মাথা ঘোরার কারণ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ঘরোয়া উপায়ে এর প্রতিকার | What is Dizziness in Bengali

Written by

হঠাৎ করে চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা এবং তার সাথে সারা শরীর কাঁপতে থাকা এইরকম শারীরিক উপসর্গ কম বেশি সকলের জীবনেই দেখা দিতে পারে। এছাড়া কখনও কখনও এরসাথে দুর্বলতা এবং ক্লান্তিও অনুভূত হয়। এইসব কিছুই মাথা ঘোরার লক্ষণ বলে মনে করা হয়। যদিও এই সমস্যা এমন কিছু উদ্বেগ জনক নয় তথাপি কয়েকটি ক্ষেত্রে এটা গুরুতর আকার নিতে পারে। আলোচ্য প্রবন্ধে মাথা ঘোরা সম্বদ্ধীয় যাবতীয় তথ্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এই সকল চিকিৎসা পদ্ধতি গুলি মানুষ এবং পশু উভয়ের ওপর গবেষণার ভিত্তিতেই করা হয়েছে। এবং দেখা গিয়েছে এই প্রবন্ধে আলোচিত ঘরোয়া প্রতিকার বেশ কিছু ক্ষেত্রেই সাফল্য পেয়েছে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে সমস্যাটি যদি গুরুতর হয় তাহলে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। (1)

মাথা ঘোরার প্রকারভেদ

এনসিবিআই (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, মোট চার ধরণের মাথা ঘোরা দেখা যায়।

  • ভার্টিগো – এই ধরণের অসুখের ক্ষেত্রে মনে হয় আক্রান্ত ব্যক্তির আসে পাশের সব কিছুই চক্রাকারে ঘুরছে। শুধু তাই নয় একইসাথে ভার্টিগো আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বমি ভাব এবং মাথা ঘোরা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। (2)
  • ভারসাম্যহীনতা – এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পরে। পাশাপাশি পায়ের সমস্যা এবং মাথা ঘোরার সমস্যা বর্তমান থাকে।
  • প্রিসিনকোপ – এই ধরণের অসুখের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি কেবল সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবেন এমনটা অনুভূত হয়, কিন্তু আদোতে তা হয়না। আর যখন আক্রান্ত ঐ ব্যক্তি বসে বা শুয়ে থাকেন তখন কিছুটা হলেও আরাম পাওয়া যায়।
  • লাইটহেডেডনেস – এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথার মধ্যে সবসময় একটা ঝনঝনানি অনুভূত হয়। এক্ষেত্রে কখনও কখনও আক্রান্ত ব্যক্তির এইরকমও মনে হয় যে তার মাথাটা শরীরের সাথে যুক্ত নেই একেবারে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মাথা ঘোরার কারণ সমূহ –

মাথা ঘোরার কারণ হিসেবে একাধিক জিনিসকে দায়ী করা যায়। কারণ গুলি হলো নিম্নরূপ – (3)

  • হঠাৎ করে ওঠা বসা করলে – বেশ অনেক মানুষ আছেন যারা হঠাৎ করে উঠা বসা করলে মাথা ঘোরা অনুভব করেন। তাই হঠাৎ করে উঠা বা বসা মাথা ঘোরার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়।
  • মাইগ্রেন – মাইগ্রেন আক্রান্ত মানুষদের মাথায় অসম্ভব যন্ত্রণা হয়। যে কারণে মাথা হতে পারে।
  • ওষুধের কারণে – কানের ভেতর কোনো ধরণের সমস্যা হয়ে থাকলে বা কোনো ওষুধের প্রতিক্রিয়া জনিত কারণেও মাথা ঘুরতে পারে।
  • নিম্ন রক্তচাপ – রক্তচাপ হঠাৎ করে কমে গেলে মাথা ঘোরার উপক্রম হয়ে পরে।
  • ডিহাইড্রেশান বা জল বিয়োজন – শরীরে জলের পরিমানের ঘাটতি দেখা দিলে অনেক সময় মাথা ঘোরার সম্ভবনা তৈরী হয়।
  • মোশান সিকনেশের কারণে – মোশান সিকনেশের কারনেও অনেকের মাথা ঘুরতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি একটানা সময় ধরে বাস বা গাড়িতে ভ্রমণ করার জন্য এমনটা হয় বলে মনে করা হয়।
  • বয়স বৃদ্ধিজনিত কারণে – বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। যে কারণে অনেক ওষুধ সেবন করতে হয়। এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলেও অনেক সময় মাথা ঘোরার উপক্রম হয়।
  • অন্যান্য কারণে – কখনও কখনও উপরিল্লিখিত কারণ গুলি ছাড়াও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। সেই পরিস্থিতিতে বিন্দুমাত্র সময় দেরী না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

মাথা ঘোরার লক্ষণ বা উপসর্গ

মাথা ঘোরার কারণে অনেক সময় ব্যক্তি তার আসপাশের জিনিস ঝাপসা দেখেন। এমনকি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পরে। এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে মাথা ঘোরার একাধিক উপসর্গ বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলি হলো যথাক্রমে –

  • ডিপ্লোপিয়া – একই বস্তুর একাধিক প্রতিরূপ প্রদর্শিত হয়।
  • ভার্টিগো – মাথা অনবরত ঘুরতে থাকা।
  • ডাইসাথেরিয়া – জিভ জরিয়ে যাওয়া এবং অস্পষ্ট উচ্চারণ।
  • অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দুর্বলতা – অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দুর্বলতা অনুভূত হওয়া।
  • ডিসস্থেসিয়া – সারা শরীরে শিরশিরানি অনুভূত হওয়া।
  • অ্যাটাক্সিয়া – সামাণ্য শারীরিক সঞ্চালনে শারীরিক ভারসাম্যহীনতার অভাব অনুভূত হওয়া।
  • চোখের সম্মুখে থাকা দৃশ্য ঝাপসা হয়ে যাওয়া, চোখ কাঁপতে থাকা, দৃষ্টিশক্তিতে অসামঞ্জস্য থাকার দরুণ হাঁটাচলার ক্ষেত্রে অসুবিধে।
  • এছাড়াও কোনো জিনিস হঠাৎ করে কাছে চলে আসছে অথবা দূরে সরে যাচ্ছে এমন বোধ হওয়া, মাথা ব্যথা অনুভূত হওয়া, হঠাৎ করে সংজ্ঞা হারিয়ে যাবে এমন মনে হওয়া একইসাথে বমি ভাবের উদ্রেক, কানের ভেতরে অদ্ভুত সব শব্দ শ্রুত হওয়া। শোনার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হওয়া। এবং হঠাৎ করে একটা ঝটকা লাগছে এমন বোধ হওয়া। এইসবই মাথা ঘোরার লক্ষণ বা উপসর্গ হিসেবে পরিচিত। (4)

ঘরোয়া উপায়ে মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের উপায়

এবার ঘরোয়া উপায়ে মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের উপায় গুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১। আদা আদার ব্যবহার মাথা ঘোরা দূর করার ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে জানা যায় যে আদায় রয়েছে বিশেষ একপ্রকার ঔষধী গুণাবলী। যদি কোথাও ভ্রমণের সময় আদা সেবন করা হয় তাহলে এটি মোশন সিকনেশ (মাথা ঘোরার একটি অন্যতম প্রধাণ কারণ) এর সমস্যাও সমাধান করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই বৈজ্ঞানিক গবেষণা সূত্রে আরোও জানা যায় যে আদা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয় যা মাথা ঘোরার সমস্যার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী বলে গণ্য করা হয়। তাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে আদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উপাদান হিসেবে পরিগণিত হয়। (5)

ব্যবহার পদ্ধতি আদা টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এবার কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে মুখে ঐ আদার টুকরো রেখে সেটা চিবোতে হবে। এতে করে মোশন সিকনেসের সমস্যার ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যাবে। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে আদার সাপ্লিমেন্ট বা বিকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে।

২। মধু মাথা ঘোরার সমস্যার ক্ষেত্রে মধু খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নসিবিআই (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) প্রকাশিত একটি চিকিৎসা গবেষণা অনুসারে জানা যায় যে, মধুর পৌষ্টিক উপাদানের মধ্যে অধিক মাত্রায় শক্তি পাওয়া যায়। খাদ্য হিসেবে মধু গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরে একটি শক্তি অনুভূত হয়। শরীরে অধিক মাত্রায় ক্যালোরির প্রবেশ ঘটে। মধু, ভার্টিগোর সমস্যার নিরাময়ের ক্ষেত্রে খুবই সহায়তা করে। অন্য একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে মধুর সেবন মাথা ঘোরা নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। (6) (7)

ব্যবহার পদ্ধতি 

  •  ১ গ্লাস জলে ২ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ আপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে নিতে হবে।
  •  তারপর ঐ মিশ্রিত জল পান করতে হবে।
  • এছাড়াও ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ লেবুর রস জলের সাথে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
  • খেয়াল রাখা দরকার যে ঘরোয়া এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ মধুর ব্যবহার একান্তভাবেই কাম্য।

৩। তুলসী মাথা ঘোরার সমস্যা নিরাময়ের জন্য অনেকেই কী করা উচিৎ আর কী করা উচিৎ নয় এইসব অনেক কিছু চিন্তা করে থাকেন। তবে মাথা ঘোরার সমস্যা আদৌ কোনো কঠিন অসুখ নয়। তুলসী গাছ এবং পাতার নির্যাস মাথা ঘোরার সমস্যা সমাধান করতে উপকারী ভূমিকা পালন করে। বৈজ্ঞাণিক গবেষণা অনুসারে তুলসী  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। উভয় প্রকার বৈশিষ্ট্য মাথা ঘোরার সমস্যার নিরাময় করে থাকে। অবশ্য এই বিষয়ে এখনও অনেক গবেষনার প্রয়োজন রয়েছে। (8)

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • কয়েকটি তুলসী পাতা পিষে ১/২ চা চামচ নির্যাস বের করে নিতে হবে।
  • মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিলে এই নির্যাস গ্রহণ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যাবে।

৪। আমণ্ড একাধিক পুষ্টি গুণ সম্পন্ন আমণ্ড বা কাঠবাদাম কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রাই ফ্রুট হিসেবে গণ্য করা হয়। মাথার ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের ক্ষেত্রে বাদাম একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে মনে করা হয়। বাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন বি৬। এই ভিটামিন মাথা ঘোরার সমস্যা উপশম করে। অবশ্য বাদামে ভিটামিন বি ৬ এর মাত্রা খুবই কম থাকে তাই ভিটামিন বি ৬ এর ঘাটতি পূরণের জন্য বিকল্প খাদ্য দ্রব্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী।(9)

ব্যবহার পদ্ধতি 

  •  ৪ – ৫ টা বাদাম সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • পরদিন সকালে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে মসৃণ করে বেটে নিতে হবে।
  • তারপর ঠাণ্ডা দুধে ঐ বাদাম বাটা মিশিয়ে পান করা যায়।

৫। গিংকো বিলোবাগিংকো বিলোবা মাথা ঘোরার জন্য একটি ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ গিংকো বিলোবা থেকে নিঃসৃত নির্যাসে বিশেষ চিকিৎসা গুণ সম্পন্ন হয়। একটি ক্লিনিক্যাল স্টাডি অনুসারে এটি ব্যবহার করলে মাথা ঘোরার সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে মাথা ঘোরা সমস্যা নিরাময়ের জন্য এই দ্রব্য ব্যবহারের পূর্বে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী। গিংকো বিলোবোর উপকারীতা সম্বদ্ধে অবশ্য এখনও অনেক বৈজ্ঞাণিক গবেষনার প্রয়োজন রয়েছে।(10)

ব্যবহার পদ্ধতি 

  •  গিংকো বিলোবা (সবুজ পাতা যুক্ত একটি উদ্ভিদ) সহজেই বাজারে পাওয়া যায়।
  • বাজার থেকে বাড়িতে এনে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • এরপর এর পাতা গুলোকে ভালো করে পিষে বা থেঁতো করে নির্যাস বা রস বের করে নিতে হবে।
  • এই নির্যাস মাথা ঘোরার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারেন।
  • তবে সঠিক ডোজের বিষয়ে জানার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

৬। আমলকি – মাথা ঘোরার সমস্যার প্রতিকারে ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে আমলকি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য আমলকি একটি কার্যকরী ফল হিসেবে মনে করা হয়। একটি বৈজ্ঞাণিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায় যে আমলকি ফলের গুঁড়ো মাথা ব্যথা এবং মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারে ব্যবহৃত হয়।(11)

ব্যবহার পদ্ধতি 

  • ২ – ৩ ফোঁটা সরষের তেল নিতে হবে।
  • আমলকির শাঁস দিয়ে একটা নির্যাস তৈরী করে নিতে হবে এবং তাতে সর্ষের তেল মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এবার মাথার ত্বকে এই প্রলেপ হালকা হাতে লাগিয়ে নিতে হবে।
  • এই প্রলেপ লাগানোর ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

৭। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল আগেই বলা হয়েছে যে মাথা ঘোরার পশ্চাদে একটি অন্যতম কারণ হিসেবে ডিহাইড্রেশান অকে দায়ী করা যেতে পারে। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল গ্রহণ করা জরুরী। জল শরীরকে আর্দ্র করে রাখে এবং মাথা ঘোরার সমস্যাও নিরাময় করে। (12)

৮। পাতি লেবু মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের জন্য পাতি লেবুও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি বৈজ্ঞাণিক গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে পাতিলেবু গ্রহণ করার ফলে বমি ভাব কমে যায় একইসাথে মাথা ঘোরার প্রবণতাও অনেকটাই হ্রাস পায়। অবশ্য এই সম্বদ্ধে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। (13)

ব্যবহার পদ্ধতি 

  •  ১ গ্লাস জল নিতে হবে।
  • ঐ জলে ১/২ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।
  • মাথা ঘোরার সমস্যার ক্ষেত্রে এই মিশ্রণ পাণীয় হিসেবে পান করা যেতে পারে।

৯। গভীর ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ মাথা ঘোরার দ্রুত প্রতিকার স্বরূপ গভীর ভাবে শ্বাস গ্রহণ করা যেতে পারে। এরফলে সমস্যা কিছুটা হলেও কম হয়। গভীর ভাবে শ্বাস নেওয়ার ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছায় এবং মাথা ঘোরা কমে যায়। তবে গভীর ভাবে শ্বাস গ্রহণের পূর্বে একজন যোগ্য প্রশিক্ষকের থেকে জেনে নেওয়া দরকার কিভাবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সঠিকভাবে না জেনে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হতে পারে।

মাথা ঘোরার সমস্যায় কি ধরণের খাদ্যতালিকা বা ডায়েট চার্ট স্বাস্থ্যকর

খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। বিভিন্ন গবেষনা সূত্রে জানা যায় যে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই মাথা ঘোরার সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূর্ণ হয়। অবশ্য এই সম্পর্কে এখনও অনেক গবেষনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

মাথা ঘোরার চিকিৎসা 

মাথা ঘোরার চিকিৎসা তার তীব্রতার ওপরই নির্ভর করে। এই চিকিৎসার মধ্যে যেমন শারীরিক চিকিৎসা রয়েছে তেমনি রয়েছে মানসিক চিকিৎসা বা সাইকোথেরাপি। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসা বা অস্ত্রপ্রচারেরও প্রয়োজন হয়ে পরে। এছাড়াও নিম্নে কতকগুলি চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১। যদি মাইগ্রেনের কারণে মাথা ব্যথা হয় এবং মাথা ঘোরে তাহলে মাইগ্রেনের ওষুধ সেবন করলে মাথা ঘোরার উপশম হয়।

২। দুশ্চিন্তার কারণে মাথা ঘোরে এমন অবস্থায় চিন্তা নাশক ওষুধের সেবন করা জরুরী।

৩। অনেক সময় কানের সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণেও মাথা ঘুরতে দেখা যায়। একে মেনিয়েরেস ডিজিস নামে অভিহিত করা হয়। এমন ক্ষেত্রে ডায়রেটিক ওষুধ (মূত্র বর্দ্ধক) সেবন করলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়।

৪। চিকিৎসকের পরামর্শ মতন অ্যান্টিকোলিন এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

৫। মাথা ঘোরা শুরু করা মাত্রই এই ওষুধ গুলি সেবন করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

৬। এছাড়াও আকুপাংচার এবং ফিজিক্যাল থেরাপি বা মানসিক চিকিৎসার সাহায্যে মাথা ঘোরার চিকিৎসা করা হয়। ফিজিক্যাল থেরাপির মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভেস্টিবুলার রিহাবিলিটেশান এর সহায়তা নেওয়া হয়। যার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৭। মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের ক্ষেত্রে এপ্লি ম্যানুয়েভর নামক ব্যায়মের সাহায্যেও নিরাময় করা যায়। এখানে এই ব্যায়মের সম্বদ্ধে বিশদে আলোচনা করা হচ্ছে।

  •  প্রথমে বিছানায় বসে আপনার মাথাটা ডান দিকে সামাণ্য ঝুঁকিয়ে নিন।
  • এবার মাথাটা বা নাড়িয়ে, পিঠের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে পড়তে হবে। মাথায় রাখতে হবে যে বালিশটি যেনো কাঁধের নিচে থাকে, যাতে মাথাটা নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে।
  •  এই ভঙ্গিমায় অন্তত ৩০ সেকেণ্ড থাকতে হবে।
  •  তারপর মাথা না নাড়িয়ে আপনার শরীরকে বাম দিকে ঘুরিয়ে অন্তত ৩০ সেকেণ্ড এই ভঙ্গিমায় রাখুন।
  • এরপর ডান হাতের সাহায্য নিয়ে বাম দিক থেকে উঠে বসে পড়ুন।
  • নিয়মিত ভাবে এই শারীরিক ভঙ্গিমা অভ্যাস করলে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।

বি দ্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই ব্যায়ম অভ্যাস করুন। যখন নিজে কারোর সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ একা এই অভ্যাস করতে সক্ষম হবেন। তখনই সেটা একেবারে একা অনুশীলন করবেন।

মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের উপায়

জরুরী কতকগুলি সাবধানতা অবলম্বন করলে সহজেই মাথা ঘোরার সমস্যা থেকে আরাম পাওয়া যায়। এই সংক্রান্ত ব্যাপারে নিম্নে কতকগুলি টিপস বা পরামর্শ দেওয়া হলো।

যদি লাইটহেডেড এর কারণে মাথা ঘোরে তাহলে,

  •  হঠাৎ করে আপনার পশ্চার বা ভঙ্গিমা পরিবর্তনের সম্ভবনা এড়িয়ে চলুন।
  • যদি আপনি শুয়ে থাকেন তাহলে ধীরে ধীরে ওঠুন, সরাসরি উঠে দাঁড়িয়ে পড়বেন না। প্রথমে উঠে বসুন তারপর কিছু সময় পর উঠে দাঁড়ান।
  • আর উঠে দাঁড়ানোর সময় অবশ্যই কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে উঠুন।

যদি ভার্টিগোর কারণে মাথা ঘোরে তাহলে ,

  • হঠাৎ করে কিছু করা এবং হঠাৎ করে নিজের অবস্থান বদল করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
  •  যে কোনো কাজই ধীরে ধীরে করার চেষ্টা করতে হবে।
  • যদি সবরকম বিধিনিয়ম মেনে চলার পরেও মাথা ঘোরার সমস্যা থেকে যায় তাহলে তীব্র আলোক রশ্মি এড়িয়ে চলুন। এমনকি টিভিও দেখবেন না এবং কোনো কিছু পাঠের চেষ্টা থেকেও বিরত থাকুন। কারণ এই অভ্যাস গুলি  মাথা ঘোরার পরিস্থিতিকে আরোও গুরুতর করে তোলে।

এছাড়াও মাথা ঘোরার পরিস্থিতি এড়ানোর কিছু উপায় রয়েছে ,

  • ক্যাফিন, তামাক, লবণ এবং মদ্যপানের অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন। এইসব কটি উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল পদার্থ পান করতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ, এবং প্রয়োজনীয় মাত্রায় ঘুম এবং সর্বোপরি দুশ্চিন্তা ও মানসিক অবসাদের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন।
  •  কোনো ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা যেতে পারে সেক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্সগ গ্রহণ করা জরুরী।
  • কোনো ভ্রমণের সময় মাথা ঘোরার সম্ভবনা দেখা দিলে বই পাঠের অভ্যাস থাকলেও কিছু সময়ের জন্য তা থেকে বিরত থাকুন শুধু বই পাঠ বলেই নয় এই সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহারও বর্জন করা দরকার।
  • অনেকের আবার গাড়ির পিছনের আসনে বা সিটে বসলে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে গাড়ির পিছনের সিটে বসার চেষ্টা করা উচিৎ নয়।
  • বেশি গতিতে মাথা নাড়ানো উচিৎ নয় এতে করে মাথা ঘোরার সমভবনা সৃষ্টি হয়।

এই প্রবন্ধে উল্লিখিত সতর্কতা গুলি গুরুত্ব সহকারে পালন করা উচিৎ। যদিও এই প্রবন্ধে উল্লিখিত ঘরোয়া উপায়ে মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকারের উপায় গুলি একমাত্র চিকিৎসা নয়। তবুও ঘরোয়া এই উপায় গুলি মাথা ঘোরার সমস্যা সংক্রান্ত শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করতে পারে,। তবে ঘরোয়া এই উপায় গুলি অবলম্বণের পরেও যদি মাথা ঘোরার সমস্যা প্রতিকার না হয় তাহলে মনে করা যেতেই পারে যে এই মাথা ঘোরা অন্য কোনো অসুখের উপসর্গ। সেক্ষেত্রে একটুও সময় নষ্ট না করে শীঘ্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার। আশা করা যায় উপরিল্লিখিত প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে পাঠক প্রয়োজনীয় তথ্য লাভে সক্ষম হয়েছেন।

মাথা ঘোরার সমস্যা কী করে নিরাময় করা যায়?

ওপরের প্রবন্ধে এই সম্বদ্ধে বিশদে আলোচনা করা হয়েছে। যদি সেগুলি অনুসরণ করার পরেও সমস্যার সুরাহা না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

মাথা ঘোরা কী স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে?

হ্যাঁ, তা হতে পারে।

মাঝে মাঝেই কেনো মাথা ঘোরে?

নানাবিধ কারণেই এমনটা হতে পারে। তবে সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন।

মাথা ঘোরা কী ডায়বিটিসের একটি লক্ষণ হতে পারে?

হ্যাঁ, এমনটা হতেই পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কী মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে?

হ্যাঁ, তা হতে পারে।

মাথা ঘুরছে এমন অবস্থায় কী শুয়ে থাকা উচিৎ?

শুয়ে থাকা যেতে পারে।

মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে, সেটা কীভাবে জানা যাবে?

প্রবন্ধে উল্লেখিত প্রতিকারের উপায় গুলি অনুসরণের পরেও যদি আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া যায় তাহলে মনে করা যেতেই পারে যে মাথা ঘোরার সমস্যা বিপদজনক অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

13 Sources

13 Sources

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch