মিছরির উপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Mishri Benefits and Side Effects in Bengali

by

আমাদের ঠাকুরের প্রসাদ এর মধ্যে অন্যতম একটি বিশেষ ধরনের প্রসাদ হলো মিছরি। এটি মূলত ছোট ছোট আকৃতির দেখতে হয়। এছাড়াও মিছরি বড় আকৃতিরও দেখতে হয়। অনেক সময় ভেঙ্গে এগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও রান্নার কাজেও অনেক সময় চিনির পরিবর্তে  মিছরি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি এমন এক ধরনের খাদ্য উপাদান, যা মুখে প্রবেশের সাথে সাথেই এক ধরনের মিষ্টি স্বাদ অনুভূত হয়। যে কারণে মিছরি ছোট থেকে বড় সকলেরই প্রায় পছন্দের একটি খাদ্য। তবে এই মেছরির বহু স্বাস্থ্য গুনাগুন আছে, যা বহু রোগের ঔষধি হিসেবে চিকিৎসা করে থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে মিছরিকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আজকের নিবন্ধে আমরা মিছরির বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং মিছরি খাওয়ার বিভিন্ন উপায় গুলি সম্পর্কে আলোচনা করব। এর পাশাপাশি কিভাবে মিছরি আমাদের উপকার করে থাকে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। তাহলে আসুন জেনে নিন, আমাদের হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য এই সুস্বাদু খাদ্য মিছরির গুনাগুন গুলি সম্পর্কে।

মিছরি কি?

চিনির অপরিশোধিত রূপকে বলা হয় মিছরি। এটি মূলত আখ এবং খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম ভারতে এর উৎপাদন শুরু হয়। পরে সারা বিশ্বে এখন এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। এতে চিনির তুলনায় মিষ্টি কম থাকে। অথচ খেতেও সুস্বাদু।  ইংরেজিতে একে রক সুগার নামে চিহ্নিত করা হয়। এগুলি বিভিন্ন রূপ এবং আকৃতির হয়ে থাকে। সাধারণত মিছরি দেখতে সাদা রংয়ের হয়, তবে এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য অনেক সময় বিভিন্ন রং এর মধ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক মিছরির যে উপকারিতা রয়েছে সেগুলি সম্পর্কে।

মিছরির উপকারিতা :

মিষ্টি ধরনের এই খাদ্য উপাদান টি আমাদের বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা করে থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এগুলো আমাদের কি কি কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে –

১) ওজন কমাতে মিছরির ব্যবহার :

বর্তমান সময়ে ওজন বৃদ্ধি একটি বড় সমস্যা। তবে আপনি যদি এই সমস্যার সম্মুখীন হন তবে চিন্তা করতে হবে না। এক্ষেত্রে আপনি চিনি ব্যবহার করার পরিবর্তে মিছরি ব্যবহার করতে পারেন। মৌরি দিয়ে মিছরি মিশিয়ে গুঁড়ো করে যদি রেখে দেওয়া যায় এবং নিয়মিত এগুলি যদি সেবন করা যায় তাহলে তা শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এছাড়াও আপনি যদি চান মিছরি পুরোপুরি ব্যবহার করে ওজন কমাতে, সেক্ষেত্রে রান্নায় ব্যবহার করুন। কেননা চিনির তুলনায় মিছরির স্বাস্থ্য উপকারিতা বেশি। এছাড়াও সাথে ধনেগুঁড়ো ব্যবহার করে দৈনিক যদি গ্রহণ করা যায় এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

২) হজমে সহায়তা করে মিছরি :

হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে চিনির বদলে খাদ্যে মিছরির ব্যবহার উপকারী বলে বিবেচিত হয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বর্ণিত আছে যে, মৌরি দিয়ে মিছরি খাওয়ার পরে যদি খাওয়া যায় তাহলে তা হজমের ব্যবস্থাকে আরও উন্নতি করে। এছাড়াও মিছরিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খাদ্য হজমে সহায়তা করতে পারে। এই কারণে আমরা বলতে পারি যে, হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে দুপুর এবং রাতের খাবার খাওয়ার পর মৌরি মিছরি একসাথে গ্রহণ করুন।

৩) রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ককারী মিছরি

রক্তাল্পতার মতন গুরুতর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল মিছরি। মিছরি দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখুন। এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। অনেকক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরির ক্ষেত্রে ও রক্তাল্পতার চিকিৎসায় মিছরি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই কারণে মনে করা হয় যে, রক্তাল্পতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য খাদ্যতালিকায় মিছরির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (1)

৪) শক্তি বৃদ্ধিতে মিছরির ভূমিকা :

ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি যে, মিছরি হলো চিনির অপরিশোধিত রূপ। যে কারণে চিনিতে প্রচুর পরিমাণে সুক্রোজ পাওয়া যায়, যা মিছরি তেও পাওয়া যায়। এটি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি উৎপাদনের কাজ করে। এই কারনে আমরা বলতে পারি যে, মিছরি ব্যবহার করার ফলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায় তা প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে, যারা ব্যায়াম করে অনেক সময় ব্যায়াম করার পরে মিছড়ি ভেজানো জল খেয়ে থাকেন।

৫) সর্দি কাশি নিরাময়ে মিছরির ব্যবহার :

মুখের মধ্যে মিছরি এবং এলাচ দিয়ে রাখলে এটি সর্দি কাশি কম রাখে এবং ঠান্ডা লাগা ও সর্দি থেকে মুক্তি দিতে পারে। এলাচ, মিছরি এবং বাদাম দিয়ে এক ধরনের খাদ্য উপাদান তৈরি হয়। এটি যদি আপনি বাড়িতে প্রস্তুত করে রাখেন তাহলে এটি সর্দি-কাশি থেকে নিরাময় দেবে। এর জন্য আপনাকে মিছরি এবং বাদাম সমপরিমাণ এ পিষে নিয়ে, তার মধ্যে এক কাপ জল দিয়ে মিশ্রণটি প্রস্তুত করতে লাগবে। মনে রাখবেন যতক্ষণ না এটি জলের মধ্যে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হচ্ছে, ততক্ষণ এটিকে নাড়িয়ে যেতে হবে এবং এরপরে এলাচ দিয়ে এটি তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি তৈরি করে একটি পাত্রের মধ্যে ঢেকে রেখে দিন। দুই থেকে তিন দিন এটি রেখে দেওয়া যায়। এরপর এটি একটি শক্ত লজেন্সের মত উপাদানে পরিণত হবে। যা সর্দি কাশির সমস্যা দেখা দিলে এটি খাওয়ার ফলে সর্দি-কাশি থেকে নিরাময় পাবেন।

৬) মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় মিছরির ব্যবহার :

মিছিলের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, মিছরির মধ্যে থাকা উপাদানগুলি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে। যে কারণে মনে করা যায় যে, প্রত্যেকদিন রাতে গরম দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে  যদি পান করা যায় এটি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয় এবং স্মৃতিশক্তি কে মজবুত করতে সহায়তা করে।

৭) ডায়েরিয়া থেকে মুক্তি পেতে মিছরির ব্যবহার :

ডায়েরিয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ১০০ মিলি লিটার মিছরি, ১০ গ্রাম ধনেগুঁড়ো, ১০০ মিলি লিটার জলে মিশিয়ে নিয়ে প্রত্যেকদিন তিনবার পান করুন। এটি ব্যবহার করার ফলে শীঘ্রই ডায়েরিয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন এবং শরীর খুব বেশি দুর্বল হবে না এবং এটি পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করবে।

৮) শিশুদের জন্য উপকারী উপাদান মিছরি :

ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি যে, মিছরি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে বিবেচিত। এটি যেমন মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়, তেমনি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতেও সহায়তা করে। এই কারণে উষ্ণ দুধের মধ্যে যদি মিছরি মিশিয়ে শিশুদের এটি দেওয়া যায় তাহলে শিশুদের স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এটি সহায়তা করে। তবে এটির ব্যবহার সীমিত পরিমাণে করতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে উপকার এর পরিবর্তে তা শিশুদের শরীরে ক্ষতিকারক হিসেবে প্রমাণিত হবে।

৯) নাক দিয়ে রক্ত পড়া কমাতে মিছরির ব্যবহার :

শরীর যদি ভেতর থেকে অত্যধিক শুষ্ক হয়ে যায় এক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতন সমস্যা ছোট থেকে বড় প্রায় অনেকেরই দেখা যায়। এই সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে একটি উপকারী খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় মিছরি। এটি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা এবং শীতল করতে, তাপের প্রভাব গুলি কে দূরে রাখতে সহায়তা করে। নাক থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা যে কেবল গরমকালেই হয় তা নয়, এটি যে কোন সময় হতে পারে। মূলত দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা যায়। তাই যদি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা দেখা যায় সে ক্ষেত্রে মিছরির জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই অভ্যাস আপনাকে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

১০) হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে মিছরির ব্যবহার :

ইতিমধ্যে আমরা নিবন্ধের শুরুর দিকে দেখতে পেয়েছি যে, মিছরির ব্যবহার রক্তাল্পতার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। মূলত আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে মিছরির মধ্যে থাকা রক্তাল্পতার সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার বিশিষ্ট উপাদান গুলি সম্পর্কে বলা হয়েছে। একইভাবে রক্তাল্পতার সমস্যার পাশাপাশি এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। তাই যদি প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট পরিমাপে এটি গ্রহণ করা যায় তাহলে এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

১১) গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মিছরির ব্যবহার :

আমরা জেনে গিয়েছি যে, গরম দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে খেলে তা মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়।  গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে উদ্বেগ এবং স্ট্রেসের যে সমস্যাগুলি দেখা যায়, এইজন্য গর্ভবতী কালীন সময়ে যদি দৈনিক দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে এই ধরনের সমস্যা গুলি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে কোনো গবেষণা নেই। তবে এটি কার্যকরী হয়ে থাকে। তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন গর্ভবতী মহিলারা এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন, কেননা প্রত্যেকের শরীর সমান ধরনের হয় না। তাই আপনার ডাক্তার আপনার শরীর সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারবে।

১২) দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে মিছরির ব্যবহার :

মিছরির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়। এটি দৈনিক সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে, তার পাশাপাশি ছানি এবং চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

১৩) গলা ব্যথার সমস্যা দূর করতে মিছরির ব্যবহার :

ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি যে, সর্দি-কাশির-চিকিৎসায় বাদাম যুক্ত মিছরি যদি খাওয়া যায় তা সর্দি কাশি নিরাময়ে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে গলা ব্যথা হলো সর্দি কাশির অন্যতম একটি লক্ষণ। তাই বাদাম যুক্ত মিছরির খাদ্যগুলো যদি আপনি খেতে পারেন এ ক্ষেত্রে এটি সর্দি কাশি নিরাময়ের পাশাপাশি গলা ব্যথার উপশম করবে।

১৪) মুখের আলসার নিরাময়ে মিছরির ব্যবহার :

মুখের ভেতর হওয়া যেকোনো ধরনের ঘা বা আলসারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনি দৈনিক মিছরি গ্রহণ করতে পারেন। এর জন্য সমপরিমানে মিছরি এবং সবুজ এলাচ নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। এই প্রক্রিয়াটি দৈনিক ব্যবহার করার ফলে খুব শীঘ্রই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

যদিও উপরিউক্ত মিছরির বিভিন্ন শারীরিক সুবিধা গুলি সম্পর্কে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো আরো গবেষণার প্রয়োজন। তাই এটি নিয়মিত ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না। মিছরি খাওয়ার উপকারিতা জানার পর এবার আমরা জানবো এর মধ্যে কি কি পুষ্টি উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে?

মিছরির পুষ্টি মূল্য :

মিছরি দেখতে ছোট হলেও এক ধরনের সুস্বাদু খাবার। এবং এর যে বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে সেগুলি সম্পর্কেও আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি। এবার জেনে নেওয়া যাক মিছরির মধ্যে কি কি পুষ্টি উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে। (2)

১০০ গ্রাম মিছরির মধ্যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে –

  • শক্তি – ৪০০ কিলোক্যালরি
  • কার্বোহাইড্রেট – ১০০ গ্রাম
  • চিনি – ১০০ গ্রাম
  • প্রোটিন – ০ গ্রাম
  • ফ্যাট – ০ গ্রাম
  • ফাইবার – ০ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম – ০ মিলিগ্রাম।

মিছরি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়?

মিছরি আমরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারি। সেগুলি হল –

  1. খাবার পরে মৌরি এবং মিছরি মিশিয়ে একসাথে গ্রহণ করতে পারি।
  2.  রাতে গরম দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
  3. রান্নায় যে কোন খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য মিছরি ব্যবহার করতে পারেন।

কখন খাবেন?

সাধারণত খাওয়ার পরে মিছরি খাওয়া উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।

মিছরি কত পরিমান খাবেন?

একদিনে ৫ থেকে ১০ গ্রাম মিছরি খাওয়া যেতে পারে।

ইতিমধ্যে আমরা মিছরি সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য জেনে গিয়েছি। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারে কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে। আসুন জেনে নিন তাহলে অতিরিক্ত ব্যবহারে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে?

মিছরির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

যেকোনো জিনিস অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তার ক্ষতিকর প্রভাব গুলি শরীরে লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে মিছরিও তার ব্যতিক্রম নয়। আসুন জেনে নিন মিছরির অধিক ব্যবহারের ফলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে –

  1. যদিও হজম যথাযথভাবে হওয়ার জন্য মিছরি ব্যবহৃত হয়। তবে এটি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হয় সেক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  2. মিছরির মধ্যে একটি ঠান্ডা ভাব রয়েছে। তাই এটি যদি অতিরিক্ত গ্রহণ করা হয় সেক্ষেত্রে সর্দি লাগা কিংবা ঠান্ডা লাগার মতন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  3. আপনি যদি নিয়মিত কোন ওষুধ খান তবে সেক্ষেত্রে মিছরি গ্রহণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করবেন। কেননা এটি আপনার ওষুধের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।

তাহলে আজকের নিবন্ধ থেকে মিছরির বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলি এবং মিছরি কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, কি কিভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে সেগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। এছাড়াও মিছরি খাওয়ার কি কি উপকারিতা রয়েছে এবং কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে সেগুলো জেনে গিয়েছেন। এবার যথাযথভাবে এটি আপনার খাদ্যতালিকায় ব্যবহার করতে পারেন। কেননা মিছরি এক ধরণের আয়ুর্বেদিক ঔষধী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই মিছরি কোন কারনে ব্যবহার করছেন জানতে অবশ্যই নিবন্ধ টা ভালো করে পড়ে দেখবেন এবং মিছরির কোন কোন সুবিধা গুলো আপনার ভাল লেগেছে সেটি আমাদের জানাতে ভুলবেন না। ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং আপনি যদি সুবিধা পান সেটা অপরকে জানাতে ভুলবেন না।

প্রায়শঃ জিজ্ঞাস্য :

চিনি এবং মিছরির মধ্যে পার্থক্য কি?

মিছরি হলো চিনির অপরিশোধিত রূপ আর চিনি হল পরিশোধিত রূপ।

মিছরি কি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো?

হ্যাঁ, মিছরি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো, এর বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

মিছরি কে ইংরেজিতে কী বলে?

মিছরিকে ইংরেজিতে ‘রক সুগার’ বলে।

মিছরি কিভাবে ভাঙবে?

যে কোন শক্ত জিনিস দিয়ে মিছরি ভাঙ্গা যেতে পারে।

অ্যাসিডিটির জন্য কি মিছরি ভালো?

হ্যাঁ, এটি অ্যাসিডিটির সমস্যা কমিয়ে হজমে সহায়তা করে।

সরু মিছরি কি?

মিছরির বড় বড় টুকরোগুলোকে মেশিনের সাহায্যে যখন ছোট ছোট করে কাটা হয় সেগুলো কে সরু মিছরি বা থ্রেড মিছরি বলা হয়ে থাকে।

2 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch