রামবুটান এর উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | Rambutan Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

Written by

আজকে আমরা এমন একটি ফল সম্পর্কে আলোচনা করব যেটি হয়তো আমাদের মধ্যে অনেকেই কখনো নাম শোনেনি, এমনকি চোখেও দেখিনি। তবে এই ফলটির বহু গুনাগুন রয়েছে যা সম্পর্কে আজকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। আজকে আমরা রামবুটান নামক একটি ফল সম্পর্কে আলোচনা করব যেটি এক ধরনের সুস্বাদু ফল। এছাড়াও আমাদের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এর বহু ভূমিকা রয়েছে। আসুন তাহলে জেনে নিই রামবুটান কি?

রামবুটান কি?

রাম্বুটান হলো এক ধরনের মাঝারি আকৃতির ফল। এটি মূলত গ্রীষ্মকালীন দেশগুলিতে পাওয়া এক ধরনের ফল। বৈজ্ঞানিকভাবে এর নাম নেফেলিয়াম সিয়াম। এই গাছের ফল গুলোকে রাম্বুটান বলা হয়। এটি মূলত মালে ইন্দোনেশিয়ান অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদ। এছাড়াও এটি রামবুটান, রাম্বুস্তান নামে পরিচিত। এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে প্রাপ্ত লিচুর মতো দেখতে এক ধরনের ফল। প্রকৃতপক্ষে এর মানে হল চুল। এই ফলের গায়ে যেহেতু লোমের মতন চামড়া রয়েছে তাই এই ফলের এরকম নাম। ভিয়েতনামি ভাষায় এটিকে বলা হয় চামচম, যার অর্থ হলো অগোছালো চুল। এই ফলটির চামড়া যেহেতু লোমশ আকৃতির তাই এর এরূপ নাম। রাম্বুটান মূলত মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় ফল হিসেবেই পরিচিত। পরবর্তীকালে আরবে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এটির পরিচয় ঘটে। ১৯১২ সালে ফলটি ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রথম ফিলিপাইনে যায়। আসুন এবার এই ফলটির উপকারিতা গুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

রামবুটান কিসের জন্য ভালো?

এই ফলটি আকারে ছোট আকৃতির হলেও এটি তে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। যা শরীরের অনাক্রমতা বাড়াতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ গুলিকে বের করে দিতে সহায়তা করে। এছাড়াও রাম্বুটানের মধ্যে তামা রয়েছে, যা রক্তনালীগুলোকে এবং রক্ত কোষগুলির স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে লোহার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে কাজ করে। এটি আয়রনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে পরিচিত। এর বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক রাম্বুটানের কি কি উপকারিতা রয়েছে।

রাম্বুটন এর উপকারিতা :

রাম্বুটন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এক ধরনের উপাদান, যা ফ্রি রেডিকেল গুলির সাথে লড়াই করে এবং সেগুলি শরীরে যে অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে তা প্রতিরোধ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, প্রদাহ এমনকি হৃদরোগ। এছাড়াও এর মধ্যে বেশকিছু ভিটামিন রয়েছে যেগুলো শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং এর মন মুগ্ধকর স্বাদ ফলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এবার জেনে নেওয়া যাক এই ফলটির কি কি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে –

১) ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে :

একটি চীনা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, রাম্বুটনের খোসাগুলো অ্যান্টি ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। ডায়াবেটিক ইঁদুরের ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এই খোসা দিয়ে তৈরি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পেয়েছিল। (1)

২) হাঁড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে :

রাম্বুটনের মধ্যে থাকা ফসফরাস শরীরে হাড়ের স্বাস্থ্য কে উন্নত করতে সহায়তা করে। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস। এটি হাঁড় গঠনে এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও রাম্বুটানের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি-এর স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখে।

৩) হজমে সহায়তা করে :

রাম্বুটানের মধ্যে থাকা ফাইবার হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। এটি হজমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতন হজমের সমস্যা রোধ করতেও সহায়তা করে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো অন্তঃপরজীবী গুলোকে হ্রাস করতে সহায়তা করে। সুতরাং এটি ডায়েরিয়ার চিকিৎসাও করে। তবে এ বিষয়ে গবেষণা কম রয়েছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

৪) হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে :

রাম্বুটানের মধ্যে থাকা উচ্চ ফাইবার করোনারি হার্ট ডিজিজ এর ঝুঁকিকে কম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে এটি উভয়ভাবেই হৃদযন্ত্র কে ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।(2)

৫) ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে :

রাম্বুটান হল উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সম্পন্ন একটি ফল। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো প্রদাহের সাথে লড়াই করতে এবং দেহের কোষ গুলোকে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এই ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন সিও এ ক্ষেত্রে সহায়তা করে। এছাড়াও একটি ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যাল গুলিকে হ্রাস করতে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, রাম্বুটানের খোসা ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি কে কম করতে পারে এবং এর বিনাশ ঘটাতে পারে। এছাড়াও এটি লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্য একটি প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায় যে, প্রতিদিন পাঁচটি রাম্বুটান খাওয়া ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে কম করতে পারে। (3)

৬) শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে :

রাম্বুটানের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন উভয়ই রয়েছে। এই দুটি খাদ্য উপাদানই শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও এটি প্রাকৃতিক শর্করার দিকটিও শরীরে বজায় রাখে।

৭) ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে :

রাম্বুটান শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই। তবে এই ফল গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি কম হয়। কেননা এতে শক্তির ঘনত্ব কম। এছাড়া এই ফলের মধ্যে বেশকিছু পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা আরও বেশি সময় ধরে পেটকে ভর্তি রাখতে সহায়তা করে। যা ওজন কম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

৮) ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়তা করে :

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, রাম্বুটানের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। যা শরীরকে অসংখ্য সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

৯) শুক্রাণুর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে :

রাম্বুটানের পাতাগুলি অ্যাপ্রোডিশিয়াক হিসেবে কাজ করে। এই পাতাগুলি জলে সিদ্ধ করে সেবন করলে শরীরের হরমোন গুলোকে সক্রিয় করার পাশাপাশি এগুলি শুক্রাণুর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে সহায়তা করে। যদিও এর নির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই। তবে এটি ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করে নেবেন। (5)

১০) মাথার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে :

রাম্বুটানের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো চুলকানির সমস্যা দূর রাখতে এবং মাথার ত্বকের সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি মাথার ত্বকের পুষ্টি জোগায়। রাম্বুটানের মধ্যে থাকা তামা চুল পড়া কম করতে এবং চুলের রং কে ঘনকালো করতে, অকালপক্কতা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। রাম্বুটানের মধ্যে যে প্রোটিন রয়েছে তা চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। এছাড়া ভিটামিন-সি চুলগুলিকে চকচকে করতে সহায়তা করে। আপনি যদি কেবল চুলে রাম্বুটানের রস প্রয়োগ করতে পারেন এবং তারপর কিছুক্ষন অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নেন এটি চুলকে আরো সুন্দর করে তুলবে। এই বিষয়ে সামান্য গবেষণা রয়েছে যে, রাম্বুটান মাথার ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য উন্নতিতে সহায়তা করে। তবু এটি ব্যবহার করার আগে একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

১১) ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে :

রামবুটান ফলের বীজ গুলি ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ত্বককে মসৃণ করে তুলতে সহায়তা করে। এই বীজগুলো যদি ভেঙে নিয়ে পরিষ্কার করে প্যাক হিসেবে ত্বকে প্রয়োগ করা যায় তাহলে এটি আপনার ত্বককে নরম এবং মসৃণ করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও রাম্বুটান গ্রহণের ফলে এটি আপনার ত্বককে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান হিসেবে কাজ করে। যা ফ্রিরেডিকেল বলে সমস্যা দূর করতে পারে এবং ত্বককে সুস্থ এবং স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পারে।

তাহলে রাম্বুটানের স্বাস্থ্যকর উপকারিতা গুলি জেনে নিলেন। এর প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি লিচুর মতো দেখতে এক ধরনের ফল, তাহলে কি ভাবছেন এবার থেকে খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করবেন কি?

রাম্বুটনের পুষ্টি মূল্য :

প্রতি ১০০ গ্রাম রাম্বুটান এর মধ্যে প্রায় ৮৪ ক্যালোরি থাকে। এছাড়াও এটি পরিবেশনের সময় খুব কম পরিমাণে ফ্যাট থাকে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক 100 গ্রাম রাম্বুটনের মধ্যে কত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান উপস্থিত রয়েছে- (5)

  • জল – ৭৮.০৪ গ্রাম
  • শক্তি – ৮৪ কিলোক্যালোরী
  • প্রোটিন – ০.৬৫ গ্রাম
  • ফ্যাট – ০.২১ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট – ২০.৮৭ গ্রাম
  • ফাইবার – ০.৯ গ্রাম
  • ক্যালশিয়াম – ২২ মিলিগ্রাম
  • আয়রন -০.৩৫ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি – ৪.৯ মিলিগ্রাম।

রাম্বুটন কিভাবে ব্যবহার করা যায়?

ইতিমধ্যেই আমরা রামবুটান ফলের ব্যবহার এবং তার উপকারিতা গুলি সম্পর্কে জেনে নিয়েছি। তবে কেবল ফল নয় এই গাছের অন্যান্য অংশ সমান ভাবে কার্যকরী। এর মধ্যে রয়েছে পাতা, খোসা, বীজ, গাছের ছাল। তাহলে জেনে নিন এগুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন –

পাতা – রামবুটান ফলের পাতায় রোগ নিরাময়ের সুবিধার উপাদান থাকে। এগুলি অ্যানালজেসিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। যার মূল অর্থ হলো এগুলি যেকোনো ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এই গাছের পাতার রস পান করা স্নায়ুকে সুস্থ রাখতে এবং ব্যথা নিরাময় করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই পাতার রস মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং চুলের বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। এই পাতা থেকে রস বের করে মাথার ত্বকে সপ্তাহে তিনবার লাগালে , উপকার পাওয়া যেতে পারে।

বীজ – রামবুটান ফলের বীজের উপকারিতা রয়েছে। তবে সেগুলো কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সাপনিনস নামক যৌগ রয়েছে, যা বিষাক্ত হতে পারে। প্রোটিন এবং শর্করায় পূর্ণ এগুলিকে যেকোনো ধরনের স্ন্যাক্স জাতীয় খাবারে যুক্ত করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অক্সিডেটিভ বৈশিষ্ট্য, যা ত্বক থেকে যেকোন দাগ দূর করতে সহায়তা করে। এই বীজের পেস্ট বানিয়ে ত্বকে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

খোসা – রামবুটান ফলের খোসা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং গ্যালিক এসিড রয়েছে। এগুলি ক্যান্সারবিরোধী এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদান। এই ফলের খোসা গুলি কাঁচা খাওয়া যেতে পারে। এগুলি আমাশয় এবং পেটের রোগ নিরাময়ের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

গাছের ছাল – রাম্বুটান গাছের ছাল গুলি ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে সহায়তা করে।

সুতরাং কেবলমাত্র এই গাছের ফল নয় প্রত্যেকটি অংশই কার্যকরী এবং এর উপকারিতা রয়েছে সেগুলো আপনারা জেনে নিলেন। এবার যেকোনো স্বাস্থ্য উপকারিতার ক্ষেত্রে এগুলি ব্যবহার করতে পারবেন।

কোথায় রাম্বুটান কিনতে পাওয়া যায়?

রামবুটান ফল টি নতুন হলেও হয়তো আমাদের বাজারে এটি কিনতে না পাওয়া গেলেও বেশ কিছু অনলাইন দোকান আছে যেখানে এগুলো কিনতে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে রাম্বুটান কেনার জন্য যেকোনো অনলাইন দোকান সন্ধান করুন। তবে এটি যখন গ্রহণ করবেন খুব বেশি পাকা গ্রহণ না করাই ভালো, কারণ খুব তাড়াতাড়ি এটি অতি পক্ক হয়ে ওঠে, তখন তা খাবার অযোগ্য হয়ে যায়। অতিরিক্ত মিষ্টি হওয়ার ফলে এটি শরীরে তখন উপদ্রব সৃষ্টি করতে পারে।

রাম্বুটান নির্বাচন এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি :

নির্বাচন –

রাম্বুটান কেনার সময় তাজা লাল বা হলুদ বর্ণের উপাদান সন্ধান করুন। এছাড়া এগুলো যেন একটু শক্ত ধরনের হয়। কোন গায়ে দাগ থাকলে সেগুলো গ্রহণ করবেন না। এটি কোন ক্ষতি গ্রস্থ বা অতিরিক্ত পক্ক ফলের চিহ্ন হতে পারে।

সংরক্ষন – এটি কয়েকদিনের জন্য ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে এই ফলগুলো যদি ফ্রিজে রাখেন তাহলে এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বাঁচতে পারে। তবে এগুলোর নিজস্ব গন্ধ চলে যেতে পারে। তাই ফ্রিজে রাখলে পরে যে কোনও কাগজে মুড়ে বা প্লাস্টিকে মুড়ে রাখা উচিত।

রাম্বুটান এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া :

এই ফলটির সেরকম কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া না থাকলেও যেহেতু ফলটি অত্যন্ত মিষ্টি তাই কয়েকটি সর্তকতা অবলম্বন করা যেতেই পারে, সেগুলি হল –

  1. ডায়াবেটিস –  হ্যাঁ, আমরা অ্যান্টি ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্যের জন্য রাম্বুটানের কথা বলেছিলাম তবে এর অন্য একটি দিক রয়েছে রাম্বুটানের রয়েছে ফ্রুকটোজ।  এটি ইনসুলিন প্রতিরোধের ক্ষমতা  এবং ডায়াবেটিস কে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই এটি যদি অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করা হয় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই রাম্বুটানের থাকা ফাইবার রক্তে শর্করা কে যেমন দূর করতে পারে, রক্তে শর্করার ভারসাম্য গুলোকে যেমন সংযমী করে তোলে। তেমনি এর মধ্যে থাকা ফ্রুক্টোজ রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  1. উচ্চ রক্তচাপ – এই ফলটি যদি খুব বেশি পাকিয়ে নিয়ে খাওয়া যায় তাহলে এটি প্রায় চিনির মতো পরিণত হয়। তাই তখন এটি রক্তচাপ জনিত সমস্যা যুক্ত লোকেদের ক্ষতি করতে পারে। তাই এই ফলটি খুব বেশি না পাকিয়ে খাওয়াই ভালো।
  1. বিষাক্ততা – রামবুটান ফলের বীজ যদি একসাথে অনেকগুলো খাওয়া হয়ে যায় তাহলে এগুলি মারাত্মক হতে পারে। তাই এগুলো খাওয়ার সময় অবশ্যই পরিমাণ বুঝে খাবেন।

তাহলে আজকে আমরা একটা নতুন ধরনের ফল সম্পর্কে জানলাম। এবার রামবুটান ফল কে নিজেদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলি গ্রহণ করুন। মাথায় রাখবেন এই ফলটি যদি আপনার নিকটবর্তী দোকানে না পান যেকোনো অনলাইন বাজারেও এটি খোঁজ করতে পারেন এবং যেকোন ধরনের প্রদাহ জনিত রোগ ব্যাধি ত্বক ও চুলের সমস্যা সবকিছু থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় আজই রামবুটন অন্তর্ভুক্ত করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন একটি সুন্দর সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Read our editorial policy to learn more.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.