অর্শের কারণ, উপসর্গ এবং ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি | Piles (Hemorrhoids) Causes, Symptoms and Home Remedies

by

অর্শ রোগের ব্যাপারে কথা ব্যাপারে আজও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা জড়তা দেখতে পাওয়া যায়। মানুষজন এই রোগকে অপমানজনক বলে মনে করেন। অনেকে মনে করেন যে অর্শ রোগের সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই ধারণা সবৈব ভাবেই ভ্রান্ত। এই রোগ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেই উদ্ভূত হতে পারে। এবং এর সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সরাসরি সসম্পর্ক রয়েছে। এই প্রবন্ধ থেকে আমরা হেমোরয়েড বা অর্শের ব্যাপারে বিস্তারিত জিনিস জানতে পারবো। অর্শ রোগের কারণ, উপসর্গ এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসাইত্যাদি তথ্য থেকে পাঠক উপকৃত হবেন বলে আশা করা যায়। তবে সমস্যা বাড়াবাড়ি রকমের হলে অবশ্যই সঠিক চিকিৎসার জন্য একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

অর্শ আসলে কী?

পাইলস, অর্শ নামেও পরিচিত। এই রক্ত নালিকা দ্বারা পূর্ণ কোষ মলদ্বারের ভেতর এবং মলাশয় (রেক্টাম) এর শেষ প্রান্তে অবস্থিত। যা মলত্যাগ নিয়ন্ত্রন করে। অর্শের কথা বললে বোঝায় এই নির্দিষ্ট অঙ্গ ফুলে যাওয়া যার ফলে তা আয়তনে বৃদ্ধি পায়। এইভাবে ক্রমবর্দ্ধমান কোষ অর্শের উপসর্গ সৃষ্টি করে এবং একটা বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরী হয়। এবার অর্শের প্রকৃতি বা ধরণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। (1)

অর্শের ধরণ বা প্রকৃতি –

অর্শ বা পাইলস সাধারণত দু ধরণের হয়। একটি হয় অ্যানাসের বাইরে এবং অন্যটা হয় অ্যানাসের ভেতরে। (2)

১। আভ্যন্তরীন অর্শ এটি মলাশয়ের  (রেক্টমের) শুরুতে এবং মলদ্বারের (অ্যানাসের) অভ্যন্তরে হয়। যখন এখানে কোষ বৃদ্ধি পেয়ে তারা বাইরে বেরিয়ে আসে তাকে প্রোল্যাপস বলা হয়। আভ্যন্তরীন হেমোরয়েডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মলত্যাগের সময় রক্তপাত। আভ্যন্তরীন অর্শকে তাদের উপস্থিতি এবং প্রোল্যাপসের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।

গ্রেড ১: নন – প্রোল্যাপসিং হেমোরয়েড বা অর্শ

গ্রেড ২:  প্রোল্যাপসিং হেমোরয়েড ( মলত্যাগের সময় চাপ প্রয়োগ করলে বৃদ্ধি প্রাপ্ত কোষ গুলি বেরিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ঢুকে যায়।)

গ্রেড ৩:  প্রোল্যাপসিং হেমোরয়েড যাতে শল্য চিকিৎসা বা অস্ত্র প্রচারের প্রয়োজন।

গ্রেড ৪:  নন – রিড্যুসেবল প্রোল্যাপসিং অর্শ। যার মধ্যে রয়েছে অ্যাকিউট থ্রম্বোসড ( বর্দ্ধিত হেমারয়েড, যা খুবই ফুলে থাকে এবং যেখান থেকে রক্তপাত হয়। এবং পরবর্তীতে যেখানে রক্ত জমাট বেঁধে থাকে।), এবং ইঙ্কাসিরিটেড অর্শ ( বেদনাদায়ক এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী অর্শ।) ।

২। বাহ্যিক হেমোরয়েড (এক্সটারনাল হেমারয়েড) এই সমস্যা মলদ্বারের বাইরে হয়। এই ধরণের অর্শের ক্ষেত্রে মলত্যাগ করার পর অর্শ সংলগ্ন অংশ পরিষ্কার করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একইসাথে যদি এই অর্শের কারণে বর্দ্ধিত অংশের বাইরে রক্ত জমাট বেঁধে থাকে তাহলে তা খুবই বেদনাদায়ক হয়। এটাকে থম্বোসড এক্সটার্নাল হেমোরয়েড বলা হয়।

অর্শের উপসর্গ

সাধারণ অর্শ খুব একটা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করেনা বলেই মনে করা হয়। কিন্তু যদি রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে তাহলে খুবই বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরী হয় (3) অর্শের উপসর্গ গুলির বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো –

  • মলাশয় থেকে রক্তপাত
  •  অ্যানাস বা মলদ্বারে চুলকুনি
  •  মলদ্বারে ব্যথা যন্ত্রনা বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধা
  •  মলত্যাগের সময় সংশ্লিষ্ট অঙ্গে যন্ত্রনা
  •  মলদ্বারে বাইরে এক বা একাধিক মাংশপিণ্ড তৈরী হয়।

অর্শের কারণ এবং ভয়াভয়তা

যে যে কারণের জন্য অর্শ রোগের সৃষ্টি হয় বলে মনে করা হয় যেগুলি হলো নিম্নরূপ – (4)

  • কোষ্ঠ্য কাঠিন্য
  • গর্ভাবস্থা
  • মলত্যাগের সময় বেশি চাপ প্রয়োগ
  • প্রায়ই ভারী ওজন উত্তোলন করা
  • দীর্ঘ সময় ব্যাপী বসে থাকা, বিশেষ করে শৌচালয়ে
  • কিছু রোগ যেমন সিরোসিস
  • কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য গ্রহণ.
  • মলদ্বার এবং মলাশয়ের কোষ দূর্বল হয়ে যাওয়া যা মূলত বার্ধক্যজনিত কারণে হয়ে থাকে।
  • বাধর্ক্য
  • মেদ বৃদ্ধি।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে অর্শের চিকিৎসা –

এখানে ঘরোয়া পদ্ধতিতে অর্শের চিকিৎসার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলিতে আপনার কোনো অ্যালার্জি নেই সেই সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া দরকার। একবার প্যাচ টেস্ট করে দেখা যেতেই পারে যে এতে আপনার ত্বকে কোনোরকম জ্বালা যন্ত্রনা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে কিনা।

১। সিটজ বাথ –

উপকরণঃ

  • একটি বাথ টব
  • গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • বাথ টবে ৩-৪ ইঞ্চি উষ্ণ জল ঢালুন।
  • আক্রান্ত অংশ ঐ উষ্ণ জলের মধ্যে ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন
  • মনে রাখা দরকার যে বাথ টবের জলে যেনো কোনো ধরণের তরল সাবান বা ফেঁনা জাতীয় পদার্থ যুক্ত না থাকে।
  • দৈনিক ২ – ৩ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যাবে।

কিভাবে কাজ করে

সিটজ এক ধরণের থেরাপি যা গরম জলের মধ্যে মলদ্বার ডুবিয়ে রেখে সম্পন্ন করা হয়। মনে করা হয় এইভাবে গরম জলের মধ্যে মলদ্বার ডুবিয়ে রাখার ফলে আক্রান্ত অংশে সৃষ্ট মাংস পিণ্ডের ব্যথা উপশম হয়। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা ভিন্ন অন্য পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা একান্তভাবেই কাম্য।(5)

২। উইচ হ্যাজেল –

উপকরণঃ

  • উইচ হ্যাজেল ওয়াটার
  • তুলা (প্রয়োজন অনুয়ারী)

ব্যবহার পদ্ধতি

  • উইচ হ্যাজেল ওয়াটারে তুলো ভিজিয়ে আক্রান্ত অঞ্চলে কয়েক মিনিট রাখতে হবে।
  • দৈনিক ৩ – ৪ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

কিভাবে কাজ করে

প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ার জন্য আক্রান্ত অংশে সৃষ্ট মাংসপিণ্ডের জ্বালা যন্ত্রনা অনায়াসেই লাঘব করে। তবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সম্পূর্ণ রূপে এই রোগের মুক্তি ঘটবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। এছাড়া উইচ হ্যাজেল ওয়াটারের পরিবর্তে উইচ হ্যাজেল ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।  (6)

 ৩। টি থ্রি অয়েল –

উপকরণঃ

  • ২ – ৩ ফোঁটা টি থ্রি অয়েল
  • ১ চা চামচ অলিভ অয়েল
  • তুলো প্রয়োজন অনুসারে

ব্যবহার পদ্ধতি

উপরিক্তো দুটি তেল নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে আক্রান্ত অঞ্চলে লাগাতে হবে।

কীভাবে কাজ করে

টি থ্রি অয়েল প্রদাহ নাশক গুণ সম্পন্ন হওয়ার কারণে আক্রান্ত অংশের প্রদাহ দূর করে, ব্যথা উপশম করে। এছাড়াও অ্যান্টি সেপ্টিক বৈশিষ্ট্যের জন্য সংক্রমন প্রতিহত করে। একইসাথে টি থ্রি অয়েল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। এবাদেও একটি প্রাথমিক গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে টি থ্রি অয়েল এবং হায়ালুরনিক অ্যাসিড থেকে তৈরী জেল হেমোরয়েড চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। (7)

৪। অ্যালোভেরা –

উপকরণঃ

অ্যালোভেরা জেল (প্রয়োজন অনুসারে )

ব্যবহার পদ্ধতি

  • অ্যালোভেরা জেল হেমোরয়েড আক্রান্ত অংশে লাগাতে হবে।
  • এছাড়া প্রতিদিন সকালে অ্যালোভেরা জেল পানও করতে পারেন।
  • দৈনিক ১ – ২ বার এই পদ্ধতি অনুসরন করা যায়।

কীভাবে কাজ করে

.অ্যালোভেরাতে উপস্থিত অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারী বৈশিষ্ট্য ব্যথা এবং প্রদাহ দূর করতে কাজ করে। যদিও হেমারয়েডের চিকিৎসায় অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখনও হয়নি তবে এনসিবিআই (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ত্বকে অ্যালোভেরার ব্যবহারকে নিরাপদ বলেই ঘোষণা করেছে। অ্যালোভেরা জেলের পরিবর্তে অ্যালোভেরা ক্রিম ব্যবহার করলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। (8)

৫। নারকেল তেল –

উপকরণঃ

কাঁচা নারকেল তেল (প্রয়োজন অনুসারে )

ব্যবহার পদ্ধতি

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আঙুলের সাহায্যে আক্রান্ত অঞ্চলে এই তেল লাগাতে হবে। ব্যথা এবং মাংস পিণ্ড নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত দৈনিক ২-৩ বার পর্যন্ত এই তেল প্রয়োগ করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

নারকেল তেলে প্রদাহ নাশক এবং অ্যানালজেসিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাংস পিণ্ডের ব্যথা নিরাময় করে এবং একইসাথে প্রদাহ নাশ করে। এছাড়াও নারকেল তেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট রয়েছে যা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন প্রতিহত করে। (9)

৬। রসুন –

উপকরণঃ

  • ৩- ৪ কোয়া রসুন
  • ১ কাপ জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • বাহ্যিক হেমারয়েডের জন্য রসুনের কোয়া খোসা ছাড়িয়ে ১০ মিনিট জলে ফোটাতে হবে।
  • এরপর জল রেফ্রিজারেটারে রেখে ঠাণ্ডা করতে হবে।
  • ঠাণ্ডা জল তুলোয় ভিজিয়ে ১০ – ১৫ মিনিট সময় মলদ্বারের ওপর রাখতে হবে।
  • আভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের জন্য একটা রসুনের কোয়া খোসা ছাড়িয়ে পিষে রেক্টামের ভেতর রেখে দিতে হবে সারা রাতের জন্য।

কীভাবে কাজ করে

রসুন হেমোরয়েডের উপশম করে বলে মনে করা হয়। প্রকৃতপক্ষে রসুনে উপস্থিত অ্যালিকইন নামক যৌগের অ্যাণ্টি ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য হেমোরয়েডের কিছু লক্ষণ যেমন ফোলা ভাব, এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। একইসাথে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন রোধ করে। যেহেতু হেমারয়ডে রসুনের উপকারীতা সম্বদ্ধে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে হেমারয়েডের চিকিৎসা করার পূর্বে প্যাচ পরীক্ষা করে নেওয়া আবশ্যিক।

৭। জত্যাদি তেল

উপকরণঃ

  • ৫ – ৬ ফোঁটা জত্যাদি তেল
  • গরম জল
  • একটি বাথ টব

ব্যবহার পদ্ধতি

  • গরম জলের সাহায্যে বাথ টবের ১/৪ অংশ পূর্ণ করতে হবে
  • এরপর জত্যাদি তেল ঐ জলে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এবার আক্রান্ত অংশ ৫ – ৬ মিনিট সময়ের জন্য ঐ জলে ডুবিয়ে রাখতে হবে।

 কীভাবে কাজ করে

হেমোরয়েড এবং শারীরিক অস্বস্তি দূর করার ক্ষেত্রে এই তেল সহযোগে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এই তেলের প্রয়োগের ফলে হেমোরয়েড দ্বারা সৃষ্ট আভ্যন্তরীণ রক্তপাত প্রতিহত হয়। একইসাথে মাংসপিণ্ডের ক্ষত নিরাময় করে।

৮। ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য –

হেমোরয়েডের সময় প্রধাণ সমস্যা হলো মল নিষ্কাশনের সমস্যা। মলত্যাগের অসুবিধাজনিত কারণেই রক্তপাত হয়। এটি হয় মূলত খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবারের অভাবে। এই কারণেই ফাইবারযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা জরুরী। ফাইবার যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে কোষ্ঠ্য কাঠিন্য দ্বারা সৃষ্ট হেমোরয়েড থেকে কিছুটা স্বস্তি দতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ৩০ – ৩৫ গ্রাম ফাইবার রাখা অত্যন্ত জরুরী। শাক, সবজি, ফল ইত্যাদি থেকে শরীরে প্রয়োজনীয় ফাইবারের সরবরাহ হয়।

৯। টি ব্যাগ –

উপকরণঃ

  • ১ – ২ টি ব্যাগ
  • ১ কাপ গরম জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • এক কাপ গরম জলে চায়ের ব্যাগ কয়েক মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  •  গরম জলের সংস্পর্শে চায়ের ব্যাগ থেকে চায়ের লিকার অপসারিত হলে সেটা তুলোর সাহায্যে আক্রান্ত অংশে ৫ – ১০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখতে হবে।
  •  অথবা চায়ের ব্যাগ গুলি রেফ্রিজারেটারে কয়েক মিনিটের জন্য ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য রাখুন।
  •  ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া চায়ের ব্যাগ গুলি কয়েক মিনিটের জন্য মলদ্বারের ওপর রাখুন। দিনে ২ – ৩ বার এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

মনে করা হয় যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে মলদ্বারের চুলকুনি এবং ব্যথা থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়। যদিও এই বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। তবে এনসিবিআই কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে প্রদাহ নাশ করতে ক্যামোমাইল খুবই উপকারী।

১০। কালো বীজ তেল –

উপকরণঃ

  • ১/২ চামচ কালো বীজ তেল
  • ১ চা চামচ ভিনিগার

ব্যবহার পদ্ধতি

  • ভিনিগার এবং কালো বীজ তেল ভালো ভাবে মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরী করতে হবে।
  • এবার এই মিশ্রণ হেমোরয়েড আক্রান্ত অঞ্চলে প্রয়োগ করতে হবে। কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের জন্য  ( যা মূলত হেমোরয়েডের কারণ) ১ কাপ লিকার চায়ের সাথে ১/২ চা চামচ কালো বীজ তেল পান করা দরকার।

কীভাবে কাজ করে

কালো বীজ তেল অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারী, অ্যানালজেসিক, এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। যে কারণে এই তেলের প্রয়োগের ফলে প্রদাহ এবং ব্যথা নাশ হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে অনায়াসেই হেমোরয়েডের মতন অসুখের ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রতিকার করা যায়।

১১। গ্রীন টি –

উপকরণ

  • ১ – ২ গ্রীন টি ব্যাগ
  • ১ কাপ গরম জল
  • ১/২ চা চামচ মধু
  • ১/২ চা চামচ লেবুর রস

ব্যবহার পদ্ধতি

  • গ্রীন টি ব্যাগ গরম জলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখুন
  • এবার টি ব্যাগ জল থেকে বের করে সেটা খুলে লেবুর রস এবং মধুর সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • দিনে ২ – ৩ বার আক্রান্ত অংশে এই মিশ্রন লাগাতে পারেন।
  • গ্রিন টি, মধু এবং লেবু ছাড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • এছাড়াও গরম টি ব্যাগ আক্রান্ত অঞ্চলে কয়েক মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখা যায়।

কীভাবে কাজ করে

অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য যুক্ত যে কোনো উপাদানই হেমোরয়েড থেকে আরাম দেয়। গ্রীন টিতে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান হওয়ায় সহজেই তা হেমোরয়েডের নিরাময়ে  সহায়তা করে। যদিও বর্ধিত মাংসপিণ্ডে  গ্রীন টি ব্যবহার কতটা উপকারী হতে পারে তা নিয়ে কোন গবেষণা নেই।

অর্শের চিকিৎসা পদ্ধতি –

অর্শের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে

  • ওভার দ্য কাউন্টার কর্টিকোস্টেরয়েড যেমন কোর্টিসেন। এই ক্রীম ব্যথা যন্ত্রনা এবং ফোলা ভাব কম করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
  •  লিডোকাইন, ব্যথা কম করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  •  টুল সফটনার ইত্যাদি

অর্শের চিকিৎসার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি গুলি অনুসরণ করা হয়।

  •  রাবার বাণ্ড লাইগেশান – চিকিৎসকেরা প্রধাণত আভ্যন্তরীন হেমোরয়েডের চিকিৎসার জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন। আভ্যন্তরীন হেমোরয়েডে রক্তপাত এবং প্রোল্যাপিংযের মতন উপসর্গ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে চিকিৎসকেরা বর্ধিত মাংসপিণ্ডের চারপাশে একটা রাবার ব্যাণ্ড রাখেন। এই ব্যাণ্ড রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এইভাবে ১ সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত অংশ আলাদা হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়া এই পদ্ধতি নিজে অনুসরণ না করাই ভালো।
  • স্ক্লোরোথেরাপি – এই থেরাপির সময় চিকিৎসকেরা আভ্যন্তরীন হেমোরয়েড চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ইঞ্জেকশন দেয়। যা হেমোরয়েডকে সংকুচিত করে দেয়।
  • ইনফ্রায়েড ফটোকোয়াগুলেশন – এই পদ্ধতিতে চিকিৎসকেরা একটি ডিভাইস ব্যবহার করেন যা সরাসরি ইনফ্রারেড আলোকে আভ্যন্তরীন হেমোরয়েডে লাগে। যা হেমোরয়েডে সংকোচনে সহায়তা করে।
  • ·         ইলেক্ট্রোকোয়াগুলেশন – চিকিৎসকেরা এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার সময় আভ্যন্তরীন হেমোরয়েডে একটি বৈদ্যুতিক স্রোত পাঠায়। বিদ্যুৎ স্রোতের ফলে বর্ধিত মাংসপিণ্ড সংকুচিত হয়ে যায়।
  • হেমোরয়েডটমি – এটা এক প্রকারের শল্য চিকিৎসা যা আভ্যন্তরীন হেমোরয়েড এবং প্রোল্যাপসিংয়ের কোষ অপসারণ করে। এটা হেমোরয়েডের চিকিৎসার অন্তিম পর্যাইয়ে করা হয় যখন কোনো রকম ওষুধ কাজে দেয়না। চিকিৎসকেরা এই অস্ত্রপ্রচারের সময় রোগীকে অ্যানাস্থেশিয়া বা অচেতন করে তবেই চিকিৎসা করেন।

এছাড়াও এটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কীভাবে হেমোরয়েড এড়ানো যায়।

অর্শ বা হেমোরয়েড এড়ানোর উপায় –

কোষ্ঠ কাঠিন্যের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলেই হেমোরয়েড থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এছাড়াও কতকগুলি প্রয়োজনীয় টিপস দেওয়া হচ্ছে  সেগুলি অনুসরন করলে অনায়াসেই হেমোরয়েডের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যাবে বলে মনে করা হয়।

  • প্রচুর তরল পান করতে হবে।
  •  ফাইবার সমৃদ্ধ ফল, শাক, সবজি, এবং শস্য ব্যবহার করতে হবে।
  •  টুল সফটনার ব্যবহার করতে হবে।
  •  ফাইবার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।
  •  কোষ্ঠ্য কাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য ব্যয়ম করতে হবে।

এই প্রবন্ধে হেমোরয়েড বা অর্শের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি এই ধরণের উপসর্গ দেখতে পান তাহলে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে নিন। এছাড়াও বাড়িতে হেমোরয়েডের চিকিৎসা করা যেতে পারে যা হেমোরয়েডের উপসর্গ হ্রাস করতে সহায়তা করবেতবে গোড়া থেকে ভালোভাবে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী –

হেমোরয়েড এড়াতে কোন কোন খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ এবং কোন গুলি উচিৎ নয়?

হেমোরয়েডে যে যে খাদ্য গুলি গ্রহণ করা উচিৎ সেগুলি হলো – আটায় তৈরী খাদ্য পদার্থ, ন্যাসপাতি, আপেল,        রাসবেরী, শুকনো আলুবখরা, সবুজ কড়াইশুঁটি, রাঙালু, রাজমা ইত্যাদি। যে যে খাদ্য গুলি গ্রহণ করা উচিৎ নয় সেগুলি     হলো  যথা, – পনীর, চিপস, ফ্রায়েড ফুড, আইসক্রীম, মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পদার্থ এবং স্ন্যাক্স, হট ডগ, মাইক্রোওয়েভে তৈরী এবং গরম করা খাদ্য যেমন পাস্তা, পিজা, ম্যাক্রোনি ইত্যাদি।

হেমোরয়েড থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপযোগী যোগব্যায়ম এবং আসন গুলি কী কী?

নিম্নলিখিত ব্যায়ম গুলি নিয়মিত ভাবে অভ্যাস করলে অর্শের সমস্যা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
ভুজঙ্গাসন, ধনুরাসন, মৎসাসন, বজ্রাসন, সর্বাঙ্গাসন ইত্যাদি।

হেমোরয়েডে কে পেটে খিঁচুনী হতে পারে?

হেমোরয়েডে কিছু রোগী পেটে ব্যথা অনুভব করেন। যা মূলত হয় কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের কারণে।

9 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch