সাইনাস কী, প্রাথমিক লক্ষণ এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে মুক্তির উপায় – Sinusitis Symptoms and Home Remedies in Bengali

by

সাইনোসাইটিস বা সাইনাস বর্তমান জীবনযাত্রায় এটি খুবই সাধারণ একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কমবেশি অনেকেই আমরা এই সমস্যায় ভুক্তভুগি। সারাক্ষণ নাক-মাথা ভার লাগে, মাথায় কপালে প্রচণ্ড যন্ত্রণা এবং অস্বস্তি বোধ হয়। এছাড়াও নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ, মুখে ফোলা ভাব ইত্যাদি নানা উপসর্গ দেখা দেয়। সাইনাসের প্রধান কারণ হচ্ছে ঠাণ্ডা আবহাওয়া। বিশেষ করে বর্ষাকালের স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়ে। অ্যালার্জি, ইনফেকশন থেকেও সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাইনোসাইটিস বা সাইনাস কী ?

প্রথমেই বলা দরকার, সাইনোসাইটিস বা সাইনাস কিন্তু কোনও রোগ নয়। সাইনাস হল আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে অবস্থিত প্রকোষ্ঠ, যার কাজ ভেন্টিলেশন অর্থাৎ বায়ু চলাচল প্রক্রিয়াকে সঠিক রাখা (১)। ঠাণ্ডা লেগে কিংবা অ্যালার্জির কারণে যখন সেই ভেন্টিলেশনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে তখন সাইনাসের সমস্যা দেখা দেয়। প্রচলিত ভাষায় তা “সাইনাস” এবং ডাক্তারি পরিভাষায় “সাইনোসাইটিস” নামে পরিচিত।

মস্তিষ্কের প্রকোষ্ঠগুলোর ঝিল্লিপর্দায় যখন বায়ু চলাচল যখন স্বাভাবিক হয় না অথবা মিউকাস জমে তখন প্রচণ্ড প্রদাহ (জ্বালা) করে। সেখান থেকে সাইনাসের যন্ত্রণা শুরু হয়। এক্স-রে এর মাধ্যমে যখন সাইনাস অঞ্চলটি ঘোলাটে দেখায় তখন চিকিৎসকেরা এই সমস্যা বুঝতে পারেন (২)

সাইনাসের প্রকারভেদ

সাইনাসকে এই ধরণগুলিতে শ্রেণীবিভক্ত করা যেতে পারে :

অ্যাকিউট (তীব্র কিন্তু অল্পস্থায়ী), ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে

সাব অ্যাকিউট (তীব্র কিন্তু অল্পস্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার মাঝামাঝি), ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে

ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী), ১২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং মাসের পর মাস এমনকী কয়েক বছর ধরে চলতে পারে

রিকারেন্ট অ্যাকিউট (বার বার ঘটা তীব্র কিন্তু অল্পস্থায়ী), বছরে একাধিক বার সমস্যা দেখা দেয় (৩)

আক্রান্ত সাইনাসের অবস্থান অনুসারে –

সাইনোসাইটিসের ফলে মুখমণ্ডলের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা অনুভূত হয়। মুখমণ্ডলের ভেতর ৪ রকম সাইনাস দেখা যায়।

১) কপালের পিছনদিকে অস্থির যে গহ্বর থাকে, তাকে বলা হয় ফ্রন্টাল সাইনাস।

২) মুখের ভেতর অস্থির যে গহ্বর থাকে, তাকে বলা হয় ম্যাক্সিলারি সাইনাস।

৩) চোখ আর নাকের মাঝখানের মৌচাকের মতো যে সাইনাস থাকে, তাকে বলা হয় এথময়েড সাইনাস।

৪) আমাদের নাকের ঠিক পিছনে একটি ফাঁকা জায়গা থাকে, তাকে বলা হয় স্ফেনয়েড সাইনাস।

সাইনোসাইটিসের ফলে ব্যক্তির যে কোনও সাইনাস আক্রান্ত হয়। রোগের প্রকোপ বাড়লে ধীরে ধীরে অন্য সাইনাসেও রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

সাইনাসের কারণ

সাইনাসের ভেতরের ঝিল্লির মধ্যে তীব্র জ্বালা অনুভব হয় তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে। বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন –

  • সাইনাসের প্রধান কারণ ঠাণ্ডা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া
  • দাঁত, চোখ, নাকের অসুখের থেকে সাইনোসাইটিস হতে পারে
  • নাকের হাড় বাঁকা থাকলে এই সমস্যা হয়
  • ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণেও সাইনাস হয়ে থাকে (২)

সাইনাসের লক্ষণ এবং উপসর্গ

সব ধরণের সাইনাসে একই লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা যায়। প্রধান উপসর্গ হল মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা। এছাড়াও সাইনোসাইটিস থাকা ব্যক্তির এই উপসর্গগুলি দেখা যায় –

  •  জ্বর জ্বর ভাব
  •  কপালের সামনের দিকে ব্যথা
  •  হাঁটাচলা করলে, মাথা নাড়লে বা নিচু হলে মাথাব্যথা আরও বাড়ে
  • নাক বন্ধ, নাক থেকে শ্লেষ্মা বেরিয়ে যায়
  • চোখ, নাক এবং মুখের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়, ব্যথা থাকে
  • কাশি হয়, রাতের দিকে আরও বাড়ে
  •  স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি কমে যায়
  • নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

সাইনোসাইটিসের আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়-

  •  বমি বমি ভাব
  • কোনও কিছু ভালো লাগে না, অল্পতেই ক্লান্তি ভাব আসে
  •  বুকে মাঝারি থেকে গুরুত্বর অস্তস্তি
  •  খিদে পায় না
  •  উপরের চোয়ালে ব্যথা করে
  •  সাইনাসের এক্স-রে করলে সাইনাস ঘোলাটে দেখায় (১)

সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

সাইনাসের ব্যথা যখন তখন হতে পারে। সবসময় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সুযোগও থাকে না, হাতের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ নাও থাকতে পারে। তাহলে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনবেন সাইনাসকে? জেনে নিন সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায়। বাড়ি বসেই খুব সহজে সাইনাসের সমস্যাকে বশে আনতে পারবেন।

১. এসেনশিয়াল অয়েল

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  • ৩ থেকে ৪ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল
  • ৩ থেকে ৪ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল
  • ৩ থেকে ৪ ফোঁটা লেমন এসেনশিয়াল অয়েল

ব্যবহারের পদ্ধতি

  •  সব তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন এবং সেই তেলের মিশ্রণ এক-দু ফোঁটা আঙুলের ডগায় নিয়ে নিন।
  •  তারপর ভালো করে মুখে, কপালে, ঘাড়ের পিছনে মালিশ করে নিন।
  • ফুটন্ত গরম জলে এক-দু ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল ফেলে ভাপ নিন। উপকার পাবেন।

উপকারিতা

সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তেল মালিশ দারুণ কাজ দেয়। তিলের তেল, ইউক্যালিপটাসের তেল, ল্যাভেন্ডার অয়েল, পুদিনা পাতাল তেল মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়। বিশেষ করে সাইনাসের সমস্যা দূর করতে ইউক্যালিপটাসের তেলের জুড়ি মেলা ভার। ইউক্যালিপটাস অয়েল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অন্যদিকে ল্যাভেন্ডার অয়েল শরীর ও মনের জন্য খুব ভালো। লেমন অয়েলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান (৫)

২. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  •  ২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার
  • হালকা গরম জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

জলের মধ্যে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে আসতে আসতে চুমুক দিয়ে খান। আরও ভালো ফল পেতে মিশ্রণটি দিয়ে গার্গেলও করতে পারেন।

উপকারিতা

অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে উপস্থিত ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থগুলি অ্যালার্জির কর্মক্ষমতা হ্রাস করে। প্রকোষ্ঠগুলোর ঝিল্লিপর্দায় বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং জমে থাকা অতিরিক্ত মিউকাস বের করে দেয়। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান সাইনাস সৃষ্টিকারী ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে (৬)

৩. লেমন বাল্ম

সাইনাস দূর করতে লেমন বাল্মও দারুণ কার্যকরী। এর মধ্যে উপস্থিত উপাদানগুলি ব্যাক্টেরিয়া মেরে ফেলে এবং ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। সাইনাস প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে (৭)

৪. ভেষজ চা :

সাইনাসের সমস্যা থাকলে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ কাপ চা খান। মাথা যন্ত্রণা কমবে আরও অনেক উপকার পাবেন। গ্রীন টি এবং হার্বাল টি খুব কার্যকরী। এতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা জীবাণুদের ধ্বংস করে (৮)

৫. আদা চা

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  •  ১-২ চামচ গ্রেড করা আদা
  •  এক কাপ গরম জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

১. গরম জলে আদা দিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন।

২. চা থেকে আদা ছেঁকে নিয়ে আসতে আসতে চুমুক দিয়ে খান। আপনি চাইলে এতে মধুও যোগ করতে পারেন।

উপকারিতা

আদায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা সংক্রমণ ছড়াতে বাধা দেয়। মাথা ব্যথা কমায়, নাকের ভিতর ফোলা ভাব ও জ্বালা সারিয়ে দেয় (৯)

৬. গ্রীন টি

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  •  ২ চামচ গ্রীন টি পাতা অথবা গ্রীন টি ব্যাগ
  • এক কাপ গরম জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

১. গরম জলে গ্রীন টি কিছুক্ষণ রেখে দিন

২. চা ছেঁকে নিয়ে গরম গরম চুমুক দিয়ে খান

উপকারিতা

সবুজ চায়ে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা সমস্ত রকম ক্ষতিকর জীবাণুকে নষ্ট করে। আর ভালো ফল পেতে চায়ে সামান্য লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে নিতে পারেন (১০)

৭. মধু

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  • ১ চামচ মধু
  •  ১-২ চামচ লেবুর রস

ব্যবহারের পদ্ধতি

১. মধু ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন

২. ধীরে ধীরে মিশ্রণটি খেতে থাকুন।

উপকারিতা

মধুর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নাক বন্ধ, নাকে ফোলা ভাব ইত্যাদি সমস্যা দূর করে (১১)

৮. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  • ৩% হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
  • ছোট্ট স্প্রে বোতল

ব্যবহারের পদ্ধতি

১. স্প্রে বোতলে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ঢেলে নিন।

২. দুই নাকে স্প্রে করুন

৩. জোড়ে নিশ্বাস নিন যাতে এটি সাইনাসের ভিতর পৌঁছায়

উপকারিতা

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের অ্যান্টিসেপটিক গুণ জীবাণুদের বিনাশ করে, নাক বন্ধ এবং ফোলা ভাব দূর করে (১২)

৯. রসুন :

খাবারে পিঁয়াজ, রসুন, আদার ব্যবহার বাড়ান। সাইনাসের দারুণ ঘরোয়া দাওয়াই এগুলো।

১০. গ্রেপফ্রুট সিড এক্সট্রাক্ট:

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  •  কয়েক ফোঁটা গ্রেপফ্রুট সিড এক্সট্র্যাক্ট
  • ১/২ কাপ গরম জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

গরম জলে গ্রেপফ্রুট সিড এক্সট্র্যাক্ট মিশিয়ে ভাপ নিন।

উপকারিতা

এর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানগুলি নাইনাস সৃষ্টিকারী ইনফেকশনের ৭. বিরুদ্ধে লড়াই করে(১৩)

১১. ডিটক্স বাথ :

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  •  ১ কাপ এপসম লবণ (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)
  • ১/২ কাপ বেকিং সোডা
  • ৬-৮ ড্রপ টি ট্রি অয়েল
  • গরম জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

১. বাথ টাবে গরম জলের মধ্য সব উপাদানগুলি ভালো করে মিশিয়ে নিন।

২. ১৫ থেকে ২০ মিনিট বাথটাবে আরাম করুন।

উপকারিতা  

এপসম লবণ শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বের করে এবং পেশি শিথিল করে (১৪)। বেকিং সোডার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান জীবাণু ধ্বংস করে (১৫)। টি ট্রি অয়েলও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে (১৬)

১২. গরম ভাপ :

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  • একটি বড় পাত্র
  • গরম জল
  •  কয়েক ফোঁটা এসেনসিয়াল অয়েল (নিতেও পারেন, নাও নিতে পারেন)
  • একটি বড় তোয়ালে

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • পাত্রে গরম জল নিয়ে কয়েক ফোঁটা এসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। ইউক্যালিপটাস অয়েল, লেমন অয়েল, টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে দারুণ কাজ দেয়।
  • মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ভেপার নিলে তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন।
  • জোরে নিশ্বাস নিন। বাস্প জমে থাকা মিউকাসে সরাসরি ধাক্কা মারে, জ্বালা যন্ত্রণা কম করে।
  • অন্তত পাঁচ থেকে আট মিনিট ভেপার নিন। মনে রাখবেন খুব জোরে নাক পরিষ্কার করতে যাবেন না। প্রয়োজনে টিসু দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন।
  • ভেপার নেওয়া হয়ে গেলে ওই তোয়ালেটি ভালো করে নিংড়ে নিয়ে ১০ মিনিট মুখের উপর দিয়ে শুয়ে থাকুন। এই উপায়ে সাময়িক হলেও অনেকটা আরাম পাবেন।

উপকারিতা 

গরম জলে ভাপ খুব তাড়াতাড়ি সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়। জমে থাকা মিউকাস বের করে দেয়। নাসারন্ধ্র পরিষ্কার করে এবং আরাম দেয় (১৭)

১৩. নারকেল তেল মালিশ

কী কী উপাদান প্রয়োজন

  • একচামচ নারকেল তেল

ব্যবহারের পদ্ধতি

  •  নারকেল তেল গলিয়ে মুখে ভালো করে মালিশ করে নিন।
  •  অন্তত ৫ মিনিট মালিশ করুন। ভালো ফল পেতে আরও বেশি সময় ধরে করতে পারেন।
  • তেল মুছে নিয়ে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ফেলুন।

উপকারিতা

নারকেল তেল সাইনাসের অন্যতম ওষুধ। শরীর থেকে টক্সিন বের করে। সাইনাসে জমে থাকা মিউকাস বের করে। সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় (১৮)

কী খাবেন আর কী খাবেন না

সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবারগুলি-

  •  ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ। যেমন, সালমন, টুনা।
  •  রোজকার খাবারে রসুন, আদা, পিঁয়াজ এবং লেবুর ব্যবহার বাড়ান। সাইনাসে এগুলো দারুণ কাজ দেয়।
  • প্রচুর পরিমাণে গরম জল খান। গরম চা ও সুপ খান।
  • হলুদের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি বায়োটিক এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। গলা ব্যথা কমায়।

কী খাবেন না

আপনার যদি কোনও রকম অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা থেকে থাকে অবশ্যই এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন –

  • সাইনাস থাকলে দুগ্ধজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে যাদের ক্রনিক সাইনাস আছে।
  •  খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিন রিফাইনড ভেজিটেবল অয়েল। এগুলি শরীরে মিউকাসের উৎপাদন বাড়ায় এবং মিউকাস ঘন হয়ে যায়।
  •  মিষ্টি খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে প্রক্রিয়াজাত চিনির ব্যবহার করা হয়।
  • বেশি চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • গম, যব জাতীয় খাবার (১৯)

সাইনাস নিরাময়ে যোগাসন

সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত এই ৫টি প্রাণায়াম করুন, আরাম পাবেন –

  • অনুলোম বিলোম প্রাণায়াম
  • ভুজঙ্গ আসন (কোবরা পোজ়) – শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে সঠিকভাবে। এছাড়া শরীরের দুর্বলভাব এবং যন্ত্রণা দূর করে।
  • কপালভাতি – এক প্রকারের ব্রিদিং এক্সারসাইজ যা শারীরিক এবং মানসিকভাবেও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
  • উষ্ট্রাসন (ক্যামেল পোজ়)- নিয়মিত এই অভ্যাসে শরীর ও মন ভালো থাকে।
  •  ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম – নাইনাসের যন্ত্রণা কমাতে এবং শরীরে এনার্জি ফিরে পেতে নিয়মিত এই যোগাসন করুন (২০)

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন

ঘরোয়া উপায়ে সাইনাসের সমস্যা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসার সাহায্য নিন। অবহেলা করবেন না তাতে আরও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাইনাসের কারণে চোখ এবং মস্তিষ্কে নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সময় থাকতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাইনোসাইটিস (সাইনাস) এর চিকিৎসা

ভাল গুণমানসম্পন্ন জীবনযাপনের জন্য সাইনোসাইটিসের সঠিক চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ। সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন চিকিৎসকের কাছে যান। সাধারণত এই সমস্যার জন্য চিকিৎসকেরা অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, নাকের ড্রপ এবং ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অ্যান্টিহিস্টামিনিক ড্রাগস অ্যালার্জিজনিত উপসর্গগুলির চিকিৎসায় সাহায্য করে। এগুলি সাইনাসের এবং নাসিকাগত গহ্বরের জ্বালা প্রতিরোধ করে। সাইনাসগুলি থেকে জমা তরল পদার্থ নিষ্কাশিত করতে এগুলি সাহায্য করে নেজাল ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট স্প্রে। ওষুধপত্রে সমস্যা দূর না হলে সর্বশেষ উপায় হল অস্ত্রোপচার। সাইনাসের ওয়াশ বা আরও বড় ধরনের অপারেশন করা হয়ে থাকে (১)

সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে জরুরি কিছু টিপস

সাইনাস আজকাল সাধারণ সমস্যা পরিণত হয়েছে। কেবলমাত্র ঘরোয়া উপায় বা ওষুধে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাইনোসাইটিস সম্পূর্ণভাবে সারাতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

  •  পর্যাপ্তভাবে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। তাতে দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পারবেন।
  • প্রচুর পরিমাণে গরম তরল খাবার খান। এতে নাসারন্ধ্রে জমে থাকা মিউকাস অনেক তরল হবে। কপালের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।
  •  সাইনাসের হাত থেকে মুক্তি পেতে নাক দিয়ে জল টানার চেয়ে উপায় আর কিছু নেই। তবে একদিন এচা অভ্যাস করা মুশকিল। হালকা গরম জল হাতে নিয়ে এক নাক দিয়ে টেনে অন্য নাক দিয়ে বের করে দিতে হবে। এইভাবে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।
  •  ডায়েটে রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং সবজি। যা মিউকাস পরিষ্কার করে সমস্যা কমায়।
  • মাথা যন্ত্রণা তীব্র হলে গরম জলে সুতির কাপড় ভিজিয়ে বার বার মাথায় নিন। আরাম পাবেন।
  •  ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক-দু ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল আঙুলে নিয়ে নাকের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। রাতে আরামে ঘুমোতে পারবেন।
  •  সাইনাসের সমস্যা থাকলে এসি চালানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রয়োজনে ঘুমোতে যাওয়ার ঘণ্টা খানেক আগে এসি চালিয়ে ঘর ঠাণ্ডা করে নিন।
  • ধূমপান সাইনাসের জন্য ক্ষতিকারক। নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারেন। তাড়াতাড়ি এর হাত থেকে মুক্তি পেতে ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
  • ভালো করে হাত পরিষ্কার করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলি

সাইনোসাইটিস সাধারণভাবে কতদিন স্থায়ী হতে পারে?

সাইনোসাইটিসের স্থায়ীত্ত্ব নির্ভর করছে এর ধরনের উপর। অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত, সাব অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ, ক্রনিক সাইনোসাইটিস মাসের পর মাস এমনকী কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। রিকারেন্ট অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসের সমস্যা বছরে একাধিক বার দেখা দিতে পারে।

সাইনাস সংক্রমণের ঝুঁকি কাদের বেশি?

যেকোনও ব্যক্তির সাইনাসের মস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কারণগুলি সাইনাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে –

  • যাদের সর্দি কাশির ধাত
  •  অ্যালার্জি রয়েছে যাদের
  • যারা অত্যধিক ধূমপান করেন
  • যাদের সাইনাসের গঠনগত কোনও সমস্যা রয়েছে
  • যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।

19 References:

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch