পেঁয়াজের রসের উপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Onion Juice Benefits and Side Effects in Bengali

by

নানা রকম রেসিপির স্বাদ বাড়াতে আমরা রোজই পেঁয়াজ ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি কি জানেন পেঁয়াজের রসও কিন্তু গুণগত মানের দিক থেকে কম যায় না? অনেক রকম জটিল সমস্যায় পেঁয়াজের রস কার্যকর মানা হয়। এর কারণ হল এখানে পেঁয়াজের সমস্ত ঔষধি গুণ মজুত থাকে এবং এটি সেবন করা খুব সহজ। পেঁয়াজ এমন একটা সবজি যা মোটামুটি সব  রান্নাঘরেই মজুত থাকে। গরমের দিনে পেঁয়াজ যেমন শরীর ঠান্ডা রাখে, তেমনি চুলের স্বাস্থ্যরক্ষায় পেঁয়াজ ব্যবহার বহুদিন ধরেই প্রচলিত। প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, সালফার, ভিটামিন বি এবং সি থাকে পেঁয়াজের মধ্যে, তাই এর রসও যে সমান গুণ সম্পন্ন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পেঁয়াজের রসের প্রয়োগ, উপকারিতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে এই আর্টিকেল পড়ুন। আর একটা কথা আগেই বলে রাখা ভালো যে পেঁয়াজের রস আর্টিকেলে উল্লেখ করা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে ঠিকই কিন্তু তার চিকিৎসা নয়। কোনো শারীরিক সমস্যার পূর্ণ চিকিৎসা ডাক্তারের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।

প্রথমে পেঁয়াজের রসের গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, তারপর এই সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য জেনে নেব।

পেঁয়াজের রসের উপকারিতা

হার্ট থেকে ত্বক হোক বা চুল – আমাদের জীবনে বিভিন্ন সমস্যায় পেঁয়াজের রস যেভাবে কাজ করে সে কথা নতুন করে বলার নয়। তাও এখন আমরা আলাদা আলাদা ভাবে জেনে নেব দেহের কোন কোন সমস্যায় পেঁয়াজ তথা পেঁয়াজের রস কীভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে?

১. ডায়াবেটিসের চিকিৎসায়

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পেঁয়াজের রস উপযোগী হিসেবে মানা হয়। প্রিভেনটিভ নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সাইন্সের একটি গবেষণাতেও এই কথাটির উল্লেখ আছে। গবেষণায় বলা হয়েছে যে পেঁয়াজের রস হাইপোগ্লাইসমিক (রক্ত শর্করা কম করার) গুণ সম্পন্ন হওয়ায় টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে উপস্থিত অতিরিক্ত শর্করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। (1) এই তথ্য অনুযায়ী এটা বলা ভুল হবেনা যে পেঁয়াজের রস ডায়াবেটিসের রোগীর জন্যও উপকারী।

২. ব্রণ, অ্যাকনের সমস্যার সমাধানে

অ্যাকনে, ব্রণ, কালো দাগ ছোপ সুন্দর ত্বকের অন্তরায়। ব্রণ, অ্যাকনের সমস্যায় পেঁয়াজের রস লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এক গবেষণায় উল্লেখ করে হয়েছে যে পেঁয়াজের নির্যাস থেকে তৈরি জেল ত্বকের দাগ ছোপ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। পেঁয়াজে উপস্থিত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাংগাল গুণ ত্বকের এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধর্মের প্রভাবে পেঁয়াজের রস ত্বকের ইনফেকশন দূর করে অ্যাকনে সৃষ্টিকারী জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে। (2) এথেকে বলা যায় যে অ্যাকনে সমস্যা দূর করতে পেঁয়াজের রস থেকে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

৩. ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে

ক্যানসার থেকে বাঁচতে পেঁয়াজের রস খুব কার্যকরী। এই কথা ক্যানসার নিয়ে এনসিবিআই ( National Center For Biotechnology Information) -এর এক গবেষণা থেকে জানতে পারা যায় যে পেঁয়াজের রস সেবন জিনোটক্সিসিটি যেটা কিনা দেহের জন্য ক্ষতিকারক একটি রাসা়য়নিক পদার্থ যা দেহে ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়াতে মুখ্য ভূমিকা রাখে, তা কমাতে সক্ষম। (3) পেঁয়াজের রসে রয়েছে কোয়ারসেটিন, অ্যান্থসায়ানিনস, অর্গানসালফারের মত যৌগ যা ক্যানসারের চিকিৎসায় সাহায্য করে। পেঁয়াজের রসের মধ্যে থাকে ফাইবার যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এইসব কারণে প্রমাণিত হয়েছে যে দেহে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ব্যাপারে পেঁয়াজের রস বেশ লাভজনক ফল দেয়। রিসার্চে এও বলা হয়েছে যে যত শক্তশালী পেঁয়াজের ফ্লেভার হয় অর্থাৎ যেসব পেঁয়াজের ঝাঁঝ বেশি, তার কার্য ক্ষমতা তত বেশি হয়। এরপরও খেয়াল রাখতে হবে যে ক্যানসার একটি মারাত্মক রোগ যার পূর্ণ ও সঠিক চিকিৎসা একমাত্র ডাক্তারেরাই করতে পারবেন।

৪. প্রদাহ নাশক হিসেবে

পেঁয়াজের রসের আরেকটি গুণ হল এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞের মতে পেঁয়াজের রসের মধ্যে এনালজেসিক অর্থাৎ বেদনানাশক ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি অর্থাৎ প্রদাহনাশক গুণ বর্তমান। পেঁয়াজের রসে থাকা কোয়ারসেটিন প্রদাহ নাশ করে। এই কারণে পেঁয়াজের রস সেবনে বেদনা ও প্রদাহ দুইই কমে যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ব্যথা ও প্রদাহনাশে এর ক্রিয়া কৌশল বুঝতে গেলে আরও গবেষণা করার দরকার বলে মনে করা হয়। (4)

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে

পেঁয়াজের রসের নানান উপকারিতার লিস্টে একটি উল্লখযোগ্য উপকারিতাও শামিল আছে, আর সেটা হল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। মুরগীর ওপর করা এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে ডিম দেওয়া মুরগীর পেঁয়াজের রস সেবনের জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। (5) তাই দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেঁয়াজের রস যে সাহায্য করে – এটা খুব স্পষ্ট। পেঁয়াজের রসে রয়েছে সেলেনিয়াম নামক এক নিউট্রিয়েন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উন্নত করে। তবে, মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের প্রভাব তা জানতে আরও গবেষণা করার দরকার।

৬. চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে

চোখের দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে পেঁয়াজের রস বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। চোখের এক গবেষণায় এই বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। গবেষণায় জানা গেছে যে পেঁয়াজের রসের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম কনজেক্টিভাইটিস ও ব্লেফেরাইটিসের ( চোখের পাতার প্রবাহ ) মত চোখের সংক্রামক রোগের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। এর সাথে চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে। (6)

৭. নখের ফাংগাল ইনফেকশন ঠিক করতে

অনেকেরই নখে ফাংগাল ইনফেকশন হয়ে থাকে। নখের ফাংগাসকে ঠিক করতে পেঁয়াজের রসের উপযোগিতা রয়েছে। আসলে পেঁয়াজের রস অ্যান্টি ফাংগাল গুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্ডিডা, মালেশেজিয়া, ডার্মেটোফাইটস, এই জাতীয় ফাংগাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হয়। (7) এই কারণে মানা হয় যে নখের ফাংগাস ঠিক করতে পেঁয়াজের রস বেশ উপযোগী।

৮. কানের ইনফেকশন দূর করতে

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে কানে ব্যথা বা কানের ইনফেকশনে পেঁয়াজের রস খুব ভালো কাজ করে। (8) আরও একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে পেঁয়াজের রস হাল্কা গরম করে কানে দিলে কানের ব্যথায় উপশম পাওয়া যায়।  যদিও এই নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন তাই কানে পেঁয়াজের রস ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৯. ভালো ঘুম ও মেজাজের জন্য

পেঁয়াজের রস যেমন গভীর ঘুম হতে সাহায্য করে তেমনই মেজাজ ভালো রাখতেও সাহায্য করে। পেঁয়াজ সম্পর্কে একটি গবেষণা থেকে এটা জানতে পারা যায়। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে পেঁয়াজের নির্যাসে অত্যন্ত কার্যকরী সেডেটিভ (মন শান্ত করে ঘুম ভালো হতে সাহায্যকারী) গুণ আছে। (9) তাই এটা বলা ভুল হবে না যে পেঁয়াজের রস মুড ভালো রাখতে আর ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের রসে পাওয়া যায় ফোলেট নামক এক যৌগ যা অবসাদ দূর করে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যার ফলে মন ভালো থাকে। এই ফোলেট দেহে এপিনেফ্রিন, ডোপামিনের মত ফিল গুড হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে।

১০. প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে

পেঁয়াজের রস প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এনসিবিআই -এর একটি গবেষণায় এটির পরিষ্কার উল্লেখ আছে। এই গবেষণা অনুযায়ী পেঁয়াজের রস পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যার ফলে যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য হয়। অতএব এই তথ্য অনুযায়ী এটা স্পষ্ট যে এটি পুরুষের দেহের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

১১. বলিরেখা থেকে বাঁচতে

একটা বয়সের পর আমাদের ত্বকে বলিরেখা পড়তে থাকে। এটা খুব সাধারণ একটা সমস্যা যেটার সম্মুখীন কম বেশি সব মানুষই হয়ে থাকেন। বলিরেখার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন পেঁয়াজের রসের সাহায্যে। পেঁয়াজের রস নিয়ে এক গবেষণা থেকে এই কথা জানা গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে যে পেঁয়াজের রসের মধ্যে যে ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পদার্থ রয়েছে তা ত্বকের অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। এতে বয়সের ছাপ পড়ে না অর্থাৎ বয়স বাড়ার প্রভাবকে কম করে। বলিরেখা যেহেতু বয়স বাড়ার প্রভাবেই হয়ে থাকে তাই পেঁয়াজের রসকে বলিরেখা কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী হিসেবে মানা হয়। এখন যদিও এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

১২.  চুলের স্বাস্থ্য উন্নতিতে

ছোটবেলা থেকেই আমাদের রাপুনজেলের গল্প শুনে বড়ো হওয়া। সুন্দর, মজবুত, লম্বা চুল পাওয়ার স্বপ্নটার শুরু মনে হয় ওখান থেকেই। কিন্তু বাস্তবে বদলে যাওয়া আবহাওয়া, পরিবেশের দূষণ, অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কারণে চুল উঠে যাওয়া, খুসকির মতো সমস্যাগুলো আমাদের নিত্যসঙ্গী। পেঁয়াজের রস কিন্তু চুলের স্বাস্থ্যর জন্য খুব উপকারী। পেঁয়াজের রস সম্পর্কিত একটি গবেষণায় জানা গেছে যে এটি চুলের বিকাশে সাহায্য করে। এর সাথে সাথে এটি অ্যালোপেশিয়া এরেটার মত চুল পড়ার সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে। (10) এই তথ্য অনুযায়ী পেঁয়াজের রস চুলের বিকাশের জন্য যে ভালো সেটা বলা যেতে পারে। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়, স্ক্যাল্পের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া অকালে চুল পেকে যাওয়া আটকাতেও জুড়ি নেই পেঁয়াজের। পেঁয়াজের রসে যে সালফার থাকে তা কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে চুলকে তাড়াতাড়ি বাড়তে সাহায্য করে।

১৩.  সর্দি কাশির চিকিৎসায়

পেঁয়াজের রস, আদা এবং তুলসি পাতা একসাথে খেলে সর্দি কাশি দূর হয়। এ ছাড়া যাদের দীর্ঘদিন ধরে বুকের মধ্যে কফ জমে আছে তারা প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের রস খেলে উপকার পাবেন। ঠান্ডা লাগার ফলে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য গা ব্যথায় দারুণ কাজ করে।

পেঁয়াজের রসের পুষ্টি মূল্য

পেঁয়াজের রস বিভিন্ন রকমের উপাদানে ভরপুর। চার্ট থেকে পেঁয়াজে উপস্থিত পৌষ্টিক উপাদান ও তার মাত্রা সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন।

পৌষ্টিক উপাদানপ্রতি ৩৯ গ্রামে মাত্রা
জল৪%
ক্যালোরি১১৫ কিলো ক্যালোরি
প্রোটিন৫ গ্রাম
টোটাল ফ্যাট২ গ্রাম
স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড০.৫ গ্রাম
মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড১.৪ গ্রাম
পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড০.৩ গ্রাম

পেঁয়াজের রস কীভাবে ব্যবহার করবেন?

এবার আমরা আলোচনা করবো পেঁয়াজের রস কী কী ভাবে ব্যবহার করা যায়? পেঁয়াজের রস যেভাবে ব্যবহার করতে পারেন সেগুলি হল –

  • সকালবেলা খালি পেটে এক গ্লাস জলের সাথে এক গ্লাস পেঁয়াজের রস সেবন করা যায়।
  • আপনি যদি শুদ্ধ পেঁয়াজের নির্যাস সেবন করেন, তাহলে এক চামচ পেঁয়াজের নির্যাসের সঙ্গে এক গ্লাস জল মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • এছাড়া ত্বক পরিচর্যায় পেঁয়াজের নির্যাস লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • পেঁয়াজের রসে তুলো ডুবিয়ে ভালো করে ভিজিয়ে নিন। এবার তুলোটা চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভালো করে লাগান। লাগানো হলে আঙুল দিয়ে মিনিট দশেক মাথাটা ম্যাসাজ করুন। আরও পনেরো মিনিট পরে প্রথমে চুল হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

এই তো গেল কীভাবে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করবেন, এবার দেখে নেবো কীভাবে সেই পেঁয়াজের রস তৈরি করা যায়।

পেঁয়াজের রস কীভাবে বানাবেন?

বাড়িতে কী করে পেঁয়াজের রস বানাবেন তার প্রণালী দেওয়া হল।

সামগ্রী

১) চারটে মাঝারি আকারের কাটা পেঁয়াজ

২) এক গ্লাস জল

বানানোর পদ্ধতি

  • পেঁয়াজ ও জল একসাথে মিক্সিতে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • এবার খুব ভালো করে পেস্ট করে নিন।  এরপর একটা সুতির পাতলা কাপড়ের সাহায্য নিয়ে রসটা ছেঁকে একটা গ্লাসে আলাদা করে রাখুন।
  • এইভাবে পেঁয়াজের রস তৈরি করে অনায়াসেই ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজের রসের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

পেঁয়াজের রসে যেমন রয়েছে অনেক গুণ, তেমনই এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। পেঁয়াজের রসের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  • পেঁয়াজের রসে ব্লাড সুগার কমানোর গুণ মজুত আছে। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধ খান যারা, তাদের জন্য পেঁয়াজের রস বেশি মাত্রায় সেবন করা ঠিক নয়।
  • পেঁয়াজের রস রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। সুতরাং কারোর যদি রক্তপাতজনিত সমস্যা থাকে তাহলে তার পেঁয়াজের রস সেবন একদম উচিৎ নয়। কোনো সার্জারির অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে অবশ্যই পেঁয়াজের রস সেবন বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।
  • অম্বল ও বুক জ্বালা ইত্যাদি সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের পেঁয়াজের রস সেবন করা উচিৎ না। পেঁয়াজের রস সেবন করলে এই সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যাবে।
  • যাদের ত্বক খুব সেনসেটিভ, তারা পেঁয়াজের রস লাগালে স্কিনের অ্যালার্জির অভিযোগ করতে পারেন।
  • গর্ভবতী মহিলা ও যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান সেইসব মায়েরা পেঁয়াজের রস কম মাত্রায় সেবন করবেন। যেহেতু এসব ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কীরকম হতে পারে সেই নিয়ে এখনও গবেষণা করা হয়নি। তাই সেবনের আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো।

এখন তো জেনেই গেলেন যে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য নয় ত্বক ও চুলের জন্যও পেঁয়াজের রস খুব কার্যকরী। যখন জেনেই গেলেন পেঁয়াজের রসের উপকারিতার কথা, আজ থেকেই ব্যবহার করা শুরু করে দিন। কিন্তু কোনো কিছুই খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা ঠিক নয়। পেঁয়াজের রসও বেশি মাত্রায় সেবন করা ঠিক নয়, এর অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে। পেঁয়াজের রস কীভাবে সহজ উপায়ে বানানো যায় সেটা আগেই বলে দেওয়া হয়েছে। আপনারা এখন খুব সহজেই ঘরে পেঁয়াজের রস বানিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। আশা করি পেঁয়াজের রসের উপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত স্টাইলক্রেজের এই আর্টিকেল আপনাদের ভালো লেগেছে। এই রকমই অন্যান্য তথ্য জানতে পড়তে থাকুন স্টাইলক্রেজ।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন

প্রতিদিন কি পেঁয়াজের রস খাওয়া যায়?

হ্যাঁ, প্রতিদিন সীমিত মাত্রায় পেঁয়াজের রস সেবনে উপকার পাওয়া যায়।

পেঁয়াজের রস খেলে কী হয়?

পেঁয়াজের রস সেবনে শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় লাভজনক কাজ করে।

পেঁয়াজের রস কি সত্যিই কাজ করে?

এই আর্টিকেলে যেভাবে পেঁয়াজের রসের উপকারিতা বৈজ্ঞানিক প্রমাণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে তাতে পেঁয়াজের রস যে সত্যিই কাজ করে এটা অস্বীকার করা যাবে না।

পেঁয়াজের রস কি পেটের চর্বি কম করে?

পেঁয়াজের রসে অ্যান্টি ওবেসিটি অর্থাৎ ওজন কম করে এরকম প্রভাব পাওয়া যায়। তাই পেঁয়াজের রস পেটের চর্বিও কম করতে পারে বলে মনে করা হয়।

কাঁচা পেয়াঁজের রস কি পানযোগ্য?

হ্যাঁ। ঘরোয়া উপায়ে কাঁচা পেঁয়াজের রসই ব্যবহার করা হয়।

পেঁয়াজের রস কি রক্তচাপ কমায়?

হ্যাঁ, পেঁয়াজের রস নিঃসন্দেহে রক্ত চাপ কমায়।

10 Reference

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch