পনীর -এর স্বাস্থ্যগুণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | Health Benefits Of Cottage Cheese ( Paneer) And Side Effects in Bengali

Written by

নিরামিষ হোক কিংবা আমিষ, যে কোনও রেস্তোরার খাবারের মেনু হোক বা পার্টি, উৎসব বা অনুষ্ঠানের মেনু পনীরের হরেক রকম পদের উপস্থিতি নেই, এটি হতেই পারে না। নোনতা স্বাদের, ক্রিমি টেক্সচারযুক্ত নরম তুলতুলে পনীর মুখে ফেলে স্বার্গীয় অনুভুতি পান না এমন ব্যক্তি হয়ত খুব কমই আছেন। মন ভোলানো স্বাদের পাশাপাশি, লো-ফ্যাটযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার হওয়ায় পনীরের যে কোনো রান্নার পদকে দশে দশ দেবেনা এমন মানুষও বোধহয় কম আছে। পনীর কেবল সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যের জন্য পনীরের উপকারিতাও রয়েছে অনেক রকমের।

পনীরের স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে আপনার যদি কিছু না জানা থাকে, তবে স্টাইলিক্রেসের এই নিবন্ধটি পড়ার পরে আপনি আজকে জানতে পারবেন স্বাস্থ্যের জন্য পনীর কতটা উপকারি। স্বাস্থ্যগুণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পনীর খেলে আপনার কী কী শারীরিক অসুবিধা হতে পারে সে সম্পর্কেও জানাব এই প্রবন্ধে। শুধু তাই নয়, কীভাবে ঘরেই পনীর তৈরি করতে পারবেন তাও জানতে পারবেন।  সুতরাং, দেরি না করে পনীর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পড়া শুরু করুন।

  • পনীর কী ?

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের জন্য দুধ সহ্য হয় না অনেকেরই। এদিকে, দুধে থাকা প্রত্যেকটা উপাদান স্বাস্থ্য গঠনের জন্য এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। সেক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যগুণের নিরিখে পনীরকে দুধের থেকেও এগিয়ে রাখতে পারেন আপনি।ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে অতি জনপ্রিয় দুগ্ধজাত পণ্য যে এই পনীর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিভিন্ন ধরণের দুধ থেকে পনীর প্রস্তুত করা হয়, যেমন গরুর দুধ, মহিষের দুধ, সয়া দুধ এবং ছাগলের দুধ থেকে। পনীরে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ডি। এবার,  আমরা পনীর পুষ্টির মূল্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য পনীরের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

  • পনীরএর স্বাস্থ্যগুণঃ

আজকাল কি অল্পতেই ক্লান্তিবোধ করছেন? তবে, ডায়েটে পনীরের কোনো পদ রাখতে ভুলবেন না যেন। কারণ, এতে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান যা এনার্জির ঘাটতি এবং ক্লান্তিবোধ দূর করে শরীর করে তোলে চাঙ্গা।

এছাড়াও, কটেজ চিজ (Cottage Cheese) বা পনীর – রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম যা হাড় মজবুত করে, বয়সের সাথে হওয়া হাড়ের ক্ষয় বা   রোধ করতে অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করতে পারে। পনীরের ভিটামিন-বি শক্তি দেয় এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্রিড়াবিদ বা দৌড়ঝাঁপ করে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের জন্য খুবই কার্যকর পনীর। ভিটামিন-ডি থাকায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য পনীর খাওয়া খুব জরুরী। প্রায়শই পনীর খেলে আপনার  দৃষ্টিশক্তিও ভাল থাকবে। কারণ, কিছু গবেষণা বলেছে যে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ এবং জিঙ্ক গ্রহণের ফলে আমাদের দৃষ্টি হ্রাস হওয়ার ঝুঁকি কমে যেতে পারে। পনীরে এই দুটি পুষ্টি উপাদানই রয়েছে এবং তাই আপনার দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় পনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এবার একে একে সবিস্তারে জেনে নিন, পনীরের স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে –

  • প্রোটিনের খুব ভাল উৎসঃ

শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এক পুষ্টি উপাদান হল প্রোটিন । প্রোটিন কেবল শরীরে শক্তি দেয় না, পেশীগুলির সুগঠন এবং কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, প্রোটিন ওজন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে, একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সম্পর্কে কথা বলতে গেলে, প্রথমেই পনীরের নাম উঠে আসে। পনীর প্রোটিনের একটি ভাল উৎস। (১) শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকেরই দেহে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহের জন্য পনীর খাওয়া দরকার।

  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পনীরের ভূমিকাঃ

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দুশ্চিন্তা, মাত্রারিক্ত স্ট্রেস বা চিন্তা-র কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আজকাল সাধারণভাবে অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। উচ্চ রক্তচাপ থেকে সৃষ্টি হয় আরোও নানান রকম জটিল শারীরিক সমস্যা। এ জাতীয় পরিস্থিতিতে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়েটের বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। আপনিও যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন তবে আপনার ডায়েটে নিশ্চিন্তে পনীরকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। কম ফ্যাটযুক্ত হওয়ায় এটি রক্তচাপের রোগীদের জন্য পনীর একেবারেই নিরাপদ। এমনকী, উচ্চ রক্তচাপের ফলে হতে পারে এরকম জটিল সব শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিও হ্রাস করতে পারে পনীর। (২) মনে রাখবেন যে, পনীর খাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের তাদের ওষুধগুলি নিয়মিত খাওয়া উচিত।

  • দাঁত এবং হাড় মজুবত করতে পনীরের ভূমিকাঃ

দাঁত এবং হাড়ের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা বয়সের সাথে দুর্বল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে দাঁত ও হাড়কে সুস্থ রাখতে ক্যালসিয়াম একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। তাই, রজকার ডায়েটে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরী। ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারগুলির মধ্যে প্রথম নামটি দুগ্ধজাত পণ্য থেকেই আসে। পনীরও এর অন্যথা নয়। পনীরকে ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাই, ডায়েটে পনীর যুক্ত করে আপনার দাঁত এবং হাড়কে স্বাস্থ্যকর ও মজবুত রাখতে পারেন।

অস্টিওপোরোসিস চিকিৎসাকেও সহায়তা করতে পারে। এবং ক্যালসিয়াম ছাড়াও পনীর আপনার শরীরে ফসফরাসের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে।(৩) উভয় খনিজই হাইড্রোক্সিপ্যাটাইট তৈরি করে – যা হাড়ের ঘনত্বকে সঠিক মাত্রায় বজায় রাখে। বেশ কয়েকটি গবেষণা দেখায় যে কীভাবে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস উভয়ের অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।

পনীরে দেহের ক্যালসিয়াম এর চাহিদা পূরণ করে ফলে অকালে দাঁত পড়ে যাবার ভয় থাকে না। দাঁতের দাঁতের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি মাড়ি এবং মুখের অনেক রকম সমস্যা দূর করে।

  • হজমশক্তি বৃদ্ধিতে পনীরের ভূমিকাঃ

পনীর আশ্চর্যজনকভাবে অম্বলের সমস্যাকে কম করতে পারে এবং পেটের যে কোনোরকম সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। পনীরে আছে ফসফরাস, যা হজমে সাহায্য করে এমন অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে, খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়।

এছাড়াও, পনীর হ’ল ল্যাক্টোব্যাকিলাস প্রোবায়োটিকের একটি ভাল উৎস। খাবার হজম করতে সমস্যা হলে, তা নিরাময়ের জন্য অনেক সময় প্রোবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। এই প্রোবায়োটিকগুলি হ’ল এক ধরণের অণুজীব। এতে ল্যাক্টোব্যাকিলাস নামে এক ধরনের ব্যাকটিরিয়া থাকে – যা হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেটে বা অন্ত্রে জ্বালা-পোড়ার মতো অন্যান্য হজম সম্পর্কিত সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করতে পারে। (৪)

তাই, হজমশক্তির উন্নতির জন্য ডায়েটে পনীর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। মনে রাখবেন, যদি আপনার ল্যাকটোজ (অর্থাৎ ল্যাকটোজ) থেকে অ্যালার্জি হয় তবে পনীর খাবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন।

  • ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য পনীরের উপকারিতাঃ

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডায়েট চার্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিসে ডায়েট নিয়েও যদি অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে,  ডায়াবেটিস রোগীরা নির্বিঘ্নে তাদের খাদ্যতালিকায় পনীর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এমনকী, ডায়াবেটিস এবং করোনারি হৃদরোগের রোগীদের অনেকক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা পনীর খেতে পরামর্শ দিয়েও থাকেন। কারণ, পনীর হল লো-ফ্যাটযুক্ত একটি খাবার যা আবার প্রোটিনেরও খুব ভাল উত্স। আর প্রোটিন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান।

আগেই বলেছি যে, পনীর ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর খুব ভাল উৎস – যা ডায়াবেটিসের চিকিত্সার জন্য একটি শক্তিশালী সমন্বয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে মহিলারা যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত মাত্রায় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি (1,200 মিলিগ্রাম এবং 800 আইইউ) গ্রহণ করেন তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল 33% কম।

এমন পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য পনীর একটি ভাল এবং সুস্বাদু বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ডায়াবেটিকের পাশাপাশি, পনীর স্থূলত্বের ঝুঁকিও হ্রাস করতে পারে। শিধুদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য তাদের ডায়েটে দুগ্ধজাত পণ্যের অন্তর্ভুক্তি তাদের মধ্যে স্থূলত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে দুগ্ধজাত পণ্য হিসেবে পনীরকে এগিয়ে রাখা যায়। (৫)

  • পেশীর গঠনে পনীরের ভূমিকাঃ

পেশীর সুগঠনে পনীর খুব উপকারী। কারণ, পনীরের মধ্যে কেসিন প্রোটিন রয়েছে – যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং শরীরকে গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে। এবং পনীর মধ্যে থাকা রাইবোফ্লাভিন প্রোটিন বিপাক করতেও সহায়তা করে।

বডি বিল্ডারদের ক্ষেত্রে, পনীর খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পনীর পেশি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অনেকটাই সরবরাহ করতে পারে। আবার, হাড়ও মজবুত করে। পনীরে রয়েছে সোডিয়াম যা মাসল ক্র্যাম্প বা পেশীর ব্যাথা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, সোডিয়াম দেহে তরলের ব আ বডি ফ্লুইডের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পেশীকে শক্তিশালী করে তোলে এবং সচল রাখে।

  • অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে পনীরঃ

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি ফ্রি র‍্যাডিক্যালসের প্রভাব হ্রাস করতে সাহায্য করে। ডায়েটে পনীরের মত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে অনেক রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। (৬)

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে পনীরের ভূমিকাঃ

কেউ যদি ওজন হ্রাস করতে চান তবে তাদের ডায়েটে পনীর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। কারণ, একদিকে পনীর অত্যন্ত লো-ফ্যাটযুক্ত একটি খাবার। অপরদিকে, পনীর আপনার পেট ভরিয়ে রাখবে দীর্ঘক্ষণ, ফলে বারবার খেতে হবে না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এতে লাইনোলেইক অ্যাসিড নামে একটি বিশেষ উপাদানও রয়েছে যা চর্বি ঝড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

আপনি যদি কেটো ডায়েটে থাকেন তবে লো-ফ্যাটযুক্ত খাবার নিশ্চয়ই আপনার প্রাথমিক পছন্দ। এক্ষেত্রে, পনীরের নাম আপনার খাদ্যতালিকায় একদম প্রথমেই আসতে পারে।  নাম থেকেই বোঝা যায়, কেটো ডায়েট হ’ল কেটোসিস অর্জন – অর্থাৎ এটি এমন এক ঘটনা যেখানে আপনার শরীর গ্লাইকোজেন বা কার্বসের পরিবর্তে শক্তির জন্য ফ্যাট ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়াটি ওজন হ্রাসের জন্য দুর্দান্ত কাজ করে এবং বেশ কয়েকটি রোগের ঝুঁকিও হ্রাস করে।

  • প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক এর উৎস পনীরঃ

পনীরের মতো ফার্মেন্টেড খাবারগুলি উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াও সরবরাহ করে, যা হজম শক্তি বাড়িয়ে তোলে। প্রোবায়োটিক হল একধরণের উপকারী ব্যকটেরিয়া যা খাবার হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বা গ্যাস অম্বলের মত সমস্যা দূর করে। এমনকী, প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক এর উৎস হিসাবে পনীর পরিপাকতন্ত্রের যে কোনোরকম ক্যান্সারও প্রতিরোধ করতে পারে।

  • হতাশা দূর করতে পনীরের ভূমিকাঃ

আপনার খাদ্যাভ্যাস আপনার মন-মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। আপনি যদি ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটি, ঘন ঘন মুড সুইং এর মত সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে কোনো কাজ করার উৎসাহ বোধ করবেন না, শক্তি পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এরম অবস্থায়, দেহে শক্তি সঞ্চয় করে এরকম প্রোটিন, ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাবার খাওওয়া অত্যন্ত জরুরী। এক্ষেত্রে, পনীর-এর থেকে ভাল খাবার আর হতেই পারে না।

এছাড়াও, ত্রিটোফান নামে একটি প্রোটিন পনীর মধ্যে পাওয়া যায়, যা সেরোটোনিন নামক রাসায়নিকে পরিণত হয়। এটি কোনও ব্যক্তির মেজাজ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, যা কেবলমাত্র খাবার থেকে পাওয়া যায়। (৭) তাই, আজ থেকেই পনীর খাবার অভ্যাস শুরু করুন।

  • ওমেগা–3  ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-D এবং ভিটামিন-K2 সমৃদ্ধ পনীরঃ

পনীর ভিটামিন-ডি এবং ভিটামিন-কে এর একটি ভালো উৎস। (৮) এই দুটি ভিটামিন হাড়ের জন্য অন্যতম উপকারী পুষ্টির যোগান দেয় এবং হাড় শক্ত করে। ভিটামিন-ডি দেহে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। একই সাথে, ভিটামিন-কে শরীরে প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যাতে হাড় এবং পেশী সুস্থ থাকতে পারে।

এছাড়াও, পনীরে রয়েছে ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ওমেগা 6 ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রিউম্যাটয়েড বাতের (rheumatoid arthritis) সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে। এই প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি প্রাক জন্মকালীন ত্রুটির (preterm birth defects) ঝুঁকি প্রতিরোধ করে।শিশুদের ক্ষেত্রে ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • দেহকে ডিটক্স করার জন্যঃ

পনীরে ফসফরাসও থাকে। ফসফরাস শরীরকে ডিটক্সাইফাই করতে সাহায্য করে।  আমরা ইতিমধ্যে উপরে জানিয়েছি যে পনীর মধ্যে প্রোবায়োটিক রয়েছে অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর ব্যাকটিরিয়া রয়েছে, যা অন্ত্রগুলি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে, এবং শরীর থেকে দূষিত, ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ দূর করে। যদিও, পনীরের এই ডিটক্সিফিকেশন ক্ষমতার ব্যাপারে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

  • আর্থারাইটিস বা বাত দূর করতে পনীরের ভূমিকাঃ

বাত হাড় সম্পর্কিত একটি রোগ যা প্রদাহ এবং বার্ধক্যজনিত কারণে হতে পারে। এর অনেক ধরণ রয়েছে যেমন- অস্টিওআর্থারাইটিস এবং রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস। ক্যালসিয়ামের অভাব বাত হতে পারে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে কেউ দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে বাতের প্রকোপ কমতে পারে সাথে বাত প্রতিরোধও করে। (৯) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পনীর এক্ষেত্রে একটি ভাল বিকল্প হতে পারে, তবে কোন সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা উপলব্ধ নেই এই মুহূর্তে। এছাড়াও, পনীরে উপস্থিত ওমেগা-3 এবং ওমেগা-6 এর মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহে বিভিন্ন জয়েন্টের সচলতা বৃদ্ধি করে, বাতের ব্যাথা কমাতে পারে।

বাতের ক্ষেত্রে দুধ বা দুধ সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কেও কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এগুলিকে এমন খাবার হিসাবেও শ্রেণীবদ্ধ করা হয় যা থেকে ব্যাথা বাড়তে পারে। এছাড়াও, এটি ব্যক্তির বাতের তীব্রতার উপর নির্ভর করে যে তাদের দুগ্ধযুক্ত খাবার খাওয়া ঠিক হবে কিনা। এমন পরিস্থিতিতে, বাত থাকলে পনীর খাওয়া শুরু করার আগে এ  সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল। তবে, সুস্থ ব্যক্তি ক্যালশিয়ামের অভাব দূর করে আর্থারাইটিস প্রতিরোধ করতে আজ থেকে পনীর খাওয়া শুরু করতেই পারেন।

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পনীরঃ

প্রোটিন কেবল পেশীগুলির জন্যই উপকারী নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ক্ষেত্রে, যাদের অনাক্রম্যতা কম, তারা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তাদের ডায়েটে প্রোটিন সমৃদ্ধ পনীর যোগ করতে পারেন। (১০) এছাড়াও, পনীরে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা দেহের বিভিন্ন উপকারী এনজাইমগুলি সক্রিয় করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে।

  • গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী পনীরঃ

প্রোটিন, ভিটামিন বি 12, ডায়েটরি ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস –এর মতো পুষ্টি উপাদান গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।পনীরে যে এসব পুষ্টি উপাদান আছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং, এক্ষেত্রে পুষ্টিকর পনীর খাওয়া গর্ভবতী মহিলাদের জন্য খুব উপকারী (১১)

বিশেষত, গর্ভাবস্থায় মায়েদের শারীরিক গঠনে অনেক বদল ঘটে। ভাবী মায়েদের শরীর সুস্থ রাখতে এই সময় ফোলেট নামক এক বিশেষ  উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফোলেট দেহে লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। পনীরে থাকা ফোলেট গর্ভাবস্থায় মহিলাদের দেহে ফোলেটের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করতে পারে।

তবে পনীর কেনার আগে নিশ্চিন্ত হয়ে নেবেন যে, পনীরটি পেস্টিউরাইজড মিল্ক থেকে তৈরি। কারণ, আনপাস্তুরাইজ দুধ থেকে তৈরী করা পনীরে এমন অনেক ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া থাকে, যা গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত করতে পারে।

  • উজ্জ্বল স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে খান পনীরঃ

স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য অনেক ধরণের পুষ্টি প্রয়োজন। এই পুষ্টিগুলির মধ্যে অন্যতম হ’ল ভিটামিন-এ – যা পনীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও, পনীর বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি বিলম্ব করতে পারে এবং ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। পনীরে সেলেনিয়াম নামক এক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে, যা ত্বককে উজ্জ্বল, দিপ্তীময় এবং টানটান রাখতে সাহায্য করে। (১২) এছাড়াও, পনীরে ভিটামিন ই এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি থাকে যা ফ্রি র‍্যাডিক্যালগুলির সাথে লড়াই করে এবং আপনাকে স্বাস্থ্যকর ত্বক দেয়।

কোলাজেন তৈরি করতে ত্বকেরও অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোলিন প্রয়োজন। আর এই পনীর প্রলিনের ও একটি ভাল উৎস, এবং তাই পনীর কোলাজেন উৎপাদনকেও সহায়তা করে।

  • চুল পড়ার সমস্যা প্রতিরোধে পনীরের কার্যকারিতাঃ

চুল পড়ার সমস্যা কম বেশী প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তিরই হয়। তবে মেনোপজের সময় মহিলাদের চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায় অনেকক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে অ্যামিনো অ্যাসিডযুক্ত খাবার চুলের জন্য খুব উপকারী। ডায়েটে অ্যামিনো অ্যাসিডযুক্ত পনীর যোগ করলে আপনার চুল মজবুত হবে, চুলের গোড়া শক্ত হবে এবং চুল পড়ার সমস্যা কমবে। এর পাশাপাশি পনীরে প্রোটিনও রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং চুলের জন্য খুব উপকারী এক পুষ্টি উপাদান।

  •  ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে পনীরের ভূমিকাঃ

ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ। ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য ডায়েট খুব গুরুত্বপূর্ণ। এনসিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ডায়েটে পনীর এবং শ্লেষের বীজের তেল রাখলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যেতে পারে। পনীরে থাকা ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়াম ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

পনীর জনপ্রিয় বুডভিগ ডায়েটে (Budwig diet) ব্যবহৃত হয়, যা ক্যান্সারের অন্যতম সেরা ডায়েট। স্তন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করা মহিলাদের মধ্যে এই ডায়েট সুপরিচিত এবং এর যথেষ্ট কার্যকারীতাও রয়েছে। এছাড়াও, পনীরের পুষ্টিগুণ বিচার করলে দেখা যায়, পনীর সালফার, প্রোটিন, কিছু স্বাস্থ্যকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ভিটামিন-বি, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং সেলেনিয়ামের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দ্বারা পূর্ণ।

যদিও এই মুহুর্তে, পনীরের মাধ্যমে এই ক্যান্সার প্রতিরোধের ব্যাপারে আরও অধ্যয়ন প্রয়োজন, তবে পনীরকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতেই পারে। এছাড়াও, কোনও ঘরোয়া প্রতিকার দিয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। অতএব, কেউ যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তবে তাকে চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করাই উচিত।

প্রোটিন সমৃদ্ধ পনীর যেমন দৈহিক প্রোটিন চাহিদার অনেকটা পূরণ করতে পারে তেমনি এতে লুকিয়ে রয়েছে আরোও অনেক স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান যার দ্বারা অনেক রোগ প্রতিরোধ করা যায় সহজেই। যেমন- পনীর মধ্যে ভিটামিন বি 12 রয়েছে যা হোমোসিস্টাইন (homocysteine) অতিরিক্ত মাত্রা কমায়। অতিরিক্ত হোমোসিস্টাইন হার্টের এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যাগুলির কারণ হতে পারে, যা পনীর প্রতিরোধ করতে পারে।

দ্রষ্টব্যঃ এই নিবন্ধে পনীরের অনেকগুলি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যার অনেকগুলিরই এখনও কোনও স্টহিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই সুবিধাগুলি পনীরের পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। অর্থাৎ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে বা নির্দিষ্ট কিছু রোগ প্রতিরোধে যা যা পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন, তা পনীরের মধ্যে থাকলে ধরে নেওয়াই যায় সেইসব রোগ প্রতিরোধে পনীর সাহায্য করবে।

এখন জেনে নিন পনীরের উপস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলির সম্পর্কে।

  • পনীরের পুষ্টিগুণঃ

পনীরে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং রাইবোফ্লেবিন এর মত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং কার্যকারীতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রোতিনে ভরপুর পনীর শরীরে যাতে এনার্জির ঘাটতি না হয়, এব্যাপারেও খেয়াল রাখে বেশ। এছাড়াও, পনীরে থিয়ামিন, নিয়াসিন, ফলেট এবং প্যানটোথেনিক অ্যাসিড এর মত বিশেষ কিছু উপাদানের উপস্থিতি আছে। এই পুষ্টি উাপাদানগুলি রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে, বাজে কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে, হার্টের কার্যকারিতা সঠিকভাবে বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিনের পাশাপাশি, শরীর সুস্থ রাখতে অত্যাবশ্যকীয় সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাসের মত এমন অনেক খনিজ উপাদানও রয়েছে এতে। সাধারণত যেসব খনিজ উপাদানগুলির উপস্থিতি রয়েছে পনীরে, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল পটাশিয়াম। এই খনিজটি অক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।(১৩) স্ট্রেস বা মানসিক চাপ এবং অ্যাংজাইটি কমাতেও এই খনিজটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আবার, ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের খেয়াল রাখে, জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়াম রোগ প্রতিরোধ করে এমন এজাইমগুলির কার্যকারিতা এবং ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।

আসুন, জেনে নেওয়া যাক পনীরে কী কী পুষ্টি উপাদান কী পরিমাণে আছে –

পুষ্টি উপাদান

পরিবেশন–  ২২৬গ্রাম

উপাদানসার্ভিং সাইজ

অনুযায়ী পরিমাণ

দৈনিক চাহিদার

শতাংশ

ক্যালোরি১৬৩ গ্রাম২০%
মোট ফ্যাট২ গ্রাম৪%
মোট স্যাচুরেটেড ফ্যাট১ গ্রাম৭%
কোলেস্টেরল৯ মিলিগ্রাম৩%
সোডিয়াম৯১৮ মিলিগ্রাম৩৮%
মোট কার্বোহাইড্রেট৬ গ্রাম২%
ফাইবার০ গ্রাম০%
শর্করা৬ গ্রাম
প্রোটিন২৮ গ্রাম
ভিটামিন ে২%
ভিটামিন সি০%
ক্যালসিয়াম১৪%
আয়রণ২%
প্রাপ্ত ক্যালোরি
উপাদানসার্ভিং সাইজ

অনুযায়ী পরিমাণ

দৈনিক চাহিদার

শতাংশ

ক্যালোরি থেকে১৬৩(৬৮২ kJ)৮%
কার্বোহাইড্রেট থেকে২২.৯ (৯৫.৯ kJ)
ফ্যাট থেকে২০.৩ (৮৫.০ kJ)
প্রোটিন থেকে১২০(৫০২ kJ)
প্রোটিন এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড
উপাদানসার্ভিং সাইজ

অনুযায়ী পরিমাণ

দৈনিক চাহিদার

শতাংশ

প্রোটিন২৮.০ গ্রাম৫৬%
ভিটামিন
উপাদানসার্ভিং সাইজ

অনুযায়ী পরিমাণ

দৈনিক চাহিদার

শতাংশ

ভিটামিন-এ৯২.৭ IU২%
ভিটামিন সি০.০ মিলিগ্রাম০%
ভিটামিন ডি
ভিটামিন-ই (Alpha Tocopherol)০.০ মিলিগ্রাম০%
ভিটামিন-কে০.২ মিলিগ্রাম০%
থিয়ামিন (Thiamin)০.০ মিলিগ্রাম৩%
রাইবোফ্ল্যাভিন (Riboflavin)০.৪ মিলিগ্রাম২২%
নিয়াসিন (Niacin)০.৩ মিলিগ্রাম১%
ভিটামিন বি৬০.২ মিলিগ্রাম৮%
ফোলেট (Folate)২৭.১ মাইক্রোগ্রাম৭%
ভিটামিন বি-১২১.৪ মাইক্রোগ্রাম২৪%
অ্যান্টোথ্যানিক অ্যাসিড (antothenic Acid)০.৫ মিলিগ্রাম৫%
কোলিন (Choline)৩৯.৫ মিলিগ্রাম
বেটাইন (Betaine)
খনিজ উপাদান
উপাদানসার্ভিং সাইজ

অনুযায়ী পরিমাণ

দৈনিক চাহিদার

শতাংশ

ক্যালসিয়াম১৩৮ মিলিগ্রাম১৪%
আয়রণ০.৩ মিলিগ্রাম২%
ম্যাগনেসিয়াম১১.৩ মিলিগ্রাম৩%
ফসফরাস৩০৩ মিলিগ্রাম৩০%
পটাসিয়াম১৯৪ মিলিগ্রাম৬%
সোডিয়াম৯১৮ মিলিগ্রাম৩৮%
জিঙ্ক০.৯ মিলিগ্রাম৬%
কপার০.১ মিলিগ্রাম৩%
ম্যাঙ্গানিজ০.০ মিলিগ্রাম০%
সেলেনিয়াম২০.৩ মাইক্রোগ্রাম২৯%
ফ্লুরাইড৭১.৪ মাইক্রোগ্রাম
  • ঘরে পনীর কীভাবে তৈরী করবেন ?

কী ভাবছেন, পনীর তৈরি প্রচণ্ড ঝকমারি কাজ? একদম না, ঘরে অতি সহজেই পনীর বানাতে পারবেন আপনিও। জেনে নিন কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে দুধ থেকে পনীর তৈরি করবেন:

  • উপাদানঃ
  • এক থেকে দুই লিটার দুধ
  • দুটি লেবু
  • একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়
  • কীভাবে দুধ থেকে পনীর তৈরি করবেনঃ
  • প্রথমে একটি পাত্রে দুই লিটার দুধ রাখুন।
  •  তারপরে এটি গ্যাসে গরম করার জন্য দুধের পাত্রটি বসান।
  • দুধ গরম হতে শুরু করলে গ্যাসের আঁচ কমিয়ে তাতে লেবুর রস দিন।
  • তারপরে যখন দুধ কেটে গিয়ে এবং জল আলাদা হয়ে উপরে উঠে আসলে, গ্যাসটি বন্ধ করুন।
  • এবার একটি পরিষ্কার পাত্রে পরিষ্কার সুতির কাপড় রাখুন।
  • তারপরে সেই কাপড়ে জল সমেত ছানাকাটানো পনীরটি রেখে ভালো করে ফিল্টার করুন।
  •  লেবুর কারণে পনীরের মধ্যে টক জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে, এক্ষেত্রে ফিল্টার করা পনীরের সাথে এক থেকে দুই গ্লাস জল মিশিয়ে টক ভাব ধুয়ে ফেলুন এবং পুনরায় ছেঁকে জল ঝরিয়ে নিন।
  • এবার একটি কাপড়ে পনীর ভাল করে চেপে গোল করে  কাপড়ের মধ্যে গিঁট দিয়ে নিন।
  • তারপরে একটি পরিষ্কার প্লেট নিন এবং এটিতে পনীরটি বেঁধে রাখুন এবং এর উপরে অন্য একটি প্লেট রেখে তার ওপর ভারী কোনো বস্তু চাপা দিয়ে রাখুন।
  • কমপক্ষে আধা ঘন্টা এভাবেই রেখে দিন।
  • যদি ইচ্ছা হয় তবে হাতে হাতে চেপে পনীর থেকে একেবারেই জল ঝরিয়ে নিতে পারেন।
  • কমপক্ষে আধা ঘন্টা ভারী পনীরটিকে এভাবে ভারী বস্তুর মাধ্যমে চাপা দিয়ে রাখার পর কাপড় খুলে আলাদা পাত্রে পনীরটি বের করে নিন।

এভাবেই ঘরে বসে স্বাস্থ্যকর পনীর তৈরি কর নিতে পারেন আপনিও।

  • আপনার ডায়েটে পনীর কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন?

ঘরে বসে কীভাবে পনীর তৈরি করবেন তা তো জানলেন। এখন জেনে নিন কীভাবে এই পুষ্টিকর পনীরকে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করবেন।

  • কাঁচা পনীরের উপর হালকা কালো নুন নিয়ে কাঁচা পারেন, ভালোই লাগবে।
  • অনেক ধরণের শাক সবজি সহযোগে পনীরের নানান রকম পদ যেমন পালং শাক, শাহী পনীর এবং মালাই পনীর বানিয়ে খেতে পারেন।
  • আপনি পনীর ভুরজি বানিয়ে খেতে পারেন।
  • পনীর টিক্কা স্বাস্থ্যকর জলখাবার হিসাবে খাওয়া যেতে পারে।
  • স্যান্ডউইচে পনীর ব্যবহার করতে পারেন।
  • পনীর রোল তৈরি করে খাওয়া যায়।
  • ফ্রুট স্যালাডে পনীর যোগ করতে পারেন।
  • পনীর দিয়ে স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন।
  • প্যানকেকের ব্যাটারে চিজের পরিবর্তে পনীর যোগ করতে পারেন, চিজের সেই ক্রিমি টেক্সচার আর স্বাদ পাবেন।
  • পাস্তার মধ্যে পনীর যোগ করতে পারেন।
  • কীভাবে পনীর সংরক্ষণ করবেন?

এখন জেনে নিন, কত দিন পর্যন্ত এবং কীভাবে পনীর সংরক্ষণ করবেন –

  • পনীর বানানোর পর পনীরগুলো একটি প্লাস্টিকের এয়ার টাইট বাক্সে ঢেলে নিন।
  • এখন এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল যোগ নিয়ে পনীরগুলিকে সম্পূর্ণ জলে ডুবিয়ে রাখুন।
  • তারপরে, পাত্রের ঢাকনাটি চেপে বন্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিন।
  • পনীর কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
  • আপনি যদি বাজার থেকে পনীর কিনে থাকেন তবে তার উৎপাদন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখটি পরীক্ষা করে তারপরেই কিনুন।
  • তারপরে পনীরের প্যাকেটটি না খুলে ফ্রিজে রেখে দিন।
  • সবসময় ফ্রিজের ভিতরে পারলে ডিপ ফ্রিজে পনীরটি রাখুন, যাতে বার বার ফ্রিজ খোলার কারণে তাপমাত্রা পরিবর্তন হয় যাতে পনীর প্রভাব না পড়ে।
  • বাজারের পনীরটি মেয়াদ শেষ না হওয়া অবধি খোলা ছাড়াই ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
  • বিপণনকৃত পনীরের এক্সপায়ারি ডেটের একদিন আগে পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তৈরি হবার পর সাধারণত পনীর ছ-সাত দিন ভাল থাকে।
  • পনীরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ

পনীরে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রকমের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান আছে ঠিকই। তবে, যথাযথ উপকারিতা পেতে হলে পরিমিত পরিমাণেই পনীর খাওয়া উচিৎ।পনীর এর যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু অপকারিতাও। তাই অতিরিক্ত পনীর খাবার ফলে কিছু শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

নিবন্ধের এই বিভাগে পনীরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানুন সবিস্তারে –

  • যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স – এর সমস্যা আছে, অর্থাৎ দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া যাদের সহ্য হয় না তাদের ক্ষেত্রে পনীর খাবার পর অ্যালার্জি বা আনুষঙ্গিক বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।(১৪) যদিও পনীরে খুব অল্প পরিমাণে ল্যাকটোজ রয়েছে। তবে, সাবধানের জন্য কম খাওয়াই ভাল। কিংবা, পনীর খাবার আগে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিৎ।
  •  পনীর প্রোটিনের একটি ভাল উৎস, তাই প্রোটিন বেশি পরিমাণে গ্রহণের ফলে বমিভাব, মাথাব্যথা, ক্ষুধা হ্রাস এবং ক্লান্তির সমস্যা হতে পারে।
  • পনীরে যথেষ্ট পরিমাণে সোডিয়াম রয়েছে। মাত্রারিক্ত পনীর খেলে দেহে সোডিয়ামের পরিমান বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা হার্টের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে।
  • সাধারণত, পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষ একটি ছোট বাটি ভর্তি পনীর অর্থৎ ২৫ গ্রাম পর্যন্ত পনীর এক দিনে খেতে পারেন।  যদিও,কতটা খাওয়া নিরাপদ এটি ব্যক্তির বয়স এবং শারীরিক অবস্থার উপরও নির্ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে আপনারা একজন চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করা ভাল।

মাছ মাংস খান না এমন অনেকেরই দুধ বা দইয়ের প্রতিও অরুচি রয়েছে। তারা শরীরকে সুস্থসবল, চনমনে ও এনার্জিতে ভরপুর রাখতে পালং পনীর, শাহি পনীর, মটর পনীর বা পনীর মাখনির মত জিভে জল আনা সব পদ ডায়েটে রাখতে ভুলবেন না যেন। পনীর কেবল সুস্বাদু খাবারই নয়, সাথে অনেক উপকারীও। সেই ৭০ এর দশক থেকে পনীর খাবার চল আছে। তবে, এর স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে হয়ত অনেকেই সচেতন ছিলেন না। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার ক্ষেত্রেই পনীর খাওয়া নিরাপদ এবং উপকারী। এমনকী, পোষ্য অর্থাৎ কুকুরকেও দেওয়া যেতে পারে পনীর যদিনা তার হজমের কোনোরকম সমস্যা দেখা দেয়।

কেউ যদি বাজারের পনীর খেতে না চান, তাদের জন্য ঘরোয়া উপায়ে দুধ থেকে পনীর তৈরির পদ্ধতিও বর্ণনা করা হয়েছে এই নিবন্ধে। পনীর বানানোর এই রেসিপিটি পড়ে আপনি সহজেই বাড়িতে পনীর তৈরি করতে পারেন। তবে,  পনীরের উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতার দিকেও নজর রাখবেন অবশ্যই।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী –

প্রতিদিন কি পনীর খাওয়া যায়?

না, প্রতিদিন পনীর খাবেন না। পনীর অতিরিক্ত খেলে বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা যেতে পারে। পনীরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে ওপরে আলোচনা করা হয়েছে। তবে, মাছ মাংস ডিম খান না এরককম একেবারেই নিরামিষাশী ব্যক্তিরা দৈহিক প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে প্রত্যেকদিন পনীরের কোনো পদ রাখতেই পারেন ডায়েটে। প্রোটিন ছাড়াও, আনুষঙ্গিক ভিটামিন, খনিজ উপাদানও যে পনীরে যা শরীর ও মনকে সুস্থ-সবল এবং তরতাজা প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

ডায়েটে পনীর অন্তর্ভুক্ত করা কি স্বাস্থ্যকর?

হ্যাঁ, পনীর একটি পুষ্টিকর, উচ্চ প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ  একটি খাবার। সুতরাং, ডায়েটে পনীরের অন্তর্ভুক্তিকরণ এর ব্যাপারে দ্বিমত রাখার অবকাশ নেই।

পনীরের মধ্যে কি ফ্যাট থাকে?

হ্যাঁ, পনীরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি এবং প্রোটিন থাকে। তবে, লো-ফ্যাটযুক্ত পনীর খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে না। তবে কতটা পরিমানে পনীর খাওয়া নিরাপদ তা  ব্যক্তির বর্তমান ওজন এবং শারীরিক অবস্থার উপরও নির্ভর করে।

পনীর এবং সাধারণ পনীরের মধ্যে ভাল কোনটি?

উভয়ই স্ব স্ব স্থানে স্বাস্থ্যকর এবং উভয়েরই ভিন্ন ভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। এটি নির্ভর করে যে ব্যক্তি সে গ্রহণ করতে চায় তার প্রয়োজন এবং স্বাস্থ্যের স্থিতির উপর।

কোন ধরণের পনীর খাওয়া স্বাস্থ্যকর?

কম ফ্যাটযুক্ত পনীর খাওয়া স্বাস্থ্যকর। তবে পেস্টিউরাইজড মিল্ক থেকে তৈরি পনীর কেনার চেষ্টা করবেন। আনপেস্টিউরাইজ দুধ থেকে তৈরী করা পনীরে এমন অনেক ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া থাকে, যা গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত করতে পারে।

পনীরের একটি ভাল বিকল্প কী?

সাধারণ গ্রীক দই বা Plain Greek yogurt -কে পনীরের একটি ভাল বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এছাড়াও, পুষ্টিগুণের নিরিখে, অন্যান্য অনেক খাবার পনীরের বিকল্প হিসাবেও খাওয়া যেতে পারে, যেমন ডিমের সাদা অংশ, টোফু, দই, রিকোটা পনীর।

পনীর না দই – কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

উভয়ই ভাল এবং উভয়েরই নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে। যদিও Plain Greek yogurt -এ কম পরিমাণে ফ্যাট অ ক্যালরি থাকে, প্রটিনের পরিমাণও কম এতে। তবে, প্রোবায়োটিকস-এর ব্যাপারে Plain Greek yogurt বেশ কিছুটা এগিয়ে পনীরের থেকে। এমনকি, এটি পনীরের থেকে সহজ পাচ্যও।

তবে, মনে রাখবেন যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সমস্যায় ভুগছেন তাদের সাবধানতার সাথে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেবার পরি পনীর বা দই খাওয়া উচিৎ।

14 sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch