অরিগ্যানোর ব্যবহার, উপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – Oregano Benefits and Side Effects

by

পিৎজা প্রেমীদের কাছে অরিগ্যানো খুবই পরিচিত। আর হবে নাই বা কেন। উপর থেকে সামান্য অরিগ্যানো ছড়িয়ে দেওয়া মাত্রই গরমা গরম পিৎজার স্বাদ যেন দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তবে অরিগ্যানো কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এর গুণও অনেক। অরিগ্যানো একটি ভেষজ ঔষধি। বিশ্বায়নের দৌলতে রান্নাঘরে মশলা হিসেবেও এর কদর বেড়েছে। রান্নার পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর ব্যবহার করা হয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশ নানান শারীরিক সমস্যা উপকারী হতে পারে (১)। আজকের এই প্রতিবেদনে অরিগ্যানো পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হল। এমন কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে যার চিকিৎসায় অরিগ্যানো সহায়ক হতে পারে। তবে একটি মনে রাখবেন একটি কোনও রোগের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নয়। তাই ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা রাখলেও সঠিক চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনে অরিগ্যানো ব্যবহার সম্পর্কেও আলোচনা করা হল এবং সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে যে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলিও তুলে ধরা হল।

অরিগ্যানো কী ?

অরিগ্যানো একটি ভেষজ উপাদান। এটি আসলে জোয়ান গাছের পাতা। অরিগ্যানোর পাতা অনেকটা তুলসী এবং পুদিনা পাতার মতো দেখতে (১)। বলা হয়, সারা বিশ্বের এরকম আর ৬০টি প্রজাতির গাছ রয়েছে, যার রং ও স্বাদ অরিগ্যানোর মতোই এবং অধিকাংশ সময় অরিগ্যানো হিসেবেই পরিচিত। এই গাছের ঔষধি গুণ অনেক। নানা শারীরিক রোগ থেকে আরাম দেয়, যা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হল (২)। এছাড়াও অরিগ্যানোর ব্যবহার, পিৎজা, পাস্তা, স্যুপ এর মতো খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়।

অরিগ্যানোর প্রকার

অরিগ্যানো কয়েক প্রকারের পাওয়া যায়। তবে মূলত যে তিন প্রকারের অরিগ্যানো বেশি পরিচিত সেই তিনটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল (৩)

ইউরোপীয়ান অরিগ্যানো : এটি ওয়াল্ড মার্জোরাম বা উইন্টার মার্জোরাম হিসেবেও পরিচিত। এই ধরণের অরিগ্যানো গ্রীস, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক এবং অ্যামেরিকায় পাওয়া যায়। কাশি, মাথাব্যথা, নার্ভাসনেস, দাঁত ব্যথা এবং অনিয়মিত ঋতুস্রাব ইত্যাদি থেকে মুক্তি পেতে এর ব্যবহার করা যেতে পারে।

গ্রীক অরিগ্যানো : একে শীতকালীন মিষ্টি মার্জোরাম বা পট মার্জোরামও বলা হয়। এটি অরিগেনাম হেরাক্লিয়োটিকাম এল (Origanum heracleoticum L) থেকে সংগৃহীত অরিগ্যানো।

মেক্সিকান অরিগ্যানো : এটি মেক্সিকান মার্জোরাম হিসেবেও পরিচিত। এটি সাধারণত মেক্সিকান ও তার আশপাশের এলাকা থেকে পাওয়া যায়। মেক্সিকান খাবার যেমন পিৎজা এবং বার্বিকিউ সস-এ ফ্লেভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

অরিগ্যানোর উপকারিতা

এরিগ্যানো পাতার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল :

১. হার্টের সুস্বাস্থ্য : কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাগুলি এক ধরণের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনক অবস্থা যেখানে কোষগুলি পুনরূদ্ধার করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেয় (৪)। এটি বিভিন্ন কারণে যেমন ধূমপান, ডায়াবেটিস এবং প্রদাহের কারণে হতে পারে। অরিগ্যানোর এসেনশিয়াল অয়েলের মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা প্রদাহ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এতে কার্ডিওপ্রোটোক্টিভ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে (৫)

২. ক্যান্সার প্রতিরোধ : অরিগ্যানো পাতা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়ক হতে পারে। অরিগ্যানো থাইমল, কারভ্যাক্রোল এবং আরও কিছু ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলি ক্যান্সার কোষকে বৃদ্ধি থেকে রোধ করতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে (৬)। বিশেষত, অরিগ্যানো কোলন ক্যান্সার কোষকে বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। এর প্রোয়াপোপটোটিক

এফেক্ট (Proapoptotic Effects) রয়েছে, যা ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করতে পারে (৭)। কিন্তু মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কম করা যায় ঠিকই তবে নিরাময় নয়। এ জাতীয় পরিস্থিতিতে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান এবং সঠিক চিকিৎসা করান।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : অরিগ্যানো পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই মতো অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে (৮)। এই ভিটামিনগুলি কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ভিটামিনগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এগুলি শরীরে ফ্রি-রেডিক্যালসেরপ্রভাব হ্রাস করতে পারে এবং কোষকে তাদের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে (৯)। এর জন্য একগ্লাস জলে অরিগ্যানো পাতা সেদ্ধ করে সেই জলটি খেতে পারেন।

৪. অবসাদ কাটায় : জানলে হয়ত অবাক হবেন, হতাশার বিরুদ্ধে লড়াইয়েও অরিগ্যানো উপকারী। এনসিবিআই দ্বারা প্রকাশিত একটি গবেষণায় (National Center for Biotechnology Information) পাওয়া গেছে যে, অরিগ্যানো এসেনসিয়াল অয়েলে কার্বাক্রোল (Carvacrol) বৈশিষ্ট্য অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এজেন্টের মতো কাজ করে। অন্য একটি গবেষায় দেখা গেছে, এটি ডোপামিনার্জিক সিস্টেমকে (ডোপামিন – এক ধরণের হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটার) প্রভাবিত করে (১০)। ডোপামিনার্জিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার ফলে অবসাদের লক্ষণ কম করতে সহায়ক হতে পারে (১১)

৫. বদহজম থেকে মুক্তি : অরিগ্যানো এসেনশিয়াল অয়েলে অনেক জৈবিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি অন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এমন ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা কম করে, যেমন ই কোলাই এর সংখ্যা কম করে এবং অন্ত্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে (১২), যার ফলে কিছুটা হলেও আপনি বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এরিগ্যানো এসেনশিয়াল অয়েলে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ বৈশিষ্ট্যগুলি অন্ত্রের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম করে এবং অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে (১৩)। এর জন্য এক কাপ গোলমরিচ এথবা লেবু চায়ে এক বা দুই ফোঁটা অরিগ্যানো তেল মিশিয়ে খান। বদহজমের সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও আরাম পাবেন। তবে এইবিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

৬. পেটব্যথা কমায় : অনেক সময় অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, ফুড পয়েজনিং এবং অন্যান্য কারণে পাকস্থলীর ব্যথা হতে পারে (১৪)। যেমন, পেটের ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অরিগ্যানো বেশ উপকারী। অরিগ্যানো এসেনসিয়াল অয়েলে মনোটেরপেনিক ফিনল (Monoterpenic Phenol) নামক একটি যৌগ পাওয়া যায় যা পেটের ব্যথা কিছুটা কম করতে সাহায্য করে (১৫)। এর জন্য এক গ্লাস জল বা জুসে এক থেকে দু’ফোঁটা অরিগ্যানো তেল মিশিয়ে খেতে পারেন।

৭. জয়েন্টে ব্যথা উপশম : হাটুর ব্যথায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য অরিগ্যানো গাছ সঞ্জীবনী বুটির থেকে কম নয়। অরিগ্যানোতে কারভ্যাক্রোল নামের মনোট্রেপিক ফিনল যৌগ পাওয়া যায়। এই যৌগটিতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অস্টিওআর্থারাইটিসের কারণে জয়েন্টের ব্যথা কম করতে পারে। জেয়েন্টের ব্যথা থেকে আরাম পেতে অরিগ্যানো পাতার চা তৈরি করে খেতে পারে (১৬)। রোজ সকালে এককাপ জলে কয়েকটি পাতা ফুটিয়ে সেই জল খান। আপনি চাইলে অরিগ্যানো এসেনশিয়াল অয়েল মালিশ করতে পারেন।

৮. ফোলাভাব থেকে মুক্তি দেয় : অরিগ্যানোর উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে, এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণের কথা অস্বীকার করা যায় না আর এর জন্য আপনি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এনসিবিআই এর প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে এই তেল ব্যবহার ত্বকের ফোলাভাব ও জ্বালা কমাতে সাহায্য করতে পারে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে থাকা কারভ্যাক্রোল (Carvacrol) উপাদান আলসারের ব্যথা কম করতে এবং এর ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে (১৭)

৯. ডায়াবেটিসের ওষুধ : টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও অরিগ্যানো উপকারী। ইঁদুরের উপর করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, অরিগ্যানো পাতার নির্যাস শরীরে গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের বর্ধিত মাত্রা নিয়ন্ত্রিণ করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও, এটি লিপিড মেটাবলিজমকে উন্নত করতে পারে এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার এবং কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে (১৮)

১০. সর্দি এবং জ্বর থেকে মুক্তি : সর্দি, জ্বর এবং সাধারণ সর্দির উপসর্গ কমাতে অরিগ্যানো ব্যবহার করতে পারেন। অরিগ্যানো এসেনশিয়াল অয়েলে অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সাধারণ সর্দির লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে অরিগ্যানো গাছ অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ, যা ভাইরাস এবং ব্যক্টেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে সাধারণ সর্দি কম করতে সাহায্য করতে পারে (১৯)

১১. রক্তাল্পতা কাটায় : শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তাল্পতা হয়। আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিনতৈরি করে, যা এক ধরণের প্রোটিন (২০)। রক্তাল্পতায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য অরিগ্যানো উপকারী। অরিগ্যানো পাতায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়, যা আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে (৮)। জলে শুকনো অরিগ্যানো পাতা ফুটিয়ে নিন এবং সেই জল খান, উপকার পাবেন।

১২. হাড় শক্ত করে : হাড় শক্ত রাখতে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদান প্রয়োজন। যার মধ্যে সবার শীর্ষে আসে ক্যালসিয়াম। অরিগ্যানো পাতায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এছাড়াও এতে আরও পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং শক্তিশালী করে তোলে। ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, দস্তা, তামা এবং ম্যাঙ্গানিজ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর পাশাপাশি অরিগ্যানোতে হাড় শক্ত করার জন্য উপকারী ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন কে রয়েছে (৮) (২১)

১৩. ত্বকের যত্ন : ত্বকে কোনওরকম সংক্রমণ এড়াতে বা কোনও সংক্রমণ হলে তার প্রভাব কমাতে অরিগ্যানো ব্যবহার করা যেতে পারে। এর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য সংক্রমণ ছড়ায় এমন ব্যাক্টেরিয়া দূর করে (২২)। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যেমেটরি এবং ইমিউনোমডুলেটরি (Immunomodulatory) বৈশিষ্ট্য ত্বকের প্রদাহ কম করতে পারে। এতে ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম করতে পারে (২৩)

১৪. চুলের সৌন্দর্য : যারা চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন তারা অরিগ্যানো ব্যবহার করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস চুল ওঠার অন্যতম কারণ হতে পারে (২৪)। যেমনটি আগে উল্লিখিত, অরিগ্যানো কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে, তাই বলা যেতে পারে এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম করতে এবং চুল পড়ার সমস্যা রোধ করতে সাহায্য করতে পারে (২৫)

অরিগ্যানোর পুষ্টিগত মান

নীচে অরিগ্যানো (শুকনো পাতা) পুষ্টিগুণ উল্লেখ করা হল (৮) :

পুষ্টিগত মানমাত্রা প্রতি ১০০ গ্রাম
জল০.১ গ্রাম
এনার্জি২৬৫ ক্যালোরি
প্রোটিন৯ গ্রাম
ফ্যাট৪.২৮ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট৬৮.৯২ গ্রাম
ফাইবার৪২.৫ গ্রাম
সুগার৪.০৯ গ্রাম
মিনারেল
ক্যালশিয়াম১৫৯৭ মিলিগ্রাম
আয়রন৩৬.৮ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম২৭০ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১৪৮ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম১২৬০ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম২৫ মিলিগ্রাম
জিঙ্ক২.৬৯ মিলিগ্রাম
কপার০.৬৩৩ মিলিগ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ৪.৯৯ মিলিগ্রাম
সেলেনিয়াম৪.৫ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন
ভিটামিন সি২.৩ মিলিগ্রাম
থায়ামিন০.১৭৭ মিলিগ্রাম
রিবোফ্লাভিন০.৫২৮ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন৪.৬৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি ৬১.০৪৪ মিলিগ্রাম
ফোলেট২৩৭ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ, আরএই৮৫ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ, আইইউ১৭০১ আইইউ
ভিটামিন ই (আলফা টোকোফেরল)১৮.২৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন কে৬২১.৭ µg
লিপিড
ফ্যাটি অ্যাসিড টোটাল স্যাচুরেটেড১.৫৫১ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড টোটাল মনোআনস্যাচুরেটেড০.৭১৬ গ্রাম
ফ্যাটি অ্যাসিড টোটাল পলিআনস্যাচুরেটেড১.৩৬৯ গ্রাম

সূত্র সূত্র : USDA

অরিগ্যানোর ব্যবহার

অরিগ্যানোর উপকারিতা পেতে নিম্নলিখিত উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন :

  • অরিগ্যানো চা তৈরি করতে পারেন, এতে অরিগ্যানো পাতার উপকারিতা পেতে পারেন। এর জন্য এক কাপ জলে অরিগ্যানো পাতা (তাজা বা শুকনো) সেদ্ধ করুন। ভালোভাবে সেদ্ধ হলে সেই জলটি খান।
  • আদা বা মশলা চায়েও সামান্য অরিগ্যানো পাতা যোগ করতে পারেন।
  • অরিগ্যানো পাতার উপকারিতা লাভ করতে চিকেন, সবজি, পিৎজা, পাস্তা এবং অন্যান্য রান্নায় মশলা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  •  অরিগ্যানো পাতা সুপের মধ্যে দিয়ে খেতে পারেন। তাতে সুপে অন্য ফ্লেভার যোগ হবে।

দ্রষ্টব্য : কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে অরিগ্যানো ব্যবহার করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

ত্বকের জন্য অরিগ্যানোর ব্যবহার

সামগ্রী 

  • দু’ফোটা অরিগ্যানো অয়েল
  • দুই চামচ নারকেল/জলপাই এর তেল
  • তুলো

বিধি 

একটি বাটিতে দুটি তেল মিশিয়ে নিন।

  • তুলোর সাহায্যে ত্বকের উপর লাগিয়ে নিন।
  • এভাবে দিনে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন।
  • গরম জলে অরিগ্যানো তেল ৪-৫ ফোটা দিয়ে, ১০ মিনিট পর্যন্ত ভাপ নিতে পারেন। ভাপ নেওয়ার সময় অবশ্যই সাবধানতা বজায় রাখুন।

চুলের জন্য অরিগ্যানোর ব্যবহার 

  • দুই থেকে তিন ফোটা অরিগ্যানো অয়েল
  • ৩-৪ চামচ নারকেল/জলপাই তেল

বিধি 

  • একটি বাটিতে ৩-৪ চামচ নারকেল/ জলপাই তেল নিয়ে হালকা গরম করে নিন।
  • গরম করার পর তাতে ২-৩ ফোটা অরিগ্যানো এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন।
  • এরপর ২০ মিনিট ধরে চুলে মিশ্রণটি ম্যাসাজ করুন।
  • ম্যাসাজ করার পর ১০ মিনিট রেখে দিন।
  • তারপর শ্যাম্পু করে ঠান্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

অরিগ্যানোর কীভাবে বাছবেন এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন

  • শুকনো অরিগ্যানোর বদলে জোয়ানের তরতাজা পাতা বেছে নিন। এটি খাবারে ভালো ফ্লেভার এনে দেবে।
  • সবসময় সবুজ পাতা দেখে নিন। হলুদ পাতা এবং পাতায় দাগ যেন না থাকে।
  • পাতা অনেক সময় পর্যন্ত তাজা রাখতে হালকা ভিজে কাপড়ে জড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন।
  • চাইলে পাতা কেটে কোনও এয়ারটাইট কৌটোতে ভরে ফ্রিজে রাখুন।
  • শুকনো অরিগ্যানো পাতা সবসময় এয়ারটাইট কৌটোতে ভরে রাখুন, তাহলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।

অরিগ্যানোর ব্যবহারের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া

অরিগ্যানো পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ। যদিও কিছুক্ষেত্রে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেগুলি হল (১)

গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যপান : অরিগ্যানো গর্ভবতী এবং যারা স্তন্যপান করাচ্ছেন তাদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। গর্ভাবস্থায় অরিগ্যানো অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে গর্ভপাত ঘটতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস।

রক্তস্রাবের সমস্যা : রক্তক্ষরণ রক্তপাতের ব্যাধি হিসেবেও পরিচিত। আঘারের পরে রক্তপাত সহজে থামে না। এই সমস্যায় শরীরে প্লেটলেটগুলির পরিমাণ কমে যায়, যার কারণে ত্বকে রক্ত জমাট বাঁধে না এবং রক্তপাত বন্ধ হয় না। এটি ঋতুস্রাব, আঘাত এবং শল্য চিকিৎসা ইত্যাদিতে স্বাবাবিকের চেয়ে বেশি রক্তক্ষরণ ঘটে (২৭)। অরিগ্যেনো রক্তক্ষরণে ভুগতে থাকা মানুষের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অ্যালার্জি : যাদের তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার জাতীয় ভেষজের প্রতি অ্যালার্জি আছে তাদের অরিগ্যানো থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। কারণ অরিগ্যানোও একই পরিবারের উদ্ভিদ।

ব্লাড সুগার লেবেল : অরিগ্যানো ব্লাড সুগার লেবেুন কম করতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত মাত্রায় এর ব্যবহার সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

পেট খারাপ : অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে অরিগ্যানো পেট ব্যথার কারণ হতে পারে।

ত্বকে জ্বালা : অরিগ্যানো তেল সরাসরি ত্বকের উপর লাগালে জ্বালা যন্ত্রণা হতে পারে। সেই জন্য সবসময় অন্য কোনও তেল যেমন নারকেল বা জলপাই এর তেল মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত।

অরিগ্যানো অনেকের কাছে পরিচিত, আবার অনেকের কাছেই নতুন। এর ব্যবহারে আপনি কী কী উপকার পেতে পারেন সেগুলি এবার জেনে গেলেন। এবার সঠিক ব্যবহার করে এর স্বাস্থ্যগুণ উপভোগ করতে পারবেন। অবশ্যই পরিমিত মাত্রায় এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কথা মাথায় রেখে ব্যবহার করতে হবে। তবে কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে অরিগ্যানো ব্যবহার করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

অরিগ্যানো কী কোনও মশলা?

অরিগ্যানো হল একটি ভেষজ। ঔষধিগুণ যুক্ত এই ভেষজ রান্নায় ফ্লেভার এনে দেয়।

আমি কী প্রত্যেকদিন অরিগ্যানো চা খেতে পারি?

সাধারণভাবে অরিগ্যানোর ব্যবহার নিরাপদ। পরিমিত মাত্রায় অরিগ্যানো চা খাওয়ার ফলে তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় অরিগ্যানো চা খেলে পেট খারাপ, পেট ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে।

অনেক অরিগ্যানো দিয়ে কী করতে পারি?

হাতের কাছে অনেক অরিগ্যানো থাকলে বাড়িতে এগুলো বানিয়ে ফেলতে পারেন, পিৎজা বা পাস্তা সস, অরিগ্যানো পাস্তা এবং সাল্যাড।

অরিগ্যানোর স্বাদ ও গন্ধ কী রকম ?

সাধারণত অরিগ্যানোর গন্ধ অনেকটা কর্পূরের মতো, কিছুটা তিক্ত এবং তীব্র। এর স্বাদ খুব গাঢ় এবং সামান্য তিতকুটে।

অরিগ্যানো কি ফুসফুসের জন্য ভালো?

অরিগ্যানো তেল শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা যেমন, হাঁপানি কাশি, ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

কোন অরিগ্যানো বেশি ভালো তাজা না শুকনো?

শুকনো অরিগ্যানোর একটি নিজস্ব জায়গা রয়েছে। তবে ফ্রেস অরিগ্যানো অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বহুমুখী গুণের অধিকারী।

অরিগ্যানো চা কী ঘুমাতে সাহায্য করে?

অরিগ্যানো ঘুমাতে সাহায্য করে কিনা সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

26 References :

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch