পেটের মেদ কমানোর জন্য ১০টি যোগাসন – Yoga to Reduce Belly Fat in Bengali

by
This post contains affiliate links to products. We may receive a commission for purchases made through these links. Our product selection process.

আজকাল আমাদের লাইফস্টাইল, এক্সারসাইজ না করা, জাঙ্ক ফুড খাওয়া এসব আমাদের শরীরে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করে, তার মধ্যে একটি প্রধান সমস্যা হল ভুঁড়ি হওয়া অর্থাৎ পেটে মেদ জমা। তাই পেলভিক অঞ্চলে ও পিঠে ব্যথা হওয়া শুরু হয়।

তবে সঠিক ডায়েট এবং শরীরচর্চা আপনার পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করবে। আমাদের এই প্রতিবেদনে পেটের চর্বি কমানোর জন্য থাকছে কিছু উপযোগী যোগাসন।

পেটের মেদ কমানোর জন্য ১০টি যোগাসনের তালিকা

১. সূর্য নমস্কার

Shutterstock

১২টি অবস্থান সহ এই সূর্য নমস্কার  নিয়মিত করলে সারা দেহের ওপর এর প্রভাব পড়ে।

কিভাবে করবেন ?

প্রথমে হাত ও পা জোড় করে নমস্কার করার ভঙ্গিতে দাঁড়ান। তারপর হাতের তালুতে তালুতে  খুব জোরে চাপুন যাতে বুকের পেশি শক্ত হয়। তারপর এই চাপ একই রেখে অর্ধচন্দ্রাসনের ভঙ্গিতে হাত তুলে পেছনে বেঁকিয়ে দিন । এরপর সামনে ঝুঁকে হাতদুটি পায়ের সামনে মাটিতে রেখে পদহস্তাসন করুন। এই অবস্থায় হাঁটু ভেঙে বসুন। ওই অবস্থায় ডান পা পেছনে সোজা করে দিন। তারপর হাঁটু থেকে মাথা তুলে সামনের দিকে তাকিয়ে বাঁ পাও পেছনে সোজা করে দিন। এ বার ডনের ভঙ্গিতে হাতের জোরে নামুন। ডন থেকে ধীরে ধীরে উঠুন। বাঁ পা আগের অবস্থানে ভাঁজ করে সামনে নিয়ে আসুন। মাথা নামিয়ে দিন । ডান পা ভাঁজ করে সামনের দিকে নিয়ে  আসুন। নিতম্ব গোড়ালিতে লাগিয়ে বসে পড়ুন । আবার নিতম্ব তুলে সোজা রেখে পদহস্তাসন করুন। এ বার হাত তুলে অর্ধচন্দ্রাসনের ভঙ্গিতে পেছনে বেঁকিয়ে দিন । সেখান থেকে সোজা হয়ে হাত জোড় করে নমস্কার করার অবস্থানে ফিরে আসুন।

উপকারিতা

এই আসনে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সব অঙ্গই জড়িত থাকে, তাই এই আসন নিয়মিত অভ্যাস করলে স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শরীরে এনার্জি ভরপুর থাকে।

মনে রাখবেন, পিরিয়ড চলাকালীন মহিলাদের এটি করা উচিত নয়। এছাড়া যাদের মেরুদণ্ডে সমস্যা, হাই ব্লাড প্রেসার ও কার্ডিওভাসকুলার রোগ আছে তারা করবেন না। প্রেগন্যান্ট মহিলারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন এ ব্যাপারে।

২. কপালভাতি

Shutterstock

কপালভাতি হল একটি জনপ্রিয় যোগাসন। বাচ্চা থেকে বয়স্ক মানুষও এই যোগাসন করতে পারে।

কিভাবে করবেন ?

পা ভাঁজ করে বসুন। ডান হাত ডান হাঁটুর উপরে ও বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর উপর রাখুন। এবার প্রশ্বাস গ্রহণ করুন আসতে আসতে এবং  জোরে পেটে চাপ দিয়ে ভিতর থেকে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। খেয়াল রাখবেন আপনার পেট যেন একইভাবে জোরে ওঠানামা করে। এই ভাবে নিয়মিত পনেরো কুড়ি মিনিট ধরে একইভাবে পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা

তলপেটের পেশি শক্ত হয় এই আসন নিয়মিত অভ্যেস করলে।

মনে রাখবেন, পিরিয়ড চলাকালীন মহিলাদের এটি করা উচিত নয়।

৩. ধনুরাসন

Shutterstock

ধনুরাসন হল একটি সহজ যোগাসন, যা দেহের সব অঙ্গকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

কিভাবে করবেন ?

মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পা অল্প ছড়িয়ে দিন। এবার হাঁটু ভাঁজ করে হাত দিয়ে গোড়ালি টেনে ধরে রাখুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। মাটি থেকে বুককে ধীরে ধীরে উপরে তুলুন। দেখবেন হাত এবং উরুতে টান অনুভব করবেন। বারো থেকে পনেরো সেকেন্ড এইভাবে থাকুন। তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে পা ছাড়ুন। কিছুক্ষন পর একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা

যাদের পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, তাদের জন্য উপকারী। এটি নিয়মিত অভ্যেস করলে পেটের চর্বি কমে যায়।

মনে রাখবেন, পিরিয়ড চলাকালীন মহিলাদের এটি করা উচিত নয়। অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন।

৪. উষ্ট্রাসন

Shutterstock

নিয়মিত অভ্যেস করার জন্য সহজ একটি আসন হল উষ্ট্রাসন। আপনি এই আসন করার সময় পেশিতে স্ট্রেচ পড়ছে বুঝতে পারবেন।

কিভাবে করবেন ?

প্রথমে বজ্রাসনে বসুন। তারপর পুরো শরীরের ভর হাঁটুর ওপর দিয়ে পিছনের দিকে হেলে হাত দুটি দিয়ে দুটি পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে ফেলুন এক এক করে, নাহলে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবেন।  এই ভঙ্গিমায় কুড়ি থেকে তিরিশ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করুন। তারপর আবার বজ্রাসনে ফিরে আসুন। তারপর পনেরো সেকেন্ড অপেক্ষা করে আবার এই যোগাসনের পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা

সারা শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। তলপেটের চর্বি কমে এটি  নিয়মিত অভ্যেস করলে।

মনে রাখবেন, তবে পিরিয়ড চলাকালীন মহিলাদের এটি করা উচিত নয়। মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা থাকলে এটি না অভ্যেস করাই ভালো।

৫. কুম্ভকর্ণাসন

কুম্ভকর্ণাসন শুধু একদিন অভ্যেস করলে আপনি ঠিক ভাবে করতে পারবেন না।  নিয়মিত অভ্যেস করলেই আপনি আসল ভঙ্গিমা সহ  করতে পারবেন।

 কিভাবে করবেন ?

উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে হাতের তালুতে ভর দিয়ে শরীর উঁচু করে দিন। দেখবেন কাঁধের নিচে হাতদুটি রাখুন ও পা দুটো অল্প ফাঁকা করে সোজা করে রেখে দিন। দেহ সোজা রাখার চেষ্টা করুন । এইভাবে কুড়ি থেকে তিরিশ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করুন । তারপর নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে নিজের দেহটা মেঝেতে টানটান করে দিন। একই পদ্ধতি আবার পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা

পেটের চর্বি কমানোর জন্য এটি অনবদ্য। হাতের পেশি শক্ত হয় এটি  প্রতিদিন অভ্যেস করলে

মনে রাখবেন,  হাতের কোনোরকম সমস্যা থাকলে এটি না অভ্যেস করে ভালো।

৬. ভুজঙ্গাসন

Shutterstock

ভুজঙ্গ কথার অর্থ হল সাপ। এর সর্বশেষ ভঙ্গিমাটি সাপের ফনার মতো দেখতে লাগে তাই  আসনটির নাম ভুজঙ্গাসন।

কিভাবে করবেন ?

প্রথমে উপুড় হয়ে দুই পা জোড় করে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটো শরীরের দুপাশে রেখে হাতের পাতা মাটিতে লেগে থাকবে এমন অবস্থানে আসুন। এবার হাত দুটো টেনে নিয়ে এসে হাতের ওপর ভর করে মাথা ওপরে তুলুন। বুক মাটি থেকে ওপরে উঠিয়ে রাখুন। কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পা জোড়া অবস্থায় রাখবেন। এভাবে এই ভঙ্গিমায় এসে দশ থেকে পনেরো সেকেন্ড থাকুন।  একই পদ্ধতি আবার পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা 

তলপেটের চর্বি কমিয়ে ওই অংশের পেশিকে সুঠাম করে। আসনটি নিয়মিত করলে স্পন্ডিলাইটিস, স্লিপ ডিস্ক জাতীয় রোগ থেকে বাঁচায় । ওভারি সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে এটি উপযুক্ত।

মনে রাখবেন,  পিরিয়ড চলাকালীন মহিলাদের এটি করা উচিত নয়। এছাড়া যাদের মেরুদণ্ডে সমস্যা থাকলে তারা করবেন না। প্রেগন্যান্ট মহিলারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন এ ব্যাপারে।

৭. পদহস্তাসন

Shutterstock

এই যোগাসনটি রক্ত চলাচলের জন্য খুবই উপকারী।

কিভাবে করবেন ?

পা জোড়া করে দাঁড়িয়ে দু’ হাত ওপরে তুলে কানের দু’ পাশে ঠেকিয়ে দিন। এবার ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে দু’ হাতের তালু পায়ের আঙুলের সামনের দিকে রাখার চেষ্টা করুন। পারলে মাটিতে রাখুন যেন পায়ের বুড়ো আঙুল ছুঁয়ে থাকে আপনার হাত। এক্ষেত্রে হাঁটু সোজা রেখে কপাল থাকবে দু’ হাঁটুর মাঝখানে । একদিনে এর পূর্ণ ভঙ্গিমা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই নিয়মিত অভ্যেস করা করুন।

উপকারিতা 

হজমশক্তি উন্নত করে  ও তার পাশাপাশি তলপেটের পেশিকে মজবুত করে। স্ট্রেস দূর করে।

মনে রাখবেন, স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে এটি করা উচিত নয়। এটি করার পূর্বে উত্তনাসন নিয়মিত অভ্যেস করলে, এই যোগাসনের পূর্ণ ভঙ্গিমা সহজেই করে উঠতে পারবেন।

৮. পশ্চিমোত্তানাসন

Shutterstock

এই সহজ পদ্ধতির যোগাসন নিয়মিত করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে পেটের চর্বি কমতে কতটা উপযোগী।

কিভাবে করবেন ?

প্রথমে দুই পা সোজা করে ছড়িয়ে বসুন । তারপর দুই হাত সোজা করে ডান হাতের বৃদ্ধা ও তর্জনী দিয়ে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল এবং বাম হাতের বৃদ্ধা ও তর্জনী দিয়ে বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল ধরুন । এবার সামনের দিকে ঝুকুন। সামনের দিকে ঝুঁকে দুই হাঁটুতে মাথা লাগাবেন। এখন দু হাতেরই কনুই ভাঁজ করে দুই পায়ের বাইরের দিকে নামিয়ে পা পুরো সোজা রাখুন। এই ভঙ্গিমায় বুক ও পেটকে পায়ের সাথে লাগিয়ে রাখতে হবে । এইভাবে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড থেকে ধীরে ধীরে শ্বাস ছেড়ে উঠিয়ে নিন মাথা। একই পদ্ধতি আবার পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা 

স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এই যোগাসন। নিয়মিত এটি অভ্যেস করলে পিরিয়ডের কোনো সমস্যা থাকে না।

মনে রাখবেন, মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা, তলপেটে কোনো অপারেশন হলে এই আসনের থেকে দূরে থাকায় ভালো। হাঁপানির সমস্যা থাকলেও এড়িয়ে চলুন এই আসন।

৯. হলাসন

Shutterstock

এই যোগাসনে দেহটি লাঙ্গলের মতো দেখতে লাগে বলে এটি হালসন নামেও পরিচিত।

কিভাবে করবেন ?

প্রথমে দুই পা ছড়িয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার দু হাত শরীরের দু পাশে ছড়িয়ে দিন। হাতের তালু মাটির দিকে ফিরিয়ে রেখে দিন । এবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে দু হাতের উপর শরীরের ভর রেখে দুই পা জোড়া অবস্থায় উপরে ওঠতে থাকুন ধীরে ধীরে। ঘাড়ের কাছের অংশে ভাজ খেয়ে পুরো বুক থেকে পা পর্যন্ত যেন একটি সোজা রেখা বরাবর করে ২ সেকেণ্ড অপেক্ষা করুন।

এবার শ্বাস ছাড়ুন ধীরে ধীরে। তারপর কোমরের কাছে ভাঁজ করে দুটো পাকে জোড়া অবস্থায় মাথার পিছনে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন ও পায়ের বৃদ্ধাঙ্গ মাটির সাথে লাগিয়ে দিন। পা দুটো অবশ্যই সোজা থাকবে এই সময় । এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকুন ও তারপর শবাসনে ফিরে আসুন।

উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এটি  সাহায্য করে। পেট ও কোমরের চর্বি কমতে অনবদ্য। টনসিলের সমস্যা থাকলে এটি সারাতে পারে।

মনে রাখবেন, হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত। বারো বছরের কম বয়সীদের এটি অভ্যেস করা উচিত নয়।

১০. শবাসন

Shutterstock

উপরে উল্লেখিত সব আসন করার পর আপনার শরীরের চাই বিশ্রাম। তাই সবশেষে এই আসন অভ্যেস করা জরুরি।

কিভাবে করবেন ?

কোনো সমতল জায়গায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত পা আলগা করে দিন। চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাস প্রশ্বাস ছাড়তে থাকুন। পুরো শরীরকে রিলাক্স করতে দিন।

উপকারিতা

স্ট্রেস কমাতে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

পেটের মেদ কমাতে উপরে উল্লেখিত এই যোগাসনগুলির সাথে সাথে আপনার ডায়েটকে করে তুলতে হবে ফাইবার যুক্ত। তার সাথে সাথে আপনার দরকার পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম ও জল পান করা। নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।

Was this article helpful?
scorecardresearch