সামুদ্রিক লবণের উপকারীতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Sea Salt Benefits and Side Effects

by

খাদ্যে লবণের উপস্থিতি স্বাদ বদল করে দেয়। তবে নিশ্চই সেটা পরিমিত পরিমাণ। প্রয়োজনের তুলনায় সামাণ্য কম বা বেশি হয়ে গেলে খাবারের স্বাদ বদল করে দেয় লবণ। সুষম পরিমাণ লবণ প্রতিদিন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। সুতরাং সেভাবে দেখলে লবণ রান্না ঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হয়। কালো লবণ হোক বা সাদা লবণ অনেক ধরনের লবণ আছে, যার মধ্যে সামুদ্রিক লবণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার বহু শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার অনায়াস সমাধান করে দেয়। সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ থেকে আমরা সামুদ্রিক লবণের ব্যবহার এবং সামুদ্রিক লবণের উপকারিতা সম্পর্কে বিশদে জানতে পারবো।

সামুদ্রিক লবণ আসলে কী?

আমরা সকলেই জানি যে যে সমুদ্রের জল লবণাক্ত হয়। এই জল থেকে যে লবণ উৎপন্ন হয়, যাকে সামুদ্রিক লবণ বলা হয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই সামুদ্রিক লবণ উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন রঙের হয় এই সামুদ্রিক লবণ এবং তা বাজারে কিনতেও পাওয়া যায়। সামুদ্রিক লবণ তৈরী করার পর, এটি পরিষ্কার করা হয় যাতে এটি রান্না এবং অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

সামুদ্রিক লবণের প্রকারভেদ –

সামুদ্রিক লবণ বিভিন্ন প্রকারের হয়। সেগুলি হলো যথাক্রমে –

১। হিমালয়ের সামুদ্রিক লবণ বিশুদ্ধ সামুদ্রিক লবণের প্রসঙ্গ উঠলেই প্রথমেই আসে হিমালয়ের সামুদ্রিক লবণের কথা। এই লবণ পৌরাণিক সময় থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই লবণের রঙ গোলাপী। এই লবণ ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

২। লবণাক্ত বা সল্টিক সাগর থেকে নিষ্কাশিত সামুদ্রিক লবণ লবণাক্ত সাগরের জল থেকে এই লবণ উৎপাদিত হয়। এই সামুদ্রিক লবণ ধূসর রঙের হয়, যা অনেক দিন পরেও স্পর্শ করার সময় আর্দ্র অনুভব করে। এই ধরণের সামুদ্রিক লবণ মস্তিষ্ক এবং রক্তচাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়।

৩। চকচকে সামুদ্রিক লবণ এটা অন্যান্য লবণের তুলণায় মিহি এবং কেলাসিত হয়ে থাকে। এই লবণ সহজেই গলে যায়। অন্যান্য লবণের তুলণায় এই লবণে খনিজ উপাদাণের পরিমাণ অনেক কম হয়।

৪। ফ্লের দে সেল সামুদ্রিক লবণ পর্তুগীজ এবং ফরাসী ভাষায় এই লবণকে, লবণ ফুল বলা হয়। কারণ এই লবণ আকারে অনেকটা ফুলের মতন হয়। পূর্বে এই লবণ লোক্সেটিভ এবং নোনতা করার জন্য ব্যবহৃত হত পরবর্তীতে এটি রান্না করতেও ব্যবহার করা হয়।

৫। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জীয় সামুদ্রিক লবণ এই লবণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ থেকে উৎপন্ন হয়। এই কারণে এটি হাওয়াইয়ান সামুদ্রিক লবণ নামে পরিচিত। এই লবণ কালো এবং লাল রঙের হয়। এই লবণ অত্যন্ত দুর্লভ হয় এবং হাওয়াইয়ান শহরের বাইরে খুব কমই দেখা হয়।

সামুদ্রিক লবণের উপকারীতা –

সামুদ্রিক লবণের একাধিক উপকারীতা রয়েছে। সেগুলি হলো নিম্নরূপ –

১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে – সামুদ্রিক লবণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ইমিউন সিস্টেমে উপস্থিত ইমিউন সেল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। লবণে উপস্থিত সোডিয়াম টি কোষের বিকাশে সাহায্য করতে পারে। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও সহায়তা করে। (1)

২। হার্টের স্বাস্থ্য এবং হৃদস্পন্দন উন্নত করে – মনে করা হয় যে সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। এছাড়াও, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করাও সামুদ্রিক লবণের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। কারণ সামুদ্রিক লবণ সোডিয়াম, ক্লোরাইড এবং পটাশিয়াম ধারণ করে। এই উপাদান গুলি স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশী সক্রিয়ভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে। অবশ্য এটা নিশ্চিত করার জন্য কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৩। পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়ক এবং ওজন হ্রাসক – সামুদ্রিক লবণ পরিপাক ক্রিয়া উন্নত করতে এবং ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  এই সব সম্ভব হয় কারণ এতে স্বাভাবিক লবণের চেয়ে সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। সোডিয়াম খাদ্য হজম করার পাশাপাশি মেদ হ্রাস করে। (2) (3)

৪। মধুমেহ বা ডায়বিটিস রোগ নিয়ন্ত্রক – সামুদ্রিক লবণের একাধিক উপকারীতা গুলির মধ্যে মধুমেহ বা ডায়বিটিস রোগ নিয়ন্ত্রন হলো অন্যতম। তবে সামুদ্রিক লবণের কোন কোন বৈশিষ্ট্যর কারণে মধুমেহ নিয়ন্ত্রিত হয় সেই সম্পর্কে এখনও কোনো সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। (4)

৫। হাঁপানি বা অ্যাস্থমা প্রতিরোধক – সামুদ্রিক লবণ অ্যাস্থমা বা হাঁপানি রোগের চিকিৎসায় খুবই উপাদেয় বলে মনে করা হয়। বস্তুত, মানুষ বিশ্বাস করে যে জল পান করার পর জিহ্বায় এক চিমটি সামুদ্রিক লবণ রাখলে তা ইনহেলারের মতই কার্যকর হতে পারে। যদিও এটা নিশ্চিত করার জন্য কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৬। মাংস পেশির খিঁচুনী প্রতিরোধক – যারা ব্যায়াম করেন তাদের অধিকাংশই পেশী খিঁচুনির সমস্যা সম্পর্কে অবগত। যখন আপনি ব্যায়াম করেন, শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট (এক ধরনের সোডিয়াম) ঘামের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে যায়। যার ফলে পেশির সংকোচন বা ক্র্যাম্প হয়। সামুদ্রিক লবণে ইলেক্ট্রোলাইটের প্রাচুর্য পাওয়া যায়, যা এই সমস্যার অনায়াসে প্রতিরোধ করে। (5)

৭। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া উন্নত করে – সামুদ্রিক লবণে সোডিয়াম, ক্লোরাইড এবং পটাশিয়াম ইত্যাদি ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। এই সব ইলেক্ট্রোলাইট স্নায়ুতন্ত্রকে আরো ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। যদি স্নায়ুতন্ত্র ভাল কাজ করে, তাহলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও উন্নত হবে। অতএব মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সামুদ্রিক লবণ গ্রহণ অত্যন্ত কার্যকরী। (6)

৮। রিউমাটায়েড আর্থ্রাইটিস – একটি গবেষণা সূত্রে জানা গেছে যে স্নানের জলে সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সমস্যা দূর করতে পারে। এটা সম্ভব হয় কারণ সামুদ্রিক লবণে রয়েছে প্রদাহ নাশক উপাদান। যা আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে পারে। (7)

৯। এক্সফোলিয়েটার রূপে কাজ করে – সামুদ্রিক লবণ এছাড়াও এক্সফোলিয়্যান্ট হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সামুদ্রিক লবণ সমৃদ্ধ জল ব্যবহার করলে ত্বকে উপস্থিত মৃত কোষ সহজেই অপসারিত হয়ে যায়। এছাড়াও এটি ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। (8)

১০। শরীরে পিএইচ এর স্তর নিয়ন্ত্রক – আপনার শরীরের পিএইচ মাত্রা যদি স্থিতিশীল না হয় তাহলে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ। একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে সামুদ্রিক লবণে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে।

১১। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক – সাধারণ লবণ স্থিত সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধাণ একটি কারণ হিসেবে মনে করা হয়। সামুদ্রিক লবণ নিয়মিত ব্যবহৃত লবণ চেয়ে কম সোডিয়াম পাওয়া যায়। যে কারণে সামুদ্রিক লবণ গ্রহণ করলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা কম হয়। (9)

১২। সোরায়সিসের চিকিৎসায় উপকারী – সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার সোরিয়াসিসের সমস্যার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ সামুদ্রিক লবণ সমুদ্রের জল থেকে তৈরী করা হয়। (10)

১৩। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের নিরাময় – অস্টিওআর্থ্রাইটিস খুবই বেদনাদায়ক একটি অসুখ। লবণে অতিরিক্ত পরিমাণ সোডিয়ামের উপস্থিতি এই অসুখের প্রকোপ বাড়িয়ে তোলে। তাই এই অসুখ থেকে সহজে মুক্তি পেতে হলে অবিলম্বে খাদ্য তালিকায় সাধারণ লবণের পরিবর্তে সামুদ্রিক লবণ অন্তর্ভূক্ত করুন। (11)

১৪। অবসাদ থেকে মুক্তি দেয় – কিছু মানুষ মনে করেন সামুদ্রক লবণ মানসিক অবসাদ এবং বিষণ্ণতার উপশম করে। সামুদ্রিক লবণের ব্যবহার শরীরে সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন নামে হরমোন তৈরী করে। এই হরমোন মানব শরীরকে আরামদায়ক ঘুমের সুযোগ করে দেয়। আর নিশ্ছিদ্র ঘুম মানসিক অবসাদ দূর করতে সহায়তা করে। অবশ্য সামুদ্রিক লবণ ব্যবহারের কারণেই এমনটা হয় এই বিষয়ে এখনও অবধি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৫। ডি-হাইড্রেশান প্রতিরোধক – সোডিয়াম আমাদের শরীরের জলস্তরের মাত্রা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর শরীরে সোডিয়ামের অভাব ঘটলেই ডি হাইড্রেশান দেখা যায়। সামুদ্রিক লবণে পর্যাপ্ত পরিমাণ না হলেও কিছু পরিমাণ সোডিয়াম থাকে যা শরীরের জলস্তরের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। (12)

১৬। রাইনোসিনিটিস রোগের চিকিৎসায় উপকারী – একটি গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে সামুদ্রিক লবণ রাইনোসিনিটিস রোগের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। রাইনোসিনিটিস হলো নাসারন্ধ্রের মধ্যে সৃষ্ট একটি ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ। সামুদ্রিক লবণের ব্যবহার করলে নাসারন্ধ্রের ব্যাক্টেরিয়া সৃষ্টির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। (13)

১৭। মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষক – মুখ গহ্বরের সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সামুদ্রিক লবণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা দাঁতের ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করে এবং দাঁতের গঠন মজবুত করে তোলে। (14)

১৮। পায়ের ব্যথা উপশমক – কখনও কখনও অনেকটা পথ হাঁটলে বা একটানা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ে ব্যথা হয়। সামুদ্রিক লবণ জলে মিশিয়ে সেই জলে পা ডুবিয়ে রাখলে পায়ের ব্যথা উপশম হয়। অবশ্য এই সম্পর্কে এখনও অবধি কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

১৯। ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে – সামুদ্রিক লবণ ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষ্ণসাগরের থেকে উৎপাদিত লবন জলে মিশিয়ে সেই জলে স্নান করলে ত্বকের মৃত কোষ সহজেই অপসারিত হয়ে যায়। এছাড়াও ত্বক ময়শ্চারাইজ করতে কাজ করে। উপরন্তু, ত্বকে রুক্ষতা এবং ফোলা ভাব দূর করতে পারে। এর একমাত্র কারণ হিসেবে মনে করা হয় যে সামুদ্রিক লবণে ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতি।

২০। চুল ঝরা প্রতিরোধক – সামুদ্রিক লবণ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক লবণ মিশ্রিত একটি প্রলেপের সাহায্যে মাথার ত্বক মালিশ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। যদিও এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা পাওয়া যায়নি। তবুও এই মিশ্রণ ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া দরকার।

সামুদ্রিক লবণের পৌষ্টিক গুরুত্ব

সামুদ্রিক লবণের পৌষ্টিক উপাদান গুলি হলো নিম্নরূপ-

পৌষ্টিক উপাদানপরিমাণ
শক্তি৫০০ কিক্যাল
প্রোটিন২৫ গ্রাম
মোট লিপিড (ফ্যাট)২৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট২৫ গ্রাম
ফাইবার২৫ গ্রাম
ক্যালসিয়াম৫০০ মিলিগ্রাম
আয়রণ৯ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম১০০০মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি ১২৩০ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ২৫০০ আইইউ
কোলেস্টেরল১২৫ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম২.৯ মিলিগ্রাম/গ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম৩.৯ মিলিগ্রাম/গ্রাম

সূত্র – (15) USDA

সামুদ্রিক লবণ বনাম টেবিল লবণ

সামুদ্রিক লবণ এবং টেবিল লবণের গুণ এবং মানে প্রায় একইরকম হয়। সামুদ্রিক লবণ থেকে প্রাপ্ত সোডিয়াম বেশ উপকারী হয়ে থাকে। তবে এই দুটি লবণের মধ্যে প্রধাণ পার্থক্য হলো এদের স্বাদের।

  • সামুদ্রিক লবণ – সামুদ্রিক লবণ সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত করে উৎপাদিত হয়।
  • টেবিল লবণ – টেবিল লবণ মাটি খুঁড়ে বের করা হয়। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ থেকে খনিজ পদার্থ গুলি অপসারিত করা হয়। বেশিরভাগ টেবিল লবণে আয়োডিন যোগ করা হয় যা শরীরে থাইরয়েড হরমোণ ক্ষরণে ভারসাম্য রক্ষা করে।

সামুদ্রিল লবণের ব্যবহার –

সামুদ্রিক লবণ বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। সেগুলি হলো নিম্নরূপ –

  • শাক সব্জির সাথে এটা যোগ করে ব্যবহার করা যায়।
  • সামুদ্রিক লবণের সাহায্যে লেমোনেড প্রস্তুত করা যায়।
  • স্যালাডের সাথে সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
  • আচার তৈরীর সময় সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • চিঁড়ের পোলাও জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতেও সামুদ্রিক লবণের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

কখন গ্রহণ করা যেতে পারে

সব ধরণের খাবারের সাথেই সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তাই এটা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।

কতটা পরিমাণে গ্রহণ করা যায় – দৈনিক ২৩০০ মিলিগ্রামে কম পরিমাণ সোডিয়াম গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

সামুদ্রিক লবণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া –

সামুদ্রিক লবণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি সম্পর্কে এবার জেনে নেওয়া যাক।

  • সামুদ্রিক লবণে পর্যাপ্ত পরিমাণে সোডিয়াম পাওয়া যায়। উচ্চ মাত্রায় সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধাণ একটি কারণ বলে মনে করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা যায়। এছাড়াও হৃদযন্ত্রের বৈকল্য সৃষ্টি হয়।
  • প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে।

আমরা প্রতিদিন যে সব খাবার খাই তাতে আমরা লবণ ব্যবহার করি। অতএব, সঠিক লবণ বেছে নেওয়াও প্রয়োজন, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত। এই প্রবন্ধটি পড়ার পর, আপনি হয়ত বুঝতে পেরেছেন যে সামুদ্রিক লবণ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। নানাবিধ রোগের সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে এই লবণ। আশা করা যায় এই প্রবন্ধ পাঠককে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদাণের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রতিদিনের ব্যবহৃত লবণের চেয়ে সামুদ্রিক লবণ কী বেশি স্বাস্থ্যকর?

যেহেতু সামুদ্রিক লবণে সোডিয়ামে মাত্রা অত্যন্ত কম হয় তাই সামুদ্রিক লবণ প্রতিদিন ব্যবহৃত লবণের চেয়ে স্বাস্থ্যকর হয়।

স্বাস্থ্যকর লবণ কি?

সামুদ্রিক লবণের একাধিক ধরণ রয়েছে। যার মধ্যে হিমালয়ান সামুদ্রিক লবন সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সামুদ্রিক লবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সামুদ্রিক লবণযুকক্ত জলের সাহায্যে স্নান করলে কী উপকার পাওয়া যায়?

সামুদ্রিক লবণাক্ত জল দিয়ে স্নান করলে শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া অপসারিত হয়। একই সাথে, আপনার জয়েন্ট বা গাঁটের ব্যাথা এবং পেশী ব্যথার উপশম হয়।

15 Reference

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch