ওল খাওয়ার উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | All About Yam (Jimikand) in Bengali

Written by

“ওল খেয়ো না ধরবে গলা”-র যুগ আর নেই। এই প্রবাদ প্রবাদের জায়গাতেই রয়েছে। বরং রসনার তৃপ্তি ঘটাতে বাঙালির পাতে জায়গা করে নিয়েছে ওলের নানা পদ। যেমন ধরুন ওলের ডালনা কিংবা গরম ভাতে ওল সেদ্ধ। তবে অনেকেই হয়ত জানেন না স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর ওল বিভিন্ন রোগে উপকারী। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, অর্শ বা পাইলস ইত্যাদি নানা সমস্যায় এটি খুব উপকারী। আমাদের আজকের প্রতিবেদনে ওল খাওয়ার উপকারিতা, এর ব্যবহার সেই সঙ্গে ওল খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও আলোচনা করা হল।

ওল কী?

ওল মাটির নিচে জন্মানো একটি গুঁড়িকন্দ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Amorphophallus Paeoniifolius। ওলের গুঁড়িকন্দ গোলাকার বা লম্বাটে বিভিন্ন আকারের হতে পারে। কন্দের শীর্ঘভাগ অনেকটা চাকতির মতে দেখতে। বাজারের ছোটো থেকে বড়, ২০ কেজি ওজনেরও ওল দেখা যায়। ওল গাছ বোঁটা থেকে সরাসরি মাটির উপর থেকে বের হয়। অনেকের ওল গাছও সবজি হিসেবে রান্না করে খান। শীতকালে গাছ শুকিয়ে যায়, কিন্তু মাটির নিচে কন্দ সুপ্ত অবস্থায় থাকে। শীতের শেষে কন্দ থেকে পাতা বের হয়। ওল মোটামুটি দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্রে প্রচুর ওল চাষ করা হয়। সাধারণত বন্য ওলের কোষে SPTCS calcium oxalate এক সূচগুচ্ছের সন্নিহিত থাকায় ওল খেলে গলায় তা বিধে যায়। তখন গলা, মুখ চুলকাতে থাকে ও ফুলে যায়। তেতুল বা লেবুর রস খেলে ঐ সূচগুলি গলে যায়। তবে বন্য ওল সাধারণত রান্না করা হয় না। বাজারের যে ওল পাওয়া যায় তা খেলে খুব বেশি গলা ধরার ভয় থাকে না। অনেকে ওল অনেকদিন রোদে শুকিয়ে তারপর রান্না করেন, সেক্ষেত্রেও চুলকানির ভয় কম থাকে।

ওলের প্রকারভেদ

বিভিন্ন ধরণের ওল হয়। যার মধ্যে থেকে আমরা এখানে কয়েক প্রকার ওল সম্পর্কে আলোচনা করব যেগুলি সাধারণত বাজারে পাওয়া যায়।

  • বুনো ওল –বনে জঙ্গলে এই ধরণের ওল পাওয়া যায়। সাধারণত এই ওল খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
  • পার্পেল ইয়াম সাধারণ ওলের থেকে দেখতে অনেকটাই আলাদা। এই ওলের ভিতরের রঙ পার্পেল। এই ধরণের আরও এক প্রকার ওল পাওয়া যায় যার রঙ অনেকটা বেগুনী।
  • চাইনিজ ইয়াম বাজারে এই ওলের বেশ চাহিদা রয়েছে। এটি খেতেও খুব সুস্বাদু।
  • হোয়াইট ইয়াম বাজারে সাধারণত এই ওল বেশি পাওয়া যায়। ভিতর থেকে এই ওলের রঙ সাদা।
  • হলুদ ওল ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির কারণে এই ওলের রঙ হলুদ হয়।

ওল খাওয়ার উপকারিতা

স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর ওল খুব উপকারী একটি সবজি। আসুন জেনে নিন ওল খাওয়ার উপকারিতা কী কী –

১. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওল খুব উপকারী। কারণ ওলের মধ্যে অ্যালেনটাইন (Allantoin) নামক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালেনটাইনের মধ্যে অ্যান্টি ডায়াবেটিক প্রভাব রয়েছে। যা ডায়ারিয়ার রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে (1)।

এটি লিপিড প্রোফাইল উন্নত করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে (1)। এছাড়াও ওলে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকে এবং এটি লো গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্সর মধ্যে পড়ে। সেই কারণে ডায়াবেটিসের রোগীরা তাদের খাদ্য তালিকায় এটি রাখতে পারেন।

২. ক্যান্সার থেকে বাঁচতে ওল

ক্যান্সার থেকে বাঁচতে ওল খেতে পারেন। গবেষণা অনুযায়ী, ওলের মধ্যে উপস্থিত অ্যালেনটাইন নামক উপাদানটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও ওলের মধ্যে এল-আর্গিনাইন (L-arginine)  যৌগ রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে (1)। তবে মনে রাখবেন এটি কিন্তু ক্যান্সার নিরাময়ের ওষুধ নয়। তাই গুরুত্বর অবস্থায় অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৩. ওজন কমাতে

ওজন কমাতে ওল খেতে পারেন। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ওলের মধ্যে অ্যান্টি-ওবেসিটি প্রভাব রয়েছে। এছাড়াও ওলের মধ্যে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনয়েড উপাদানের কারণে এটিতে এই অ্যান্টি-ওবেসিটি প্রভাব পাওয়া যায়। যা স্থূলতা কমাতে এবং শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে সহায়ক হতে পারে (2)।

এছাড়াও ওলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে। ফলত ওল খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আপনি খিদে অনুভব করতে পারবেন না। সেইসঙ্গে এটি খিদে কম করে ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৪. অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব

ওলের মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাবও রয়েছে, যা শরীরকে নানা অসুখ-বিসুখের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে ওলের মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রদাহ কম করে কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়ক হতে পারে (3)।

৫. মোনোপজের লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি

হঠাৎ করে গরম লাগা, ঘুম না আসা, অদ্ভূত আচরণ ইত্যাদি মোনোপজের লক্ষণ হতে পারে (4)। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, ওলের নির্যাস (Yam Exteact) এর ব্যবহার মোনোপজের লক্ষণগুলিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে (5)। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই বিষয়ে আরও গবেষণা করা দরকার।

৬. ভিটামিন বি-৬

ওল খাওয়ার উপকারিতা গুলির মধ্যে ভিটামিন বি-৬ এর ঘাটতি পূরণ করাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এটি একটি পুষ্টিকর উপাদান যা খিটখিটে মেজাজ এবং উদ্বেগের মতো সমস্যা কম করতে পারে (6)। সেই কারণে এটি বলা যেতে পারে যে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ওল খান, এটি শরীরের ভিটামিন বি-৬ এর চাহিদা পূরণ করতে উপকারী হতে পারে (7)।

৭. রক্তের অভাব দূর করে

শরীরে আয়রন এবং ফোলেটের ঘাটতির কারণে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে (8) (9)। সেক্ষেত্রে ওল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আয়রন এবং ফোলেট সমৃদ্ধ ওল শরীরে এই দুটি বিশেষ পুষ্টি উপাদান পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারে (7)।

৮. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এটি উপকারী হতে পারে। আসলে এতে ডায়োজেনিন নামে একটি ফাইটোস্টেরয়েড রয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, এটি অ্যালজাইমার রোগের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে। গবেষণা বলছে, সাধারণ পরিস্থিতিতেও এটি নিউরোনাস উত্তেজনা (Neuronal excitation) এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে (10)।

৯. হজমশক্তি উন্নত করে

ওল পেটের জন্যেও খুব ভালো। এটি হজমশক্তি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওলের মধ্যে প্রচুর ফাইবার রয়েছে, যা হজম সম্পর্কিত অসুবিধা দূর করতে সাহায্য় করতে পারে। এচে উপস্থিত ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করতে এবং মল নরম করতে পারে। ফল কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন (11)। এছাড়াও এটি ডাইজেস্টিভ এনজাইম বাড়িয়ে তুলতে এবং মেটাবলিজমকে উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

১০. গর্ভবস্থায়

গর্ভবতী মহিলারাও ওল খেতে পারেন। তবে বুনো ওল নয়, কারণ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি ক্ষতিকারক হতে পারে। ওল লো ফ্যাট এবং সোডিয়াম সমৃদ্ধ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ডায়েটারি ফাইবার, পটাসিয়ামের ভালো উৎস। তবে অবশ্যই ফ্রেস ওল বেছে নিন, ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা ওল না খাওয়াই ভালো। তাতে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও গর্ভবস্থায় এটি কতটা উপকারী সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই গর্ভাবস্থায় এটি খাবেন কিনা তা ডাক্তারের সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করুন।

১১. বেবি ফুডের জন্য ভালো

ওল বেবি ফুডের অন্যতম একটি বিকল্প। বাচ্চার বয়স ছয় মাস হওয়ার পর তাকে এটি খাওয়ানো যেতে পারে। এটি বাচ্চাকে গুঁড়ো করে বা পেস্ট আকারে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলির কারণে ওল বেবি ফুড উৎপাদনেও ব্যবহার করা হয় (12)। তবে এর ব্যবহারের আগের অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

১২. ত্বকের সুস্বাস্থ্য

ত্বকের জন্যেও এটি দারুণ উপকারী। ওলের মধ্যে ভিটামিন এ এবং নিয়াসিন (ভিটামিন বি-এর একটি ফর্ম) রয়েছে (8)। এই দুই পুষ্টি উপাদান ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয় (13)। এর ভিত্তিতে বলা যেতে পারে ত্বকতে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে এটি উপকারী হতে পারে। তবে এটি ত্বকের জন্য কতটা উপকারী সে বিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

১৩. চুলের সুস্বাস্থ্য

চুলের সুস্বাস্থ্য গড়ে তুলতে ওল খেতে পারেন, কারণ এতে ভিটামিন বি-৬ রয়েছে (8)। একটি পরীক্ষা অনুযায়ী, ভিটামিন বি-৬ গ্রহণের ফলে চুলের অবস্থার উন্নতি হতে পারে। এছাড়াও এটি অ্যালোপেশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চুল পড়ার সমস্যা কমাতে পারে (14)। তবে চুলের উপর এর প্রভাব খুঁজে পেতে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।

ওলের পুষ্টিগত মান

ওলের মধ্যে কী কী পুষ্টি গুণ রয়েছে এবার তা আমরা জানব। নিচের তালিকায় ওলের পুষ্টিগত মান তুলে ধরা হল (8)।

পুষ্টিকর উপাদানমাত্রা প্রতি ১০০ গ্রাম
জল৬৯.৬ গ্রাম
এনার্জি১১৮ ক্যালোরি
প্রোটিন১.৫৩ গ্রাম
টোটাল লিপিড০.১৭গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট২৭.৮৮গ্রাম
ফাইবার, মোট ডায়েটরি৪.১ গ্রাম
সুগার০.৫গ্রাম
ক্যালশিয়াম১৭ মাইক্রোগ্রাম
আয়রন০.৫৪ মাইক্রোগ্রাম
ম্যানেশিয়াম২১ মাইক্রোগ্রাম
ফসফরাস৫৫ মাইক্রোগ্রাম
পটাশিয়াম৮১৬ মাইক্রোগ্রাম
সোডিয়াম৯ মাইক্রোগ্রাম
জিঙ্ক০.২৪ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন-সি১৭.১ মাইক্রোগ্রাম
থায়ামিন০.১১২ মাইক্রোগ্রাম
রাইবোফ্লোভিন০.০৩২ মাইক্রোগ্রাম
নিয়াসিন০.৫৫২ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন বি-৬০.২৯৩ মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট,ডিএফআই২৩μg
ভিটামিন এ, আরএআই৭μg
ভিটামিন এ, আইইউ১৩৮IU
ভিটামিন ই (আলফা টোকোফেরল)০.৩৫মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন কে (ফাইলোকুইনন)২.৩μg
ফ্যাটি অ্যাসিড, টোটাল স্যাচুরেটেড০.০৩৭ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড, টোটাল মোনোআনস্যাচুরেটেড০.০০৬গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড, টোটাল পলিআনস্যাচুরেটেড০.০৭৬গ্রাম

ওল কীভাবে ব্যবহার করবেন ?

  • ওল বিভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিন ওল রান্নার সহজ কিছু উপায়।
  • ওলের সবজি তৈরি করে খেতে পারেন।
  • ওল সেদ্ধ করে গ্রেড করে নিন। তারপর সেটা দিয়ে পকোড়া তৈরি করে খেতে পারেন।
  • ওলের চাটনি তৈরি করেও খাওয়া যেতে পারে।
  • আচার তৈরিতেও ওল ব্যবহার করা যেতে পারে।

কখন খাবেন ?

সকাল, দুপুর এবং রাতের খাবারে ওল রাখতে পারেন। সে ওলের সবজি হোক বা চাটনি, আপনি নিজের পছন্দমতো পদ খেতে পারেন। ওল মুচমুচে ভাজা করে সন্ধ্যায় স্ন্যাক্স হিসেবেও খেতে পারেন।

কতটা মাত্রায় খাবেন ?

খাবারের সঙ্গে অর্ধেক চামচ ওলের চাটনি নিতে পারে। এছাড়াও সবজি খেতে পারেন। তবে সীমিত মাত্রায় এর ব্যবহার করা ভালো। যদি এর গুঁড়ো পরিপূরক হিসেবে নেন, তাহলে ৫০ গ্রাম যথেষ্ট (15)। একইভাবে শিশুদের খাদ্য তৈরিতে ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম ওল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ১২ থেকে ২৩ বছর বয়সীরা ১৩৬ গ্রাম পর্যন্ত ওল খেতে পারেন (12)। তবে এর দৈনিক গ্রহণের সঠিক পরিমাণটি সুস্পষ্ট নয়।

ওল কীভাবে দীর্ঘসময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন ?

ওল কেনার সময় অবশ্যই দেখে কিনুন তাতে কোনও দাগ-ছোপ রয়েছে। যদিও বাইরে থেকে এর রঙ গাঢ় হওয়ায় কালো দাগ দেখা মুশকিল হয়ে যায়। তাই এটি কেনার সময় সাবধানে কিনুন। দেখে নিন ওল শক্ত আছে কিনা। এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে তেমন বিশেষ কোনও পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। কেবল খেয়াল রাখুন এটি যাতে ভিজে না থাকে। শুকনো ওল অন্ধকার জায়গায় রাখুন, ১০ দিনেরও বেশি ভালো থাকবে।

ওল কোথায় কিনবেন ?

আপনার নিকটবর্তী সবজি বাজারে খুব সহজেই ওল কিনতে পাবেন। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে বাজারে বেশি ওল পাওয়া যায়। বর্তমানে অনলাইন ওয়েবসাইট থেকে ওল কিনতে পাওয়া যায়।

ওল খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ওল খাওয়ার উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনই এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। আপনি যখন সীমিত মাত্রায় এর ব্যবহার করবেন তখনই এর উপকারিতাগুলি ভোগ করতে পারবেন। নয়তো অতিরিক্ত ওল খাওয়ার ফলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি হতে পারে –

  • ওল খাওয়ার ফলে শরীরে অ্যালার্জি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় ওল খেলে অনেক সময় বমিও হতে পারে।
  • প্রেগন্যান্সির সময় এর ব্যবহার সুরক্ষিত কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাই এই অবস্থায় ওল না খাওয়ায় ভালো।
  • ওল ইস্ট্রোজেনের (যৌন বিকাশের জন্য হরমোন) মতো কাজ করতে পারে। যদি ইস্ট্রোজেনের মতো কোনও সমস্যায় আক্রান্ত হন তাহলে এর গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
  • শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।
  • যাদের প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে তাদের এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাজারে গিয়ে যারা ভাবেন ওল কিনবেন কিনা, তারা নিশ্চয় এবার নিশ্চিত হতে পারবেন। ওল খাওয়ার গুণাগুণ তো জানাই রইল। তবে এর ব্যবহার সীমিত মাত্রায় করুন। কারণ উপকারী হলেও ওলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলিকে একেবারেই ভুললে চলবে না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

কাঁচা ওল কী খাওয়া যায়? ওল কীভাবে রান্না করবেন?

কাঁচা ওল খাওয়া যায় না। প্রথমে ওল ভালো করে জলে সেদ্ধ করে নিন, তারপর সেটিকে কড়াইতে নেড়ে বা কড়া করে ভেজে রান্না করতে পারেন। এর চিপসও তৈরি করতে পারেন। ওলের চাটনিও তৈরি করা যেতে পারে।

ওল এবং রাঙা আলুর মধ্যে পার্থক্য কী?

ওল স্টার্চযুক্ত হয়। রাঙা আলু বা মিষ্টি আলুর থেকে এটি খানিকটা শুকনো হয়। ওল হাত দিলে কিছুটা রুক্ষও মনে হয়। রাঙা আলু মিষ্টি স্বাদের এবং খেতে বেশ নরম।

ওল কতদিন পর্যন্ত ঠিক থাকে?

ঠিকভাবে রাখলে ৫-১০ দিন পর্যন্ত ওল ব্যবহার যোগ্য থাকে। অন্ধকার জায়গায় শুকনো ওল রাখুন, ভালো থাকবে। ওলের ভেজাভাব কাটাতে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন।

ওল কী ওজন বাড়ায়?

সীমিত মাত্রায় ওল ব্যবহার করলে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। যেমনটা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, যে এতে অ্যান্টি-ওবেসিটি প্রভাব রয়েছে।

ওল কী ফ্রিজে রাখা যেতে পারে?

না, ওল কখনও ফ্রিজে রাখবেন না। তাতে এটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আমি কী রোজ ওল খেতে পারি?

হ্যাঁ, আপনার এটি পছন্দ হলে প্রত্যেকদিন পরিমিত মাত্রায় খেতে পারেন।

পার্পল ইয়াম কী ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে?

সীমিত মাত্রায় খেলে পার্পেল রঙের ওলও ওজন বাড়ার কারণ হবে না।

ওল কী সুপারফুড?

হ্যাঁ, এতে উপস্থিত পুষ্টিকর উপাদানের জন্য এটিকে সুপারফুড বলা যেতে পারে।

ওল কী রাতে খাওয়া যেতে পারে?

হ্যাঁ, আপনি চাইলেও রাতে ওল খেতে পারেন।

কোন ওল প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী?

প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে ওল উপকারী কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য নেই। তাই কোন ওল ফার্টিলিটির জন্য উপকারী তা বলা মুশকিল।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Read our editorial policy to learn more.

  1.   Antidiabetic Effects of Yam (Dioscorea batatas) and Its Active Constituent, Allantoin, in a Rat Model of Streptozotocin-Induced Diabetes
     https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4632431/
  2. Anti-obesity and antioxidant activity of dietary flavonoids from Dioscorea steriscus tubers
    http://oaji.net/articles/2015/2154-1445411346.pdf
  3.   Antioxidant and Anti-inflammatory Effects of Yam (Dioscorea batatas Decne.) on Azoxymethane-induced Colonic Aberrant Crypt Foci in F344 Rats
    https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4103732/
  4. Menopause symptoms and relief
    https://www.womenshealth.gov/menopause/menopause-symptoms-and-relief
  5. Effects of wild yam extract on menopausal symptoms, lipids and sex hormones in healthy menopausal women
    https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/11428178/
  6. Vitamin B6
    https://ods.od.nih.gov/factsheets/VitaminB6-Consumer/
  7. Yam, raw
    https://fdc.nal.usda.gov/fdc-app.html#/food-details/170071/nutrients
  8. A review on anaemia – types, causes, symptoms and their treatments.
    https://www.researchgate.net/publication/324247750_A_review_on_anaemia_-_types_causes_symptoms_and_their_treatments
  9.   Folate-deficiency anemia
     https://medlineplus.gov/ency/article/000551.htm
  10. Diosgenin-Rich Yam Extract Enhances Cognitive Function: A Placebo-Controlled, Randomized, Double-Blind, Crossover Study of Healthy Adults
     https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/29064406/
  11. Estimation of Nutritional and Starch Characteristics of Dioscorea alata (Water Yam) Varieties Commonly Cultivated in the South-Eastern Nigeria
    https://www.researchgate.net/profile/Ademola-Famurewa/publication/281675400_Estimation_of_Nutritional_and_Starch_Characteristics_of_Dioscorea_alata_Water_Yam_Varieties_Commonly_Cultivated_in_the_South-Eastern_Nigeria/links/56d5ff8608aebabdb400538e/Estimation-of-Nutritional-and-Starch-Characteristics-of-Dioscorea-alata-Water-Yam-Varieties-Commonly-Cultivated-in-the-South-Eastern-Nigeria.pdf
  12. Nutritional and anti-oxidant properties of yam (Dioscorea schimperiana) based complementary food formulation
    https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S2468227619306933
  13. Vitamins
     https://medlineplus.gov/ency/article/002399.htm
  14. [Evaluation of vitamin B6 and calcium pantothenate effectiveness on hair growth from clinical and trichographic aspects for treatment of diffuse alopecia in women]
     https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/11344694/
  15. The Supplementation of Yam Powder Products Can Give the Nutritional Benefits of the Antioxidant Mineral (Cu, Zn, Mn, Fe and Se) Intakes
    https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3866735/
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.