পেপারমিন্ট অয়েলের উপকারীতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Peppermint Oil Benefits and Side Effects

by

যে কোনো ঋতুতেই পুদিনার চাটনি খাবারে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। ভারতীয় রান্নায় তো বটেই এমনকি বিদেশী খাবারেও পুদিনা বা পিপারমিন্ট ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। শুধু খাদ্যদ্রব্য বলেই নয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতিতেও পুদিনার ব্যবহার লক্ষণীয়।  তবে পুদিনা তেল স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী বলে মনে করা হয়। পুদিনা তেল আবার পিপারমেন্ট অয়েল নামেও পরিচিত। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা জানতে পারবো পুদিনা তেলের স্বাস্থ্যোযোগ কী কী, একইসাথে জানতে পারবো এই তেল ব্যবহারের ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলিই বা কী।

পুদিনা তেল আসলে কী ?

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে এই তেল পুদিনা পাতার নির্যাস থেকে প্রস্তুত। তবে এটা সাধারণ পিপারমেন্ট বা পুদিনা থেকে সচারচর প্রস্তুত করা হয়না। পিপারমিন্ট বা পুদিনা হলো উঃ আমেরিকা এবং ইউরোপের স্থানীয় ওয়াটার মিন্ট এবং স্পীয়ারমিন্ট এর হাইব্রিড। পুদিনা তেল হলো ঐ গাছের পাতার নির্যাস থেকে প্রস্তুত। এই তেল প্রাচীন এবং আধুনিক ওষুধ তৈরীতে, রান্নার কাজে এবং প্রসাধন শিল্পেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

পুদিনা তেলের একাধিক ব্যবহার রয়েছে। যেমন পেশীর ব্যথা দূর করে, ত্বকের সমস্যা নিরাময় করে, দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও বাড়ির চারপাশের কীটপতঙ্গ এবং ইঁদুর ইত্যাদির আক্রমন থেকে সুরক্ষিত রাখে।

পুদিনা তেলের উপকারীতা

এবার পুদিনা তেলের উপকারীতা গুলি সম্বদ্ধে জেনে নেওয়া যাক। মানুষের স্বাস্থ্য, ত্বক, এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী ভূমিকা পালন করে। সহজ ভাবে বলতে গেলে সারা শরীরের জন্যই এই পুদিনা তেলের নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। এই তেল একাধারে যেমন অ্যান্টি সেপ্টিক, অন্যদিকে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপযোগ সমৃদ্ধ। পুদিনা তেলের একাধিক উপযোগীতার কারণে পুদিনা তেল আয়ুর্বেদিক ওষুধ, দাঁতের মাজন, সুগন্ধি প্রস্তুতিতে এবং খাদ্য তৈরীর কাজেও ব্যবহার করা হয় (1) । শুধু স্বাস্থ্য বলেই নয় একইসাথে পুদিনা তেল ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নিবন্ধের পরবর্তী অংশে পুদিনা তেলের স্বাস্থ্যোপযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

পুদিনা তেলের স্বাস্থ্যোপযোগীতা

পুদিনা তেলের স্বাস্থ্যোপযোগীতা গুলি হলো নিম্নরূপ –

১. পরিপাকে সহায়ক

প্রাচীনকাল থেকে পরিপা সহায়তার কাজে পুদিনা তেলের উল্লেখযোগ্য রকম অস্তিত্ব লক্ষ্য করা গেছে। গ্যাস, অম্বল, বদহজম, ডায়রিয়া এমনকি শিশুদের হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য এই তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইসাথে অস্বস্তিদায়ক অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্যও পুদিনা তেল ব্যবহৃত হয়।

২. শ্বসনযন্ত্রের সহায়ক

নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ বর্জনের ক্ষেত্রেও পুদিনার তেল খুব উপকারী বলে মনে করা হয়। অনেক সময়ই সর্দির কারণে বা অন্য যে কোনো কারণে হঠাৎ নাসারন্ধ্র বন্ধ হয়ে গেছে এমন অনুভূত হলে পুদিনার তেল নাসারন্ধ্রের পথ পরিষ্কার করে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। এছাড়াও এই তেল ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এরফলে শ্বসন যন্ত্রের মাংসপেশী শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং কার্যকারীতা উন্নত হয়। ইনহেলার এবং সর্দি নিরাময়ের ওষুধে পুদিনার তেলের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

৩. মাথা যন্ত্রনা নিরামায়ক

প্রতিদিনের কাজের চাপে মাথা ব্যথার সমস্যা কম বেশি প্রায় সকলেরই দেখা যায়। জানলে অবাক হতে হয় যে চিন্তা ভাবনার কারণে মাথা যন্ত্রনার ক্ষেত্রেও পুদিনার তেলের উপকারীতা রয়েছে। একটি গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে যে চিন্তার কারণে মাথার যন্ত্রনায় পুদিনার তেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুদিনার তেল থেকে নির্মিত অ্যালোপেথিক ওষুধও বেশ প্রভাবশালী বলে মনে করা হয় (2) 

৪. রক্ত সঞ্চালনে সহায়ক

মনে করা হয় ত্বকে পুদিনার তেল দ্বারা মালিশ করা হলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। এই তেলে উপস্থিত মেন্থল সহজেই ত্বকে শোষিত হয়ে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে (3) 

৫. মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্যোন্নতি করে

পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের সতেজতা বৃদ্ধি করে। একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে পুদিনা পাতা এবং পুদিনার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধী এবং অ্যান্টিফাংগাল বা ছত্রাক প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত। যা মুখ গহ্বরে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। একইসাথে শ্বাস প্রশ্বাসকে স্বাভাবিক রেখে মুখ গহ্বর সজীব সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

৬. মানসিক চাপ এবং যন্ত্রনা নিরোধক

পুদিনার তেল চিন্তা ভাবনার জন্য মাথা ব্যথা নিরাময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকেও শরীরকে আরাম দেয়। মনে করা হয় পুদিনার তেল মানসিক চাপ এবং ক্লান্তি ব্যথা উপশম করে সেন্ট্রাইল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এইসব বৈশিষ্ট্যের জন্য পুদিনার তেল অ্যারোমাথেরাপির কাজেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় (4)

৭. সাইনাস নিরামায়ক

নাকের মাংসপেশীর (সাইনাস) জ্বালাভাবকে সাইনাসাইটিস বলে (5)। ঠাণ্ডা লাগার ফলে নাসিকা গহ্বরের মধ্যেকার পথে জ্বালাভাব দূর করতে পুদিনার তেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মেন্থলের মধ্যস্থিত উপাদান গুলি সহজেই নাকের ভেতরের পেশির সঙ্কোচন প্রসারণে সাহায্য করে সর্দির ফলে সৃষ্ট নাসারন্ধ্রের মধ্যেকার জ্বালা যন্ত্রনা দূর করে। সাধারণত সর্দি হলে দেখা যায় শ্বাস প্রশ্বাসের মিউকাস এই নাসিকাপথ অবরুদ্ধ করে দেয়। পুদিনার তেল মিউকাসকে তরল করে দিয়ে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ সহজ হয়ে যায়। বেশিরভাগ শ্বাসনালী সংক্রান্ত সমস্যা যেমন সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, সাইনাস বা ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা সবই পুদিনার তেল ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে। এইভাবে পুদিনার তেল খুব অল্প খরচে বাণিজ্যিক ওষুধের বিকল্প হতে পারে।

৮. মাংস পেশী ক্লান্তি এবং শিথিলতা দূরীকারক

পুদিনার তেল পেশির ক্লান্তি এবং শিথিলতা দূর করে। পুদিনা অ্যান্টিপাস্মোডিক এবং ব্যথানিরোধক গুণ সম্পন্ন হওয়ার কারণে অনায়াসেই পেশীর ব্যথা যন্ত্রনা উপশম করে। কয়েক ফোঁটা পুদিনার তেলের সাহায্যে আক্রান্ত অংশ মালিশ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরাম পাওয়া যায়।

৯.  বমি ভাব নাশক

একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানতে পারা গেছে  বমি ভাব দূর করার জন্য পুদিনার তেল খুবই উপকারী। এছাড়াও জানা যায় যে পুদিনার তেলের অ্যারোমাথেরাপি গ্রহণ করলে সহজেই বমি বমি ভাবের উপশম হয়। পুসিনায় উপস্থিত অ্যান্টি – অ্যামেটিক গুণের প্রভাবে বমি ভাব অনায়াসেই বমি ভাব দূর করে। আর এরফলে শরীরে আরাম মেলে (6)

১০. অ্যালার্জি নিরাময়ক

বেশ কয়েক প্রকার অ্যালার্জি এবং সংক্রমণ থেকে আরাম পাওয়ার জন্য পুদিনার তেল খুবই উপকারী। এতে উপস্থিত মেন্থল অ্যালার্জির প্রকোপ হ্রাস করে। একইসাথে পুদিনার তেলস্থিত অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি ফাংগাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ার সংক্রমন সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া এবং ছত্রাক নাশ করে।

ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে পুদিনা তেলের উপকারীতা

ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে পুদিনা তেলের উপকারীতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক কার্যকরী উপকারিতা পাওয়া যায়। সেগুলি হলো যথা –

১. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে

সূর্যের তাপে এবং অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে অনেক সময়ই ত্বক কালো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে পুদিনার তেল খুবই কাজে আসে। এই তেলে উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আসলে ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা ডিপিগমেন্টেশান এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে ত্বকের রঙ পরিষ্কার করে স্বাভাবিক বর্ণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে (7)  ।

ব্যবহারের পদ্ধতি

পুদিনা তেল ব্যবহার করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ উপায় অবলম্বন করা উচিৎ। হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা পুদিনা তেল নিয়ে কালো হয়ে যাওয়া ত্বকের ওপর মালিশ করতে হবে।

২. ব্রণের প্রবণতা হ্রাস করে

পুদিনা তেলে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ার জন্য খুব সহজেই তা ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যকাটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়াও এর প্রদাহ নাশক বৈশিষ্ট্য ব্রণের কারণে হওয়া ত্বকের অস্বস্তি কমিয়ে দেয় (8)

ব্যবহারের পদ্ধতি

তুলোর সাহায্যে ত্বকের ব্রণ প্রবণ অঞ্চলে পুদিনার তেল লাগাতে হবে।

৩. মুখের স্ক্র্যাবে সহায়ক            

পুদিনার তেল ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হয়। যা ত্বকের বলিরেখা কমাতে, ত্বকের কোঁচ পড়ার প্রবণতা হ্রাস করতে সহায়তা করে (9) । পুদিনার তেল, অলিভ অয়েল এবং কালো নুন একসাথে মিশিয়ে মুখের স্ক্র্যাব করা যেতে পারে। নুন ত্বকের লোমকুপের মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং অলিভ অয়েল অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে (10)

উপকরণ 

  • ২ – ৪ ফোঁটা পুদিনার তেল
  • ২ চা চামচ অলিভ অয়েল
  • ৩ চা চামচ কালো নুন

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • একটি পাত্রে উপাদান গুলিকে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর ঐ মিশ্রণের সাহায্যে মুখে স্ক্র্যাব করতে হবে।
  • স্ক্র্যাবের প্রলেপ কিছু সময় মুখে লাগিয়ে রাখার পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪.  প্রাকৃতিক টোনার

পুদিনার তেল এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। পুদিনার তেলে উপস্থিত মেন্থল ত্বককে ঠাণ্ডা করে। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে উপস্থিত জীবানু নাশক বৈশিষ্ট্য ত্বকের ব্রণ হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে। এছাড়াও এতে উপস্থিত ল্যাক্টিক অ্যাসিড এবং ম্যালিক অ্যাসিড ত্বকের পি এইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।(11)

উপকরণ

  • ৩/৪ বোতল পানীয় জল
  • ১/৪  বোতল অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার
  • ৪০ ফোঁটা পুদিনার তেল
  • একটা স্প্রে বোতল

ব্যবহারের পদ্ধতি 

  •  সব কটি উপকরণ একসাথে স্প্রে বোতলে ভর্তি করতে হবে।
  •  এরপর যখনই ক্লান্ত বোধ হবে তখন ঐ মিশ্রণ স্প্রে করে মুখে ছিটিয়ে নিলে টোনার হিসেবে কাজ করবে।
  • প্রতিবার ব্যবহারের পর স্প্রে বোতলটি রেফ্রিজারেটারে রাখতে হবে।

৫. ফেস মাস্ক বা মুখের প্রলেপ

শশা, মুলতানি মাটি এবং পুদিনার তেল সহযোগে একটি ফেস প্যাক বা প্রলেপ তৈরী করা যেতে পারে। এই প্রলেপে মাত্র কয়েক ফোঁটা পুদিনা তেলের উপস্থিতি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়। পুদিনা তেলে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি যা ত্বকের স্বাস্থ্যোন্নতিতে সহায়তা করে। একই সাথে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক অতি বেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন চর্ম রোগ ও রোগ জীবানু ঘটিত সংক্রমন থেকে ত্বককে নিরাপদে রাখে। এছাড়াও শশা ত্বক ঠাণ্ডা রাখে এবং মুলতানি মাটি মৃত কোষকে অপসারণ করে মুখের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে (12)  ।

উপকরণ 

  • ২ চা চামচ মুলতানি মাটি
  • শশার রস (প্রয়োজন অনুসারে)
  • ২ ফোঁটা পুদিনার তেল

ব্যবহারের পদ্ধতি 

  • একটি পাত্রে সব কটি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর আঙুলের সাহায্যে মুখ মণ্ডলে এই প্রলেপ লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখতে হবে।
  • মুখের ওপর লাগানো প্রলেপ ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে তা ঠাণ্ডা জলের সাহায্যে ধুয়ে নিতে হবে।
  • সব শেষে তোয়ালে বা গামছা দিয়ে ঘষে ঘষে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ত্বকের ক্ষেত্রে পুদিনার তেলের উপযোগের ব্যাপারে তো জানা গেলো এবার জেনে নেওয়া যাক চুলের স্বাস্থ্যোন্নতির ক্ষেত্রে পুদিনা তেলে উপকারীতা গুলি কী কী।

চুলের স্বাস্থ্যোন্নতিতে পুদিনা তেলের উপকারীতা

চুলের স্বাস্থ্যোন্নতিতে পুদিনা তেলের উপকারীতা গুলি হলো নিম্নরূপ –

১. চুলের দৈর্ঘ্যবর্দ্ধক

পুদিনার তেলে ভিটামিন সি, আয়রণ এবং জিঙ্ক রয়েছে। শরীরে যার সামাণ্য অভাব হলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। এইসব উপাদান গুলি দূষণের প্রভাব থেকে চুলকে রক্ষা করে। একইসাথে পুদিনা তেল স্ক্যাল্পে বা মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে চুলের দৈর্ঘ্য দ্রুত বাড়তে সহায়তা করে। (13)

উপকরণ 

  • নারকেল / জোজোবা / অলিভ অয়েল
  • পুদিনার তেল

ব্যবহারের পদ্ধতি 

  • নারকেল / জোজোবা / অলিভ অয়েল এর সাথে কয়েক ফোঁটা পুদিনার তেল মেশাতে হবে।
  • ১৫-২০ মিনিট এই তেল দিয়ে মালিশ করতে হবে।
  • মালিশ হয়ে গেলে ১০ মিনিট সময় এমনি রেখে দিতে হবে।
  • সব শেষে ঠাণ্ডা জল দিয়ে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

২. মাথার শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা বর্দ্ধক

পুদিনা তেল আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই সুবিধার জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক ময়েশ্চারাইজিং পণ্যে পুদিনার তেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পুদিনা তেলে উপস্থিত মেন্থল, জিঙ্ক, এবং সেলেনিয়াম স্ক্যাল্পের ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করে। পুদিনার তেল চুলের গোড়ার শীতলতা বজার রাখে এবং খুসকি রোধ করে।

ব্যবহারের পদ্ধতি 

শুষ্ক ত্বক এবং খুসকির সমস্যার থেকে মুক্তির জন্য পুদিনা তেল খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ওপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে সহজেই উপকার পাওয়া যায়।

৩. সব ধরণের চুলের জন্য উপকারী

সব ধরণের চুল তা সে শুষ্ক, তৈলাক্ত, রুক্ষ যাই হোক না কেনো সব কিছুর জন্যই পুদিনা তেল খুব উপকারী হয়। যদিও যে কোনো ধরণের চুলের জন্যই পুদিনা তেল কতটা উপকারী সে বিষয়ে এখনও কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুদিনা তেলের ব্যবহার 

পুদিনা পাতা বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়। পুদিনা তেলও অনেক প্রকারের খাবারে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও পুদিনা তেল নানারকম ওষুধ এবং ইনহেলার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব কিছু ছাড়াও পুদিনা তেল যে সমস্ত কাজে ব্যবহার করা হয় সেগুলি হলো নিম্নরূপ –

  • ডিফিউজারে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে অ্যারোমাথেরাপিতে
  • মাংসপেশী মালিশে
  • স্ক্যাল্প মালিশে
  • ফেস প্যাক বা মুখের প্রলেপে
  • হেয়ার মাস্ক
  • ময়েশ্চারাইজারে মিশিয়ে
  • এইসব উপায়ে পুদিনা তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

পুদিনা তেলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

পুদিনা তেলের যেমনা উপকারীতা রয়েছে সেইরকমই এর অপকারিতাও খুব একটা কম নেই। সঠিক সময় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলের ব্যবহার করা হলে পুদিনা তেল উপকারের পরিবর্তে অপকার করে (14) 

পুদিনা তেলের ব্যবহারের ফলে যে সমস্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি দেখা যায় সেগুলি হলো যথাক্রমে –

  • গ্যাসের সমস্যা
  • গা বমিভাব এবং বমন
  • শরীরে কাঁপুনি
  • বিষণ্ণতা বা অবসাদ
  • যকৃৎ বা লিভারের সমস্যা
  • শ্বাসকষ্ট
  • পেট ব্যথা
  • খিঁচুনি
  • প্রসাবে রক্ত
  • মাথা ঘোরা
  • সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলা
  • শরীরে ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা
  • বিষক্রিয়া

বি দ্র – এইসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি তো রয়েছেই এছাড়াও হার্নিয়া এবং গল ব্লাডার বা পিত্তাশয়ের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ও গর্ভবতী মহিলা, বাচ্চাদের পুদিনা তেল সেবন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওপরের নিবন্ধে পুদিনা তেলের যাবতীয় গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। একইসাথে জেনেছি পুদিনা তেলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি কি কি। তবে একথাও ঠিক যে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বা কম পরিমাণ পুদিনা তেল্র ব্যবহার করলে শারীরিক সমস্যা দেখা যেতে পারে। আর ইতিমধ্যে নানারকম শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুদিনা তেল ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

Expert’s Answers for Readers Questions

পিপারমেন্ট অয়েল বা পুদিনা তেল ব্যবহারের কারণে কোন কোন জিনিস দূরে সরিয়ে রাখা যায়?

উঃ – পুদিনা তেল ব্যবহারের ফলে একাধিক শারীরিক উপযোগ তো পাওয়া যায়ই। একইসাথে বাড়ির ভেতর এবং আসপাশ  পোকামাকড় ও ইঁদুরের আনাগোনা থেকে নিরাপদে রাখা যায়।

14 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch