লবঙ্গ তেলের গুণাগুণ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | All About Clove Oil in Bengali

by

লবঙ্গ তেলের নাম শুনলে প্রথমেই মনে আসে এই তেলের আকর্ষক গন্ধ। রান্নায় ফ্লেভার আনতে যেমন লবঙ্গ ব্যবহার করা হয় তেমন স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনে ব্যবহার করা হয় লবঙ্গ তেল। হ্যাঁ, লবঙ্গ গাছের ফুল ও পাতার সাথে সাথে তেলেরও প্রচুর গুণাগুণ রয়েছে। (১)  রূপচর্চাতে লবঙ্গ এসেন্সিয়াল তেলের ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গ তেল লবঙ্গ গাছের ফল থেকেই এক্সট্র্যাক্ট করা হয়। পুরনো যুগ থেকেই দাঁতের ব্যথায় লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়ে এসেছে সেটা আমাদের অজানা নয়।  লবঙ্গ তেল অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গল এবং চেতনানাশক গুণে ভরপুর। এটি ত্বকের রোগ নিরাময়, হজমে  এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই প্রবন্ধটিতে লবঙ্গ তেলের উপকার, ব্যবহার, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হল।

 লবঙ্গ তেলের গুণাগুণ ও উপকারিতাঃ

লবঙ্গ তেলে উপস্থিত গুণাগুণের জন্য এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। সেই উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। তার মধ্যে কিছু উপকারিতার কথা এখানে বলা হল।

১. দাঁতের সমস্যায়ঃ

লবঙ্গ তেল দাঁতের ক্ষয় হওয়া ও গর্ত হওয়া প্রতিরোধ করে, মুখের ব্যথা থেকে স্বস্তি দেয়। গতানুগতিকভাবে এটি দাঁতের ব্যথা প্রশমনকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মুখ এবং গলার প্রদাহ এর মত জরুরি অবস্থাতে ব্যবহৃত হয়। এটি টুথপেস্ট এবং মাউথ ওয়াশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। (২) লবঙ্গ তেলের একটি সুগন্ধি নির্যাস ইউজেনোল থাকে যা দাঁতের ব্যথাতে আরামদায়ক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গ তেল মুখের ভেতরের ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধিকে কমায়। লবঙ্গ তেলের অ্যান্টি কার্সেনোজেনিক এবং সাইটোটক্সিক সক্রিয়তার জন্য এটি বহু চিকিৎসাতে ব্যবহৃত হয়। ইউজেনোল এবং ইউজেনাইল অ্যাসেটেট লবঙ্গ তেলের দুটি সক্রিয় উপাদান, যা দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।  লবঙ্গ তেল মাইক্রোঅর্গানিজমের  উপর খুবই কার্যকরী যা দাঁতের ক্ষয়ের কারণ।

২. ক্যান্সার থেকে বাঁচতেঃ

লবঙ্গ তেলের মধ্যে উপস্থিত ইউজেনলের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণ পাওয়া গেছে। এটি ক্যান্সারের বিস্তার আটকাতে সক্ষম এবং ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসে সহায়তা করে (অ্যাপোপটোসিস)। (৩)  আর একটি গবেষণায় জানা গেছে যে ইউজিনল, মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসার বৃদ্ধির গতি হ্রাস করে। ইউজিনল টিউমারের আকার ৪০ শতাংশ কমাতে সক্ষম এবং এটি টিউমারের বৃদ্ধি হ্রাস করে। ন্যাশনাল টক্সিলজি প্রোগ্রাম ক্যার্সিনোজেনিসিটির ওপর করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ইউজিনল ইঁদুরের ওপর কার্সিনোজেনিক প্রভাব নেই। আমরা মানুষের উপরেও এই ফল আসা করতে পারি। অন্য একটি সমীক্ষায় জানা গেছে যে লবঙ্গ নির্যাস  টিউমারের বৃদ্ধি হতে দেয় না। এটি কলোরেক্টাল ক্যান্সারের চিকিৎসায় আদর্শ হতে পারে। যাই হোক না কেনো সতর্কতা মেনে চলা দরকার, কারণ ইউজিনলের কিছু প্রক্সিড্যান্ট ধর্ম আছে। এর মধ্যে থাকা যৌগগুলির কারণে অ্যালার্জি এবং প্রদাহ হতে পারে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেঃ

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে লবঙ্গ তেলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। লবঙ্গ তেলে রয়েছে প্রদাহ নাশক প্রভাব। এছাড়া এনসিবিএই এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে লবঙ্গ তেল হিউমোরাল ইমিউনো রেসপন্স বাড়িয়ে আর সেল মেডিয়াটেড ইমিউনিটি কম করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৪. সংক্রমণের চিকিৎসায়ঃ

লবঙ্গ তেলের ব্যবহার বিভিন্ন প্রকারে করা সম্ভব। যেমন আমরা উপরে বলেছি যে এতে ইউজেনল নামক পদার্থ থাকে যা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ফাংগাল গুনে ভরপুর। এর ফলে এটি শরীরে ব্যাকটেরিয়াল এবং ফাংগাল সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আর একটি গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী লবঙ্গ তেলে পাওয়া ইউজেনলে অ্যান্টি ক্যান্ডিডাল গুণ আছে যা ক্যান্ডিড সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। (৪)

৫. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেঃ

হার্টের সুস্বাস্থ্যের জন্য লবঙ্গ তেল খুব কার্যকরী। এখানে ইউজেনলের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লখযোগ্য। এন সি বি আই – এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানতে পারা যায় যে ইউজেনল সমৃদ্ধ ঔষধি গাছের ব্যবহারে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। এটিকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপাচার বলা যেতে পারে।(৫) লবঙ্গ তেল উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে রক্তচাপের ফলে যে হার্টের রোগগুলো হয়ে থাকে সেসবও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অবশ্য এই বিষয়ে আরও  গবেষণা প্রয়োজন।

৬. বমি বমি ভাব কমাতেঃ

লবঙ্গ তেল বমি বমি ভাব কমাতে বেশ কার্যকর। বমি হলে এই তেলের সেবনে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া গাড়িতে উঠলে অনেকের মাথা ঘোরে, বমি পায় – সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লবঙ্গ তেল সেবন করা হয়। এনসিবিআই – এর এক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে ইউজেনল এই বমি বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে। (৬)

৭. যৌন রোগের চিকিৎসায়ঃ

লবঙ্গ তেল শুধুমাত্র সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য নয় বরং এটা যৌন রোগের মুক্তিতেও উল্লেখযোগ্য ভাবে কাজ করে। এনসিবিআই -এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি তথ্য অনুযায়ী লবঙ্গ তেল কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই যোগ গতিবিধি বাড়াতে সাহায্য করে। এই তথ্যের বিচারে বলা যেতে পারে যে এই তেলটি যৌন স্বাস্থ্যের জন্য লাভজনক হতে পারে। যদিও এটার ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। লবঙ্গ তেল শীঘ্রপতন ও রোধেও ব্যবহার করা হয়।

৮. মানসিক চিন্তা থেকে মুক্তিতেঃ

লবঙ্গের বিশেষ সুগন্ধের জন্য এটি মানসিক চাপ বা অবসাদ দূর করতে ব্যবহার করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে আজকাল সবাই কম বেশি মানসিক চিন্তাতে ভোগে। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে লবঙ্গ তেলের ম্যাসাজ নিলে শরীর চনমনে হয়ে ওঠে। মাথা ঠাণ্ডা থাকে। মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। লবঙ্গ তেলে থাকে ইউজেনল যার অ্যান্টি স্ট্রেস গুণ মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। (৭)

৯. বদহজম থেকে মুক্তিতেঃ

পাচন তন্ত্রের সমস্যায় সমাধানে লবঙ্গ তেলের উপযোগিতা রয়েছে – তা জানতে পারা যায়। এই তেল গ্যাস ও পেট ফুলে যাওয়ার মত সমস্যায় বেশ লাভদায়ক জানা গেছে।

১০. কানের ব্যথা উপশমেঃ

কানের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই লবঙ্গ তেল ব্যবহার করে। এক গবেষণায় জানা যায় যে তিলের তেলের সাথে লবঙ্গ তেল মিশিয়ে হাল্কা গরম করে, সেটা ব্যবহার করলে কানের ব্যথা থেকে উপশম পাওয়া যায়। এর পেছনে রয়েছে লবঙ্গ তেলের অনুভূতিনাশক গুণ, যার জন্য এই তেল ব্যথা কমাতে সক্ষম। (৮)

১১. পেটের সমস্যায়ঃ

পেট ব্যথা হলে লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা হয়। এখানেও দেখা গেছে ইউজেনল বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় জানা গেছে যে এই ইউজেনল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা যেমন পেট ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

১২. কলেরা রোগের চিকিৎসায়ঃ

আমরা জানি দূষিত জল বা খাবার খেলে কলেরা রোগ দেখা যায়। দেখা গেছে যে কলেরা রোগে লবঙ্গ তেল বেশ কার্যকরী। এনসিবিআই -এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে যে লবঙ্গ এক্সট্র্যাক্টে মজুত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম কলেরা রোগের জন্য দায়ী ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। (৯)

১৩. ত্বকের পরিচর্যায়ঃ

ত্বকেও লবঙ্গ তেল লাভজনক হতে পারে। একটি তথ্য অনুযায়ী এই তেলে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ প্রপিওনিব্যাক্টেরিয়াম অ্যাকনের উপর ভালো কাজ করে। প্রপিওনিব্যাক্টেরিয়াম অ্যাকনে হল এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া, যা ত্বকের রোগের কারণ।(১০) লবঙ্গ তেল ত্বকে আর কীভাবে ব্যবহার করা সম্ভব এই নিয়ে আরও গবেষণা জরুরী।

১৪. চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায়ঃ

চুলে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার চুল পড়া কম করতে সাহায্য করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। লবঙ্গ তেলে থাকা ইউজেনাল চুলের বিকাশে  সাহায্য করে।

লবঙ্গ তেল কীভাবে ব্যবহার করবেন?

বিভিন্ন উপায়ে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার করা যায়। নীচে সেই উপায়গুলো বলা হল।

  • ক্লান্তি ও মাথাব্যথায় লবঙ্গ তেলের ব্যবহার আরামদায়ক।
  • কানের ব্যথায় তিলের তেলের সঙ্গে লবঙ্গ তেল মিশিয়ে হাল্কা গরম করে কানে দিলে ব্যথা উপশম হয়।
  • লবঙ্গ তেলের মধ্যে ছত্রাকনাশক গুণ থাকে। তাই দাদ জাতীয় ত্বকের সমস্যায় সরাসরি ত্বকে লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা হয়।
  • নখে ছত্রাক সংক্রমণ হলে প্রভাবিত জায়গায় লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মাড়ির ব্যথায় কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল ব্যবহার করলে ব্যথা উপশম হয়। যে জায়গায় ব্যথা হচ্ছে সরাসরি সেখানেও লাগাতে পারেন অথবা উষ্ণ গরম জলে কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল মিশিয়ে গার্গল করলে ব্যথা দূর হয়।

লবঙ্গ তেল ব্যবহারের কিছু উপায় তো জানা হয়েই গেল, এবার দেখে নেওয়া যাক ঘরে কীভাবে সহজেই লবঙ্গ তেল বানাবেন?

লবঙ্গ তেল বানানোর পদ্ধতি

বাজার থেকে আমরা সহজেই লবঙ্গ তেল পেয়ে যেতে পারি, কিন্তু তার গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তাই আপনারা ঘরেই একদম বিশুদ্ধ লবঙ্গ তেল বানিয়ে নিতে পারেন। ঘরে লবঙ্গ তেল বানানোর পদ্ধতি নীচে বর্ণনা করা হলো।

প্রয়োজনীয় সামগ্রীঃ

১ চামচ লবঙ্গ

৯০ মিলিগ্রাম অলিভ অয়েল

১ টি খালি টি ব্যাগ বা সুতির কাপড়

পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে লবঙ্গগুলো খালি টি ব্যাগে ঢেলে নিন।
  • এরপর একটা পাত্রে অলিভ ওয়েল নিন।
  • এই অলিভ অয়েলে লবঙ্গ ভর্তি টি ব্যাগ ডুবিয়ে দিন এবং হালকা আঁচে গরম করতে থাকুন।
  • প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত গরম হতে দিন।
  • গরম করার পর পাত্রে মজুত তেল একটা ছোট কাঁচের জারে রাখুন আর লবঙ্গ ভর্তি ব্যাগটিও ওই জারেই এক সপ্তাহের জন্য রেখে দিন।
  • এক সপ্তাহ পর আপনি পেয়ে যাবেন বাড়িতে প্রস্তুত বিশুদ্ধ লবঙ্গ তেল।

লবঙ্গ তেল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন কীভাবে?

লবঙ্গ তেল কোন তেলের সাথে মিশিয়ে বানানো হচ্ছে সেটার ওপর নির্ভর করে ওই তেল কতদিন পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখতে পারবেন? যতদিন পর্যন্ত সেই তেল খারাপ হবে না, ততদিন পর্যন্ত লবঙ্গ তেলও ভালো থাকবে। এছাড়া লবঙ্গ তেলের জারের মুখ অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল পেপার দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখলে এই তেল প্রায় তিনমাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

লবঙ্গ তেলের অন্যান্য উপকারিতাঃ

লবঙ্গ অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ফাংগাল গুণে ভরপুর হওয়ায় এই তেলের উপযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে করা হয়ে থাকে। লবঙ্গ তেলের অন্যান্য উপকারিতা সম্পর্কে বলা হল।

১. কীটনাশক হিসেবেঃ

কীটনাশক হিসেবে লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা হয়। মোমবাতি তৈরির সময় এই তেল ব্যবহার করা হয় কারণ এর গন্ধে কীট পতঙ্গ তাড়ানো যায়। রাতে শোয়ার আগে কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল বিছানায় ছিটিয়ে দিলে কীট পতঙ্গ আর আসে না।

২. প্রসাধনী হিসেবেঃ

প্রসাধনী সামগ্রীতে সামগ্রী তেও লবঙ্গ তেলের ব্যবহার করা হয়। বাজারে অনেক লবঙ্গ তেল যুক্ত প্রসাধনী দেখা যায়। ক্রিম, স্ক্র্যাব, লোশন তৈরি করতে কাজে লাগে।

৩. সাবান ও সুগন্ধি হিসেবেঃ

দারুণ গন্ধ এবং আয়ুর্বেদিক ও অ্যান্টিসেপটিক গুণের জন্য লবঙ্গ তেল সাবান এবং সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

৪. অ্যারোমাথেরাপিতেঃ

অ্যারিমাথেরাপিতে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার করা হয়। ম্যাসাজের তেল হিসেবে অনেক সময় এই তেল ব্যবহার করা হয়।

লবঙ্গ তেল ব্যবহারের আগে সাবধানতা

আমরা জানি লবঙ্গ তেলের বহু উপকারিতা আছে। কিন্তু না জেনে এর ব্যবহার করলে কিন্তু তার পরিণাম খুব খারাপ হতে পারে। নীচে বলা হল লবঙ্গ তেল ব্যবহারের আগে কোন কোন বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।

  • গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে লবঙ্গ তেল ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া একান্তই প্রয়োজন।
  • ঠিক কতটা পরিমাণ লবঙ্গ তেল ব্যবহার করতে হবে সেই মাত্রাটা ব্যবহারের আগে জেনে নিন।
  • ছোট বাচ্চাদের থেকে এই তেল সবসময় দূরে রাখুন।
  • যেসব মহিলা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান তারা এই তেল ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • লবঙ্গ তেল দিয়ে ব্যবহারের পর কোনো রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ এই তেলের প্রয়োগ বন্ধ করুন এবং ডাক্তার দেখান।

লবঙ্গ তেলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

লবঙ্গ তেলের উপকারিতার পাশাপাশি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এমনিতে তো লবঙ্গ তেল নিজ গুণে সমৃদ্ধ তাই উপকারিতাও প্রচুর, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগে এর ক্ষতিকারক প্রভাবও রয়েছে। লবঙ্গ তেলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

  • কোমা – অতিরিক্ত মাত্রায় লবঙ্গ তেল সেবনে কোমার মত পরিস্থিতি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অ্যালার্জি ও টক্সিক প্রভাব – লবঙ্গ তেলের মধ্যে থাকে ইউজেনাল, যার জন্য খুব বেশি পরিমাণে এর সেবনে অ্যালার্জি বা অন্যান্য টক্সিক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
  • ব্লাড সুগার – লবঙ্গ তেলের জন্য রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে পারে। এইজন্য মধুমেহ রোগীদের এই তেলের ব্যবহার সাবধানে করতে হবে।
  • বাচ্চাদের ওপর প্রভাব – লবঙ্গ তেল বাচ্চাদের দেহে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অনেক সময় লিভার ড্যামেজ হয়ে যায়। ফ্লুইডের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

এখন আপনি এই লেখা পড়ে লবঙ্গ তেলের উপকারিতা ভালোমতোই জেনে নিয়েছেন, এখন দৈনিক রুটিনে এই তেল সামিল করতেই পারেন। এর সাথে একটা কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে যে এই তেলের ক্ষতিকারক দিক ও আছে। তাই ব্যবহারের আগে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। আশা করছি এই আর্টিকেল আপনাকে লবঙ্গ তেলের সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও তথ্য জানতে স্টাইলক্রেজে চোখ রাখুন।

লবঙ্গ তেল নিয়ে জিজ্ঞেস করা কিছু প্রশ্নের উত্তর এক্সপার্টরা দিয়েছেন, সেগুলো নিচে দেওয়া হল।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন

লবঙ্গ তেল কি পান করা যায়?

লবঙ্গ তেল পান করা যায় কিনা সে বিষয়ে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া ঠিক হবে। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলেন যে খুব বেশি পরিমাণে লবঙ্গ তেল সেবন করলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা কোমা বা লিভারের অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লবঙ্গ তেল কি দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক?

সাধারণত লবঙ্গ তেল দাঁতের জন্য উপকারী বলেই মনে করা হয়। কারণ লবঙ্গ তেল দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।  কিন্তু বেশি পরিমাণে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার ক্ষতি করতে পারে। দাঁতের ওপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে তেমন কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায় নি। তবুও সাবধানতার জন্য সীমিত মাত্রায় লবঙ্গ তেল দাঁতের জন্য ব্যবহার করা উচিৎ। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

দাঁতের ব্যথায় লবঙ্গ তেল কখন ও কত বার ব্যবহার করা যায়?

সাধারণভাবে দিনে ৫-৬ ঘণ্টা অন্তর দাঁতে লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা যায়। তবুও দাঁতের সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই তেল ব্যবহার করা ঠিক নয়।

লবঙ্গ তেল কি ঘুমে সাহায্য করে?

হ্যাঁ, অনিদ্রায় লবঙ্গ তেল খুব কার্যকরী। মানসিক অবসাদ, চিন্তা দূর করতে এই তেল খুব লাভদায়ক। কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল অন্য তেলের সাথে মিশিয়ে কপালে একটু ম্যাসাজ করলে ভালো ঘুম হতে খুব সাহায্য করে।

লবঙ্গ তেল কি সরাসরি ত্বকে লাগানো যায়?

হ্যাঁ, দাদের মত ফাংগাল ইনফেকশনের ক্ষেত্রে লবঙ্গ তেল সরাসরি ত্বকে লাগানো যায়।

লবঙ্গ তেল কাজ করতে কত সময় নেয়?

এই বিষয়ে সঠিক কিছু বলা সম্ভব নয়। এটি ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও সমস্যার গভীরতার ওপর নির্ভর করে।

তিলের তেল ও লবঙ্গ তেল একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে কী উপকার পাওয়া যায়?

কানের ব্যথা দূর করতে তিলের তেল ও লবঙ্গ তেল মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়।

সর্ষের তেল ও লবঙ্গ তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে কী উপকার পাওয়া যায়?

সর্ষের তেলের সাথে লবঙ্গ তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে হাঁটুর ব্যথায় উপশম পাওয়া যায়, পেশির খিঁচুনি থেকে আরাম মেলে।

10 Reference:

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch