পিচ ফলের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – Peach (Aadu fruit) Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

by

পিচ এই নামটির সঙ্গে অনেকে পরিচিত, অনেকে আবার নন। পিচ ফল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই এটি সুস্বাস্থ্যকর। ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ফলটি মূলত উত্তর-পশ্চিম চিনের, তবে এর নানা গুণের জন্য এদেশেও প্রসিদ্ধ। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রুনাস পার্সিকা। আমাদের এই প্রতিবেদনে পিচ ফলের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

পিচ কী আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর?

সুগন্ধযুক্ত এই ফল দেখতে যেমন  সুন্দর এবং খেতেও সুস্বাদু। ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়োফ্লাভোনয়েডস উপাদান সমৃদ্ধ এই ফলের উপকারিতা অনেক। শরীরের জন্যও যেমন উপকারী, রূপচর্চায়ও এর জুরি মেলা ভার। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রতিদিন ডায়েটে রাখতে পারেন এই ফল।

পিচ ফলের স্বাস্থ্যগুণ

স্বাদ ও গন্ধ ছাড়াও পিচ ফল প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। যা শরীরের জন্য সুস্বাস্থ্যকর। পিচ ফলের কী কী স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে জেনে নিন –

১. ওজন কমায়

শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে কমলা-হলুদ রঙের এই ফল দারুণ কার্যকরী। পিচ ফল ফাইবারের অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস, আর ফাইবার ওজন কমাতে সাহায্য করে (১)। দিনে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করলে লক্ষ্যনীয়ভাবে ওজন কমায়। সেইসঙ্গে কোলেস্টেরল, ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও নিয়মিত ফাইবার গ্রহণের আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে (২)। ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এই ফল ডিটক্স করতে এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।

২. ক্যানসার প্রতিরোধ করে

পরীক্ষায় দেখা গেছে, পিচ ফল স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে (৩)। পাশাপাশি এটি মানুষের শরীরে কোলন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে (৪)

একটি সুইডিশ গবেষণায় দেখা গেছে, পিচের মধ্যে উপস্থিত ক্যাফিক অ্যাসিড স্তন ও কোলন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ক্যানসারের বৃদ্ধি হ্রাস করে (৫),(৬)। অন্য  একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, পিচের মধ্যে উপস্থিত উপাদানগুলি কেবল স্তন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় না, এটি ফুসফুসের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে (৭)

পিচের দুটি প্রধান উপাদান ক্লোরোজেনিক এবং নিয়োক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ক্যানসার কোষগুলিকে মেরে ফেলে শরীরের কোনওরকম ক্ষতি ছাড়ায়।

৩. দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

এই ফলে লুটেইন এবং জেক্সানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফাইটোনিউট্রেয়েন্টের উপস্থিতি চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে (৮)। অন্য একটি পরীক্ষায় বলা হয়েছে এই দুটি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রেটিনার আঘাতের কারণে চোখের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে (৯)। এছাড়াও লুটেইন বয়সজনিত কারণে চোখের সমস্যা প্রতিরোধ করে (১০)

৪.হজম শক্তি বাড়ায়

পিচ ফল হজম শক্তি বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। একটি মাঝারি আকারের ফল প্রায় ২ গ্রাম ফাইবার সরবরাহ করে – যার অর্ধেক দ্রবণীয়, অন্য অর্ধেকটি অদ্রবণীয়। পেট পিচ ফল পরিষ্কার রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে (১১)

৫. কোলেস্টেরল কমায়

পিচ ফল উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

৬. মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য

পিচ ফল ফোলেটের অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস যা মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে (১২)

৭. হার্টের সুস্বাস্থ্য

নিয়মিত পিচ ফল খেলে হার্টের সমস্যা এড়াতে পারবেন। এটি উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় (১৩)

৮. স্ট্রেস কমায় কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, পিচ ফল মানসিক চাপ দূর করতে দারুণ কার্যকরী। এটি দুশ্চিন্তা মুক্ত করে (১৪)। হাঙ্গেরিতে একে “শান্তির ফল” বলা হয়।

৯. অ্যান্টি-এজিং

পিচ ফলের অন্যতম উপকারিতা হল, এটি সহজে চোখে মুখে বয়সের ছাপ ফেলতে দেয় না। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভিটামিন সি অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবে কাজ করে (১৫)

১০. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বককে সূর্য এবং দূষণ থেকে রক্ষা করে (১৬)

১১. ডিটক্স

ভিটামিন এবং মিনারেলে পরিপূর্ণ এই ফল শরীর ডিটক্স করতে এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, পিচের মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন এ, সি এবং ই ও সেলেনিয়াম, এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ডিটক্সিফিকেশন হিসেবে কাজ করে (১৭)

১২. গর্ভাবস্থায় উপকারী

গর্ভাবস্থায় অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। পিচ হল অন্যতম একটি ফাইবার সমৃদ্ধ ফল যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। পিচ হল ফলিক অ্যাসিডের অন্যতম উৎস যা শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। এটি মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি রোধ করতে সাহায্য করে (১৮)

১৩. অ্যালার্জি

পিচ অ্যালার্জির লক্ষণ হ্রাস করতে পারে। যখন আপনার দেহ কোনও অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসে তখন এটি হিস্টামিনস অথবা প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা তৈরি রাসায়নিক মুক্ত করে যা শরীরকে অ্যালার্জেন থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেথে, পিচ রক্তে হিস্টামিনসের নিঃসরণ রোধ করে এবং অ্যালার্জির লক্ষণগুলি হ্রাস করতে সাহায্য করে (১৯)

১৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

ইমিউন-বুস্টিং নিউট্রিয়েন্টস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ পিচ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি ব্যকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে (২০)

১৫. ত্বকের সুস্বাস্থ্য

পিচ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ যা ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে (২১)। ত্বক উজ্জ্বল করে ।

পিচ ফল প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা দূর করে, ত্বক উন্নত করে এবং সূর্য ও দূষণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। বার্ধক্যজনিত কারণে ত্বকে যেসকল পরিবর্তনগুলি দেখা দেয়, ভিটামিন তার পুণঃর্নিমাণ করে।

পিচ ফলের পুষ্টির মান

পিচ ফলের পুষ্টির মান নীচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল –

পুষ্টির মান

(Serving Size 175g)

Amounts per serving
%দৈনিক মূল্য**
সম্পূর্ণ ফ্যাট0g1%
স্যাচুরেটেড ফ্যাট0g0%
ট্র্যান্স ফ্যাট – –
কোলেস্টেরল0mg0%
সোডিয়াম0mg0%
সম্পূর্ণ কার্বোহাইড্রেট17g6%
ফাইবার, মোট খাদ্যতালিকা3g10%
সুগার15g –
প্রোটিন –
ভিটামিন এ –11%
ভিটামিন সি19%
ক্যালসিয়াম1%
আয়রন –2%

ক্যালোরির প্রয়োজনের ভিত্তিতে আমাদের দৈনন্দিন মানগুলি কম বা বেশি হতে পারে।

পিচ কীভাবে খাবেন

এই ফলটি বিভিন্নভাবে আপনি আপনার ডায়েটে যোগ করতে পারেন, নীচে কিছু টিপস দেওয়া হল –

  • সকালের খাবারে পিচ ফল রাখতে পারেন। এই ফলের কয়েকটা টুকরো সিরিয়াল বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • দুধের সঙ্গে পিচ মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ঘুরিয়ে নিন। এতে কলা এবং সামান্য বরফ যোগ করতে পারেন। এভাবে সুস্বাদু স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন।
  • জলের বোতলে কয়েকটা পিচ স্লাইস রেখে দিন। তারপর সেই জল খান।
  • কয়েকটা পিচ স্লাইস সামান্য গরম করে নিন এবং তাতে অল্প পরিমাণে চারুচিনি গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এভাবে চটপট বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু স্ন্যাক্স।

কিছু পিচের সাহায্যে তৈরী রেসিপি রইল

১. পিচ আইস ক্রিম

কী কী প্রয়োজন

  • ৫ml নারকেল দুধ
  • হাফ কাপ চিনি
  • এক চামচ ভেনিলা এক্সট্যাক্ট
  • এক চিমটি নুন
  • দুই থেকে তিনটে মিডিয়াম সাইজের পিচ

কীভাবে ব্যবহার করবেন 

১. পিচগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে, বাকি উপাদানগুলি একটি বাটিতে মিশিয়ে নিন।

২. ভালো করে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন।

৩. পিচগুলো মিশিয়ে আলতো করে নাড়ুন।

৪. মিশ্রণটি আইসক্রিম ফ্রিজারে ঢেলে নিন।

৫. যতক্ষণ না ভালো করে জমে যায়, ততক্ষণ ফ্রিজে রাখুন।

৬. আইসক্রিম জমে গেলে পরিবেশন করুন।

২. স্ট্রবেরি পিচ গ্রীণ স্মুদি

কী কী প্রয়োজন

  • এক কাপ পিচ ফলের টুকরো
  • এক  কাপ গোটা স্ট্রবেরি এবং ১/২ স্ট্রবেরি টুকরো
  •  দুই কাপ পালং শাক
  • হাফ কাপ পরিষ্কার জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন

১. ব্লেন্ডারে পিচ, স্ট্রবেরি এবং পালং শাক নিয়ে নিন।

২. পরিমাণ মতো জল দিন।

৩. সমস্ত উপাদানগুলি ব্লেন্ডারে ঘুরিয়ে নিন যতক্ষণ না ঘন মিশ্রণ তৈরি হচ্ছে।

৪. গ্লাসে ঢেলে নিন এবং উপর থেকে স্ট্রবেরি এবং পিচ টুকরো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

৩. টম্যাটো পিচ স্যালাড

কী কী প্রয়োজন

  • দুই কাপ ফ্রেস তুলসী পাতা
  • দুই চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল
  • নুন
  • গোলমরিচ
  • চারটে পিচ গোল করে কাটা
  • চারটে টম্যাটো গোল করে কাটা
  • এক চামচ লেবুর রস

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  •  একটি পাত্রে সামান্য জল দিয়ে গরম করে নিন।
  •  তাতে তুলসী পাতা যোগ করুন এবং ১৫ মিনিট ধরে ফোটাতে থাকুন।
  •  পাতার রং বদলে গেলে এটি ব্লেন্ডারে ঘুরিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মিশ্রণটিতে অলিভ অয়েল এবং নুন ও গোলমরিচ যোগ করুন।
  •  সার্ভিং প্লেটে মিশ্রণটি ঢেলে তার উপর পিচ ও টম্যাটোর স্লাইস রেখে উপর থেকে নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

পিচ কীভাবে বাছবেন এবং বাড়িতে অনেকদিন পর্যন্ত স্টোর করবেন

কীভাবে বাছবেন 

  • ফল বাছায়ের আগে অবশ্যই গন্ধ শুকে নিন। ভালো পিচ ফল থেকে আপনি খুব সুন্দর একটি মিষ্টি গন্ধ পাবেন।
  • হালকা সোনালী এবং হলুদ রঙের পিচ ফল বেছে নিন। লাল রং হলে যে সেটি পাকা তা কিন্তু নয়, তা অন্য জাতের।
  • পিচ খুব নরম ফল। খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কেনার সময় অবশ্যই ভালো খারাপ দেখে তবেই কিনুন।

কীভাবে স্টোর করবেন 

  • কয়েকদিন পর্যন্ত এটি ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দিতে পারেন। কাঁচা হলে তাতে পাক ধরবে।
  • পাকা পিচ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন তবে ফলটি কেনার এক সপ্তাহের মধ্যে খেয়ে ফেলুন।
  • পিচ ফলের টুকরো করে তাতে সামান্য লেুবর রস মিশিয়ে নিন, কালচে রং ধরবে না।

পিচ ফলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 

পিচ যেমন সুস্বাদু ফল তেমন এর স্বাস্থ্যগুণও অনেক। ত্বকের যত্নেও এটি দারুণ উপকারী। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে এই ফল খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

  • অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকারক : পিচ ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টাল উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি শরীরের জন্য উপকারী ঠিকই কিন্তু অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
  • অতিরিক্ত পটাসিয়াম হাইপারক্যালেমিয়ার কারণ হতে পারে : উচ্চ মাত্রায় পটাসিয়াম রক্তচাপকে বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এর থেকে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, হতাশা, ঝাপসা দৃষ্টি ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে : পিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধ করে ঠিকই কিন্তু এর উলটো টাও হতে পারে। অতিরিক্ত পিচ ফল খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
  •  খুব বেশি হাইড্রেশন ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক : পিচের মধ্যে পানীয়র পরিমাণ বেশি থাকে যা ত্বককে হাইড্রেড এবং ময়েশ্চারাইড করে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের জন্য খারাপ।
  •  নানান শারীরিক সমস্যা : পিচ ফল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী, তবে সেটি পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত পিচ খাওয়ার কারণে ফুসফুসে রক্তক্ষরণ, ঝাপসা দৃষ্টি, হাড়ের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকারক : গর্ভবতী মহিলাদের পিচ ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন অনেকে তবে বেশি খাওয়া একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। অতিমাত্রায় ফলিক অ্যাসিডের কারণে গর্ভবতী মহিলার ক্রাম্পস, ডায়ারিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি, বমি বমি ভাব, পেট খারাপ, খিঁচুনি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
  •  পেটের সমস্যা : ফাইবার সমৃদ্ধ পিচ ফলের সঠিক মাত্রায় খেলে হজমের সমস্যা দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এর থেকে ডায়ারিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ব্যথা, গ্যাস ইত্যাদি নানা সমস্যা ভোগাতে পারে।
  •  ওজন বাড়াতে পারে : শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এটি যেমন দারুণ কাজ করে, তেমনই অতিরিক্ত ব্যবহারে ওজন বাড়তেও পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

পিচের খোসা খাওয়া কি ঠিক?

হ্যাঁ, পিচ ফলের খোসা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। খোসা ছাড়ালে ফলের পুষ্টিগত মান কমে যেতে পারে।

ওজন কমানোর জন্য পিচ কী ভালো?

হ্যাঁ, পিচ শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমায়। তবে সঠিক মাত্রায় খেতে হবে, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যেতে পারে।

পিচের মধ্যে কী প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে?

পিচ মিষ্টি ধরনের ফল, তবে এতে চিনির পরিমাণ কম। একটি মাঝারি আকারের ফলে ১৩ গ্রামের কম সুগার থাকে যা অন্যান্য ফলের চেয়ে কম।

পিচ কী চুলের জন্য ভালো?

পিচে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি চুল ও স্কাল্পের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পিচ কখন খাওয়া উচিত?

ফলটি যখন গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করে, মিষ্টি গন্ধ বের হয় এবং হালকা নরম হয়, তখন বুঝতে হবে এটি পেঁকে গেছে এবং খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠেছে।

21 Reference

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch