সন্ধক লবনের উপকারীতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Rock Salt (Sendha Namak) Benefits and Side Effects

by

সন্ধক লবন সম্পর্কে একটা প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এটা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচরণ পালণ করার সময় বিশেষত উপোশ বা রোজার পালনের সময়ই সন্ধক লবণের ব্যবহার করা হয়। তবে সবক্ষেত্রে এমন ধারণা সঠিক নয়। দৈনন্দিন জীবনেও নানা প্রয়োজনে সন্ধক লবণের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এই সন্ধক লবণ বা রক সল্ট কে কেনো এতো গুরুত্ব দেওয়া হয় সেই প্রশ্ন মনে আসা টা খুবই স্বাভাবিক। এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে চোখ রাখতে হবে এই প্রবন্ধে। এখানে সন্ধক লবণ বা রক সল্টের উপকারীতা, ব্যবহার, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, এবং গুণাবলী সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করা হবে। আশা করা যায় এইসব প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী আপনার যাবতীয় কৌতুহল নিবারণের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

সন্ধক লবণ আসলে কী ?

সন্ধক অবণ বা রক সল্ট এক ধরণের খণিজ পদার্থ যা লবণের বিশুদ্ধ রূপ বলে মনে করা হয়। সন্ধক লবণ কে খাদ্যে যোগ করার যোগ্য করে তোলার জন্য কোনোরকম রাসয়নিক প্রক্রিয়াকরণ করার দরকার পরেনা। হিমালয়ান লবণ, সন্ধ্যা লবণ, লাহোরী লবণ, বা হ্যালিড সোডিয়াম ক্লোরাইড নামেও সন্ধক লবণ পরিচিত। এই লবণে ৯০টির ও বেশি খনিজ পদার্থ ধারণ করে বলে সন্ধক লবণ কে অন্যান্য লবণের তুলনায় সর্বোচ্চ খাদ্যগুণ সম্পন্ন বলে মনে করা হয়। এই লবণে অন্যন্য খনিজ পদার্থের পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়াম এবং সালফারের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। (1)

সন্ধক লবণ কীভাবে কাজ করে?

একাধিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সন্ধক লবণে অন্যনান্য লবণের তুলণায় আয়োডিনের মাত্রা অনেক কম হয়। এছাড়াও এই লবণে একাধিক খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়। এই লবণ জলে দ্রবণীয় হয় এবং জলের সংস্পর্শে আসা মাত্র এতে উপস্থিত যাবতীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সক্রিয় হয়ে ওঠে। পাণীয় জলে সন্ধক লবণ মিশিয়ে পান করলে, খাদ্য দ্রব্যের সাথে মিশিয়ে গ্রহণ করলে এবং স্নানের জলের সাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে ব্যবহার করলে উপযোগ পাওয়া যায়। রক্তচাপের সমস্যা, সর্দি – কাশি, চর্মরগ, বাতজ বেদনা, বিষণ্ণতা ইত্যাদি অসুখের চিকিৎসাও সন্ধক লবণ ব্যবহারের মাধ্যমে করা হয়। এছাড়াও মনে করা হয় যে সন্ধক লবণের ব্যবহারের ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। কোষ্ঠ্য-কাঠিন্য, বদহজম, গ্যাস এবং বুক জ্বালা, ইত্যাদি একাধিক অসুখের উপসর্গ দূর করার ক্ষেত্রে সন্ধক লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (2)

সন্ধক লবণের স্বাস্থ্যোপযোগীতা –

সন্ধক লবণের উপকারীতা এবং অপকারীতা উভয়ই রয়েছে। তবে এই লবণের অপকারিতা কম করার জন্য এর সঠিক ব্যবহারের সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী। এখানে সন্ধক লবণের স্বাস্থ্যোপযোগীতা সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করা হবে। কিন্তু একথাও মাথায় রাখা দরকার যে সুস্থ্যতার জন্য সন্ধক লবণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ঠিকই কিন্তু গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা দরকার। সন্ধক লবণের স্বাস্থ্যোপযোগীতা গুলির ব্যাপারে নিম্নে আলোচনা করা হলো –

১। পেশি সংকোচন লাঘব করে শরীরের পেশি এবং স্নায়ুতন্ত্রের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ইলেক্ট্রোলাইট প্রয়োজন। এই ইলেক্ট্রোলাইটের সামাণ্য ভারসাম্যহীণতার ফলে পেশির সংকোচন হতে পারে (3)। রক সল্ট বা সন্ধক লবণের ব্যবহার করলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হয়। একটি গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে যে সন্ধক লবণে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট। যদি কারোর পেশির সমস্যা থেকে তাহলে তিনি একটি বালতিতে জল এবং সন্ধক লবণ একসাথে মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া সন্ধক লবণ মিশ্রিত জল পাণ করলেও পেশি সংকোচনের সমস্যা থেকে অনায়াসে মুক্তি পাওয়া যায়।

তবে মনে রাখতে হবে যে ইলেক্ট্রোলাইট পেশি সংকোচনের সমস্যা লাঘব করলেও তা একেবারে প্রতিরোধ করতে পারেনা। এনসিবিআই ওয়েবসাইটে উল্লেখিত একটি গবেষণা সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। (4)

২। পরিপাকে সহায়ক সন্ধক লবণ হজম বা পরিপাকের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করে। হজম সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা যেমন বুক জ্বালা, বদহজম, টক ঢেঁকুর ওঠা, কোষ্ঠ্য – কাঠিণ্য ইত্যাদি থেকে সহজেই শরীরকে আরাম দেয় সন্ধক লবণ। খনিজ এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ সন্ধক লবণ হজম শক্তিকে উন্নত করে রাখতে সহায়তা করে। অবশ্য এই বিষয়ে এখনও আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

৩। গলা খুসখুস সমস্যায় উপাদেয় আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ঠাণ্ডা খাদ্য গ্রহণের ফলে অনেক সময়ই গলার সমস্যা দেখা যায়। এমনকি গলা ব্যথাও করে। ব্যাক্টেরিয়া নাশক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সন্ধক লবণ গলায় আটকে থাকা ব্যাক্টেরিয়া সমন্বিত মিউকাস পাতলা করে তা শরীর থেকে অপসারণ করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় একইসাথে কাশির সমস্যা ও উপশম করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে সন্ধক লবণ। গলা ব্যথা দূর করতে ঊষ্ণ জলের সাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে গার্গেল করলে সহজেই আরাম পাওয়া যায়। মাত্র কয়েকদিন নিয়ম করে সন্ধক লবণ মিশ্রিত গরম জল গার্গেল করলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বস্তি পাবেন। (5)

৪। মাড়ির সমস্যা নাশক মাড়ি থেকে রক্তপাত মাড়ির সমস্যার একটি অন্যতম প্রধাণ লক্ষণ। এর মূল কারণ হলো দাঁতের ওপর প্লাক জমা হওয়া। যদি মাড়ি ফোলা, প্লাক জমা হওয়া বা অন্য কোনো কারণে মাড়ি থেকে রক্তপাত হয় তাহলে এই সমস্যা দূর করার জন্য হালকা উষ্ণ জলে সন্ধক লবণ মিশিয়ে নিয়মিত মুখের ভেতর ধুয়ে নেওয়া দরকার। এমন করলে পূর্বোক্ত সমস্যা গুলির উপশম হয়। মনে করা হয় যে সন্ধক লবণ মুখগহ্বর স্থিত ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া নাশ করে। তবে মুখ গহ্বরের এইসব সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে সন্ধক লবণ কতটা কার্যকরী তা জানতে হলে আপনার দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। তবে মুখ গহ্বরের মধ্যস্থ রোগ জীবানু ঘটিত সমস্যা দূরীকরণের ক্ষেত্রে সন্ধক লবণের ভূমিকা সম্পর্কে এখনও কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। (6)

৫। মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সহায়ক শরীরকে চনমনে রাখার জন্য মেটাবলিজম একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। আমরা যেসব খাদ্য গ্রহণ করি তা থেকে শরীরে শক্তি পূরণ হয়। সকল খাদ্য থেকেই কম বেশি শক্তির যোগান আসে শরীরে। সন্ধক লবণ শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এরফলে শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সন্দগক লবণ পরপাক তন্ত্র এবং পার্শ্ববর্তী অঙ্গে জলের শোষণ বৃদ্ধি করে। একইসাথে সন্ধক লবণে উপস্থিত আয়োডিন বিপাক ক্রিয়া উন্নত করে তোলে। এনসিবিআই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণা থেকে এই কথার প্রমান পাওয়া যায়। (7)

৬। মেদ হ্রাসক ক্রমাগত ওজন বৃদ্ধি আমাদের সকলের কপালে নিজের অজান্তেই একটা ভাঁজ ফেলে দেয়। অনাবশ্যক এই ওজন বৃদ্ধি থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনার খাদ্যে ব্যবহৃত লবণে বৈচিত্র্য আনা দরকার। সাধারণ লবণের পরিবর্তে সন্ধক লবণের ব্যবহার করা হলে দেখা যাবে যে ক্ষুধা বৃদ্ধির প্রবণতা অনেকটাই লাঘব হয়ে গেছে একইসাথে এই লবণ চর্বি গলানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে। এরফলে সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে ওজন হ্রাসের জন্য সন্ধক লবণের ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক পরামর্শ পেতে হলে একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী।

৭। হার্টের স্বাস্থ্যোন্নতি করে – ফুড অ্যাণ্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশান (এফডিএ) অনুসারে, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ১ গ্রামের অধিক এবং ২.৫ গ্রামের কম সোডিয়ামের প্রয়োজন (8)। এই পরিমাণ সোডিয়াম শরীরের স্বাভাবিক কর্ম সম্পাদন করার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করলে কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে উচ্চ পরিমাণে সোডিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এরফলে হার্টের সমস্যা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, স্ট্রোক ইত্যাদি শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই কারণে সন্ধক লবণের ব্যবহার খুবই নিরাপদ। অবশ্য যে কোনোরকমের লবণই পরিমিত পরিমাণে সেবন করা সুস্বাস্থ্যের পক্ষে জরুরী। (9)

৮। মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে মাথা এবং মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে সন্ধক লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে সন্ধক লবণ সমন্বিত তেল মাথায় মালিশ করা হলে মাইগ্রেন এবং মাথা ব্যথার সমস্যার উপশম হয়। সন্ধক লবণে একাধিক খনিজ পদার্থের উপস্থিতি একে অন্যান্য লবণ থেকে আলাদা করে রাখে। সন্ধক লবণ বা হিমালয়ান লবণে পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবশ্য সন্ধক লবণে বিভিন্ন খনিজের উপস্থিতি সম্পর্কে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

৯। মানসিক চাপ এবং অবসাদ দূর করে সন্ধক লবণের উপকারীতা গুলির মধ্যে একটি হলো এটা মানসিক চাপ এবং অবসাদ লাঘব করে। মানসিক চাপ দূরীকরণের জন্য সন্ধক লবণ ব্যবহারের উপায় গুলি ভিন্ন ধরণের হয়। এক্ষেত্রে সন্ধক লবণ মিশ্রিত জল পান করা যেতে পারে অথবা এই লবণ মিশ্রিত জল দিয়ে স্নান করা যেতে পারে। এতে করে মানসিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভবনা অনেকটাই কম হয়। এছাড়াও স্পা এর মাধ্যমে সন্ধক লবণ ব্যবহার করলে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের কার্যকারিতা কমে যায়। এই পদ্ধতি হ্যালোথেরাপিঁ নামে পরিচিত। অবশ্য এই বিষয়ে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়জন রয়েছে।(10)

১০। সুস্থ্য এবং সুন্দর ত্বকের শোভা বর্দ্ধক মৃত এবং নির্জীব কোষের অপসারণ করে সন্ধক লবণ ত্বক পরিষ্কার করে তোলে। এর ফলে ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। একইসাথে ত্বকের কোষকে শক্তিশালী করে তোলে সন্ধক লবণের ব্যবহার। এছাড়াও সন্ধক লবণ খুবই ভালো একটি স্ক্রাবার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

১১। চুলের স্বাস্থ্যোন্নতি করে  মৃতকোষের অপসারণ এবং নতুন কোষের উৎপাদন করা সন্ধক লবণের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। শ্যাম্পুর সাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে ব্যবহার করা হলে মাথার ত্বক থেকে সহজেই মৃত কোষের অপসারণ হয় এবং মাথার ত্বক পরিষ্কারও থাকে। এছাড়াও সন্ধক লবণ মিশ্রিত জল দ্বারা মাথার চুল ধুলে মাথার ত্বক জীবানু মুক্ত থাকে ও জীবানু সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকে।

তাহলে সন্ধক লবণের উপকারীতা গুলি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া  গেলো।

সন্ধক লবণের ব্যবহার –

সন্ধক লবণের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনে খুবই অপরিহার্য। এখানে সন্ধক লবণের ব্যবহার সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করা হবে।

  • খাদ্যে সন্ধক লবণের ব্যবহার – বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য যেমন রান্না করা খাদ্য, সেদ্ধ খাদ্য, স্যালাড ইত্যাদির সাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লবণ ব্যবহারের পরিমাণ প্রত্যেকের স্বাদানুসারে করা দরকার।
  • তরলের সাথে সন্ধক লবণের ব্যবহার – পরিষ্কার এবং উষ্ণ জলের সাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে তা প্রয়োজন অনুসারে পান করা যেতে পারে। এছাড়াও সন্ধক লবণ মিশ্রিত জলের সাথে লেবু, চিনি এবং মধু মিশিয়ে তা পান করা যেতে পারে।
  • স্নান অথবা থেরাপির উপাদান হিসেবে সন্ধক লবণের ব্যবহার – শরীরের ব্যথা যন্ত্রনা ইত্যাদির উপশমের জন্য গরম জলের সাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে সেই জলে স্নান করা দরকার। এতে করে ব্যথা যন্ত্রনা থেকে আরাম পাওয়া যায়। এছাড়াও সন্ধক লবণ মিশ্রিত উষ্ণ জলে শরীর সেঁক দিলে বাতজ বেদনা বা চোট আঘাত জনিত ব্যথা বেদনার সহজেই উপশম হয়।
  • ত্বকের ক্ষেত্রে সন্ধক লবণের ব্যবহার – সন্ধক লবণের সাথে অন্যান্য ভেষজ উপাদান যোগ করে তা দিয়ে প্রলেপ তৈরী করে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে ত্বকের মধ্যস্থ মৃত কোষের অপসারণ হয় একইসাথে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়।
  • দাঁতের জন্য সন্ধক লবণের ব্যবহার – দাঁতের মাজন এবং মাউথওয়াশ এরসাথে সন্ধক লবণ মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

দীর্ঘ সময়ের জন্য সন্ধক লবণ সংরক্ষণ করার উপায় –

সন্ধক লবণ কঠিন কেলাসারে প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায়। এই কেলাসাকার লবণ ভেঙে গুঁড়ো করে ব্যবহার করা যায় অথবা কেলাসাকারেই ব্যবহার করা যেতে পারে। সন্ধক লবণ ব্যবহারের এবং স্থায়িত্বের কোনো নির্ধারিত মেয়াদ নেই। তাই অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। হ্যাঁ তবে আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে সন্ধক লবণের সহজাত বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে যায়। এই জন্য এয়ার টাইট বাক্সে ঢাকনা শক্ত করে আটকে রাখলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সন্ধক লবণ সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

সন্ধক লবণ কোথা থেকে কেনা যায়?

আপনার বাড়ির কাছেই কোনো মুদি দোকান থেকে এই লবণ কেনা যেতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন শপিং মল থেকে বা অনলাইনেও সন্ধক লবণ কেনা যেতে পারে। তবে জায়গা ভেদে সন্ধক লবণের দামের পরিবর্তণ হতে পারে।

সন্ধক লবণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া –

সন্ধক লবণের একাধক উপযোগীতা আছে ঠিকই কিন্তু তা সত্ত্বেও এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলিকে অস্বীকার করা যায় না। সন্ধক লবণ সেবনের ফলে যেসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যায়  সেগুলি হলো নিম্নরূপ –

  •  শুধুমাত্র সন্ধক লবণ সেবন উপাদেয় নয় কারণ যেহেতু এতে কম মাত্রায় আয়োডিন র‍য়েছে তাই আয়োডিনের অভাবে গয়টার বা গলগণ্ড অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখতে পাওয়া যায়।
  •  সন্ধক লবণ উচ্চ রক্তচাপের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
  • যেসব ব্যক্তিদের এডিমা রোগ রয়েছে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই লবণ ব্যবহার করা উচিৎ নয়। সন্ধক লবণ ব্যবহারের ফলে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়।
  • মাত্রাতিরিক্ত সন্ধক লবণের ব্যবহারের ফলে শরীরের জল বিয়োজনের মতন সমস্যা দেখা যায়।

এই প্রবন্ধ থেকে আমরা সন্ধক লবণের গুণাগুন সম্পর্কে একটা বিস্তারিত ধারণা পেয়েছি। একটা কথা সর্বদা মাথায় রাখা দরকার যে, যেকোনো জিনিসই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিৎ। প্রয়োজনের অধিক মাত্রায় গ্রহণের ফলে শরীরে উপকারের পরিবর্তে অপকার হতে পারে। তাই আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সন্ধক লবণের মাত্রা জানার জন্য অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

সন্ধক লবণ সেবন কী নিরাপদ?

হ্যাঁ খাদ্যের সাথে সন্ধক লবণ সেবন খুবই নিরাপদ। এতে স্বাস্থ্যহানির সম্ভবনা বেশ কম। সন্ধক লবণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলির বিষয়ে উপরিক্তো প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কী সন্ধক লবণ সেবন করা উচিৎ?

হ্যাঁ বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে যে সাধারণ লবণের পরিবর্তে স্পন্ধক লবণের ব্যবহার কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ। এনসিবিআই ওয়েবসাইট সূত্রে এই সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষণার প্রমাণ পাওয়া যায়।

সন্ধক লবণে কী উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে?

হ্যাঁ, সাধারণ লবণের থেকে সন্ধক লবণে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি হয়। তাই কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত বক্তিদের জন্য এই লবণ খুব নিরাপদ এবং উপকারী বলে মনে করা হয়।

10 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch