মানসিক চাপ প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায় | Home Remedies for Stress in Bengali

by

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এই শব্দটির সাথে বর্তমানে আমরা ছোট বড় সকলেই খুব পরিচিত।  বর্তমানে আধুনিক হতে গিয়ে কাজের ক্ষেত্রে হোক কিংবা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সর্বত্রই একটা আলাদা মানসিক চাপ কাজ করে। সেটা যেমন একটা ছোট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর রয়েছে, তেমনি তা একজন মধ্যবয়স্ক যুবকের রয়েছে কর্ম ক্ষেত্রে কিংবা অবসরপ্রাপ্ত একজন বয়স্ক লোকেরও রয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক সময় মানসিক চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে সেটা আমাদের হাতের বাইরে চলে যায়। এমনকি মানসিক চাপের জন্য আমাদের শরীর রোগ গ্রস্থ হয়ে ওঠে। এমনকি অত্যধিক মানসিক চাপ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। আজকের নিবন্ধ থেকে আমরা মানসিক চাপ সম্পর্কিত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এমনকি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে মানসিক চাপের প্রতিকার করা যায় সেই বিষয়গুলি আপনাদের জানাব। এমনকি আপনি কখন বুঝবেন আপনি মানসিক চাপে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছেন সেগুলিও আমরা আপনাকে জানাবো। আসুন জেনে নেওয়া যাক।

মানসিক চাপ কি?

মানসিক চাপ হল শরীরেরই একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যা মনের পরিবর্তনের কারণে কিংবা বাহ্যিক চিন্তার কারণে হয়ে থাকে। মানসিক চাপের ফলে শারীরিক এবং মানসিকভাবে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। মূলত মানসিক চাপের ফলে শরীরে বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, বলা যায় বাহ্যিক কোন কিছুর কারনেই হঠাৎ করে মানসিক চাপ আপনার জীবনে পরিবর্তন এনে দেয়। অনেক সময় হতে পারে আপনি যেখানে রয়েছে সেখানকার পরিবেশ কিংবা আপনার চিন্তাভাবনা কিংবা আপনার শারীরিক কোনো কারণে মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন। মানসিক চাপ সৃষ্টি হবার ফলে ইতিবাচক জীবনে পরিবর্তন আসতে পারে। মানসিক চাপের প্রভাব শরীরের ওপর সবার প্রথম লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন কারনে স্ট্রেস আসতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু না কিছু মানসিক চাপ সবসময় কাজ করে। অনেক সময় ভালো কিছুর জন্য মানসিক চাপ কাজ করে, বলা যায় এক্ষেত্রে মানসিক চাপ আমাদেরকে সজাগ রাখতে কিংবা কোনো কাজে প্রেরণা দিতে সাহায্য করে। যখন একটি ব্যক্তি কোনো কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয় তখন আবার এই মানসিক চাপ নেতিবাচক হয়ে ওঠে। যার ফলে একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি মানসিক চাপে আক্রান্ত হলে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে পরে আমাদের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন গুলির মধ্যে সবার প্রথম যেটা হয় সেটা হল স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের অন্তর্নিহিত চাপ তৈরি হয়, যা আমাদের শরীরকে উত্তেজিত করে তোলে। বলা যায় এই সময় আমাদের শরীর মন সব কিছু অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে। তবে এই চাপের পরিমাণ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তখন তা শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপের ফলে হওয়া নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা মানুষকে অস্থির করে তোলে। মানুষের শরীরে বিভিন্ন কষ্ট এই সময় লক্ষ্য করা যায়। মানসিক চাপের পরিমাণ বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যাও দেখা যায়। এই সমস্যা গুলোর মধ্যে হতাশা, আতঙ্ক, আক্রমণ, উদ্বেগ এই সমস্ত লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। গবেষণায় লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, স্ট্রেস থেকে শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হতে পারে। এই রোগ গুলোর মধ্যে হৃদরোগ, ক্যান্সার, ফুসফুস, লিভারের সমস্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা যে কোনো অসুস্থতার সৃষ্টি হতে পারে। যাকে বলা হয় স্ট্রেস মানুষের জন্য ক্ষতিকারক। মানসিক চাপের কবলে পড়ে সাধারণ একটি মানুষ বহু খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এমনকি সেই মুহূর্তে মানুষটির নিজের ওপর কোনো কন্ট্রোল থাকেনা। মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষ যখন নিশ্চিন্ত হয় তখন শরীর সুস্থ হয়ে ওঠে। (১)

আমি কিভাবে বলবো, যে কী ভাবছি?

আপনি যে বিষয়টি নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে আছেন সে বিষয়টি হয়তো বুঝতেই পারছেন না, সেক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি কে জিজ্ঞেস করুন আপনি কি চাইছেন। ভালো বা খারাপ কোন অনুভূতিটা আপনার হচ্ছে। প্রয়োজনে নিজের কাছের লোকদের সাথে কথা বলুন। এক্ষেত্রে যখন আমরা দুঃখ পাই কিংবা ভয় পাই নিজের কাছের মানুষদের সহায়তা আমাদের ভালো বোধ করতে সহায়তা করে। কথায় কথায় যখন আমরা নিজেদের অনুভূতি সম্পর্কে বুঝতে পারিনা তখন মানুষ পাগল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে একজন মানুষ তার আত্ম নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। (২)

তাই নিজে কি ভাবছেন কিংবা নিজে কি বলতে চাইছেন নিজের অনুভূতি সম্পর্কে আগে জানুন। নিজে থেকে নিজেকে পরীক্ষা করুন যে, আপনি কি অনুভব করছেন কিংবা আপনি কেন এটি ভাবছেন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন কোন বিষয়টি নিয়ে আপনি মানসিক চাপ বোধ করছেন। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর নিজেকে করে দেখুন যদি যেকোনো একটির উত্তর পান সে ক্ষেত্রে সেই উত্তর থেকেই নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

এক্ষেত্রে সমস্যা হলে নিজের বাবা-মা কিংবা খুব কাছের বন্ধুর সাথে নিজের মানসিক চাপ নিয়ে আলোচনা করুন। এমন কারো সাথে কথা বলুন যে আপনাকে শুনবে, আপনার সব অনুভূতিগুলো শোনার পর আপনাকে ভালো পরামর্শ দেবে। নিজের প্রিয় মানুষের সাথে হাসার চেষ্টা করুন এবং নিজের অনুভূতিগুলো কথার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করুন। দেখবেন এতে অনেকটা মানসিক চাপ কম হবে।

মানসিক চাপের উপসর্গ :

যারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন তাদের শরীরে বেশ কিছু সমস্যা হঠাৎ করে লক্ষ্য করা যেতে পারে। বলা যায় এই সমস্ত শারীরিক লক্ষণ গুলো দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। জেনে নিন উপসর্গগুলি সম্পর্কে – (৩)

১) হঠাৎ করে মাথা চক্কর দেওয়া।

২) শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা হওয়া।

৩) দাঁতে দাঁত চিপে চোয়াল শক্ত হওয়া।

৪) মাথার মধ্যে একটা চাপা ব্যথা।

৫) খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়া।

৬) হঠাৎ করে খিদে বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া।

৭) মুখে, ঘাড়ে এবং কাঁধে পেশির টান অনুভব হওয়া।

৮) সঠিকভাবে ঘুম না হওয়া।

৯) হৃদ স্পন্দন হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া।

১০) হাত ও পায়ের তলা ঠান্ডা এবং ঘামযুক্ত হওয়া।

১১) শরীরে সারাদিন এক ধরনের ক্লান্তি অনুভব করা।

১২)  হঠাৎ হঠাৎ শরীরে কাপুনি হওয়া।

১৩)  শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া।

১৪) পেটের সমস্যা কিংবা ডায়েরিয়া হওয়া।

১৫) যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অনিচ্ছা কিংবা অসুবিধা হওয়া।

এই সমস্ত লক্ষণগুলো মানসিক চাপের উপসর্গ হিসেবে মনে করা হয়। এই লক্ষণগুলো যদি আপনার শরীরের মধ্যে অনুভব করেন তাহলে নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন কিংবা প্রয়োজনে কোনো চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। (৪)

মানসিক চাপের কারণ :

মানুষ ভেদে প্রত্যেকের মানসিক চাপ আলাদা থাকে। কাজের চাপ এর নিরিখে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কারোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কারো আবার শারীরিক কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কাজের কারণে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় তার মূল বিষয়গুলো হলো – (৫)

১) হয়তো আপনি চাকরিতে ভালো কাজ করতে পারছেন না।

২) অত্যধিক কাজের চাপ।

৩)  টানা অনেকটা সময় ধরে কাজ করা।

৪) আপনার কাজের সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকা।

৫) বিপদজনক পরিস্থিতিতে কাজ করা।

৬) আপনার কর্ম ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে কিনা সে বিষয়ে চিন্তা থাকা।

৭) সহকর্মীদের সামনে বক্তৃতা দেওয়া।

৮) কর্মক্ষেত্রে হয়রানির মুখোমুখি হওয়া।

এই সমস্ত বিষয়গুলি কর্ম ক্ষেত্রে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

আবার ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু চাপ থাকে যেগুলো মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সেই ধরনের কিছু উদাহরণ হল –

১) হঠাৎ প্রিয়জনের মৃত্যু।

২) বিবাহ বিচ্ছেদ।

৩)  চাকরি চলে যাওয়া।

৪) আর্থিক সঙ্কট সৃষ্টি হওয়া।

৫) বিয়ে হতে চলেছে এমন।

৬)  নতুন বাড়িতে চলে যাওয়া।

৭) দীর্ঘ অসুস্থতা কিংবা আঘাত পাওয়া।

৮) যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যা, যেমন হতাশা, প্রত্যাশা, অপরাধবোধ ইত্যাদি।

৯) কোন অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়া।

১০) যেকোনো আঘাতজনিত ঘটনা আপনার কিংবা প্রিয় জনের বিরুদ্ধে হওয়া।

আবার অনেক সময় ভেতর থেকে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের খবরে হঠাৎ ভয় বা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হওয়া কিংবা অবাস্তব প্রত্যাশা দেখানোর মতো ঘটনা চোখের সামনে ঘটা। হঠাৎ জীবনে পরিবর্তন আসা। এই সমস্ত বিষয়গুলি সাধারণত মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। যার ফলস্বরূপ এই সমস্ত মানসিক চাপ গুলি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

মানসিক চাপের ঘরোয়া প্রতিকার

মানসিক চাপ প্রতিকারের জন্য বেশকিছু ঘরোয়া জিনিস রয়েছে যেগুলো আমরা স্বল্প খরচে ব্যবহার করতে পারি, যেগুলি আমরা হাতের কাছে সহজেই পেতে পারি। আসুন তাহলে জেনে নিন ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে মানসিক চাপ কমাবেন।

১) মানসিক চাপ কমাতে তুলসীর ব্যবহার

প্রাচীন যুগ থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিভিন্ন চিকিৎসায় তুলসীকে ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। বর্তমানেও তুলসীকে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মানুষ যখন শারীরিক, মানসিক এবং পরিবেশগত চাপের কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখনই তার মানসিক চাপ দেখা যায়। মানসিক চাপ, শারীরিক এবং মানসিক উভয়ের স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত। তুলসী হলো এমন একটি উপাদান যেটি মানুষের শরীরের স্ট্রেস হরমোন কে শান্ত করতে সহায়তা করে। তুলসীর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মানুষের মানসিক শক্তি বাড়াতে এবং স্নায়ুর উত্তেজনা কম করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে দৈনিক তুলসীর ব্যবহার আপনাকে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখবে। কিভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন। (৬)

উপাদান :

তুলসী পাতা – দশ বারোটা

জল – এক কাপ

মধু – এক চামচ।

কি করতে হবে?

এক কাপ জলে তুলসী পাতা গুলো দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে।

এবার জল ফুটে জলের রং পরিবর্তন হয়ে গেলে তখন তুলসী পাতা গুলো ছেঁকে নিয়ে জলটা নামিয়ে দিতে হবে।

তার মধ্যে মধু মিশিয়ে দৈনিক সকালবেলা পান করতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করবে?

দৈনিক এই তুলসী পাতার চা পান করলে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়াও তুলসী পাতার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের বদহজমের সমস্যা থাকলে কিংবা শরীরের স্ট্রেস হরমোন কে কম করবে। এছাড়াও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে।

২) মানসিক চাপ কমাতে অশ্বগন্ধার ব্যবহার

মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কম করতে, রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে অশ্বগন্ধা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অশ্বগন্ধার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি তে উৎপন্ন স্ট্রেস হরমোন কে শান্ত করতে অশ্বগন্ধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। যদি এক থেকে তিন মাসের জন্য দৈনিক ১৫০ মিলিগ্রাম থেকে ৫ গ্রাম অশ্বগন্ধা গ্রহণ করা যায় তাহলে যেকোনো মানসিক চাপের সমস্যা অনেক কম হবে। (৭)

উপাদান :

এক কাপ – দুধ

হাফ চামচ – অশ্বগন্ধা গুঁড়ো

হাফ চামচ – দারুচিনির গুঁড়ো

এক চামচ – মধু

এক চতুর্থাংশ চামচ – আদা।

কি করতে হবে?  

দুধ অল্প আঁচে ফুটিয়ে নিতে হবে।

দুধ গরম হয়ে গেলে তার মধ্যে অশ্বগন্ধা, দারচিনি, আদা দিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

এরপর ফুটে গেলে তার মধ্যে মধু দিয়ে নামিয়ে দিতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করবে?

এই অশ্বগন্ধার তৈরি দুধ প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে খেলে ঘুম ভালো হবে এবং মানসিক চাপ কম রাখতে সহায়তা করবে। অশ্বগন্ধা শরীরে স্ট্রেস হরমোনকে বাড়তে দেয় না। যার ফলে এটি যদি দৈনিক রাতে শুতে যাওয়ার আগে পান করেন তাহলে রাতের ঘুম ভালো হওয়ার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ থাকবে।

৩) মানসিক চাপ কম করতে লেবু বামের ব্যবহার

লেবু বাম এক ধরনের সুগন্ধি পদার্থ। এটি মানসিক উদ্বেগ কম করতে সহায়তা করে। এটি আপনার শরীরকে উদ্বেগ মুক্ত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে লেবুর বাম যারা দৈনিক ব্যবহার করেন তাদের মানসিক চাপ অনেকটা কম থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন দিনে দুবার এটি ব্যবহার করবেন। জেনে নিন কিভাবে মানসিক চাপ কমাতে লেবু বাম ব্যবহার করবেন। (৮)

উপাদান :

একটি বড় কাঁচের গ্লাসে – জল

এক চামচ -লেবু বাম

কয়েকটি তুলসী পাতা।

 কি করতে হবে?

একটি গোটা লেবুকে ভালো করে গোল গোল করে কেটে নিতে হবে।

এবার লেবু বাম, তুলসীপাতা এগুলিকে একটি বড় কাঁচের জারে ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে।

এবার এটি পরদিন সকালবেলা উঠে সারাদিন অল্প অল্প করে পান করতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করবে?

এই লেবু বাম মন থেকে নেতিবাচক মানসিকতাকে দূর করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও এটি মানসিক শান্তি তৈরি করবে। এছাড়াও মনকে ধীর স্থির রাখতে সহায়তা করবে।

৪) ভ্যালেরিয়ান মূল দিয়ে মানসিক চাপ কম করুন

ভ্যালেরিয়ান মূল হল একটি ভেষজ উপাদান। এটি প্রকৃতির ভ্যালিয়াম নামে পরিচিত। এই ঔষধটি প্রাচীনকাল থেকেই মানসিক চাপ কম করতে, মনে প্রশান্তি আনতে এবং ঘুম ভালো করার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। এটির মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বহু গুনাগুন রয়েছে। প্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসাশাস্ত্রে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে এমন কিছু যোগ রয়েছে যা উদ্বেগ কম করতে এবং ঘুমকে উন্নত করতে সহায়তা করে। এবার ভ্যালেরিয়ান মূল এর সাহায্যে মানসিক চাপ কম করতে পারবেন। (৯)

উপাদান :

ভ্যালেরিয়ান মূল – দু’টুকরো

জল – এক কাপ।

কি করতে হবে?

ভ্যালেরিয়ান মূল দিয়ে চা তৈরি করুন।

দিনে দুবার এই চা পান করুন।

চেষ্টা করবেন ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটি পান করতে। কেননা এটি পান করার পর ঘুম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা দুই সপ্তাহ এটি ব্যবহার করুন দেখবেন এটি মানসিক চাপ কম করতে সহায়তা করবে।

কিভাবে সাহায্য করে?

ভ্যালেরিয়ান হলো এমন একটি ঔষধি যা উদ্বেগ হ্রাস করার পাশাপাশি ঘুমকে সঠিকভাবে পূরণ করে। যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই যদি ঘুমের চাহিদা শরীরে যথাযথ পূরণ হয় সে ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মানসিক চাপ কম থাকলে মানুষের মেজাজ ভালো থাকে।

৫) মানসিক চাপ কমাতে কাবার ভূমিকা

কাবা হলো এক ধরনের উদ্ভিদ, যা ক্রান্তীয় জলবায়ু তে উৎপন্ন হয়। বিশেষত প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ গুলিতে এই উদ্ভিদ দেখা যায়। নামটা অজানা হলেও এই উদ্ভিদের বহু গুণ রয়েছে। চিকিৎসা শাস্ত্রে মানসিক চাপ কমাতে এবং উদ্বেগ কমাতে কাবা ব্যবহার করা হয়। এটি উদ্বেগকে দমন করার পাশাপাশি মেজাজকে সঠিক রাখতে সহায়তা করে। যদিও এটি সম্পর্কে আমরা যথাযথ জানিনা। তবে এটি ব্যবহার করলে মানসিক চাপ অনেকাংশে কম হয়। এটি চা, পাউডার, ক্যাপসুল আকারে ব্যবহার করা যেতে পারে। দৈনিক ২৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। (১০)

উপাদান :

কাবার গুঁড়ো।

কি করতে হবে?

এই কাবার গুঁড়ো দিয়ে চা তৈরি করে দৈনিক দিনে একবার খেতে হবে। বিদেশে প্রত্যেক দোকানে এটি কিনতে পাওয়া যায়। প্রতিদিন তিনকাপ পর্যন্ত কাবা চা খাওয়া যেতে পারে।

কিভাবে সাহায্য করে?

কাবা দৈনিক খাওয়ার ফলে মানসিক চাপ কমে। তবে এটি ব্যবহার করার আগে মাথায় রাখতে হবে কাবা চা গ্রহণের ফলে ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর আগে কিংবা বাইরে বের হওয়ার আগে এইটা না খাওয়াই ভালো। চেষ্টা করবেন ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই চা খাওয়ার। তাহলে এটি মানসিক চাপ কম করতে সহায়তা করবে।

৬) ল্যাভেন্ডার তেল দিয়ে করুন মানসিক চাপ এর প্রতিকার

অ্যারোমা থেরাপি তে যে কোনো সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। এ ক্ষেত্রে মানসিক চাপের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যারোমাথেরাপিতে ল্যাভেন্ডার তেল ব্যবহার করা হয়। ল্যাভেন্ডার গাছের থেকে পাওয়া তেল যদি ঘ্রাণ নেওয়া যায় এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, এমনকি যেকোনো ধরনের ব্যথা কম করতে সহায়তা করে। (১১)

উপাদান :

কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল

রুমাল একটি।

কি করতে হবে?

একটি পরিষ্কার রুমালের মধ্যে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল নিয়ে নাকের সামনে নিয়ে ভালো করে গন্ধটা টেনে নিতে হবে।

যতক্ষণ না গন্ধটা হালকা হচ্ছে টানতে থাকুন। দেখবেন এর ফলে মাথায় অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।

কিভাবে সাহায্য করে?

অ্যারোমা থেরাপি তে ব্যবহৃত ল্যাভেন্ডার তেল মানসিক উদ্বেগ, শারীরিক অস্বস্তি এগুলো কম করতে সহায়তা করে। যাদের মাথা ব্যথার সমস্যা রয়েছে তারা দৈনিক ব্যবহারকারী যেকোনো তেলের মধ্যে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে মাথায় মাখুন। সে ক্ষেত্রে মাথাব্যথা কম হবে এবং চাপমুক্ত মনে হবে।

৭) মানসিক চাপ কমাতে ক্যামোমিল তেলের ব্যবহার

ক্যামোমিল তেল এর সুন্দর  গন্ধের জন্য সুপরিচিত। যদিও ক্যামোমিল তেল এর ব্যবহারে মানসিক চাপ কমে এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে ক্যামোমিল তেলের মধ্যে থাকা পরিপূরক গুলি থেকে হালকা থেকে মাঝারি সাধারণ উদ্বেগজনিত যে মানসিক সমস্যা গুলো দেখা যায় সেই ধরনের মানসিক অসুস্থতা গুলো কম করতে এটি সহায়তা করে। ক্যামোমিল তেলের মধ্যে থাকা উপাদান গুলি মনকে শান্ত এবং মেজাজকে ভালো করতে সহায়তা করে।

উপাদান :

ক্যামোমিল তেল।

কি করতে হবে?

ক্যামোমিল তেল দিয়ে হালকা করে মাথার ওপর মাসাজ করুন কিংবা স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা ক্যামোমিল তেল যোগ করুন। দেখবেন এটি যখন ব্যবহার করবেন শরীরে ও মনে এক তাজা ভাব অনুভব হবে এবং মানসিক শান্তি পাবেন।

কিভাবে সাহায্য করে?

ক্যামোমিল তেলের গন্ধ মনকে তাজা করে তুলতে সহায়তা করে। তাই এটি যদি দৈনিক স্নানের জলে কিংবা মাসাজ হিসেবে ব্যবহার করা যায় তাহলে মানসিক চাপ থেকে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়।

৮) মানসিক চাপ কমাতে গ্রিন টির ব্যবহার

গ্রিন টি ব্যবহার করার ফলে মানসিক চাপ থেকে একটা সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে থিয়ানিন এবং অ্যামিনো এসিড, যেগুলো মানসিক স্বস্তি এবং শান্তি দিতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, থিয়ানিন মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। তাহলে এটি কিভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।

উপাদান :

গ্রিন টি – ১ চামচ

গরম জল – ১ কাপ।

কি করতে হবে?

জলটি ভালো করে ফুটিয়ে তার মধ্যে গ্রিন টি দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে পাত্রটি ঢেকে দিতে হবে।

দশ মিনিট পরে গ্রিন টি ছেঁকে নিয়ে চা পান করতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করে?

একনাগাড়ে কাজ করতে করতে যখন নাজেহাল অবস্থা হয়ে যায় সেই সময় এক কাপ গ্রিন টি অনেকটা স্বস্তি প্রদান করে থাকে। দিনে দুই থেকে তিনবার গ্রিন টি খাওয়া যেতে পারে। মানসিক চাপ কম করতে এবং মেজাজকে উৎফুল্ল রাখতে এটি সহায়তা করে। (১২)

৯) মানসিক চাপ কম করতে ব্যবহার করুন ব্রাহ্মী

ব্রাহ্মী শাক যেকোনো মানসিক উদ্বেগ এবং স্ট্রেস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এটি এক ধরনের অ্যাডাপটোজেনিক উপাদান, যা শরীরে মানসিক চাপের প্রতিরোধ কে বাড়িয়ে তোলে। আপনার মেজাজকে উৎফুল্ল রাখতে এবং মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কম করতে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি সরাসরি শাক হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন কিংবা ব্রাহ্মী নির্যাস দিয়ে তৈরি ক্যাপসুল কিংবা গুঁড়ো এগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। দৈনিক ৩০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম ব্রাহ্মী গ্রহণ করতে পারেন। ব্রাহ্মী শাক রান্না করে খেতে পারেন। এটি অধিক কার্যকর। তা না হলে এটি জলে মিশিয়ে চায়ের মতো করেও খেতে পারেন।

উপাদান :

ব্রাহ্মী গুঁড়ো – এক চামচ

গরম জল – এক গ্লাস।

কি করতে হবে?

গরম জলের মধ্যে ব্রাহ্মী গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে এটি মিশিয়ে চা হিসেবে পান করতে হবে।

কিভাবে সাহায্য করে?

এই ব্রাহ্মী চা পান করার ফলে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রাচীন কাল থেকেই বহু অসুস্থতার ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক ভেষজ হিসেবে ব্রাহ্মী ব্যবহার করা হয়ে আসছে। এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কম করতে সহায়তা করে।

১০) মানসিক চাপ কম করতে শঙ্খপুষ্পী এর ব্যবহার

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী শঙ্খপুষ্পী মস্তিষ্কের যেকোনো ধরনের চাপ কে কম করতে এবং স্ট্রেস হ্রাস করতে সহায়তা করে। শঙ্খপুষ্পী কে মস্তিষ্কের টনিক বলা হয়ে থাকে। এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে। এটি দৈনিক ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

উপাদান :

শঙ্খপুষ্পী পাউডার – হাফ চামচ

গরম দুধ – এক গ্লাস।

কি করতে হবে?

দুধ গরম করে নিয়ে তার মধ্যে শঙ্খপুষ্পী পাউডার মিশিয়ে দৈনিক দুবার পান করতে হবে। এটি দৈনিক পান করার ফলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

কিভাবে সাহায্য করবে?

শঙ্খপুষ্পী ব্যবহার করার ফলে যেকোনো ধরনের স্ট্রেস, ডিপ্রেশন, মানসিক সমস্যা থেকে আরাম পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কম করতে, মন ভালো করতে এটি সহায়তা করবে।

মানসিক চাপের জন্য খাদ্য তালিকা :

মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে আপনার খাদ্য তালিকার দিকেও নজর দিতে হবে। এমন কিছু খাবার খেতে হবে যেগুলি আপনার শরীরের পক্ষে আরামদায়ক এবং মস্তিস্ককে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। যা স্ট্রেস হরমোন কে কম করতে সহায়তা করে।

জেনে নিন কোন খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে আপনি মানসিক চাপমুক্ত থাকবেন।

) কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যকার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরি করতে সহায়তা করে। যে কারণে এটি খেলে পরে খাবার হজম হতে সময় নেয়। তাই দৈনিক প্রাতরাশ এ যে কোনও শস্যের রুটি, ওটমিল বা পাস্তা এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন।

) জটিল শর্করা জাতীয় খাদ্যরক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে আপনাকে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

) কমলালেবুকমলা লেবু ভিটামিন সি এর উৎকৃষ্ট উৎস। মানসিক চাপ প্রতিরোধ করতে এবং স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কম করতে এটি সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তচাপ এবং কর্টিসোল এর মাত্রা যুক্ত লোকেদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে ভিটামিন-সি গ্রহণের ফলে তারা মানসিক চাপ থেকে খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতে পারে।

 ) পালং শাক – পালং শাক এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। এটি মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মানসিক চাপকে কম করতে সহায়তা করে। যদি পালং শাক খেতে ভালো না লাগে যেকোনো সবুজ শাকসবজি ভালো ম্যাগনেসিয়াম এর উৎস। কিংবা রান্না করা সয়াবিন বা সালমান মাছ খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। এগুলি ম্যাগনেসিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস। ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাদ্য তালিকায় রাখলে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 ) চর্বিযুক্ত মাছযেকোনো ধরনের চর্বিযুক্ত মাছ গুলি স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। এগুলোর মধ্যে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, এগুলি স্ট্রেস হরমোন তৈরিতে বাধা দেয় এবং হৃদরোগ, হতাশা এ ধরনের সমস্যা গুলো কম করে। সপ্তাহে অন্তত দুইবার চর্বিযুক্ত মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন।

) কালো চা – মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তৎক্ষণাৎ কাজ করে কালো চা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন যারা চার কাপ চা পান করেন তারা অন্যান্য ব্যক্তিদের তুলনায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কম মানসিক চাপ বোধ করেন।

 ) পেস্তা পেস্তা হলো বাদাম এবং বীজগুলির অন্যতম একটি উপাদান। এটি ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের উৎকৃষ্ট উৎস। প্রতিদিন এক মুঠো পেস্তা, আখরোট, বাদাম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম হয়, ডায়বেটিসের সম্ভবনা কম তৈরি হয় এবং মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বাদাম গুলি দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ এগুলো খাওয়া যেতে পারে।

) অ্যাভোকাডো – উচ্চ রক্তচাপ কম করার জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ন খাদ্য হলো অ্যাভোকাডো। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কে যথাযথ রাখে। তাই দৈনিক একটা করে অ্যাভোকাডো খাদ্যতালিকায় রাখলে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

) আমন্ড ভিটামিন ই এর উৎকৃষ্ট উৎস হল এটি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রেস বা হতাশার কারণে হওয়া মানসিক চাপকে কম করতে সহায়তা করে।

১০) কাঁচা শাকসবজি  – গাজর, সেলারি ধরনের কাঁচা শাকসবজি গুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে মানসিক চাপের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১১) দুধ ঘুমাতে যাওয়ার আগে উষ্ণ দুধ পান করলে সেটি ঘুম ভালো করতে এবং মানসিক চাপ কম করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ক্যালসিয়াম যেকোনো উদ্বেগকে কম করতে সহায়তা করে। তাই ডায়েটিশিয়ানরা রাতের বেলা ডবল টন দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন।

মানসিক চাপ কম করার জন্য কি কি খাবেন না?

) আইসক্রিম – যখন মানসিক চাপ বোধ করবেন তখন আইসক্রিম খাবেন না। কেননা এটি আপনার মুখকে শান্ত করলেও মনকে কিন্তু শান্ত করতে পারবেনা। এটিতে চিনির পরিমান অত্যাধিক বেশি থাকায় এটি স্ট্রেসকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।

কফি – হয়তো আপনারা ভাববেন মানসিক চাপ দূর করতে এক কাপ কফি যথেষ্ট। কিন্তু না কফির মধ্যে থাকা ক্যাফিন মানসিক চাপ আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই মানসিক চাপ কম করতে চাইলে কফি কখনোই না।

) চাইনিজ খাবারআপনি যখন মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তখন আপনার মুড সুইং এর সমস্যা অনেকটাই থাকে, যা রক্তচাপকে বাড়িয়ে তোলে। এই সময় যদি উচ্চ সোডিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া যায় তাহলে তা স্ট্রেসকে বাড়িয়ে তোলে। তাই যেকোনো ধরনের চাইনিজ খাবার এ সময় না খাওয়াই ভালো।

) টিনজাত স্যুপতাড়াতাড়ি তৈরি করতে গিয়ে আমরা অনেকেই যেকোনো ক্যানড ফুডস খেয়ে থাকি। এইসময় টিনজাত খাদ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।

) টফু – সয়া জাতীয় যে কোন খাদ্য যেমন টফু এগুলোতে উচ্চমাত্রায় বেশ কিছু উপাদান রয়েছে যা আপনার মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে তুলবে। তাই এ ধরনের খাবার না খাওয়াই উচিত।

) ডায়েট সোডাযেকোনো ধরনের সোডাতেই প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম মিষ্টি দেওয়া থাকে। যা মাথাব্যথা, অনিদ্রা এবং স্ট্রেসের কারণ হতে পারে। তাই এগুলো না ব্যবহার করাই ভালো।

মানসিক চাপের রোগ কিভাবে নির্ণয় করবেন?

মানসিক চাপ নির্ণয় এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা নেই। সাধারণত আপনার শারীরিক অবস্থা, অসুস্থতা, পরিবারিক স্বাস্থ্য ইতিহাস, রক্ত পরীক্ষা করে এগুলোর সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। কারণ মানসিক চাপের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেকটা হতাশার মতো হতে পারে। তাই সবার আগে চিকিৎসককে দিয়ে আপনার মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা উচিত। সেখানে যদি আপনি ডিপ্রেশন বা উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছেন কিনা নির্ধারণ করা হয় তার পর মানসিক চাপ, উদ্বেগ, নিদ্রাহীনতার  চিকিৎসা করা হয়। কারণ অনেকের ক্ষেত্রে এ ধরনের মানসিক চাপ কিংবা ডিপ্রেশন কোন ঔষধ ছাড়াই কেবলমাত্র থেরাপির মাধ্যমে কমে যেতে পারে কিংবা অনেকের ক্ষেত্রে চাপের লক্ষণগুলো যথাযথভাবে প্রকাশ পায় না। তাই মানসিক চাপ বোঝার আগে আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝতে হবে। মানসিক চাপের যে উপসর্গগুলি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি, সে রকম যদি কোনো লক্ষণ শরীরে দেখেন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করবেন। (১৩)

মানসিক চাপের চিকিৎসা

মানসিক চাপ কোন চিকিৎসা দ্বারা নির্ণয় করা যায় না, সে কারণে এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে আপনার জীবনে যদি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন কিংবা প্রচুর মানসিক চাপের লক্ষণ বোধ করেন তবে সে ক্ষেত্রে কয়েকটি পদ্ধতি আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনার চাপ কমানো সম্ভব হয়। (১৪)

) কথা বলার চিকিৎসা এক্ষেত্রে নিজের কাছের মানুষের সাথে মন খুলে কথা বলতে হবে। আপনার এমন কারো সাথে কথা বলতে হবে যে আপনার মনের সমস্ত কথা শুনবে। যে কারণে আপনি চাপ বোধ করছেন সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে সরাসরি আলোচনা করবে।

) ওষুধমানসিক চাপের কারণে কোনো শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে সেগুলোর যথাযথ ওষুধ খেতে হবে। সঠিকভাবে ঘুমাতে হবে।

) ইকো থেরাপিএই থেরাপির মাধ্যমে আপনি নিজস্ব প্রকৃতিতে সময় কাটাতে পারবেন। যেমন এক্ষেত্রে কোনো শারীরিক অনুশীলন করতে পারেন কিংবা বাগানে ঘুরতে পারেন। এমন কিছু করতে হবে যা আপনার মনকে শান্ত করে।

) পরিপূরক থেরাপি এমন কিছু পরিপূরক থেরাপি রয়েছে যেগুলো যোগব্যায়াম, অ্যারোমাথেরাপি, মেসেজ এইগুলো যদি দৈনিক করেন তাহলে আপনার মানসিক চাপ অনেকটা কম থাকবে।

তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল কথা বলার পদ্ধতি। যদি আপনার কাছের কারো সাথে নিজস্ব মানসিকতা এবং মানসিক চাপের কারণ সরাসরি আলোচনা করেন সেক্ষেত্রে দেখবেন মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

মানসিক চাপের ঝুঁকি এবং জটিলতা

দীর্ঘদিন ধরে যদি মানসিক চাপের কিংবা স্ট্রেসের এর মধ্য দিয়ে কোন মানুষ যায় সেক্ষেত্রে বহু জটিলতা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা দেখা যায় যেমন – (১৫)

১) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

২) হজম সঠিকভাবে হয়না।

৩) কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা দেখা যায়।

৪) প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

৫)  এমনকি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হতাশা এবং উদ্বেগ সহ বেশ কিছু রোগের লক্ষণ বাড়িয়ে তোলে।

এছাড়াও মানসিক চাপ এক নাগাড়ে চলতে থাকলে মানুষ কোনো ক্রনিক ডিসিজ এ আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই মানসিক চাপ কিংবা মানসিক কোন সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই সেটির চিকিৎসা করার চেষ্টা করুন।

মানসিক চাপ প্রতিরোধের উপায়

মানসিক চাপ প্রতিরোধ করতে গেলে দৈনিক নিজের জন্য কিছু সময় বার করতে হবে। যে সময়টি আপনি কেবলমাত্র নিজের উপরেই ব্যবহার করবেন। যা অন্যের জন্য বরাদ্দ থাকবেন না। আসুন জেনে নিন কোন কোন বিষয়গুলি আপনার মানসিক চাপ কম করতে সহায়তা করবে। (১৬)

) ব্যায়াম – দৈনিক সকালবেলা নির্দিষ্ট কিছু সময় ধরে শারীরিক অনুশীলন করুন। ব্যায়ামের মধ্য থেকে আপনার শরীর স্বাস্থ্য যেমন ভালো হবে তার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও অনেকটা কমে যাবে।

) মেডিটেশনদৈনিক ৩০ মিনিট করে মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়বে। তার পাশাপাশি মানসিক চাপ কম হবে।

) সঠিক ঘুম – দৈনিক রাতে আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম হওয়া প্রয়োজন। নইলে শরীর যদি পর্যাপ্ত ঘুম না পায় সে ক্ষেত্রে শারীরিক অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।

) স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাদ্য তালিকায় ফল সবজি এ ধরনের খাদ্য রাখার চেষ্টা করুন। যতটা সম্ভব প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।

) পজিটিভ চিন্তাএমন কিছু চিন্তা ভাবনা করুন যেগুলো আপনাকে হ্যাঁ বাচক ইঙ্গিত দেয়। এক্ষেত্রে আপনার মন ভালো থাকবে এবং মানসিক চাপও কমবে।

) গান শুনুনযখন মনে হবে খুব বেশি মানসিক চাপ বোধ করছেন সেই সময়ে সমস্ত কাজ বন্ধ করে কানে হেডফোন লাগিয়ে কিছুসময়ের জন্য আপনার প্রিয় গান শুনুন। এতে দেখবেন মনটা হালকা হবে এবং মানসিক চাপ কমে যাবে।

) পশুদের সাথে সময় কাটানো আপনার বাড়িতে যদি কোন গৃহপালিত পশু থাকে সেক্ষেত্রে তার সাথে সময় কাটান। দেখবেন এই সময়টা আপনার খুব ভালো লাগবে, তার ও খুব ভালো লাগবে এবং আপনার মানসিক চাপ অনেকটা কমে যাবে।

মাসাজ দৈনিক সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার সারা শরীর এবং মাথায় মাসাজ নিন। দেখবেন এতে রিলাক্স ফিল হবে এবং মানসিক চাপ ও কম হবে।

) যোগা করুন প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় বের করে নিয়ে যোগা এবং প্রাণায়াম করুন। এতে দেখবেন শরীর ভালো থাকবে এবং মানসিক চাপ কম থাকবে।

১০) চিউইংগাম যখন মানসিক চাপ বোধ করবেন মুখে নিয়ে চুইংগাম চিবাতে থাকুন। দেখবেন এতে মানসিক চাপ কিছুটা কম মনে হবে।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই প্রত্যেকদিন এর সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি সমস্যা হলো মানসিক চাপ। আজকের এই নিবন্ধ থেকে আমরা মানসিক চাপ সম্পর্কিত বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কোন উপসর্গ গুলো দিয়ে আপনি মানসিক চাপ নির্ণয় করবেন, কিভাবে তার ঘরোয়া প্রতিকার করবেন কিংবা মানসিক চাপ প্রতিরোধ করতে গেলে আপনি কি কি করবেন, সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি আজকের এই নিবন্ধটি যারা মানসিক সমস্যা কিংবা মানসিক চাপে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তাদের জন্য অনেকটা কাজে আসবে। তাহলে আমাদের আজকে নিবন্ধটি আপনার জন্য কতটা কার্যকরী হলো সেটি আমাদের জানাতে ভুলবেন না। এবং মানসিক চাপ এবং স্ট্রেস কাটিয়ে ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আশেপাশের মানুষজনের সাথে নিজের সমস্ত টা ভাগ করে নিন। এতে দেখবেন প্রিয় মানুষগুলোও ভালো আছে এবং আপনিও ভালো আছেন।

প্রায়শঃ জিজ্ঞাস্য –

বোঝার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কোন ব্যাপার কেন?

উত্তরঃ অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। তাই বোঝার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

মানসিক চাপের ফলে কি মাথা ঘোরে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, খুব চাপের মধ্যে থাকলে তখন মাথা ঘোরার সম্ভাবনা থাকে।

জল কি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে?

উত্তরঃ হঠাৎ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেই সময় একটু জল খেলেও মানসিক চাপ কম হয়।

মানসিক চাপ শরীরে কি ক্ষতি করে?

উত্তরঃ মানসিক চাপ থেকে শরীরের নানান ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়।

মহিলারা কি বেশি মানসিক চাপে ভোগেন?

উত্তরঃ মহিলাদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ টা বেশি থাকে।

মানসিক চাপের পাঁচটি লক্ষণ?

উত্তরঃ মানসিক চাপ হলে সে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, হাতের তালুতে ঘাম হওয়া, বদহজমের সমস্যা, ঘুমাতে সমস্যা, মাথা যন্ত্রণার মতন সমস্যাগুলো দেখা যায়।

মানসিক চাপ কি আপনার ব্যক্তিত্ব পাল্টে ফেলতে পারে?

উত্তরঃ হ্যাঁ অনেক সময় একটি হাসিখুশি মানুষ ও মানসিক চাপ এর ফলে বদলে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তিত্ব বদল করতে পারে এটি।

16 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch