পায়ে ব্যথার কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি | Leg Pain Causes, Symptoms and Home Remedies

Written by

দেহাঙ্গ তা সে আভ্যন্তরীণ হোক বা বহিঃস্থ শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যান্য দেহাঙ্গের মধ্যে পা হলো একটি অন্যতম। এই পা হাঁটাহাঁটি থেকে শুরু করে শরীরের ভার বহন করে, শরীর কে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। দেহ সঞ্চালনা থেকে, শরীরকে স্থান পরিবর্তন করানো এই সব কাজের দায়িত্বই পায়ের ওপর একপ্রকার ন্যস্ত থাকে বলা চলে। স্বভাবতই দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ পরিশ্রমের কাজই পায়ের সাহায্যে সম্পাদিত হয়। তাই পায়ের ব্যথা বা যে কোনো রকম সমস্যা হওয়াটা আশ্চর্যের কথা নয়। অনেক সময় আবার পায়ের ব্যথা বা অন্যান্য সমস্যা এতোটাই বেড়ে যায় যে দিনের সমস্ত কাজ থেমে যায়। স্টাইলক্রেজের এই প্রবন্ধে আমরা পায়ের ব্যথার কারণ, লক্ষণ, বিভিন্ন প্রকারের পায়ে ব্যথা, এবং ঘরোয়া উপায়ে পায়ে ব্যথার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করবো। আশা করা যায় এই প্রবন্ধে উল্লিখিত তথ্যাদি আপনাদের পায়ে ব্যথার উপশমে সহায়তা করবে।

 পায়ে ব্যথা আসলে কী?

পায়ে ব্যথার কারণ সম্বদ্ধে জানতে হলে আগ, পায়ে ব্যথা কী সেটা জানা দরকার। ব্যথা স্নায়ুতন্ত্র কর্তৃক মস্তিষ্কে পাঠানো একটি সংকেত। যা শরীরকে ঐ ব্যক্তিকে উপলব্ধি করায় যে তার শরীরে কিছু একটি সঠিক নয়। এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে জ্বালা ভাব, খিঁচুনী এবং ঝনঝন বোধ অনুভূত হয়। শরীরের যে কোনো স্থানেই এমনটা হতে পারে।

এইসব নানা কারণেই পায়ের মাংস পেশীতে টান, ঝনঝনানি, খিঁচুনী ইত্যাদি সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। এই সকল সমস্যা গুলির কারণে অনেকসময় হাঁটাচলা করতেও সমস্যা দেখা যায়। তবে এটি একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। যে কোনো মানুষের যে কোনো সময়ই এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইসব সমস্যা গুলির পশ্চাতে একাধিক কারণ থাকতে পারে এই প্রবন্ধে সেইসব বিষয় গুলি সম্বদ্ধে বিশদে আলোচনা করা হবে। (1)

পায়ে ব্যথার প্রকারভেদ

পায়ে ব্যথার ধরণ নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় পায়ে ব্যথা মূলত তিন প্রকারের হয়। ব্যথার ধরণ দেখে বলা যায় যে এটা কোন ধরণের ব্যথা। এবার পায়ে ব্যথার ধরণ গুলি সম্বদ্ধে জেনে নেওয়া যাক –

১। মাস্কুলোস্কেলেটন পেইন মূলত পেশী এবং লিগামেন্ট (দুটি হাড় সংযোগকারী কোষ), গাঁট এবং হাড়ের সমস্যার কারণে পায়ে মাস্কুলোস্কেলেটন পেইনের উদ্ভব হয়। এই প্রকারের ব্যথা যে যে কারণে হতে পারে বলে মনে করা হয়। সেগুলি হলো যথাক্রমে – (2)

  •  গাঁটের ব্যথার সমস্যা।
  • অতিরিক্ত চাপের কারণে পেশি ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া।
  • হাড়ের ক্ষয় রোগ বা অস্টিওপোরেসিস।

২। ভাস্কুলার পেইন আর্টারি বা ধমনীর সমস্যার ফলে পায়ে এই ধরণের ব্যথার সৃষ্টি হয়। পেরিফেরাল ধমনী রোগ (শিরা পাতলা হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে) এবং ডীপ ভেইন থ্রম্বোসিস ( গভীর শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া) এই দুই কারণেও পায়ে ব্যথা হতে দেখা যায়।  (3)

৩। নিউরোলজিক্যাল পেইন বা স্নায়বিক কারণে ব্যথা –  স্নায়বিক কারণে যখন পায়ের ব্যথা হয় তখন তাকে নিউরোলজিক্যাল পেইন বলে। এর মূল কারণ হিসেবে মনে করা হয় যে সাইটিকা নার্ভ (মানব দেহের দীর্ঘতম স্নায়ু, যা মেরুদণ্ড থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত বিস্তৃত) এবং অন্যান্য নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হলে। (4)

পায়ে ব্যথার কারণ এবং ভয়াভয়তা –

পায়ে ব্যথার কারণ গুলি হলো নিম্নরূপ – (5)

পায়ে ব্যথার সাধারণ কারণ –

  • ডিহাইড্রেশান বা রক্তস্রোতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি।
  • মূত্র বর্দ্ধক বা কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে এমন ওষুধ সেবন করার ফলে।
  • অতিরিক্ত ব্যায়ম বা পা মুড়ে একভাবে অনেকক্ষণ বসার ফলে পেশীর ক্লান্তি সৃষ্টি হয়।
  • চোট আঘাতের ফলে পেশীর ক্ষতি হয়ে থাকলে।
  • হাড়ের মধ্যে চুলের রেখার ন্যায় ফাটল দেখা দেওয়ার ফলে।
  • শিন স্প্লিন্টারের কারণে (পায়ের নীচের দিকের হাড়ের বাইরের অংশের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে।)

পায়ে ব্যথার অন্যান্য কারণ –

  • পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিস (পায়ের রক্ত প্রবাহ সম্পর্কিত একটি সমস্যা।)
  • দীর্ঘ সময় ব্যাপী বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নেওয়ার ফলে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। একে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বলে।
  • অস্টিওমায়লিটিস ( হাড়ের সংক্রমণ)
  • সেলুলাইটিস (ত্বক এবং নরম কোষের সাথে সম্পর্কিত সংক্রমণ)।
  • আর্থ্রাটিসের কারণে এবং জয়েন্ট পেইনের কারণে।
  • স্নায়ুর ক্ষতির কারণে (ডায়বিটিস আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ধূমপান এবং মদ্যপান কারী ব্যক্তিদের জন্য খুবই সাধারণ ব্যাপার।)
  •  ভ্যারিকোজ শিরার কারণে (ইন্টারভেনাস প্রদাহ)

পায়ে ব্যথার লক্ষণ বা উপসর্গ –

পায়ে ব্যথার লক্ষণ গুলি হলো যথা –

  •  আক্রান্ত অঞ্চল ফুলে যাওয়া।
  • পেশী সংকোচন।
  • আক্রান্ত অঞ্চলে জ্বালা ভাব অনুভূত হওয়া।
  • ঝনঝনানি অনুভূত হওয়া।

ঘরোয়া উপায়ে পায়ে ব্যথার চিকিৎসা –

নিম্নলিখিত উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে পায়ে ব্যথার চিকিৎসা করা হয়।

১। আইস প্যাক –

উপকরণ –

  •  কয়েকটা বরফের টুকরো
  •  ১ টা প্ল্যাস্টিক ব্যাগ অথবা তোয়ালে

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • প্রথমে বরফের টুকরো গুলিকে প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ অথবা তোয়ালের মধ্যে রাখতে হবে।
  • এরপর যন্ত্রনাক্লিষ্ট অঞ্চলে ঐ ব্যাগ বা তোয়ালে রেখে আলতো ভাবে বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মালিশ করতে হবে।
  • ব্যথা বা যন্ত্রনা একেবারে না কমা অবধি দিনে ২ – ৩ বার পর্যন্ত এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে –

ব্যথার উপশমে বরফ ব্যাগের ভূমিকা সম্বদ্ধে ইরান মেডিক্যাল কলেজ একটি গবেষণা পরিচালনা করে। এই গবেষনা সূত্রে জানা যায় যে আর্টারিতে পাঞ্চার হওয়ার আগে অবধি বরফ ব্যাগের ব্যবহার ইতিবাচক ফলাফল দিতে পারে। অবশ্য এই বিহসয়ে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে একথাও অস্বীকার করা যায় না যে ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা নিরাময়ের চিকিৎসায় আইস প্যাকের গুরুত্ব সত্যিই অনস্বীকার্য। (6)

২। হট পীপার র‍্যাব –

উপকরণ –

  • প্রায় ৫০ মিলিলিটার অলিভ অয়েল
  • ১ চা চামচ লাল লঙ্কা গুঁড়ো

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • একটি পাত্রে উপরিক্তো দুটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এই মিশ্রন সারা রাত রেখে দিতে হবে।
  • পরদিন ঐ মিশ্রন দিয়ে পায়ের ব্যথার জায়গা মালিশ করে নিতে হবে।
  • পা মালিশের পর বেশ কিছুটা সময় পা এমনি ছড়িয়ে রাখতে হবে।
  • এই পদ্ধতি দরকার হলে ঘুমোনোর আগে অনুসরণ করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে পায়ের ব্যথার উপশমে হট পীপাত র‍্যাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এনসিবিআই (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে জানা যায় যে, লাল লঙ্কা ব্যথা উপশম করতে পারে। গবেষণায় আরোও উল্লেখ করা হয়েছে যে লাল লঙ্কা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কার্যকরী প্রভাব বিস্তার করে। এটি পেশীর ক্লান্তি এবং পেশীর টান প্রতিরোধ করতে পারে। অন্যদিকে অলিভ অয়েল প্রদাহ এবং আর্থ্রাইটিসের ফলে সৃষ্ট ব্যথা যন্ত্রনার উপশম করে। আর জল্পাই তেল এবং লাল লঙ্কার যৌথ অবস্থানে পায়ের ব্যথা নিশ্চিত ভাবেই প্রশমিত হয়ে ওঠে। (7) (8)  

বি দ্র এই পদ্ধতি অনুসরণ করার অল্প সময়ের মধ্যেই হাত ভালোভাবে সাবানের সাহায্যে ধুয়ে ফেলা দরকার। কারণ লঙ্কা লাগানো হাত কোনো ভাবে চোখে লাগলে অসহ্য জ্বালা যন্ত্রনা এবং চোখ থেকে জল বের হওয়ার মতন অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হবে।

৩। এসেন্সিয়াল অয়েল –

উপকরণ –

  • ১ বালতি গরম জল (গা সওয়া)
  • ৩ – ৪ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস/ ল্যাভেণ্ডার/ লবঙ্গ তেল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • গরম জলের বালতি ওপরিল্লিখিত যে কোনো একটি তেল মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর ১০ – ১৫ মিনিট সময় পর্যন্ত ব্যথা পা ঐ জলের বালতিতে ডুবিয়ে রেখে দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময় পর জল থেকে পা উঠিয়ে নিয়ে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে।
  • সপ্তাহে ২ – ৩ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতেই পারে।

কীভাবে কাজ করে –

ইউক্যালিপটাস তেল অ্যানালজেসিক এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি প্রভাবযুক্ত হয়। লবঙ্গ তেলের মধ্যে অ্যানালাজেসিক সহ অ্যান্টিনোকিসেপ্টিভ প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া ল্যাভেণ্ডার অয়েলে ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এইসব কারণ গুলির জন্যই বলা হয় যে ঘরোয়া পদ্ধতি পাএর ব্যথা উপশমের জন্য এসেন্সিয়াল অয়েল খুবই উপকারী একটি পথ্য হিসেবে কাজ করে।  (9) (10) (11)

৪। এপসাম লবন এবং বেকিং সোডা –

উপকরণ –

  • ১ বালতি গা সওয়া গরম জল
  • ১ চামচ এমসম লবন
  • ১ চামচ বেকিং সোডা

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • ১ বালতি গরম জলে নির্দিষ্ট পরিমাণে এপসম লবন এবং বেকিনফ সোডা মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর ঐ জলের বালতিতে ১০ – ১৫ মিনিট সময় পর্যন্ত পা ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে ঐ জল থেকে পা তুলে নিয়ে পরিষ্কার জলের সাহায্যে পা ধুয়ে নিতে হবে।
  • এই পদ্ধতি সুবিধা নিতন এবং প্রয়োজন অনুয়ারী ব্যবহার করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে বিশেষজ্ঞদের মতে এপসম লবণ, ম্যাগনেশিয়াম সালফেটের একটি দৃষ্টান্ত মূলক উদাহরণ। স্নানের জলের সাথে এপসম লবণ মিশিয়ে নিলে তা গাঁটের ব্যথার উপশম ঘটায়। শুধু তাই নয় পেশির ক্লান্তি এবং উত্তেজনারও নিরাময়ের ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বেকিং সোডা ব্যবহার করলে প্রদাহ এবং ব্যথা সমস্যাও দূর হয়। এই কারণেই মনে করা হয় যে এপসম লবণ এবং বেকিং সোডার মিশ্রিত গরম জল ব্যবহার করলে পায়ের ব্যথার উপশম হয়।  (12)

৫। মালিশ –

উপকরণ –

  • ২ – ৩ চামচ অলিভ অয়েল
  • ২ ফোঁটা ল্যাভেণ্ডার অয়েল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  •  প্রথমে অলিভ অয়েলে ২ ফোঁটা ল্যাভেণ্ডার অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এবার এই মিশ্রিত তেল একটু গরম করে নিতে হবে।
  • এরপর যন্ত্রনা ক্লিষ্ট অঞ্চলে ঐ তেল লাগিয়ে মালিশ করে নিতে হবে। এবং সারা রাত এইভাবেই রেখে দিতে হবে।
  • দিনে ১ – ২ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে পায়ে ব্যথার ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকারে মালিশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যথা নিয়ন্ত্রণ উপর একটি গবেষণা সূত্রে একথা জানা যায় যে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে মালিশের বিকল্প কিছুই নেই। মালিশের ফলে ব্যথা প্রভাবিত অংশের পেশীতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং জ্বালা ভাব দূরীভূত হয়। (13)

৬। ডীপ হিট –

উপকরণ –

  • গরম জল
  • ১ টা তোয়ালে

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • গরম জলের মধ্যে তোয়ালে ভিজিয়ে নিতে হবে। তারপর সেটা খুব ভালো ভাবে নিগড়ে তোয়ালে থেকে অতিরিক্ত জল বের করে নিতে হবে।
  • এরপর ঐ গরম তোয়ালে পায়ের ব্যথা অংশে জড়িয়ে রাখতে হবে যতক্ষণ না অবধি তোয়ালের তাপমাত্রা ঘরের তাপমাত্রার সমান হয়ে যায়।
  • এই প্রক্রিয়া কয়েকবার পর্যন্ত অনুসরণ করতে হবে।

কীভাবে কাজ করে গরম জলে ভেজা তোয়ালের মাধ্যমে পায়ের ব্যথাযুক্ত অংশের ক্লান্ত পেশি গুলিতে আরাম হয় এবং এতে করে সহজেই ব্যথা উপশম হয়। এছাড়াও এই পদ্ধতি অনুসরণের ফলে ব্যথা অঞ্চলের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।

৭। ভিনিগার –

উপকরণ –

  • ১/২ কাপ আপেল সিডার ভিনিগার
  • ১ বালতি গা সওয়া গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • গরম জল এবং আপেল সিডার ভিনিগার একসাথে মিশিয়ে নিয়ে ঐ বালতিতে ১৫ মিনিট সময় পা ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে বালতি থেকে পা উঠিয়ে নিয়ে, পা ধুয়ে নিতে হবে।
  • এছাড়াও প্রতিদিন সকালে ১ চামচ আপেল সিডার ভিনিগার এবং গরম জল মিশিয়ে পান করলে পায়ের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।

কীভাবে কাজ করে আপেল সিডার ভিনিগার পায়ের যে কোনো সমস্যার ক্ষেত্রেই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও পায়ে যাবতীয় ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। একদিন ছাড়া এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আরাম পাওয়া যায়।

৮। পিপারমেন্ট টি বা পুদিনা চা –

উপকরণ –

  •  ১ কেটলি গরম জল
  • ১ – ২ পিপারমেন্ট টি ব্যাগ
  • ১ কাপ গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • গরম জলের কাপে পিপারমেন্ট টি ব্যাগ গুলি ৪ – ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • এবার ঐ ভেষজ চায়ের লিকার, বালতিতে রাখা গরম জলের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
  •  এবার এই জলের মধ্যে ১৫ মিনিট সময় ব্যাপী পা ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

 কীভাবে কাজ করে পিপারমেন্ট বা পুদিনাতে রয়েছে ব্যথা নাশক উপাদান। পিপারমেন্ট চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হতে পারে যদি সেই মুহূর্তে হাতের কাছে পিপারমেন্ট তেল না থাকে।

৯। ড্রাই ব্রাশিং –

উপকরণ –

  • নরম দাঁড়া যুক্ত বডি ব্রাশ

ব্যবহার পদ্ধতি –

  • ব্রাশের সাহায্যে পায়ের নিচ থেকে ওপরের অংশ পর্যন্ত বোলাতে হবে।
  • এইভাবে ১০ – ১৫ মিনিট সময় ব্রাশ করতে হবে।

 কীভাবে কাজ করে এইভাবে শুকনো ব্রাশ পায়ে ব্যথা অংশে বোলাতে থাকলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। একইসাথে পেশির ক্লান্তি দূর হয় এবং ব্যথা, যন্ত্রনারও উপশম হয়। (14)

১০। পা উঁচু করে রাখা – পা উঁচু করে রাখলে পায়ের ওপর শরীরের বাড়তি চাপ অনেকটাই কমে যায়। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও বালিশের ওপর পা উঁচু করে রেখে শুলে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে বসে থাকার সময় দীর্ঘ সময় পা ঝুলিয়ে রাখলে পায়ের ক্লান্তি দেখতে পাওয়া যায়। তাই যারা পায়ের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য বসে কাজ করার সময় নিজেদের স্বাস্থ্যের খাতিরেই যতটা সম্ভব পা ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা এড়িয়ে চলা উচিত।

১১। ক্লান্ত পায়ের জন্য ব্যায়ম একটি ক্লান্ত পা, ব্যায়মের জন্য প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। কিন্তু একটা টেনিস বল বা রোলিং পিনের সাহায্যে বা পা মালিশ করলে তা খুবই আরামদায়ক হয়। আপনার বসে থাকার সময়ও পায়ের পাতার নিচের অংশে একটা বল বা পিন রোল করতে থাকুন এতে করে আপনার পায়ের গাঁটের ব্যথা এবং পেশির ক্লান্তি নিরাময় হয়। এছাড়াও পায়ের আঙুল গুলির সাহায্যে ছোট খাটো বস্তু উত্তোলনের চেষ্টা করতে পারে এতে করে পায়ের চাপ অনেকটাই কমে যায়।

পায়ের ব্যথার চিকিৎসা –

পায়ের ব্যথার কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই তাই যে যে কারণ গুলির জন্য পায়ে ব্যথা হয়ে থাকে সেই সব কারণের ওপর ভিত্তি করেই মূলত পায়ে ব্যথার চিকিৎসা করা হয়। ইতিমধ্যে এই প্রবন্ধে মাংসপেশীর প্রদাহ, হাড় ভাঙা, পেশীতে টান ইত্যাদির কারণে পায়ে ব্যথা সম্বদ্ধে আলোচনা করা হয়েছে। জানা যায় এইসব পায়ে ব্যথার কারণ গুলি সবই পরীক্ষার ফলে জানা যায়। এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।

তবে সাধারণ পেশীতে টান, খিঁচুনী, এবং পা ফোলা ইত্যাদি কারণ গুলির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। পায়ের জ্বালা ভাব বা প্রদাহ হ্রাস করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুয়ারী মালিশ করা বা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। হাড় বা অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ওষুধ সেবন করাও কখনও কখনও জরুরী হয়ে পরে। এগুলি ছাড়াও অন্য কোনো কারণে পায়ে ব্যথা হয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুয়ারী চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে চলা উচিৎ।

ক্লান্ত পায়ের জন্য অ্যাকুপ্রেশার পয়েন্ট –

অনেক সময় আপনার হাত বা হাত সংলগ্ন অঞ্চলের তুলনায় পায়ের পাতা, বা সমগ্র পায়ে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। শরীরের নানা অংশে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশেষত পায়ের পেশীর ক্লান্তি দূর করতে অ্যাকুপ্রশার পদ্ধতির অনুসরণ করা যেতে পারে। চৈনিক এই বিকল্প থেরাপি পদ্ধতি অনুসারে শরীরের কিছু কিছু প্রেশার পয়েন্ট রয়েছে যেখানে পরিমিত পরিমাণে চাপ প্রয়োগের ফলে সক্রিয় করে তুললে শরীরে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। এইরকমই ক্লান্ত পায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু অ্যাকুপ্রেশার প্রেসার পয়েন্ট হলো –

  • স্পীন বা প্লীহা ১২ (এসপি- ১২) – পেলভিক অঞ্চলে অবস্থিত, ঠিক যেখানে আপনার ঊরু ট্রাঙ্কের সাথে যুক্ত হয়।
  • ব্লাডার ৪০ (বি এল -৪০) – হাঁটুর ঠিক পিছনে অবস্থিত। হাঁটুর জয়েন্টের ক্রিজে।
  • স্টমাক বা পাকস্থলী – ৩৬ (এসটি – ৩৬) – হাঁটুর টুপির প্রায় চার আঙুল নিচে শিন হাড়ের ডান দিকে এই বিন্দুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে পায়ের রক্ত সঞ্চালন উদ্দীপিত করতে পারে। এতে করে পেশীর ক্লান্তি, ব্যথা ইত্যাদির উপশম হয়।

আপনি যদি অ্যাকুপ্রেশার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হন তাহলে অ্যাকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

পায়ে ব্যথা নিরাময়ের জন্য জরুরী পদক্ষেপ –

নিম্নলিখিত উপায় অবলম্বণ করলে সহজেই পায়ে ব্যথার সমস্যা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা যায়।

  •  সূর্যালোক গ্রহণের মাধ্যমে অথবা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে হবে। এই ভিটামিন ডি হাড় এবং পেশীর ব্যথা নিরাময় করে। শুধু তাই নয় পায়ের ব্যথা বা কোনো রকম সমস্যা হয় এমন সম্ভবনা থেকেও শরীরকে সুস্থ্য রাখে।
  •  পায়ের সঠিক আকার অনুসারে সুবিয়াধাজনক এবং একইসাথে আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করতে হবে। ভুল মাপের জুতো প্রায়শই পায়ের নানাবিধ ক্ষতি করে থাকে।
  •  যাদের শরীরে ইতিমধ্যে মেদের আধিক্য বেশি। তাদের শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য মেদ হ্রাস করা দরকার। অতিরিক্ত মেদ অনেক সময় পায়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলস্বরূপ পায়ের গাঁটের ব্যথা এবং প্রদাহের সৃষ্টি হয়।
  • একটানা অনেকক্ষন সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। অল্প সময় অন্তর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করা দরকার। এই অভ্যাস পায়ের ব্যথা হওয়ার প্রবণতায় বাধা প্রদান করে।

এই প্রবন্ধের মাধ্যমে পায়ের ব্যথা সম্পর্কিত নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনারা অবগত হলেন। আশা করা যায় এইসব তথ্য আপনার ব্যবহারিক জীবনে নানাভাবে সহায়তা করবে। এই প্রবন্ধে, পায়ের ব্যথা প্রতিকারের বেশ কিছু উপায় আছে, যা উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। এই তথ্য ব্যবহার করে, আপনি শুধু নিজেরই নয়, অন্যদেরও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারেন। তবে একটা কথা মাথায় রাখা দরকার যে পায়ে ব্যথার সমস্যা যদি গুরুতর হয় তাহলে সেক্ষেত্রে অবহেলা না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ, অন্যথায় সমস্যা জটিল হয়ে যেতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

হঠাৎ করে পা ভারী অনুভূত হওয়ার কারণ কী?

যে কোনো কারণে ধমনী বা আর্টারি সংকুচিত হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে পা নিস্তেজ হয়ে যায় এবং ভারী অনুভূত হয়। এটি পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের একটি লক্ষণ বলে মনে করা হয়। এছাড়াও কখনও কখনও রক্তল্পতার কারণেও পা ফুলে ভারী লাগতে পারে।

কোমরের নীচের অংশে ব্যথার কারণে কী পায়ে ব্যথা হতে পারে?

যদি কোমরের নিচের অংশের ব্যথা সাইটিকা সম্পর্কিত হয়ে থাকে তাহলে পায়ে ব্যথা হতেই পারে।

পায়ের ব্যথা কী কোনোভাবে হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে?

হ্যাঁ এমন হতেই পারে তবে এই বিষয়ে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।স

বিছানায় শোয়া অবস্থায় হঠাৎ করে পায়ে ব্যথার কারণ কী হতে পারে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরণের ব্যথা হয়ে থাকে মূলত পেশীর আকষ্মিক সঞ্চালনের ফলে।

ডি হাইড্রেশ্নাএর ফলে কী পায়ে ব্যথা হতে পারে?

নাহ এমন হওয়ার সম্ভবনা বেশ কম।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ?

পায়ের ব্যথার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করতে হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী।

Sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.