সূর্য প্রণামের প্রকারভেদ এবং উপকারিতা | Surya Namaskar (Sun Salutation) Types and Benefits in Bengali

Written by

পৃথিবীতে সর্ব শক্তির উৎস হল সূর্য। সূর্য ছাড়া পৃথিবীতে কোন জীবন সম্ভব না। তাই সূর্যকে নমস্কার করে যদি দিন শুরু করা যায়, সে ক্ষেত্রে দৈনিক প্রচুর পরিমাণে পজিটিভ শক্তি অর্জন করা যেতে পারে। বলা যায় সূর্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কিংবা সূর্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যদি একটি দিন শুরু করা যায় এক্ষেত্রে শরীর সুস্থ থাকে এবং রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই সূর্য প্রণাম একটি সুপরিচিত ব্যায়াম। বারো টি আসনের সমন্বয়ে তৈরি সূর্য নমস্কার শরীরকে রোগ ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। প্রত্যেকদিন যদি বারো বার করে সূর্য নমস্কার করা যায় সে ক্ষেত্রে দৈনিক অনেকটাই শরীরচর্চা করা হয়ে থাকে। আজকের নিবন্ধ থেকে আমরা জানবো সূর্য প্রণামের বিভিন্ন উপকারিতা গুলি সম্পর্কে এবং তার প্রকারভেদ গুলি সম্পর্কে।

সূর্য প্রণাম কি?

পৃথিবীর আদি শক্তি হিসেবে মনে করা হয় সূর্যকে। সে ক্ষেত্রে সূর্যকে প্রণাম জানিয়ে যদি দিন শুরু করা যায় তাতে শরীর জুড়ে বহু ইতিবাচক শক্তি লক্ষ্য করা যায়। সূর্য নমস্কার আসনের মধ্যে বারো টি আসন থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ভালো প্রভাব বিস্তার করে। দৈনিক সূর্য নমস্কার করার ফলে পেট, লিভার, হৃদযন্ত্র, বুক, অন্ত্র, গলা, পায়ের পাতা বলা যায় মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সর্বাঙ্গে একটি ভাল প্রভাব ফেলে। সূর্য প্রণাম করার ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। শরীরের স্নায়ুগুলো ভালো করে কাজ করতে সহায়তা করে, তাই দৈনিক যারা সূর্য প্রণাম করেন তারা যেকোনো রোগ ব্যাধি থেকে দূরে থাকেন। মনে করা হয়, একেকবার সূর্য প্রণামের একটি ব্যক্তি প্রায় ১৩.৯০ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সূর্য প্রণামের আসন যদি করা যায় সেক্ষেত্রে শরীরের ক্ষেত্রে এটি খুব ভাল প্রভাব বিস্তার করবে। এর পাশাপাশি শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে শরীরকে রোগা করে তুলতে সহায়তা করবে। এজন্য মনে করা হয় দৈনিক তিরিশ মিনিট যদি সূর্য প্রণাম করা যায় এটি শরীরকে যেকোনো রোগ ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। তার পাশাপাশি বহু কষ্টকর অনুশীলনের ফলস্বরূপ সূর্য প্রণাম এর মধ্য দিয়ে আমরা শরীরে ফলাফল পেতে পারি। তবে সূর্য প্রণাম করার জন্য মাথায় রাখবেন সকাল বেলা সূর্য ওঠার সময়টি অত্যন্ত ভালো। সকাল বেলা খালি পেটে সূর্যের সামনে যদি সূর্য প্রণাম করা যায় এটি শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। সূর্য প্রণাম ঘরে বসে করার থেকে খোলা জায়গায় যদি করা যায় তা আরও বেশি উপভোগ্য হয়। সূর্য প্রণাম করার সময় বারোটি প্রাণায়ামের সাথে বারো টি মন্ত্র জপ করা হয়, সেগুলি হল : (1)

ওম মিত্রায় নমঃ
ওম রভায় নমঃ
ওম সূর্যায় নমঃ
ওম ভানভে নমঃ
ওম খাগায়া নমঃ
ওম পুস্নে নমঃ
ওম হিরণ্যগর্ভায় নমঃ
ওম মরিচায় নমঃ
ওম আদিত্যায় নমঃ
ওম সাবিত্রে নমঃ
ওম আরকায়া নমঃ
ওম ভাস্করায় নমঃ।

সূর্য প্রণাম এর উপকারিতা :

দৈনিক সূর্য প্রণাম করার ফলে আমাদের শরীরে বেশ কিছু ভালো লক্ষণ দেখা যায়, যে গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো – (2)

১) ফুসফুস সুস্থ রাখতে সূর্য প্রণামের ভূমিকা

সূর্য প্রণাম করার সময় যে বারো টি আসন করা হয় সেগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ভালো প্রভাব বিস্তার করে থাকে, তেমনি এগুলো শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। দৈনিক সূর্য প্রণাম করার ফলে যাদের ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে সেই সমস্যা থেকে তারা মুক্তি পেতে পারেন কিংবা বলা যায় সমস্যা কম থাকতে পারে। কেননা সূর্য প্রণাম করার সময় শরীর যে অক্সিজেন গ্রহণ করে তার ফলে শরীরের ভেতর বায়ু চলাচল সঠিকভাবে হয়, যার জন্য আপনার ফুসফুস সুস্থ থাকে।

২) ওজন কম করতে সূর্য প্রণাম এর ভূমিকা

সূর্য প্রণাম এর মধ্যে বারো টি আসন বা প্রাণায়াম থাকে যেগুলো শরীর থেকে অনেকটা ক্যালোরি ক্ষয় করতে সহায়তা করে। দৈনিক যারা সূর্য প্রণাম করেন তারা এটি শুরু করার দিন পনেরোর মধ্যেই শরীরের তফাৎটা বুঝতে পারবেন। কেননা সূর্য প্রণাম করার ফলে এটি শরীরের ওজন কম করার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন পেশিগুলোকে টোন করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও সূর্য প্রণাম করার ফলে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ অনেকটা নমনীয় হয়ে উঠবে এবং মেরুদন্ড নমনীয় হয়ে উঠবে। যার ফলে এটি আপনার শরীরের কাঠামোকে সুদৃঢ় রাখতে সহায়তা করে।

৩) শ্বাসযন্ত্রের চাপ কমাতে সূর্য প্রণাম এর ভূমিকা

একনাগাড়ে বসে থাকা কিংবা অনুশীলন না করার ফলে আমাদের অনেকেরই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়ে যায়, যার ফলে আমাদের শ্বাস যন্ত্র গুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এক্ষেত্রে দৈনিক যদি সূর্য প্রণাম করা যায় এই সূর্য প্রণামের ফলে শরীর প্রয়োজনীয় শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ এবং বর্জন করতে পারে এবং এটি আপনার শ্বাসযন্ত্র কে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করে। কেননা সূর্য প্রণাম এর মধ্যে থাকা বারো টি আসন করার সময় শরীরের প্রত্যেকটি অংশ অনুশীলনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার ফলে শরীর যথাযথ অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে এবং শরীরের প্রত্যেকটা কোনায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছতে পারে। তাই সূর্য প্রণাম শ্বাসযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়তা করে।

৪) পেশির জোর বাড়াতে সূর্য প্রণাম এর ভূমিকা

দৈনিক যারা সূর্য প্রণাম করেন তাদের শরীরের পেশী গুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সারা শরীরটা নমনীয় হয়ে ওঠে। যার ফলে শরীর যে কোনো অঙ্গ ভঙ্গি করতে পারে এবং শরীর সমস্ত রকম ব্যায়ামের জন্য যথোপযুক্ত হয়ে ওঠে। সূর্য প্রণাম শরীরের ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরে অ্যাবস তৈরি করতে এবং পেশিগুলোকে টোন করতে সহায়তা করে।

৫) মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সূর্য প্রণামের ভূমিকা

বর্তমানে অনেক মহিলাদের মধ্যেই পেরিয়ডস নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। কারো পেটে ব্যথা কিংবা কারোর সঠিক সময়ে পিরিয়ডস না হওয়া কিংবা সঠিক পরিমাণে না হওয়া, এসমস্ত বহু সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে মহিলাদের শরীরের বিভিন্ন রোগব্যাধি দেখা যায়। তাই পিরিয়ডস নিয়ে যদি কোন সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে দৈনিক সূর্য প্রণাম অভ্যাস করা উচিত। কেননা দৈনিক সূর্য প্রণাম করার ফলে শরীরের ভিতরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হবে। তেমনি এটি শরীরকে সুস্থ করে তুলবে এবং পিরিয়ডস জনিত যে সমস্ত সমস্যা পেটে ব্যথা কিংবা যথাযথভাবে পেরিয়ডস না হওয়ার এই সমস্যাগুলো দূর হয়ে যাবে।

৬) মানসিক চাপ কম করতে সূর্য প্রণাম এর ভূমিকা

বর্তমানে দৌড়ঝাপের যুগে মানসিক চাপ কোনো নতুন বিষয় নয়। এই মানসিক চাপ যেকোনো ধরনের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। তাই মানসিক চাপকে দূরে রাখতে দৈনিক তিরিশ মিনিট করে সূর্য প্রণাম করা উচিত। কেননা এটি মানসিক চাপ কম করে মনকে শান্ত করতে সহায়তা করবে। সূর্য প্রণাম এর মধ্যে করা বিভিন্ন আসনগুলি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করে।

৭) ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সূর্য প্রণাম এর ভূমিকা

নিজের ত্বক এবং চুলকে যদি ভালো রাখতে চান তাহলে দৈনিক সূর্য প্রণাম করুন। কেননা এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন কে বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে আপনার মুখে একটি আলাদাই উজ্জ্বল ভাব লক্ষ্য করা যায়। এর পাশাপাশি এটি যে কোনো ধরনের বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলোকে কম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও সূর্য প্রণাম করার ফলে শরীরে যথাযথ রক্ত সঞ্চালন হয় যার ফলে চুল পড়া কিংবা চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যাগুলো দূর হয়। তাই ত্বক এবং চুলকে ভালো রাখতে নিয়মিত সূর্য প্রণাম করুন। (3) (4)

সূর্য প্রণামের বিভিন্ন ধাপ গুলি

সূর্য প্রণামের ব্যায়াম বারো টি ধাপ এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এই ব্যায়াম করার জন্য বারো টি ধাপ পরপর অনুসরণ করে করবেন। প্রত্যেকটি আসনে নির্দিষ্ট কোনো বাঁধাধরা সময় নেই যে কঠোরভাবে করতেই হবে। কিন্তু প্রতিটি আসনে কমপক্ষে 30 সেকেন্ড সময় দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আসুন জেনে নিন সূর্য প্রণামের বিভিন্ন ধাপ গুলি সম্পর্কে –

১) প্রণাম আসন

সূর্য নমস্কার এর বারো টি আসনের মধ্যে এটি প্রথম আসন। এই আসনটি করার সময় একটি মাদুরের ওপর দাঁড়িয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে দুই পা একসাথে রেখে নমস্কার করুন। ঠাকুর প্রণাম করার ভঙ্গিতে দাঁড়ান এবং আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস নিন এবং নিঃশ্বাস ছাড়ুন। হাত দুটো জোড়া করে বুকের সামনে রাখুন।

২) হস্ত উত্তাসন

সূর্য প্রণামের আসন গুলির মধ্যে এটি হলো দ্বিতীয় আসন। এই আসনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আপনার হাত দুটি জোর করে মাথার উপর দিয়ে পিছন দিকে নিয়ে যান। যতটা সম্ভব শরীরটাকে পিছন দিকে প্রসারিত করুন।

৩) পদহস্তাসন

সূর্য প্রণামের বারো টি আসনের মধ্যে এটি তৃতীয় আসন। এই আসনটিতে আপনার পিছনে নিয়ে যাওয়া হাত দুটিকে আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছেড়ে সামনের দিকে মেরুদণ্ডটি নিচু করে পায়ের পাতার দুই পাশে রাখুন। এটি করার সময় কোমর ভাঁজ করবেন না। এতে হাত যতটা আসবে ততটা নিয়ে পায়ের পাতা ছোঁয়ার চেষ্টা করুন।

৪) অশ্ব শীতলালনসন

সূর্য প্রণামের এটি চতুর্থ ধাপ। এই আসনের মধ্যে আপনি আপনার বাঁ পা পিছনে রেখে ডান পা টা বেঁকিয়ে সামনে নিয়ে আসুন এবং শরীরের ভর হাত দিয়ে ডানদিকে রাখার চেষ্টা করুন। হাঁটুর দুই পাশে দুই হাত দিয়ে শরীরের ভর রাখুন।

৫) পর্বতাসন

সূর্য নমস্কার এর এটি পঞ্চম আসন। এটি করার সময় আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়ুনন। এক্ষেত্রে ডান পা বাঁ পায়ের পাশে রেখে শরীরের ভর সামনের দিকে রাখুন এবং কোমরটাকে পর্বতের মত উঁচু করে রাখুন। যাতে শরীরটা দেখতে পর্বতের মতন হয়।

৬) অষ্টাঙ্গ নমুনাসন

সূর্য প্রণামের এটি ষষ্ঠ ধাপ। এই ধাপে পর্বতাসন এর অবস্থা থেকে শরীরের ভারটা আস্তে আস্তে বুকের ওপর করে মেঝেতে নামিয়ে আনতে হবে এবং আপনার হাঁটুতে ভর দিতে হবে। কোমরটা উচু হয়ে থাকবে। এটিতে আপনার শরীরের ভার বুকে এবং হাটুতে থাকবে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করবেন আপনার হাত পা হাটু বুক যেন মেঝেতে স্পর্শ করে।

৭) ভুজঙ্গাসন

সূর্য প্রণামের এটি সপ্তম ভাগ। এই ভুজঙ্গাসন কে কোবরা পোজ বলা হয়ে থাকে। কেননা এটি করার সময় শরীরটা সাপের মতন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে শরীরটাকে টানটান করে মেঝেতে শুয়ে হাতের ওপর ভর দিয়ে কোমড় পর্যন্ত শরীরের সামনের অংশটা কে আস্তে আস্তে তুলে ধরবেন এবং যতটা সম্ভব মাথাটাকে আস্তে আস্তে পিছনে করবেন।

৮) পর্বতাসন

সূর্য প্রণামের অষ্টম ধাপ হলো পর্বতাসন। শরীরকে ভুজঙ্গ আসন এর পর আস্তে আস্তে হাতের উপর ভর দিয়ে শরীরটাকে পর্বতের মতন করে কোমরটাকে উঁচু করে ধরবেন এবং আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়বেন।

৯) অশ্ব শীতলালনাসন

সূর্য প্রণামের এই ধাপটি হল নবম ধাপ। এই ধাপে এসে বাঁ হাঁটু কে এগিয়ে নিয়ে এসে ডান পা কে পিছনে রেখে বাঁ হাঁটুর ওপর শরীরের ভর রাখতে হবে। বাঁ হাঁটুর দুইপাশে হাত দিয়ে শরীরের ভর রাখতে হবে এবং সোজা তাকাতে হবে।

১০)  হস্তপদাসন

সূর্য প্রণামের দশম ধাপ হলো এটি। এই ধাপে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমরটাকে উঁচু করে শরীরের ভার হাত এবং পায়ের উপর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন মেরুদন্ড সোজা থাকবে, মেরুদন্ড বাঁকা বা কোমর যেন ভেঙে না যায়।

১১) উড়ি হস্তাসন

সূর্য প্রণামের একাদশতম ধাপ হলো উড়ি হস্তাসন। এই আসনের ক্ষেত্রে নিঃশ্বাস নিতে নিতে আপনার হাত দুটোকে সোজা করে কানের দুই পাশ দিয়ে যতটা সম্ভব মাথার পিছনে নিয়ে যেতে হবে এবং মাথাটা আস্তে আস্তে যতটা সম্ভব পিছনের দিকে হেলিয়ে দিতে হবে।

১২) তদাসন

সূর্য প্রণামের দ্বাদশতম বা অন্তিম ধাপ হল এটি। এই ধাপে পা দুটো একসাথে রেখে হাত দুটোকে প্রণাম এর ভঙ্গিতে বুকের সামনে রেখে প্রণাম করার ভঙ্গিতে দাঁড়াতে হবে এবং আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়তে হবে। এই ভাবেই সূর্য প্রণাম সম্পন্ন হবে।

নতুনদের জন্য সূর্য প্রণামের টিপস

যারা নতুন সূর্য প্রণাম করা শুরু করেছেন তাদের জন্য আশা করি এটি অনেক কার্যকর হবে। জেনে নিন এর কার্যকারিতা গুলি –

  1. দৈনিক সূর্য প্রণাম ওজন কম করতে সহায়তা করে।
  1. এর পাশাপাশি ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সহায়তা করে।
  1. এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন কে বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক।
  1. সূর্য নমস্কার অত্যন্ত ভালো একটি অনুশীলন, যা সারা শরীরকে যথাযথভাবে অনুশীলন করতে সহায়তা করে।
  1. যারা নতুন সূর্য নমস্কার করা শুরু করেছেন তারা মাথায় রাখবেন এটি ভোর বেলা খালি পেটে করলে সবচেয়ে ভালো কাজ পাওয়া যাবে।
  1. এ ছাড়াও অনেকে সন্ধ্যেবেলা এটি করতে পারেন। তবে খাওয়ার তিন ঘন্টা পরে যেন তা হয়।
  1. সূর্য প্রণাম করার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই, তবে এটি যদি খোলা জায়গায় করেন তাহলে বায়ুচলাচল টা ভালোভাবে করা হবে।
  1. সূর্য প্রণাম করার সময় মাথায় রাখবেন যদি কোন শিক্ষানবিশ না থাকে সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা ধাপ করার সময় কখনোই অতিরিক্ত স্ট্রেস করবেন না।
  1. প্রত্যেকদিন সূর্য নমস্কার ১২ রাউন্ড করা যেতে পারে। এতে শরীরের পক্ষে ভাল হয়।
  1. সূর্য নমস্কার করার সময় শুরুতে ধীরগতিতেই করা উচিত। পরবর্তী সময়ে তা মাঝারী এবং দ্রুত গতি অবলম্বন করা উচিত।
  1. সূর্য নমস্কার শেখার জন্য শুরুতে প্রশিক্ষিত কিংবা অভিজ্ঞ শিক্ষক এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  1. তবে শরীরে যদি কোন ব্যথা থাকলে সেক্ষেত্রে সূর্য প্রণাম করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।
  1. সূর্য প্রণাম করার ক্ষেত্রে সেরা ফলাফল পেতে দৈনিক এটি করুন।

সূর্য প্রণামের সর্তকতা

সূর্য প্রণামের যেমন বহু গুনাগুন রয়েছে, তার মধ্যেও এটি করার সময় কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়। যার ফলে এর থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। জেনে নিন কি কি সর্তকতা অবলম্বন করবেন –

  1. গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসের পরে সূর্য প্রণাম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  1. যারা হার্নিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের এই অনুশীলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  1. যারা কোমরে ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন তারা এই অনুশীলনটি করবেন না।
  1. মহিলাদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সূর্য প্রণাম অনুশীলন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা এটি শরীরকে আরো উত্তেজিত করে দিতে পারে।

তাহলে আজকের নিবন্ধ থেকে সূর্য প্রণামের বিভিন্ন উপকারিতা গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিলেন। এবার তাহলে সূর্য প্রণাম কে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ করা যেতেই পারে। কেননা দৈনিক সূর্য প্রণাম করার ফলে আমাদের শরীর যেমন যেকোনো রোগ ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে, এর পাশাপাশি শরীর অনেকটা নমনীয় এবং চনমনে থাকবে। তাহলে আপনি কি সূর্য প্রণাম করা শুরু করছেন? এবং সূর্য প্রণাম করার ফলে আপনার শরীরে কি কি পরিবর্তন এসেছে কিংবা কি কি উপকার পেয়েছেন সেটি আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Read our editorial policy to learn more.

The following two tabs change content below.

    LATEST ARTICLES