রেড ওয়াইন খাওয়ার উপকারিতা, এর ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া । Red Wine Benefits and Side Effects in Bengali

by

রেড ওয়াইন আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। কী চমকে গেলেন তো? অবশ্য চমকানোরই কথা। রেড ওয়াইন স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী তা অনেকেরই অজানা। এক পেগ রেড ওয়াইন সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হতে পারে। কারণ চিকিৎসকদের মতে, প্রত্যেকদিন এক পেগ রেড ওয়াইন খেলে অসুখ-বিসুখ দূরে থাকবে। আপনি সুস্থ এবং তরতাজা বোধ করতে পারবেন।

আর যাঁরা জানেন না তাঁদের জন্যে বলি, রেড ওয়াইন কিন্তু কোনও মদ্য জাতীয় বস্তু নয়। নামে ওয়াইন আছে ঠিকই কিন্তু এটি সম্পূর্ণ সুস্বাস্থ্যকর। ওষুধে যেমন শরীরের উপকার হয়, রেড ওয়াইনও ঠিক তেমনই উপকারী। ফলের রস দিয়ে তৈরি রেড ওয়াইনের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং রেসভেরাট্রল নামক উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। আজকের প্রতিবদেন আমরা রেড ওয়াইন খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব। সেইসঙ্গে রেড ওয়াইন কীভাবে তৈরি করা হয়, কীভাবে ব্যবহৃত হয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে নানা খুঁটিনাটি বিষয় জানব।

দ্রষ্টব্য: নিবন্ধে রেড ওয়াইনের ঔষধি গুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা কোনওভাবেই মদ্যপান সমর্থন করি না। মনে রাখবেন মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। রেড ওয়াইন গ্রহণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

রেড ওয়াইন কী এবং এর প্রকারভেদ

রেড ওয়াইন কালো আঙুর থেকে তৈরি করা হয়। যদিও ওয়াইনের রং আলাদা আলাদা হতে পারে। কোনও ওয়াইনের রং বেগুনি হতে পারে, কোনওটির লাল আবার কোনওটি বাদামী রঙের হতে পারে। সাধারণভাবে ব্যবহৃত ওয়াইন কোটসিফালি (Kotsifali) এবং মান্ডিলারি (Mandilari) এই দুটি লাল আঙুর থেকে তৈরি হয়। কোটসিফালি থেকে তৈরি ওয়াইন হালকা রঙের হয়ে থাকে তবে এতে অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি থাকে। একইসঙ্গে মান্ডিলারি থেকে তৈরি ওয়াইনের রং গাঢ় লাল রঙের হয়। এমনটা এন্থোসায়ানিন এবং ট্যানিক উপাদানের কারণে হয়ে থাকে। উভয় উপাদানই আঙুলের রঙে পার্থক্য সৃষ্টি করে (1)।

বিভিন্ন ধরনের রেড ওয়াইন রয়েছে। একটি নিবন্ধে সবগুলি সম্পর্কে বলা সম্ভব নয়। সেই কারণে আমরা এখানে কয়েকটি প্রধান রেড ওয়াইন সম্পর্কে আলোচনা করব। প্রত্যেকটি ওয়াইন নিজ নিজ বিশেষত্বের জন্য পরিচিত (2)।

১. সিরাহ (Syrah) – এই রেড ওয়াইনকে শিরাজও বলা হয়। এই প্রকার কিছুটা মশলাদার এবং গাঢ় লাল রঙের হয়। এটি খুব বেশি পরিমাণে তৈরি হয় না। এই প্রকার রেড ওয়াইন দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো থাকে এবং এর স্বাদ খুব কড়া।

২. মেরলোট (Merlot) – এটি একটি নরম ধরনের রেড ওয়াইন, যা বিশেষ স্বাদটি অনেককেই আকর্ষণ করে। যারা প্রথমবার রেড ওয়াইন খেতে চান তাদের জন্য এটি খুব পছন্দের হতে পারে।

৩. ক্যাবারনেট স্যুইগনন (Cabernet) – এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা রেড ওয়াইনের মধ্যে একটি। যার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে।

৪. ম্যালবেক (Malbec) – এই রেড ওয়াইন ফ্রান্সের বোর্দোয় তৈরি করা হয় এবং প্রায়শই কার্বনেট এবং মেরলোট রেড ওয়াইন মেশানো হয়।

৫. পিনোট নোয়র (Pinot noir) – এটিকে সবচেয়ে সেরা রেড ওয়াইনের মধ্যে গণ্য করা হয়, যা তৈরি করা খুব কঠিন।

৬. জিনফ্যান্ডেল (Zinfandel) – এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের রেড ওয়াইন।

৭. স্যাঙ্গিওভেস (Sangiovese) – এটি ইটালিয়ান রেড ওয়াইন। এর স্বাদ অনেকটা বেরির মতো।

৮. বারবারা (Barbera) – এটি অনেকটা মেরলোট ধরনের। তবে এটি খুব বেশি জনপ্রিয় নয়।

রেড ওয়াইনে এমন কী থাকে, যা এটিকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী করে তোলে?

রেড ওয়াইন মূলত জল, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল এবং পলিফেনল দিয়ে তৈরি করা হয়। ওয়াইনের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা হৃদরোগ এবং বেশকিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। যেমনটা আগেই উল্লিখিত যে, রেড ওয়াইন মূলত আঙুর থেকে তৈরি এবং আঙুরগুলি বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। বিশেষ করে এর রেসভেরাট্রল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। খাবার ও পানীয়র মধ্যে এর উপস্থিতি হার্টের রোগ, কিছু ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম করতে পারে। শুধু তাই নয়, যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্যেও রেড ওয়াইন উপকারী হতে পারে (3) (4)।

রেড ওয়াইনে আরও অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এটি কী কী স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে সে সম্পর্কে আমরা আরও বিশদে আলোচনা করব।

রেড ওয়াইনের উপকারিতা

স্বাস্থ্যের উপর রেড ওয়াইনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

১. হার্টের স্বাস্থ্য এবং কোলেস্টেরলের জন্য রেড ওয়াইনের উপকার : বর্তমানে যা সময় তাতে যে কোনও ব্যক্তির কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আপনি হয়ত জানলে অবাক হবেন যে রেড ওয়াইনে কয়েক চুমুক দিলেই এই শারীরিক সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে পারেন। এনসিবিআই (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজিক) দ্বারা প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে রেড ওয়াইনে রেসভেরাট্রল, প্রোন্টোসায়ানিডিন, কোরেসেটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এই উপাদানগুলি প্রাণী ও মানুষ উভয়েরই মানসিক চাপ করে অ্যাথেরোস্লেরোটিক (Atherosclerotic –ধমনীর একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ) কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর থেকে বলা যেতে পারে যে পরিমিত মাত্রায় রেড ওয়াইন খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কম করতে সহায়ক হতে পারে (5) (6)।

অন্যান্য কিছু গবেষণায় এও প্রমাণিত হয়েছে যে রেড ওয়াইন কোলেস্টেরলের ভারসামন্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে তার মানে এই নয় যে সকলেই রেড ওয়াইন খাওয়া শুরু করে দেবেন। মনে রাখবেন, যদি কেউ কোনও ধরনের মদ্যপান না করেন এবং গুরুত্বর হার্টের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে রেড ওয়াইন খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন (7)।

২. ডায়াবেটিসের জন্য রেড ওয়াইনের উপকারিতা : রেড ওয়াইন ডায়াবেটিসের জন্যও উপকারী হতে পারে। এটি নিশ্চিত করতে, যারা রেড ওয়াইন খান এবং যারা খান না তাদের উপর একটি গবেষণা করা হয়েছিল। এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সীমিত মাত্রায় যারা রেড ওয়াইন খান তাদের শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা হতে দেখা গেছে। যারা রেড ওয়াইন খান না তাদের তুলনায় এদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম। এছাড়াও অন্যান্য বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে রেড ওয়াইন টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম করতে সহায়ক হতে পারে (4)। তবে কেবলমাত্র চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই রেড ওয়াইন আপনার খাদ্যতালিকায় সংযুক্ত করবেন।

৩. উচ্চ রক্তচাপের জন্য রেড ওয়াইনের উপকারিতা : উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক, কিডনির সমস্যা, চোখের সমস্যা হতে পারে (8)। এইরকম পরিস্থিতিতে রেড ওয়াইন সেবন করে হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে আনা যায়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নন-অ্যালকোহলিক রেড ওয়াইন নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। ওয়াইন ধমনীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রেড ওয়াইনে পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই পলিফেনলগুলি আরও উপকারী হয়ে ওঠে যখন এতে অ্যালকোহল থাকে না (9)। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নন-অ্যালকোহলিক রেড ওয়াইন খাওয়া শুরু করা যেতে পারে।     

৪. ক্যান্সার থেকে বাঁচতে রেড ওয়াইনের উপকারিতা : প্রায়শই খবরের কাগজে বা টিভির পর্দায় চোখে পড়ে যে অ্যালকোহল সেবন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এইরকম পরিস্থিতিতে রেড ওয়াইন খেয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যেতে পারে। এটি শুনে আপনি হয়তো হতবাক হতে পারেন। ইউনিভার্সিটি অফ রচেস্টার মেডিকেল সেন্টারের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, রেড ওয়াইনে রেসিভারেট্রল রয়েছে। এটি অগ্নাশয় ক্যান্সার (Pancreatic Cancer) কোষ ধ্বংস করতে পারে। এটি অগ্নাশনয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম করতে পারে (10)। তবে মনে রাখবেন যে এটি অগ্নাশয় ক্যান্সার নিরাময়ের চিকিৎসা নয়। এছাড়াও পশুদের উপর এই নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এটি মানুষের শরীরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে সেই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

পশুদের উপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রেড ওয়াইন খাদ্যনালী ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। এর পিছনে মূল কারণ হতে পারে রেড ওয়াইনে উপস্থিত লিগানানস (লিগানানস – এক ধরনের পলিফেনল)। এছাড়াও রেড ওয়াইনে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য হেলিওব্যাক্টর পাইলোরি (Heliobacter pylori) নামক ব্যাক্টেরিয়া থেকে রক্ষা করে আলসারের ঝুঁকি কম করতে পারে। এছাড়াও এতে উপস্থিত ফ্ল্যাভানয়েড গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের ঝুঁকি কম করতে পারে (4)। এগুলি ছাড়াও রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসিভেরাট্রলেরও অ্যান্টিক্যান্সার গুণ রয়েছে। এই সমস্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রেড ওয়াইন নিয়ে আরও গবেষণা করা দরকার (11)।

মনে রাখবেন যদি কোনও ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তাহলে অবশ্যই আগে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। এটি কেবল মাত্র ঘরোয়া প্রতিকার এবং রেড ওয়াইনের মতো ঘরোয়া প্রতিকারের সাহায্যে ক্যান্সার নিরাময় করা সম্ভব নয়।

৫. লিভারের জন্য রেড ওয়াইনের উপকার : আমাদের আগেই আমরা এটি স্পষ্ট করে দেওয়া উচিত, যদি কেউ ইতিমধ্যে লিভারের সমস্যায় ভুগছেন তাহলে রেড ওয়াইন সেবন করা উচিত নয়। অন্যদিকে যদি লিভারের জন্য রেড ওয়াইনের উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়, তবে একটি গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কম বা পরিমিত মাত্রায় রেড ওয়াইন হেপাটোপ্রোটেক্টিভ (Hepatoprotective) প্রভাবের জন্য উপকারী হতে পারে। এমনটা রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসিভেরাট্রলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব কারণে হতে পারে। এছাড়াও সচেতন থাকুন, যে অতিরিক্ত রেড ওয়াইন গ্রহণের ফলে লিভারের ক্ষতিও হতে পারে (12)। সুতরাং প্রথমে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন, খেতে পারবেন কিনা এবং খেলেও কতটা মাত্রায় খাবেন সে বিষয়ে জানুন।

৬. মস্তিষ্কের জন্য রেড ওয়াইনের উপকারিতা : রেড ওয়াইন মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী হতে পারে। এটি সেবন মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি মস্তিষ্কে প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলে। এমটা রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসিভেরাট্রলের কারণে হয়ে থাকে (4) (13)। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি রেড ওয়াইনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। অতিরিক্ত রেড ওয়াইন খাওয়া স্বাস্থ্যের অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

৭. মানসিক অবসাদে রেড ওয়াইনের উপকারিতা : হতাশা দূর করতেও অল্প পরিমাণে রেড ওয়াইন খাওয়া যেতে পারে। এনসিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, অল্প পরিমাণে রেড ওয়াইন সেবন হতাশা কম করতে পারে। তবে মনে রাখুন অতিরিক্ত রেড ওয়াইন খাওয়ার ফলে হতাশা আরও বেড়ে যেতে পারে (14)। এই নিয়ে আরও গবেষণা করা দরকার। তাই এই বিষয়ে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৮. ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বাড়াতে : ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি শরীর এবং মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, এটি হার্ট সুস্থ রাখতেও প্রয়োজন। যদিও অনেকগুলি খাদ্য থেকে শরীর প্রয়োজনীয় ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করে (15), তবে পরিমিত মাত্রায় রেড ওয়াইন খান তবে এটি উপকারী হতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী অল্প পরিমাণে রেড ওয়াইন সেবন করায় তাদের শরীরে উচ্চ পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া গেছে। এটি তাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল যারা আগে কখনও ওয়াইন সেবন করেননি। যদিও এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন (16)। গবেষণার ভিত্তিতে যদি কেউ রেড ওয়াইন খেতে চান, তাহলে আগে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

৯. চোখের জন্য রেড ওয়াইনের উপকারিতা : যদি চোখের জন্য রেড ওয়াইন খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়, তাহলে এটি চোখের জন্যও উপকারী হতে পারে। এটি আমরা যা বলছি তা নয়, বিজ্ঞানীদের দ্বারা গবেষণায় বলা হয়েছে। ইঁদুরের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে রেড ওয়াইনের একটি মূল উপাদান রেসভারট্রল শরীরে গ্লুটাথিওন অর্থাৎ এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের স্তর বাড়িয়ে দৃষ্টি সম্পর্কিত সমস্যার ঝুঁকি কম করতে সহায়ক হতে পারে (17)।

রেসভেরাট্রল (Resveratrol) চোখের লেন্সগুলিতেও প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলতে পারে (18)। এগুলি ছাড়াও এটি চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া চোখের সমস্যা, ছানি এবং অন্যান্য চোখের সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করতে পারে। এই গবেষণা এখন কেবলমাত্র পশুদের উপর করা হয়েছে। সুতরাং মানুষের চোখের উপর রেড ওয়াইন কতটা উপকারী হতে পারে সেবিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

১০. প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে : শরীরকে সুস্থ এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ইমিউনিটি সিস্টেম অর্থাৎ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা সঠিক হওয়া জরুরি (19) (20)। অ্যালকোহল এবং ইমিউনিটি পাওয়ারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে যথেষ্ট তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। একই সঙ্গে এনসিবিআইয়ের প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, পলিফেনল সমৃদ্ধ পানীয়গুলিতে ওয়াইন এবং বিয়ার রয়েছে। কম থেকে মাঝারি পরিমাণে ওয়াইন সেবন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে পারে (21)। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেক চিকিৎসক, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে রেড ওয়াইন সেবন উচিত নয় বলে মনে করেন। আসলে এর অত্যধিক গ্রহণের ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষমতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণে এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

১১. ভালো ঘুমের জন্য : নিদ্রাহীনতাও একটি বড় সমস্যা, যা শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রেড ওয়াইনের ভালো ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে। আপনি ইতিমধ্যে জেনে গেছে যে আঙুর থেকে ওয়াইন তৈরি হয় এবং আঙুরের মধ্যে মেলাটোনিন নামক একটি হরমোন থাকে। এই হরমোন ভালো ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে (22)। এর থেকে বলা যেতে পারে যে অনিদ্রা কাটাতে এটি সেবন করতে পারেন। যদি এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভাব রয়েছে। তাই সবচেয়ে ভালো ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই এটি ব্যবহার করুন।

১২. হাড় শক্ত করতে : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর নানা অসুখ-বিসুখের কবলে পড়তে পারে। এর মধ্যে হাড়ের সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে হাড়ের যত্ন নেওয়া এবং সঠিক খাওয়াদাওয়া জরুরি। হাড় সুস্থ রাখতে ওয়াইন উপকারী হতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, অল্প পরিমাণে ওয়াইন সেবন হাড়ভাঙা বা হাড়ের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। ওয়াইনে প্রচুর পরিমাণে ফেনলিক যৌগ, ফাইটোস্ট্রোজেন এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা হাড়ের জন্য উপকারী হতে পারে (23)। এই বিষয়ে আরও গবেষণা করা দরকার।

১৩. দাঁতের জন্য রেড ওয়াইন খাওয়ার উপকারিতা : রেড ওয়াইনের উপকারিতা সম্পর্কে বললে বলতে হয় এটি দাঁতের জন্যেও উপকারী। দাঁতে গহ্বর সৃষ্টি করে এমন ব্যাক্টেরিয়া এবং স্ট্রেপ্টোকোকাস অপসারণে রেড ওয়াইন উপকারী হতে পারে। রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসভেরাট্রল দাঁতের সমস্যা এবং ব্যাক্টেরিয়াজনিত কারণে সমস্যাগুলিকে কম করতে সহায়ক হতে পারে (24)। রেড ওয়াইন খাওয়ার ফলে দাঁতে দাগ বসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দাঁতের জন্য রেড ওয়াইন ব্যবহারের আগে আপনার চিকিৎসেকর সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

১৪. ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায় : একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, রেড ওয়াইনের মধ্যে উপস্থিত রেসভেরাট্রল বৈশিষ্ট্য প্রদাহ কম করতে পারে যা ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এর কারণে ঘটে (25)। ন্যাশনাল হার্ট অ্যান্ড লাঙ্গস ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে ধূমপান সিওপিডির প্রাথমিক কারণ এবং এই রোগটি অপরিবর্তনীয়। একটি গ্রীক গবেষণায় দেখা গেছে যে দু’গ্লাস ওয়াইন একটি সিগারেটের ফলে ধমনীতে ক্ষতির কিছুটা কম করে।

অন্য আরেকটি গবেষণা অনুযায়ী, রেসভেরাট্রল পালমোনারি হাইপারটেনশন এর চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে (26)। যদিও এই বিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

১৫. পারকিনসন্স রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে : ইউরোপীয় জার্নাল অফ ফার্মাকোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী রেসভেরাট্রল, কোষ ও স্নায়ুকে সুরক্ষিত করতে পারে এবং পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কের ক্ষতিও কম করতে পারে। ইঁদুরের উপর করা গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছিল।

মস্তিষ্কের কোষগুলিকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে রেসভেরাট্রল কার্যকরী। একটি অ্যামেরিকান গবেষণায় বলা হয়েছে যে রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসভেরাট্রল এবং কোয়ারসেটিন পারকিনসন্স রোগীদের মধ্যে নিউরোপ্রোটেকশন সরবরাহ করতে পারে (27)। যদিও এই বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।

নিউরোটক্সিন (যা পারকিনসন্স রোগের সূত্রপাতের সঙ্গে জড়িত) দ্বারা সৃষ্ট আঘাতগুলি থেকে রক্ষা করতেও রেড ওয়াইন সহায়ক হতে পারে (28)।

১৬. ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায় : গবেষণা অনুযায়ী, রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসভেরাট্রল এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি অন্ধত্ব প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে (29)। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়াইনে থাকা রেসভেরাট্রল চোখের রক্তনালীগুলির নিয়ন্ত্রণের বাইরে বৃদ্ধি রোধ করে। এটি ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং বয়স সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন রোধ করতে পারে (30)।

রেসভেরাট্রল শরীরে গ্লুটাথিওনের মাত্রা বাড়িয়ে ছানি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম করতে পারে (31)।

অন্যান্য গবেষণা অনুযায়ী সবুজ বা লাল অথবা কালো রঙের আঙুর (যা দিয়ে ওয়াইন তৈরি করা হয়) ছানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ম্যাজিক বুলেটের মতো কাজ করতে পারে (32)।

১৭. স্থূলত্ব রোধ করে : গবেষণা বলছে যে রেড ওয়াইনের রেসভেরাট্রল ক্ষতিকারক ফ্যাটকে ক্যালোরি-বার্নিং ব্রাউন ফ্যাটে রূপান্তরিত করতে পারে। সেইসঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ডায়েট স্থূলত্বেক বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে (33)। রেসভেরাট্রল ডায়েটরি ফ্যাটগুলির জারণকে বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে বাধা দেয়।

১৮. উজ্জ্বল ত্বক এবং অ্যান্টি এজিং : রেড ওয়াইন কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, ত্বকের জন্যও উপকারী হতে পারে। রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেসিভেরাট্রল ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করতে পারে. এছাড়াও এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি কারসিনোজেনিক বৈশিষ্ট্য ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে (34)। শুধু তাই নয়, রেসিভেরাট্রল ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্কিন ক্যান্সারের মতো নানা ত্বক সম্পর্কিত সমস্যা থেকেও রক্ষা করতে পারে। ত্বকে এর অন্যান্য প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য খুঁজে পেতে অন্যান্য গবেষণা চলছে (35)।

১৯. ব্রণর সমস্যা : যেমনটা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি যে, রেড ওয়াইন ত্বকের জন্যেও উপকারী হতে পারে। ত্বকে ফুসকুড়ি, ব্রণর মতো সমস্যাকে একেবারে এড়িয়ে চলা যায় না। এই সমস্যায় রেড ওয়াইন উপকারী হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা খুবই সীমাবদ্ধ। রেড ওয়াইনে নানা পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে রেসিভারেট্রল রয়েছে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থেরাপির মতো কাজ করে ব্রণর সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। রেসিভেরাট্রল ত্বকের উপর ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাব কম করতে সাহায্য করতে পারে (36)। এছাড়াও রেসিভেরাট্রলের অ্যান্টি-ব্রণযুক্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা পিম্পলস দূর করতে পারে (37)। যদিও এই মুহূর্তে গবেষণার অভাবে সঠিকভাবে বলা মুশকিল যে রেড ওয়াইন ব্রণর সমস্যা সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করতে পারে।

২০. চুলের যত্ন : মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে চুলের উপরও রেড ওয়াইনের উপকারিতা রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস রেড ওয়াইন ব্যবহার করলে স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটে। এটি চুলের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলি কমাতে পারে। সেইসঙ্গে বলে রাখি, চুলের জন্য রেড ওয়াইনের উপকারিতার উপর তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই। তাই ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং চুলের যত্ন নিতে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

অন্যান্য খাবারের মতো রেড ওয়াইনের মধ্যেও প্রচুর পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা এটিকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী করে তোলে। এবার আমরা রেড ওয়াইনে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলি সম্পর্কে জানব।

রেড ওয়াইনের পুষ্টিগত মান

নীচে রেড ওয়াইনের পুষ্টিকর উপাদানগুলির তালিকা দেওয়া হল (38)।

পুষ্টিকর উপাদানমাত্রা প্রতি ১০০ গ্রাম
জল৮৩.৪৯ গ্রাম
এনার্জি৮৫ ক্যালোরি
প্রোটিন০.০৭ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট২.৬১ গ্রাম
সুগার০.৬২ গ্রাম
ক্যালসিয়াম৮ মিলিগ্রাম
আয়রন০.৪৬ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম১২ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১২৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম৪ মিলিগ্রাম
জিঙ্ক০.১৪ মিলিগ্রাম
কপার০.০১১ মিলিগ্রাম
সেলেনিয়াম০.২ মাইক্রোগ্রাম
থায়ামিন০.০০৫ মিলিগ্রাম
রাইবোফ্লাভিন০.০৩১ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন০.২২৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি ৬০.০৫৭ মিলিগ্রাম
ফোলেট, টোটাল১ মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট, ফুড১ মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট, ডিএফআই১ মাইক্রোগ্রাম
কোলিন, টোটাল৫.৭ মিলিগ্রাম
ক্যারোটিন, বিটা১ মাইক্রোগ্রাম
লুটেইন + জিয়াজেন্থিন৬ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন কে০.৪ মাইক্রোগ্রাম
অ্যালকোহল, ইথাইল১০.৬ গ্রাম

 এবার জানুন রেড ওয়াইন কীভাবে তৈরি হয়। নিবন্ধের এই অংশে রেড ওয়াইন তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

রেড ওয়াইন কীভাবে তৈরি করা হয়

যদি আমরা রেড ওয়াইন কীভাবে তৈরি হয় সে সম্পর্কে কথা বলি, তবে এর প্রক্রিয়াটি বেশ আকর্ষণীয়। আমরা নীচে এটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

রেড ওয়াইন তৈরির প্রক্রিয়া

১. ডেস্টেমিঙ্গ প্রক্রিয়া (Destemming Process) : সবার প্রথম কালো আঙুর গাছ থেকে তুলে আনা হয় এবং ওয়াইনারিগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আঙুর তুলে আনার সময় গাছের পাতা ও ডালও থেকে যায়। এগুলি ওয়াইনের স্টেটকে স্বাদহীন অথবা আরও কড়া করে তুলতে পারে। তাই ডেস্টেমিঙ্গ প্রক্রিয়া চলাকালীন ডালপালা ও পাতা আলাদা করা হয়।

২. ক্রাশিং (Crushing) : ডেস্টেমিঙ্গ প্রক্রিয়ার পর আঙুরগুলিকে চটকে নেওয়া হয়। আঙুর কতটা ক্রাশ করা হবে তা নির্ভর করে ওয়াইন প্রস্তুতকারকের উপর। পিষ্ট মিশ্রণটি পাইপের মাধ্যমে একটি বড় স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রের মধ্যে ঢালা হয় এবং ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়।

৩. ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়া (Fermentation Process) : ফারমেন্টেশন চলাকালীন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, কারণ ফারমেন্টেশনের সময় প্রচুর তাপ বের হয়। যদি এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে ওয়াইনের স্বাগ তেতো এবং আরও খারাপ হতে পারে। এই প্রক্রিয়া শক্ত এবং তরল পৃথক করা হয় অর্থাৎ রস ফল থেকে আলাদা করা হয়। আঙুর থেকে রস বের করার প্রক্রিয়াটি একটি মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন, এটি ম্যালোল্যাকটিক ফারমেন্টেশন নামেও পরিচিত। এই প্রক্রিয়াতে ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাবের কারণে আঙুরে উপস্থিত ম্যালক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে যায়। তারপর রেড ওয়াইন ফিল্টার করে অন্য পাত্রে বের করা হয়। তারপর ওয়াইন বোতলে ঢালার আগে কোনও স্টেনলেস স্টিল বা কাঠের তৈরি পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। স্বাদ সম্পর্কিত কোনও ত্রুটি এখানে সংশোধন করা হয়।

৪. ফিলট্রাশন (Filtration) : সব শেষে রয়েছে ফিলট্রাশন বা পরিস্রাবণ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ওয়াইনের মধ্যে কোনও ব্যাক্টেরিয়া এবং অপ্রয়োজনীয় সুক্ষ পদার্থগুলিকে অপসারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়াটির পরে রেড ওয়াইন শেষ পর্যন্ত কর্ক স্টপার্সের সঙ্গে কাচের বোতলগুলিতে ঢেলে রাখা হয়।

রেড ওয়াইন কীভাবে বাছবেন এবং বাড়িতে স্টোর করবেন?

অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে ভালো রেড ওয়াইন কীভাবে বাছবেন? সেটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কীভাবে সংরক্ষণ করবেন? আপনার মনেও যদি এই প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে জেনে নিন রেড ওয়াইন কেনার এবং দীর্ঘদিন সঞ্চয় করার উপায়গুলি।

ট্যানিন (এক ধরনের পলিফেনল) – ওয়াইনে ট্যানিন যত কম থাকে, এর স্বাদ তত হালকা হয় এবং এতে খুব বেশি নেশা হয় না। সুতরাং কম ট্যানিনযুক্ত ওয়াইন বেছে নিন, বিশেষ করে যারা প্রথমবার ওয়াইন খেতে যাচ্ছেন। কম ট্যানিনযুক্ত ওয়াইনগুলি হল পিনোট নোয়র (Pinot Noir), বারবেরা (Barbera), এবং স্যাঙ্গিওভেস (Sangiovese)। একইসঙ্গে উচ্চ ট্যানিনযুক্ত ওয়াইনগুলির বিকল্প রয়েছে – ক্যাবারনেট স্যুইগনন (Cabernet Sauvignon), সিরাহ (Syrah) এবং নেববিওলো (Nebbiolo)।  

লেবেলিং – চেক করুন কোন আঙুর দিয়ে ওয়াইন তৈরি করা হয়েছে এবং কোনও অঞ্চল থেকে এসেছে। ওয়াইন কেনার আগে লেবেল ভালো করে পড়ুন।

ব্র্যান্ড – ওয়াইন কেনার সময়, ওয়াইনের ব্র্যান্ডটির কথা মনে রাখবেন। চেষ্টা করুন কেবলমাত্র বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার।

মিশ্রণ – আপনাকে বলে রাখি যে বেশিরভাগ রেড ওয়াইন মিশ্রিত হয়। আপনি আপনার পছন্দমতো ব্লেন্ড ওয়াইনটি বেছে নিন।

বডি – এখানে আমরা বলতে চাইছি কোন ব্যক্তির জন্য কতটা হালকা এবং কতটা গাঢ় হতে পারে। ওয়াইন বডি তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যে ওয়াইনে সবচেয়ে কম অ্যালকোহল রয়েছে সেটি খুব সহজেই মুখে দ্রবীভূত হয়ে যায়, এটি হালকা বডি ওয়াইন। যার মধ্যে একটু অ্যালকোহল রয়েছে, মাঝারি বডি এবং যার মধ্যে বেশি অ্যালকোহল রয়েছে সেটি হেভি বডির মধ্যে আসে।

ওক – রেড ওয়াইন প্রায়শই ওকের মধ্যে ফরমেন্টেড করা হয়। এতে ওয়াইনে ভালো টেক্সচার আসে।

ভিন্টেজ – ওয়াইন যত পুরানো হবে তত ভালো হবে। সেই জন্য কেনার সময় আপনার পছন্দের রেড ওয়াইনটি কত পুরানো সেটি অবশ্যই দেখুন।

মূল্য – এছাড়াও ওয়াইনের দাম অবশ্যই মনে রাখবেন। বিশ্বের অন্যতম দামী পানীয়র মধ্যে রয়েছে ওয়াইন।

কীভাবে সংরক্ষণ করবেন ?

  • রেড ওয়াইনের গুণমান এবং স্বাদ বজায় রাখতে যথাযতভাবে স্টোর করা প্রয়োজন। যেহেতু এতে অল্প পরিমাণে অ্যালকোহল রয়েছে তাই এটি খারাপ হওয়ার ভয় থাকে, সেক্ষেত্রে অনেক বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
  • রেড ওয়াইনের বোতল কিছুটা বেঁকিয়ে রাখুন, যাতে এর কর্ক ভিজে থাকে। বোতলটি খাড়া করে রাখলে কর্ক শুকিয়ে যায়, এটি ওয়াইনকে নষ্টও করতে পারে।
  • সাধারণভাবে অনেকে বিশ্বাস করে ওয়াইন যত পুরানো হবে তত ভালো হবে। ওয়াইনের স্বাদ বয়সের সঙ্গে আরও ভালো হয়, তবে সমস্ত ওয়াইনের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। বেশিরভাগ রেড ওয়াইন তাড়াতাড়ি ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। এগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার ফলে আরও খারাপ হতে পারে। এই ধরনের ওয়াইনের স্বাদ পুরানো হওয়ার সঙ্গে বদলায় না। তবে ভালোভাবে স্টোর রাখলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
  • রেড ওয়াইন সবসময় সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ তা ওয়াইনের স্বাদ নষ্ট করতে পারে। ওয়াইনের মান বজায় রাখতে এটি গাঢ় রঙের বোতলে সংরক্ষণ করুন।
  • আপনি কোনও বাক্সে ভরে রেড ওয়াইনের বোতল রাখতে পারেন অথবা কোনও কোনও কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে পারেন। অ্যালকোহলকে রাসায়নিক, খাদ্য এবং অন্যান্য ঘরোয়া জিনিসপত্র থেকে দূরে সংরক্ষণ করা উচিত। বোতলের কর্কের মধ্যে ছোটো ছোটো ছিদ্র থাকে। যা সহজে অন্য গন্ধ শুষে নিতে পারে। যা ওয়াইনের স্বাদ নষ্ট করতে পারে।
  • ওয়াইনের গুণমান বজায় রাখতে তাপমাত্রা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রেড ওয়াইন পরিবেশন করার জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে হওয়া উচিত। কারণ গরম ওয়াইন পরিবেশন করায় অ্যালকোহলের স্বাদ আরও বেশি পাওয়া যায়। একইসঙ্গে বেশি ঠান্ডা রেড ওয়াইনের স্বাদ বেশি কড়া, তিতকুটে এবং তীব্র স্বাদযুক্ত হয়।
  • ওয়াইন পরিবেশনের আগে বোতলটি কিছুক্ষণ খাড়া করে রাখুন, যাতে ওয়াইনের মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম কণাগুলি স্থির হয়ে যায়।
  • একবার একটি বোতল খোলার পর সেটি দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন। কারণ রেড ওয়াইনের মধ্যে অক্সিজেন ঢুকতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়াইনের গুণমান খারাপ হতে শুরু করে।
  • আপনি এটিকে এক বা দু’দিনের জন্য ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করতে পারে। ওয়াইন পরিবেশন করার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে উপযুক্ত তাপমাত্রায় পৌঁছাতে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • রেড ওয়াইনের স্বাদ উপভোগ করতে, সবসময় ওয়াইন কাচের গ্লাসে পরিবেশন করুন।

এবার রেড ওয়াইন ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিন।

রেড ওয়াইন কীভাবে ব্যবহার করবেন ?

রেড ওয়াইন বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। নীচে আমরা সেই সম্পর্কে আলোচনা করব –

  • সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হতে পারে যখন আপনি এটি কোনও রান্নায় ব্যবহার করবেন। এর ব্যবহারে খাবার আরও সুস্বাদু হয়ে উঠবে। রেড ওয়াইন আপনি ম্যারিনেট, মশলা অথবা ফ্লেভার এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • রেড ওয়াইনের ব্যবহার মূলত ডেজার্ট হিসেবে করা যেতে পারে।
  • রেড ওয়াইন শুধুই সেবন করতে পারেন।
  • রেড ওয়াইন দিয়ে বিশেষ কিছু রেসিপি তৈরি করা যেতে পারে।
  • রেড ওয়াইন দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে মাখতে পারেন। রেড ওয়াইনের সঙ্গে দই এবং মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে। রেড ওয়াইনে ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে একবার অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখুন এটি আপনার ত্বকে স্যুট করছে কিনা।
  • আপনি চাইলে শুধু রেড ওয়াইন ত্বকের উপর লাগাতে পারেন।
  • রেড ওয়াইন চুলেও লাগাতে পারেন। চুল ধুয়ে নেওয়ার পর রেড ওয়াইন সামান্য কন্ডিশনারের সঙ্গে মিশিয়ে লাগিয়ে নিন এবং কয়েক মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।

এতক্ষণ রেড ওয়াইন সম্পর্কে নানা তথ্য জানলেন, এবার জানুন রেড ওয়াইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে। যা অ্যালকোহলের কম বা বেশি মাত্রার উপর নির্ভর করে। যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ওয়াইন খাওয়া হয় তবে এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা সমস্যা ঢেকে আনতে পারে।

রেড ওয়াইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রেড ওয়াইন খাওয়ার যেমন নানা উপকারিতা রয়েছে, ঠিক তেমনই অতিরিক্ত ওয়াইন খাওয়ার ক্ষতিকারক প্রভাবও রয়েছে। সেগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল –

  • রেড ওয়াইন অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে এর প্রতি আসক্তি জন্মাতে পারে।
  • রেড ওয়াইনে অ্যালকোহল থাকে। অতিরিক্ত ওয়াইন খাওয়ার ফলে লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে (39)।
  • গর্ভবতী মহিলা এবং যারা সন্তানকে স্তন্যপান করান তাদের ওয়াইন খাওয়া এড়ানো উচিত। অ্যালকোহল সেবন গর্ভস্থ শিশুর জন্য নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর থেকে ফিটাল অ্যালকোহল সিন্ড্রোম (fetal alcohol syndrome) দেখা দিতে পারে। এটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে (40)।
  • এটি অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে স্থূলত্ব, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে (41)।
  • জীবনধারাতে পরিবর্তন হতে পারে, যা পারস্পরিক সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে (41)।

রেড ওয়াইন ব্যবহারের পাশাপাশি রেড ওয়াইন সেবনের সঠিক পদ্ধতি এবং পরিমাণ সম্পর্কেও নীচে আলোচনা করা হল।

রেড ওয়াইন কীভাবে খাবেন ?

  • সবার আগে আপনার পছন্দসই রেড ওয়াইন বেছে নিন।
  • তারপর সঠিক ওয়াইন গ্লাস বেছে নিন।
  • তারপর ওয়াইনের বোতলটি সঠিকভাবে খুলুন এবং ওয়াইন গ্লাসে পরিবেশন করুন।
  • এবার গ্লাসটি হালকা নাড়ুন, গন্ধ শুকে নিন, তারপর এটি সেবন করুন।
  • ওয়াইনের স্বাদ উপভোগ করতে এটি ঠান্ডা অবস্থায় খান।

রেড ওয়াইন কতটা মাত্রায় খাবেন ?

এখন প্রশ্ন কতটা পরিমাণে রেড ওয়াইন খাওয়া ঠিক। এখানে আমরা পাঠকদের অ্যালকোহল সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছি। যেহেতু ওয়াইনের মধ্যেও অ্যালকোহল রয়েছে সেটি মাথায় রেখে তথ্য দেওয়া হল। মনে রাখবেন, আমাদের এই প্রতিবেদন কোনওভাবেই অ্যালকোহল সেবনের প্রচার করে না। এখানে আমরা উদ্দেশ্য কেবলমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে সঠিক তথ্য দেওয়া (7)।

মাত্রা :

মহিলারা দিনে প্রায় ১১৮ মিলিলিটার ওয়াইন খেতে পারেন।

একইসঙ্গে, পুরুষরা প্রায় ২৩৬ মিলিলিটার ওয়াইন খেতে পারেন।

নোট : ওয়াইন কতটা খাবেন তার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে নিজের নিজের স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। তাই সবচেয়ে ভালো যারা যারা রেড ওয়াইন খাওয়ার কথা ভাবছেন তারা প্রথমে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক, আমাদের প্রতিবেদন কোনওভাবেই অ্যালকোহল সেবনের প্রচার করে না।

প্রতিবেদনে রেড ওয়াইনের উপকারিতা সম্পর্কে জানার পর অনেকে হয়ত এটিকে নিজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছেন। কিন্তু মনে রাখবেন যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন না, তারা এটিকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেবেন না। রেড ওয়াইন খাওয়ার সুবিধা যেমন আছে, অসুবিধাও আছে। স্বাস্থ্যের উপর এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সবার আগে আপনার বয়স এবং স্বাস্থ্যের কথা জানিয়ে চিকিৎসের সঙ্গে পরামর্শ করুন আদ্যৈও রেড ওয়াইন খেতে পারবেন কিনা। অতিরিক্ত ওয়াইন খাওয়ার ফলে মদ্যপানের প্রতি আসক্তি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই উপরে উল্লিখিত রেড ওয়াইন খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি এবং সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে দেওয়া তথ্য অনুসরণ করতে হবে। সীমিত পরিমাণে ওয়াইনের ব্যবহার উপকারী হতে পারে। পাঠকদের জন্য আমাদের অনুরোধ রইল ওয়াইন সঠিকভাবে গ্রহণ করুন এবং তেমন কোনও প্রয়োজন না হলে কেবলমাত্র আনন্দ উপভোগের জন্য এটি খাবেন না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

রাতে একগ্লাস ওয়াইন খাওয়া কী স্বাস্থ্যকর?

পরীক্ষা অনুযায়ী ওয়াইনের মধ্যে উপস্থিত ইথানল এবং পলিফেনলগুলি একসঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কার্ডিওভাসকুলার রোগগুলি, বেশিরভাগ হৃদরোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এছাড়াও রাতে একগ্লাস ওয়াইন খেলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেসভেরাট্রল হার্টের জন্য সুস্বাস্থ্যকর হতে পারে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।

ওয়াইন পরিবেশনের অনুকূল তাপমাত্রা কী?

ওয়াইন পরিবেশনের জন্য পানীয়র সঠিক তাপমাত্রা হওয়া প্রয়োজন। রেড ওয়াইনের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং হোয়াইট ওয়াইন ৮ ডিগ্রি থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পরিবেশন করুন। রেড ওয়াইন পরিবেশন করার কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে বোতলের কর্কটি খুলে রাখুন। হোয়াইট ওয়াইন সবচেয়ে ভালো যদি ঠান্ডা পরিবেশন করা হয়।

রেড ওয়াইন কী ভেগান?

সব ওয়াইন কিন্তু ভেগান নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রসেসিং এবং ফারমেন্টেশনের সময় এমন কিছু উপাদান ব্যবহৃত হয় যা অ্যানিম্যাল-ফ্রেন্ডলি এবং ভেগান ওয়াইন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

রেড ওয়াইনে অ্যালকোহলের পরিমাণ কত?

রেড ওয়াইন সাধারণত গাঢ় রঙের আঙুল পিষে এবং ফারমেন্টিং করে তৈরি করা হয়। অনেক ধরনের রেড ওয়াইন রয়েছে, যাদের স্বাদ ও রং আলাদা। সাধারণ ওয়াইনগুলির মধ্যে রয়েছে, সিরাজ, মেরলোট, ক্যাবারনেট স্যুইগনন, পিনোট নোয়র এবং জিনফ্যান্ডেল। অ্যালকোহলের পরিমাণ সাধারণত ১২-১৫% মতো থাকে।

রেড ওয়াইনের স্বাদ কেমন?

ব্ল্যাকবেরি, র‍্যাস্পবেরি সস, লিকোরাইস, কোকোয়া, জুনিপার বেরি এবং মিনারেলের সুগন্ধ পাওয়া যায়। ওয়াইন মিষ্টি স্বাদযুক্ত তবে এই মিষ্টি স্বাদের ভারসামন্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ট্যানিন প্রয়োজন।

প্রতিদিন রেড ওয়াইন খাওয়া কী ঠিক?

রেড ওয়াইনের স্বাস্থ্যের উপর উপকারিতা নিয়ে কিছু সময়ের জন্য বিতর্কিত হয়েছিল। অনেকে বিশ্বাস করেন যে প্রতিদিন এক গ্লাস ওয়াইন খাওয়া স্বাস্থ্যকর। আবার অনেকে মনে করেন ওয়াইন কিছুটা ওভাররেটেড। গবেষণায় বারবার বলা হয়েছে যে সীমিত মাত্রায় রেড ওয়াইন সেবন করলে হৃদরোগ সহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা কম হতে পারে।

রেড ওয়াইন কী লিভারের জন্য খারাপ?

অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন লিভারের জন্য ক্ষতিকারক। প্রতিদিন ৩০ গ্রাম অ্যালকোহল (২-৩ গ্লাস ওয়াইন) সেবনের ফলে লিভারের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকী শেষ পর্যায়ে সিরোসিস নামে পরিচিত লিভারের রোগ হতে পারে।

41 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch