অস্টিওপোরেসিস (হাড়ের ক্ষয় রোগ) এর কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি | Home Remedies for Osteoporosis

Written by

অস্টিওপোরেসিস হলো এক ধরণের হাড়ের অসুখ। এই অসুখে দুটি হাড়ের মধ্যে ফাঁক হয়ে যায় এবং হাড় গুলি ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। হাড়ের দুর্বলতার মাত্রা এতোটাই বেশি হয় যে সামাণ্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যায়। শরীরের যেসব স্থানে সামাণ্য আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা যায় সেগুলি হলো যথা, কোমর, শিরদাঁড়া, কবজি, পায়ের পাতা ইত্যাদি। হাড়ের এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর হাড়ের বিভিন্ন অংশে গর্ত হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে এই অসুখে আক্রান্ত হলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, যথাযথ এবং সঠিক চিকিৎসায় এই অসুখ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা সম্ভব। এছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমেও অস্টিওপোরেসিসের মতন অসুখ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ থেকে আমরা এই অসুখের কারণ, উপসর্গ, ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রতিকারের উপায় ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদে জানতে পারবো। তবে একইসাথে একথাও মাথায় রাখা দরকার যে ঘরোয়া পদ্ধতিই অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসার একমাত্র উপায় নয়, সমস্যা গুরুতর হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ। (1)

 অস্টিওপোরেসিসের কারণ

অস্টিওপোরেসিস বা হাড় দুর্বল করে দেওয়া অসুখে আক্রান্ত হওয়ার জন্য নানা কারণকে দায়ী করা হয়। সেগুলি হলো যথা – (2)

  • হাড়ের গঠন এবং পরিচর্যায় সহায়ক হরমোন হলো ইস্ট্রোজেন। আর এই হরমোনের ক্ষরণ নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে কম হলেই হাড়ের ক্ষয় রোগের সম্ভবনা দেখা যায়।
  • অস্টিওপোরেসিসের একটি অন্যতম প্রধাণ কারণ হলো মেনোপজ। এই সময় ডিম্বাশয় পর্যাপ্ত পরিমাণ ইস্ট্রোজেন উৎপাদনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলতই অস্টিওপোরেসিসের সমস্যা সৃষ্টি হয়।
  • হাড়ের গঠনে কোনোরকম ঘাটতি থাকলেও অস্টিওপোরেসিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা যায়।
  • এছাড়াও শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব হলে, নিয়মিত শারীরচর্চার অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যায়।
  • অনেক সময় অস্টিওপোরেসিসের সমস্যা বংশানুক্রমিক হয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই অসুখ ছড়িয়ে পড়ে।
  • অল্প বয়সে কোনো কঠিন বা গুরুতর অসুখের কারণেও হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

অস্টিওপোরেসিসের  লক্ষণ

হাড়ে চোট আঘাত না লাগলে বা হাড় না ভেঙে যাওয়া অবধি অস্টিওপোরেসিসের লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়না। তাছাড়াও অস্টিওপোরেসিসের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। সেগুলি হলো নিম্নরূপ – (3)

  • কাঁধ ঝুঁকে থাকা।
  • প্রায়শই কুঁজো হয়ে থাকা পিঠ।
  • কোমর সোজা করে ওঠা বা বসার ক্ষেত্রে সমস্যা
  • পিঠে অসহ্য যন্ত্রনা সৃষ্টি হওয়া।
  • পিঠে কুঁজের আকৃতিতে আবের জন্ম হওয়া।

ঘরোয়া উপায়ে অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসা

হাড়ের গঠন দুর্বল হওয়ার ফলে সৃষ্ট অস্টিওপোরেসিস কতক গুলি ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে নিরাময় করা যায়। এখানে সেই সব পদ্ধতি গুলির সম্পর্কেই আলোচনা করা হবে।

১। আপেল সিডার ভিনিগার –

উপকরণ –

  • ২ চামচ আপেল সিডার ভিনিগার
  • ১ কাপ গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • উপরিক্তো দুটি উপকরণকে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
  •  এরপর এই তরল মিশ্রণকে পান করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

এই মিশ্রণ প্রতিদিন খাদ্য গ্রহণের আগে পান করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?

আপেল সিডার ভিনিগার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি দ্রব্য। এটি আর্থ্রাইটিস বা বাতজ বেদনা এবং অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসায় খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম সহ একাধিক পুষ্টি গুণ সমৃদ্ধ আপেল সিডার ভিনিগার হাড়ের সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এবং অস্টিওপোরেসিসের মতন হাড়ের সমস্যা থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখে। (4) (5)

২। ভিটামিন –

উপকরণ –

ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য পদার্থ যেমন পনীর, টক স্বাদের ফল, এবং টাটকা সবুজ পাতা বিশিষ্ট শাক সবজি।

ব্যবহার পদ্ধতি –

এইসব খাদ্য পদার্থ গুলিকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিনের খাদ্য হিসেবেই এইসব দ্রব্য গুলি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে ভালো হয় যদি এই বিষয়ে কোনো পুষ্টি বিশেষজ্ঞের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

কীভাবে কাজ করে?

অস্টিওপোরেসিস নিরাময়ের ক্ষেত্রে ভিটামিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এনসিবিআই (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন-ডি অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান হাড় সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। ভিটামিন সি হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং হাড়ের গঠন শক্তিশালী করে তোলে। এছাড়া ভিটামিন কে হাড়ের সুস্থ্যতা বজায় রাখে। তাই সবদিক বিবেচনা করে বললে ভিটামিনের ব্যবহার দ্বারা অস্টিওপোরেসিসের প্রকোপ হ্রাস করা যেতে পারে। (6)

৩। এসেন্সিয়াল অয়েল –

উপকরণ –

  • যে কোনো প্রয়োজনীয় তেল কয়েক ফোঁটা
  •  ১ গ্লাস ঈষদোষ্ণ জল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • ১ গ্লাস জলে তেলের ফোঁটা গুলি মিশিয়ে নিতে হবে
  • এরপর এই মিশ্রণ পান করতে হবে
  • ছাড়াও এই এসেন্সিয়াল অয়েল গুলিকে খাদ্য প্রস্তুতের সময়ও ব্যবহার করা যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

নিয়মিত এই মিশ্রণ পান করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?

অস্টিওপোরেসিসের সমস্যা দূরীকরণে এসেন্সিয়াল অয়েলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই সংক্রান্ত বিষয়ে এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এসেন্সিয়াল অয়েল অস্টিওপোরেসিসের প্রভাব কমাতে সহায়ক। কারণ এসেন্সিয়াল অয়েলে রয়েছে বোর্নিওল, থাইমোল, আলফা – পিন, বিটা – পিন, বোর্নিলেস্ট এবং মেন্থল ইত্যাদি উপাদান যা স্বাস্থ্যের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং একইসাথে অস্টিওপোরেসিসের সমস্যা লাঘব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (7)

৪। দুধ –

উপকরণ –

* ১ গ্লাস ঈষদোষ্ণ দুধ

ব্যবহার পদ্ধতি –

অল্প গরম এই দুধ পান করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিন ১ গ্লাস দুধ পান করা দরকার।

কীভাবে কাজ করে?

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্যের উপস্থিতি স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী বলে মনে করা হয়। এতে হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয়। বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে দুধ হলো ক্যালসিয়ামের অন্যতম প্রধান একটি উৎস (8)। ক্যালসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে (9)। সম্প্রতি এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে যে দুধ কোনোভাবেই অস্টিওপোরেসিস থেকে রক্ষা করতে সক্ষম নয় (10)। এই কারণে হারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

৫। তিল তেল –

উপকরণ –

১ চামচ তিলের তেল

ব্যবহার পদ্ধতি –

খাদ্য তালিকায় তিল তেল অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে বা তিল তেলের সাহায্যে রান্না করা যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

নিয়মিত তিল তেলের ব্যবহার করা যায়।

কীভাবে কাজ করে?

বর্তমানে অনেক খাদ্য দ্রব্যেই তিল তেলের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এবং হাড়ের গঠন মজবুত করতে তিল তেল খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়। এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে তিল তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা খুবই অল্প পরিমানে রয়েছে। একইসাথে এতে রয়েছে সেসামিন, সেসমোমিন এবং সেসমোল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হাড়ের গঠন মজবুত করে তোলে। (11)

৬। ত্রিফলা –

 উপকরণ –

  • ১/২ চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো
  • ১ গ্লাস গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • ১ গ্লাস জলে ত্রিফলার গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর এই মিশ্রন পান করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিন একবার এই মিশ্রন পান করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?

হাড়ের অসুখ থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখার জন্য ত্রিফলা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ত্রিফলা একটি ভেষজ উপাদান। বয়েড়া, হরড় এবং ভীরা ইত্যাদির সমন্বয়ে ত্রিফলা তৈরী হয়। ত্রিফলার ব্যবহার হাড়ের ক্ষতি কম করে এবং হাড়ের গঠন মজবুত করে তোলে। অ্যান্ট-আর্থ্রাইটিস এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ত্রিফলা হাড়ের কোলাজেন বৃদ্ধি এবং অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। (12)

৭। অঙ্কুরিত বীজ –

উপকরণ –

* ছোট ১ কাপ সোয়া স্প্রাউটস

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • অঙ্কুরিত সোয়া বীজ গুলি সেবন করা যায়।
  • অঙ্কুরিত বীজ গুলি শুধু খাওয়া যেতে পারে অথবা পছন্দ মতন উপকরণ সহযোগে স্যালাড বানিয়েও গ্রহণ করা যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

সুফল পেতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অঙ্কুরিত বীজের ব্যবহার করা যায়। তবে তার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

কীভাবে কাজ করে?

অনেকেই যারা অঙ্কুরিত সোয়া বীজের উপকারীতা সম্পর্কে অবগত তারা এটা স্ন্যাক্স হিসেবে ব্যবহার করেন। একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে অঙ্কুরিত সোয়া বীজে সয়া ইসোফ্লাভোনেস নামে একটি যৌগ রয়েছে যা হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধেও সহায়তা করে। যদিও এই এই বিষয়ে আরোও গবেষণার দরকার রয়েছে। (13)

৮। আমলকি –

উপকরণ –

১ কাপ আমলকির রস

ব্যবহার পদ্ধতি –

আমলকির রস পান করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিন যে কোনো সময়ই আমুলকির রস পান করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?

বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা গেছে আমলকির ব্যবহার স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী। আমলকি অ্যান্টি- আর্থ্রাইটিস এবং অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটারি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। এই কারণে অস্টিওপোরেসিসের সমস্যা থেকে শরীরকে অনায়াসে রক্ষা করতে পারে। এছাড়াও ক্যালসিয়ামের একটি অন্যতম উৎস হলো আমলকি। ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পরে, হাড় ভাঙ্গার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই এইসব সম্ভবনা থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখতে হলে আমলকির রস এবং আমলকির গুঁড়ো সেবন খুবই উপাদেয় বলে মনে করা হয়। (14)

৯। ডাণ্ডেলিয়ন চা –

উপকরণ –

  • ২ চামচ ডাণ্ডেলিয়নের শিকড় গুঁড়ো
  • ১ কাপ জল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • ১ কাপ গরম জলে ২ চামচ ডাণ্ডেলিয়ন শিকড়ের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এই মিশ্রিত তরল এরপর ৫-৮ মিনিট পর্যন্ত ফুটিয়ে নিতে হবে।
  • এবার এই গরম পাণীয় অল্প ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পান করা দরকার।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিন ২-৩ বার পর্যন্ত এই পানীয় পান করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?

বহু অসুখের চিকিৎসার জন্য ডাণ্ডেলিয়ানের ব্যবহার হয়ে থাকে। একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে ডাণ্ডেলিয়ানের শিকড় থেকে প্রস্তুত চায়ের ব্যবহার অন্ত্রের রোগ এবং স্থূলতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও অস্টিওপোরেসিস নামক হাড়ের ক্ষয় রোগের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে ডাণ্ডেলিয়ান। ডাণ্ডেলিয়ানে রয়েছে ইনুলিন নামক একটি উপাদান যা আসলে এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট। এটা বহু রোগের প্রকোপ থেকে শরীরকে রক্ষা করে এবং অস্টিওপোরেসিসের সম্ভবনাও কম করে। (15)

১০। আনারস –

উপকরণ –

* ১ থালা কাটা আনারসের টুকরো

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • আনারসের কাটা টুকরো গুলি গ্রহণ করতে হবে।
  • অন্য ফলের সাথে আনারসের টুকরো মিশিয়েও ফ্রুট স্যালাড করে গ্রহণ করা যেতে পারে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিন প্রাতরাশের সময় এবং দুপুরের দ্বি প্রাহরিক আহারের পর আনারসের কাটা টুকরো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যেতেই পারে।

কীভাবে কাজ করে?

এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে ইঁদুরের ওপর করা একটি গবেষণা অনুসারে ম্যাঙ্গানীজ হাড়ের স্বাস্থ্য এবং হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ২.৩ মিলিগ্রাম এবং মহিলাদের জন্য ১.৮ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানীজের প্রয়োজন হয় শরীরে যা হাড় মজবুত করে তোলে। এইভাবে আনারস অস্টিওপোরেসিস দূর করতে সহায়তা করে।

১১। ধনে  পাতা-

উপকরণ –

১ কাপ ধনে পাতার রস

ব্যবহার পদ্ধতি

ধনে পাতার রস পান করতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যায়?

প্রতিদিন সকালে এই রস পান স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী বলে বিবেচিত হয়।

কীভাবে কাজ করে?

অনেকের মতন আপনিও হয়ত জানেন না যে ধনে পাতার ব্যবহার শুধু শাক সবজি এবং চাটনিতে স্বাদ বৃদ্ধি করে তাই নয় একইসাথে হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি এবং গঠন উন্নত করতেও সহায়তা করে। অনেক গবেষণা কেন্দ্র এই বিষয়ে নানা গবেষণা করেছে যা এনসিবিআই এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিতও হয়েছে। সেই গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে ধনেপাতায় রয়েছে সিলিকন নামক একটি উপাদান যা হাড়ের সুস্থ্যতা বজায় রাখে এবং অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধ করে। অবশ্য এই বিষয়ে এখনও অনেক গবেষনার প্রয়োজন রয়েছে। (16)

১২। ব্যায়াম –

নিয়মিত স্বাস্থ্যচর্চা বিশেষত ব্যায়ম অনেক শারীরিক সমস্যার অনায়াসে সমাধান করতে পারে। যেমন ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য হাড় শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে ব্যায়মও যে কোনো বয়সী মানুষের হাড়ের দুর্বলতা কম করে দেহের গঠন সুস্থ্য সবল করে তোলে। নিয়মিত ব্যায়মের ফলে পেশি শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং হাড় শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

কী করা দরকার?

প্রথমে এই বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার। তারপর সেই পরামর্শ অনুসরণ করে ব্যায়াম করতে হবে।

বি . দ্র – হাড় ভাঙার ঝুঁকি কম করতে কঠিন ব্যায়ামের প্রচেষ্টা না করাই শ্রেয়।

১৩। মালিশ –

মালিশ বা ম্যাসাজ স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী একটি কার্য পদ্ধতি। নিয়মিত মালিশের ফলে দেহের পেশি শক্তি বৃদ্ধি পায়, কোমরের ব্যথা, অস্থি সন্ধির ব্যথা, ইত্যাদি কমে যায়। এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে মালিশের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে যার মধ্যে একটি হলো টুনা। এই ধরণের মালিশের ফলে হাড়ের মধ্যস্থিত খনিজ (এমবিডি) এবং এস্ট্রাডিওল (এক ধরনের ইস্ট্রোজেন) মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক।

বি দ্র – চিকিৎসাগত অবস্থা, মেনোপজ, এবং তামাক সেবনের ফলে হাড়ের ক্ষতির সম্ভবনা  ব্যায়াম এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দরকার রয়েছে।

তাহলে অস্টিওপোরেসিস দূর করার জন্য সম্ভাব্য ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি গুলির ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া গেলো।

অস্টিওপোরেসিসের জন্য প্রয়োজনীয় ডায়েট বা খাদ্য তালিকা

হাড়ের গঠন শক্তিশালী করে তুলতে হলে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। একইসাথে খাদ্যের পরিমাণ এবং পরিমাপ সম্পর্কেও অবগত হওয়া দরকার। এইজন্য একটা উপযুক্ত ডায়েট চার্ট বা খাদ্য তালিকা থাকা প্রয়োজন।

প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ইত্যাদি সমৃদ্ধ খাদ্য হাড়ের গঠন মজবুত করে স্বাস্থ্যোন্নতিতে সহায়তা করে। একইসাথে অস্টিওপোরেসিসের মতন হাড়ের সমস্যাও প্রতিরোধ করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতন অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধে উপযোগী প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকা কী হতে পারে সে বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক –

  • প্রোটিনের জন্য – কিডনি সীম, ডা, মটর শুঁটি, বাদাম, হেজেলনাট, চিনাবাদাম, পিনাটবাটার, সূর্যমুখী বীজ, আখরোট, সয়া প্রোটিন যুক্ত খাদ্য এবং কম চর্বিযুক্ত দুদ্ধ জাত দ্রব্য গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • ক্যালসিয়ামের জন্য – দুধ, দই, পণির, সবুজ বাঁধা কপি, পাতা যুক্ত সবজি, ব্রকোলি, কালো সরিষা, বেসিল নাট, সূর্যমুখী বীজ, শুকনো সীম ইত্যাদি।
  • ভিটামিন ডি এর জন্য – ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে ভালো উৎস হলো সূর্যালোক।

অস্টিওপোরেসিস ঝুঁকি এবং জটিলতা

অস্টিওপোরেসিসের ঝুঁকিকে প্রধাণত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো যা আমরা সহজেই প্রতিরোধ করতে পারি আর অন্যটি হলো যা প্রতিরোধ করা বেজায় কঠিন বা অপ্রতিরোধযোগ্যও বলা যেতে পারে।

তাই প্রথমে, প্রতিরোধযোগ্য অস্টিওপোরেসিসের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক –

  • হরমোন – ঋতুস্রাবের অস্বাভাবিকতা (অ্যামেনোরিয়া), ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম (মেনোপজ), এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরণের কম মাত্রা অস্টিওপোরেসিসের সমস্যার কারণ হতে পারে।
  • অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা – এটি খাদ্য এবং পাণীয়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলার ফলে সৃষ্ট একটি সমস্যা। পরিমিত পরিমাণ আহার গ্রহণের অভাবে শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির ঘাটতি দেখা যায়। যা অধিকাংশ সময়েই ওজন বৃদ্ধি করে। এবং ফলস্বরূপ অস্টিওপোরেসিসের মতন সমস্যা সৃষ্টি করে।
  • ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাটতি – ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে তা দুর্বল হয়ে যায়।
  • ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার – দীর্ঘ কাল যাবত কোনো ওষুধের ব্যবহার করলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন – অপরিমিত পরিমাণ গ্লুটেইন গ্রহণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হাড় দুর্বল করে দিতে পারে।
  • ধূমপান – ধূমপান শুধুমাত্র যে হাড়ের ক্ষতি করে তাই নয় একইসাথে হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসের ওপরেও বিরূপ প্রভাব ফেলে।
  • অ্যালকোহল গ্রহণ – অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে হাড়ের ক্ষতি হয় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসায় জটিলতা

যে যে কারণে অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসায় জটিলতা দেখা যায় সেগুলি হলো যথা –

  • লিঙ্গ – মেনোপজের কারণে মহিলাদের অস্টিওপোরেসিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • বয়স – বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে অস্টিওপোরেসিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের গঠন পাতলা এবং দুর্বল হয়ে যায়।
  • শরীরের আকার – অল্প বয়সী এবং শারীরিক ভাবে কম জোর মহিলাদের জন্য এটি একটি বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসা পদ্ধতি  –

প্রধাণত তিন ভাবে অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসা করা যেতে পারে –

  • পুষ্টি – হাড়ের গঠন মজবুত করতে, পেশি শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি খুবই প্রয়োজনীয় একটি পৌষ্টিক উপাদান। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেসব খাদ্য গ্রহণ করি তাতে নানান পৌষ্টিক উপাদান রয়েছে যেমন ভিটামিন, খনিজ উপাদান, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন ইত্যাদি যা শরীরকে সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করে।
  • ব্যায়াম – অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধকারী চিকিৎসার মধ্যে ব্যায়াম ও একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ। ব্যায়াম শুধুমাত্র হাড়ের স্বাস্থ্যোন্নতি ঘটায় না একইসাথে পেশি শক্তি বৃদ্ধি করে সুস্বাস্থ্য প্রদান করে। তবে ব্যায়ামের সময় হাড়ের ওপর বেশি চাপ প্রয়গ করা উচিৎ নয়। আর অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধে কী ধরণের ব্যায়াম করা উপযোগী তা জানতে হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।
  • ওষুধ – চিকিৎসকেরা অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধকারী নানান ধরণের ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অবশ্য সেগুলি রোগী ভেদে পরিবর্তনশীল হয়।

ওপরের এই প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে পাঠকের নিশ্চই ধারণা হয়েছে অস্টিওপোরেসিসের কারণ, তার লক্ষণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে। তাই হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরী। স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অস্টিওপোরেসিসের সম্ভবনা অনেকটাই হ্রাস করতে পারে। তবে যে কোনোরকম শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রতিকারের উপায় না খুঁজে অবিলম্বে একজন চিলিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার। আশা করা যায় এই প্রবন্ধ প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে আপনাদের সহায়তা করতে পেরেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী –

অস্টিওপোরেসিস কী সম্পুর্ণ ভাবে নিরাময় হয়?

নাহ অস্টিওপোরেসিসের সম্পূর্ণ নিরাময় হয়না। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অস্টিওপোরেসিসের ক্ষতির হার অনেকটাই লাঘব করা যায়।

অস্টিওপোরেসিসের জন্য ক্ষতিকারক খাদ্য উপাদান কোনগুলি?

বেশি লবনযুক্ত খাবার, অ্যালকোহল, বিনস, অতিরিক্ত ভিটামিন এ, এবং ক্যাফাইন জাতীয় খাদ্য অস্টিওপোরেসিসের জন্য ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হয়।

অস্টিওপোরেসিস রোগাক্রান্তদের জন্য হাঁটাহাঁটি করা কী ঠিক?

একজন সুস্থ্য মানুষের ক্ষেত্রে দৈনিক একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী। তবে অস্টিওপোরেসিস আক্রান্তদের জন্য যে কোনো শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সম্পাদনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Read our editorial policy to learn more.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.