর পথগুলি জমাট বাধা থেকে মুক্তি পায় ও আপনি নিমেষেই আরাম অনুভব করবেন। লবঙ্গ তেল আপনি এক কাপ গরম জল বা চায়ের সাথে এক ফোটা ফেলে পানও করতে পারেন। এর ফলে গলা ব্যাথা কমে যায়।

১২. বমিভাব কাটায়

পেটের সমস্যা হলে বমি ভাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এছাড়া বাসে বা গাড়িতে যাতায়াত করার সময়ও বমি পাওয়ার একটা সম্ভাবনা অনেকেরই থাকে। এরকম অবস্থায় মুখে এক টুকরো লবঙ্গ রেখে তা অল্প অল্প করে চুষতে থাকুন। অনায়াসে বমি ভাব কেটে যাবে। এমনকি, গর্ভাবস্থার সময় মহিলাদের সকাল বেলায় বমি ভাব থাকা খুবই স্বাভাবিক । এ ক্ষেত্রেও লবঙ্গ দিয়ে তৈরী হালকা চা এই সমস্যা মেটাতে সাহায্য করবে।

১৩. গাঁটের ব্যাথা কমাতে

লবঙ্গে পলিফেনলে ভরপুর যার মধ্যে মূল হল ইউজিনল। এর সাহায্যে হাড়ের স্বাস্থ্য খুব উন্নত রাখা যায়, হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে ও গাঁটের ব্যাথা নির্মূল করা যায় (১৭) । এছাড়া লবঙ্গে থাকা ম্যাঙ্গানিজও সমান ভাবে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে জয়েন্টের ব্যাথা নির্মূল করে (১৮)

১৪. কানে ব্যাথা কমাতে

কানে ব্যাথা নির্মূল করতে লবঙ্গ তেল দারুন উপকারী। কানে ব্যাথা হলে ২ চামচ তিল তেল ও ৩ চামচ লবঙ্গ তেল একটু গরম করে কানের ভেতরে ঢেলে খানিক্ষন শুয়ে থাকুন। ধীরে ধীরে কানে ব্যাথা সেরে যাবে। এছাড়া আরেকটি উপায় হল, একটি বড় তুলোর বলে এক টুকরো লবঙ্গ মুড়ে সেটি কানে গুঁজে রাখুন। দেখবেন যেন ভুল করে লবঙ্গটি কানে ঢুকে না যায়। তারপর একটি গরম কাপড় বার বার কানে ধরুন। খুব শীঘ্রই কানে ব্যাথা সেরে যাবে।

১৫. ব্রণ কমাতে

ব্রণ কমাতে লবঙ্গের অ্যান্টি-ব্যাক্টিরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান দারুন কার্যকরী। লবঙ্গ তেল ত্বকের জন্যে দারুন উপকারী ও এর সাহায্যে ব্রণ বা ব্রণর ফলে হওয়া দাগ সহজেই নির্মূল করা যায়। তাই অ্যারোমা থেরাপিতে লবঙ্গ তেল বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হয় (১৯) । লবঙ্গ তেলের ইউজিনলে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান যা ত্বকের যে কোনো সংক্রমণ মিটিয়ে দিয়ে ব্রণ হওয়া রোধ করতে পারে।

লবঙ্গর পুষ্টিগত মান – Nutritional Value of Clove in Bengali

নিচের তালিকায় বিস্তারিত ভাবে লবঙ্গর পুষ্টিগত মান দেওয়া হল(৭) । জেনে নিন।

পুষ্টিপুষ্টিগত মান%
শক্তি৪৭ কিলো ক্যালোরি২%
কার্বোহাইড্রেট১০.৫১ গ্রাম৮%
প্রোটিন৩.২৭ গ্রাম৬%
ফ্যাট০.১৫ গ্রাম০.৫%
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম০%
ফাইবার৫.৪ গ্রাম১৪%
ভিটামিন
ফোলেট৬৮ মাইক্রো গ্রাম১৭%
নিয়াসিন১.০৪৬ গ্রাম৬.৫%
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড০.৩৩৮ মিলিগ্রাম৭%
পাইরোডক্সিন০.১১৬ মিলিগ্রাম৯%
রাইবোবোফ্ল্যাবিন০.০৬৬ গ্রাম৫%
থিয়ামিন০.০৭২ মিলিগ্রাম৬%
ভিটামিন এ১৩ IU০.৫%
ভিটামিন সি১১.৭ মিলিগ্রাম২০%
ভিটামিন ই০.১৯ মিলিগ্রাম১%
ভিটামিন কে১৪.৮ µg১২%
ইলেক্ট্রোলাইট
সোডিয়াম৯৪ মিলিগ্রাম৬%
পটাশিয়াম৩৭০ মিলিগ্রাম৮%
মিনারেল
ক্যালসিয়াম৪৪ মিলিগ্রাম৪%
কপার০.২৩১ মিলিগ্রাম২৭%
আয়রন১.২৮ মিলিগ্রাম১৮%
ম্যাগনেসিয়াম৬০ মিলিগ্রাম১৫%
ম্যাঙ্গানিজ০.২৫৮ মিলিগ্রাম১১%
ফসফরাস৯০ মিলিগ্রাম১৩%
সেলেনিয়াম৭.২ মাইক্রো গ্রাম১৩%
জিঙ্ক২.৩২ মিলিগ্রাম২১%
ফাইট নিউট্রিয়েন্ট
ক্যারোটিন এ৮ মাইক্রো গ্রাম
বিটা ক্রিপ্টো জ্যানথিন  `০  মাইক্রো গ্রাম
লিউটিন জি জ্যানথিন  `৪৬৪  মাইক্রো গ্রাম

লবঙ্গর ব্যবহার – How to Use Clove in Bengali

লবঙ্গ বিভিন্ন রকম ভাবে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া আজকাল প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরেই লবঙ্গ উপস্থিত থাকে। লবঙ্গ দিয়ে আপনি চা বা যে কোনো ধরণের সুগন্ধি খাদ্য যেমন কুকিজ, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরী করতে পারেন। আসুন বিস্তারিত ভাবে দেখে নেওয়া যাক রান্নায় কিভাবে অপনি লবঙ্গ ব্যবহার করবেন:

  • কেক বানানোর সময় আপনি তাতে লবঙ্গ গুঁড়ো করে যোগ করতে পারেন। এতে কেকের মধ্যে একটি আলাদা মাত্রায় স্বাধ ও গন্ধ ফুটে উঠবে। লবঙ্গের সাথে দারুচিনি যোগ করলে তা আরো সুস্বাদু হয়ে ওঠে।
  • সকালের চায়ের সাথে দুটো লবঙ্গ যোগ করুন। এটি স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই উপকারী।
  • ভাতের যেকোনো খাদ্য প্রণালী যেমন ফ্রয়েড রাইস, বিরিয়ানি, পোলাও, ইত্যাদিতে লবঙ্গ যোগ করা যেতে পারে ।

এবারে দেখে নিন রান্না ছাড়া আর কিভাবে লবঙ্গ ব্যবহার করবেন

  •  লবঙ্গ তেলে যেই অ্যারোমার সুগন্ধ থাকে তা পোকা মাকড় ও কীট পতঙ্গ তাড়াতে বেশ কার্যকরী।
  • বাড়িতে পোষ্য কুকুর বা বেড়াল থাকলে তাকে স্নান করানোর পর একটু খানি লবঙ্গ তেল মালিশ করে দেবেন। তাতে এর গায়ে পোকা মাকড় বা জীবাণু হবে না।
  • মশা তাড়ানোর জন্যেও এই লবঙ্গ  তেল দারুন উপকারী।

লবঙ্গর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া – Side Effects of Clove in Bengali

যেকোনো জিনিসের মত লবঙ্গও অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে তার কিছু  অপকারিতা দেখা যেতে পারে । দেখে নিন।

  • অতিরিক্ত পরিমানে লবঙ্গ খেলে তা স্বাস্থ্যের ওপর নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করে যেমন রক্তপাত, নিম্ন রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া, অ্যালার্জি ইত্যাদি (২০), (২১)
  •  গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপান করানোর সময় অতিরিক্ত লবঙ্গ না খাওয়াই ভালো।

তবে যাই হোক না কেন, লবঙ্গে রয়েছে নানা ঔষধি উপাদান যা স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়। সংক্রমণ থেকে শুরু করে ব্রণ সরানো পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই উপকার প্রদান করে এই লবঙ্গ। তাই স্বল্প পরিমাণে লবঙ্গ প্রত্যেকেরই প্রতিদিন খাওয়া প্রয়োজন।

21 তথ্যসূত্র :

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch