পেট ফাঁপা কমানোর ঘরোয়া উপায় | Home Remedies For Bloating in Bengali

Written by

আমাদের মধ্যে অনেকেরই বাইরের খাবার বেশি খাওয়া হলে কিংবা নিমন্তন্ন বাড়ি যাওয়া হলে অথবা মাসের বিশেষ কিছু দিনে মহিলাদের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। যেন মনে হয় পেটের মধ্যে বাতাস ভরে রয়েছে। অনেক সময় সঠিক খাওয়া-দাওয়া না করার ফলে কিংবা জল খাওয়ার পরেও এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকলে পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে খাওয়া দাওয়া করে নিলে কমে যায়। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে কারোর কারোর আবার এটি শরীরে অস্বস্তির সৃষ্টি করে। এমনকি তার দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। এতে আপনার যদি পেট ফাঁপার সমস্যা গুরুতর হয় সেই নিয়ে হতাশ হবেন না। আজকের নিবন্ধে আমরা পেট ফাঁপার ঘরোয়া বেশ কিছু প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলি এই সমস্যা থেকে সহজেই সমাধান করতে পারে। এর পাশাপাশি পেট ফুলে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ এবং উপসর্গগুলো নিয়েও আজকে আমরা আলোচনা করব।

পেট ফাঁপা কি?

পেট ফাঁপা কিংবা পেট ফুলে যাওয়া বলতে আমরা এমন একটি অবস্থা বুঝতে পারি যেখানে পেটের ভেতরের টিস্যুগুলো ফুলে যায় কিংবা বড় হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মনে হয় যেন পেটটা বেলুনের মতো ফুলে রয়েছে। পেটের ফোলা ভাব কেবলমাত্র পেটের ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং অনেকটা অঞ্চলজুড়ে হওয়ায় বাইরে থেকেই পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা টা বোঝা যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। কিন্তু অন্তর্নিহিত কোন রোগ ব্যাধির কারণে যদি এটি হয় সে ক্ষেত্রে অনেকের ক্ষেত্রে এটি বহু সময় ধরে দেখা যায়। আসুন তাহলে জেনে নিন পেট ফাঁপার কারণ গুলি কি কি।

পেট ফাঁপার কারণ গুলি কি কি?

পেট ফুলে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হওয়ায় এর কারণ গুলি জেনে রাখা দরকার। আসুন জেনে নিন পেট ফুলে যাওয়ার কারণ গুলি কি কি –

১) ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, মটরশুটি জাতীয় খাদ্য গুলি আমাদের শরীরে গ্যাস উৎপাদন করে। এগুলি গ্রহণের ফলে পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২) বদহজমের ফলে আমাদের পেট ফুলে যেতে পারে।

৩) হঠাৎ করে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন কিংবা যথাযথ পরিমাণে খাবার না খাওয়ার কারণে পেট ফুলে যেতে পারে।

৪) কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫) অ্যান্টাসিড, অ্যাসপিরিন কিংবা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করলে পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়।

৬) ল্যাকটোজ বা দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়।

৭) মাল্টিভিটামিন এবং আয়রন এর পরিপূরক গ্রহণ করলে পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়।

৮) গ্যাসট্রাইটিস, ক্যান্সার, অন্ত্রের সমস্যার মত অন্তর্নিহিত কোন ব্যাধি হলে পেট ফুলে যাওয়ার মতন সমস্যা দেখা যায়।

উপরিউক্ত সমস্যা গুলির মধ্যে কোনটির সাথে যদি সম্মুখীন হয়ে থাকেন তাহলে বুঝবেন আপনার পেট ফুলে যাওয়ার অন্যতম কারণ এগুলি। এবার জেনে নিন পেট ফুলে যাওয়ার লক্ষণ গুলি সম্পর্কে।

পেট ফাঁপার লক্ষণ :

পেট ফাঁপা ভাব যখন অনুভূত হয় তখন আমাদের শরীরের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ভাব দেখা দেয়। এছাড়াও তলপেটে ফোলা ভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। আসুন জেনে নিন এক্ষেত্রে কি কি লক্ষণ থাকতে পারে –

১) অন্ত্রের ভিতর অতিরিক্ত গ্যাস সৃষ্টি হলে পেট ফাঁপা ভাব দেখা দেয়।

২) পেট শক্ত কিংবা ভরা অনুভূত হলে পেট ফাঁপা ভাব দেখা দেয়।

৩) অনেক সময় পেট ব্যথা হয় পেট ফাঁপার কারণে।

৪) বার বার বারপিং এবং বেলচিং করার কারণে পেট ফাঁপা ভাব দেখা দিতে পারে।

৫)  অনেক সময় পেট ফাঁপা ভাবের সমস্যা হিসেবে জ্বর দেখা দিতে পারে।

৬) পেট ফাঁপা ভাব হলে গা বমি ভাব বা বমি দেখা দিতে পারে।

৭) কোনো কারণে পেট ফুলে গেলে শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়, যার ফলে শরীর যথাযথ ভাবে কাজ করতে পারে না।

অনেক সময় এই পেট ফুলে যাওয়া স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলার সৃষ্টি করতে পারে। এটি এমন একটি সমস্যা যা কমবেশি সকলেই ভুগেছেন। আপনি কি এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কখনো? তবে আজকের নিবন্ধ থেকে জেনে নিন এই পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা করবেন। ঘরোয়া পদ্ধতি পেট  ফাঁপার সমস্যা কমাবেন।

পেট ফাঁপার ঘরোয়া প্রতিকার

বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান গুলির সাহায্যে আমরা ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেট ফাঁপার সমাধান করব। জেনে নিন কোন কোন উপাদান গুলি কে কাজে লাগিয়ে এই সমস্যা দূর করবেন।

১) চা খেয়ে পেট ফাঁপার সমস্যা কমান :

ক) মেন্থল চা :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

শুকনো গোলমরিচ পাতা – এক চা চামচ

জল – এক কাপ

মধু – প্রয়োজন মত।

কি করতে হবে?

  • এক কাপ গরম জলে গোলমরিচ পাতা যোগ করুন।
  •  এবার একটি পাত্রে এটি ফোটাতে থাকুন।
  • ৫ মিনিট ফোটানোর পর কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে দিন।
  •  এরপর প্রয়োজনে মধু যোগ করে এটি পান করুন।
  •  প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার এটি গ্রহণ করুন।

কিভাবে কাজ করে?

এই মেন্থল চা হজমজনিত সমস্যাগুলিকে নিরাময় করে। যার ফলে পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা কম হয়। এর পাশাপাশি এটি মেন্থলযুক্ত হওয়ার কারনে পেটের ভেতর থেকে গ্যাস কম করতে এবং পেটের ভেতরের কোষগুলিকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। (1)

খ) ক্যামোমিল চা :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

ক্যামোমিল – এক থেকে দুই চামচ

জল – এক কাপ

মধু – প্রয়োজন মত।

কি করতে হবে?

  • এক কাপ গরম জলে ক্যামোমিল পাতা যোগ করুন।
  •  এবার এটি ৫ থেকে ১০ মিনিট ফোটাতে থাকুন।
  •  গ্যাস বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন।
  • খাওয়ার সময় প্রয়োজনে মধু মিশিয়ে নিন।
  •  দৈনিক দুই থেকে তিনবার এটি অবশ্যই পান করুন।

কিভাবে সাহায্য করে?

ক্যামোমিল চা পেটের বিভিন্ন সমস্যা গুলি নিরাময়ে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একটি পেটের গ্যাস কমিয়ে পেটের ফোলা ভাব কমাতে সহায়তা করে। (2)

২) পেট ফাঁপা নিরাময়ে মৌরি বীজের ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

কাঁচা মৌরি বীজ – হাফ থেকে এক চা চামচ

জল – ১ কাপ

মধু – প্রয়োজনমতো। (3)

কি করতে হবে ?

  • এক কাপ  ফুটন্ত জলে মৌরি বীজগুলোকে একটু ভেঙে দিয়ে দিন।
  • এবার ৫ থেকে ১০ মিনিট  ভালোমতো ফুটতে দিন।
  •  এরপর গ্যাস নিভিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
  •  খাওয়ার সময় প্রয়োজনে মধু যোগ করে নিন।
  • প্রতিদিনই এই চা পান করুন।
  •  এর বিকল্প হিসেবে দৈনিক আধা চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খেতে পারেন।
  •  তবে এই চা দৈনিক দুি থেকে তিনবার গ্রহণ করতে পারেন।

কিভাবে কাজ করে ?

মৌরি হজম জনিত বৈশিষ্ট্যের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এতে অ্যাস্ট্রোগোল, ফেঞ্চন এবং অ্যানিথোল নামক যৌগ গুলি রয়েছে যেগুলো পেটের গ্যাস কমিয়ে পেটের ফোলা ভাব দূর করতে সহায়তা করে।

৩) পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করতে বেকিং সোডার ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

বেকিং সোডা – ১ চা-চামচ

হালকা গরম জল – এক গ্লাস।

কি করতে হবে?

  •  এক গ্লাস গরম জলে ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন।
  •  এবার এই মিশ্রণটি পান করুন।
  • সপ্তাহে তিন দিন একদিন অন্তর অন্তর এটি গ্রহণ করুন। (4)

কিভাবে সাহায্য করে?

বেকিং সোডা অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে এবং বদহজম থেকে মুক্তি দেয়। এর ক্ষারীয় প্রকৃতির জন্য পেটে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের পরিমাণ কম হয়। এটি পেটের গ্যাস দূর করে ফোলা ভাব করতে সহায়তা করে।

৪) আদা দিয়ে পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করুন :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

আদা – এক ইঞ্চি

জল – এক কাপ

মধু – প্রয়োজনমতো।

আপনাকে কি করতে হবে?

  •  একটি পাত্রে এক কাপ জল নিয়ে তাতে আদা যোগ করুন।
  •  জল ফুটিয়ে নিয়ে আদা টিকে ভালোমতো জলে সিদ্ধ করে নিন।
  • প্রতিদিন এই মিশ্রণটি গ্রহণ করুন।
  •  আদার গন্ধ ভালো না লাগলে এতে মধু যোগ করতে পারেন। (5)
  •  দৈনিক তিনবার এটি গ্রহণ করুন।

কিভাবে সাহায্য করে ?  

আদার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা গ্যাসের পরিমাণ কম করে বদহজম থেকে মুক্তি দেয়। যাদের পেটের ভিতর গুরুতর সমস্যা রয়েছে সেক্ষেত্রেও হজমজনিত সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫) পেট ফাঁপা ভাব কমাতে কুমড়োর ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

কাটা কুমড়ো – ১ কাপ

জল – এক বাটি।

কি করতে হবে?

  •  জলের মধ্যে এক কাপ কুমড়ো নিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন।(6)
  • প্রতিদিন যে সবজি খাবেন তার সাথে এগুলি গ্রহণ করুন।
  •  এছাড়া আপনি খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কুমড়োর তরকারি ও খেতে পারেন।
  • দৈনিক খাদ্য তালিকায় থাকা তরকারিতে কুমড়ো যুক্ত করুন।

কিভাবে সাহায্য করে?

ফাইবার এবং পটাশিয়াম এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হল কুমড়ো। পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে পারে, যা পেটে গ্যাস তৈরির জন্য অন্যতম উপাদান।

৬) উষ্ণ লেবু জল দিয়ে পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করুন :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

লেবুর রস – ১ চা চামচ

উষ্ণ গরম জল – এক গ্লাস।

কি করতে হবে?

  •  এক গ্লাস গরম জলে ১ চা চামচ লেবুর রস যোগ করুন।
  •  পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দৈনিক এই মিশ্রণটি গ্রহণ করুন।
  •  প্রয়োজনে স্বাদ যোগ করার জন্য এতে মধু যোগ করতে পারেন।
  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটি গ্রহণ করুন। (7)

কিভাবে সাহায্য করে?

লেবু হল প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক, যা উষ্ণ জলের সাথে মিশ্রিত হয়ে হালকা রেচক বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদর্শন করে। এছাড়াও এটি পেটের গ্যাস দূর করতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরে লবণের পরিমাণ হ্রাস পেলে অনেক সময় পেট ফাঁপা সমস্যা দেখা দেয় সেগুলো দূর করতে সহায়তা করে।

৭) পেট ফাঁপার সমস্যা দূরীকরণে কেওড়া বীজের ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

কেওড়া বীজ – এক চামচ

গরম জল – এক কাপ

মধু  – প্রয়োজন মত।

কি করতে হবে ?

  • এক কাপ গরম জলে কেওড়া বীজ যোগ করুন।
  •  এবার ৫ থেকে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
  •  এবার এই জল গ্রহণ করুন।
  •  প্রয়োজনে এতে মধু যোগ করতে পারেন।
  •  দৈনিক তিনবার এটি গ্রহণ করুন।

কিভাবে সাহায্য করে?

কেওড়া বীজ অ্যান্টিস্পাসোডিক এবং কার্মিনেতিভ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ায় এটি পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা কম করতে এবং পেটের অতিরিক্ত গ্যাস থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। এর মধ্যে কারভল এবং কার্ভেন নামক রাসায়নিক যৌগ থাকায় এগুলি পেট ফাঁপার সমস্যা কম করতে সহায়তা করে। (8)

৮) পেট ফাঁপা দূরীকরণে আনিস বীজের ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

আনিস বীজ – এক চামচ

গরম জল – এক কাপ

মধু – প্রয়োজন মত। (9)

কি করতে হবে ?

  • এক কাপ গরম জলে আনিসের বীজগুলি কে ৫ থেকে ১০ মিনিট ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে।
  •  এবার বীজগুলো জল থেকে তুলে নিয়ে এটি গ্রহণ করতে হবে।
  • প্রয়োজনে স্বাদ যোগ করার জন্য এতে মধু মিশিয়ে গ্রহণ করতে পারেন।
  • দৈনিক দুই থেকে তিনবার এটি গ্রহণ করুন।

কিভাবে সাহায্য করে?

আনিসের বীজ অ্যান্টিস্পাসোডিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ায় এটি পাচনতন্ত্রের শীতলীকরণের সহায়তা করে। যার ফলে হজমে চিকিৎসা করে থাকে এবং পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দূর করতে এটি সহায়তা করে।

৯) পেট ফাঁপা কম করতে কলার ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

কলা – এক থেকে দুইটি।

কি করতে হবে ?

  • আপনার প্রত্যেকদিনের খাদ্যতালিকায় একটি বা দুটি কলা অন্তর্ভুক্ত করুন।
  •  প্রাকৃতিক ভাবে পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দূর করতে প্রত্যেকদিন একটি করে কলা খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। (10)

কিভাবে সাহায্য করে?

কলা ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য হওয়ায় এবং এতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকায় এটি শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে। সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলেও পেটে গ্যাস কিংবা পেট ফুলে যাওয়ার মতন সমস্যা দেখা যায়। তাই দৈনিক খাদ্য তালিকায় কলা রাখলে এই সমস্যা দূর হয়।

১০) পেট ফাঁপা ভাব কমাতে আপেল সিডার ভিনিগার এর ভূমিকা :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার – ১ টেবিল-চামচ

উষ্ণ গরম জল – এক গ্লাস

মধু – প্রয়োজন মত। (11)

কি করতে হবে?

  •  এক গ্লাস গরম জলে আপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে নিন।
  •  দৈনিক এই মিশ্রণটি পান করুন।
  •  প্রয়োজনের স্বাদ যোগ করার জন্য এতে মধু যোগ করতে পারেন।
  •  দৈনিক একবার এটি গ্রহণ করুন।

কিভাবে সাহায্য করে?

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার হলো এমন একটি উপাদান যা আমাদের হজম বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে পেটে হজম যথাযথ হবার পাশাপাশি এটি পেট ফোলা ভাব কম করতেও সহায়তা করে।

১১) পেট ফাঁপা কমাতে ক্যাস্টর অয়েলের ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

ক্যাস্টর অয়েল – ১ চামচ

যে কোনো ফলের রস – এক কাপ।

কি করতে হবে?

  •  এককাপ ফলের রসের সাথে প্রায় এক চামচ ক্যাস্টর অয়েল যোগ করুন।
  • এবার এটিকে ভালো করে মিশিয়ে নিন। (12)
  • এরপর এই মিশ্রণটি গ্রহণ করুন।
  • এর বিকল্প হিসেবে যদি সরাসরি ক্যাস্টর অয়েল এক চা চামচ খেতে পারেন, তবে ভালো হয়।
  •  যদি এর স্বাদ আপনার খারাপ না লাগে, সে ক্ষেত্রে সরাসরি ও খেতে পারেন।
  •  যখন পেট ফুলে যাওয়া সমস্যা দেখা দেবে তখনই এটি করবেন।

কিভাবে সাহায্য করে?

যেহেতু কোষ্ঠকাঠিন্যের কারনেও পেটের ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ক্যাস্টর অয়েল হলো জোলাপের মতন কাজ করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে মলকে নরম করতে সহায়তা করে।

১২) পেট ফাঁপা কমাতে ডিটক্স ড্রিঙ্ক এর ভূমিকা :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

শসা – একটি লেবু

লেবু -একটি

আপেল – দুইটি।

কি করতে হবে?

  • শশা লেবু এবং আপেল মিক্সিতে রস করে নিন।
  • এবার এই রসটি পান করুন।
  •  যতক্ষণ না পেট ফাঁপার সমস্যা কমছে দিনে একবার করে এটি পান করুন। (13)

কিভাবে সাহায্য করে?

লেবুর রসে রয়েছে মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য, আপেলের মধ্যে থাকা উচ্চ ফাইবার এবং শশায় থাকা সর্বোচ্চ পরিমাণ জল শরীর থেকে লবণ দূর করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি পেটের ফোলা ভাব কম করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

১৩) পেট ফাঁপা দূর করতে এসেনশিয়াল অয়েল এর ব্যবহার :

ক) পিপারমেন্ট এসেন্সিয়াল অয়েল :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল – তিন থেকে চার ফোঁটা

নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল – ২ চা-চামচ।(14)

কি করতে হবে?

  • পিপারমেন্ট এসেনশিয়াল অয়েল নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে নিন।
  •  এবার এই মিশ্রণটি আস্তে আস্তে পেটে মালিশ করতে থাকুন।
  • প্রতিদিন একবার করে এটি করুন।

কিভাবে সাহায্য করে?

পিপারমেন্ট তেলের মধ্যে অ্যান্টিস্পাসোডিক প্রভাব রয়েছে, যা অন্ত্রের পেশীকে শিথিল করতে এবং পেটের ফোলা ভাব দূর করতে সহায়তা করে।

খ) মৌরি এসেনশিয়াল অয়েল :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

মৌরি এসেনশিয়াল অয়েল –  চার ফোঁটা

নারকেল তেল বা বাদাম তেল –  ২ চা-চামচ।

কি করতে হবে?

  • মৌরি এসেনশিয়াল অয়েল নারকেল তেল বা বাদাম তেলের সাথে মিশিয়ে নিন।
  •  এবার এই মিশ্রণটি আলতোভাবে পেটের উপর মাসাজ করুন।
  • প্রতিদিন এটি ব্যবহার করুন দেখবেন পেটের ফোলা ভাব কমে গেছে।

কিভাবে সাহায্য করে?

মৌরি এসেনশিয়াল অয়েল এর মধ্যে রয়েছে আশ্চর্যজনক মূত্রবর্ধক অ্যান্টিস্পাসোডিক এবং ক্যারিমিনেটিভ বৈশিষ্ট্য যা অন্ত্রের পেশিগুলোকে শিথিল করে গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এবং পেটের ফোলা ভাব কম করতে সহায়তা করে। (15)

১৪) পেটের ফোলা ভাব কমাতে গ্রিন টির ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

গ্রিন টি পাতা – ১ চা চামচ

গরম জল – এক কাপ

মধু – প্রয়োজনমতো।

কি করতে হবে?

  • একটি পাত্রে গ্রিন-টি ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে।
  •  তারপর গ্যাস বন্ধ করে ৫ মিনিটে ঢেকে রেখে দিতে হবে।
  •  প্রতিদিনের চায়ের মত এটি পান করুন।
  •  প্রয়োজনে স্বাদ যোগ করার জন্য মধু ব্যবহার করতে পারেন।
  •  দিনে অন্তত তিনবার এটি ব্যবহার করুন। (16)

কিভাবে সাহায্য করে ?

গ্রিন টি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে পেট অতিরিক্ত জল ধরে রাখা থেকে মুক্তি পায়। অতিরিক্ত জল ধরে রাখার ফলে পেট ফাঁপা ভাব লক্ষ্য করা যায়। তাই গ্রিন টি খাবার হজম করার পাশাপাশি গ্যাস কম করতে এবং পেট ফোলা ভাব কম করতেও সহায়তা করে।

১৫) অ্যালোভেরা জুস দিয়ে পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করুন :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

অ্যালোভেরা জুস এক-চতুর্থাংশ থেকে হাফ কাপ।

কি করতে হবে?

  • পেট ফোলা ভাব থেকে মুক্তি পেতে দৈনিক হাফ কাপ অ্যালোভেরার রস পান করুন।
  •  দিনে এক থেকে দু’বার এটি পান করতে পারেন। (17)

কিভাবে সাহায্য করে?

অ্যালোভেরা মূলত পেটে বদহজম এর সমস্যা কিংবা পেটের প্রদাহ জনিত সমস্যা কম করার কারনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অ্যালোভেরার মধ্যে হালকা রেচক প্রভাব রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফোলা ভাব কম করতে সহায়তা করে।

১৬) পেট ফোলা ভাব কমাতে নারকেল তেলের ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

নারকেল তেল – ১ টেবিল চামচ।

কি করতে হবে?

  •  দৈনিক ১ টেবিল-চামচ নারকেল তেল স্যালাড হিসেবে বা রান্নায় যোগ করে গ্রহণ করতে হবে।
  •  দিনে অন্তত একবার এটি গ্রহণ করতে হবে। (18)

কিভাবে সাহায্য করে?

নারকেল তেলের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যগুলো, যা পেটের সমস্যা দূর করতে, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

১৭) পেট ফাঁপা ভাব কমাতে দইয়ের ব্যবহার :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

দই – ১ কাপ।

কি করতে হবে?

  • প্রতিদিন একবার এই দই গ্রহণ করতে হবে।

কিভাবে কাজ করে?

দই হল একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা আপনার দেহে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বাড়িয়ে তোলে এবং এই ব্যাকটেরিয়াগুলো হজম কে ত্বরান্বিত করতে পারে। যার ফলে পেট ফুলে যাওয়া কিংবা গ্যাসের সমস্যা কম হতে পারে। (19)

১৮) পেট ফুলে যাওয়া কমাতে আনারসের রস :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

আনারস টুকরো – এক কাপ

জল – এক কাপ।

কি করতে হবে?

  •  জল আর আনারস মিক্সিতে দিয়ে জুস তৈরি করে নিতে হবে।
  •  প্রতিদিন এই রস খেতে হবে।
  •  দিনে অন্তত একবার এটি পান করতে হবে। (20)

কিভাবে সাহায্য করে?

আনারস ব্রোমেলাইন নামক এক ধরনের এনজাইমের উৎকৃষ্ট উৎস। যা প্রদাহবিরোধী এবং এটি পেটের প্রোটিনগুলো কে ভেঙে হজমে সহায়তা করে। যার ফলস্বরূপ পেটের ফোলা ভাব কম করতে সহায়তা করে। তবে মনে রাখবেন খালি পেটে কখনোই আনারসের রস পান করবেন না।

১৯) পেট ফাঁপা ভাব কমাতে কমলালেবুর রস :

প্রয়োজনীয় উপাদান :

কমলালেবু – ১ থেকে ২ টি জল – এক কাপ।

কি করতে হবে?

  • জল এবং কমলা লেবু মিশিয়ে ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে।
  •  পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে এই রসটি প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে।
  •  দৈনিক খাবার খাবার আগে এটি গ্রহণ করবেন। (21)

কিভাবে সাহায্য করে?

কমলালেবু ফাইবার এবং অ্যাসিডের একটি প্রাকৃতিক উৎস। কমলালেবুর মধ্যে উচ্চমাত্রায় অম্লীয় প্রকৃতি থাকায় এটি পেটের পিএইচ মাত্রা কমিয়ে হজমে সহায়তা করতে পারে। যার ফলস্বরূপ পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দূর করতে পারে।

এই নিবন্ধে যে সমস্ত উপাদান গুলির কথা বলা হয়েছে এগুলি প্রাকৃতিক ভাবে পেট ফোলার সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। দ্রুত ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেট ফোলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্যে এগুলি ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ভাবে ব্যবহার করার ফলে এক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এগুলো ব্যবহার করার আগে যথাযথ পরিমাণে ব্যবহার করবেন।

পেট ফুলে যাওয়ার চিকিৎসা :

পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা কোন রকম মারাত্মক ব্যাধি না হলেও এগুলি অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তির সৃষ্টি করে, যা শরীরে এক ধরনের উদ্বেগ শুরু করে। তাই পেট ফুলে যাওয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিছু উপাদান ব্যবহার করার পাশাপাশি যে বিষয়গুলি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেগুলি হল –

১) জল খাওয়ার সময় গ্লাসে খাওয়ার চেষ্টা করুন, এটি শরীরে অতিরিক্ত বায়ু প্রবেশ করতে দেয় না।

২) খাবার খাওয়ার সময় মুখ খুলে ভালো করে চিবিয়ে খাবার খাবেন।

৩) ধূমপান করবেন না।

৪)  অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুন।

৫) আপনার পেট যতটা নিতে পারে ঠিক ততো পরিমাণে খাবেন।

৬) কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে তা দূর করুন, কেননা পেট ফুলে যাওয়ার পিছনে এটি একটি অন্যতম সমস্যা।

৭)  নিয়মিত অনুশীলন করুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখুন।

৮) দৈনিক যোগাসন করুন।

৯) মুদ্রা যোগ অনুশীলন করুন এটি গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করবে।

পেট ফুলে যাওয়ার ফলে উদ্বেগ না থাকলেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন তাহলে আপনার যদি অন্তর্নিহিত কোন সমস্যা না থাকে এই ঘরোয়া উপায় গুলি করার ফলেই পেট ফোলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

পেট ফোলা ভাব কমানোর অন্যান্য টিপস :

পেট খোলা ভাবের সমস্যা যে ততটা মারাত্মক নয়, তা আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি। কেননা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর মারাত্মক আকার লক্ষ্য করা যায়। তবে খুব বেশী এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না। ইতিমধ্যেই আমরা পেট ফাঁপা ভাব কমানোর জন্য কি কি ঘরোয়া উপায়ে ব্যবহার করব, প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করব সেগুলো সম্পর্কে জেনে গেছি। এছাড়া এর কারণ, লক্ষণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও অবগত হয়েছি। পেট ফাঁপার কারণ হলো আমাদের খাদ্য অব্যবস্থা, খাবার-দাবার সঠিকভাবে না খাওয়ার ফলে এই সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই এবার খাদ্যতালিকা যথাযথ হওয়ার পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে আমাদের দৈনিক অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক। কেননা প্রত্যেকদিন যদি যথাযথ স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা যায় এবং যোগব্যায়াম করা যায় এক্ষেত্রে পেট ফোলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি কতগুলো টিপস জেনে নিন যেগুলি আপনাকে পেট ফোলার সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি দেবে –

১)  বেড়াতে যান – একনাগাড়ে বসে কাজ করতে থাকলে শরীর যেন বসে যেতে থাকে। এ ক্ষেত্রে শারীরিক ক্রিয়া-কলাপ গুলো যথাযথ ভাবে চলতে পারে না, যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে তাই পেট ফোলার সমস্যা দূর করার জন্য কোথাও একনাগাড়ে বসে না থাকে ঘুরে আসুন। প্রয়োজন হলে বছরে এক কি দুইবার অন্য জায়গায় বেড়াতে যান। এ ক্ষেত্রে শারীরিক ক্রিয়া-কলাপ গুলো যথাযথ সক্রিয় থাকে। এর পাশাপাশি অন্ত্র সচল থাকে। কেননা একনাগাড়ে বহু ঘন্টা বসে থাকলে পরে পেটে চাপ পড়ে, তার থেকে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাই একনাগাড়ে বসে কাজ করার থাকলে অবশ্যই কয়েক ঘন্টা পর পর একটু উঠে আশেপাশে হাঁটাচলা করে আসুন।

২) যোগাসন করুন – কিছু কিছু আসন আছে যেগুলো আমাদের পেটের পেশী গুলো কে সচল করে যার ফলে অতিরিক্ত গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পেটের ফোলা ভাব কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে শিশুর মত ভঙ্গি, স্কোয়াট এই ধরনের অনুশীলনগুলো দ্রুত গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এর পাশাপাশি পেট ফাঁপা দূর করার জন্য বহু যোগাসন রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জেনে করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, যে এগুলি সম্পর্কে আপনাকে জানাতে পারবে।

৩) পিপারমেন্ট ক্যাপসুল ব্যবহার করুন – গোলমরিচ তেলের ক্যাপসুলগুলো বদহজম এবং গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সহায়ক। এক্ষেত্রে পেট ফোলা ভাব এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এগুলো কার্যকরী। পিপারমেন্ট অন্ত্রের পেশীকে শিথিল করে গ্যাস এবং মলকে নির্গত করতে সহায়তা করে। আবার অনেকে অম্বলের জ্বালায় যারা ভুগছেন তারা এই পিপারমেন্ট ক্যাপসুল খুব বেশি না ব্যবহার করাই ভালো। এগুলো আপনাদের নিকটবর্তী যে কোন ওষুধের দোকানে কিংবা অনলাইনে পেয়ে যাবেন। এটি তৎক্ষণাৎ পেট ফোলা ভাব এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক।

৪) গ্যাস কমানোর ক্যাপসুল গ্রহণ করুন – যদি গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয় তার থেকেই পেট ফোলা ভাব সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে যে কোন গ্যাসের ওষুধ গ্রহণ করুন, যা হজম শক্তি বাড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত বায়ু কে বের করে দিতে সহায়তা করে। তবে অবশ্যই তা কোন ডাক্তার এর পরামর্শে গ্রহণ করবেন কিংবা আপনি যেটি ব্যবহার করে থাকেন গ্যাস নিরোধক ওষুধ  গ্রহণ করে থাকেন সেটি গ্রহণ করার চেষ্টা করবেন।

৫) পেটের মাসাজ করার চেষ্টা করুন – পেটের মাসাজ করলে পরে অন্ত্রের অংশগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়। এক্ষেত্রে পেটের ওপর তিনটে আঙ্গুল রেখে নাভির পাশ থেকে হালকা চাপ দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে ঘোরানোর চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে এই ম্যাসাজ করার জন্য নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তবে যদি কোনো কারণে মেসেজ করার সময় পেটে ব্যথা অনুভব হয় সে ক্ষেত্রে এটি বন্ধ করে দেওয়াই ভাল।

৬) এসেনশিয়াল অয়েল এর ব্যবহার – গবেষণায় দেখা গিয়েছে এমন বেশ কিছু এসেনশিয়াল অয়েল রয়েছে যেগুলো পেটে ব্যথা এবং পেটের ফোলা ভাব কম করতে সহায়তা করে। ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা না বলে এই এসেনশিয়াল অয়েল খাওয়া উচিত না। কেননা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলো বিষাক্ত হতে পারে কিংবা ওষুধের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে। তবে যেকোনো ক্যারিয়ার তেলের সাথে মিশিয়ে এগুলো পেটের উপর মালিশ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেই পারেন।

৭) গরম জলে স্নান করুন – পেটে অস্বস্তি ভাব দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে উষ্ণ গরম জলে স্নান করুন। এতে এবং শরীরের জি আই ট্রাক কার্যকরীভাবে কাজ করতে পারবে। এর পাশাপাশি গ্যাসের সমস্যা কম হবে এবং পেট ফোলা ভাব দূর হবে।

৮) ফাইবার গ্রহন বাড়িয়ে নিন – খাদ্যতালিকায় যে খাবারগুলো খাচ্ছেন সেগুলির কারণে পেট ফোলা ভাব দেখা দেয়। তাই খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখুন যেগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেবে না। কেননা কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলেই পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দৈনিক মহিলারা ২৫ গ্রাম এবং পুরুষরা ৩৮ গ্রাম ফাইবার জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর হয় তবে। যদিও প্রথম দিন থেকেই এতটা করে সম্ভব হবে না, যারা অভ্যস্ত নয় ধীরে ধীরে তাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

৯) জল গ্রহণ করুন – আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যে একটু বেশি খাবার দাবার হয়ে গেলে আমরা কোলড্রিংস খেয়ে অভ্যস্ত কিন্তু এগুলো কৃত্রিম সুইটেনার হওয়ায় এগুলো পেটে গ্যাস এবং পেট ফোলা ভাব এর সৃষ্টি করতে পারে। এর পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যেকোনো বাজারজাতও পানীয় না খেয়ে সাধারণ জল পান করুন। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করবে এর পাশাপাশি পেট ফোলা ভাব কমাতে এবং গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করবে।

১০) চুইংগাম এড়িয়ে চলুন – চুইংগাম খাওয়ার ফলে আমাদের মুখ দিয়ে বায়ু শরীরের ভিতরে পৌঁছে যায় যার ফলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা চিনি পেট ফোলার কারণ হতে পারে। তাই চিইংগাম ব্যবহার না করে যেকোন পিপারমেন্ট দেওয়া লজেন্স খাদ্য তালিকায় রাখতে পারবেন।

১১) দেহের সক্রিয়তা বাড়ান –  দৈনিক হাঁটাহাঁটি কিংবা যোগ ব্যায়াম করে নিজের শরীরের সক্রিয়তা বাড়ান। শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিন। এক্ষেত্রে দৈনিক যদি যথাযথ অনুশীলন করা যায় তাহলে শরীরে মল এবং গ্যাস যথাযথ কোলন থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি ঘামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়াম বেরিয়ে যেতে সহায়তা করে।

১২)  নিয়মিত বিরতিতে খাওয়া – আমাদের মধ্যে অনেকেরই খাবার মাঝে অনেকটা সময় ফাঁকা পড়ে যায়। এই সময়টাকে যথাযথ করতে হবে। দৈনিক নির্দিষ্ট তিনটে বড় এবং তিনটি ছোট মিল গ্রহণ করতে হবে এবং খাবার সময় ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খেতে হবে। কেননা জোরে জোরে খেলে কিংবা স্ট্র ব্যবহার করে খেলে বাইরের বাতাস পেটের ভেতরে যায় এর ফলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

পেট ফাঁপায় কি কি খাওয়া উচিত? 

পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিলে মূলত গ্যাস হয়। তাই হজমে সমস্যা হয় এমন খাবার খাদ্যতালিকায় না রাখাই ভালো। পেট ফাঁপার সমস্যা হলে যে খাদ্য গুলি খাদ্যতালিকায় রাখবেন সেগুলি হল :

সিম, মসুর ডাল, নারকেলের আটা, ওটস, শসা, মিষ্টি আলু, বাদামী চাল, দই, কলা, আঙ্গুর, কমলা লেবু, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি এই ধরনের খাদ্য খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করবেন।

পেট ফাঁপার সমস্যায় কি কি খাওয়া উচিত নয়?

পেট ফাঁপার সমস্যা হলে খাদ্যতালিকা থেকে যে এই খাবারগুলো বাদ দেবেন সেগুলি হল – বিয়ার, চিনি, আপেল, রসুন, দুধ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, যেকোনো কার্বনেটেড পানীয়, গাঢ় রংয়ের মসুর ডাল এই খাবারগুলো খাদ্য তালিকা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন।

তবে এই খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখার পাশাপাশি মাথায় রাখবেন পেট ফুলে যাওয়ার ফলে বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যায় সেগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করবেন। এক্ষেত্রে –

  • বুকে চাপ ব্যথা,
  • শ্বাসকষ্ট,
  •  ক্লান্তি,
  • মাথা ঘোরা,
  • জ্বর,
  • রক্ত বমি,
  • অসহ্য পেটে ব্যথা,
  • জন্ডিসের লক্ষণ।

এক্ষেত্রে আপনি যদি উপরিউক্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া গুলো সম্মুখীন হন সত্বর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন। কেননা দীর্ঘকাল যদি এই সমস্যা অপরিবর্তিত থাকে তাহলে তা আপনার স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে ঘরোয়া প্রতিকার গুলো ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও যেভাবে চলার কথা বলা হয়েছে নিজেরাই যদি সুস্থ সম্মত ভাবে চলা যায় সেগুলো অবলম্বন করে তাহলে চলার চেষ্টা করবেন। কিন্তু যদি পেট ফোলস যদি মারাত্মক আকার ধারণ করে সে ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যার বাড়াবাড়ি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করবেন।

প্রায়শঃ জিজ্ঞাস্য :

অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে কেন পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়?

অ্যালকোহল এর মধ্যে উচ্চ পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, আপনি যদি উচ্চ পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের জন্য গ্রহণযোগ্য না হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পেট ফাঁপার সমস্যায় তাড়াতাড়ি কিসে আরাম পাওয়া যায়?

পেট ফাঁপার সমস্যায় সবার প্রথম পেট ভরে জল খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, যদি তা মৃদু আকারে থাকে।

কখন পেট ফাঁপা নিয়ে চিন্তা করা উচিত?

যখন পেট ফাঁপার সমস্যা দীর্ঘমেয়াদিভাবে চলতেই থাকে তখন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

কখন বুঝবেন পেট ফাঁপা মারাত্মক আকার নিয়েছে?

যখন উপরে উল্লেখিত পেট ফাঁপার কারণে হওয়া পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া গুলো লক্ষ্য করবেন তখন বুঝবেন এই পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার নিয়েছে।

লেবু জল কি পেট ফাঁপা কমায়?

খালি পেটে লেবু জল পান করলে পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

খাবার জল কি পেট ফাঁপা কমায়?

যদি পেট ফাঁপার সমস্যা মৃদু হয় তাহলে খাবার জল পেট ফাঁপা সমস্যা কমাতে পারে।

কোন চা পেট ফাঁপার জন্য ভালো?

দৈনিক গ্রিন টি গ্রহণ করলে পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.